জাতীয়

প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর
প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষা ১ অক্টোবর, অপেক্ষা শেষ ১৪৯৪২ প্রার্থীর

৮ম এনটিআরসিএ নিয়োগে (প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান) মৌখিক পরীক্ষা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হবে। সকাল ৯টা থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

মৌখিক পরীক্ষার প্রার্থীদের প্রতি নির্দেশনা—

১. এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রত্যেক প্রার্থীকে তাঁদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেওয়া হবে।

২. প্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট আগে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে উপস্থিত হতে হবে।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ও নম্বরপত্রের মূল কপি এবং প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত এক সেট ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে।

১৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশিত হয় ২২ এপ্রিল। এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৪ হাজার ৯৪২ জন প্রার্থী।

*মৌখিক পরীক্ষার রুটিন দেখুন এখানে

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবে সৌর প্যানেল
সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবে সৌর প্যানেল

সিটি করপোরেশন থেকে ইউনিয়ন পরিষদ—স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে বসবে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল।শুধু দাপ্তরিক ভবন নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর অধীন মিলনায়তন, ডাকবাংলো ও হাটবাজারের স্থায়ী শেডের ছাদেও সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসানো হবে।প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে নিজস্ব চাহিদা মেটাবে প্রতিষ্ঠানগুলো। উদ্ধৃত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে।মীর শাহে আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীস্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা চাই, বিদ্যুতের সমস্যায় এসব সেবা যেন ব্যাহত না হয়। ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমবে। ব্যাটারি ব্যাকআপ জরুরি কাজ চালু রাখতে সহায়তা করবে। আবার বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে। শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম করতে চাই।দেশে বিদ্যুৎ-সংকটের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ এই উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৃথক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবনে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সঙ্গে রাখতে বরা হয়েছে অন্তত দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ‘ব্যাকআপ’।উদ্যোগটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়টি নতুন এই নির্দেশনায় গুরুত্ব পেয়েছে।বিদ্যুৎ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনের সূত্র উল্লেখ করে চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নিতে হবে।বিদ্যুৎ-সংকটের এই সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদ কাজে লাগানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এতে আলাদা স্থান ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক চাহিদার একটি অংশ এই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমতে পারে।আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করার নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।জানতে চাইলে মীর শাহে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মানুষের দৈনন্দিন সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আমরা চাই, বিদ্যুতের সমস্যায় এসব সেবা যেন ব্যাহত না হয়। ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে খরচ কমবে। ব্যাটারি ব্যাকআপ জরুরি কাজ চালু রাখতে সহায়তা করবে। আবার বাড়তি বিদ্যুৎ গ্রিডে দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারবে। শহর থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আমরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্ষম করতে চাই।’যেসব স্থানে বসবে প্যানেল সিটি করপোরেশনগুলোকে পাঠানো চিঠিতে নিজস্ব ভবন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের কার্যালয়, বাসভবন, মিলনায়তন, ডাকবাংলো ও অতিথিশালার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। করপোরেশনের অধীন মার্কেট–হাটবাজারের স্থায়ী শেডে আয়তন বিবেচনায় এই ব্যবস্থা নিতে হবে।পৌরসভা ও জেলা পরিষদের ভবন, মিলনায়তন, ডাকবাংলোসহ অধীনস্থ মার্কেট–হাটবাজারের স্থায়ী শেড এই নির্দেশনার আওতাভুক্ত।উপজেলা পরিষদ ভবনের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের বাসভবন, কর্মচারীদের আবাসিক ভবন এবং অধীনস্থ হাটবাজারের স্থায়ী শেডে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে হবে।ইউনিয়ন পরিষদের ভবনগুলোর ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কিনবে সরকারঅর্থায়ন, বিশেষ প্রণোদনা অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বিবেচনা করা হয়েছে। যেমন—আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের রাজস্ব কিংবা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থ এই খাতে ব্যয় করতে পারবে।আবার যেসব প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, সেগুলো বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক–কারিগরি সহায়তায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে। প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছরের মেরামত–রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশনা রয়েছে।খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষণা পরিচালক, সিপিডিসৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ছাদের কারিগরি উপযোগিতা যাচাইসহ নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দক্ষতার প্যানেলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ও লোকবল রাখতে হবে।সরকারের সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ উদ্যোগের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের যোগসূত্র রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ১ সেপ্টেম্বর ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়েছে, নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়া হবে। প্রণোদনার এই দাম পেতে হলে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এই সময়ের পর তা বসালে বিশেষ এ সুবিধা মিলবে না।এই দামে বিদ্যুৎ কেনা হবে ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিদ্যুৎ বিক্রির টাকা প্রতি তিন মাস পরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সব যন্ত্রপাতি হতে হবে সরকার নির্ধারিত মানের।শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উপকরণ আমদানি, কমবে বিদ্যুৎ খরচবিশেষজ্ঞ পরামর্শ সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আলোচনা আগেও হয়েছে। ২০২৫ সালে সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ভবনে তিন হাজার মেগাওয়াটের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।একই বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যানশিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ)–এর এক বিশ্লেষণে একে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভবনের প্রকৃত সক্ষমতা যাচাই, অর্থায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।বিদ্যুৎ-সংকটের এই সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদ কাজে লাগানোর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নবায়নযোগ্য জ্বালানিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, এতে আলাদা স্থান ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। দিনের বেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর দাপ্তরিক চাহিদার একটি অংশ এই সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে মেটানো গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমতে পারে।তবে এ জন্য ভবনের উপযোগিতা যাচাই, মানসম্মত যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, উদ্যোগটি ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সেবা নির্বিঘ্নে সচল থাকবে। এতে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন–ব্যবহারে উৎসাহিত হবে।বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান কেন ‘ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ’বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম প্রথম আলোকে বলেন, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের আগে ছাদের কারিগরি উপযোগিতা যাচাইসহ নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ দক্ষতার প্যানেলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট ও লোকবল রাখতে হবে।এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি তদারকি সেল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, কোন প্রতিষ্ঠান উদ্যোগ নিয়েছে, কোথায় কাজ শেষ হয়েছে, কত বিদ্যুৎ নিজেরা ব্যবহার করছে, কতটা গ্রিডে যাচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করতে হবে। এসব তথ্য জাতীয় পর্যায়ে প্রকাশ করলে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয় হলো, তা সহজেই বোঝা যাবে।সৌরবিদ্যুৎ যেভাবে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সম্ভাবনা

