জাতীয়

মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’
মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন মানুষ তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহকারীকে জিজ্ঞেস করল, ‘আজ আমার কী করা উচিত?’

প্রশ্নটি শুনতে খুব সাধারণ। কিন্তু ভবিষ্যতের পৃথিবীতে এই প্রশ্নটির অর্থ আজকের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। কারণ, সেই এআই হয়তো শুধু দিনের কাজের তালিকা তৈরি করবে না। সে জানবে মানুষটি গত বিশ বছরে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কোনো সিদ্ধান্তে সফল হয়েছে, কোথায় ভুল করেছে, কোন বিষয় তাকে আনন্দ দেয়, কোন পরিস্থিতিতে সে দুর্বল হয়ে পড়ে, তার আর্থিক অবস্থা কেমন, তার পেশাগত দক্ষতা কোথায়, এমনকি কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তার বিচারবুদ্ধি আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হয়।

অর্থাৎ এআই তখন আর কেবল একটি যন্ত্র থাকবে না। সেটি হয়ে উঠতে পারে মানুষের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’।

আজ আমরা প্রযুক্তিকে মূলত এমন একটি শক্তি হিসেবে দেখি, যা মানুষের কাজকে সহজ করে। ক্যালকুলেটর হিসাব করে, কম্পিউটার তথ্য বিশ্লেষণ করে, রোবট শারীরিক কাজ করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা লেখা, ছবি, গবেষণা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। কিন্তু প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপটি সম্ভবত আরও গভীর। প্রযুক্তি শুধু মানুষের কাজ করবে না, মানুষের চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ারও অংশ হয়ে উঠতে পারে।

তখন প্রশ্নটি আর থাকবে না, ‘প্রযুক্তি আমাদের কী কাজ করে দেবে?’

প্রশ্নটি হবে, ‘প্রযুক্তি কি একদিন মানুষের কাজই শুধু করবে, নাকি মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নিজের হাতে নিয়ে নেবে?’

এই পরিবর্তন মানবসভ্যতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কাজের একটি অংশ যন্ত্রকে দিয়ে দেওয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তের একটি অংশ যন্ত্রকে দিয়ে দেওয়া এক জিনিস নয়।

একজন মানুষ যদি এআইকে বলে, ‘এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করো’, সেখানে মানুষ সিদ্ধান্তের মালিক। কিন্তু যদি সে বলতে শুরু করে, ‘আমার জন্য সিদ্ধান্ত নাও’, তখন সম্পর্কটি বদলে যায়।

দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com

ধরা যাক, একজন তরুণ নতুন একটি চাকরির প্রস্তাব পেল। আজ সে হয়তো বেতন, কর্মপরিবেশ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং নিজের পছন্দ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। ভবিষ্যতে তার দ্বিতীয় মস্তিষ্ক হয়তো তার অতীতের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিত্ব, আর্থিক লক্ষ্য, মানসিক প্রবণতা এবং চাকরির বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলবে, ‘এই চাকরিটি গ্রহণ করলে পাঁচ বছর পরে তোমার জীবনের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।’

তখন মানুষ হয়তো এআইকে প্রশ্ন করবে, ‘আমি যদি এটা করি, পাঁচ বছর পরে এর কী পরিণতি হতে পারে?’

এটি নিঃসন্দেহে অসাধারণ একটি ক্ষমতা। মানুষ এমন অনেক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যেগুলোর ভবিষ্যৎ পরিণতি সে নিজে অনুমান করতে পারে না। এআই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সুযোগ দেখাতে পারে। চিকিৎসা, শিক্ষা, অর্থনীতি, ব্যবসা, পরিবেশ, ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা এমনকি দৈনন্দিন জীবনেও এর ব্যবহার মানুষের সিদ্ধান্তকে আরও তথ্যভিত্তিক করতে পারে।

কিন্তু এখানেই শুরু হয় সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন।

যদি মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক মানুষের চেয়েও ভালো সিদ্ধান্ত দিতে পারে, তাহলে মানুষ কি ধীরে ধীরে নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করাই বন্ধ করে দেবে?

