এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। খাতায় নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের। আর জিপিএ বা গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টার পর থেকে ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় শীর্ষে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। এ শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে ৯০৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড। ময়মনসিংহে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৭৭ জন। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকা দিনাজপুরে ২৭৫ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কুমিল্লা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৭ জন, যশোরে ১৮২ জন, সিলেটে ১২১ জন, বরিশালে ১১২ জন, চট্টগ্রামে ৮৩ জন, রাজশাহীতে ৭৭ জন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৩ জন। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাসের সংখ্যা ৪৬ জন।
প্রকাশিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফেল থেকে পাস করেছে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে মোট ১ হাজার ১৮০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে।
ফেল থেকে পাসের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে দিনাজপুর বোর্ড। এ শিক্ষা বোর্ডে ৮৬৭ শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা যশোর বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৮০ জন।
সাধারণ বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৩৭ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১১১ জন, কুমিল্লায় ৩৩৬ জন, চট্টগ্রামে ১৯০ জন, বরিশালে ৭৯ জন, সিলেটে ১৮৬ জন।
অন্যদিকে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ২৫৫ জন। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাসের সংখ্যা ৬৬৪ জন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্যমতে, ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৮টি খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করে।
আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে ফলাফল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, প্রথমত- স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পারবে।
দ্বিতীয়ত- সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একটি ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে। সেটি হলো- rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। এ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
তৃতীয়ত- পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। তাতে তার ফলাফল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এএএইচ/ইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) কর্মকর্তাদের উন্নত ও আধুনিক এমপ্লয়ি ব্যাংকিং সেবা দিতে সংগঠনটির সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ ছাড়া ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে একটি ২৪/৭ এটিএম বুথ উদ্বোধন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। নতুন বুথটি পোশাকশিল্প উদ্যোক্তা ও কর্মকর্তাদের রিয়েল-টাইম লেনদেন, নগদ জমা ও উত্তোলন সুবিধা দেবে।এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, চুক্তির আওতায় বিজিএমইএর কর্মকর্তারা প্রিভিলেজ স্যালারি অ্যাকাউন্ট, মাল্টি-কারেন্সি ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, পারসোনাল লোন, ডিপিএস, এফডিআরসহ বিভিন্ন ব্যাংকিং সুবিধা পাবেন।ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চুক্তিতে সই করেন। এ সময় ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি মো. মাহীয়ুল ইসলাম ও শেখ মোহাম্মদ আশফাক ও হেড অব ট্রানজ্যাকশন ব্যাংকিং এ কে এম ফয়সাল হালিম এবং বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এনামুল হক খান, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, মহাসচিব মো. শহীদুল ইসলাম, অর্থ নিয়ন্ত্রক মো. শামসুল আরেফিন ও প্রধান প্রকৌশলী মো. সোরওয়ার্দী শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