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও ৫ কর্মকর্তার বদলি

এসবি প্রধানের দায়িত্বে কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও ৫ কর্মকর্তার বদলি

ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’–এ কী আছে

ছফার ‘পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ’–এ কী আছে

হ্যাটট্রিকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন খালেদ

হ্যাটট্রিকের কথা ভুলেই গিয়েছিলেন খালেদ

এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে
এনসিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এনসিসি ব্যাংকের ১২তম ইজিএমে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালামসহ পরিচালক, স্বতন্ত্র পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রমুখবেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) ১২তম বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) গত মঙ্গলবার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ব্যাংকের সংঘবিধির ধারা ১০৮(১) সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। ব্যাংকটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংঘবিধির সংশোধনী প্রস্তাবে চেয়ারম্যান নির্বাচন–সংক্রান্ত নতুন বিধি যুক্ত করা হয়েছে। তাতে পরিচালকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সবাই ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ পাবেন।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুন নেওয়াজ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইজিএমে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক খায়রুল আলম চাকলাদার, মো. মঈনুদ্দিন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, তানজিনা আলী, সৈয়দ আসিফ নিজাম উদ্দীন, শামিমা নেওয়াজ, মোরশেদুল আলম চাকলাদার, নাহিদ বানু ও মীর সাজেদ উল বাসার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অংশ নেন। এ ছাড়া সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আলম, মো. জাকির আনামসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শেয়ারধারীরা অংশ নেন।

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রাইম ব্যাংক পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

প্রাইম ব্যাংক পেল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

চীন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়

চীন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরিয়ে দিতে চায়

মেট্রোরেল: এত ব্যয়ে ভাড়া কত দাঁড়াবে

মেট্রোরেল: এত ব্যয়ে ভাড়া কত দাঁড়াবে

ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি
ফুল ছিঁড়লেন না কেন ফুকুদা চিও-নি