মানুষের মস্তিষ্ক শুধু তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয় না। সেখানে অভিজ্ঞতা আছে, আবেগ আছে, মূল্যবোধ আছে, ভালোবাসা আছে, ভয় আছে, সাহস আছে, ভুল থেকে শেখার ক্ষমতা আছে। অনেক সময় মানুষ এমন সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরিসংখ্যানের দৃষ্টিতে সেরা নয়, কিন্তু মানবিক দৃষ্টিতে সঠিক।

একজন মা তার সন্তানের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা কোনো অ্যালগরিদম হয়তো অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসংগত মনে করবে না। একজন মানুষ কোনো বন্ধুকে দ্বিতীয় সুযোগ দিতে পারেন, যদিও অতীতের তথ্য তাঁকে সতর্ক করে। একজন বিজ্ঞানী এমন একটি ধারণার পেছনে ছুটতে পারেন, যার সফলতার সম্ভাবনা খুব কম, কিন্তু সেই ঝুঁকিই একদিন নতুন আবিষ্কারের জন্ম দিতে পারে।

মানুষের এই অযৌক্তিকতার মধ্যেও সৃষ্টিশীলতা আছে।

তাই যদি আমরা প্রতিটি সিদ্ধান্তের আগে এআইয়ের কাছে যাই এবং তার পরামর্শকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ করি, তাহলে আমরা হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত থেকে বাঁচব, কিন্তু একই সঙ্গে হারিয়ে ফেলতে পারি নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

আর তখন প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বিপদটি কোনো রোবটের বিদ্রোহ নয়। বরং মানুষ নিজেই ধীরে ধীরে নিজের চিন্তার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।

আরও একটি প্রশ্ন তখন সামনে আসবে।

‘যে এআই আপনার সম্পর্কে আপনার নিজের চেয়েও বেশি জানে, শেষ পর্যন্ত আপনার জীবনের সিদ্ধান্ত নেবে কে, আপনি, নাকি আপনার এআই?’

এখানে ব্যক্তিগত তথ্যের প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ককে কার্যকর করতে হলে তাকে মানুষের সম্পর্কে বিপুল তথ্য জানতে হবে। আমাদের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সম্পর্ক, পেশা, অভ্যাস, পছন্দ, দুর্বলতা, যোগাযোগ, ভ্রমণ, কেনাকাটা, চিন্তার ধরন, এমনকি আমাদের নীরবতার অর্থও যদি কোনো প্রযুক্তি বুঝতে শুরু করে, তাহলে সেটি আমাদের জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী তথ্যভান্ডারে পরিণত হবে।

প্রশ্ন হলো, সেই তথ্যের মালিক কে?

মানুষ নিজে?

কোনো প্রযুক্তি কোম্পানি?

কোনো রাষ্ট্র?

নাকি এমন একটি অ্যালগরিদম, যার সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াই মানুষ পুরোপুরি বুঝতে পারে না?

এই প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যৎ সমাজের চরিত্র নির্ধারণ করতে পারে।

তবে এই প্রযুক্তিকে শুধু বিপদের চোখে দেখাও ভুল হবে। মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক মানবসভ্যতার অন্যতম উপকারী আবিষ্কারও হতে পারে। একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত এআইয়ের সাহায্যে নিজের দুর্বলতা বুঝে শিক্ষা নিতে পারে। একজন কৃষক আবহাওয়া, মাটি ও বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। একজন বিজ্ঞানী কোটি কোটি তথ্যের মধ্যে এমন সম্পর্ক খুঁজে পেতে পারেন, যা মানুষের একার পক্ষে অসম্ভব। একজন প্রবীণ মানুষ তাঁর জীবনের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে পারেন।

অর্থাৎ দ্বিতীয় মস্তিষ্ক মানুষের প্রথম মস্তিষ্ককে প্রতিস্থাপন করার জন্য নয়, বরং তাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য তৈরি হতে পারে।

কিন্তু একটি শর্ত আছে।

এআইকে মানুষের বিবেকের বিকল্প হতে দেওয়া যাবে না।

এআই বলতে পারে কোন সিদ্ধান্তটি বেশি কার্যকর। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তটি নৈতিক, সেটি নির্ধারণের দায়িত্ব মানুষেরই থাকা উচিত।

এআই বলতে পারে কোন পথে ঝুঁকি কম। কিন্তু কোন ঝুঁকি নেওয়া মূল্যবান, সেটি মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এআই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখাতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যৎ কেমন হওয়া উচিত, সেই প্রশ্নের উত্তর প্রযুক্তি দিতে পারে না।

কারণ, প্রযুক্তির কাছে তথ্য থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের কাছে থাকে মূল্যবোধ।

সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা হবে আরও দ্রুত কম্পিউটার, আরও শক্তিশালী রোবট বা আরও বুদ্ধিমান এআই তৈরি করা নয়। বরং প্রশ্ন হবে, মানুষ কীভাবে এমন প্রযুক্তি তৈরি করবে, যা মানুষের ক্ষমতা বাড়াবে কিন্তু মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেবে না?

