কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের মূল ভিত্তি অনিশ্চয়তা তত্ত্ব। তাই একে ঘিরে পদার্থবিজ্ঞানে রয়েছে অদ্ভুত সব নীতি। এগুলো নিয়ে মিথ বা অতিকথারও কোনো অভাব নেই। কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের এসব মিথ নিয়ে বিজ্ঞানচিন্তায় নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে। আজ রইল এর ষষ্ঠ কিস্তি।
আগের পর্ব‘স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট আ ডিসট্যান্স’—কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গলমেন্টের আঘাতে সময়কে চূর্ণবিচূর্ণ হতে দেখে আক্ষেপ করে কথাটি বলেছিলেন আলবার্ট আইনস্টাইন। এর অর্থ দূর থেকে ভুতুড়ে কাণ্ড! কেন এ কথা বলেছিলেন আইনস্টাইন?
কারণ কোয়ান্টাম বলবিদ্যার অদ্ভুত সব নিয়ম। সেগুলো হজম করতে পারেননি তিনি। বিশেষ করে কোয়ান্টাম কণাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ব্যাপারগুলো অদ্ভুত মনে হয় তাঁর। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা বলে, কোনো সময় ব্যয় না করেই কণাগুলো ভূতের মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলে যেতে পারে! তেমনি কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে দুটি কণা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে মুহূর্তের মধ্যেই।
কিন্তু এটা যে আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন! আপেক্ষিকতার অন্যতম মূল নীতি হলো, কোনো বস্তুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে না। তাই তথ্যই হোক বা কণা, আলোর গতির চেয়ে বেশি গতি অর্জন করা সম্ভব নয় কোনো কিছুর পক্ষেই। ঠিক এখানটাতেই ঘোর আপত্তি আইনস্টাইনের।

এই বিতর্কের শুরুটা করেছিলেন ড্যানিশ বিজ্ঞানী নীলস বোর। ১৯১৩ সালে তিনি পরমাণুর কোয়ান্টাম মডেল দাঁড় করান। এর আগে ১৯১১ সালে নিউজিল্যান্ডের বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড দাঁড় করান পরমাণুর একটি সত্যিকারের কাঠামো। নাম দেন সোলার সিস্টেম অ্যাটম মডেল। রাদারফোর্ড বলেছিলেন, পরমাণুর গঠন অনেকটা সৌরজগতের মতো।
আপেক্ষিকতার অন্যতম মূল নীতি হলো, কোনো বস্তুর বেগ আলোর বেগের চেয়ে বেশি হতে পারে না। তাই তথ্যই হোক বা কণা, আলোর গতির চেয়ে বেশি গতি অর্জন করা সম্ভব নয় কোনো কিছুর পক্ষেই।
সৌরজগতের কেন্দ্রে থাকে সূর্য, তার চারপাশের কক্ষপথে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে গ্রহগুলো। রাদারফোর্ডের মতে, পরমাণুতে একটি ধনাত্মক চার্জের নিউক্লিয়াস থাকে, তাকে কেন্দ্র করে কক্ষপথে ঘুরতে থাকে ইলেকট্রন। এটাই আসলে রাদারফোর্ডের সোলার সিস্টেম অ্যাটম মডেলের মূল কথা।
তখন পর্যন্ত এটাই ছিল পরমাণুর সবচেয়ে যৌক্তিক মডেল। কিন্তু এতেও খুঁত ছিল। এই মডেল অনুসারে ইলেকট্রন অনবরত নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। ইলেকট্রনের চার্জ আছে। আর চার্জিত কোনো কণা ঘুরলে বিদ্যুৎচুম্বকীয় তরঙ্গ বিকিরণ করে। অন্তত বিদ্যুৎচুম্বকীয় বিজ্ঞান তা-ই বলে। আর যদি বিকিরণ করেই থাকে, তবে এর জন্য তো শক্তির দরকার হবে। এই শক্তির জোগান তাহলে কে দেয়?

জোগান আসে ইলেকট্রনের গতিশক্তি থেকে। গতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে বিদ্যুৎচুম্বকীয় শক্তিতে। ফলে ক্রমাগত কমতে থাকে ইলেকট্রনের গতিশক্তি। দুর্বল গতির সেই ইলেকট্রনকে আরও নিজের দিকে টানতে থাকে শক্তিশালী নিউক্লিয়াস। কমতে থাকে নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যকার দূরত্ব। ফলে কক্ষপথের ব্যাসার্ধ কমে এবং পরিধিও ছোট হয়ে আসে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় কক্ষপথের ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যকার দূরত্ব শূন্য হয়ে যাওয়ার কথা। ফলে সোজা নিউক্লিয়াসের বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ার কথা ইলেকট্রনের। কিন্তু বাস্তবে তো তা হয় না! পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রনগুলো ঠিকই যুগের পর যুগ নিউক্লিয়াসের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলে। তত্ত্ব আর বাস্তবতার মধ্যে এত ফারাক কেন?
