গুম ও ক্রসফায়ারের পৃথক মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। আদালতকে তিনি জানান, অন্য এক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তারেক সাঈদ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
গত ১০ আগস্ট গুম ও ক্রসফায়ারের পৃথক দুই মামলায় তারেক সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
এর আগে গত ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ১০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হলে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপির তিন নেতা আব্দুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় বিএনপির কর্মী বেল্লাল হোসেনকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপির দুই নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান প্রসিকিউশন।
এফএইচ/কেএসআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
পেছন ফিরে দেখি, আম্মা মুখে কাপড় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকিয়ে আছে আমার যাওয়ার পথের দিকে। আব্বা সঙ্গেই যাচ্ছে, গাড়িতে তুলে দেবে বলে।পাস করার পর শহরে দুটো চাকরি করলেও এবার যাচ্ছি স্বপ্নের শহর চট্টগ্রাম ছেড়ে রসমালাইয়ের শহর কুমিল্লায়। কখনো চট্টগ্রাম ছাড়তে হবে, স্বপ্নেও ভাবিনি।আমি তখন স্কুলে ক্লাস নিচ্ছি। বীজগণিতের একটা অঙ্কের ঠিক মাঝখানে ফোনটা এল।‘আপনার কাল ইন্টারভিউ আছে। সব কাগজপত্র নিয়ে চলে আসুন। ঠিকানা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’কোনোমতে অঙ্কটা শেষ করে শিক্ষার্থীদের বললাম, ‘তোমরা একই রকম আরেকটা অঙ্ক করো। আমি আসছি।’প্রথমেই ফোন দিলাম আব্বাকে। তিনি এক বাক্যেই বললেন, ‘ইন্টারভিউটা আগে দিয়ে আয়। এরপর দেখা যাবে। তোর ভাইয়া কী বলে, সেটা একটু শুনে নে।’আমি জানি, ভাইয়াকে ফোন দিলে অন্তত পাঁচ মিনিট বয়ান দেবে, কেন ইন্টারভিউ দেওয়া উচিত, কেন সুযোগটা হাতছাড়া করা যাবে না, ভবিষ্যৎ নিয়ে কী করতে হবে… ইত্যাদি ইত্যাদি।কিন্তু আমার তো এই স্বপ্নের শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছা করে না।দূরে গেলে ছোট বোনের সঙ্গে ঝগড়া করবে কে? আর রিধি? সে তো একা হয়ে যাবে।রিধি একটা নামকরা ব্যাংকের কর্মকর্তা। দিন শেষে আমরা প্রায়ই ২০ টাকার বাদাম কিনে, খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে সুখ-দুঃখের গল্প সেরে নিতাম। রিধির সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে হতো আনন্দে আকাশে ভেসে বেড়ানোর মতো, যেমন প্যারাসেইলিং করার সময় মাটি থেকে অনেক ওপরে উঠে গেলে হয়।মাঝেমধ্যে বন্ধুরা রাতে ডাক দিলে স্কুটি নিয়ে মেরিন ড্রাইভ ধরে চলে যেতাম পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। শুধু এক কাপ চা আর আড্ডায় গা ভাসানোর জন্য।এসব ছেড়ে কি অদূরের একটা শহরে যাওয়া যায়?যাওয়ার দিন ভাইয়াকে ফোন দিয়ে বললাম, ‘আব্বা যেন আমার সঙ্গে বাস টার্মিনালে না যায়। কিছু কাজ আছে। সেসব শেষ করে বাসে উঠব।’আব্বা জোরাজুরি করলেন। আমি তাকে নিলাম না।কী করব! আমারও তো আব্বাকে সঙ্গে নিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু রিধি অপেক্ষা করছে বাস টার্মিনালে, আমাকে বিদায় দেবে বলে। সে কথা তো আর বলতে পারি না। বলার মতো মুখও এখনো হয়নি।