ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) তাদের সাব–ব্রাঞ্চের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘সাব–ব্রাঞ্চ ইনচার্জ’ পদে কর্মকর্তা নেওয়া হবে। প্রার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন।
সংক্ষিপ্ত তথ্য
প্রতিষ্ঠানের নাম: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)।
পদের নাম: সাব–ব্রাঞ্চ ইনচার্জ।
চাকরির ধরন: ফুলটাইম (অফিস)।
কর্মস্থল: বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেকোনো বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি। শিক্ষাজীবনে কোনো তৃতীয় বিভাগ বা শ্রেণি গ্রহণযোগ্য নয়। পরবর্তী জব গ্রেডে পদোন্নতির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকিং পেশাগত পরীক্ষা (জেএআইবিবি/এআইবিবি) সফলভাবে সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
অভিজ্ঞতা: ব্যাংকিং খাতে ন্যূনতম তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কোর ব্রাঞ্চ ব্যাংকিং অপারেশনস, কাস্টমার সার্ভিস বা ক্রেডিট অপারেশনসে অভিজ্ঞ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সাব–ব্রাঞ্চ বা ছোট শাখা পরিচালনায় অভিজ্ঞতা থাকলে অতিরিক্ত সুযোগ পাবেন।
বয়সসীমা: ২৪ থেকে ৪৫ বছর।
অন্যান্য যোগ্যতা: কোর ব্যাংকিং সিস্টেম, এএমএল/কেওয়াইসি নিয়মাবলি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মনীতি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ঋণের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নেতৃত্বদানে দক্ষতা আবশ্যক।
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে।
প্রধান দায়িত্বগুলো
সাব–ব্রাঞ্চের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও আমানত, ঋণসহ অন্যান্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিশ্চিত করা। দৈনিক ক্যাশ লেনদেন, হিসাব খোলা ও রেমিট্যান্সের প্রক্রিয়া তদারকি করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা, এএমএল/কেওয়াইসি নিয়ম ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নীতি অনুসরণ করা। সাব–ব্রাঞ্চ পর্যায়ে ঋণ ও পরিচালনগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা। লিংকড প্যারেন্ট ব্রাঞ্চ ও অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দৈনিক প্রতিবেদন বজায় রাখা।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা
আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদনের বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রবেশ করুন।
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে বৃক্ষপ্রেমের বীজ বুনে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ভৈরব বন্ধুসভা। ‘বৃক্ষ শুধু রোপণ নয়, যত্ন নিয়ে বাঁচাতে হয়’ প্রতিপাদ্যে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, চারা বিতরণ ও গাছের পরিচর্যাবিষয়ক নানা কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।গত ২৭ আগস্ট আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এদিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শতাধিক ফলদ, বনজ ও পরিবেশবান্ধব গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরেও বেশ কয়েকটি চারা রোপণ করেন বন্ধুসভার সদস্যরা।পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতাচারা হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিক্ষার্থীরা। শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলো পরম যত্নে বড় করে তোলার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করে তারা। কর্মসূচিকে আরও প্রাণবন্ত করতে আয়োজন করা হয় পরিবেশবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা।অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা তুলে ধরে বক্তব্য দেন ভৈরব বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক জিসানউল্লাহ আনাস বৃক্ষরোপণকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক মহিমা মেধা প্রতিটি চারাকে পরিচর্যার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করার আহ্বান জানান।শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের পরিচর্যা নিয়ে আলোচনাআফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম রিপন বন্ধুসভার এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আশা করি, শিক্ষার্থীরা গাছগুলোকে ভালোবাসবে ও বড় করবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হয়ে উঠবে।’পরবর্তী ধাপে ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অর্ধশত গাছ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কেবল নতুন চারা রোপণই নয়, পূর্বের বছরগুলোতে রোপণ করা গাছের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে জব্বার জুট মিলস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন সদস্যরা।ব্লু বার্ড স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য গাছ পাঠানোবিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক হাসিনা পান্না জানান, গত বছর বন্ধুসভার সহযোগিতায় গড়ে তোলা ফলের বাগানটির সঠিক যত্ন নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে চলতি সেপ্টেম্বরেও সেখানে নতুন কিছু চারা উপহার দেওয়া হচ্ছে।সব মিলিয়ে ভৈরব বন্ধুসভার ও শুভানুধ্যায়ীদের যৌথ অর্থায়নে চলতি মৌসুমে দুই শতাধিক চারা রোপণ ও বিতরণ করা হয়েছে।আফছর উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ রোপণ করাকর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি আফিসা আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাসেল রাজ, বইমেলা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হেপী বেগম, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক ভুবন আহমেদ, বন্ধু অনুপম, তুহিন, আদিব, লোভনা ইসলাম, জিসান, রাকিবসহ অনেকে।সাংস্কৃতিক সম্পাদক, ভৈরব বন্ধুসভা
ইরানপন্থী হুতিরা পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সৌদি আরবের মিত্র তুরস্ক ও পাকিস্তান এ বিষয়ে কী বলছে, দেখুন ভিডিওতে...