গতিশক্তি রূপান্তরিত হয়ে বিদ্যুৎচুম্বকীয় শক্তিতে। ফলে ক্রমাগত কমতে থাকে ইলেকট্রনের গতিশক্তি। দুর্বল গতির সেই ইলেকট্রনকে আরও নিজের দিকে টানতে থাকে শক্তিশালী নিউক্লিয়াস।
এর কোনো সমাধান সেকালের বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না। কিন্তু নীলস বোর খুদে কণাদের জগৎকে একটু অন্যভাবে দেখতে পেতেন। তাই তাঁর মাথায় আসে এক ইউনিক আইডিয়া। তিনি ১৩ বছর আগের একটি তত্ত্ব ব্যবহার করেন। সেই তত্ত্বের প্রবক্তা ছিলেন জার্মান বিজ্ঞানী ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। ১৯০০ সালে তিনি দেখান, আলো বা বিকিরণ বা শক্তি নিরবচ্ছিন্ন ধারায় নির্গত হয় না। বরং শক্তি নির্গত হয় প্যাকেট বা গুচ্ছ গুচ্ছ আকারে।
পরে আইনস্টাইন দেখান, আলোর প্যাকেট আসলে কণার মতো আচরণ করে। আলোর এই কণা বা প্যাকেটকেই আরও অনেক পরে নাম দেওয়া হয় ফোটন। এসব কণা বা প্যাকেটের শক্তি সুনির্দিষ্ট। এগুলোই আলোর সর্বনিম্ন শক্তি ধারণ করে। আলো বা শক্তির প্যাকেটকে এই সুনির্দিষ্ট শক্তির চেয়ে আরও ছোট করা সম্ভব নয়।

প্ল্যাঙ্ক ও আইনস্টাইনের এই কোয়ান্টাম তত্ত্বটিই নীলস বোর পরমাণু মডেলের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথের মতো অসংখ্য শক্তিস্তর থাকে। তবে প্রতিটি শক্তিস্তর একে অন্যের চেয়ে আলাদা। একটি শক্তিস্তর ঠিক কতটুকু শক্তি ধারণ করতে পারবে, তার ওপর নির্ভর করে ওই শক্তিস্তরের ব্যাসার্ধ, আকার ইত্যাদি।
পরে আইনস্টাইন দেখান, আলোর প্যাকেট আসলে কণার মতো আচরণ করে। আলোর এই কণা বা প্যাকেটকেই আরও অনেক পরে নাম দেওয়া হয় ফোটন। এসব কণা বা প্যাকেটের শক্তি সুনির্দিষ্ট।
ধরা যাক, একটি নিউক্লিয়াসের চারপাশে বিভিন্ন ব্যাসার্ধের বেশ কিছু কক্ষপথ বা শক্তিস্তর আছে। সবচেয়ে কম ব্যাসার্ধের শক্তিস্তরে সবচেয়ে কম শক্তির ইলেকট্রন থাকবে। সবচেয়ে কম শক্তির ইলেকট্রন থাকবে নিউক্লিয়াসের সবচেয়ে কাছে। আর বেশি দূরত্বের বা বেশি শক্তির ইলেকট্রন অবস্থান করবে সবচেয়ে দূরের কক্ষপথে। এখানে ইলেকট্রনের শক্তির মান একদম নির্দিষ্ট করে বাঁধা। তাই ইলেকট্রনের শক্তিরও একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে।
সেই শক্তির চেয়ে ইলেকট্রনের গতিশক্তি কমানো আর সম্ভব নয়। তেমনি শক্তিস্তরের ব্যাসার্ধও একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আর কমে না। ফলে ইলেকট্রন কক্ষপথের ব্যাসার্ধ শূন্য হওয়ার কোনো উপায়ই নেই। অর্থাৎ কোয়ান্টামের শক্তি নির্দিষ্ট করার ব্যাপারটিই রাদারফোর্ড মডেলের সমস্যার সমাধান করে দেয়। একটি সমস্যার সমাধান হলো বটে, কিন্তু তখন আরেকটি সমস্যা এসে নতুন জটিলতা তৈরি করে।
বেশি দূরত্বের বা বেশি শক্তির ইলেকট্রন অবস্থান করবে সবচেয়ে দূরের কক্ষপথে। এখানে ইলেকট্রনের শক্তির মান একদম নির্দিষ্ট করে বাঁধা। তাই ইলেকট্রনের শক্তিরও একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে।
ওপরে আমরা দেখলাম, শক্তির তারতম্যের কারণে ইলেকট্রন উচ্চ বা নিম্ন শক্তিস্তরে থাকতে পারে। যার যেমন শক্তি, সে তেমনই কক্ষপথে থাকবে। তবে চাইলেই বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ করে ইলেকট্রনের শক্তি বাড়িয়ে নেওয়া যায়। তেমনি কমানোও যায়, তবে সর্বনিম্ন শক্তিস্তরে নেমে গেলে আর কমানো সম্ভব নয়। বোর বলেন, একটি শক্তিস্তরে থাকা ইলেকট্রন যদি বাড়তি কোনো শক্তি শোষণ করে, তবে সে আর ওই শক্তিস্তরে থাকতে পারবে না। লাফ দিয়ে চলে যাবে ওপরের শক্তিস্তরে। কিন্তু কীভাবে যাবে? একটু একটু করে শক্তি বাড়বে, আর ইলেকট্রনও মশার কয়েলের মতো সর্পিল পথে একটু একটু করে ওপরের শক্তিস্তরে উঠবে?
