মহাকাশে এমন একটি অদ্ভুত নক্ষত্রের বিস্ফোরণ ঘটেছিল, যার কোনো হাইড্রোজেন বা সাধারণ জ্বালানি ছিল না! এই বিস্ফোরণের পর নক্ষত্রটি বিশাল ধূলিমেঘের আড়ালে টানা ২৫ বছর নিজেকে লুকিয়ে রাখে। সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলোর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই নক্ষত্রের ভেতরের আসল অপরাধীকে খুঁজে পেয়েছেন।
খুনের পর অপরাধী যদি প্রমাণ লোপাট করতে পুরো ক্রাইম সিন সিকি শতাব্দীর জন্য লুকিয়ে ফেলে, তবে গোয়েন্দারা কী করবেন? মহাকাশের বুকে ঠিক এমন এক নিখুঁত ক্রাইম থ্রিলারের জন্ম দিয়েছিল ‘ভি৪৪৫ পাপিস’ নামে একটি নক্ষত্র। ২০০০ সালের শেষের দিকে এটি হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এবং মহাকাশবিজ্ঞানীদের কাছে নিজের অস্তিত্বের জানান দেয়। বিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের বিস্ফোরণকে বলা হয় নোভা। কিন্তু এই নোভাটি বিজ্ঞানীদের রীতিমতো ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল। কারণ, মহাকাশে সাধারণ যেকোনো নোভার প্রধান জ্বালানি হাইড্রোজেন। অথচ এই বিশাল বিস্ফোরণে হাইড্রোজেনের টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি!
ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা যাক। সূর্যের মতো কোনো নক্ষত্রের যখন মৃত্যু ঘটে, তখন তার ফেলে যাওয়া উত্তপ্ত ও অতি-ঘন অবশিষ্টাংশকে বলা হয় শ্বেত বামন। এই শ্বেত বামনরা মহাকাশে সাধারণত একা থাকে না, এদের পাশে অনেক সময়ই একটি সঙ্গী নক্ষত্র থাকে। শ্বেত বামনটি তার প্রবল মহাকর্ষীয় টানে ওই সঙ্গী নক্ষত্র থেকে ধীরে ধীরে গ্যাস—মূলত হাইড্রোজেন—চুরি করতে থাকে। চুরি করা এই হাইড্রোজেন শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে জমতে জমতে একসময় চাপ ও তাপ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সেখানে আর ফিরে আসার কোনো পথ থাকে না। এরপরই ঘটে এক ভয়ংকর থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ। এটিই হলো সাধারণ নোভা। ধার করা হাইড্রোজেনের সাহায্যে ঘটা এই বিস্ফোরণ মহাকাশে হরহামেশাই দেখা যায়।
সূর্যের মতো কোনো নক্ষত্রের যখন মৃত্যু ঘটে, তখন তার ফেলে যাওয়া উত্তপ্ত ও অতি-ঘন অবশিষ্টাংশকে বলা হয় শ্বেত বামন। এই শ্বেত বামনরা মহাকাশে সাধারণত একা থাকে না।
কিন্তু আমাদের ‘ভি৪৪৫ পাপিস’ ছিল একেবারেই আলাদা ও বিদ্রোহী। এটি মহাকাশের এমন এক অদ্ভুত নোভা, যা বিন্দুমাত্র হাইড্রোজেন ছাড়াই বিস্ফোরিত হয়েছিল। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে এটিই এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত একমাত্র নিশ্চিত ‘হিলিয়াম নোভা’। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই অদ্ভুত বিস্ফোরণের পরপরই প্রমাণ লোপাট করতে নক্ষত্রটি নিজের চারপাশে এক বিশাল ধোঁয়াশার চাদর টেনে দেয়। এটি মহাকাশে এক ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে গ্যাস ও ধূলিকণার এমন এক পুরু আস্তরণ তৈরি করে, যার আড়ালে মূল নক্ষত্রযুগল পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়। এরপর টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দূর থেকে শুধু সেই ধূলিকণার মেঘকে প্রসারিত হতে দেখেছেন, কিন্তু মেঘের ভেতরে থাকা আসল অপরাধীকে আর চোখের দেখা দেখতে পাননি।