শৈশবের স্বপ্ন কতজনের পূরণ হয়? কারও কারও ক্ষেত্রে না দেখা স্বপ্নই জীবনের দরজায় কড়া নাড়ে বড় হয়ে ওঠার পর। ইয়েলেনা রিবাকিনার দরজায় এখন যেমন কড়া নাড়ছে ইতিহাস!র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা দূর অস্ত, রিবাকিনা শৈশবে কখনো পেশাদার টেনিস খেলোয়াড় স্বপ্নও দেখেননি। বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে খেলতে বুঝতে পেরেছিলেন এ খেলায় তিনি বেশ ভালো। পেশাদার হওয়ার ভাবনাটা আসে ১৭ বছর বয়সে। কত দূর যেতে পারবেন, সেটা তো আর তখন টের পাওয়া সম্ভব ছিল না। রিবাকিনা শুধু খেলে গেছেন। সেই পথে হাতে ধরা দিয়েছে দুটি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। অধরা ছিল শুধু সেই সিংহাসনটি!গতকাল রাতে সেটাও ধরা দিল আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে। ইউএস ওপেনে মেয়েদের এককের কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেং কিনওয়েনকে ৩–৬, ৬–১, ৬–৪ গেমে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন রিবাকিনা। ২ ঘণ্টা ১৪ মিনিটের এই লড়াই জিতে কাজাখস্তান টেনিসের ইতিহাসই পাল্টে দিলেন রাশিয়ায় জন্ম নিয়ে ১৯ বছর বয়সে কাজাখ নাগরিকত্ব পাওয়া মেয়েটি।আগামী সপ্তাহে মেয়েদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে আর আরিনা সাবালেঙ্কাকে দেখা যাবে না। ৯৯ সপ্তাহ পর এই সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হবেন নতুন কেউ। কাজাখস্তানের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মেয়েদের এককে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠবেন রিবাকিনা। কোথায় আনন্দে ভেসে যাবেন তা না, রিবাকিনার সমস্ত মনোযোগজুড়ে এখন অন্য কিছু। ইউএস ওপেনের শিরোপা!অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও উইম্বলডন জিতেছেন একবার করে। ফ্রেঞ্চ ওপেনে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দৌড় কোয়ার্টার ফাইনাল। আর ইউএস ওপেনে এবার সেমিফাইনালে ওঠাই সেরা সাফল্য। তাহলে এখান থেকে প্রথম শিরোপাটা তুলে নেওয়ার কথা তো ভাবাই যায়? রিবাকিনা ঠিক সেটাই ভাবছেন।জয়ের পর কিনওয়েনের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন রিবাকিনার্যাঙ্কিং ভুলে শিরোপা নিয়ে ভাবায় রিবাকিনার যুক্তিও বেশ দার্শনিকসুলভ। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘এটা (র্যাঙ্কিং) এখন শুধু একটা সংখ্যামাত্র। আমি যে টুর্নামেন্টেই খেলি না কেন, আমার মূল লক্ষ্য থাকে শিরোপা জেতা।’ তবে এই অর্জনে রিবাকিনা কিন্তু ঠিকই রোমাঞ্চিত। তাঁর সেই স্বীকারোক্তিতেও ফুটল জীবন–দর্শন, ‘আমার মনে হয় ক্যারিয়ার শেষে পেছনে তাকিয়ে এর মূল্য আরও বেশি বুঝতে পারব...খেলা ছাড়ার পর “আমি এতগুলো টুর্নামেন্ট জিতেছি, বিশ্বসেরা হয়েছিলাম”—এসব ভাবতে নিশ্চয়ই ভালো লাগবে। আমার মূল লক্ষ্য শিরোপা জেতা, তাই সব মনোযোগ এখন শুধুই পরের ম্যাচ নিয়ে।’সেই পরের ম্যাচে অর্থাৎ সেমিফাইনালে রিবাকিনার প্রতিপক্ষ কোকো গফ। প্রথম সেটে পিছিয়ে পড়ে দুটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে যুক্তরাষ্ট্রের এ তারকা। শুরুতে মাত্র ২৬ মিনিটে প্রথম সেট খুইয়ে চলে যান ব্যাকফুটে। চতুর্থ বাছাই গফ এরপর এলোমেলো দ্বিতীয় সেটে দুবার ব্রেকের সুবিধা পেয়েও হাতছাড়া করেন। শেষ পর্যন্ত ১৬ পয়েন্টের শ্বাসরুদ্ধকর টাইব্রেকারে জিতে ম্যাচ গড়ান নির্ণায়ক সেটে। স্নায়ুক্ষয়ী এ লড়াইয়ে রাশিয়ার মিরা আন্দ্রিভার বিপক্ষে গফ শেষ পর্যন্ত জিতেছেন ২-৬, ৭-৬ (৯-৭), ৬-২ গেমে।ইউএস ওপেনের এ পথ পর্যন্ত দুর্দান্ত খেলেছেন রিবাকিনা। শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে একটি সেট হেরেছেন২০০৯ সালে উইম্বলডনের পর এবারই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে নারী এককে শীর্ষ চার বাছাই সেমিফাইনালে উঠলেন। শীর্ষ বাছাই সাবালেঙ্কা, দ্বিতীয় বাছাই রিবাকিনা, তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলা এবং চতুর্থ বাছাই কোকো গফ—এই হলো ইউএস ওপেনে মেয়েদের এককে শেষ চারের লাইনআপ।তার মধ্যে রিবাকিনার গল্পটা আসলে সাবালেঙ্কার রাজত্ব দখলের। টানা ৯৯ সপ্তাহ, সব মিলিয়ে মোট ১০৭ সপ্তাহ শীর্ষে ছিলেন বেলারুশ তারকা, যা ডব্লিউটিএর ইতিহাসে ষষ্ঠ দীর্ঘতম ধারাবাহিক রাজত্বের রেকর্ড। সাবালেঙ্কাকে নামানোর লড়াইয়ে পেগুলা ও গফের পাশাপাশি রিবাকিনাও ছিলেন। বাকিদের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠতে শিরোপা জেতার পাশাপাশি রিবাকিনা যেন সেমিফাইনালের আগে বিদায় নেন, সেই সমীকরণের ওপর নির্ভর করতে হতো। ওদিকে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই রিবাকিনা জানতেন, সেমিফাইনালে উঠলেই মেয়েদের সিংহাসনে নাম লেখা হবে কাজাখস্তানের।