নাগরিক ভ্রমণ–১ সেকশন: , নাগরিক সংবাদ ট্যাগ: , , রেমাক্রি, সাঙ্গু নদ, ট্যুর গ্রুপ, ছবি: ...নামে এডু জবসে মেটা ও এক্সসার্প্ট: ব্লার্ব: ১ ব্লার্ব: ২ ব্লার্ব–৩ আমার জীবনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়ংকর আর স্মৃতিতে জাগরূক হয়ে থাকবে এবারের নাফাখুম-আমিয়াখুম ট্যুর। প্রায় মরতে মরতে বেঁচে ফিরে এসেছি। আমি দীর্ঘদিন ট্যুর করি। এটা আমার প্যাশন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জনপ্রিয় অনেক দর্শনীয় স্থান আমার দেখা হয়েছে। অনেকদিন থেকেই আমার নাফাখুম–আমিয়াখুম যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু যেহেতু এটা ট্রেকিং ট্যুর আর এক্সপেনসিভ (অন্তত আমার কাছে), তাই ব্যাটে–বলে মিলছিল না। কিন্তু এবারের রোজার ঈদে সবকিছু মনমতো হয়ে যাওয়াতে বেরিয়ে পড়লাম নাফাখুমের উদ্দেশে।রাত ৮টায় আমরা সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবানের বাসে একটা ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে উঠে পড়ি। সেখানে আরও কয়েকটা ট্যুর গ্রুপ ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ জন। বাস ছেড়ে দিল, তারপর রাতের ঠান্ডা হাওয়া উপভোগ করতে করতে পৌঁছে গেলাম চকরিয়া। সেখান থেকে আরেকটা বাসে আলীকদম। আলীকদম থেকে চান্দের গাড়ি করে থানচি। থানচি থেকে ট্রলারে করে পদ্মঝিরি।আমি ভেবেছিলাম, আমিয়াখুম বোধ হয় আর যেতে পারব না। শরীরে এত ব্যথা ছিল। ১২টা নাগাদ রাতের খাবার দিল। কোনোরকম মুখে গুঁজে তারপর কিছু ওষুধ খেয়ে নিলাম।থানচি থেকেই মূলত নো নেটওয়ার্কের আওতায় পড়ে। কোনো নেট নেই এরপর আর। আর এখানেই আমাদের দুর্ভোগের সূচনা। কথা ছিল, আমাদের রেমাক্রি পর্যন্ত ট্রলারে করে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপর সেখান থেকে ৪-৫ ঘণ্টা হেঁটে থুইসা পাড়ায় পৌঁছে যাব। কিন্তু বিধিবাম! ট্রেকিং যেহেতু করতে এসেছি, প্রকৃতি আমাদের ট্রেকিংয়ের আদ্যোপান্ত শিখিয়ে দিল। বলা হলো, তেলসংকটের কারণে ট্রলার আর সামনে যাবে না আমাদের এখান থেকেই ট্রেকিং শুরু করতে হবে। পদ্মঝিরি থেকে আমাদের ট্রেকিংয়ের শুরু হলো বেলা ১টায়।প্রথমে ভালোই লাগছিল, ঝিরিপথ ধরে হাঁটছিলাম পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে করতে। দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম। তারপর আবার ঝিরি ধরে হাঁটা। আসল খেলা শুরু হলো বিকেল ৪টার পর। একের পর এক পাহাড় চলে আসছিল সামনে। ওগুলো বেয়ে বেয়ে ওপরে উঠি। সন্ধ্যা নেমে গেলে আমাদের বলা হলো দোকানে বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে। আর আধা ঘণ্টা হাঁটলেই আমরা থুনচিপাড়ায় পৌঁছে যাব। কিন্তু দেখা গেল, আধা ঘণ্টার স্থানে ২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও পাড়ার দেখা মিলছে না। একে তো ক্লান্ত শরীর, তার ওপর উঁচু উঁচু খাড়া পাহাড়ের ঢাল। এর মধ্যে আবার রাত নেমে এসেছে। টর্চ জ্বালিয়ে সবাই হাঁটছিলাম। আমাদের গ্রুপে বেশ কয়েকজন ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব। তাঁরা আগে তেমন ট্যুর করেননি। এটা যে ট্রেকিং ট্যুর, তাঁরা এটাও জানতেন না। আমিয়াখুমের ভিউ দেখে আর হুজুগে পড়ে চলে এসেছেন। তাঁদের সবার অবস্থা খারাপ। হাঁটছেন আর হোস্টকে গালি দিচ্ছেন। ইয়াং যাঁরা, তাঁরাও হতাশ। এ রকম ট্যুর হবে, কেউ প্রত্যাশাই করেননি। সবার শরীর টালমাটাল। শুধু মনের জোরে হাঁটছেন সবাই। পথ যেন শেষই হয় না।যাঁরা আমিয়াখুম যাবেন, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। ট্যুরিজম খাতকে রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হবে।অন্ধকারে একবার পাহাড়ে উঠি আবার নেমে ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে আবার আরেকটা পাহাড়। আমার মনে হয়, ৭-৮টা পাহাড় অন্ধকারে আমরা অতিক্রম করেছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে ১০টায় আমরা পাড়ায় পৌঁছে গেলাম। আমি লিটারেলি শুয়ে পড়লাম পাড়ার উঠানে। শরীরে আর এক বিন্দু শক্তি নেই। আধা ঘণ্টা এভাবে শুয়ে থাকার পর আমাদের জুমঘরে রুম ঠিক হলো। ৫ জন মেয়ের জন্য একটা রুম, যেখানে আবার রান্নাও হচ্ছে। ফ্লোরে চাঁটাই বিছিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা। না খেয়েই শুয়ে পড়লাম। আমি ভেবেছিলাম, আমিয়াখুম বোধ হয় আর যেতে পারব না। শরীরে এত ব্যথা ছিল। ১২টা নাগাদ রাতের খাবার দিল। কোনোরকম মুখে গুঁজে তারপর কিছু ওষুধ খেয়ে নিলাম।পরদিন সকালে ও শরীর খুব ব্যথা, তবু মনের জোরে বের হয়ে পড়লাম আমিয়াখুমের উদ্দেশে। আমাদের টিমের ৩৫ জনের মধ্যে আমিয়াখুম রওনা দিলেন মাত্র ১০ জন। তাঁদের মধ্যে আবার আমরা ২ জন মেয়ে। আঙ্কেলসমাজ বেশ ট্রল করল আমাদের নিয়ে, ‘দেখো, আমরা পারি না, আর বাচ্চা বাচ্চা মেয়ের কী সাহস!’যা–ই হোক, ২ ঘণ্টা হাঁটার পর সেই কাঙ্ক্ষিত দেবতা পাহাড়। যা কিনা আমিয়াখুম যাওয়ার পথে সবচেয়ে ভয়ংকর পাহাড়। কারণ, এর উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফুট আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি প্রায় /////////////////৯০° //////////////////খাড়া। দড়ি বেয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে নামলাম। একটু এদিক সেদিক হলেই খাদে পড়ে আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।দেবতা পাহাড় থেকে নেমে ভেলাখুম তারপর আমার স্বপ্নের আমিয়াখুম চলে এলাম। ২ দিন যা কষ্ট করেছিলাম, সব মুহূর্তেই পানি হয়ে গেল। এত্ত সুন্দর..!আমিয়াখুমে ছবি তুলে গোসল করে আবার দেবতা পাহাড়ের কাছে চলে এলাম। আরেক অ্যাডভেঞ্চার। কখনো হেঁটে, কখনো বসে, কখনো হামাগুড়ি দিয়ে তারপর চূড়ায় উঠলাম। সেখান থেকে নেমে পাড়ায়।