বাস টার্মিনালের দিকে যেতে না যেতেই আব্বা প্রায় ২০টার ওপর কল দিয়ে বসে আছেন।রাগে ভাইয়াকে নক দিয়ে বললাম, ‘আব্বাকে মানা করো, কল না দিতে। আমি গিয়ে সবাইকে ভিডিও কল দেব।’নীল দহনআজ আর কোনো পার্কে নয়, রিধি আমাকে একটা সুন্দর রেস্টুরেন্টে ট্রিট দিল। অর্ডার করার প্রায় ৪০ মিনিট পর খাবার এল। আমাদের সময় নিয়ে মাথাব্যথাও নেই।গল্পের মাঝখানে কখন যে সময় চলে গেছে, খেয়ালই করিনি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত প্রায় ৯টা।বাসে ওঠার কথা ছিল সন্ধ্যা ৭টায়। সাইলেন্ট করা মুঠোফোনটা পকেট থেকে বের করে দেখি; চক্ষু চড়কগাছ! ১০০-এর ওপর মিসড কল!কী করে উঠি?বাসে ওঠার কথা বলতেই রিধির চোখ ভিজে উঠল। এত মানুষের ভিড়েও আমাদের মনের উথালপাতাল অশ্রুর খবর কেই–বা বুঝবে!শেষ পর্যন্ত উঠতেই হলো।গাড়িতে উঠেই ভাইয়াকে আবার বললাম, ‘সবাইকে টেনশন করতে মানা করো। আমি ফেনীর কাছাকাছি।’অথচ মাত্র বাসে উঠেছি।পরিবারের সঙ্গে এমন মিথ্যা বললেও দিন শেষে এই পরিবারই তো সব। আব্বাকে তো এমনিতেই ভয় পাই। যদি জানতে পারেন এত রাতে বাসে উঠেছি, তাহলে আমার খবর করে ছাড়বেন!ঘণ্টাখানেক পর বিপত্তি বাধল। ভাইয়া ফোন দিয়ে বলল, ‘কই আসোস?’‘চৌদ্দগ্রাম।’সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘লাইভ লোকেশন দে।’কী যে করি! না দিয়েও উপায় নেই। এতক্ষণ ভাইয়াকে বলে বলে তো স্বপ্নের শহরে পড়ে আছি। শেষ পর্যন্ত লোকেশন পাঠাতেই হলো।লোকেশন পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়াকে আরেকটা কথাও বললাম, ‘আমার মন টানতেছে না রে।’সে ফোন দিয়ে উল্টো ঝাড়ি দিল।‘অনেকগুলো মানুষকে তুই বসিয়ে রাখছিস। রাত বাজে প্রায় ১২টা!’কী করব? রিধির সঙ্গে দেখা না করে কীভাবে চলে যাই? শনিবারে তো তার অফিস থাকে না। বাসায় ম্যানেজ করে আসতে আসতেই দেরি হয়ে গেছে ওর।কথা বলতে বলতে ভাইয়ার কাছ থেকেই জানতে পারলাম, আব্বা আমাকে রিকশায় তুলে দেওয়ার পর বাসায় যাননি। হেঁটে হেঁটে বাস টার্মিনালে গিয়েছেন। দূর থেকে আমাকে একবার দেখবেন বলে।আর আম্মা ভাইয়াকে ভিডিও কল দিয়ে কেঁদেছেন অনেকক্ষণ। যাওয়ার সময় বলে এসেছি, ‘এবার তোমরা শান্তিতে থাকো।’কেন যে বললাম কথাটা। হয়তো প্রিয় শহরে না থাকার যন্ত্রণা হতে পারে।দুই ছেলে এখন দুই শহরে!কথাটা শুনে হুট করেই চোখ ভিজে উঠল।এতক্ষণ চট্টগ্রাম ছাড়ার কষ্টটা শুধু আমার নিজের মনে হচ্ছিল। হঠাৎ বুঝলাম, শহর ছেড়ে আসার কষ্টটা হয়তো আমার চেয়েও বেশি কারও মনে জমে আছে।পেছনে তাকিয়ে শেষবারের মতো দেখি, আম্মা মুখে কাপড় দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আব্বা হয়তো তখনো বাস টার্মিনালের কোথাও দাঁড়িয়ে আছেন।মেজ ছেলে বলে হয়তো আদরটা একটু কম পেয়েছি, এমনটা ভাবতাম মাঝেমধ্যে। সেদিন বুঝলাম, আদর কম ছিল না। শুধু প্রকাশটা একটু আলাদা ছিল।দুই ছেলে দুই শহরে চলে গেলেও বাবা-মায়ের কাছে দুজনই একই ঘরের ছেলে হয়ে থাকে।
ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কী হবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ওমানে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন ট্রাম্প।এদিকে গত সপ্তাহান্তে ওমানে হুতিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সূত্র। তবে এ বৈঠক সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।তিনটি সূত্র জানায়, ওমানের রাজধানী মাসকাটে মার্কিন দূতাবাসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ওমান সরকার বৈঠকটি আয়োজনে সহায়তা করেছে বলে জানায় দুটি সূত্র।গত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দরনগরী মোখা এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপও রয়েছে।গত রোববার বৈঠকটি হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে হুতিদের প্রতিনিধিরা মার্কিন কর্মকর্তাদের বলেন, মার্কিন জাহাজে হামলার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতিতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।ইয়েমেনের একটি সূত্র বলেছে, হুতিরা ইসরায়েলি জাহাজ বা কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করবে না বলে জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবের জাহাজ হলে ভিন্ন কথা।মক্কা নগরীর দিকে হুতিদের ড্রোন, সৌদি যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি সশস্ত্র হুতি যোদ্ধাদুটি সূত্র বলেছে, বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন। হুতিদের পক্ষে মাসকাটে অবস্থানরত গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নেতা মোহাম্মদ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। হুতির আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আবদেলমালিক আল-আজিরিও বৈঠকে ছিলেন বলে অন্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘বৈঠকের বিষয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না।’ তবে তিনি বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিস্তার ঠেকানো যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থের অংশ।হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রাভিযানের মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে ফোন করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চান। ওয়াশিংটন রিয়াদকে বলেছে, তারা সরাসরি এ যুদ্ধে জড়াবে না।ওমানে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা ও হুতি নেতা আবদুস সালামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, হুতিরা তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইয়েমেন যুদ্ধ থেকে দূরে থাকতে বলেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সোমবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।পেরিম দ্বীপ দখলের পর হুতিদের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ভ্যান্সগত সপ্তাহে হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বন্দরনগরী মোখা ও বাব আল-মানদেব প্রণালির পেরিম দ্বীপও রয়েছে। এ প্রণালি লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত।২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী দখল করে হুতিরা। এরপর এক দশকের বেশি সময় ধরে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে তাদের লড়াই চলছে। সম্প্রতি যুদ্ধবিরতির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল। তবে হঠাৎই সৌদি আরব ইয়েমেনের বন্দরগুলো অবরোধ করার ঘোষণা দিলে জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। পাল্টাপাল্টি এ পদক্ষেপে গত জুলাইয়ে আবার লড়াই শুরু হয়।হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রাভিযানের মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গত সপ্তাহে ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা চান। ওয়াশিংটন রিয়াদকে বলেছে, তারা সরাসরি এ যুদ্ধে জড়াবে না।
