এক বন্ধুর সঙ্গে চায়ের দোকানে যাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম (৩৫)। তখন সন্ধ্যা সাতটা। উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের শহীদ মেজর নাজমুল হক সড়ক ধরে হাঁটছিলেন তাঁরা। হঠাৎ পেছন থেকে একটা ডাক শুনে ফিরে তাকান নজরুল। দেখেন, হাতে অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ঘিরে ধরেছে কয়েকজন কিশোর। তাদের একজন তাঁকে উদ্দেশ করে বলে ওঠে, ‘তুই আমাকে থানায় দিলি কেন?’ এরপরই ছুরি আর ক্ষুর নিয়ে শুরু হয় আক্রমণ। একের পর এক ছুরিকাঘাতে আহত শিক্ষক নজরুল ইসলাম চিৎকার করলে পালিয়ে যায় কিশোরেরা। তার আগে নিয়ে যায় তাঁর সঙ্গে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ও মুঠোফোন।
৪ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনার পর এখনো স্বাভাবিক হতে পারেননি শিক্ষক নজরুল। গত মঙ্গলবার উপজেলার উকিলপাড়ার একতলা বাসায় বসে শরীরের ক্ষতচিহ্নগুলো দেখান তিনি। দুই হাত, ডান পায়ের ঊরুসহ শরীরের পাঁচ স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার মতো শারীরিক–মানসিক অবস্থা এখনো নেই তাঁর। নিজের ছাত্রের বয়সী কিছু কিাশোরের এমন আক্রমণ তিনি মানতে পারছেন না।
প্রথম আলোকে নজরুল ইসলাম বলেন, ওই দিন তাঁদের স্কুলের এক ছাত্রকে তারই প্রাক্তন এক সহপাঠীর নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোর তুলে নিয়ে যায়। পরে শিক্ষকেরা উপজেলার বটতলী স্টেশনের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করেন। ঘটনায় জড়িত এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। আটক কিশোর ইকরা স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র। গত বছর বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
শুরুটা হয়েছিল বিদ্যালয় থেকেই
শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার সঙ্গে গত ২২ আগস্টের একটি ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ওই দিন তাঁদের স্কুলের এক ছাত্রকে তারই প্রাক্তন এক সহপাঠীর নেতৃত্বে কয়েকজন কিশোর তুলে নিয়ে যায়। পরে শিক্ষকেরা উপজেলার বটতলী স্টেশনের কাঁচাবাজার এলাকা থেকে ওই ছাত্রকে উদ্ধার করেন। ঘটনায় জড়িত এক কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। আটক কিশোর ইকরা স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র। গত বছর বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, সেদিন ওই ছাত্রকে উদ্ধার করতে যাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে নজরুল ইসলাম ছিলেন। ওই ঘটনার জের ধরে নজরুলের মুঠোফোনে বারবার হুমকি দেওয়া হয়। শেষে হামলাও করা হয় তাঁর ওপর। প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ান, শাসন করেন, ভুল হলে শুধরে দেন। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেই যদি কোনো কিশোর অস্ত্র হাতে দাঁড়ায়, তাহলে ঘটনাটি কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা হিসেবে দেখলে হবে না, এটি পুরো সমাজেরই ক্ষত।
জামাল উদ্দিন আরও বলেন, বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঠেকাতে শিক্ষকেরা এগিয়ে গিয়েছিলেন। একজন শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন তাঁরা। সেটিই যদি হামলার কারণ হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। কোনো শিক্ষক আর কিশোরদের দায়িত্ব নিতে চাইবেন না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক–অভিভাবকদের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
কী বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
শিক্ষক নজরুল ইসলাম এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। এ ঘটনায় মানসিক ধাক্কাও সামলে উঠতে পারেননি তিনি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি শিক্ষকতা করি। শিক্ষার্থীদের মানুষ করার চেষ্টা করি। কখনো ভাবিনি, আমারই প্রাক্তন ছাত্র ও তার সমবয়সী কিশোরেরা আমাকে এভাবে আক্রমণ করবে। ওই দিন একজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। শিক্ষকের দায়িত্ববোধ থেকেই তাকে উদ্ধার করতে আমরা ছুটে গেছি। এরপর যদি আমাকে হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে আমরা শিক্ষক হিসেবে কোথায় দাঁড়াব?’
ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দও। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একজন শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার, বিদ্যালয়, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে উদ্যোগ নিতে হবে সম্মিলিতভাবে। কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় যেন অপরাধীদের আইনি ব্যবস্থা থেকে রক্ষা করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।’
কথা হয় কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তাঁরা বলেন, ‘আমরা সন্তানকে স্কুলে পাঠাই লেখাপড়া শিখে ভালো মানুষ হওয়ার জন্য। কিন্তু যদি স্কুলের শিক্ষকের ওপরই যদি ছেলেরা হামলা করে, তাহলে বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই চিন্তার। শুধু পুলিশ দিয়ে কিশোর অপরাধ বন্ধ করা যাবে না। পরিবারকে সন্তানদের খোঁজ রাখতে হবে, তারা কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে—এসব দেখতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয় ও সমাজের বড়দেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আজ একজন শিক্ষকের ওপর হামলা হয়েছে, কাল অন্য কারও সন্তানও এর শিকার হতে পারে। যে বয়সে একজন কিশোরের হাতে থাকার কথা বই, খাতা কিংবা খেলার ব্যাট, সেই বয়সে তার হাতে কেন উঠছে ধারালো অস্ত্র?’
সাতজনের নামে মামলা
শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে লোহাগাড়া থানার পুলিশ। ইতিমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ বলেন, ঘটনার রাতেই শিক্ষক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের সবাইকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ এ ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় এ ফল প্রকাশ করা হয়। বিস্তারিত আসছে... এএএইচ/বিএ
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টার পর থেকে ওয়েবসাইটে তথ্য দিয়ে ফল সংগ্রহ করতে পারছে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষার্থীকে তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড / এসএসসিতে মাত্র এক বিষয়ে পাস করা শিক্ষার্থীর জিপিএ ৪.৯৪, তদন্তে কমিটি তবে ঠিক কত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে, তা জানাননি তিনি। ওই কর্মকর্তা বলেন, শিগগির ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফলের সারসংক্ষেপ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হবে। এদিকে, আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা তিনভাবে ফলাফল জানতে পারবে বলে জানিয়েছে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের মোর্চা বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, প্রথমত- স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলাফল দেখা যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল দেখতে পারবে। আরও পড়ুন এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার খাতা চ্যালেঞ্জ দ্বিতীয়ত- সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একটি ওয়েবসাইট থেকে দেখা যাবে। সেটি হলো- rescrutiny.eduboardresults.gov.bd। এ ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সব বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবে। তৃতীয়ত- পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন করা শিক্ষার্থীদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে। তাতে তার ফলাফল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এএএইচ/ইএ
সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।গতকাল রাত ১০টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বর থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে চার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘ভাইভা কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মামা–খালুর সুপারিশ, চলবে না চলবে না’ ও ‘ভাইভার নামে দলীয়করণ, বন্ধ কর, করতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।মানববন্ধনে গণিত ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো হলে প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়িত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় সুপারিশ ও প্রভাব কাজ করার আশঙ্কা আছে।শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বাতিল না হলে তাঁদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।এদিকে একই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল রাতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান, ইমরান সরকার, শিবলী সাদিক, মেহমুদ হোসেন প্রমুখ।গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।গত রোববার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়।এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।