আম পাকে বৈশাখে—এ ধারণা বদলে দিয়েছে কাটিমন। বৈশাখ পেরিয়ে ভাদ্রও শেষের পথে, তবু বাজারে পাকা কাটিমনের সরবরাহ আছে; আশ্বিনেও থাকবে। বছর দুয়েকের মধ্যে সারা বছরই দেশের বাজারে পাকা কাটিমন পাওয়া যেতে পারে। বিলম্বিত জাতের আম হিসেবে এরই মধ্যে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।
রাজধানী থেকে দেশের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া সুদর্শন ও মোটামুটি সুস্বাদু এই আম দ্রুত বাজার দখল করছে। অচিরেই কাটিমন দেশের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
ঢাকার ফুটপাত থেকে অভিজাত এলাকার ফলের দোকান—সবখানেই এখন কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। অসময়ের আম বলে দাম কিছুটা বেশি, তবে নাগালের বাইরে নয়। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৮০ টাকায়।
জুলিয়াস সিজার পন্টাস রাজ্য জয় করে বলেছিলেন, ‘ভিনি, ভিডি, ভিসি’—এলাম, দেখলাম, জয় করলাম। আক্ষরিকভাবে না হলেও দেশের আমের বাজারে কাটিমনের আগমনের প্রভাব অনেকটা তেমন। রূপে ক্রেতার মন, স্বাদে রসনা এবং শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বাজার—সবই জয় করেছে কাটিমন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন কাটিমন উৎপাদিত হয়, যা মোট আম উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ।
আমের বার্ষিক উৎপাদনে তারতম্য থাকে। বেশি ফলনের বছরকে বলা হয় ‘অন সিজন’; পরের ‘অফ সিজনে’ ফলন প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন কমে যায়। মোটাদাগে দেশে বছরে প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হয়। শীর্ষে থাকা আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।
এই হিসাব শিগগিরই বদলে যেতে পারে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শক (হর্টিকালচার) কৃষিবিজ্ঞানী মো. মেহেদী মাসুদের ভাষ্য, কাটিমনের উৎপাদন প্রতিবছর প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। বাংলাদেশে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষের প্রচলনকারী হিসেবে পরিচিত মেহেদী মাসুদ এখন টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন। এর আগে এক দশকের বেশি সময় তিনি ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর পরিচালক ছিলেন। তখন তাঁর উদ্যোগেই কাটিমনের চাষ শুরু হয়। গত রোববার খামারবাড়ির কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে তাঁর সঙ্গে কাটিমনের বাণিজ্যিক উৎপাদন, গুণমান ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা হয়। তাঁর কাছ থেকেই দেশে আম উৎপাদনের এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
কাটিমন থাইল্যান্ডের একটি বারোমাসি আম; এটি হাইব্রিড নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ২০১৪ সালে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে জাতটি চাষ করে। সফলভাবে চারা উৎপাদন ও গাছে মুকুল আসার পর ২০১৬ সালে ব্যাপকভাবে চারা উৎপাদন এবং চাষিদের নিবিড় প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
বারোমাসি আম নিয়ে মেহেদী মাসুদের ভাবনা অবশ্য আরও আগের। ২০০২ সালে এফএও, কমনওয়েলথ ও গাম্বিয়া সরকারের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় একটি কৃষি গবেষণা প্রকল্পে তিন বছর কাজ করতে তিনি গাম্বিয়ায় যান। সেখানে তিনি দেখেন, বাংলাদেশে মোট ফলের ৬০ শতাংশ মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসে এবং বাকি আট মাসে ৪০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। তখনই সারা বছর ফলের উৎপাদন বাড়ানোর ভাবনা থেকে তিনি ‘বছরব্যাপী ফল চাষ’ নামে একটি কর্মপরিকল্পনা করেন। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ায় বছরে প্রায় ১০ মাস আম হয়। এ দেশের জনপ্রিয় ফলের মধ্যে আম প্রথম হওয়ায় তিনি বাণিজ্যিকভাবে সফল ও বারোমাসি একটি জাত খুঁজছিলেন।