কোনো কিছুতে একঘেয়েমি বা পুনরাবৃত্তি ক্লান্তিকর হতে পারে। তবে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনাকে দেখে তেমন লাগে না। কাতালান ক্লাবটি জিতেই চলছে, গোলও করছে ভূরি ভূরি, কিন্তু এতটুকু বিরক্ত লাগার সুযোগ নেই। খেলোয়াড়দের নিয়ে কোচ হান্সি ফ্লিক এমন এক ‘গোল মেশিন’ বানিয়েছেন, যেটা আসলে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়াল, কিন্তু সমর্থকদের জন্য সুন্দর।ক্যাম্প ন্যুতে গতকাল রাতে রাফিনিয়া-লামিনে ইয়ামালরা সে সৌন্দর্যকেই পুরো প্রস্ফুটিত করেছিলেন। তাতে রেসিং সান্তেন্দরের জালে জমা পড়েছে ৭ গোল! হ্যাটট্রিক পেয়েছেন রাফিনিয়া। ম্যাচে বার্সা জিতেছে ৭-২ গোলে।এ মৌসুমে ফ্লিকের দলকে দেখে আসলে চোখেমুখে অবিশ্বাস নিয়ে বলতে হয়, কী শুরু করেছে বার্সা! মৌসুমে প্রথম সাত ম্যাচের সব কটিই জিতেছে বার্সা, যেটা এর আগে কখনো পারেনি। এই পথে ৩৩ গোল করাও ক্লাবটির জন্য নতুন রেকর্ড।বার্সা লা লিগায় নিজেদের প্রথম ছয় ম্যাচেই করেছে ২৮ গোল—এমন গোল–উৎসবের দেখাও এর আগে কখনো পায়নি ক্লাবটি। তাতে সোনায় সোহাগা হিসেবে যোগ হতে পারে লিগে টানা ৫ ম্যাচে ন্যূনতম ৫টি করে গোল করা! সব মিলিয়ে মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৩৩ গোল করা ফ্লিকের দলকে দেখে বলতেই হয়, এই বার্সা আসলেই ভয়াল সুন্দর!বার্সার আক্রমণভাগে দুর্দান্ত জুটি গড়েছেন রাফিনিয়া ও ইয়ামাল। গোলের পর তাদের উদ্যাপনরাফিনিয়া সেই সৌন্দর্যের মধ্যমণি। বাঁ উইং থেকে আক্রমণভাগে সরে ব্রাজিলিয়ান তারকা যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছেন! গতকাল রাতের হ্যাটট্রিকে পেনাল্টি থেকে গোল ছিল ২টি। জোয়াও ক্যানসেলো ৮ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে দারুণ শটে চোখধাঁধানো গোল করে এ উৎসবের শুরুটা করেন। পরে তাতে রাফিনিয়ার সঙ্গে যোগ দেন গোল পাওয়া গ্যাব্রিয়েল জেসুস ও লামিনে ইয়ামাল। দুজনই গোল পেয়েছেন ১টি করে। ২৬ মিনিটে আত্মঘাতী গোলটি রেসিংয়ের স্ট্রাইকার এইজের ভিল্লালিব্রের।মায়ামিতে মেসির শততম গোল, জিতলেন শিরোপারাফিনিয়া মৌসুমটা যেভাবে শুরু করেছেন, সেটা আসলে বার্সায় লিওনেল মেসিও পারেননি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭ ম্যাচে তাঁর গোল ১১টি। এর মধ্যে লিগে ৬ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। ২০১২-১৩ মৌসুমে বার্সার হয়ে প্রথম ৭ ম্যাচে ১০ গোল করেছিলেন মেসি। গোল করানোর হিসাব যোগ করলে চলতি মৌসুমে বার্সার প্রথম ৭ ম্যাচে ১৪ গোলে অবদান রাখেন রাফিনিয়া। গোল বানিয়েছেন ৩টি। রাফিনিয়ার শুধু লা লিগার গোল হিসাব করলেও উঠে আসে মেসির প্রসঙ্গ। ২০১৭-১৮ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে মেসিও লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে ৯ গোল করেন। তারপর লা লিগায় প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়াই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯ গোল করলেন।পেনাল্টি থেকে গোল করছেন রাফিনিয়ারাফিনিয়ার প্রসঙ্গে উঠে আসে ইয়ামালের কথাও। লিগে তাঁর গোলসংখ্যা ৭। অর্থাৎ লা লিগায় এবার বার্সার প্রথম ৬ ম্যাচে রাফিনিয়া ও ইয়ামাল মিলে করলেন ১৬টি গোল। স্পেনের শীর্ষ এই লিগে গত ৮৬ বছরে এমন ভয়ংকর আক্রমণভাগের জুটি দেখা যায়নি। সর্বশেষ ১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়ার হয়ে লিগে প্রথম ৬ ম্যাচে ১৯ গোল করেছিলেন কাম্পানাল (১২) ও তোরেনতেগুই (৭) জুটি।জয়ের পর রাফিনিয়া ডিএজেডএনকে বলেন, ‘গোল পাওয়া ও জয়—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, আমি এতে খুশি। আমাদের ব্যক্তিগত ও দলগত দিক থেকেই উন্নতি করা ধরে রাখতে হবে। প্রত্যেক খেলোয়াড়ের মধ্যে আরও ভালো করার, আরও বেশি গোল ও সুযোগ তৈরির যে ক্ষুধা, তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা দল হিসেবে কতটা কাছাকাছি বা ঐক্যবদ্ধ, সেটাই মাঠে ফুটে উঠেছে।’তবে রাফিনিয়া কিন্তু মনে করেন না যে সেরা ফর্মে আছেন, ‘কোনো না কোনো ক্ষেত্রে উন্নতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি কখনো বলব না যে সেরা ছন্দে আছি; কারণ, আমি সব সময় সাধ্যমতো উন্নতির চেষ্টা করি এবং দল আমাকে যা দেয়, তার চেয়ে বেশি কিছু দলকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।’জয়ের পর রেসিংয়ের কোচ হোসে আলবার্তো লোপেজের সঙ্গে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকবার্সা যে দলগতভাবে খেলে গোল–উৎসব করছে, সে প্রমাণও আছে পরিসংখ্যানে। এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত বার্সার আটজন খেলোয়াড় গোল পেয়েছেন। আর এই গোল–উৎসব ও টানা জয়েই লা লিগায় রেকর্ড গড়েছে ফ্লিকের দল। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে প্রথম ৬ ম্যাচেই জয়ের সঙ্গে ২৮ গোলের রেকর্ড গড়ল বার্সা। এর আগে লা লিগায় প্রথম ৬ ম্যাচে বার্সার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছে কেবল একটি দল—১৯৪০-৪১ মৌসুমে সেভিয়া (৩২ গোল)। তবে সেভিয়া তাদের প্রথম ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটি জিতেছিল।লিগে এ মৌসুমে বার্সার গোল পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো। ২৮ গোল করার বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ৬টি। অর্থাৎ ২২ গোল পার্থক্য বার্সার। এর চেয়েও ভালো গোল ব্যবধানে টানা ছয়টি জয় নিয়ে মৌসুম শুরুর রেকর্ড আছে মাত্র একটি দলেরই—১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের, তাদের গোল পার্থক্য ছিল ২৪।For the FIRST TIME EVER, Barcelona have scored over 30 goals in their first 7 matches in all comps THEY ARE A SCORING MACHINE THIS SEASON pic.twitter.com/bM926ILxao— ESPN FC (@ESPNFC) September 16, 2026 এমন দুর্দান্ত শুরুতে বার্সা কোচ ফ্লিক নিশ্চয়ই সন্তুষ্ট? রেসিংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষেই সেটা বোঝা গেল। ফ্লিক বলেন, ‘ভালো শুরু পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দারুণভাবে শেষ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা যেন পাস দেওয়ার সময় মনোযোগটা ধরে রাখি। এটি কথোপকথনের মতো, একটি ভালো কথোপকথন।’৬ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে বার্সা। সমান ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ।