জাতীয়

খাওয়ার পর পেটব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন? জানুন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
খাওয়ার পর পেটব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন? জানুন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে
খাওয়ার পর পেটব্যথা কেন হয়, হলে কী করবেন? জানুন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে

খাওয়ার পর পেটব্যথা হতে পারে নানা কারণেই। ব্যথা হলে করণীয়ই-বা কী? এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানালেন জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ডা. মুসআব খলিল। তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম

পেটব্যথার কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়
পেটব্যথার কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়

পেটব্যথার কারণ সম্পর্কে ধারণা পেতে হলে খেয়াল রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়। যেমন কোন ধরনের খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথা হচ্ছে, পেটের কোথায় ব্যথা হচ্ছে, ব্যথার সঙ্গে অন্য উপসর্গ আছে কি না, কী করলে ব্যথার উপশম হচ্ছে। তবে কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে, তা জানা থাকা খুবই জরুরি।

ব্যথা হলে কী করবেন?

  • ব্যথা হলে শুরুতেই সেটির কারণ বোঝা না-ও যেতে পারে। প্রথমে ব্যথা কমানোর প্রাথমিক চেষ্টা করতে পারেন বাড়িতেই, যদি কোনো বিপদচিহ্ন না থাকে।

  • খাবার বাকি থাকলে সেটুকু আর না খাওয়াই ভালো।

  • কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। তবে খাওয়ার দু-তিন ঘণ্টা না পেরোলে শোবেন না, বসেই বিশ্রাম করুন।

  • খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট পার হলে অল্প অল্প করে পানি খান, যদি তাতে ব্যথা না বাড়ে।

  • বদহজম হয়েছে মনে হলে তরলজাতীয় ‘গ্যাসের ওষুধ’ খেতে পারেন।

  • বমি বা পাতলা পায়খানা হলে ওরস্যালাইন খাবেন।

  • নিজ থেকে আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন বা অন্যান্য এনএসএআইডি (নন স্টেরয়ডাল অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ) খাবেন না।

  • ব্যথা কমলেও অল্প পরিমাণে খাওয়া শুরু করবেন। ধীরেসুস্থে, চিবিয়ে খাবেন। যে খাবারে ব্যথা হয়েছে, তা আপাতত এড়িয়ে চলুন।

  • প্রায়ই ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যথার কিছু কারণ

পেটব্যথা
ভাজাপোড়া ও তেলচর্বিজাতীয় খাবার কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়

বদহজম

  • ভাজাপোড়া ও তেলচর্বিজাতীয় খাবার কিংবা অতিরিক্ত পরিমাণে যেকোনো খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

  • পেট জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা, ‘গ্যাস’ ভাব বা টক ঢেকুর হতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্য

  • খাবার খাওয়ার পর ব্যথা এবং পেট ভারী লাগার মতো সমস্যা হতে পারে।

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি)

  • খাওয়ার পর পেটব্যথা ও বুক জ্বালাপোড়া হতে পারে।

পেপটিক আলসার কিংবা গ্যাস্ট্রাইটিস

  • সাধারণত তেলমসলা–জাতীয় খাবার খাওয়ার পর কিংবা মানসিক চাপে ভুগলে ব্যথা বাড়ে।

  • বমি ভাব বা বমি কিংবা কালচে মলও হতে পারে।

পিত্তথলি বা গলব্লাডারে প্রদাহ বা পাথর

  • তেল-চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

  • পেটের ওপরের অংশে (কিংবা ওপরে, ডান দিকে) প্রচণ্ড ব্যথা হয়। ছড়াতে পারে পিঠের দিকেও।

  • বমি ভাব বা বমি কিংবা জ্বর হতে পারে।

অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) প্রদাহ বা অগ্ন্যাশয়ের নালিতে পাথর

  • অগ্ন্যাশয়ের রোগে যেকোনো খাবার, বিশেষত ভারী খাবার খেলে ব্যথা হতে পারে।

  • পেটের ওপরের অংশে ব্যথা শুরু হলেও বুক বা পিঠের দিকে ব্যথা ছড়াতে পারে।

  • বমি ভাব বা বমি এবং ক্ষুধামান্দ্যও থাকতে পারে।

বমি ভাব বা বমি
ফুড পয়জনিংয়ে (খাদ্যে বিষক্রিয়া)ব্যথা ছাড়াও বমি ভাব বা বমি হতে পারে

ফুড পয়জনিং (খাদ্যে বিষক্রিয়া)

  • ব্যথা ছাড়াও বমি ভাব বা বমি।

  • পেট ফাঁপা।

  • পাতলা পায়খানা কিংবা জ্বর থাকতে পারে।

ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ও খাবারে অ্যালার্জি

  • ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স থাকলে দুধ বা দুধের তৈরি খাবার খাওয়ার পর ব্যথা হয়।

