জাতীয়

ক্যান্ডি যেভাবে পেলাম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
ক্যান্ডি যেভাবে পেলাম
ক্যান্ডি যেভাবে পেলাম

১৬৭০ সাল। জার্মানির কোলোন গির্জায় চলছে বড়দিনের গম্ভীর প্রার্থনা। চারদিকে পিনপতন নীরবতা থাকার কথা। কিন্তু বাদ সাধল পেছনের সারিতে বসা একদল খুদে শ্রোতা। কোনোভাবেই তাদের শান্ত রাখা যাচ্ছে না। গির্জার গায়কদলের প্রধান তো মহা চিন্তায় পড়লেন। এই পিচ্চিগুলোর হাত থেকে বাঁচার উপায় কী? হঠাৎ তাঁর মাথায় একটা দারুণ বুদ্ধি এল।

তিনি বাচ্চাদের হাতে ধরিয়ে দিলেন সাদা রঙের লম্বাটে একধরনের শক্ত ক্যান্ডি। এগুলো চুষে খেতে এত সময় লাগে যে শিশুদের মুখ এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়!

সে যুগে কিন্তু আজকের মতো মোড়ে মোড়ে ক্যান্ডির দোকান ছিল না। চিনি ছিল বেশ দামি ও দুর্লভ বস্তু। তাই বাচ্চাদের কাছে এই ক্যান্ডি পাওয়াটা ছিল রীতিমতো লটারির টিকিট পাওয়ার মতো আনন্দের ব্যাপার। তবে গির্জার ভেতরে সাধারণ ক্যান্ডি দেওয়াটা একটু বেমানান দেখাতে পারে ভেবে সেই গায়কদলের প্রধান ক্যান্ডিগুলোর মাথা একটু বাঁকিয়ে দিলেন। দেখতে ঠিক যেন যিশুর জন্মকথায় থাকা মেষপালকদের হাতের লাঠির মতো! ব্যস, জন্ম হলো আজকের দিনের আইকনিক ক্যান্ডি কেইন!

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডির যাত্রা

প্রায় কয়েক শ বছর ধরে এই বাঁকানো ক্যান্ডিগুলো জার্মানির বড়দিনের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠে। ৬ জানুয়ারি এপিফ্যানি উৎসবের পর বাচ্চারা পরম আনন্দে ক্রিসমাস ট্রি থেকে পেড়ে এগুলো খেত। এপিফ্যানি খ্রিষ্টানদের একটি ধর্মীয় উৎসব। খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পর তিন জ্ঞানী ব্যক্তি তাঁকে দেখতে এসেছিলেন।

যাহোক, ১৮৪৭ সালে অগাস্ট ইমগার্ড নামে এক জার্মান-সুইডিশ অভিবাসী এই দারুণ ঐতিহ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের উস্টার শহরে নিজের ক্রিসমাস ট্রিতে তিনি এই ক্যান্ডি কেইনগুলো ঝুলিয়ে দেন। এরপরের গল্প তো ইতিহাস! খুব দ্রুতই এটি আমেরিকানদের উৎসব উদ্‌যাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে।

লাল-সাদা ডোরাকাটা রহস্য

উনিশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত কিন্তু এই ক্যান্ডিগুলো দেখতে একদম ধবধবে সাদা ছিল। তাহলে এই যে লাল-সাদা ডোরাকাটা জাদুকরি ডিজাইন, এটা এল কোথা থেকে? ১৯২০-এর দশকে জর্জিয়ার আলবেনি শহরের বব ম্যাককরম্যাক নামে এক ক্যান্ডি প্রস্তুতকারক প্রথম এই ক্যান্ডির গায়ে লাল রঙের প্যাঁচানো নকশা তৈরি করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্ডিগুলোকে দেখতে আরও উৎসবমুখর ও রঙিন করে তোলা।

এখানে অবশ্য একটা দারুণ কিংবদন্তি প্রচলিত আছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, লাল-সাদা ডোরাকাটা দাগগুলো আসলে পবিত্র ট্রিনিটি এবং যিশুর আত্মত্যাগের প্রতীক। অলিভার ক্রমওয়েল যখন বড়দিন পালন নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখন নাকি খ্রিষ্টানরা নিজেদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ করতে এই ক্যান্ডি ব্যবহার করত! তবে ম্যাককরম্যাকের ক্যান্ডি বানানোর পেছনে এমন কোনো গুরুগম্ভীর ধর্মীয় কারণ ছিল না। তিনি শুধু বড়দিনের আনন্দটা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।

পিপারমিন্ট থেকে বেকন ফ্লেভার

শুরুর দিকে ক্যান্ডি কেইনে চিনি ছাড়া আর কোনো ফ্লেভার ছিল না। শুধুই জমাট বাঁধা চিনির মিষ্টি স্বাদ! বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এতে যোগ হয় পেপারমিন্ট বা পুদিনার রিফ্রেশিং স্বাদ। আর এই স্বাদটা এত জনপ্রিয় হয় যে আজও এটি সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। ব্রাচস ক্যান্ডি কোম্পানির ব্র্যান্ড ম্যানেজার লিজ স্মাইলির দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৯ শতাংশ মানুষের কাছে আজও পেপারমিন্ট ফ্লেভারই সবচেয়ে প্রিয়। এরপরেই ১৮ শতাংশ জনপ্রিয়তা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চেরি এবং ব্লুবেরির ১৩ শতাংশ।

তবে এখনকার আধুনিক ক্যান্ডির দুনিয়া আর শুধু এই দুই-তিনটি স্বাদে আটকে নেই। মিষ্টি স্বাদের পাশাপাশি এখন টক আপেল, ঝাল দারুচিনি, বার্থডে কেক, এমনকি আচার ও বেকন ফ্লেভারের ক্যান্ডি কেইনও পাওয়া যায়! তুমি কি মাংস বা আচারের স্বাদের কোনো লজেন্স চেখে দেখতে চাইবে?

আধুনিক যুগের ক্যান্ডি কেইন

প্যাকেজিং আর ডিজাইনেও এখন এসেছে বিশাল পরিবর্তন। রংধনু রঙের নকশা, গ্লিটার দেওয়া চকচকে আবরণ, কিংবা জনপ্রিয় সুপারহিরো আঁকা প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়া ক্যান্ডি কেইন এখন সুপারশপের তাক আলো করে রাখে। ক্রিসমাস ট্রি সাজানোর জন্য দানবাকৃতির ক্যান্ডি যেমন আছে, তেমনি পকেটে নিয়ে ঘোরার জন্য আছে মিনি সাইজের ক্যান্ডিও। বেকিংয়ের জন্য গুঁড়া করা ক্যান্ডি থেকে শুরু করে অন্য লজেন্সে ঠাসা প্লাস্টিকের ক্যান্ডি কেইন—কী নেই এখন!

সেই ১৬৭০ সালের চার্চের শান্তশিষ্ট সাদা লজেন্সটা আজ রীতিমতো পপ কালচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে। পেপারমিন্টের ক্ল্যাসিক স্বাদ হোক বা নতুন যুগের উদ্ভট বেকন ফ্লেভার, উৎসবের সকালে এই ক্যান্ডির মোড়ক খোলার আনন্দটা আজও সেই আগের মতো অমলিন রয়ে গেছে।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়!
রুমিন ফারহানা আপার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়!

ফেসবুকে রাশেদ খাঁনের দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকা ও বক্তব্য তুলে ধরে তিনি একে আওয়ামী অবস্থানের সাথে তুলনা করেছেন, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন এ নিয়ে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। রাশেদ খাঁন পোস্টে লেখেন, ‘যখন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের ফেসবুক পোস্ট আর রুমিন ফারহানা আপার ফেসবুক পোস্টের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না, তখন বলতেই হয়, জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের একমাত্র যোগ্য প্রতিনিধি রুমিন ফারহানা আপা!’ আরও পড়ুন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন রাশেদ খাঁন ‘হয়তো এই পারফরম্যান্স দেখে রুমিন ফারহানা আপাকে আ.লীগের বাংলাদেশ শাখার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব দিতে পারে শেখ হাসিনা। তিনি গতকাল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার বক্তব্য তার অতীত বক্তব্যের সাথে সাংঘর্ষিক! ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার আগে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী এমপি হয়ে সংসদ গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের ফটোকপি গতকাল বিএনপির বিরুদ্ধে উত্থাপন করেছেন রুমিন ফারহানা আপা!’ তিনি আরও লেখেন, ‘আর জামায়াতের আমির তাকে বেশ উৎসাহ দিয়েছেন! কিন্তু তিনি কি ভুলে গেছেন যে, কিছুদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের সময় জামায়াতের ৯০ জন এমপি কীভাবে হট্টগোল করছিলো? নিজেরা যে সংস্কৃতির সূচনা করেছে, সেই ধরনের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কথা বলা তো বেমানান!’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী লেখেন, ‘আরেকজন জামায়াতের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে মূলত থুতু ওপরের দিকে ফেলে নিজের গায়েই মাখলেন আর স্মরণ করিয়ে দিলেন ওই সরকারের কৃষিমন্ত্রী ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আর সেটি ছিলো বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার!’ ‘পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জাতীয় সংসদে জামায়াত এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানারা সবাই আওয়ামী বয়ানের পক্ষে বেঁধেছে জোট! কিন্তু জাতি কি ভুলে গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা আপা হাসনাত আব্দুল্লাহকে ফকিন্নির বাচ্চা বলে সম্বোধন করেছিলো?’ এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
নোয়াখালীর সেই ছেলেটি যেভাবে এটিএম শামসুজ্জামান হয়ে ‍ওঠলেন

নোয়াখালীর সেই ছেলেটি যেভাবে এটিএম শামসুজ্জামান হয়ে ‍ওঠলেন

ধানমন্ডির এপেক্স ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

ধানমন্ডির এপেক্স ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

ল্যাপটপের ক্ষতি না করে কিবোর্ডের ফাঁকের ধুলা পরিষ্কার করুন সহজে

ল্যাপটপের ক্ষতি না করে কিবোর্ডের ফাঁকের ধুলা পরিষ্কার করুন সহজে

প্রতিশোধ নাকি পুনরাবৃত্তি, রাতে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ
প্রতিশোধ নাকি পুনরাবৃত্তি, রাতে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ

একদিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল ভারত, অন্যদিকে ব্যাটিং নিয়ে চাপে থাকা বাংলাদেশ। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচ। গতবারও ভারতের বিপক্ষে হেরেই সেমি থেকে বাদ পড়েছিল বাংলাদেশ। এবার তাই প্রতিশোধের সুযোগ থাকছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলের সামনে। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেও ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১২৯ রান করে ৮ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১০০ রান তুলতেও ভুগতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে জিততে ম্যাচ হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হয় বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে তাই কঠিন পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের জন্য। প্রতিপক্ষ ভারত, যারা এবারের আসরে দারুণ ছন্দে আছে। দুই দলের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসও ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। এখন পর্যন্ত ২৪ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র তিনটিতে। সর্বশেষ এশিয়া কাপেও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে অতীতের পরিসংখ্যান কিংবা ভারতের শক্তির কথা মাথায় রেখে বাড়তি চাপ নিতে রাজি নন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচের পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছিলেন, ‘ভারত খুবই শক্তিশালী দল। আমরা তাদের বিপক্ষে নিজেদের সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করব। ফল তো একটা আসবেই। কিন্তু নিজেদের পুরোটা উজাড় করে দিতে হবে।’ শারমিন আক্তারও দেখছেন ইতিবাচক দৃষ্টিতে। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে খেলাকে চাপ নয়, বরং নিজেদের প্রমাণের সুযোগ হিসেবেই দেখছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘আপনি নেতিবাচক ভাবতে থাকলে এটা চাপ হতে পারে। কিন্তু ভারতের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে পারাটা আমাদের জন্য আনন্দের। আপনি যদি চ্যাম্পিয়ন হতে চান, তবে এমন শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আপনাকে খেলতেই হবে। তাদের বিপক্ষে খেলাটাকে আমরা চাপ নয়, বরং উপভোগ করি।’ বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির জায়গা হতে পারে বোলিং। এবারের এশিয়া কাপে স্পিনাররা নিয়মিতই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছেন। ইন্দোনেশিয়াকে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট করা, শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রান তাড়ায় ৬ উইকেট হারাতে বাধ্য করা কিংবা আরব আমিরাতকে ৬৯ রানে আটকে রাখা. প্রতিটি ম্যাচেই বোলারদের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। পেস আক্রমণেও বাংলাদেশের বড় ভরসা মারুফা আক্তার। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই নতুন বল হাতে প্রথম স্পেলেই উইকেট পেয়েছেন তিনি। এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটও তার। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তাই বোলারদের পারফরম্যান্সই বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে। অতীতও কিছুটা আশার কথা বলছে। ভারতকে টি-টোয়েন্টিতে যে তিনবার হারিয়েছে বাংলাদেশ, তার দুটিতেই ভারতকে ১০২ ও ১০৯ রানের মধ্যে আটকে রেখেছিল বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। তবে বোলাররা কাজ করলেও ব্যাটারদের বড় দায়িত্ব নিতে হবে। আমিরাতের বিপক্ষে মাত্র ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর শারমিন আক্তারের দৃঢ়তায় কোনোমতে শতরানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। সেই ইনিংস নিয়ে শারমিন বলেন, ‘মাঝে মাঝে এমনটা ঘটতেই পারে। আমার মনে হয়েছিল, এমন পরিস্থিতিতে এক প্রান্তে টিকে থেকে টেল-এন্ডারদের সঙ্গে জুটি গড়া প্রয়োজন। শুরুতেই ৫-৬ উইকেট হারালে এগোনো কঠিন। তবে নাহিদা দারুণ ব্যাটিং করেছে, সে আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল।’ নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছিল ২০১৮ সালে। ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। এরপর আর ফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২২ সালে ঘরের মাঠে থাইল্যান্ডের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বেই বিদায়, আর ২০২৪ সালে ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হার। এবারও শেষ চারের বাধা ভারত। পার্থক্য গড়তে হলে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে বোলারদের নেতৃত্বে বিশেষ কিছু করতে হবে বাংলাদেশকে। চাপের সমীকরণ পেছনে ফেলে সেই কাজটা আজ কতটা করতে পারে টাইগ্রেসরা, সেটিই দেখার। এসকেডি/আইএন

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ পদ ছাড়লেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ পদ ছাড়লেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্যকে হত্যা, পূর্বশত্রুতার কথা বলছে পুলিশ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্যকে হত্যা, পূর্বশত্রুতার কথা বলছে পুলিশ

২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বাপা ফুডপ্রো আজ শুরু

২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড নিয়ে বাপা ফুডপ্রো আজ শুরু

কাটিমন ছড়িয়েছে ফুটপাত থেকে অভিজাত দোকানে, মন কাড়ছে কি
কাটিমন ছড়িয়েছে ফুটপাত থেকে অভিজাত দোকানে, মন কাড়ছে কি

আম পাকে বৈশাখে—এ ধারণা বদলে দিয়েছে কাটিমন। বৈশাখ পেরিয়ে ভাদ্রও শেষের পথে, তবু বাজারে পাকা কাটিমনের সরবরাহ আছে; আশ্বিনেও থাকবে। বছর দুয়েকের মধ্যে সারা বছরই দেশের বাজারে পাকা কাটিমন পাওয়া যেতে পারে। বিলম্বিত জাতের আম হিসেবে এরই মধ্যে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়। রাজধানী থেকে দেশের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সুদর্শন ও মোটামুটি সুস্বাদু এই আম দ্রুত বাজার দখল করছে। অচিরেই কাটিমন দেশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।দ্রুত বাজার দখলজুলিয়াস সিজার পন্টাস রাজ্য জয় করে বলেছিলেন, ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। আক্ষরিকভাবে না হলেও দেশের আমের বাজারে কাটিমনের আগমনের প্রভাব অনেকটা তেমন। রূপে ক্রেতার মন, স্বাদে রসনা এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাজার—সবই জয় করেছে কাটিমন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কাটিমন উৎপাদিত হয়, যা মোট আম উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।আমের বার্ষিক উৎপাদনে তারতম্য থাকে। বেশি ফলনের বছরকে বলা হয় ‘অন সিজন’; পরের ‘অফ সিজনে’ ফলন প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন কমে যায়। মোটাদাগে দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। শীর্ষে থাকা আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।এই হিসাব শিগগিরই বদলে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক (হর্টিকালচার) কৃষিবিজ্ঞানী মো. মেহেদী মাসুদের ভাষ্য, কাটিমনের উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। বাংলাদেশে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষের প্রচলনকারী হিসেবে পরিচিত মেহেদী মাসুদ এখন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এর আগে এক দশকের বেশি সময় তিনি ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ছিলেন। তখন তাঁর উদ্যোগেই কাটিমনের চাষ শুরু হয়। গত রোববার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তাঁর সঙ্গে কাটিমনের বাণিজ্যিক উৎপাদন, গুণমান ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তাঁর কাছ থেকেই দেশে আম উৎপাদনের এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।গাছে ধরে আছে কাটিমন আম। নওগাঁর সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার বাগান থেকে তোলাবারোমাসি আমের খোঁজকাটিমন থাইল্যান্ডের একটি বারোমাসি আম; এটি হাইব্রিড নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৪ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে জাতটি চাষ করে। সফলভাবে চারা উৎপাদন ও গাছে মুকুল আসার পর ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে চারা উৎপাদন এবং চাষিদের নিবিড় প্রশিক্ষণ শুরু হয়।বারোমাসি আম নিয়ে মেহেদী মাসুদের ভাবনা অবশ্য আরও আগের। ২০০২ সালে এফএও, কমনওয়েলথ ও গাম্বিয়া সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় একটি কৃষি গবেষণা প্রকল্পে তিন বছর কাজ করতে তিনি গাম্বিয়ায় যান। সেখানে তিনি দেখেন, বাংলাদেশে মোট ফলের ৬০ শতাংশ মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে এবং বাকি আট মাসে ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। তখনই সারা বছর ফলের উৎপাদন বাড়ানোর ভাবনা থেকে তিনি ‘বছরব্যাপী ফল চাষ’ নামে একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় বছরে প্রায় ১০ মাস আম হয়। এ দেশের জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম প্রথম হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে সফল ও বারোমাসি একটি জাত খুঁজছিলেন।দেশে ফিরে মেহেদী মাসুদ দুটি বারোমাসি জাতের সন্ধান পান। ‘বরিশালী বারোমাসি’র রং সুন্দর হলেও আকার ছোট, ফলন কম এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ছিল না। কুমিল্লায় পাওয়া ‘নীলুদ্দিন’ কুমিল্লা ও নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেও সাফল্য মেলেনি। নোয়াখালীতে এক উদ্যোক্তার বাণিজ্যিক বাগানও সফল হয়নি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ‘বারি-১১’ জাতটির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, পরিচর্যা বেশি লাগে এবং আমের নিচের অংশ কিছুটা টক। তাই এটিও বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। শস্য বা ফসলের তুলনায় ফলদ গাছের গবেষণায় সময় বেশি লাগে। ফলে প্রায় ২০১০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও কোনো জাতই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।সফল হলো কাটিমনরাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি দোকান থেকে কাটিমন আম কিনছেন এক ক্রেতা। ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের সুপারশপে প্রথম কাটিমন দেখেন মেহেদী মাসুদ। আমটি দেখতে চমৎকার; সুপারশপে বিক্রি হওয়ায় নিম্নমানের হওয়ার শঙ্কাও ছিল না। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, এটি থাইল্যান্ডের বিশ্বমানের একটি বারোমাসি জাত—ঠিক যে ধরনের আম তিনি খুঁজছিলেন। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।২০১৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে কাটিমনের দুই হাজার চারা আনা হয়। এর আগে কয়েকটি বাণিজ্যিক নার্সারি চারা আনলেও বাণিজ্যিকভাবে প্রচলন হয়নি। আমদানি করা চারা থেকে মাতৃগাছ তৈরি করে ২০১৬ সালে দেশের ৬৪ জেলার হর্টিকালচার সেন্টারে ১০টি করে রোপণ করা হয়। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার আমচাষি আবুল কাশেম পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন চাষ করে সফল হন। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ৫০ হাজার চাষিকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ থেকে এক একর জমিতে ‘বাণিজ্যিক ফলবাগান’ নামে প্রদর্শনী বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় সাত হাজার বাগান গড়ে ওঠে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।কাটিমনের ফলন ও সম্ভাবনা দেখে চাষিদের আগ্রহ বাড়ে। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সাংবাদিক শাইখ সিরাজের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে মেহেদী মাসুদ কাটিমন চাষের পদ্ধতি তুলে ধরেন—কখন মুকুল ভাঙতে হবে, শাখায় কতটি পাতা রাখতে হবে এবং কী সার দিতে হবে। ছাদবাগান পরিচর্যার কয়েকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করে এর আগেই তিনি ‘গাছের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কাটিমন নিয়ে অনুষ্ঠানটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁরা উৎসাহ নিয়ে চাষে নামেন। ২০২৩ সাল থেকে কাটিমন বাজারে উঠতে শুরু করে। এখন সারা দেশে এর বিস্তারই চাষিদের আগ্রহের প্রমাণ।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।নওগাঁর সাপাহারের কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানার বাগানে কাটিমন আমের চাষ করা হচ্ছে ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো এভাবেই ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়চাষ, ফলন ও লাভকাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হয় দুইভাবে। ‘গ্রাফটিং’ পদ্ধতিতে কলমের চারা রোপণ করলে ভালো পরিচর্যায় ছয় মাসেই মুকুল আসে। তবে গাছের বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফলনের জন্য অন্তত দুই বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙে দিতে হয়। মুকুল রাখলে গাছের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি ‘টপ ওয়ার্কিং’; এতে বড় গাছের শাখা কেটে সেখানে কাটিমনের কলম জুড়ে দেওয়া হয়।কাটিমনে বছরে অন্তত দুবার ফলন হয়। দুই বছর বয়সী গ্রাফটিং কলমের গাছে প্রতিবার প্রায় ২০ কেজি করে বছরে ৪০ কেজি আম ধরে। বয়সের সঙ্গে ফলন বাড়ে। প্রতি বিঘায় ১০০টি গাছ রোপণ করলে মোট ফলন হয় প্রায় চার হাজার কেজি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে দাম দাঁড়ায় প্রায় আট লাখ টাকা। সব খরচ বাদে পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা ধরলেও বিঘাপ্রতি আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কাটিমন ছাড়া এখন কোনো ফলে এত আয় হয় না। এটাই এর দ্রুত সাফল্যের মূল কারণ।