খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক তিন দিনব্যাপী ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬ আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) হল-৪-এ এই প্রদর্শনী চলবে ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত।
এবারের আসরে ২৭ দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে। আসছেন দেড় শতাধিক বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা। মেলায় বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেড (রিমস) যৌথভাবে প্রদর্শনীটি আয়োজন করছে।
তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিন দিনে প্রদর্শনীতে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হবে।


এবার অংশগ্রহণকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর সোবহানবাগে অবস্থিত বাপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, দেশের কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রদর্শনী উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাপা দেশ ও বিদেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এই মেলার মাধ্যমে আমরা এ ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা জানান দিতে চাই। পাশাপাশি দেশের এ খাতের সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই।

এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, বর্তমান ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে উৎসাহিত করছে। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ ও লজিস্টিকস পর্যন্ত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কার্যক্রম গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, এ মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি আমরা তাদের কাছে আমাদের সক্ষমতা তুলে ধরবো। আমরা চাই, ভোক্তা সাধারণ, নতুন উদ্যোক্তা, ছোট-বড় ব্যবসায়ী—সবাই এ মেলায় আসবেন। এ সেক্টরে অন্যরা কী করছে, একে অন্যের জন্য কী সহায়তা প্রয়োজন, সেটা দেখবেন। দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিরাও আসবেন। আমাদের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে ধারণা নেবেন।
‘এ মেলায় ১৫৬ বিদেশি বিনিয়োগকারী আসছেন। তাদের কাছ থেকে নতুন উদ্যোক্তারা সহায়তা পাবেন। আমরা মূলত ৩৬০ ডিগ্রি দেখার চেষ্টা করেছি, যেন সবাই এ আয়োজন থেকে উপকৃত হন।’ বলেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান।


বাপার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান বলেন, মেলায় কারিগরি অধিবেশন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তা, বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন। অ্যাগ্রো প্রসেসিং, ফাইন্যান্সিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সিইও সেশন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে সেমিনার ও সেশন থাকবে।
এদিকে একই ভেন্যুতে তিন দিন অনুষ্ঠিত হবে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। এতে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণ তুলে ধরা হবে।
প্রদর্শনীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে থাকবে সেশন স্টেজ, এফপি গুরমে, ড্রিংকস্ফিয়ার, গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ভিলেজ।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী নিবন্ধন ও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে foodpro.com.bd ওয়েবসাইটে।
এনএইচ/এমএমএআর
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বাংলাদেশে চাকরি নেই। কাজ নেই। আয়-রোজগারের নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু আশার অভাব আছে কি? মোটেই না। বেকার তরুণের হাতে যখন দেশের চাকরির বাজারের দরজা বন্ধ, তখন তিনি তাকান বিদেশের দিকে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে। এত দিন সেটিই ছিল বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সবচেয়ে পরিচিত ঠিকানা। মরুভূমির দেশে গিয়ে ঘাম ঝরিয়ে টাকা পাঠাবেন, সেই টাকায় দেশে সংসার চলবে, বাড়ি হবে, ভাই-বোনের পড়াশোনা হবে, কেউ দোকান দেবেন, কেউ জমি কিনবেন। অর্থাৎ বাংলাদেশের বেকারত্বের একটা বড় অংশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের এক ধরনের অলিখিত চুক্তি ছিল। সমস্যা হলো, সেই চুক্তিটিও এখন আর আগের মতো কার্যকর নেই। বিদেশে কর্মী পাঠানোর বাংলাদেশের গল্পটি দীর্ঘদিনের। ১৯৭৬ সালে বিদেশে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছিল। নব্বইয়ের