সেটা হওয়ার নয়। কারণ, শক্তি একটু একটু করে বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। আলো হোক বা তাপশক্তির বিকিরণ—শক্তি আসবে প্যাকেট বা ফোটন কণার আকারে। ইলেকট্রন একটি করে ফোটন শোষণ করবে আর এক লাফে উঠে যাবে ওপরের শক্তিস্তরে। আবার উচ্চ শক্তিস্তরে চলে যাওয়া ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করে পুনরায় নেমে আসতে পারে নিম্ন শক্তিস্তরে। একেই বলে ইলেকট্রনের ‘কোয়ান্টাম লাফ’।

কোয়ান্টাম লাফের সময় দুই শক্তিস্তরের মাঝখানের কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রন অবস্থান করতে পারে না। কারণ, কোয়ান্টাম তত্ত্ব তার অনুমোদন দেয় না। বোরের এই তত্ত্ব ১৯১৩ সালের৷ কিন্তু এই তত্ত্ব সমালোচনার মুখে পড়ে প্রায় দুই দশক পরে।
১৯২৭ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ওয়ার্নার হাইজেনবার্গ অনিশ্চয়তা তত্ত্ব দাঁড় করান। তার আগের বছর অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী আরউইন শ্রোডিঙ্গার ইলেকট্রন তথা কোয়ান্টাম কণাদের জন্য দাঁড় করান তরঙ্গ সমীকরণ। দুটি তত্ত্বকে আলাদা মনে করা হলেও, পরে দেখা যায় দুটিরই মূল সুর এক—কোয়ান্টাম জগতের অনিশ্চয়তা। কিন্তু একটা বড় পার্থক্যও ছিল। সে কথায় পরে আসছি।
ইলেকট্রন একটি করে ফোটন শোষণ করবে আর এক লাফে উঠে যাবে ওপরের শক্তিস্তরে। আবার উচ্চ শক্তিস্তরে চলে যাওয়া ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করে পুনরায় নেমে আসতে পারে নিম্ন শক্তিস্তরে।
এবার আসা যাক, পুরোনো প্রসঙ্গে। কোয়ান্টাম লাফের সময় দুই শক্তিস্তরের মাঝখানের কোনো বিন্দুতে ইলেকট্রন অবস্থান করতে পারে না। তাহলে এই সময়টাতে ইলেকট্রন কোথায় থাকে?
প্রশ্নটা সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দেয় ১৯২৭ সালের সলভে সম্মেলনে৷ শুধু এই প্রশ্ন নয়। আইনস্টাইন সরব হয়েছিলেন গোটা অনিশ্চয়তা নীতির বিরুদ্ধেই। মজার ব্যাপার সেই সময় আইনস্টাইনের পক্ষ নিয়েছিলেন অনিশ্চয়তা তত্ত্বের অন্যতম প্রবর্তক শোডিঙ্গার।

আইনস্টাইন জানতে চেয়েছিলেন ইলেকট্রনের মধ্যবর্তী অবস্থানের কথা৷ বোর বলেছিলেন, মধ্যবর্তী কোনো অবস্থান থাকে না৷ বোরের যুক্তি ছিল, ইলেকট্রন কোনো এক মুহূর্তে এক অবস্থান থেকে বিলীন হয়ে যাবে এবং ঠিক তখনই আরেক অবস্থানে গিয়ে ভূতের মতো হাজির হবে! আইনস্টাইন প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এক শক্তিস্তর থেকে আরেক শক্তিস্তরে যাওয়ার সময় ইলেকট্রনকে কোনো সময় ব্যয় করতে হবে না? বোর বলেছিলেন, আদৌ কোনো সময় লাগবে না! অনিশ্চয়তা তত্ত্বের জনক ওয়ার্নার হাইজেনবার্গও তাঁকে সমর্থন দিয়েছিলেন।
আইনস্টাইন সেটা মানবেন কেন! এই তত্ত্ব যে তাঁর আপেক্ষিকতাকেই খারিজ করে দেয়!
বোর বলেছিলেন, মধ্যবর্তী কোনো অবস্থান থাকে না৷ বোরের যুক্তি ছিল, ইলেকট্রন কোনো এক মুহূর্তে এক অবস্থান থেকে বিলীন হয়ে যাবে এবং ঠিক তখনই আরেক অবস্থানে গিয়ে ভূতের মতো হাজির হবে!
সলভে সম্মেলনে বোর একের পর এক যুক্তি দিয়ে যাচ্ছিলেন। হাইজেনবার্গ ও ম্যাক্স বর্নকে সঙ্গে নিয়ে আইনস্টাইনের যুক্তিগুলোকে খারিজ করে দিচ্ছিলেন বোর। বেশির ভাগ যুক্তিতেই আইনস্টাইন হেরে গিয়ে সাময়িকভাবে পরাজয় মেনে নিচ্ছিলেন। কিন্তু কিছুতেই তাৎক্ষণিক শক্তিস্তর বদলের ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ছিলেন তিনি। নারাজ ছিলেন, ইলেকট্রনের তাৎক্ষণিক কোয়ান্টাম লাফ মানতেও। কারণ, আপেক্ষিকতা অনুসারে আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলতে পারে না কিছুই। শ্রোডিঙ্গারও বোরের সঙ্গে একমত হতে পারেননি।

বিশেষ আপেক্ষিকতা ছিল বিজ্ঞান ইতিহাসের সবচেয়ে সফল তত্ত্বগুলোর একটি। এত সহজেই তো আর একে খারিজ করা চলে না! শ্রোডিঙ্গার নতুন করে গাণিতিক তখন তার তরঙ্গ সমীকরণের বিশেষ তথ্যটি সামনে নিয়ে আসেন। তবে ‘স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট আ ডিসট্যান্স’— এ মন্তব্য আইনস্টাইন আরও পরে করেছিলেন। ১৯৩৫ সালে। তখন কোয়ান্টাম কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গলমেন্ট ও টেলিপোর্টেশন নিয়ে তার আপত্তি ছিল। ইলেকট্রনের কোয়ান্টাম লাফের মতো কোয়ান্টাম এন্ট্যাঙ্গলমেন্টকেও মনে করা হতো তাৎক্ষণিক ঘটনা। লক্ষকোটি মাইল দূরে থাকা দুটি কণা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। পরে অবশ্য এ ধারণাও ভুল প্রমাণিত হয়।