জাপানের এদো যুগের (১৬০৩-১৮৬৮) সাহিত্য–ইতিহাসে হাইকু কাব্যধারায় সাধারণত পুরুষ কবিরাই আধিপত্য করেছেন। কিন্তু এই পুরুষশাসিত জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে আবির্ভূত হন ফুকুদা চিও-নি (১৭০৩-১৭৭৫)। চিও-নি অর্থ সন্ন্যাসিনী চিও। তিনি কাগা নো চিও নামেও পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে একজন অসাধারণ হাইকু কবি, বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী এবং এমন এক স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্ব, যিনি তাঁর কবিতার মাধ্যমে প্রকৃতির গভীরে প্রবেশ করার পাশাপাশি নারীর জীবনানুভূতি ও সমাজের রূঢ় বাস্তবতাকে অনবদ্য শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর জাপানেই নয়, বিশ্বসাহিত্যের পরিমণ্ডলেও তিনি একজন অগ্রগণ্য নারী কবি হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর কবিতায় মিশে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের নিঃশব্দ পর্যবেক্ষণ, জীবন-মৃত্যু-প্রকৃতির চিরায়ত চক্র সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি, বৌদ্ধদর্শনের অস্থায়িত্বের ধারণা এবং একজন নারী হিসেবে সমাজে বসবাসের প্রত্যয় ও ব্যথা। চিও-নির জীবন ও সৃষ্টি কেবল কবিতা নয়; বরং এক অনন্যদার্শনিক ও সাংস্কৃতিক অভিযাত্রারও দলিল।ফুকুদা চিও-নির জীবনটিই যেন একটি হাইকুর মতো—সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থে পরিপূর্ণ। তাঁর জন্ম ১৭০৩ সালে জাপানের কাগা প্রদেশে (বর্তমান ইশিকাওয়া)। তাঁর বাবার নাম ফুকুদা মাতসুকিচি, যিনি ছিলেন পটচিত্র (স্ক্রল) তৈরির কারিগর। শিক্ষা ও শিল্পচর্চার জন্য ছিল একেবারে অনুকূল পরিবেশ। চিত্রকলা ও কাব্যের জগতের সঙ্গে চিও-নির অল্প বয়সেই পরিচয় ঘটে।খুব অল্প বয়সেই চিও-নি হাইকুর প্রতি আকৃষ্ট হন। কৈশোরে তিনি মাতসুও বাশোর কবিতার সংস্পর্শে আসেন এবং পরে বাশোর শিষ্যদের একজন, নাকামুরা রানের কাছে দীক্ষা নেন। মাত্র সাত বছর বয়সেই তিনি হাইকু রচনা শুরু করেন আর সতেরো বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর মেধা সারা জাপানে পরিচিতি লাভ করে।চিও-নির ব্যক্তিগত জীবন ছিল বেদনাদায়ক। ১৭২০ সালের দিকে তিনি কানাজাওয়ার ফুকুওকা পরিবারের এক কর্মচারীকে বিয়ে করেন এবং একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটি শৈশবেই মারা যায়। এর অল্পকাল পরই ১৭২২ সালে তাঁর স্বামীও রোগে মৃত্যুবরণ করেন। এই ট্র্যাজেডি তাঁকে ভেঙে দিলেও তিনি আত্মসমর্পণ করেননি। স্বাধীনচেতা চিও-নি আর বিয়ে না করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যান এবং পারিবারিক ব্যবসায় কাজ করতে থাকেন।বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ফুকুদা চিও-নি ৫২ বছর বয়সে (১৭৫৪ সালে) একটি রূপান্তরমূলক সিদ্ধান্ত নেন : তিনি বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনী হয়ে যান। তবে তিনি সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন ‘সংসার ত্যাগ করার জন্য নয়, বরং নিজের হৃদয়কে দিন–রাত প্রবাহিত স্বচ্ছ জলের মতো করে গড়ে তোলার একটি পথ’ হিসেবে। সন্ন্যাসিনী হওয়ার পর তিনি তাঁর মাথা ন্যাড়া করে ফেলেন এবং ‘সোয়েন’ নাম ধারণ করেন। তারপর তিনি একটি মন্দিরে বসবাস শুরু করেন। তিনি ‘পিওর ল্যান্ড’ নামক একটি বৌদ্ধ ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কবিতা লেখা তিনি কখনোই ছাড়েননি। ১৭৭৫ সালে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি একটি সরল ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করেছিলেন।