দশক থেকে তা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে গড়ে ১০ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে গেছেন। ২০২৩ সালে তো ১৩ লাখের বেশি মানুষ বিদেশে গেছেন, যা ছিল ইতিহাসের সর্বোচ্চ। মনে হতে পারে, বাংলাদেশের কর্মসংস্থান নীতির সবচেয়ে সফল মন্ত্রণালয়ের নাম বুঝি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দেশে কাজ দিতে না পারলেও বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অন্তত আমরা বিশ্বমানের! কিন্তু এখানেই অনেক ‘যদি’ ‘কিন্তু’ আছে। এত মানুষ বিদেশে গেলেও আমাদের শ্রমবাজার আসলে কতটা বৈচিত্র্যময়? ২০১১ থেকে ২০২৫, এই ১৫ বছরে ২০৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হলেও প্রায় ৭৯ শতাংশ গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। আর ৯৪ শতাংশ গেছেন ১০টি দেশে। অর্থাৎ পৃথিবীর মানচিত্রে আমাদের শ্রমবাজার বিশাল, কিন্তু বাস্তবে সেটি ১০টি দেশের দরজায় গিয়ে থেমে আছে। একে বৈচিত্র্য বলা যায় না, বরং বলা যায়, ১০টি দরজার ওপর জাতীয় ভবিষ্যৎ ঝুলিয়ে রাখা। এই ১০ দেশের মধ্যে সাতটিই মধ্যপ্রাচ্যের। সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারের প্রধান ভরসা। কিন্তু এখন একে একে দরজাগুলো ছোট হচ্ছে। কোথাও শ্রমবাজার বন্ধ, কোথাও কর্মী যাওয়ার সংখ্যা কমে গেছে, কোথাও নিয়োগের শর্ত কঠিন হয়েছে। মালয়েশিয়াও অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালের জুনে বন্ধ হয়ে গেছে। ওমানের বাজার ২০২৪ সাল থেকে কার্যত বন্ধ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০২৩ সালে প্রায় এক লাখ বাংলাদেশি গেলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১৩ হাজার ৭৫০-এ। অর্থাৎ যে বাজারকে এত দিন আমরা নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলাম, সেটিই এখন অনিশ্চিত। সৌদি আরব অবশ্য এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভরসা। ২০২৪ সালে সোয়া ছয় লাখের বেশি এবং ২০২৫ সালে ৭ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেখানে গেছেন। কিন্তু এখানেও মেঘ জমছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গেছেন প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার। তার ওপর অভিযোগ আছে, অনেকেই চুক্তি অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে যাওয়া ৭০ শতাংশ কর্মী স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য যাচ্ছেন। অর্থাৎ আমরা যেন এমন এক চাকরির বাজারে পৌঁছে গেছি, যেখানে চাকরির মেয়াদও এখন মোবাইলের ডেটা প্যাকের মতো, শেষ হয়ে গেলে আবার রিচার্জ করতে হবে। এ অবস্থায় সরকার নতুন বাজার খুঁজছে। ভালো কথা। কিন্তু নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে যদি রাশিয়া ও কম্বোডিয়াকে সামনে আনা হয়, তখন প্রশ্ন জাগে, বাজার খোঁজা হচ্ছে, নাকি বিপদ খোঁজা হচ্ছে? ২০২৫ সালে কম্বোডিয়ায় ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছেন। দেশটি বাংলাদেশের শ্রমবাজারে অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে। রাশিয়ায় গেছেন ৪ হাজার ৭২৭ জন। রাশিয়া রয়েছে ১৩ নম্বরে। সমস্যা হলো, সেখানে গিয়ে অনেকের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেটিকে কর্মসংস্থান বলা কঠিন, দুঃস্বপ্ন বলা বরং সহজ। বেকার মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা করার দিন শেষ হওয়া দরকার। কারণ চাকরি না থাকা দুর্ভাগ্য, কিন্তু চাকরির আশায় সর্বস্ব হারানো তার চেয়েও বড় দুর্ভাগ্য। আর রাষ্ট্র যদি সেই দুর্ভাগ্যের পাহারাদার হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নতুন শ্রমবাজার যতই খোলা হোক, বাংলাদেশের মানুষের জন্য পৃথিবীটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসবে। এক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য মতে, লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে রাশিয়ায় সেনানিবাসে বাবুর্চির কাজ দেওয়ার কথা বলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু রান্নাঘরের বদলে তাঁকে পাঠানো হয় ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে। প্রশিক্ষণ ছাড়াই হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় অস্ত্র। ১৬ জনের দলে চারজন মারা যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পালিয়ে দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ফেরেন। চাকরির বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল বাবুর্চি। বাস্তবে কর্মস্থল যুদ্ধক্ষেত্র। বাংলাদেশের শ্রমবাজারে এ যেন নতুন ধরনের ‘জব ডিসক্রিপশন’। কম্বোডিয়ার গল্পও কম ভয়াবহ নয়। কলসেন্টারে চাকরির কথা বলে নেওয়া বাংলাদেশিদের দিয়ে অনলাইন প্রতারণা করানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সেসব স্ক্যাম সেন্টারে অভিযান হয়েছে। জুনেই ৬৪৬ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। অর্থাৎ নতুন শ্রমবাজারের দরজা খুলেছে ঠিকই, কিন্তু দরজার ওপাশে অফিস নয়, স্ক্যাম সেন্টার! এরপর আছে ইউরোপের স্বপ্ন। ইতালি যাবেন। উন্নত জীবন হবে। দেশে টাকা পাঠাবেন। সেই স্বপ্নের পথে বাংলাদেশি তরুণেরা পাড়ি দেন লিবিয়ায়। সেখানে প্রতারণা, নির্যাতন, মুক্তিপণ, বন্দিজীবন, তারপর ভূমধ্যসাগর। ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়া ৬৬ হাজার ৩১৬ জনের মধ্যে ১ হাজার ১২৬ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই পথে ইতালি যাওয়া ১৪ হাজার ১৯৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশিই ছিলেন সবচেয়ে বেশি, ৩ হাজার ৬৯১ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশের বেকার যুবকের সামনে এখন তিনটি রাস্তা। দেশে থাকুন, যেখানে চাকরি কম। বৈধ পথে বিদেশ যান, যেখানে শ্রমবাজার সংকুচিত। অথবা অবৈধ পথে যান, যেখানে জীবনটাই জামানত। এই সংকটের আরেকটি বড় কারণ আমাদের শ্রমবাজারের দালালনির্ভর চরিত্র। বাংলাদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা এখন ২ হাজার ৬৪৬। অথচ আগে তা ৮৫০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে ছিল। ভারতে এ সংখ্যা ১৯২, পাকিস্তানে ৪৬৪, নেপালে ৪১৬, শ্রীলঙ্কায় ২৪৮। এজেন্সি যত বেশি, প্রতিযোগিতা তত বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রতারণার বাজারও যেন বেশ প্রতিযোগিতামূলক! মানব পাচারের বিচারব্যবস্থার চিত্র আরও হতাশাজনক। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৫৩৬টি মামলায় ১ হাজার ৬৫৭ জনকে আসামি করা হলেও গ্রেপ্তার হয়েছে মাত্র ৩৫৩ জন। আর ২০২০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মানব পাচার আইনে হওয়া ৪ হাজার ৪২৭টি মামলার ৯৪ থেকে ৯৫ শতাংশ আসামি খালাস পেয়েছেন। ফলে পাচারকারীদের জন্য বার্তাটি বেশ আশাব্যঞ্জক: মানুষ পাচার করুন, মামলা হলে দেখবেন; বিচার হলে ভাগ্য ভালো থাকলে খালাসও মিলতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, বিদেশে যাওয়া কমছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ৫ লাখ কর্মী ছাড়পত্র নিয়েছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার। অর্থাৎ বিদেশে যাওয়ার পথও সংকুচিত হচ্ছে। অথচ এই মানুষগুলোর পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত পাঁচ অর্থবছরে বাংলাদেশিরা বছরে গড়ে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন। বিশ্বে রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। যারা এই অর্থ পাঠান, তাঁদের আমরা ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ বলি। কিন্তু যোদ্ধাদের যুদ্ধটা কোথায়, কীভাবে এবং কতটা নিরাপদে হবে, সে প্রশ্নটি যেন আমাদের নীতিনির্ধারণের টেবিলে যথেষ্ট জায়গা পায় না। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বিদেশে কর্মী পাঠানো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন শ্রমবাজার খোঁজা জরুরি। কিন্তু শুধু নতুন দেশের নাম ঘোষণা করলেই নতুন শ্রমবাজার তৈরি হয় না। শ্রমবাজার মানে বৈধ নিয়োগ, যাচাই করা নিয়োগকর্তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, চুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। একজন যুবক ৩০ লাখ টাকা ঋণ করে বিদেশে গিয়ে যদি চাকরির বদলে যুদ্ধক্ষেত্র পান, একজন ৩২ লাখ টাকা খরচ করে ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখে লিবিয়া থেকে বন্দি হয়ে ফেরেন, তাহলে সেটিকে কর্মসংস্থানের সাফল্য বলা কঠিন। বাড়িতে পরিবার অপেক্ষা করে, আর ফিরে আসা যুবকটি ভাবেন, পাওনাদারদের কী বলবেন। আমাদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কি সত্যিই শ্রমবাজার খুলতে চাই, নাকি শুধু বিদেশ যাওয়ার গল্প শুনিয়ে বেকারত্বের অস্বস্তি সাময়িকভাবে সরিয়ে রাখতে চাই? কারণ বিদেশে কর্মসংস্থান বাংলাদেশের জন্য বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। কিন্তু মানুষকে বিদেশে পাঠানো আর মানুষকে নিরাপদ কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া এক কথা নয়। প্রথমটি সংখ্যার সাফল্য হতে পারে, দ্বিতীয়টিই আসল সাফল্য। নতুন বাজার চাই, অবশ্যই চাই। কিন্তু নতুন বাজারের নামে নতুন কবরের জায়গা যেন খুঁজতে না হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দরজা