  • বমিভাব বা বমি, ‘গ্যাস’ ভাব কিংবা পাতলা পায়খানাও হতে পারে।

  • অ্যালার্জি থাকলে দুধ কিংবা অন্য কোনো খাবারে (যেমন বাদাম) খেলে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

  • এ ছাড়া ত্বকে র‍্যাশ, চুলকানি, এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে।

ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (আইবিএস)

  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার খাওয়ার পর কিংবা মানসিক চাপে ভুগলে ব্যথা শুরু হয় বা বাড়ে।

  • পেট ফাঁপা, ‘গ্যাস’ ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পাতলা পায়খানাও হতে পারে।

বিপদচিহ্নগুলো জেনে নিন

  • হঠাৎ শুরু হওয়া খুব তীব্র ব্যথা কিংবা ক্রমেই বাড়ছে, এমন ব্যথা।

  • একই সঙ্গে বুক, ঘাড় বা কাঁধে ব্যথা; বুকে তীব্র চাপ বা শ্বাসকষ্ট (এ ধরনের উপসর্গ হার্ট অ্যাটাকেও হতে পারে)।

  • ব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা।

  • রক্তবমি, কালো পায়খানা বা পায়খানায় রক্ত যাওয়া।

  • প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া।

  • পেট ফোলা এবং স্পর্শ করলে ব্যথা হওয়া।

  • পায়খানা বা পায়ুপথে গ্যাস যাওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া।

  • অতিরিক্ত জ্বর।

  • ক্রমাগত বমি ভাব বা বমি।

  • প্রায়ই গিলতে সমস্যা বা গলার নিচে খাবার আটকে আছে মনে হওয়া।

  • অনিচ্ছাকৃতভাবে ওজন কমা।

  • বারবার ওষুধ খেয়ে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হওয়া।

  • বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাওয়ার পর পেটে তীব্র ব্যথা (অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে)

  • কোনো দুর্ঘটনা বা আঘাতের পর ব্যথা শুরু হওয়া।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা পেটব্যথা
অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে খাবারের সরাসরি যোগসূত্র নেই। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা যেকোনো সময় শুরু হতে পারে

আরও একটি জরুরি বিষয়

  • অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে খাবারের সরাসরি যোগসূত্র নেই। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা যেকোনো সময় শুরু হতে পারে।

  • অ্যাপেন্ডিসাইটিসে সাধারণত নাভির চারপাশে ব্যথা শুরু হয়ে পরে তলপেটের ডান দিকে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুধামান্দ্য, বমি ভাব কিংবা বমিও হতে পারে। কিছু খেলে সমস্যা বাড়তে পারে।

  • এটি একটি জরুরি পরিস্থিতি। তাই বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ, জানা যাবে তিনভাবে
এসএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ, জানা যাবে তিনভাবে

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ করা হবে আজ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে ফলাফল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, প্রথমত- স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পারবে। দ্বিতীয়ত- সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একটি ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে। সেটি হলো- rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। এ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবে। তৃতীয়ত- পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। তাতে তার ফলাফল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। বোর্ড সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়। আবেদন শেষ হয় ১৭ আগস্ট রাতে। নির্ধারিত সময়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চার লাখ দুই হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। অনেকে একাধিক বিষয়ের খাতা চ্যালেঞ্জ করেছেন। ফলে মোট আবেদন জমা পড়েছে ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষার জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য দুই লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি আবেদন রয়েছে। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় দুই লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় ৫৮ হাজার ১২টি আবেদন করেছেন। এছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহীতে ৩৯ হাজারের বেশি, যশোরে ২৮ হাজারের বেশি, চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি, বরিশালে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এএএইচ/বিএ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
কিছুই করতে না পেরে কবর খুঁড়ে বাবা-দাদির কঙ্কাল সরিয়ে নিলেন নিজাম

কিছুই করতে না পেরে কবর খুঁড়ে বাবা-দাদির কঙ্কাল সরিয়ে নিলেন নিজাম

টাকা দিলেই পাওয়া যায় মুঠোফোনের গোপন তথ্য, রক্ষা পাননি মন্ত্রীও

টাকা দিলেই পাওয়া যায় মুঠোফোনের গোপন তথ্য, রক্ষা পাননি মন্ত্রীও

‘আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না’

‘আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না’

ফিলিপাইনে যাত্রীবোঝাই ফেরিতে আগুনে পাঁচজন নিহত, নিখোঁজ ৮৭
ফিলিপাইনে যাত্রীবোঝাই ফেরিতে আগুনে পাঁচজন নিহত, নিখোঁজ ৮৭

ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলে যাত্রীবোঝাই একটি ফেরিতে আগুন লেগেছে। গতকাল বুধবারের এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ ৮৭ জন।স্থানীয় একটি রেডিওকে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।কোস্টগার্ডের মুখপাত্র আরও জানান, এ ঘটনায় ৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকারীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমগুলো কোস্টগার্ডের বরাতে জানিয়েছে, আগুন লাগা ফেরিটির নাম ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’। ফেরিটিতে ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী। ১৭ জন ক্রু।তবে নিহত ও নিখোঁজ থাকা ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় এখনো জানানো হয়নি।ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলার একটি বন্দর থেকে দক্ষিণে পালাওয়ানের করোন দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথে ফেরিটিতে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সময় ফেরিটি বারাঙ্গাই মারসিলার প্রায় ১ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল।করোন ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি। অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সমুদ্রের স্বচ্ছ পানির টানে পর্যটকেরা সেখানে ছুটে যান। বিশেষ করে স্কুবা ডাইভারদের কাছে জায়গাটি খুবই জনপ্রিয়।ফিলিপাইনের ওই এলাকার উপকূলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বেশকিছু জাপানি জাহাজ ডুবে গিয়েছিল। জাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষের জন্য ডুবুরিদের কাছেও এলাকাটি বিশেষভাবে পরিচিত।ছোট–বড় বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনের জলপথে মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার খবর শোনা যায়। এর আগে ২০২৩ সালে দেশটির দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলে ‘এমভি লেডি মেরি জয় ৩’ নামে একটি যাত্রীবোঝাই ফেরিতে আগুন লেগেছিল। ঘটনাটিতে নিহত হয়েছিলেন ৩১ জন। দক্ষিণাঞ্চলের মিন্দানাও দ্বীপের প্রধান বন্দরনগর জাম্বোয়াঙ্গা সিটি থেকে বাসিলান দ্বীপে যাচ্ছিল ফেরিটি।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
নদীর পানির শক্তিতে বিদ্যুৎ বানালেন গ্রামের এক সাধারণ মানুষ

নদীর পানির শক্তিতে বিদ্যুৎ বানালেন গ্রামের এক সাধারণ মানুষ

বিনয় সরকারের নজরুল–ভাবনা

বিনয় সরকারের নজরুল–ভাবনা

জাহাঙ্গীরনগরে ‘জাকসু রান ২০২৬’, ইভেন্ট সহযোগী জাবি বন্ধুসভা

জাহাঙ্গীরনগরে ‘জাকসু রান ২০২৬’, ইভেন্ট সহযোগী জাবি বন্ধুসভা

আল্লাহর প্রতি সুধারণা: হতাশা দূর করার অনন্য উপায়
আল্লাহর প্রতি সুধারণা: হতাশা দূর করার অনন্য উপায়