হাইজেনবার্গ ও ম্যাক্স বর্নকে সঙ্গে নিয়ে আইনস্টাইনের যুক্তিগুলোকে খারিজ করে দিচ্ছিলেন বোর। বেশির ভাগ যুক্তিতেই আইনস্টাইন হেরে গিয়ে সাময়িকভাবে পরাজয় মেনে নিচ্ছিলেন।
শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ সমীকরণ হলো একধরনের হ্যামিল্টনিয়ান ফাংশন। এই ফাংশনের মূল ভিত্তি হলো হ্যামিল্টনিয়ান উপপাদ্য। শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণে কোয়ান্টাম কণাগুলো আসলে একই সঙ্গে তরঙ্গও বটে। আর তাই কণাগুলো তরঙ্গ ফাংশন মেনে চলে। এ কারণেই এরা তরঙ্গের মতো করে ধীরে ধীরে এক শক্তিস্তর থেকে আরেকটাতে যেতে পারে। সেটা কত ধীরে? নিশ্চয়ই পানি বা বাতাসের তরঙ্গের মতো ধীর নয়! তবে আলোর চেয়ে ধীরে। কিন্তু পুরো পরমাণুই তো অতি ক্ষুদ্র। তাই দুটো শক্তিস্তরের মধ্যে দূরত্বও খুব কম। এত কম যে আমাদের সাধারণ কল্পনাশক্তি দিয়ে তা অনুমান করাও কঠিন। এত কম দূরত্ব পাড়ি দিতেও তাই সময় লাগে অত্যন্ত কম। সময়টা কম, কিন্তু শূন্য নয়। আর সেই ব্যাপারটিই শ্রোডিঙ্গার তাঁর তরঙ্গ ফাংশনের সমীকরণ দিয়ে হিসাব করে দেখানোর চেষ্টা করেন।

তবে তরঙ্গ ফাংশন দিয়ে তাৎক্ষণিক কোয়ান্টাম লাফকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করা যায়নি। দরকার ছিল আরও গভীর গবেষণার। সেই কাজটিও শ্রোডিঙ্গার করেন। অবশ্য এর জন্য সময় লাগে প্রায় দুই দশক! ১৯৫২ সালে তিনি একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। শিরোনাম ছিল ‘আর দেয়ার কোয়ান্টাম জাম্পস?’ শ্রোডিঙ্গার এই ‘কোয়ান্টাম জাম্প’ বা কোয়ান্টাম লাফের নাম বদলে নতুন নামকরণ করেছিলেন কোয়ান্টাম জার্ক বা কোয়ান্টাম ঝাঁকুনি। শ্রোডিঙ্গার বেশ ভালোভাবেই কোয়ান্টাম লাফের বিপক্ষে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু তিনি কি শতভাগ প্রমাণ করতে পেরেছিলেন?
শ্রোডিঙ্গারের তরঙ্গ সমীকরণ হলো একধরনের হ্যামিল্টনিয়ান ফাংশন। এই ফাংশনের মূল ভিত্তি হলো হ্যামিল্টনিয়ান উপপাদ্য। শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণে কোয়ান্টাম কণাগুলো আসলে একই সঙ্গে তরঙ্গও বটে।
এখানেই আসে লিগ্যাসি আর ফ্যালাসির প্রশ্ন। কোনো কিছু দাবি করলে তা প্রমাণ করার দায়িত্বও যিনি দাবি করছেন, তাঁর। যিনি সেই দাবি মানবেন না, তাঁর নয়। দাবি করেছিলেন বোর আর হাইজেনবার্গ। তাঁদের পক্ষে ছিল অনিশ্চয়তা নীতির অদ্ভুতুড়ে আইন। কিন্তু বাস্তবে তাৎক্ষণিক কোয়ান্টাম লাফ ঘটা সম্ভব কি না, তার কোনো অকাট্য যুক্তি তাঁদের কাছে ছিল না। বরং আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিকতা সেটার অনুমোদন দেয় না। তবু বিতর্ক ছিল। কারণ একটি পরীক্ষামূলক প্রমাণের অভাব ছিল—যে পরীক্ষা প্রমাণ করবে, হয় বোর-হাইজেনবার্গ ঠিক, নয়তো আইনস্টাইন-শ্রোডিঙ্গার ঠিক।
মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান পরে বিষয়টি আরও সহজ করে বুঝিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘কোয়ান্টাম জগতের নিয়ম আমাদের চিরচেনা জগতের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। ইলেকট্রনের এই জায়গা বদলও তেমনি এক ঘটনা। এটা সাধারণ চলাফেরা নয়। ব্যাপারটা আমাদের কাণ্ডজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।’ এরপর থেকে বেশির ভাগ বিজ্ঞানীই এটা মেনে নিয়েছিলেন। তাঁরা মনে করতেন, কোয়ান্টাম লাফ কখন কীভাবে ঘটবে, তা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়।

কিন্তু বিজ্ঞান তো থেমে থাকেনি। দিনে দিনে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটেছে। ফলে পরিমাপ প্রক্রিয়াও হয়ে উঠেছে অনেক সূক্ষ্ম ও সহজ। সময়ের পরিমাপেও ঘটে গেছে এক বিরাট বিপ্লব। বিজ্ঞান এখন আর শুধু ন্যানোসেকেন্ডে আটকে নেই। ফেমটোসেকেন্ড ও অ্যাটোসেকেন্ডের মতো অবিশ্বাস্য ক্ষুদ্র সময়ও মাপা যায়। এক সেকেন্ডকে এক হাজার ট্রিলিয়ন বা ১ হাজার লক্ষ কোটি ভাগ করলে পাওয়া যায় এক ফেমটোসেকেন্ড। অ্যাটোসেকেন্ড তার চেয়েও ছোট—ফেমটোসেকেন্ডের ১ হাজার ভাগের ১ ভাগ মাত্র! এত নিখুঁত সময় মাপার যন্ত্র যখন হাতে আছেই, তখন কোয়ান্টাম লাফ পর্যবেক্ষণ করতে আর অসুবিধা কোথায়?
এক সেকেন্ডকে এক হাজার ট্রিলিয়ন বা ১ হাজার লক্ষ কোটি ভাগ করলে পাওয়া যায় এক ফেমটোসেকেন্ড। অ্যাটোসেকেন্ড তার চেয়েও ছোট—ফেমটোসেকেন্ডের ১ হাজার ভাগের ১ ভাগ মাত্র!