ফুকুদা চিও-নিফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নির কবিতায় প্রকৃতির উপস্থিতি প্রবল, কিন্তু সেখানে প্রকৃতি কেবল পটভূমি নয়, এটি মানব অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। একটি ফুল, একটি কুয়ার বালতি বা অল্প আলোর মোমবাতি—সবকিছুর মধ্যেই তিনি বৃহত্তর জীবনচক্রের প্রতিধ্বনি খুঁজে পেতেন। তাঁর কবিতার মূল দর্শন ছিল ‘প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ’। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষ যখন নিজের অহং (ইগো) ত্যাগ করে প্রকৃতির দিকে তাকায়, তখনই সত্য উদ্‌ঘাটিত হয়। প্রতিটি জীবের প্রতি গভীর মমতা ছিল তাঁর। তিনি মনে করতেন, মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। এ কারণেই তাঁকে কেবল একজন নারী কবি নন; বরং একজন প্রকৃত ‘হাইকু-সিদ্ধ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যিনি কবিতাকে আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমেও পরিণত করেছিলেন।জেন বৌদ্ধধর্মের সন্ন্যাসিনী হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি জীবন ও জগতের ক্ষণস্থায়িত্ব (মুজো) ও চেতনার জাগরণের (সাতোরি) ধারণায় পরিপুষ্ট। তাঁর কবিতায় জীবনের পরিবর্তনশীলতা এবং বস্তুজগতের সচেতন পর্যবেক্ষণ দেখা যায়, যা পুরোপুরি বর্তমান মুহূর্তে থাকা বা মাইন্ডফুলনেসের প্রকাশ। তাঁর কবিতায় কবির নিজের অহংময় উপস্থিতির বদলে বিষয়বস্তুই আপন মহিমায় উদ্ভাসিত।একজন নারী হিসেবে ফুকুদা চিও-নি এমন একটি সমাজে বাস করতেন, যেখানে নারী কবিদের প্রায়ই উপেক্ষা করা হতো। তাঁর কবিতা নারীর দৈনন্দিন জীবন, শ্রম, ক্ষতি এবং অন্তর্নিহিত শক্তির এক স্বতঃস্ফূর্ত ও শক্তিশালী বিবরণ হয়ে উঠেছে। এটি ছিল একধরনের নীরব বিদ্রোহ, যা নারী কণ্ঠের মর্যাদাকে পুনর্নির্ধারণ করেছিল।ফুকুদা চিও-নি বাশো দ্বারা প্রভাবিত হলেও নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সক্ষম হন। তাঁর রচনাশৈলী সরল ও অলংকারবর্জিত—যা জেনদর্শনের সরলতা ও স্বাভাবিকতার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তিনি ন্যূনতম শব্দের মাধ্যমে একটি মুহূর্ত বা দৃশ্যের সারাংশ ধরার চেষ্টা করতেন। নারী হিসেবে তিনি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি ও প্রত্যাশাকে প্রশ্ন করেছিলেন, যা তাঁর অনেক কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।চিও-নি ১ হাজার ৭০০–১ হাজার ৮০০ হাইকু রচনা করেছিলেন। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত হাইকু হলো: সকালের ফুলেকুয়োর দড়ি জড়িয়ে গেছে—পড়শির কাছে জল চাই।