জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন গবেষক ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd/admissions) প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।
অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে। আবেদন করা যাবে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, প্রতিটি বিষয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ৫ জন এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে ৫ জন গবেষককে ফেলোশিপ দেওয়া হবে। পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রার্থী না থাকলে পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের সংখ্যা এমফিল প্রোগ্রামের সঙ্গে এবং এমফিল প্রোগ্রামে প্রার্থী না থাকলে এমফিল প্রোগ্রামের জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের সংখ্যা পিএইচডি প্রোগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ও সমন্বিত হবে। এমফিল প্রোগ্রামে মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে মাসিক ২০ হাজার টাকা হারে ফেলোশিপ দেওয়া হবে।
এমফিল প্রোগ্রামে প্রাথমিক আবেদন ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা। পিএইচডি প্রোগ্রামে প্রাথমিক আবেদন ফি ২ হাজার টাকা।
আবেদন সম্পন্ন করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে অথবা পে স্লিপ ডাউনলোড করে প্রাথমিক আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীকে অনলাইন থেকে প্রাথমিক আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি ১১ অক্টোবরের মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অনলাইনে আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রতিটি প্রোগ্রামে ৫ জনকে ফেলোশিপ দেওয়া হবে

বাংলাদেশের সমাজ চাহিদা ও উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতিরাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা বাণিজ্য উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জসমূহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা কর্মকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এমফিলে ভর্তির যোগ্যতা
* এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় ন্যূনতম দ্বিতীয় বিভাগ/জিপিএ ২.৭৫-সহ স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.৫০ থাকতে হবে।
অথবা
* ৩ বছর মেয়াদি স্নাতক (পাস)-সহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে উভয় পরীক্ষায় পৃথকভাবে ন্যূনতম ৫৫ শতাংশ বা সিজিপিএ ২.৭৫ থাকতে হবে। তবে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ নম্বর বা সিজিপিএ ২.৫০ প্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন।
পিএইচডি ভর্তির যোগ্যতা
* জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অথবা বাংলাদেশের অন্য যেকোনো পাবলিক ও প্রাইভেট (ইউজিসি অনুমোদিত) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল/সমমান ডিগ্রি অথবা বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ প্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী এবং স্বীকৃতমানের জার্নালে ন্যূনতম ১টি গবেষণামূলক প্রকাশনা।
অথবা
* জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস অ্যাডভান্সড এমবিএ ও এমএসএস ডিগ্রিপ্রাপ্তদের মধ্যে যাঁদের সিজিপিএ ৩.০০ এবং স্বীকৃত জার্নালে ন্যূনতম একটি প্রকাশনা রয়েছে, তাঁরা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
অথবা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের অন্য যেকোনো পাবলিক ও প্রাইভেট (ইউজিসি অনুমোদিত) বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষক, যাঁদের শিক্ষাজীবনে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ ন্যূনতম ৩টি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি বা সিজিপিএ ৩.০০ এবং ৩ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাসহ দেশি-বিদেশি স্বীকৃতমানের জার্নালে ন্যূনতম ১টি গবেষণামূলক প্রকাশনা রয়েছে (এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে প্রবন্ধের মূল লেখক বা First Author হতে হবে) তাঁরা সরাসরি পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
* বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে যেকোনো ১টিসহ ন্যূনতম ২টি প্রথম বিভাগ/শ্রেণি থাকতে হবে।
* সমমানের পরীক্ষায় পাস করা বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নির্ধারিত নিয়মকানুন ও শর্ত অনুযায়ী পূর্ণকালীন গবেষক হিসেবে এমফিল/পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন।
ভর্তির শর্তাবলি
ভর্তি–ইচ্ছুক গবেষকদের অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তির জন্য চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।
উল্লেখ্য, অনলাইনে আবেদনের সময় আবেদনকারীকে যথোপযুক্ত শিরোনাম নির্ধারণসহ সুনির্দিষ্ট গবেষণা পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক ২০০০ শব্দের মধ্যে গবেষণা প্রস্তাবনা এবং প্রস্তাবিত তত্ত্বাবধায়কের নামসহ আবেদন করতে হবে। উক্ত গবেষণা প্রস্তাবনার ওপর মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রোগ্রামের মেয়াদ
ক) এমফিল প্রোগ্রামের মেয়াদ এক বছরের কোর্সওয়ার্কসহ দুই বছর এবং পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ তিন বছর।
খ) এমফিল প্রোগ্রামে ১টি এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে ২টি সেমিনার প্রদান করতে হবে।
গ) পিএইচডি প্রোগ্রামে যাঁরা সরাসরি ভর্তির জন্য মনোনীত হবেন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের এমফিল গবেষকগণের সঙ্গে কোর্সওয়ার্ক সম্পন্ন করতে হবে।
অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন ফরম পূরণ ও পে স্লিপ ডাউনলোড—
ক. আবেদনকারীকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিবিষয়ক ওয়েবসাইটে (www.nu.ac.bd/admissions) Master's Tab এ গিয়ে Apply Now (MPhil/PhD) অপশনে ক্লিক করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত তথ্য ছকে সংশ্লিষ্ট স্নাতক (পাস)/স্নাতক (সম্মান)/স্নাতকোত্তর পরীক্ষার রোল নম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, পাসের সন, ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল সঠিকভাবে এন্ট্রি দিতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা (লিখিত এবং মৌখিক) বিষয়ে করণীয়
ক. এমফিল ও পিএইচডি ভর্তির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে।
খ. আবেদনকারীকে মৌখিক পরীক্ষার সময় গবেষণা প্রস্তাবনা, সব পরীক্ষার সনদ ও নম্বরপত্রের কপি, সোনালি সেবার মাধ্যমে আবেদন ফি জমা রশিদের মূলকপি ও প্রাথমিক আবেদন ফরমের কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
গ. ভর্তির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ফ্যাকাল্টি চেয়ারম্যানের দপ্তরে মূল সনদ ও নম্বরপত্র প্রদর্শন করতে হবে। উল্লেখ্য যে ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মেধাতালিকায় স্থানপ্রাপ্ত হয়ে ভর্তি হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।
লিখিত, মৌখিক পরীক্ষার তারিখ ও স্থান পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তির যেকোনো শর্ত বাতিল বা পরিবর্তনের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, অনলাইন আবেদন ফরম ও ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট http://www.nu.ac.bd/admissions -এ পাওয়া যাবে।
* আরও সব তথ্য জানতে এখানে ক্লিক করুন
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গ্যাস সংকটের কারণে দুর্ভোগ কমছে না রাজধানীর সিএনজি চালকদের। দিনের পর দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ অপেক্ষায় নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা, কমে যাচ্ছে দৈনিক আয়। অনেক চালককে গ্যাসের জন্য দিনের একটি বড় সময় স্টেশনে কাটাতে হওয়ায় নির্ধারিত দৈনিক জমার টাকা পরিশোধ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশন ঘুরে এচিত্র দেখা গেছে। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দেখা গেছে, গ্যাস নিতে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। কোথাও গ্যাসের চাপ কম থাকায় ধীরগতিতে গাড়িতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে একটি গাড়ির পেছনে অপেক্ষমাণ অন্য গাড়িগুলোকেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আরও পড়ুন কারিগরি ত্রুটিতে আদানির এক ইউনিট বন্ধ, বাড়ছে লোডশেডিং চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে যে সময়টুকু রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আয় করার কথা, তার একটি বড় অংশ এখন গ্যাস সংগ্রহ করতেই চলে যাচ্ছে। অনেক চালককে দিনে দুই দফায় গ্যাস নিতে হয়। একবার গ্যাস নেওয়ার পর কিছুক্ষণ গাড়ি চালিয়ে আবার গ্যাসের জন্য স্টেশনে ফিরতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রী পরিবহনের সময় কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে জ্বালানি সংগ্রহের ভোগান্তি। মগবাজার এলাকার সিএনজি চালক ইমরুল জানান, গ্যাসের জন্য প্রতিদিন তুন থেক চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও অনেক সময় কম পরিমাণে গ্যাস পাওয়া যায়। এতে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পরও বেশি সময় চালানো সম্ভব হয় না। অথচ গাড়ির মালিককে প্রতিদিন নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হয়। আরেক চালক মহসিন বলেন, প্রতিদিন গাড়ির মালিককে ১ হাজার ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। গ্যাস নিতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কম চাপের কারণে কখনো কখনো ১০০ থেকে ১২০ টাকার বেশি গ্যাসও নিতে পারেন না। মাঝে মধ্যে এর চাইতে কম টাকার গ্যাস নিতে যায়। তিন চার ঘণ্টা চালিয়ে আবার স্টেশনে আসতে হয়। আমাদের আয় কমে গেছে। সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গেছে। আরও পড়ুন সংসদে রুমিন ফারহানা / বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না চালকরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের আয় কমলেও সংসারের খরচ কমেনি। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থেকে তাদের মুক্তি মিলবে না। দ্রুত গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ স্বাভাবিক করে সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি কমানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। এনএস/এমকেআর
রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ময়লার বিলের রসিদ আসে ১২০ টাকার। কিন্তু তাঁকে আরও ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়। এই অতিরিক্ত টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না।একই এলাকার আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকায় আরও বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করলেন স্থানীয় বাসিন্দা আরভীন সোনিয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বিল দিতে হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়াও হয় না। দু–তিন মাস ধরে দুই বা তিন দিন পরপর ময়লা নিতে আসছেন কর্মীরা।বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহে মাসে ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে বিভিন্ন এলাকায় এ সিদ্ধান্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।মো. আবদুস সালাম, প্রশাসক, ডিএসসিসি১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কোথাও রসিদে নির্ধারিত অঙ্কের কাছাকাছি টাকা লেখা থাকছে। কিন্তু এর বাইরে হাতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি টাকা। আবার কোথাও বেশি টাকা নিয়েও নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। এতে ময়লা জমে থাকা, দুর্গন্ধ ছড়ানোসহ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত টাকার বেশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ডিএসসিসির কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ময়লা সংগ্রহের বাণিজ্য নিয়ে গত মে মাসে প্রথম আলোয় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ‘ময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের কষ্টের কাজটি করেন নিম্ন আয়ের কর্মীরা; কিন্তু আদায় করা টাকার বড় অংশ তাঁদের হাতে যায় না, যায় নিয়ন্ত্রণকারীদের পকেটে। এই খাতের নিয়ন্ত্রণকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ও স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী।বেশি টাকার নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসার পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসে ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারদের সতর্ক করেন। তিনি বলেছিলেন, বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় করা হলে প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন না নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি।নগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না। ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা বাণিজ্য চলতেই থাকবে।গত ৪ জুন ডিএসসিসির সচিবের সই করা এক অফিস আদেশে ১০টি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের (পিসিএসপি) কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়।আদেশে বলা হয়, পিসিএসপিগুলো প্রতিদিন বর্জ্য সংগ্রহ করছে কি না, বাসাবাড়ি থেকে ১০০ টাকার বেশি ফি নেওয়া হচ্ছে কি না, সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করতে হবে। সার্বিক বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বরাবর সাত দিন পরপর প্রতিবেদন দিতে হবে।১০০ টাকার বেশি বর্জ্য ফি আদায় হচ্ছে কি না, দেখবে তদারকি কমিটিকিন্তু তিন মাস পরও এই আদেশের প্রভাব মাঠপর্যায়ে তেমন দেখা যাচ্ছে না। ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সাত দিন অন্তর প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও তা নিয়মিত জমা পড়ছে না। ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না, কোন ওয়ার্ডে কোন প্রতিষ্ঠান শর্ত ভাঙছে—এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি হয়নি।আদিল মুহাম্মদ খান, নগর–পরিকল্পনাবিদরসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–১–এর আওতায়। এ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন। তদারকি ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনার বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঢাকা উত্তরে চাঁদা নেওয়ার লোক পাল্টেছে, ‘অদৃশ্য শক্তির’ বাধাও আছেডিএসসিসির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় থাকলে অনিয়ম ধরা কঠিন। অনেকে রসিদের বাইরে টাকা নিচ্ছেন। এ হিসাব কাগজে থাকছে না। আবার অভিযোগ করলে ময়লা নেওয়াই বন্ধ হয়ে যায় কি না, এ আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।পুরান ঢাকার কায়েতটুলী এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের এলাকায় প্রতিটি বাসা থেকে মাসে ১৫০ টাকা করে ময়লার বিল নেওয়া হয়। কিন্তু সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন ময়লা নিতে আসে। নিয়মিত ময়লা না নেওয়ায় এ মাস থেকে তাঁরা নিজেরাই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে রেখে আসছেন।ডিএসসিসির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, তাঁদের ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে মাসে ২০০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়।ক্ষমতার ‘আশীর্বাদে’ চলে ময়লা–বাণিজ্যঅবশ্য সব জায়গার চিত্র একই নয়। ডিএসসিসির ৭১ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগে তাঁদের কাছ থেকে ১২০ টাকা করে নেওয়া হতো। গত পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্ধারিত ফি যে কার্যকর করা যায়, তেমন নজিরও আছে।ঢাকা সিটির বাসাবাড়ি থেকে ভ্যানে ময়লা নেওয়ার ফি আদায় বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে রিটতবে মীর হাজীরবাগের বাসিন্দা আরভীন সোনিয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন। তিনি বলেন, তাঁর বাসা থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। আবার প্রতিদিন ময়লা নেওয়া হচ্ছে না।মীর হাজীরবাগসহ যাত্রাবাড়ী এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল–৫–এর মধ্যে পড়েছে। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের কাছে এমন কোনো অভিযোগ আসেনি। ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে। সবকিছু সার্বিক তদারকির মধ্যে আছে। অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।ময়লা–বাণিজ্যে আ.লীগের দেখানো ‘বনানী মডেল’ বহালনগর–পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম, ময়লা–বাণিজ্য বন্ধ হবে না; ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর, অনিয়মে নেওয়া ব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ময়লা–বাণিজ্য চলতেই থাকবে।জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল–পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ও নগর–পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘রসিদের বাইরে টাকা নেওয়া সেবা নয়, চাঁদাবাজি। ১০০ টাকার বেশি নেওয়ার পরও কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তাঁরা অনিয়ম ঠেকাচ্ছেন না; বরং অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও নিতে হবে।’১০০ টাকার বেশি বিল নিলে, নিয়মিত ময়লা না সরালে লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসকময়লা টানেন তাঁরা, পকেট ভরেন নেতারা
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলনে অন্তত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভুর চিমপুন্ডা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুটি স্কুলে স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে একটি বসতিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুরাহা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘ পরিচালিত সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও ওকাপি জানিয়েছে, স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের একটি বসতিও আগুনে পুড়ে যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। বের হওয়ার সময় পদদলন আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে শিক্ষার্থীরা স্কুল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এ সময় ভয়াবহ পদদলনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। কেউ কেউ বের হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করেন। অনেকে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন। এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মুখপাত্র লরেন্স কানিউকা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলে রয়েছে। অন্য কয়েকজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত ২৯ জন, কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর স্থানীয় একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীকে তার ক্লিনিকে আনা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষকও ছিলেন। অনেকেই ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। কয়েকজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। কানিউকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৯ জনকে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। গুরুতর আহত ১৭ জন কাদুতু জেনারেল হাসপাতালে এবং চারজন বুকাভু প্রভিন্সিয়াল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুড়ে গেছে শত শত কাঠের ঘর আগুনে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের প্রায় ৩০০টি কাঠের ঘর পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কিভু প্রদেশের উপগভর্নর দুনিয়া মাসুমবুকো বুয়েঙ্গে। আল জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতেও বেশ কয়েকটি কাঠের ঘর পুড়ে যেতে দেখা গেছে। পরে আগুন দুটি স্কুলের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণ এখনো অজানা অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এএফসি/এম২৩। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে শান্ত ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুকাভুতে আগেও অগ্নিকাণ্ড বুকাভুতে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আরও কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার একটি আগুনে ৪৫টির বেশি ঘর পুড়ে যায়। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের অগ্নিকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে বুকাভু ডিআর কঙ্গোর দক্ষিণ কিভু প্রদেশের রাজধানী বুকাভু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুয়ান্ডার সমর্থনপুষ্ট এএফসি/এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ দেশটির পূর্বাঞ্চলের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা দখলের লক্ষ্যে গোষ্ঠীটি সামরিক অভিযান জোরদার করার পর শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সূত্র: আল জাজিরা এমআরএইস/এমএসএম