অবশেষে দীর্ঘ ২৫ বছর পর সেই মহাজাগতিক ধোঁয়াশা কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির গবেষক জন মিলস এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মহাকাশের শক্তিশালী কয়েকটি টেলিস্কোপের ডেটা একসঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। ভেরি লার্জ টেলিস্কোপের ইনফ্রারেড ডেটা, হাবল স্পেস টেলিস্কোপের ছবি, সাউদার্ন আফ্রিকান লার্জ টেলিস্কোপের টানা দুই দশকের স্পেকট্রোস্কোপি এবং নাসার টেস স্যাটেলাইটের ডেটা মিলিয়ে তিনি অবশেষে সেই লুকিয়ে থাকা নক্ষত্রযুগলের পর্দা উন্মোচন করেছেন।
ভি৪৪৫ পাপিস নক্ষত্রযুগলটি মহাকাশে এক ট্রিলিয়ন কিলোমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে গ্যাস ও ধূলিকণার এমন এক পুরু আস্তরণ তৈরি করে, যার আড়ালে মূল নক্ষত্রযুগল পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যায়।
দেখা গেল, সেই শ্বেত বামনটি মূলত একটি হিলিয়াম নক্ষত্র থেকে জ্বালানি চুরি করে নিচ্ছে। হিলিয়াম নক্ষত্র হলো এমন এক ধরনের তারা, যার বাইরের দিকের হাইড্রোজেনের আবরণটি পুরোপুরি খোয়া গেছে। হয়তো এই শ্বেত বামনটিই আগে সেটি চুরি করে আত্মসাৎ করেছে! আমাদের গ্যালাক্সিতে থাকা শত শত বিলিয়ন তারার মধ্যে এই হিলিয়াম তারাগুলো অকল্পনীয় রকমের বিরল; হয়তো এত বিশাল গ্যালাক্সিতে সব মিলিয়ে কয়েক হাজার পাওয়া যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, এই রহস্যময় যুগল একে অপরের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে ৩.৭ দিন সময় নেয়, যা আগের যেকোনো অনুমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দীর্ঘ। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, ধোঁয়াশা কাটার পর বিজ্ঞানীরা দেখতে পাচ্ছেন, সেই সুযোগসন্ধানী শ্বেত বামন আবারও তার সঙ্গী থেকে হিলিয়াম চুরি করা শুরু করে দিয়েছে!
বিস্ফোরণের সেই ধূলিমেঘের মধ্যে আরও একটি অদ্ভুত জিনিস বিজ্ঞানীদের নজরে এসেছে। সেখানে গ্যাসের কিছু বিশাল পিণ্ড (সম্ভবত অক্সিজেনে ভরপুর) ঘণ্টায় প্রায় এক কোটি বিশ লাখ কিলোমিটার বেগে ছুটে বেড়াচ্ছে! গবেষক মিলসের ধারণা, মূল বিস্ফোরণের পর এগুলো ছিটকে বেরিয়েছিল। তবে মহাকাশের অন্য কোনো নোভায় এত ভয়ংকর গতির এমন অদ্ভুত গ্যাসের পিণ্ড আগে কখনোই দেখা যায়নি।
হিলিয়াম নক্ষত্র হলো এমন এক ধরনের তারা, যার বাইরের দিকের হাইড্রোজেনের আবরণটি পুরোপুরি খোয়া গেছে। হয়তো এই শ্বেত বামনটিই আগে সেটি চুরি করে আত্মসাৎ করেছে!
এখন আপনার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, মহাকাশের কোনো এক কোণে থাকা একটা অদ্ভুত নক্ষত্র নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথার কী আছে? কারণটা অত্যন্ত গভীর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ধরনের বারবার ঘটা হিলিয়াম বিস্ফোরণগুলো একসময় নক্ষত্রটিকে টাইপ ওয়ান-এ সুপারনোভার দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর এই টাইপ ওয়ান-এ সুপারনোভা হলো মহাকাশবিজ্ঞানের এক পরম আশীর্বাদ। মহাবিশ্বের বিশাল দূরত্ব মাপতে এদের স্ট্যান্ডার্ড ক্যান্ডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এদের আলোর তীব্রতা এতটাই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য যে, এর ওপর ভিত্তি করেই বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন আমাদের মহাবিশ্ব ক্রমশ দ্রুতগতিতে প্রসারিত হচ্ছে।

‘ভি৪৪৫ পাপিস’ শেষ পর্যন্ত সত্যিই সেই কাঙ্ক্ষিত সুপারনোভায় পরিণত হবে কি না, তা হয়তো এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে মহাকাশের এই বিরল ঘটনাটি বিজ্ঞানীদের হাতে এমন এক দারুণ ও বাস্তব পরীক্ষাগার তুলে দিয়েছে, যা দিয়ে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের বিস্তৃতির আরও অনেক বড় রহস্যের জট খোলা সম্ভব হবে। আর পথে পথে থাকা ওই রহস্যময় গ্যাসের পিণ্ডগুলো তো রয়েছেই!