দেশে ফিরে মেহেদী মাসুদ দুটি বারোমাসি জাতের সন্ধান পান। ‘বরিশালী বারোমাসি’র রং সুন্দর হলেও আকার ছোট, ফলন কম এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ছিল না। কুমিল্লায় পাওয়া ‘নীলুদ্দিন’ কুমিল্লা ও নাটোরের হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেও সাফল্য মেলেনি। নোয়াখালীতে এক উদ্যোক্তার বাণিজ্যিক বাগানও সফল হয়নি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত ‘বারি-১১’ জাতটির রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, পরিচর্যা বেশি লাগে এবং আমের নিচের অংশ কিছুটা টক। তাই এটিও বাণিজ্যিক সাফল্য পায়নি। শস্য বা ফসলের তুলনায় ফলদ গাছের গবেষণায় সময় বেশি লাগে। ফলে প্রায় ২০১০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চললেও কোনো জাতই বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি।
আম্রপালির ফলন সাড়ে ছয় থেকে সাত লাখ মেট্রিক টন, অংশীদারত্ব ৩৫ শতাংশ। এরপর হিমসাগর ১৫ শতাংশ, বারি ১০ শতাংশ, হাঁড়িভাঙা ৭ শতাংশ, গোবিন্দভোগ ও কাটিমন ৫ শতাংশ করে, ল্যাংড়া সাড়ে ৪ শতাংশ ও গোপালভোগ ২ শতাংশ। এই মোট সাড়ে ৮৭ শতাংশ; বাকিটা অন্যান্য জাতের।
ভিয়েতনামের সুপারশপে প্রথম কাটিমন দেখেন মেহেদী মাসুদ। আমটি দেখতে চমৎকার; সুপারশপে বিক্রি হওয়ায় নিম্নমানের হওয়ার শঙ্কাও ছিল না। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, এটি থাইল্যান্ডের বিশ্বমানের একটি বারোমাসি জাত—ঠিক যে ধরনের আম তিনি খুঁজছিলেন। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এটি কেমন হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল।
২০১৪ সালে থাইল্যান্ড থেকে কাটিমনের দুই হাজার চারা আনা হয়। এর আগে কয়েকটি বাণিজ্যিক নার্সারি চারা আনলেও বাণিজ্যিকভাবে প্রচলন হয়নি। আমদানি করা চারা থেকে মাতৃগাছ তৈরি করে ২০১৬ সালে দেশের ৬৪ জেলার হর্টিকালচার সেন্টারে ১০টি করে রোপণ করা হয়। গাছগুলো ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। চুয়াডাঙ্গার আমচাষি আবুল কাশেম পাঁচ বিঘা জমিতে কাটিমন চাষ করে সফল হন। পরে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ৫০ হাজার চাষিকে নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ন্যূনতম ৫০ শতাংশ থেকে এক একর জমিতে ‘বাণিজ্যিক ফলবাগান’ নামে প্রদর্শনী বাগান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এভাবে প্রায় সাত হাজার বাগান গড়ে ওঠে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।
কাটিমনের ফলন ও সম্ভাবনা দেখে চাষিদের আগ্রহ বাড়ে। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক সাংবাদিক শাইখ সিরাজের পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের একটি অনুষ্ঠানে মেহেদী মাসুদ কাটিমন চাষের পদ্ধতি তুলে ধরেন—কখন মুকুল ভাঙতে হবে, শাখায় কতটি পাতা রাখতে হবে এবং কী সার দিতে হবে। ছাদবাগান পরিচর্যার কয়েকটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান করে এর আগেই তিনি ‘গাছের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কাটিমন নিয়ে অনুষ্ঠানটি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং তাঁরা উৎসাহ নিয়ে চাষে নামেন। ২০২৩ সাল থেকে কাটিমন বাজারে উঠতে শুরু করে। এখন সারা দেশে এর বিস্তারই চাষিদের আগ্রহের প্রমাণ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে এখন প্রায় সাত হাজার একর জমিতে কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি নওগাঁয়—৭০০ থেকে ৮০০ একর। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫০০ একরের বেশি জমিতে এর চাষ হচ্ছে।
কাটিমনের বাণিজ্যিক চাষ হয় দুইভাবে। ‘গ্রাফটিং’ পদ্ধতিতে কলমের চারা রোপণ করলে ভালো পরিচর্যায় ছয় মাসেই মুকুল আসে। তবে গাছের বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফলনের জন্য অন্তত দুই বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙে দিতে হয়। মুকুল রাখলে গাছের ক্ষতি হয়। দ্বিতীয় পদ্ধতি ‘টপ ওয়ার্কিং’; এতে বড় গাছের শাখা কেটে সেখানে কাটিমনের কলম জুড়ে দেওয়া হয়।
কাটিমনে বছরে অন্তত দুবার ফলন হয়। দুই বছর বয়সী গ্রাফটিং কলমের গাছে প্রতিবার প্রায় ২০ কেজি করে বছরে ৪০ কেজি আম ধরে। বয়সের সঙ্গে ফলন বাড়ে। প্রতি বিঘায় ১০০টি গাছ রোপণ করলে মোট ফলন হয় প্রায় চার হাজার কেজি। প্রতি কেজি ২০০ টাকা হলে দাম দাঁড়ায় প্রায় আট লাখ টাকা। সব খরচ বাদে পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১২০ টাকা ধরলেও বিঘাপ্রতি আয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। কাটিমন ছাড়া এখন কোনো ফলে এত আয় হয় না। এটাই এর দ্রুত সাফল্যের মূল কারণ।
ক্ষেত্রবিশেষে কাটিমনের গাছ ২০ থেকে ৩০ বছর ভালো ফলন দেয়। বিশেষ পরিচর্যা না করলে ফেব্রুয়ারি-মার্চে স্বাভাবিক মুকুল আসে। বারোমাসি ফলনের জন্য এই মুকুল ভেঙে দিতে হয়। এপ্রিল-মে মাসে আসা মুকুলের ফলন হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে—এখন বাজারে থাকা আম এই ফলন। জুন-জুলাইয়ে আবার মুকুল এলে ফলন হয় অক্টোবর-নভেম্বরে। অক্টোবরের শেষে আসা মুকুলের ফলন হয় ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে। তবে ভালো ফলন ও গাছের স্বাস্থ্যের জন্য চাষিরা পরিকল্পনা করে বছরে দুবার ফলন নেন। সঠিক পরিকল্পনায় সারা বছরই কাটিমন বাজারে পাওয়া সম্ভব।
কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।
পাকা কাটিমনের রং সোনালি হলুদ। তবে রং দেখে বিভ্রান্তি হতে পারে। আমটি সাধারণত পেয়ারার মতো ‘ব্যাগিং’ পদ্ধতিতে বড় করা হয়। সরাসরি সূর্যের আলো না পাওয়ায় কাঁচা অবস্থায়ও অন্য আমের মতো গাঢ় সবুজ হয় না; হলদে আভা থাকে। সুপক্ব আম পুরোপুরি সোনালি হলুদ। ভালো মানের তিনটি কাটিমনে এক কেজি হয়; গড় ওজন ৩৯৬ গ্রাম। বেশি লাভের আশায় ছোট অবস্থায় পেড়ে আনা আমের স্বাদ পানসে হয়। কাটিমনের শাঁস সোনালি হলুদ, আঁটি খুব পাতলা এবং স্বাদ মিষ্টি; তবে আম্রপালির চেয়ে কিছুটা কম। আম্রপালির মিষ্টতা ২৬ ব্রিকস, কাটিমনের ২০ ব্রিকস।
কাটিমনে জলীয় অংশ খুব কম। হাতে নিলে শক্ত মনে হয়। এই দৃঢ়তার কারণে সুপক্ব অবস্থায় কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ ছাড়াই অন্তত ১০ দিন ভালো থাকে। তাই রপ্তানির জন্য অন্য আমের চেয়ে এটি বেশি উপযোগী। উচ্চ মিষ্টতা ও কম জলীয় অংশের কারণে কাটিমন ‘হানি ম্যাঙ্গো’ নামেও পরিচিত।
কাটিমনের বাজার এখন বেশ ভালো। রাজধানীর অভিজাত এলাকার ফলের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লার মোড়, ফুটপাত ও ভ্যানগাড়ি—সবখানেই অন্যান্য মৌসুমি ফলের সঙ্গে এটি বিক্রি হচ্ছে। ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কের ফল বিক্রেতা দেলোয়ার ব্যাপারী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর দোকানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ কেজি কাটিমন বিক্রি হয়। সবচেয়ে ভালো মানের তিনটি আমে এক কেজি হয়; বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। প্রতি কেজিতে চার থেকে ছয়টি ধরে—এমন ছোট আমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। বড় দোকানের বাইরে ভ্যান বা ফুটপাতে ১৬০ টাকা কেজির আমগুলো তুলনামূলক নিম্নমানের—আকারে ছোট ও কম মিষ্টি, তবে টক নয়। কাঁচা কাটিমনও খুব টক নয়।
অনলাইনেও কাটিমন পাওয়া যাচ্ছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক চাষি ও ব্যবসায়ী সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ভালো মানের আম পৌঁছে দিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম উৎপাদক ও ব্যবসায়ী শাহিন আলম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রাজধানীর পাইকারি বাজার ও দেশের বিভিন্ন এলাকার ক্রেতাদের কাছে কাটিমন পাঠান। তাঁর নিজের বাগান রোহনপুরে। নিজের বাগানের পাশাপাশি অন্য বাগানির কাছ থেকেও আম সংগ্রহ করেন। এখন প্রতিদিন প্রায় এক ট্রাক কাটিমন বিক্রি করেন।
কাটিমনের দ্রুত বিস্তার দেখে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, এটি শেষ পর্যন্ত আগ্রাসী প্রজাতি হয়ে উঠবে কি না। মেহেদী মাসুদ বলেন, কাটিমন নিয়ে বলতে গেলে যুদ্ধ হয়েছে। কৃষিবিদদের দূরদর্শী চিন্তার পাশাপাশি নিজস্ব প্রজাতির সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এখন বিশ্বায়নের যুগ, প্রযুক্তিরও বিস্তার ঘটছে। যেখানে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আছে, মানুষ সেটিকে গুরুত্ব দেবে। আজ বা কাল কাটিমনের মতো জাত আসবেই। এর ইতিবাচক গুণগুলো নিয়ে নিজস্ব জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ করে নতুন ভালো জাত উদ্ভাবন করতে হবে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে ‘অশালীন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে শোকজে। গত ৬ সেপ্টেম্বর কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষে অধ্যাপক ড. নিলুফা আহসানের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশের একটি কপি জাগো নিউজের হাতে এসেছে। নোটিশে শিক্ষার্থী সিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে যথাযথ কারণ জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, মো. আব্দুল্লাহ সিফাত (আইডি নং- ৪১০২১০৪৬) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ অনার্স (ব্যবস্থাপনা) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২০২২) শিক্ষার্থী। গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাসার বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতা উল্লেখ করে ফেসবুকের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে সম্বোধন করে অশালীন ভাষায় কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বক্তব্যটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আরও বলা হয়, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি ঐতিহ্যবাহী, স্বনামধন্য ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা-শৃঙ্খলা-নৈতিকতা মূলমন্ত্রের আলোকে শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই কলেজটির মূল লক্ষ্য। কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হলে নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশোভনীয়, অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ ঘটনায় কলেজের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিব্রত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের স্থায়ী পরিচালনা নীতিমালার অধ্যায় ৯-এর অনুচ্ছেদ ৯.৮-এর ক্রমিক ৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় মো. আব্দুল্লাহ সিফাতের বিরুদ্ধে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তার যথাযথ কারণ আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি অবগতির জন্য সেনাসদর, জিএস শাখা (শিক্ষা পরিদপ্তর), সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়া (শিক্ষা শাখা) এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। এএএইচ/ইএ
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে এসে বিক্ষোভ শেষ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘চাকরি তো আগেই রেডি, ভাইভা শুধু ফরমালিটি’ এবং ‘কোটা প্রথা ছেড়ে দে, মেধাবীদের মুক্তি দে’ স্লোগান দেন। পরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তোলেন তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবু সামা বলেন, ‘২০২৪ সালেও আমরা একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশ হবে কোটা ও দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক। কিন্তু সরকারের ভাইভা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, ‘সরকারের একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই এমন সুযোগ তৈরি হতে দেবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও যদি একইভাবে এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি সংকটের দিকে যেতে পারে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।’ কেজে/জেআইএম
‘নটর ডেম আমার স্বপ্ন। এখানে ভর্তির জন্য অনেক কষ্ট করেছি। পরীক্ষা দেবো, তবে ভর্তির সুযোগ পাবো কি না, তা তো জানি না। নটর ডেমে চান্স পেলে হয়তো জীবনটাই বদলে যেতো।’ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসে এভাবেই নিজের অনুভূতির কথা জানান ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী প্লাবন রহমান। এদিন দুপুর ২টা থেকে কলেজটিতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। তবে সকাল থেকেই কলেজের মূল ফটক ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে কলেজের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ফটক বন্ধ থাকায় বাইরে ফুটপাতে অপেক্ষা করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কেউ বই খুলে শেষবারের মতো পড়ায় চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার অভিভাবকের সঙ্গে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলছেন। আরও পড়ুন নটর ডেম কলেজে একাদশে ভর্তি পরীক্ষা শুরু আজ বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ থেকে ছেলে প্লাবন রহমানকে নিয়ে নটর ডেম কলেজে এসেছেন রাজিবুর রহমান। প্লাবন এবার বরিশাল বোর্ড থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে। রাজিবুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, ছেলের নটর ডেম কলেজে পড়ার আগ্রহ রয়েছে। তাই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছে। বুধবার রাতে তারা বরিশাল থেকে লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকালে সদরঘাটে নাস্তা সেরে সরাসরি কলেজে চলে এসেছেন। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থেকে মায়ের সঙ্গে নটর ডেম কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছে আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের। নটর ডেমে পড়ার স্বপ্ন থেকেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে সে। জুবায়ের বলে, ‘আজ খুব নার্ভাস লাগছে। এসএসসি পরীক্ষার সময়ও এত নার্ভাস লাগেনি। নটর ডেম কলেজটা আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এ কলেজে ভর্তির জন্য অনেক কষ্ট করেছি। পরীক্ষাটা ভালো হলে সেই আশা পূরণ হবে।’ এদিকে, কলেজের ফটকে দায়িত্বরত প্রহরীরা জানান, পরীক্ষা শুরুর আধা ঘণ্টা আগে কলেজের মূল ফটক খুলে দেওয়া হবে। শুধু পরীক্ষার্থীদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। অভিভাবকদের বাইরে অবস্থান করতে হবে। কলেজ সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও দুদিনব্যাপী একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের আবেদনকারীদের পরীক্ষা হবে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবেশপত্রে উল্লিখিত সময় অনুযায়ী ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থাকতে হবে। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা ১০ সেপ্টেম্বর এবং বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষা ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে কলেজের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ভর্তি আবেদন নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হওয়া আবেদন ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। তবে নির্ধারিত সময়ে কতসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। ভর্তি পরীক্ষার বিষয় এসএসসির সিলেবাস-২০২৬ অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান শাখা থেকে যারা মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ভর্তির আবেদন করেছে, তাদের বিজ্ঞান শাখার প্রশ্নে এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে যারা মানবিক শাখায় ভর্তির আবেদন করেছে, তাদের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রশ্নে পরীক্ষা দিতে হবে। বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার বিষয় বাংলা, ইংরেজি, উচ্চতর গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান। মানবিক বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি ও সাধারণ জ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান, আইসিটি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষা হবে। আসনসংখ্যা কত বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা মাধ্যমে ১ হাজার ৮১০টি এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৩২০টি আসন রয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৫০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪১০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ৩ হাজার ২৯০টি। এএএইচ/এমকেআর