আমাদের হয়তো এমন একটি নতুন নীতির প্রয়োজন হবে:

এআই আমার সহকারী, আমার মালিক নয়।

মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক আমাদের ভুল কমাতে পারে। আমাদের স্মৃতি বাড়াতে পারে। আমাদের জ্ঞান বাড়াতে পারে। আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা দিতে পারে। কিন্তু জীবনের শেষ সিদ্ধান্তটি যদি সব সময় যন্ত্রের হাতে তুলে দিই, তাহলে একদিন হয়তো আমরা অত্যন্ত দক্ষ মানুষে পরিণত হব, কিন্তু নিজের জীবনের প্রকৃত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী থাকব না।

তখন হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষটি সেই ব্যক্তি হবে না যার এআই সবচেয়ে শক্তিশালী।

বরং সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ হবে সেই ব্যক্তি, যে জানে কখন এআইয়ের কথা শুনতে হবে এবং কখন নিজের বিবেকের কথা শুনতে হবে।

প্রযুক্তি মানুষের দ্বিতীয় মস্তিষ্ক হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রথম মস্তিষ্ক, তার বিবেক, স্বাধীন চিন্তা এবং মানবিকতা যেন কখনো তার দ্বিতীয় স্থানে নেমে না যায়।

কারণ, শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি প্রযুক্তি কতটা বুদ্ধিমান হয়েছে, তা নয়।

প্রশ্ন হলো,

মানুষ তার নিজের বুদ্ধি, বিবেক ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কতদিন নিজের কাছে রাখতে পারবে?

সম্ভবত ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লব হবে না মানুষের জন্য চিন্তা করা।

বরং হবে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি করা, যা মানুষকে আরও ভালোভাবে নিজে চিন্তা করতে শেখাবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ জন
এসএসসির পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ জন

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়। বিস্তারিত আসছে... এএএইচ/বিএ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে, ভরি কত?

বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে, ভরি কত?

ওডেগার্ডের গোলে নাপোলিকে হারালো আর্সেনাল

ওডেগার্ডের গোলে নাপোলিকে হারালো আর্সেনাল

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত?

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত?

এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী
এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থী

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টার পর থেকে ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি তবে ঠিক কত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, তা জানাননি তিনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‌শিগগির ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলের সারসংক্ষেপ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। এদিকে, আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে ফলাফল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, প্রথমত- স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পারবে। আরও পড়ুন এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার খাতা চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয়ত- সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একটি ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে। সেটি হলো- rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। এ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবে। তৃতীয়ত- পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। তাতে তার ফলাফল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এএএইচ/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ক্যান্ডি যেভাবে পেলাম

ক্যান্ডি যেভাবে পেলাম

নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ভোলার নৌপথে নতুন দুয়ার খুলল

নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে ভোলার নৌপথে নতুন দুয়ার খুলল

চাকরি না, নিজ দায়িত্বেই মানুষকে মহাসড়ক পার করে দেন তিনি

চাকরি না, নিজ দায়িত্বেই মানুষকে মহাসড়ক পার করে দেন তিনি

মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে রাতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে রাতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।গতকাল রাত ১০টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে চার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘ভাইভা কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মামা–খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না’ ও ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, বন্ধ কর, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।মানববন্ধনে গণিত ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় সুপারিশ ও প্রভাব কাজ করার আশঙ্কা আছে।শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।এদিকে একই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, ইমরান সরকার, শিবলী সাদিক, মেহমুদ হোসেন প্রমুখ।গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
মহাসড়কে টমটম, বাড়ছে ঝুঁকি

মহাসড়কে টমটম, বাড়ছে ঝুঁকি

বিদুৎ-বিড়ম্বনায় তাঁহারা যা লিখতেন

বিদুৎ-বিড়ম্বনায় তাঁহারা যা লিখতেন

উইপোকা থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় নথি বাঁচাতে যা করবেন

উইপোকা থেকে টাকা ও প্রয়োজনীয় নথি বাঁচাতে যা করবেন

0 Comments