ক্ষেত্রবিশেষে কাটিমনের গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ভালো ফলন দেয়। বিশেষ পরিচর্যা না করলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্বাভাবিক মুকুল আসে। বারোমাসি ফলনের জন্য এই মুকুল ভেঙে দিতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে আসা মুকুলের ফলন হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে—এখন বাজারে থাকা আম এই ফলন। জুন-জুলাইয়ে আবার মুকুল এলে ফলন হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। অক্টোবরের শেষে আসা মুকুলের ফলন হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। তবে ভালো ফলন ও গাছের স্বাস্থ্যের জন্য চাষিরা পরিকল্পনা করে বছরে দুবার ফলন নেন। সঠিক পরিকল্পনায় সারা বছরই কাটিমন বাজারে পাওয়া সম্ভব।কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।পাকা কাটিমনের রং সোনালি হলুদ। তবে রং দেখে বিভ্রান্তি হতে পারে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়। সরাসরি সূর্যের আলো না পাওয়ায় কাঁচা অবস্থায়ও অন্য আমের মতো গাঢ় সবুজ হয় না; হলদে আভা থাকে। সুপক্ব আম পুরোপুরি সোনালি হলুদ। ভালো মানের তিনটি কাটিমনে এক কেজি হয়; গড় ওজন ৩৯৬ গ্রাম। বেশি লাভের আশায় ছোট অবস্থায় পেড়ে আনা আমের স্বাদ পানসে হয়। কাটিমনের শাঁস সোনালি হলুদ, আঁটি খুব পাতলা এবং স্বাদ মিষ্টি; তবে আম্রপালির চেয়ে কিছুটা কম। আম্রপালির মিষ্টতা ২৬ ব্রিকস, কাটিমনের ২০ ব্রিকস।কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।কাঁচা কাটিমন আম বাজার ও ভবিষ্যৎকাটিমনের বাজার এখন বেশ ভালো। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ফলের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার মোড়, ফুটপাত ও ভ্যানগাড়ি—সবখানেই অন্যান্য মৌসুমি ফলের সঙ্গে এটি বিক্রি হচ্ছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের ফল বিক্রেতা দেলোয়ার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি কাটিমন বিক্রি হয়। সবচেয়ে ভালো মানের তিনটি আমে এক কেজি হয়; বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয়টি ধরে—এমন ছোট আমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বড় দোকানের বাইরে ভ্যান বা ফুটপাতে ১৬০ টাকা কেজির আমগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের—আকারে ছোট ও কম মিষ্টি, তবে টক নয়। কাঁচা কাটিমনও খুব টক নয়।অনলাইনেও কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ভালো মানের আম পৌঁছে দিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ী শাহিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রাজধানীর পাইকারি বাজার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে কাটিমন পাঠান। তাঁর নিজের বাগান রোহনপুরে। নিজের বাগানের পাশাপাশি অন্য বাগানির কাছ থেকেও আম সংগ্রহ করেন। এখন প্রতিদিন প্রায় এক ট্রাক কাটিমন বিক্রি করেন।কাটিমনের দ্রুত বিস্তার দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী প্রজাতি হয়ে উঠবে কি না। মেহেদী মাসুদ বলেন, কাটিমন নিয়ে বলতে গেলে যুদ্ধ হয়েছে। কৃষিবিদদের দূরদর্শী চিন্তার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজাতির সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এখন বিশ্বায়নের যুগ, প্রযুক্তিরও বিস্তার ঘটছে। যেখানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে, মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেবে। আজ বা কাল কাটিমনের মতো জাত আসবেই। এর ইতিবাচক গুণগুলো নিয়ে নিজস্ব জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ করে নতুন ভালো জাত উদ্ভাবন করতে হবে।

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
‘কেউ বাথরুমে যাবেন না’, কেন বললেন ট্রাম্প

‘কেউ বাথরুমে যাবেন না’, কেন বললেন ট্রাম্প

‘রবি এআই স্পেস’ সাবস্ক্রিপশন নেবেন যেভাবে

‘রবি এআই স্পেস’ সাবস্ক্রিপশন নেবেন যেভাবে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি, এমফিলে মাসে ১৫ হাজার-পিএইচডিতে ২০ হাজার টাকা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি, এমফিলে মাসে ১৫ হাজার-পিএইচডিতে ২০ হাজার টাকা

0 Comments