জাতীয়

৯/১১ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ইরানে আটকে গেছেন ট্রাম্প?

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
৯/১১ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ইরানে আটকে গেছেন ট্রাম্প?
৯/১১ থেকে শিক্ষা না নিয়ে ইরানে আটকে গেছেন ট্রাম্প?

দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তার প্রতিশ্রুতি ছিল, বিদেশে নতুন যুদ্ধ শুরু না করে চলমান যুদ্ধগুলো বন্ধ করবেন।

কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পর, ট্রাম্প নিজেই এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যা বিশ্লেষকদের চোখে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কি অতীতের যুদ্ধগুলোর শিক্ষা আবারও উপেক্ষা করছে এবং এই সংঘাত থেকে বের হওয়ার কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা আছে কি না।

ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির বিশ্লেষক সিনা তুসি বলেন, ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে ট্রাম্প ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর ওয়াশিংটনে তৈরি হওয়া ‘আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু না করার’ সীমাবদ্ধতা ভেঙেছেন। এর ফলে ভবিষ্যতে তার উত্তরসূরিকে আরও গভীর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের বোঝা বহন করতে হতে পারে।

ইরাক-আফগানিস্তানের সঙ্গে পার্থক্য

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বর্তমান যুদ্ধ ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ নয়।

ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শত্রু সরকার উৎখাত করেছিল, হাজার হাজার স্থলসেনা মোতায়েন করেছিল এবং বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে রেখে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল। এসব যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং পশ্চিমা ধাঁচের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও দীর্ঘমেয়াদে সফল হয়নি।

ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিমান ও নৌ শক্তির ওপর নির্ভর করছে। এসব হামলায় ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির সরকার এখনো পরাজিত হয়নি। একইভাবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আহ্বান সত্ত্বেও ইরানের জনগণ সরকার উৎখাতে বড় ধরনের আন্দোলনে নামেনি।

ছয় মাসের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেকটা ক্ষয়যুদ্ধের মধ্যে আটকে পড়েছে। মাঝেমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা তীব্র হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে তেলবাহী জাহাজ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা তারই উদাহরণ। পাশাপাশি তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও এই যুদ্ধ চলতে পারে। যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সম্ভাবনাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

তেলের দাম ও অর্থনৈতিক চাপ

যুদ্ধের কোনো স্পষ্ট সমাপ্তির পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের অবস্থানও দুর্বল হয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের সময়ও যুক্তরাষ্ট্রকে এমন আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি অবশ্য ট্রাম্পের অবস্থানের পক্ষে কথা বলেছেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ‘সাহস’ একমাত্র ট্রাম্পই দেখিয়েছেন। তার মতে, ট্রাম্প তার সব লক্ষ্য অর্জন করেছেন এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

অতীতের শিক্ষা কি উপেক্ষিত?

বিশ্লেষকদের মতে, ৯/১১-পরবর্তী যুদ্ধগুলোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ট্রাম্প প্রশাসন যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেনি।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার হামলায় নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। এরপর আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। দুই বছর পর ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে হামলা চালানো হয়। সে সময় দাবি করা হয়েছিল, ইরাক ব্যাপক ধ্বংসাত্মক অস্ত্র তৈরি করছে। পরে সেই তথ্য সঠিক ছিল না বলে প্রমাণিত হয়।

দুই যুদ্ধই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা আরও দুর্বল করে। দীর্ঘ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষই একসময় ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্থানের অন্যতম পটভূমি তৈরি করে।

২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রাম্প সামরিক অভিযানে জড়ানোর বদলে আমেরিকানদের অর্থনৈতিক সমস্যার দিকে মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরোধের ক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনও ভুল হিসাব করেছে। বিশেষ করে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মিত্রদের নিয়েও প্রশ্ন

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে কতটা আন্তর্জাতিক সমর্থন রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে ইরাক ও আফগানিস্তানে অভিযান শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সেই সমর্থন কমে গেলেও শুরুতে মিত্রদের বড় অংশ ওয়াশিংটনের পাশে ছিল।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর আগে ট্রাম্প খুব বেশি মিত্র দেশের সঙ্গে আলোচনা করেননি বলে বিশ্লেষকদের দাবি। ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার আহ্বানে সাড়া দিতে অনাগ্রহী।

গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি, ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন, ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ কমানো এবং বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপের মতো বিষয়গুলোও এর আগে মিত্রদের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পর্কে চাপ তৈরি করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত

ইরাক যুদ্ধের মতোই ইরান যুদ্ধের প্রভাবও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা এমন একটি সংঘাত থেকে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছেন, যা তারা নিজেরা চাননি। একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের প্রকৃত কৌশল কী ছিল।

সৌদি বিশ্লেষক আজিজ আলগাশিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কারণে শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধতা ও অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

দ্রুত জয়ের আশা থেকে দীর্ঘ অচলাবস্থা

ট্রাম্প শুরুতে আশা করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা ৩ জানুয়ারির অভিযানের মতো দ্রুত ইরানেও জয় পাওয়া যাবে।

কিন্তু বাস্তবে ইরান অভিযান দীর্ঘ ও অনিশ্চিত সংঘাতে পরিণত হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাসহ ট্রাম্পের পরিবর্তিত বিভিন্ন লক্ষ্য এখনো পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে গেছে।

তবে সবাই যে ট্রাম্পের ইরান নীতির সমালোচক, তা নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইরানবিরোধী থিংকট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিজের প্রধান মার্ক ডুবোভিৎস মনে করেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধে’ ঠেলে দেননি। তার দাবি, ট্রাম্প এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় আসবে।

তার ভাষায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র গত ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা আঘাত করেছে।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বলছে, ট্রাম্পের প্রতিশ্রুত ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হওয়ার পথটি এখন ইরান যুদ্ধের কারণে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে শেষ হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এর থেকে বেরিয়ে আসবে।

সূত্র: রয়টার্স

এমএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
১১ বারের হাজী, ১২তম হজটা করে যেতে পারেননি এটিএম শামসুজ্জামান
১১ বারের হাজী, ১২তম হজটা করে যেতে পারেননি এটিএম শামসুজ্জামান

প্রয়াত অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে নিজেকে অভিনয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আমৃত্যু ছিলেন অভিনয়ের সঙ্গেই। দীর্ঘ দিনের কর্মজীবনে স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। শিল্পকলায় অবদানের জন্য পেয়েছেন একুশে পদকও। আরও পড়ুন নোয়াখালীর সেই ছেলেটি যেভাবে এটিএম শামসুজ্জামান হয়ে ‍উঠলেন তবে অভিনয়জীবনের বাইরেও ধর্মের প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। জীবনে ১১ বার হজ করেছিলেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই তিনি বলেছিলেন, ‘১১ বার হজ করেছি।’ পাশাপাশি আরও একবার হজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। সেটা আর হলো না। তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মক্কা ও মদিনার প্রতিও এটিএম শামসুজ্জামানের ছিল বিশেষ ভালোবাসা। জানা যায়, নিজের কক্ষেও মক্কার একটি বড় ছবি টানিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এটিএম শামসুজ্জামান জীবনের শেষ দিকে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০১৯ সালে শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘদিন হাসপাতালে ছিলেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সূত্রাপুরের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আরও পড়ুন নব্বইয়ের দশকে যেসব সিনেমার গান ঝড় তুলেছিল আজ ১০ সেপ্টেম্বর এই গুণি অভিনেতার জন্মদিন। ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। তিনিই সবার কাছে এটিএম শামসুজ্জামান নামে পরিচিত।   এলআইএ

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনের ভোট ২৯ অক্টোবর

মির্জা ফখরুলের আসনে উপনির্বাচনের ভোট ২৯ অক্টোবর

চার মেয়ের পর জন্মেছিল এক ছেলে, তাঁর মৃত্যুর খবরে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা

চার মেয়ের পর জন্মেছিল এক ছেলে, তাঁর মৃত্যুর খবরে বারবার সংজ্ঞা হারাচ্ছেন মা

খ্যাঁকশিয়াল কেবল ‘মুরগিচোর’ নয়, প্রকৃতি-কৃষির রক্ষকও

খ্যাঁকশিয়াল কেবল ‘মুরগিচোর’ নয়, প্রকৃতি-কৃষির রক্ষকও

গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেফতার ৫
গেন্ডারিয়ায় মাদক নিয়ে গোলাগুলি, গ্রেফতার ৫

  রাজধানীর গেন্ডারিয়া স্বামীবাগ করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে এক নারীসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের লুট হওয়া গোলাবারুদসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১০। র‍্যাব বলছে, ‌‘আমাদের মেসেজ একটাই—যে কোনো অপরাধী অপরাধ করে যেন পার না পায়।’ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহা. আসাদুজ্জামান। মোহা. আসাদুজ্জামান বলেন, গত ৩০ আগস্ট রাজধানীর গেন্ডারিয়া থানার করাতীটোলা এলাকায় মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় এক নারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে আশা আক্তার (২০) ও সিয়াম (১৮) সাধারণ পথচারী এবং আলমগীর (৩৩) চা-দোকানি ছিলেন। অধিনায়ক বলেন, গোলাগুলির সময় আশা আক্তারের ডান পায়ে, সিয়ামের বুকের বাম পাশে এবং আলমগীরের মাথায় গুলি লাগে। আহত আলমগীর হোসেন রাসেল ও সিয়াম হোসেন রুবেলের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং বর্তমানে তারা সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। তবে আয়েশা আক্তারও বর্তমানে সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছেন কিন্তু তার পায়ে থাকা গুলিটি এখনো অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। আরও পড়ুন শেখ সেলিমের ‘নেতৃত্ব’ ইস্যুতে আওয়ামী লীগে কি নতুন বিরোধ? তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই র‍্যাব-১০ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোলাগুলির ঘটনায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গেন্ডারিয়া থানাধীন মুন্সিরটেক এলাকা থেকে মোহাম্মদ জিসান (১৯) ও মোহাম্মদ রমজান (১৯)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে গত ৮ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ শাহীনকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়। পৃথক অভিযানের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, গতকাল (৯ সেপ্টেম্বর) শাবাব হোসেন শৈকত (২৯) এবং মোহাম্মদ মাহিমকে (১৮) গ্রেফতার করা হয়। শাবাব হোসেন শৈকতকে গ্রেফতারের অভিযানে তার কাছ থেকে ১২ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩টি ম্যাগাজিনসহ ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩ লাখ ১৩ হাজার মূল্যমানের ৪২০ পিস ইয়াবা, ৪০০ পুরিয়া হেরোইন ও ৯০০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার শাবাব হোসেন শৈকত যাত্রাবাড়ী থানার তিনটি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি বলেও জানান তিনি। অতিরিক্ত ডিআইজি বলেন, উদ্ধার করা ১২ রাউন্ড গুলি এবং তিনটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি ম্যাগাজিন ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্রের ম্যাগাজিন ও গোলাবারুদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় র‍্যাব পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক এবং পুলিশের লুণ্ঠিত গোলাবারুদের উৎস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় ডিবি বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং ডিবি দাবি করেছে, সেখানে মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই ঘটনাটা ঘটেছিল। আপনাদের তদন্তে আসলে ফাইন্ডিংটা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে এটাই সঠিক কথা। এখানে আধিপত্যর একটা বিষয় ছিল। আমি প্রথমেই বলেছি—মনির এবং অটো সজলের গ্রুপ ছিল। সেখানে তাদের উভয় গ্রুপের মধ্যেই এটা প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটে এবং সেখানে যখন ওপেন গুলি শুরু হয়, তখন রাস্তায় তিনজন সরাসরি গুলিবিদ্ধ হয়। আমাদের মেসেজ একটাই—যে কোনো অপরাধী অপরাধ করে যেন পার না পায়। অপরাধীকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা আমাদের প্রাইম রেসপন্সিবিলিটি। সেই আলোকেই আমরা ডন টু ডাস্ক আমাদের এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এই ধরনের কিশোর গ্যাং, মাদক কিংবা অস্ত্রের যে ঝনঝনানি—সেগুলো আমরা সমূলে উৎপাটন করব। কেআর/এমআরএম

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
অটোতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু, বাঁচাতে গিয়ে আহত মেয়ে

অটোতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে চালকের মৃত্যু, বাঁচাতে গিয়ে আহত মেয়ে

এবার ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ গ্রেফতার

এবার ছাত্র আন্দোলনে হত্যা মামলায় সাবেক ভিসি কলিমউল্লাহ গ্রেফতার

দুই ঘণ্টা পর এপেক্স শোরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে

দুই ঘণ্টা পর এপেক্স শোরুমের আগুন নিয়ন্ত্রণে

লেওয়ানডস্কির গোল ও মেসির অ্যাসিস্ট, মিয়ামি-শিকাগো ড্র
লেওয়ানডস্কির গোল ও মেসির অ্যাসিস্ট, মিয়ামি-শিকাগো ড্র

মেজর লিগ সকারে ১-১ গোলে ড্র হয়েছে ইন্টার মিয়ামি ও শিকাগো ফায়ারের ম্যাচ। রবার্ট লেওয়ানডস্কির গোলে শিকাগো এগিয়ে যাওয়ার পর লিওনেল মেসির দুর্দান্ত অ্যাসিস্ট থেকে কাসেমিরোর গোলে সমতা ফেয়ায় মিয়ামি। ম্যাচের শুরুটা কঠিন ছিল ইন্টার মিয়ামির জন্য। প্রথমার্ধের ১০ মিনিটেই লেওয়ানডস্কি গোল করে এগিয়ে নেয় শিকাগোকে। অ্যান্ড্রু গাটম্যানের নিখুঁত ক্রস থেকে পাওয়া বলে গোলটি করেন সাবেক বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। দূরের পোস্টে প্রায় অরক্ষিত অবস্থায় ছিলেন তিনি। এরপর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মিয়ামি। একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে প্রতিপক্ষের দুর্গে। তবে সেসব আক্রমণে নায়ক বনে যান শিকাগো ফায়ারের গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার ব্র্যাডি। ম্যাচে মিয়ামি সমতা ফেরায় দ্বিতীয়ার্ধে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে। অসাধারণ সেই কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেডে জালে জড়ান কাসেমিরো। ম্যাচের স্কোর হয় ১-১। এই অ্যাসিস্টের মধ্য দিয়ে মেসির ক্যারিয়ারের অ্যাসিস্ট সংখ্যা এখন ৪২৩। ম্যাচের শেষ দিকে রবার্ট লেওয়ানডস্কি ও রদ্রিগো ডি পলের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার সতীর্থ ইয়ান ফ্রের পক্ষ নিয়ে লেওয়ানডস্কির সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এই ড্রয়ের ফলে ইস্টার্ন কনফারেন্সে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানেই আছে ইন্টার মিয়ামি। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ন্যাশভিলের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে খেলবে তারা। অন্যদিকে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে শিকাগো ফায়ার। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনের মুখোমুখি হবে তারা। আইএন

News সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ 0
বরিশালে পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর মৃত্যু, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ স্বামীর

বরিশালে পুলিশ হেফাজতে গৃহবধূর মৃত্যু, নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ স্বামীর

মহাখালীতে বহুতল ভবনে আগুন

মহাখালীতে বহুতল ভবনে আগুন

সবুজ মাঠে লেখা হচ্ছে সোনালি ভবিষ্যৎ

সবুজ মাঠে লেখা হচ্ছে সোনালি ভবিষ্যৎ

0 Comments