জাতীয়

উদ্যোক্তা নাকি প্রতারক? ধনকুবের ইলন মাস্ককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যচিত্র

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
উদ্যোক্তা নাকি প্রতারক? ধনকুবের ইলন মাস্ককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যচিত্র
উদ্যোক্তা নাকি প্রতারক? ধনকুবের ইলন মাস্ককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যচিত্র

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ধনকুবের ইলন মাস্ক। তিনি কি সত্যিই একজন দূরদর্শী উদ্যোক্তা, নাকি নিজের তৈরি গল্প ও প্রভাবের মাধ্যমে মানুষকে প্রভাবিত করা প্রতারক এক ‘কনফিডেন্স ম্যান’? এমন প্রশ্নই সামনে এনেছে অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’।

প্রায় চার ঘণ্টার এই তথ্যচিত্রটি ২০২৬ সালের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। এতে ব্যবসা, রাজনীতি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ- বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাস্কের বিপুল প্রভাব এবং তার ব্যক্তিজীবনের নানা দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

তথ্যচিত্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে গিবনি বলেন, তিনি বুঝতে চেয়েছেন ‘মাস্ক আসলে কী খেলা খেলছেন।’

দীর্ঘদিন ধরে মাস্ককে নিয়মভাঙা প্রতিভাবান উদ্যোক্তা হিসেবে দেখা হলেও তার আচরণ, রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন এবং ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা অনেককেই বিভ্রান্ত করেছে।

গিবনির ভাষ্য, মাস্কের গল্প তার আগের কিছু আলোচিত চরিত্রের কথা মনে করিয়ে দেয়। এনরন কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী এবং থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার সঙ্গেও তিনি মাস্কের গল্পের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

নির্মাতার দাবি, মাস্কের অনেক বক্তব্যের মধ্যেই ‘অবাস্তবতার ছাপ’ রয়েছে। তার ভাষায়, মাস্কের গল্প অনেকটা পুরোনো কনফিডেন্স ম্যান বা শেয়ারবাজারে অতিরঞ্জিত প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের গল্পের মতো।

ইলন মাস্কের ‘কাল্ট’
তথ্যচিত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাস্ককে ঘিরে তৈরি হওয়া এক ধরনের ‘কাল্ট’। টেসলার ভক্তদের উচ্ছ্বাস থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা MAGA সমর্থকদের সঙ্গে মাস্কের ঘনিষ্ঠতা। সবই তুলে ধরা হয়েছে এতে।

মাস্কের সিলিকন ভ্যালির শুরুর সময় থেকে শুরু করে স্পেসএক্স ও টেসলার উত্থান এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ডানপন্থি রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে তার সম্পর্ক, সবকিছুরই ধারাবাহিক বিশ্লেষণ রয়েছে তথ্যচিত্রে।

গিবনি মনে করেন, মাস্কের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাস্তববাদী ও স্বার্থনির্ভর দিক রয়েছে। তার দাবি, মাস্কের অনেক বড় বড় প্রতিশ্রুতিই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

তথ্যচিত্রে টেসলার বহুল প্রচারিত অটোপাইলট প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাণহানির ঘটনাগুলোও আলোচনায় এসেছে। একইভাবে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ হিসেবে পরিচিত ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’ বা DOGE-এর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির ফটোসেশনে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ও জো শিফার। - রয়টার্স
ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটির ফটোসেশনে পরিচালক অ্যালেক্স গিবনি, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ও জো শিফার। - রয়টার্স

মাস্ক অবশ্য তথ্যচিত্রটিকে আগে থেকেই ‘হিট পিস’ বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণাত্মক কাজ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এতে অংশ নেওয়ার জন্য গিবনির আহ্বানও গ্রহণ করেননি।

ব্যক্তিজীবনও আলোচনায়
ইলন মাস্কের ব্যক্তিজীবনও বাদ যায়নি এই তথ্যচিত্রে। তার একাধিক সম্পর্ক এবং অন্তত ১৪ সন্তানের বাবা হওয়ার বিষয়টি এতে উঠে এসেছে। মাস্কের প্রথম স্ত্রী জাস্টিনও তথ্যচিত্রে কথা বলেছেন। তার বক্তব্যে মাস্কের ক্রমবর্ধমান সন্তানসংখ্যাকে অনেকটা ‘অ্যাসেম্বলি লাইন’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

মাস্কের সাবেক প্রেমিকা ও তার এক সন্তানের মা অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারও তথ্যচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সম্পর্কের অবসানের পর মাস্কের কাছ থেকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তির প্রস্তাব পেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সেন্ট ক্লেয়ার আরও বলেন, একসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি রাজনীতির প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এখন সেই ভূমিকার জন্য তার অনুশোচনা রয়েছে।

মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ ব্যবহারের সমালোচনাও করেছেন তিনি। তার মতে, মাস্কের বিতর্কিত মন্তব্যগুলো এমন বিভাজনকে উসকে দিচ্ছে, যার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে।

সবশেষে গিবনি বলেন, তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রে ইলন মাস্ক থাকলেও এই গল্পে সমাজের সবাই কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তার মতে, মাস্কসহ প্রযুক্তিখাতের বড় বড় ধনকুবেরকে বিপুল ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ সমাজই তৈরি করে দিয়েছে।

 

এলআইএ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ
আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ

নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য অনেকের অপেক্ষা থাকলেও অ্যাপলের সাম্প্রতিক আয়োজনে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরা। মেগাপিক্সেল বাড়ানো কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর নির্ভরতার বাইরে এবার ক্যামেরায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে অ্যাপল। নতুন পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার, নতুন সেন্সর, উন্নত পেশাদার নিয়ন্ত্রণ, স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ এবং ‘রেফারেন্স’ মোড। এসব সুবিধার কারণে আইফোনের ক্যামেরা এখন পেশাদার আলাদা ক্যামেরার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা। পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের অন্যতম বড় সংযোজন পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার। ছোট আকারের স্মার্টফোন ক্যামেরা সেন্সরে এমন ব্যবস্থা তৈরি করা বেশ জটিল। কারণ অ্যাপারচারের ক্ষুদ্র ব্লেডগুলোকে খুব মসৃণভাবে খোলা ও বন্ধ হতে হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, এ জন্য তারা লেজার দিয়ে কাটা বিশেষ ব্লেড ব্যবহার করেছে। পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারের বড় সুবিধা হলো-স্বয়ংক্রিয় এক্সপোজার ব্যবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যামেরায় কম-বেশি আলো প্রবেশ করানো যাবে, শাটার স্পিড পরিবর্তন না করেই। ফলে কম আলোতে চলমান কোনো বিষয় ধারণ করার সময়ও দ্রুত শাটার স্পিড রাখা সম্ভব হবে। এতে ছবি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে কম আইএসও ব্যবহার করা গেলে ছবি ও ভিডিওতে অতিরিক্ত দানাদার ভাবও কম থাকবে। আরও পড়ুন আইফোনে ১৮ এর সঙ্গে আর কী কী আনলো অ্যাপল পেশাদার ক্যামেরার মতো নিয়ন্ত্রণ আইফোন ১৮ প্রোর নতুন পেশাদার মোডে অ্যাপারচার নিয়ন্ত্রণের সুযোগও দেওয়া হয়েছে। চারটি অ্যাপারচার সেটিং রয়েছে-এফ/১.৪৮, এফ/১.৮, এফ/২.৮ ও এফ/৪.০। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী প্রয়োজন অনুযায়ী ছবির পেছনের অংশ কতটা ঝাপসা হবে, তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। প্রতিকৃতির ক্ষেত্রে বেশি ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার এবং প্রাকৃতিক দৃশ্যের ক্ষেত্রে পুরো দৃশ্যকে ফোকাসে রাখতে অ্যাপারচার পরিবর্তন করা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, সামনে গাড়ি বা মানুষ চলাচল করছে, কিন্তু পেছনের দৃশ্য পরিষ্কার রাখতে হবে-এমন ছবি তুলতে আগে দিনের আলোতে শাটার স্পিড যথেষ্ট কমানো কঠিন ছিল। নতুন অ্যাপারচার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ ধরনের শট নেওয়া সহজ হবে। অ্যাপারচার, আইএসও ও শাটার স্পিডের পাশাপাশি সাদা ভারসাম্যও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি হিস্টোগ্রাম দেখার সুবিধা থাকছে, যা ছবির আলো ও অন্ধকার অংশের মাত্রা বুঝতে পেশাদার আলোকচিত্রীদের কাজে আসবে। তবে স্মার্টফোনে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার একেবারে নতুন নয়। এর আগে স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯-এ দ্বৈত অ্যাপারচার এবং শাওমির কয়েকটি মডেলে আরও উন্নত ধরনের মসৃণ অ্যাপারচার ব্যবস্থার দেখা মিলেছে। স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ ক্যামেরায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো স্থায়ী বিষয়বস্তু অনুসরণ। ভিডিও বা ছবি তোলার সময় ক্যামেরা কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার গতিবিধি অনুসরণ করতে পারবে। এমনকি ভিড়ের মধ্যে ওই ব্যক্তি সাময়িকভাবে অন্য কারো আড়ালে চলে গেলেও ক্যামেরা তাকে শনাক্ত করে আবার অনুসরণ করতে পারবে। পেশাদার ক্যামেরাতেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্ব পেয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে আরও নিয়ন্ত্রণ অ্যাপল ফটোগ্রাফিক স্টাইলস সুবিধায় নতুন টেক্সচার ও দানাদার ভাব নিয়ন্ত্রণের সুযোগ যোগ করেছে। এর ফলে ছবি তোলার পর সেটির চেহারা আরও সূক্ষ্মভাবে পরিবর্তন করা যাবে। ভিডিওর ক্ষেত্রেও নতুন সুবিধা রয়েছে। প্রতি সেকেন্ডে ৬০ ফ্রেম পর্যন্ত ধারণ করা ভিডিওতে শুটিং শেষ হওয়ার পর সিনেমাটিক প্রভাব প্রয়োগ করা যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে ভিডিও প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি কাজে আসতে পারে। আরও পড়ুন অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত? ছবির আসল সংস্করণ যাচাই পেশাদার আলোকচিত্রী ও কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য অ্যাপলের ‘রেফারেন্স ইমেজ’ সুবিধাটিও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন রেফারেন্স মোডে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা থেকে পাওয়া তথ্যের একটি স্বাক্ষরযুক্ত সংস্করণ সংরক্ষণ করা হবে। অ্যাপলের ব্যক্তিগত ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবস্থা সেই তথ্য ব্যবহার করে একটি অপরিবর্তনযোগ্য রেফারেন্স ছবি তৈরি করবে। মূল ছবির পাশাপাশি সেটি ফটোস অ্যাপে দেখা যাবে। ফলে পরে কোনো ছবি পরিবর্তন বা বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা সহজ হবে। বিশেষ করে কোনো আলোকচিত্র অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা পরিবর্তন করা হলে এর মূল সংস্করণের সঙ্গে তুলনা করে বিষয়টি শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। ৪৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে উচ্চ রেজল্যুশনের ক্যামেরাও থাকছে। প্রধান ক্যামেরায় ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, যার সঙ্গে রয়েছে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার। এ ছাড়া ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরায় এফ/২.২ এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন টেলিফটো ক্যামেরায় এফ/২.৮ অ্যাপারচার থাকছে। আইফোন ১৮ প্রোর ক্যামেরা ব্যবস্থায় এবার অ্যাপল শুধু মেগাপিক্সেল বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর জোর না দিয়ে ব্যবহারকারীর হাতে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে স্মার্টফোন দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিজ্ঞতা আরও পেশাদার পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। সূত্র: এনেগ্যাজেট শাহজালাল/কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
এজবাস্টনে প্রথম দিন ২৩ রানের লিড ইংল্যান্ডের

এজবাস্টনে প্রথম দিন ২৩ রানের লিড ইংল্যান্ডের

মেসি–লেভানডফস্কির উত্তাপ টের পেল যুক্তরাষ্ট্র

মেসি–লেভানডফস্কির উত্তাপ টের পেল যুক্তরাষ্ট্র

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

নির্বাচনে রিপাবলিকানরা জিতলে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

আদমজী কলেজ থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন সেই আব্দুল্লাহ সিফাত
আদমজী কলেজ থেকে বহিষ্কার হচ্ছেন সেই আব্দুল্লাহ সিফাত

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকার নিয়ে ‌‘অশালীন’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল্লাহ সিফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাকে কেন কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে শোকজে। গত ৬ সেপ্টেম্বর কলেজের অধ্যক্ষের পক্ষে অধ্যাপক ড. নিলুফা আহসানের সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। নোটিশের একটি কপি জাগো নিউজের হাতে এসেছে। নোটিশে শিক্ষার্থী সিফাতকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে যথাযথ কারণ জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, মো. আব্দুল্লাহ সিফাত (আইডি নং- ৪১০২১০৪৬) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বিবিএ অনার্স (ব্যবস্থাপনা) বিভাগের চতুর্থ বর্ষের (শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২০২২) শিক্ষার্থী। গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের বাসার বিদ্যুৎ বিলের অসামঞ্জস্যতা উল্লেখ করে ফেসবুকের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারকে সম্বোধন করে অশালীন ভাষায় কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বক্তব্যটি ফেসবুক পেজে ভাইরাল হয় বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও পড়ুন বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সরকারকে গালিগালাজ করা সেই সিফাত কারাগারে নোটিশে আরও বলা হয়, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত একটি ঐতিহ্যবাহী, স্বনামধন্য ও সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা-শৃঙ্খলা-নৈতিকতা মূলমন্ত্রের আলোকে শিক্ষার্থীদের দেশের জন্য সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই কলেজটির মূল লক্ষ্য। কোনো শিক্ষার্থী শৃঙ্খলাবিরোধী কাজে জড়িত হলে নীতিমালা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অশোভনীয়, অনভিপ্রেত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ ঘটনায় কলেজের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিব্রত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের স্থায়ী পরিচালনা নীতিমালার অধ্যায় ৯-এর অনুচ্ছেদ ৯.৮-এর ক্রমিক ৮-এর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে আপত্তিকর মন্তব্য করলে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। আরও পড়ুন ১৮ কোটি মানুষ সিফাত হয়ে গর্জন করবে: জামায়াত আমির এ অবস্থায় মো. আব্দুল্লাহ সিফাতের বিরুদ্ধে উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার অথবা ছাড়পত্র দেওয়া হবে না, তার যথাযথ কারণ আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে। নোটিশের অনুলিপি অবগতির জন্য সেনাসদর, জিএস শাখা (শিক্ষা পরিদপ্তর), সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়া (শিক্ষা শাখা) এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির কাছে পাঠানো হয়েছে। এএএইচ/ইএ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
৯/১১ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ইরানে আটকে গেছেন ট্রাম্প?

৯/১১ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ইরানে আটকে গেছেন ট্রাম্প?

বাবাকে হত্যাচেষ্টা, ছেলে গ্রেফতার

বাবাকে হত্যাচেষ্টা, ছেলে গ্রেফতার

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর

হংকংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বহুমুখী রপ্তানিতে জোর

চাকরির ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ
চাকরির ভাইভা নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভা (মৌখিক) পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকের সামনে এসে বিক্ষোভ শেষ করেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘কোটা গেছে যে পথে, ভাইভা যাবে সে পথে’, ‘চাকরি তো আগেই রেডি, ভাইভা শুধু ফরমালিটি’ এবং ‘কোটা প্রথা ছেড়ে দে, মেধাবীদের মুক্তি দে’ স্লোগান দেন। পরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত এবং প্রার্থীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি তোলেন তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবু সামা বলেন, ‘২০২৪ সালেও আমরা একই দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলাম। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশ হবে কোটা ও দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক। কিন্তু সরকারের ভাইভা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে সেই প্রত্যাশা ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, ‘সরকারের একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ছাত্রসমাজ কোনোভাবেই এমন সুযোগ তৈরি হতে দেবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারকে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও যদি একইভাবে এগোয়, তাহলে পরিস্থিতি সংকটের দিকে যেতে পারে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।’ কেজে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
শহরের নারীর পানি পানেও ভয়, টয়লেট কোথায়?

শহরের নারীর পানি পানেও ভয়, টয়লেট কোথায়?

‘এখন অবসর নিতে ইচ্ছে করছে’, কেন বললেন অমিতাভ?

‘এখন অবসর নিতে ইচ্ছে করছে’, কেন বললেন অমিতাভ?

এবার মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর ভবনে আগুন

এবার মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর ভবনে আগুন

0 Comments