সম্প্রতি এই কাজটিই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক মিশেল দেবোরো এবং গবেষক জ্যাভিয়ার মাইন্স। তাঁরা রিয়েল টাইমে কোয়ান্টাম লাফ পর্যবেক্ষণ করেন। এ কাজটি তাঁরা করেন অ্যাটোসেকেন্ড স্কেলে। কৃত্রিম পরমাণু বানিয়ে ইলেকট্রনের লাফের ওপর নজর রাখতে শুরু করেন। দেখেন, এই লাফ কোনো তাৎক্ষণিক ঘটনা নয়। খুব ক্ষুদ্র হলেও এতে কিছুটা সময় লাগে। সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি দিয়ে যথেষ্ট দ্রুত ও নিখুঁত পর্যবেক্ষণ চালাতে পারলে সেই সময়টুকু মাপাও সম্ভব।

গবেষকেরা লক্ষ করেন, ইলেকট্রন কোয়ান্টাম লাফ দেওয়ার ঠিক আগে একটা সংকেত পাঠায়। অনেকটা আগাম সতর্কবার্তার মতো। শক্তি শোষণ করে লাফ দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে তার অবস্থার সামান্য একটা বদল ঘটে। লেজারের সাহায্যে সেই বদলটুকু ধরা সম্ভব। এমনকি বিজ্ঞানীরা লাফের মাঝপথে ইলেকট্রনকে থামিয়ে দিতেও সক্ষম হন। সক্ষম হন, ইলেকট্রনকে তার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতেও! প্রশ্ন হলো, পুরো কোয়ান্টাম লাফে ঠিক কতটা সময় লাগে? বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ১ অ্যাটোসেকেন্ডের কাছাকাছি। খালি চোখে এই সময়ের ব্যবধানটুকু বোঝা একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু কোয়ান্টাম জগতে এই সময়ের মধ্যেও অনেক ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
গবেষকেরা লক্ষ করেন, ইলেকট্রন কোয়ান্টাম লাফ দেওয়ার ঠিক আগে একটা সংকেত পাঠায়। অনেকটা আগাম সতর্কবার্তার মতো।
এখন প্রশ্ন হলো, এক শক্তিস্তর থেকে লাফ দিয়ে আরেক শক্তিস্তরে পৌঁছানো পর্যন্ত ইলেকট্রন ঠিক কোথায় ও কী অবস্থায় থাকে? এখানেও আসলে একটা সুপারপজিশন তৈরি হয়। মধ্যবর্তী এই সময়ে ইলেকট্রন নতুন শক্তিস্তরেও পৌঁছায় না, আবার আগের শক্তিস্তরেও থাকে না। এই সময় ইলেকট্রন আসলে মেঘের মতো করে দুই শক্তিস্তরের মাঝখানে থাকে। আর ইলেকট্রন মেঘ মানেই তো অনিশ্চয়তা আর সম্ভাবনার খেলা। গোটা মেঘজুড়েই যেকোনো বিন্দুতে ইলেকট্রন থাকতে পারে।
এ বিষয়ে মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ জিম আল-খালিলি বলেন, ‘লাফের সময় ইলেকট্রন শূন্যতার ওপর দিয়ে হেঁটে যায় না। সে সময় একটি সুপারপজিশন তৈরি করে। এই সুপারপজিশন সময় ও শক্তির ধারণা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। আর যা-ই হোক, কোয়ান্টাম জগৎ অলৌকিক কিছু নয়।’ খালিলির কথার রেশ ধরেই বলা যায়, কোয়ান্টাম লাফ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটা কোনো ভুতুড়ে ঘটনা নয়। এতেও কিছুটা হলেও সময় ব্যয় হয়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ক্রিকেট এজবাস্টন টেস্ট দ্বিতীয় দিনইংল্যান্ড-পাকিস্তানবিকেল ৪টাসনি স্পোর্টস ২ নারী এশিয়া কাপ ক্রিকেট সেমিফাইনাল বাংলাদেশ-ভারতরাত ৮টা ৩০ মিনিট ৩টি স্পোর্টস ফুটবল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফেনেরবাচে-রোমারাত ১০টা ৪৫ মিনিট সনি স্পোর্টস ২ বায়ার্ন-বোডো/গ্লিমটরাত ১টাসনি স্পোর্টস ১ ম্যান ইউনাইটেড-সাবাহরাত ১টাসনি স্পোর্টস ২ কোমো-লাইপজিগরাত ১টাসনি স্পোর্টস ৫ টেনিস ইউএস ওপেন নারী সেমিফাইনালআগামীকাল ভোর ৫টাস্টার স্পোর্টস ১ ও ২ আইএন
চলতি সপ্তাহে ঢাকার কম্পিউটার বাজারে বিভিন্ন মডেলের র্যামের দাম আরও বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্র্যান্ড ও মডেলভেদে ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা বেশি দামে র্যাম বিক্রি করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ড ও মডেলের র্যামের দাম বেড়েছে। ফলে সব ধরনের র্যামের দামে পরিবর্তন আসেনি। নির্দিষ্ট মডেলের র্যাম ছাড়া প্রসেসর, মাদারবোর্ড, এসএসডি, গ্রাফিকস কার্ড, হার্ডডিস্ক, মনিটরসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। ঢাকার একাধিক কম্পিউটার বাজার ঘুরে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম তুলে ধরা হলো।প্রসেসরইন্টেল: কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৫.৭০ গিগাহার্টজ (গি.হা.) ৬২ হাজার টাকা, কোর আই-৯ ৬.০০ গি.হা. ১৪ প্রজন্ম র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ ৫৬ হাজার টাকা, কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে (৫.৫ গি.হা.) ৩৫ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ৫.৬০ গি.হা. ১৪ প্রজন্ম ৫০ হাজার টাকা, কোর আই-৭ ৫.৪০ গি.হা. ১৩ প্রজন্ম ৪৩ হাজার টাকা, কোর আলট্রা–৫ ২৪৫ কেএফ (৫.২ গি.হা.) ৩৮ হাজার টাকা, কোর আই–৫ (৫.৩০ গি.হা.) ১৪৬০০কেএফ ১৪ প্রজন্ম ৩৮ হাজার টাকা, কোর আই–৫ (৪.৬০ গি.হা.) ১৩ প্রজন্ম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং কোর আই–৩ (৪.৫০ গি.হা.) ১৩ প্রজন্ম ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।এএমডি: রাইজেন–৯ ৭৯৫০এক্স ৪.৫ গি.হা. ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা, রাইজেন–৭ ৫৭০০জি ৩.৮– ৪.৬ গি.হা. ২৩ হাজার ৫০০ টাকা, রাইজেন–৫ ৫৬০০জি ৩.৬–৪.৬ গি.হা. ১৯ হাজার টাকা।মাদারবোর্ডএমএসআই: এ৫২০ এম–এ প্রো (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ২০০ টাকা, প্রো এইচ ৬১০ এম–ই (ডিডিআর ৪) ১০ হাজার টাকা, বি৪৫০ এম–এ প্রো ম্যাক্স ৮ হাজার ৫০০ টাকা, এইচ৮১০ এম–বি (ডিডিআর ৫) ১৬ হাজার ৭০০ টাকা, বি৬৫০ এম গেমিং ওয়াই–ফাই (ডিডিআর ৫) ১৯ হাজার টাকা, বি৭৬০ গেমিং প্লাস (ডিডিআর ৫) ২২ হাজার ৫০০ টাকা।আসুস: প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর ৪) ১০ হাজার ৬০০ টাকা, টাফ গেমিং বি৫৫০এম প্লাস (ডিডিআর ৪) ১৮ হাজার ৯০০ টাকা, প্রাইম জেড৮৯০ প্লাস সিএসএম (ডিডিআর ৫) (ওয়াই–ফাই-৭) ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা।গিগাবাইট: বি৭৬০এম (ডিডিআর ৫) ১৭ হাজার ২০০ টাকা, বি৪৫০এম কে এএমডি মাদারবোর্ড ৮ হাজার ৯০০ টাকা।র্যামকরজেয়ার: ভেনজিন্স এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৮ জিবি ৮ হাজার টাকা, ভেনজিন্স এলপিএক্স ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১৬ জিবি ১৪ হাজার টাকা, ভেনজিন্স আরজিবি ১৬ জিবি (ডিডিআর ৫) ৫২০০ মেগাহার্টজ ৩২ হাজার টাকা।জিস্কিল: ট্রাইডেন্ট জেড আরজিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ ৮ জিবি (ডিডিআর ৪) ৮ হাজার টাকা, ফ্লেয়ার এক্স৫ ১৬ জিবি (ডিডিআর ৫) ৫৬০০ মেগাহার্টজ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রাইডেন্ট জেড ৫ নিও আরজিবি ৩২ জিবি (ডিডিআর ৫) ৬০০০ মেগাহার্টজ ৬৪ হাজার টাকা।কিংস্টন: ফিউরি ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৮ হাজার ৫০০ টাকা, ফিউরি ১৬ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১৬ হাজার ৭০০ টাকা, ফিউরি আরজিবি ১৬ জিবি ৬০০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৫) ৩২ হাজার টাকা, আরজিবি ৩২ জিবি ৬০০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৫) ৬৪ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এক্সটি ডাবল আই ১৬ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ১২ হাজার ৯০০ টাকা, এক্স৩ আরজিবি ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ৯০০ টাকা, এক্সটি ডাবল আই ৮ জিবি ৩২০০ মেগাহার্টজ (ডিডিআর ৪) ৭ হাজার ২০০ টাকা।হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (এইচডিডি)সিগেট: বারাকুডা ৭২০০ আরপিএম সাটা ২ টে.বা. ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, বারাকুডা ৪ টেরাবাইট ২৩ হাজার টাকা।তোশিবা: পি৩০০ ৭২০০ আরপিএম ২ টেরাবাইট ১৪ হাজার টাকা, এক্স৩০০ ৭২০০ আরপিএম ৪ টেরাবাইট ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি)স্যামসাং: ৯৯০ প্রো এনভিএমই ১ টেরাবাইট ৩২ হাজার ৫০০ টাকা, ৯৯০ প্রো এনভিএমই ২ টেরাবাইট ৫১ হাজার টাকা, ৪৮০ জিবি সাটা ৬ জিবিপিএস ৫৫ হাজার টাকা।টিম: এমপি৩৩ ২৫৬ জিবি ৭ হাজার ৫০০ টাকা, সিএক্স২ সাটা ১ টেরাবাইট ১৭ হাজার টাকা, টি-ফোর্স সাটা ২৫৬ জিবি ৫ হাজার ৫০০ টাকা।করজেয়ার: এমপি৬০০ প্রো ১ টিবি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা, এমপি৬০০ ৫০০ জিবি ১৪ হাজার ৫০০ টাকা।এইচপি: ইএক্স৯০০ ৫১২ জিবি ১২ হাজার টাকা, এস৭০০ প্রো ১২৮ জিবি ৩ হাজার টাকা, এফএক্স ৯০০ প্লাস ১ টেরাবাইট ২০ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এক্সটিএল-২০০ ১ টিবি ১৬ হাজার টাকা, এক্সটিএল-২০০ ৫১২ জিবি ৯ হাজার টাকা, এক্সটিএল-২০০ ২৫৬ জিবি ৫ হাজার ৬০০ টাকা।