মর্নিং গ্লোরির লতা–ফুলসহ কুয়োর দড়িতে জড়িয়েছে, কিন্তু কবি ফুল ছিঁড়লেন না। ওটিকে তার মতো থাকতে দিলেন। নিজের প্রয়োজন অন্যভাবে মেটালেন। নিজেকে এই সংযত করাটাই কবির দর্শন। ফুলের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় কাজের মধ্যে সংঘাত প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের একটি নিখুঁত চিত্র আঁকছে। এটি ক্ষণস্থায়িত্বের স্বীকৃতি (সকালের ফুলের ক্ষণিক জীবন) এবং আত্মকেন্দ্রিকতার অভাবের (ব্যক্তিগত অসুবিধাকে গুরুত্ব না দেওয়া) প্রকাশ। ফুলের সৌন্দর্য ও অস্তিত্বকে বিঘ্নিত না করে, তিনি সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও সহজ সমাধান বেছে নিলেন। এটি তাঁর অসীম মমতা ও প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।চিও-নি কেবল একজন কবিই ছিলেন না, তিনি চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের একটি সাংস্কৃতিক বিস্ময়। তাঁর খ্যাতি এতটাই ছড়িয়ে পড়েছিল যে ১৭৬৪ সালে তিনি তাঁর অঞ্চলের শাসক মায়েদা শিগেমিচির পক্ষ থেকে কোরিয়ান প্রতিনিধিদলের জন্য উপহার প্রস্তুত করার দায়িত্ব পান। এই উপহারের অংশ হিসেবে তিনি নিজের ২১টি হাইকুকে ভিত্তি করে ২১টি শিল্পকর্ম তৈরি ও প্রদান করেছিলেন। এটি তাঁর শিল্পীসত্তারই প্রমাণ। ফুকুদা চিও-নির চিত্রকলা ও ক্যালিগ্রাফি তাঁর কবিতার মতোই স্বতন্ত্র ও দার্শনিক গভীরতায় সমৃদ্ধ। জেন বৌদ্ধধর্মের প্রতি তাঁর আকর্ষণ শুধু কবিতায় নয়, দৃশ্যশিল্পেও গভীরভাবে প্রকাশিত।চিও-নির ক্যালিগ্রাফি তাঁর সমসাময়িক পুরুষ শিল্পীদের প্রথাগত, পুরুষালি শৈলী থেকে স্বতন্ত্র ছিল। তাঁর রেখা কোমল, পরিশীলিত ও অধিক মুক্ত। সন্ন্যাস গ্রহণের পর তাঁর পরবর্তী পর্যায়ের ক্যালিগ্রাফি ‘জেন-সদৃশ সরলতা’ অর্জন করে। তাঁর হাইকুগুলোর ক্যালিগ্রাফিক রূপায়ণে তিনি একটি উল্লম্ব রেখায় বা কখনো দু-তিন লাইনে লিখতেন, যেখানে দৃশ্যগত বা স্থানিক প্রভাব অর্থের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।ফুকুদা চিও-নির জন্য চিত্রকলা, ক্যালিগ্রাফি ও কবিতা আলাদা মাধ্যম ছিল না; এগুলো ছিল একটি সমন্বিত আধ্যাত্মিক অভিব্যক্তি। জেনের সরলতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও গভীর উপস্থিতি এর দর্শন তাঁর শিল্পকর্মের মৌলিক ভিত্তি তৈরি করে। এ জন্যই তাঁকে কেবল একজন কবি নয়, তাঁকে ‘পরিপূর্ণতা’র একজন সিদ্ধ শিল্পী হিসেবেও গণ্য করা হয়, যিনি দৃশ্য ও শব্দের মাধ্যমে জীবন ও প্রকৃতির সারসত্তাকে ধারণ করতে পেরেছিলেন।চিও-নির প্রভাব শুধু সাহিত্যে সীমাবদ্ধ নেই। তিনি পরবর্তী প্রজন্মের নারী কবিদের জন্য পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারীর কণ্ঠও হাইকুর মতো কঠোর শাস্ত্রীয় ধারায় মৌলিক ও শক্তিশালী অবদান রাখতে পারে। আজও তিনি জাপানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাইকু কবি হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে নারী কাব্যচর্চায় তাঁর অবস্থান উজ্জ্বল।ফুকুদা চিও-নির জীবন ও কবিতা হলো এক দুরন্ত মানবিক আত্মার জয়গান। ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি, সামাজিক বাধা এবং একটি পুরুষশাসিত শিল্পজগতের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি তাঁর কলমকে প্রতিবাদে পরিণত করেননি, বরং এক অনন্য সৃষ্টিশীল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তাঁর হাইকুগুলোয় তিনি প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কেবল বর্ণনাই করেননি, তাতে ডুব দিয়েছেন এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসে মানবহৃদয়ের সর্বজনীন সত্যকে মাত্র ১৭ সিলেবলের ফ্রেমে বন্দী করেছেন।