পরদিন আবার তল্পিতল্পা গুটিয়ে নাফাখুম যাত্রা। কথা ছিল, সেখান থেকে রেমাক্রি গিয়ে তারপর বোটে করে থানচি, তারপর চান্দের গাড়ি, তারপর বাসে করে ঢাকা। নাফাখুম দেখে রেমাক্রি এলাম। এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। রেমাক্রি আসার পর আর নৌকার দেখা নেই। সকাল থেকে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। হোস্ট গেছেন নৌকা আনতে। তাঁর আসার খবর নেই। এদিকে নো নেটওয়ার্কের কারণে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। আমাদের প্যাকেজে লাঞ্চ আছে, সেটাও করানো হচ্ছে না। আমরা সবাই টুকটাক খেয়ে নিলাম।হোস্ট এলেন প্রায় সন্ধ্যায়। এই রাতের বেলায় আমাদের সাঙ্গু নদ দিয়ে যেতে হবে। যেখানে সাঙ্গু নদ হচ্ছে পাহাড়ি নদ। চলতি পথে সব বড় বড় পাথর। দিনের আলোতেই ওখানে চলা যায় না। আর রাত। তবু বুকে সাহস নিয়ে উঠে পড়লাম। গ্রীষ্মকাল হওয়াতে পানি কম। কিছুদূর গিয়ে সবাই নৌকা থেকে নেমে নৌকা ঠেলতে লাগলেন। এক জায়গায় গিয়ে নৌকা আর চলেই না, তারপর আমরা নেমে কিছুদূর পাড় ধরে হাঁটলাম। মাঝি নৌকা ঠেলে নিয়ে এলেন। তারপর নৌকায় উঠার সময় আমরা নদের ওপর দিয়ে হেঁটে ট্রলারে উঠতে হবে, কারণ পানি কম। কিছুদূর গেলাম। মাঝনদীতে গিয়ে দেখি, তীব্র স্রোত। প্রায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। কোনোমতে গাইডকে ধরে বাঁচলাম। এরপর নৌকা চলতে শুরু করল বড় বড় পাথরের মাঝখান দিয়ে। এক জায়গায় এসে প্রায় উল্টে গিয়েছিল। আল্লাহ বাঁচিয়ে দিলেন আবার।তিন্দু এসে পৌঁছালাম। মাথায় এখনো টেনশন, এই রাতে কীভাবে থানচি যাব। পাহাড়ি উঁচু খাড়া পথ। অন্ধকারে চান্দের গাড়ি তো চলতে পারবে না। এক ঘণ্টা ওয়েট করার পর হোস্ট বললেন, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এ সময় চান্দের গাড়ি চলবে না। আর আমরা যে বাসে উঠব, তা রাতে না গেলে আর যাওয়া যাবে না। আমাদের নিজের টাকায় তিন্দুতে থাকতে হবে। তারপর নিজেদের টাকায় ঢাকা পৌঁছাতে হবে। তাঁরা লাঞ্চের পরিবর্তে সকালে নাশতা করাবেন। এ কথা শুনে সবাই তো অবাক। এত টাকা দিয়েছি, এত কষ্ট করে এই পর্যন্ত এসে এখন এ কথা। তা ছাড়া নো নেটওয়ার্কের কারণে কেউ চাইলেও বিকাশ বা ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন না। তারপর সবাই মিলে বুঝিয়ে–শুনিয়ে হোস্টকে তিন্দু থাকার খরচ আর অন্যান্য খরচে রাজি করালেন।সকাল হলে আমরা ট্রলারে করে থানচি, তারপর চান্দের গাড়ি করে চকরিয়া এলাম। এখানে এসে আরেক বিপদ। ঈদের কারণে ঢাকাগামী কোনো সরাসরি বাস নেই। হোস্ট কিছুক্ষণ চেষ্টা করে তারপর আমাদের বাসভাড়া দিয়ে দিলেন। চকরিয়া থেকে চট্টগ্রামে এলাম। সেখান থেকে আবার বাসে করে ঢাকায় পৌঁছালাম ভোর ৫টায়। তারপর স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়লাম। যত দিন বেঁচে থাকব, এই ট্যুরের কথা আমি কখনোই ভুলব না।যাঁরা আমিয়াখুম যাবেন, ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। আর সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন। ট্যুরিজম সেক্টরকে রক্ষা করতে আমাদের এক হতে হবে।লেখক: শায়লা এ্যামিন, শিক্ষার্থী, উত্তরা, ঢাকানাগরিক সংবাদে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই–মেইল: ns@prothomalo.com