‘আল্লাহ বোধহয় আমাকে আর ক্ষমা করবেন না’, ‘আমার দ্বারা ভালো কিছু সম্ভব নয়’ কিংবা ‘আমার জীবনে আর কোনোদিন সাফল্য আসবে না’—জীবনের কঠিন সময়ে এমন হতাশা আমাদের অনেকের মনেই ভর করে।নিজের ভুলত্রুটি ও পাপের ভারে মানুষ যখন ভেঙে পড়ে, তখন আল্লাহর কাছে ফিরে আসার পরিবর্তে অনেকে উল্টো নিরাশ হয়ে দূরে সরে যায়। অথচ ইসলামি জীবনদর্শনের সত্য হলো, বান্দা আল্লাহর ব্যাপারে যেমন আশা ও ধারণা পোষণ করবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে সে ঠিক তেমনই প্রতিদান লাভ করবে।হাদিসে কুদসিতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন, ‘আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করি; এবং সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সঙ্গেই থাকি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৪০৫)ইসলামে এই মনোভাবকে বলা হয় ‘হুসন উজ-জান্নি বিল্লাহ’—তথা আল্লাহর রহমত ও প্রজ্ঞার ওপর সদা সুধারণা ও ইতিবাচক বিশ্বাস রাখা।আল্লাহর পরিকল্পনায় আস্থা রাখা চেষ্টা করার পরও কাজে ব্যর্থ হলে হতাশ হয়ে পড়া যাবে না। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের আগে মক্কার চরম সংকটের দিনে হজের মৌসুমে বিভিন্ন গোত্রের দ্বারে দ্বারে গিয়েছিলেন।তিনি একে একে ছাব্বিশ গোত্রের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যান এবং প্রত্যেকেই তাঁকে ফিরিয়ে দেয়, এমনকি অনেকে কটূক্তিও করে। (ইবনে কাসির, আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ৪/৩২২-৩৪০, দারু হিজর, কায়রো, ১৯৯৮)।হাদিসে কুদসি, সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৪০৫আমার বান্দা আমার প্রতি যেমন ধারণা পোষণ করে, আমি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করি; এবং সে যখন আমাকে স্মরণ করে, আমি তার সঙ্গেই থাকি।বিপদ মোকাবিলায় ইবনুল জাওজির দর্শনপরপর এতবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও নবীজি (সা.) নিরাশ হননি। আল্লাহর ওপর তাঁর অটল ভরসা ছিল বলেই পরবর্তীকালে মদিনার তরুণদের মাধ্যমে ইসলামের ঐতিহাসিক বিজয়ের সূচনা হয়।তাই কোনো চাকরি না পাওয়া, ব্যবসায় ক্ষতি হওয়া কিংবা বৈবাহিক প্রস্তাব ভেঙে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে সব শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বাস রাখতে হবে—আল্লাহ হয়তো কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করেছেন এবং বান্দার জন্য এর চেয়েও উত্তম কিছু নির্ধারণ করে রেখেছেন।পাপের পরেও ক্ষমার দরজায় বিশ্বাস মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো পাপে বারবার জড়িয়ে পড়লে শয়তান মনে হীনম্মন্যতা ঢুকিয়ে দেয়—‘তোমার আর কোনো ক্ষমা নেই।’ ফলে মানুষ তওবা ছেড়ে দিয়ে আরও বেশি পাপে ডুবে যায়।অথচ মহান আল্লাহ ‘আল-গাফফার’ (অবিরাম ক্ষমাকারী) ও ‘আল-ওয়াদুদ’ (পরম প্রেমময়)। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘বনি আদমের প্রত্যেক সন্তানই ভুল করে, আর ভুলকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম হলো তারা, যারা নিয়মিত তওবা করে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৪৯৯)তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন, ‘আল্লাহর সুন্দর ইবাদতের অন্যতম নিদর্শন হলো তাঁর প্রতি সুধারণা রাখা’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৮৭১০)অর্থাৎ, ভুল যত বড়ই হোক, রবের ক্ষমার ওপর আস্থা রেখে ফিরে আসাই মুক্তির পথ।তওবা করেও কেন আমরা একই পাপে ফিরে যাইশয়তান নিজে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল; তাই সে মানুষকে অপরাধবোধ ও হতাশার অন্ধকারে বন্দি রাখতে চায়। কিন্তু মহান আল্লাহ আশার সুশীতল আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান...।’হাসান বসরির শিক্ষা সুধারণার অর্থ এই নয় যে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক পাপ করে যাবে আর ভাববে ‘আল্লাহ তো মাফ করেই দেবেন!’ এটি সুধারণা নয়, বরং আত্মপ্রবঞ্চনা।তাবেয়ি ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বিষয়টি সহজভাবে বুঝিয়ে বলেছেন, ‘প্রকৃত মুমিন আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখে, যার ফলে সে নেক আমল বা সৎকাজে আত্মনিয়োগ করে। পক্ষান্তরে অবাধ্য পাপাচারী আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা রাখে, যার কারণে সে খারাপ কাজেই লিপ্ত থাকে।’ (ইবনে আবিদ দুনিয়া, হুসন উজ-জান্নি বিল্লাহ, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস: ১৯, দারু ইবনি কাসির, বৈরুত, ১৯৮৭ খ্রি.) অর্থাৎ, আল্লাহর প্রতি খাঁটি বিশ্বাস মানুষকে পাপ থেকে বিরত রেখে আরও ভালো কাজের দিকে নিয়ে যায়।শয়তানের হতাশা শয়তান নিজে আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল; তাই সে মানুষকে অপরাধবোধ ও হতাশার অন্ধকারে বন্দি রাখতে চায়। কিন্তু মহান আল্লাহ আশার সুশীতল আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান...।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৭)আল্লাহ আরও ঘোষণা করেন যে তিনি সৎকর্মশীলদের পরিশ্রমের প্রতিদান কখনো নষ্ট করেন না। (সুরা কাহফ, আয়াত: ৩০)জীবনের প্রতিটি দুঃখ-কষ্ট মূলত মানুষকে ধুয়েমুছে তাকে খাঁটি করে তোলে এবং আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে আসে।হতাশা মানে কি ইমান দুর্বল হওয়া

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
‘তুই থানায় কেন দিলি’ বলেই শিক্ষককে কোপানো শুরু করে কিশোরেরা

‘তুই থানায় কেন দিলি’ বলেই শিক্ষককে কোপানো শুরু করে কিশোরেরা

মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’

মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’

ডব্লিউএইচও থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ

ডব্লিউএইচও থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ

0 Comments