বহনযোগ্য হার্ডডিস্কওয়েস্টার্ন ডিজিটাল: মাই পাসপোর্ট ১ টে.বা. ১০ হাজার ৯০০ টাকা, মাই পাসপোর্ট ২ টে.বা. ১৩ হাজার ৫০০ টাকা, মাই পাসপোর্ট ৪ টে.বা. ১৮ হাজার ৮০০ টাকা।ট্রান্সসেন্ড: স্টোরজেট ২৫এইচ৩ ১ টে.বা. ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, টিএস২টিএসজে২৫সি৩এন ২ টে. বা. ১৯ হাজার টাকা, স্টোরজেট ২৫এইচ৩পি ৪ টে.বা. ৩২ হাজার ৩০০ টাকা।সিগেট: আইরন ওলফ প্রো ৮ টে.বা. ৫৩ হাজার ৫০০ টাকা, স্কাইহক এআই ১৬ টে.বা. ৭০ হাজার টাকা।মনিটরআসুস: ভিওয়াই২৪৯এইচজিআর ২৪ ইঞ্চি ১৫ হাজার টাকা, ভিএ২৪৯এইচজি ২৪ ইঞ্চি ১৬ হাজার টাকা, টাফ গেমিং সিরিজ ৫ ভিজি২৫৯কিউ৫এ ২৪.৫ ইঞ্চি ২৫ হাজার টাকা।এইচপি: ১৯.৫ ইঞ্চি পি২০৪ভি ১৩ হাজার টাকা, ২২ ইঞ্চি এম২২এফ ১৬ হাজার টাকা, ২৪ ইঞ্চি এম২৪এফ ১৭ হাজার টাকা, এলিট ডিসপ্লে ই২৭ জি৫ ২৭ ইঞ্চি ২৭ হাজার টাকা।ডেল: ২২ ইঞ্চি এসই২২২২এইচ ১২ হাজার ৯০০ টাকা, প্রো ২৪ প্লাস পি২৪২৫এইচ ২৪ ইঞ্চি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।এমএসআই: প্রো এমপি২২৩ ২২ ইঞ্চি ১১ হাজার ২০০ টাকা, প্রো এমপি২২৫ ২২ ইঞ্চি ১২ হাজার ৮০০ টাকা, প্রো এমপি২৫১ ২৪.৫ ইঞ্চি ১৯ হাজার ৫০০ টাকা, ২৫৫এফ ২৫ ইঞ্চি ২০ হাজার ৫০০ টাকা।এলজি: ২৪এমএস৫৭০বি–বি ২৪ ইঞ্চি ১৭ হাজার ৫০০ টাকা, ২২এমকে৬০০এম ২১.৫ ইঞ্চি ১৫ হাজার ৫০০ টাকা, আলট্রাফাইন ২৭ ইঞ্চি ৪০ হাজার টাকা, ৩২ইউ৬৩১এ-বি ৩২ ইঞ্চি।স্যামসাং: এলএস২৪ডি৩০০জিএডাব্লিউ ২৪ ইঞ্চি ১৭ টাকা, ওডিসি জি৫ ২৭ ইঞ্চি ৪৩ হাজার টাকা।গ্রাফিকস কার্ডগিগাবাইট: জিটি ১০৩০ ২ জিবি ১১ হাজার ৫০০ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৬জিবি ৩০ হাজার টাকা এবং আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৮ জিবি ৩৪ হাজার টাকা।আসুস: জিফোর্স জিটি ৭৩০ এনভিডিয়া (ডিডিআর ৫) ২জিবি ১৫ হাজার ৯০০ টাকা, ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ৬ জিবি ৩৩ হাজার টাকা, ডুয়াল আরটিএক্স ৩০৫০ ভি২ ৮ জিবি ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।এমএসআই: জিফোর্স আরটিএক্স ৫০৮০ ১৬জি ইন্সপায়ার ৩এক্স ওসি প্লাস ১৬ জিবি ২ লাখ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ ভেন্টাস ২এক্স ৬জি ওসি ৬জিবি ৩২ হাজার টাকা, আরটিএক্স ৩০৬০ ভেন্টাস ওসি ১২ জিবি ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা, আরটিএক্স ৪০৬০ ভেন্টাস ওসি ১৬ জিবি ৬৭ হাজার টাকা।ওসিপিসি: এনভিডিয়া জিটি ৭৩০ ৪ জিবি (ডিডিআর ৩) ৭ হাজার ৪০০ টাকা, আরটিএক্স ৫০৫০ ৮ জিবি (ডিডিআর ৬) এক্সই সাদা ৪৩ হাজার ৭০০ টাকা, আরটিএক্স ৩০৫০ ৮ জিবি (ডিডিআর ৬) এক্সই কালো ৩২ হাজার ২০০ টাকা।কি–বোর্ডলজিটেক: কে১২০ ৭৭০ টাকা, পেবল কিস ২ কে৩৮০এস মাল্টি ডিভাইস ব্লুটুথ ৪ হাজার টাকা, এমকে২৪০ ওয়্যারলেস ২ হাজার ৫০০ টাকা।এফোরটেক: কেআরএস–৮২ ৮৫০ টাকা, এফকে১১ ১ হাজার টাকা, এফজি১০১০ ওয়্যারলেস ২ হাজার টাকা।হ্যাভিট: কেবি২৭১ আলট্রা থিন ৫০০ টাকা, কেবি২৭৫এল গেমিং ৯২০ টাকা, কেবি৪৮৮এল গেমিং ১ হাজার ৫০ টাকা, কেবি ৪৮৭এল গেমিং ১ হাজার ৩৬০ টাকা।রয়েল ক্লুজ: আরকে৭১ ডুয়াল মোড গেমিং ৪ হাজার ৫০০ টাকা, আরকে ৮৪ ট্রাই মোড গেমিং ৫ হাজার ৭০০ টাকা।এক্সট্রিম: কেএম০৭জি মেকানিক্যাল ২ হাজার ৩০০ টাকা।প্রিন্টারএইচপি: স্মার্ট ট্যাঙ্ক ৫৮০ অল-ইন-ওয়ান কালার ইঙ্ক ১৯ হাজার ৩০০ টাকা, লেজার ১০০৮এ সিংগেল ফাংশন ১৩ হাজার ৫০০ টাকা।এপসন: ইকোট্যাঙ্ক এল৩২১০ ১৮ হাজার টাকা (রঙিন), ইকোট্যাঙ্ক এল৩২৫০ ২১ হাজার ২০০ টাকা (রঙিন)।ক্যানন: পিক্সমা জি১০১০ (রঙিন) ১৪ হাজার ৫০০ টাকা, ইমেজক্লাস এলবিপি৬০৩০ লেজার প্রিন্টার (সাদা–কালো) ১৭ হাজার ৩০০ টাকা, ইমেজক্লাস এলবিপি৬০৩০ডব্লিউ লেজার প্রিন্টার (সাদা–কালো) ২০ হাজার টাকা।কেসিং১ হাজার টাকা থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।ইউপিএসম্যাক্সগ্রিন: এমজি সিলভার (৬৫০ ভিএ) ৩ হাজার ৩০০ টাকা, এমজি–এলআই–ইএপি (১২০০ ভিএ) ৬ হাজার ৭৫০ টাকা।অ্যাপোলো: ১০৬৫ এ/১০৬৫ (৬৫০ ভিএ) ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ১১২০এফ (১২০০ভিএ) ৬ হাজার ৬০০ টাকা ও ১২৪০ (২০০০ ভিএ) ১১ হাজার ৮০০ টাকা।