বন্ধ হলে পৃথিবীর অন্য দরজায় কড়া নাড়তেই হবে। তবে দরজা খোলার আগে অন্তত দেখে নিতে হবে, ওপাশে চাকরি আছে, নাকি বন্দুক; অফিস আছে, নাকি স্ক্যাম সেন্টার; কর্মস্থল আছে, নাকি মরুভূমি পেরিয়ে আরেক প্রতারণার ফাঁদ। বেকার মানুষের স্বপ্ন নিয়ে ব্যবসা করার দিন শেষ হওয়া দরকার। কারণ চাকরি না থাকা দুর্ভাগ্য, কিন্তু চাকরির আশায় সর্বস্ব হারানো তার চেয়েও বড় দুর্ভাগ্য। আর রাষ্ট্র যদি সেই দুর্ভাগ্যের পাহারাদার হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে নতুন শ্রমবাজার যতই খোলা হোক, বাংলাদেশের মানুষের জন্য পৃথিবীটা ক্রমেই ছোট হয়ে আসবে। লেখক : জ্যেষ্ঠ কলামিস্ট। এইচআর/জেআইএম
আজ বৃহস্পতিবার সকালেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল দুই পক্ষ তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা ও পাল্টা হামলা করেছে। এর জেরে গতকাল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত জুলাইয়ের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল। আজ দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪ ডলারে ওঠে। গতকাল বুধবার ব্রেন্টের দাম বাড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে। এ কারণে তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।গত কয়েক মাসে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমনকি জুন মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পরও হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল বছরের প্রথম ভাগের তুলনায় বেশি ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।গত আগস্টের শুরুতে পারস্য উপসাগর থেকে প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ মিলিয়ন বা ৬৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হচ্ছিল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির হিসাবে, আগস্টের শেষ দিকে এই সরবরাহ বেড়ে দৈনিক ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন বা ৮৯ লাখ ব্যারেলে উঠেছিল।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। রিস্টাড এনার্জির হিসাবে, সম্প্রতি হরমুজ দিয়ে তেল সরবরাহ দৈনিক ২ মিলিয়ন বা ২০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। সাত দিনের চলতি গড় সরবরাহও কমে ৪ থেকে ৫ মিলিয়ন বা ৪৫ লাখ ব্যারেল হয়েছে।এদিকে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বরের পর থেকে একটিও অপরিশোধিত তেলবাহী অতি বৃহৎ জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়নি।পাঁচ ইরানি ট্যাংকার ধ্বংসএ সপ্তাহে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডানের এক মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।দুই পক্ষের কেউই সংযত হচ্ছে, এমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ না থাকায় তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।বিকল্প পথে তেল সরবরাহতবে তেলের দাম নিয়ে যত আশঙ্কা করা হয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কাগুলো এখনো পুরোপুরি বাস্তব রূপ নেয়নি। এর অন্যতম কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রধান তেল উৎপাদক দেশ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে।সংযুক্ত আরব আমিরাত পাইপলাইনের মাধ্যমে ফুজাইরাহ বন্দরে তেল পাঠাচ্ছে। ইরাক পাইপলাইনের মাধ্যমে তুরস্ক হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তেল পাঠাচ্ছে। সৌদি আরবও ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করে তেলের প্রবাহ ঘুরিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাতে পারছে।তবে এসব বিকল্প পথও ঝুঁকির মুখে আছে। ইয়েমেনের হুতিরা এ বছর সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই জিজান তেল শোধনাগারে হামলা হয়েছে। আরব উপদ্বীপের অন্য কয়েকটি তেল শোধনাগারও ইরানি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছে।মজুত কমছে, বাড়ছে দামের ঝুঁকিব্রেন্টের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠার পর এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই দাম কত দিন এই পর্যায়ে থাকবে, এবং তা আরও কতটা বাড়তে পারে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তত কমে আসবে। সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতে বিশ্ব এখন বিভিন্ন দেশের তেল মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করছে। কিন্তু এসব মজুত সীমাহীন নয়।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সর্বশেষ মাসিক তেলবাজার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে দৈনিক প্রায় ৮৩ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ ছিল। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত ৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। অর্থাৎ জুলাই মাসে বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল তেলের মজুত কমেছে।মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকলে এই মজুত কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে তেলের দামের ওপর আরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।চাহিদা বৃদ্ধির আশঙ্কাবাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি বছরের শেষ প্রান্তিকে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে দাম আরও বাড়তে পারে। তেলের দাম বেশি হলে কিছুটা চাহিদা কমতে পারে। তবে অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি তেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, তেলের দাম বাড়লেই যে চাহিদা বাড়বে, বিষয়টি তেমন নয়। খবর অয়েল প্রাইস ডটকমেরএ কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ব্রেন্টের দাম আরও দীর্ঘ সময় ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। এমনকি সরবরাহ পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে।মজুত আছে, দাম বেশি বাড়বে নাঅন্যদিকে যেসব বিশ্লেষক মনে করেন, তেলের দাম অত বাড়বে না, তাঁদের মূল যুক্তি হলো, বিশ্ববাজারে এখনো পর্যাপ্ত তেল আছে। মজুত যেমন আছে, তেমনি উৎপাদনও হচ্ছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সামান্য ইঙ্গিত পাওয়া গেলেই, এমনকি গত জুনের যুদ্ধবিরতির সময়ও তেলের দাম কমেছে।তবে কয়েক সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি সময়ের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের চিত্র বেশ পরিষ্কার। দাম কমছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিবারই আগের তুলনায় কম হারে কমছে। এ কারণে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ ডলার বেড়েছে।একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের বেশি বেড়েছে। তবে এগুলো শুধু ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক বাজারের দাম। সরাসরি কেনাবেচার বাজারে তেলের দাম আরও বেশি।ইতিমধ্যে কয়েক ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। এর মধ্যে আছে মারাবান ক্রুড ও ডিএমই ওমান বেঞ্চমার্ক। ওপেকের তেলের গড় দামও ১০০ ডলারের ওপরে। ভারতের আমদানি করা তেলের দামও ১০০ ডলারের বেশি। এবার ব্রেন্টের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দামও গুরুত্বপূর্ণ ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে।বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম যে তেমন একটা কমবে, সেই সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরুর ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য অনেকের অপেক্ষা থাকলেও অ্যাপলের সাম্প্রতিক আয়োজনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরা। মেগাপিক্সেল বাড়ানো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরতার বাইরে এবার ক্যামেরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। নতুন পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার, নতুন সেন্সর, উন্নত পেশাদার নিয়ন্ত্রণ, স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ এবং ‘রেফারেন্স’ মোড। এসব সুবিধার কারণে আইফোনের ক্যামেরা এখন পেশাদার আলাদা ক্যামেরার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের অন্যতম বড় সংযোজন পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার। ছোট আকারের স্মার্টফোন ক্যামেরা সেন্সরে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা বেশ জটিল। কারণ অ্যাপারচারের ক্ষুদ্র ব্লেডগুলোকে খুব মসৃণভাবে খোলা ও বন্ধ হতে হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, এ জন্য তারা লেজার দিয়ে কাটা বিশেষ ব্লেড ব্যবহার করেছে। পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারের বড় সুবিধা হলো-স্বয়ংক্রিয় এক্সপোজার ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরায় কম-বেশি আলো প্রবেশ করানো যাবে, শাটার স্পিড পরিবর্তন না করেই। ফলে কম আলোতে চলমান কোনো বিষয় ধারণ করার সময়ও দ্রুত শাটার স্পিড রাখা সম্ভব হবে। এতে ছবি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে কম আইএসও ব্যবহার করা গেলে ছবি ও ভিডিওতে অতিরিক্ত দানাদার ভাবও কম থাকবে। আরও পড়ুন আইফোনে ১৮ এর সঙ্গে আর কী কী আনলো অ্যাপল পেশাদার ক্যামেরার মতো নিয়ন্ত্রণ আইফোন ১৮ প্রোর নতুন পেশাদার মোডে অ্যাপারচার নিয়ন্ত্রণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। চারটি অ্যাপারচার সেটিং রয়েছে-এফ/১.