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বয়স ৯০ পেরিয়েছে। শরীরের শক্তি কমেছে, হাত কাঁপে। তবুও থেমে নেই নিয়ামত মোল্লার জীবনসংগ্রাম। প্রতিদিন ভোরে বটি নিয়ে বাজারে বসেন মাছ কাটতে। একটি মাছ কেটে পান ২০ থেকে ৩০ টাকা। কখনো দিনে আয় হয় ২০০, কখনো ৩০০ টাকা। এই সামান্য আয়েই চলে স্ত্রীসহ তাঁর সংসার। ওষুধের ব্যয়ও মিটাতে হয় এখান থেকে। তাঁর প্রতিদিনের এই লড়াই বেঁচে থাকার এক নীরব গল্প। পাবনা সদরের মাসুম বাজার থেকে গত শুক্রবার তোলা ছবি।মাসুম বাজারে মাছ কাটার কাজ করেন নিয়ামত মোল্লাসহ ২৫ থেকে ৩০ জন।মাছের আঁশ ছাড়াচ্ছেন নিয়ামত মোল্লা।কাপা কাপা হাতে মাছ কাটছেন নিয়ামত মোল্লা।প্রথমেই মাছের আঁশ ছাড়িয়ে নিচ্ছেন নিয়ামত মোল্লা।এক প্রবীণের কাছে মাছ কাটাতে এসেছেন আরেক প্রবীণ ব্যক্তি।বয়সের কারণে শক্তি কমে গেছে নিয়ামত মোল্লার। তাই বড় মাছ কাটতে কিছুটা বেগ পেতে হয়। মাছ কেটে টুকরো করা হচ্ছে। ক্রেতার চাহিদামতো আকারে মাছ কেটে দেন নিয়ামত মোল্লা।মাছ কাটাই নিয়ামত মোল্লার আয়ের একমাত্র উৎস।
গুম ও ক্রসফায়ারের পৃথক মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। আদালতকে তিনি জানান, অন্য এক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে তারেক সাঈদ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ কারাগারে। আরও পড়ুন নুসরাত হত্যা / কারাগারেই জন্ম-বেড়ে ওঠা, ৭ বছর পর মুক্ত বাতাসে শিশু মোবাশ্বেরা রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান বলে আদালতকে জানানো হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। যেভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় গত ১০ আগস্ট গুম ও ক্রসফায়ারের পৃথক দুই মামলায় তারেক সাঈদকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আরও পড়ুন বাসার গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন, হঠাৎ পাশের ভবন থেকে সিলিন্ডার পড়ে গেলো প্রাণ এর আগে গত ৪ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ১০ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী তাকে আদালতে হাজির করা হলে দুই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। যে অভিযোগে তদন্ত প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী জানান, ২০১৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুরে বিএনপির তিন নেতা আব্দুল মান্নান, জহিরুল ইসলাম সুমন ও আসাদুজ্জামান বাবুলকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় বিএনপির কর্মী বেল্লাল হোসেনকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৩ সালের ২৭ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসামে বিএনপির দুই নেতা সাইফুল ইসলাম হিরু ও হুমায়ুন কবির পারভেজকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুই মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান প্রসিকিউশন। এফএইচ/কেএসআর
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আদেশ অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্যামল দত্তকে সেফ হোমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম। যেভাবে গ্রেফতার দেখানো হয় এর আগে গত ২৪ আগস্ট সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ আগস্ট তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আদেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন। এফএইচ/জেএইচ