ফুকুদা চিও-নি আজও কেবল জাপানের নন, বিশ্বের সব নারী-পুরুষের জন্য একটি প্রেরণা, যিনি প্রমাণ করে গেছেন যে প্রকৃত শিল্প সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন হৃদয়ের গভীরতা ও দৃষ্টির স্বচ্ছতা। চিও-নির কবিতা আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে কেবল জপ-ধ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের অতি সাধারণ ঘটনার মধ্যে অসাধারণ সত্যকে খুঁজে পাওয়া।ঘরের ভেতর নীরবতা— কে কথা বলছে?ফু কু দা চি ও–নি র এ ক গু চ্ছ হা ই কু১ঘাসের ডগায়এক ফোঁটা শিশির—এই তো আকাশ।২ফুল ছিঁড়িনি।হাত থামিয়েইবসন্ত পেরোল।৩নীরব পথেপাতা ঝরার শব্দ—আমি হাঁটছি না।৪চাঁদের আলোয়নিজের ছায়া হারিয়েঘরে ফিরি।৫শিশির পড়ল—নাম বলার আগেইফুল ঝরে।৬জল তুলতে গিয়েফুলে আটকাল দড়ি—পাশের ঘরে যাই।৭ফড়িং উড়ে যায়।আমি দাঁড়িয়ে থাকি—আকাশ পূর্ণ।৮মন্দিরের ঘণ্টা—শব্দ থেমে গেলেশব্দ থাকে।৯পাতলা চাঁদ।কিছু বলার আগেইরাত শেষ।১০বৃষ্টি শেষেমাটির গন্ধেপুরোনো প্রার্থনা।১১শূন্য হাতেফুলের কাছে যাই—ফুল থাকে।১২শীতল বাতাস।দরজার ফাঁকেঅদৃশ্য অতিথি।১৩পাথরের ওপরছায়া বসে থাকে—সময় নয়।১৪পুকুরে চাঁদ—ধরতে গিয়েহাত ভেজে।১৫প্রার্থনার শেষেধূপ নিভে গেলেঘর জাগে।১৬একাকী পথ।পায়ের শব্দেইআমি নেই।১৭ভোরের আলো—মুছতে গিয়েঅন্ধকার থাকে।১৮পাতা ঝরে।কোনো বিদায়লিখে যায় না।১৯নুনের বেশেচুলে বাতাস—নাম ঝরে।২০সব ছুটে গেলেএকটা পাথর—আমার মতো।২১ভোরের আগেঘরের কোণেআলো বসে।২২পাতার ফাঁকেএকটুকরো আকাশ—এটাই পথ।২৩হাঁটতে হাঁটতেহঠাৎ থেমে যাই—পাখি ওড়ে।২৪নদীর ধারেনাম ভুলেজল দেখি।২৫ম্লান আলোয়প্রদীপ নয়—অপেক্ষা জ্বলে।২৬বালির ওপরঢেউয়ের লেখা—কে পড়বে?২৭ঝরা ফুল।তোলার আগেইহাত নামে।২৮কাঠের সিঁড়িরাতে কাঁপে—চাঁদ উঠেছে।২৯মন্দির উঠোনেকোনো প্রার্থনা নেই—তবু বসে থাকি।৩০মেঘ সরে গেলেপাহাড় নয়—নিশ্বাস দেখা যায়।৩১পাখির ডাক।এরপরের নীরবতায়আমি শুনি।৩২শীতের শেষেখালি কলস—জল ভরে।৩৩রান্নাঘরেআগুন নিভে গেলেরাত জ্বলে।৩৪পাতলা কুয়াশা—নিজের হাতওঅত দূরে।৩৫পথের ধারেবসন্ত বসে—কোথাও যায় না।৩৬ধূপের ধোঁয়াছাদের কাছেনাম ভোলে।৩৭পুকুরপাড়েকথা না বলেইদিন শেষ।৩৮ভিজে পা।বৃষ্টি নয়—আমি আছি।৩৯ফাঁকা ঘরেঘড়ির শব্দ—সময় নয়।৪০সব কথা শেষেএকটুখানি নীরবতা—এটাই উত্তর।৪১চাঁদ দেখছিলাম।হঠাৎ মনে হলো—কে দেখছে?৪২ঘণ্টা বাজল।শব্দ থামল—কে শুনছে?৪৩পুকুরে চাঁদ।চাঁদ নড়ল না—জল কেন কাঁপে?৪৪নাম ডাকি।কেউ ফেরে না—ডাকটা কোথায় যায়?৪৫দরজা খুলেবাতাস ঢোকে—কেউ কি এসেছে?৪৬ফুল ঝরে।আমি দেখি—দেখাটুকু কার?৪৭পা থামালাম।পথ চলতে থাকে—কে যাচ্ছে?৪৮ঘুম ভাঙল।স্বপ্ন গেল—যে জেগেছে, সে কে?৪৯ছায়া পড়েছে।আলো সরে গেলেছায়া কার?৫০ঘরের ভেতরনীরবতা—কে কথা বলছে?

News সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ 0
প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

প্রেম দেখাতে চুম্বন নয় যথেষ্ট হয়ে উঠছে খেলার মাঠ

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করল লাওস

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট ও শ্রম ভিসা বন্ধ করল লাওস

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

বিশ্ববাজারের পথে মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী পশ্চিম বাজার

0 Comments