৪৮, এফ/১.৮, এফ/২.৮ ও এফ/৪.০। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী প্রয়োজন অনুযায়ী ছবির পেছনের অংশ কতটা ঝাপসা হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। প্রতিকৃতির ক্ষেত্রে বেশি ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের ক্ষেত্রে পুরো দৃশ্যকে ফোকাসে রাখতে অ্যাপারচার পরিবর্তন করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, সামনে গাড়ি বা মানুষ চলাচল করছে, কিন্তু পেছনের দৃশ্য পরিষ্কার রাখতে হবে-এমন ছবি তুলতে আগে দিনের আলোতে শাটার স্পিড যথেষ্ট কমানো কঠিন ছিল। নতুন অ্যাপারচার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ ধরনের শট নেওয়া সহজ হবে। অ্যাপারচার, আইএসও ও শাটার স্পিডের পাশাপাশি সাদা ভারসাম্যও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি হিস্টোগ্রাম দেখার সুবিধা থাকছে, যা ছবির আলো ও অন্ধকার অংশের মাত্রা বুঝতে পেশাদার আলোকচিত্রীদের কাজে আসবে। তবে স্মার্টফোনে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার একেবারে নতুন নয়। এর আগে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯-এ দ্বৈত অ্যাপারচার এবং শাওমির কয়েকটি মডেলে আরও উন্নত ধরনের মসৃণ অ্যাপারচার ব্যবস্থার দেখা মিলেছে। স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ ক্যামেরায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ। ভিডিও বা ছবি তোলার সময় ক্যামেরা কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। এমনকি ভিড়ের মধ্যে ওই ব্যক্তি সাময়িকভাবে অন্য কারো আড়ালে চলে গেলেও ক্যামেরা তাকে শনাক্ত করে আবার অনুসরণ করতে পারবে। পেশাদার ক্যামেরাতেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্ব পেয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে আরও নিয়ন্ত্রণ অ্যাপল ফটোগ্রাফিক স্টাইলস সুবিধায় নতুন টেক্সচার ও দানাদার ভাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ যোগ করেছে। এর ফলে ছবি তোলার পর সেটির চেহারা আরও সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন করা যাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা রয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেম পর্যন্ত ধারণ করা ভিডিওতে শুটিং শেষ হওয়ার পর সিনেমাটিক প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসতে পারে। আরও পড়ুন অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত? ছবির আসল সংস্করণ যাচাই পেশাদার আলোকচিত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য অ্যাপলের ‘রেফারেন্স ইমেজ’ সুবিধাটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন রেফারেন্স মোডে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্যের একটি স্বাক্ষরযুক্ত সংস্করণ সংরক্ষণ করা হবে। অ্যাপলের ব্যক্তিগত ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা সেই তথ্য ব্যবহার করে একটি অপরিবর্তনযোগ্য রেফারেন্স ছবি তৈরি করবে। মূল ছবির পাশাপাশি সেটি ফটোস অ্যাপে দেখা যাবে। ফলে পরে কোনো ছবি পরিবর্তন বা বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে। বিশেষ করে কোনো আলোকচিত্র অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা পরিবর্তন করা হলে এর মূল সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করে বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরাও থাকছে। প্রধান ক্যামেরায় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যার সঙ্গে রয়েছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার। এ ছাড়া ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরায় এফ/২.২ এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন টেলিফটো ক্যামেরায় এফ/২.৮ অ্যাপারচার থাকছে। আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরা ব্যবস্থায় এবার অ্যাপল শুধু মেগাপিক্সেল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর জোর না দিয়ে ব্যবহারকারীর হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে স্মার্টফোন দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিজ্ঞতা আরও পেশাদার পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সূত্র: এনেগ্যাজেট শাহজালাল/কেএসকে