ঝেংয়ের বিপক্ষে ৫–০ তে এগোলেই বিপদনিজের লড়াইটি জিতে ডব্লিউটিএ ইতিহাসে ৩০তম খেলোয়াড় হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে উঠে সেটাই নিশ্চিত করলেন রিবাকিনা। শেষ চারে পেগুলাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া সাবালেঙ্কা ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় শিরোপা জিতলেও সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে পারবেন না।গত বছর ইউএস ওপেনের মৌসুমে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০ থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন রিবাকিনা। চোট, শারীরিক অসুস্থতা ও পারফরম্যান্সের ঘাটতিতে বাজে সময় কাটছিল তাঁর। এ বছর ক্যারিয়ারের সেরা ছন্দে ফিরে সামলে নিয়েছেন সেই ধাক্কা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছেন। এর বাইরে স্টুটগার্টে শিরোপা জেতার পাশাপাশি ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও টরন্টোয় হন রানার্সআপ। সর্বশেষ পাঁচ মাসে সাবালেঙ্কার পথচলা বেশ কঠিন ছিল, অন্যদিকে রিবাকিনা ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ফলে নিউইয়র্কে পা রাখার আগে রিবাকিনা জানতেন, কী সুবর্ণ সুযোগ অপেক্ষা করছে তাঁর সামনে!দর্শক অভিবাদনের জবাবে রিবাকিনাকিন্তু পরিস্থিতি আবারও কঠিন হয়ে পড়ে। ইউএস ওপেন শুরুর ১২ দিন আগে সিনসিনাটি ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ইগা সিওনতেকের বিপক্ষে চোট নিয়ে কোর্ট ছাড়েন। সাত দিন অনুশীলন করতে পারেননি। চোটের পর শরীর কীভাবে সাড়া দেবে, তা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা।শেষ পর্যন্ত সব অনিশ্চয়তা র্যাকেটের মাধ্যমে দূরে ঠেলে সিংহাসনে ওঠার খুব কাছে পৌঁছে গেছেন রিবাকিনা। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিটুকু পাওয়ার। সংবাদ সম্মেলনে রিবাকিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কাজাখস্তানের মানুষের কাছে তাঁর এই অর্জনের কী অর্থ? ২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা জানালেন, মধ্য এশিয়ার দেশটিতে এখন প্রচুর খুদে টেনিস খেলে। অনেকে তাঁকে অনুসরণ করেন। অর্থাৎ টেনিসে উঠে আসার পথে কাজাখস্তান। সেই উঠে আসায় রিবাকিনার অবদানের নেপথ্যে কী?উত্তরটা আসলে যেকোনো পেশার মানুষের জীবনেই সফলতার চাবিকাঠি। রিবাকিনা সেটাই বললেন কয়েকটি শব্দে, ‘নিজের ওপর বিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম।’নিউইয়র্কের ভোরে চমক শেলটন
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টারা ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তাঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাকি মেয়াদের পুরোটাজুড়ে চলতে পারে। গতকাল বুধবার মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স থেকে হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া মেলেনি।ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, উপদেষ্টারা ওভাল অফিস ও সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনায় তাঁকে বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে। ফলে ২০২৯ সালের জানুয়ারি মাসেও সংঘাত অব্যাহত থাকতে পারে।এই প্রতিবেদনে বলা সতর্কবার্তাটি যুদ্ধ নিয়ে প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বলা বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরপরই’ যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তাঁর দাবি, ইরান ভোটে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তবে তারা আর বেশি দিন প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারবে না।ইরান যুদ্ধ আরও ছয় মাস চলতে পারে: সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীতবে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে, কিন্তু তিনি এটিকে পছন্দের পথ হিসেবে আর দেখছেন না।ইরানের হামলায় বদলে যাচ্ছে ২৫ বছরের হিসাব, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা-ঘাঁটি কমাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র