ডিজিটাল এক্স: ৬৫০ ভিএ ৩ হাজার ২০০ টাকা, ৮৫০ ভিএ ৪ হাজার ১০০ টাকা।পাওয়ার গার্ড: ১২০০ ভিএ সিএস অফলাইন ৭ হাজার ৩০০ টাকা।অ্যান্টিভাইরাসক্যাসপারস্কি: ক্যাসপারস্কি স্ট্যান্ডার্ড ১ ব্যবহারকারী অ্যান্টিভাইরাস (১ বছর) ৬০০ টাকা, ক্যাসপারস্কি স্ট্যান্ডার্ড ৩ ব্যবহারকারী অ্যান্টিভাইরাস (১ বছর) ১ হাজার ২২৫ টাকা, ক্যাসপারস্কি টোটাল সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ১ হাজার টাকা।ইসেট: এনওডি৩২ অ্যান্টিভাইরাস ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৪৫০ টাকা, ইন্টারনেট সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (৩ বছর) ১ হাজার ১৫০ টাকা, স্মার্ট সিকিউরিটি প্রিমিয়াম ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ২ হাজার ২৫০ টাকা।বিটডিফেন্ডার: ইন্টারনেট সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৫৭৫ টাকা, টোটাল সিকিউরিটি ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৮৫০ টাকা।প্যান্ডা: ডোম অ্যাডভান্স ১ ব্যবহারকারী (১ বছর) ৬০০ টাকা, ডোম অ্যাডভান্স ইন্টারনেট সিকিউরিটি ৩ ব্যবহারকারী (১ বছর) ১ হাজার ৩০০ টাকা।রাউটারটিপি–লিংক: টিএল–ডব্লিউআর৮৪০এন ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিংগেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৫০০ টাকা, আর্চার সি২০ এসি৭৫০ এমবিপিএস ইথারনেট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৪০০ টাকা, আর্চার সি৬৪ ওয়্যারলেস অ্যান্ড ইথারনেট ডুয়াল–ব্যান্ড এসি১২০০ এমবিপিএস গিগাবিট ৩ হাজার ২০০ টাকা।ডি–লিংক: ডিআইআর–৬১৫ জেড১ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিংগেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ১০০ টাকা, ডিআইআর–৮৪১ এসি১২০০ এমবিপিএস গিগাবিট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৫০০ টাকা।টেন্ডা: এফ৩ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিংগেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৩০০ টাকা, এফ৬ এন৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিংগেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ১ হাজার ৫০০ টাকা।আসুস: আরটি–এন১২+ ৩০০ এমবিপিএস ইথারনেট সিংগেল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই ২ হাজার ৩০০ টাকা, আরটি–এএক্স৫২ এএক্স১৮০০ এমবিপিএস গিগাবিট ডুয়াল–ব্যান্ড ওয়াই–ফাই৬ ৭ হাজার ৩০০ টাকা।এখানে শুধু যন্ত্রাংশের দাম দেওয়া হয়েছে। পুরো কম্পিউটার কেনার ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ সংযোজিত হবে। ঢাকার বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশের দামে হেরফের হতে পারে।
১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭টি বই থাকলেও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের পাঠক সেবা বন্ধ রয়েছে গত সাত বছর। ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে গণগ্রন্থাগারের জন্য আধুনিক নকশায় ১৬তলা ভবন তৈরি হলেও সব কাজ শেষ হয়নি। সাংস্কৃতিক প্রকল্পের অংশ হিসেবে গণগ্রন্থাগার ভবন ছাড়াও মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্পের সময়কাল এর মধ্যে চার দফা বাড়ানো হয়েছে। বেড়েছে ব্যয়ও। মূল ব্যয় ২৩২ কোটি ৫২ লাখ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯০ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে গড়ে তোলা হয়েছে চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সকমপ্লেক্স চত্বরে নির্মিত হয়েছে কাচের গম্বুজাকৃতি স্থাপনাসাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের এক পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবস্থানগণগ্রন্থাগারের ভেতরে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কর্নারওগণগ্রন্থাগারের পাঠকবিহীন একটি পাঠকক্ষপাঠকশূন্য গণগ্রন্থাগারের একটি কক্ষগ্রন্থাগারটিতে রয়েছে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৪৭টি বইনির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠকসেবা