জাতীয়

খালি পায়ে রোম জয়, যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন আবেবে বিকিলা

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
খালি পায়ে রোম জয়, যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন আবেবে বিকিলা
খালি পায়ে রোম জয়, যেভাবে ইতিহাস গড়েছিলেন আবেবে বিকিলা

রোম শহরে তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে। রাস্তার পাশে মশাল হাতে দাঁড়িয়ে আছেন ইতালীয় সেনারা। সেই মশালের আলোয় ছুটছেন ম্যারাথনের দৌড়বিদেরা। ৪২ কিলোমিটারের বেশি পথ পেরিয়ে দৌড় তখন শেষের দিকে। সবার সামনে দুই আফ্রিকান। একজন ইথিওপিয়ার আবেবে বিকিলা। অন্যজন মরক্কোর রাদি বেন আবদেসসালাম।

দুজনের মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। দীর্ঘ পথ প্রায় পাশাপাশি দৌড়েছেন। কেউ কাউকে ছাড়তে পারেননি। ফিনিশিং লাইন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে এসে হঠাৎ গতি বাড়ালেন বিকিলা। রাদি চেষ্টা করলেন তাঁর সঙ্গে থাকার। পারলেন না। একটু একটু করে ব্যবধান বাড়তে শুরু করল।

বিকিলা ছুটতে থাকলেন রোমের ঐতিহাসিক আর্চ অব কনস্টানটাইনের দিকে। তাঁর পায়ে কোনো জুতা নেই। কিছুক্ষণ পর ফিনিশিং লাইন পার করলেন তিনি। সময় নিলেন ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ১৬ দশমিক ২ সেকেন্ড। দ্বিতীয় হওয়া রাদি তখনো পেছনে।

তারিখটি ছিল ১৯৬০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর।

সেদিনের ওই দৌড় আবেবে বিকিলার জীবন তো বদলে দিয়েছিলই, একই সঙ্গে বদলে দিয়েছিল বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে আফ্রিকাকে দেখার দৃষ্টিও। বিকিলার সময়টি ছিল তখনকার বিশ্বসেরা। আগের বিশ্বসেরা সময়ের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮ সেকেন্ড কম সময় নিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে গড়েছিলেন অলিম্পিক রেকর্ড। আফ্রিকার কোনো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে অলিম্পিক সোনা জেতা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেটও হন তিনি।

প্রায় অচেনা একজন দৌড়বিদ

অথচ রোমে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বিকিলা খুব পরিচিত নাম ছিলেন না। আবেবে বিকিলার জন্ম ১৯৩২ সালের ৭ আগস্ট, ইথিওপিয়ায়। তাঁর বেড়ে ওঠা ছিল সাধারণ গ্রামীণ পরিবেশে। পরে তিনি ইথিওপিয়ার সম্রাট হাইলে সেলাসির ইম্পেরিয়াল গার্ডে যোগ দেন। সেনাবাহিনীতে থাকার সময়ই তাঁর দৌড়ানোর ক্ষমতা নজরে আসে।

তাঁর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন ফিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সুইডিশ কোচ ওনি নিসকানেন। ইথিওপিয়ার অ্যাথলেটদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন নিসকানেন। বিকিলার শারীরিক সক্ষমতা দেখে তাঁকে দূরপাল্লার দৌড়ের জন্য তৈরি করতে শুরু করেন তিনি।

রোম অলিম্পিকের আগে ইথিওপিয়ায় বাছাই ম্যারাথনে বিকিলা সময় নেন ২ ঘণ্টা ২১ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। ইথিওপিয়ার উচ্চভূমিতে করা সেই সময়টিও তখনকার অলিম্পিক রেকর্ডের চেয়ে ভালো ছিল। এই ফল তাঁকে অলিম্পিক দলে জায়গা করে দেয়।

তবে রোমে ম্যারাথনের সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় বিকিলা ছিলেন না। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের সের্গেই পোপভকে নিয়ে। ১৯৫৯ সালে পোপভ ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৪৫ দশমিক ২ সেকেন্ডে ম্যারাথন শেষ করে বিশ্বসেরা টাইমিং করেছিলেন। ফলে তাঁকেই সোনার অন্যতম দাবিদার মনে করা হচ্ছিল।

ফিনিশিং লাইন পেরিয়ে আবেবে বিকিলা

খালি পায়ে কেন

রোমে এসে বিকিলা আলোচনায় এলেন অন্য একটি কারণে। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, ম্যারাথনে দৌড়াবেন খালি পায়ে। ইথিওপিয়ায় বিকিলা জুতা পরেও অনুশীলন করতেন, আবার খালি পায়েও দৌড়াতেন। রোমে তাঁর ব্যবহারের জুতা নিয়ে সমস্যা হয়। নতুন জুতা পরে পায়ে ফোসকা পড়ে। ফলে ম্যারাথনের দিন নতুন জুতা পরে ঝুঁকি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। খালি পায়ে দৌড়ানো তাঁর জন্য নতুন কিছু ছিল না। এভাবেই তিনি বহুবার অনুশীলন করেছিলেন।

অন্য রকম এক ম্যারাথন

১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিকের ম্যারাথনটিও ছিল অন্য রকম। অলিম্পিকের ম্যারাথন সাধারণত স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হতো। রোমে সেই প্রথা ভাঙা হয়। এটিই ছিল প্রথম অলিম্পিক ম্যারাথন, যার শুরু বা শেষ—কোনোটিই মূল অলিম্পিক স্টেডিয়ামে হয়নি।

দৌড়ের দূরত্ব ছিল ৪২ দশমিক ১৯৫ কিলোমিটার। রোমের দিনের গরম এড়াতে প্রতিযোগিতা শুরু করা হয় বিকেল সাড়ে পাঁচটায়। ৩৫টি দেশের ৬৯ জন দৌড়বিদ অংশ নেন।

শুরুর জায়গা ছিল রোমের পিয়াজা দেল ক্যাম্পিদোলিও। সেখান থেকে পথ চলে যায় প্রাচীন রোমের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশ দিয়ে। দৌড়বিদেরা কারাকাল্লার স্নানাগার এলাকা পেরিয়ে যান। এরপর পথ চলে যায় প্রাচীন অ্যাপিয়ান ওয়ের দিকে। শেষ গন্তব্য রাখা হয়েছিল আর্চ অব কনস্টানটাইন।

দৌড় শুরু হয়েছিল দিনের আলোয়। কিন্তু ম্যারাথন শেষ হওয়ার আগেই রোমে অন্ধকার নেমে আসে। পথের শেষ অংশ আলোকিত করার জন্য রাস্তার পাশে ইতালীয় সেনাদের দাঁড় করানো হয়েছিল। তাঁদের হাতে ছিল মশাল। সেই মশালের আলোয় শেষ কয়েক কিলোমিটার দৌড়ান প্রতিযোগীরা।

দৌড় প্রতিযোগিতায় আবেবে বিকিলা (১১ নম্বর)

সামনে এলেন দুই আফ্রিকান

দৌড়ের শুরুতে বিকিলা একাই সামনে চলে যাননি। প্রথম দিকে এগিয়ে ছিলেন বেলজিয়ামের অরেল ভানদেন্দ্রিসে। সামনের দলে আরও কয়েকজন ইউরোপীয় দৌড়বিদ ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিকিলা এবং মরক্কোর রাদি বেন আবদেসসালাম।

১০ কিলোমিটার পার হতে সময় লাগে ৩১ মিনিট ৭ সেকেন্ড। তখনো কয়েকজন দৌড়বিদের মধ্যে লড়াই চলছিল। ২০ কিলোমিটারের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিকিলা ও রাদি অন্যদের থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর কার্যত রোমের ম্যারাথনটি পরিণত হয় ইথিওপিয়া ও মরক্কোর দুই দৌড়বিদের লড়াইয়ে।

২০ কিলোমিটার তাঁরা পার করেন ১ ঘণ্টা ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে। ২৫ কিলোমিটারে দুজনের সময়ই ছিল ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ৪৭ দশমিক ৬ সেকেন্ড। ৩০ কিলোমিটারেও তাঁরা একসঙ্গে। সময় ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ২৯ সেকেন্ড।

৩৫ কিলোমিটার পার হওয়ার পরও কেউ কাউকে ছাড়তে পারেননি। তখন তাঁদের সময় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ২৭ সেকেন্ড। ৩৭ কিলোমিটারেও দুজন পাশাপাশি। সময় ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড।

পেছনের দৌড়বিদেরা ততক্ষণে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছেন। ফলে সোনার পদক কার হবে, সেটি নির্ভর করছিল বিকিলা ও রাদির শেষ কয়েক কিলোমিটারের ওপর।

শেষ ৫০০ মিটারে বদলে গেল সব

দুজন পাশাপাশি ছুটতে ছুটতে রোমের পিয়াজা দি পোর্তা কাপেনার কাছে পৌঁছান। ফিনিশিং লাইন তখন প্রায় ৫০০ মিটার দূরে। ঠিক এই জায়গাতেই গতি বাড়িয়ে দেন বিকিলা।

এতক্ষণ রাদি তাঁর সঙ্গে তাল রাখতে পেরেছিলেন। এবার আর পারলেন না। বিকিলা ব্যবধান বাড়িয়ে একা এগিয়ে গেলেন আর্চ অব কনস্টানটাইনের দিকে।

ফিনিশিং লাইন পার করার সময় বিকিলার ঘড়িতে ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ১৬ দশমিক ২ সেকেন্ড। রাদি বেন আবদেসসালাম দ্বিতীয় হন ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ৪১ দশমিক ৬ সেকেন্ডে।

নিউজিল্যান্ডের ব্যারি ম্যাগি তৃতীয় হন। তাঁর সময় ছিল ২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ১৮ দশমিক ২ সেকেন্ড। আর প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেবারিট সের্গেই পোপভ হন পঞ্চম।

১৯৬০ সালের অলিম্পিক ম্যারাথনে জয়ের পর আবেবে বিকিলাকে ‘স্টার অব ইথিওপিয়া’ পদক দিচ্ছেন সম্রাট হাইলে সেলাসি

যে জায়গায় গতি বাড়ালেন, সেখানেও ইতিহাস

বিকিলা যে জায়গায় রাদিকে পেছনে ফেলে গতি বাড়িয়েছিলেন, সেই জায়গাটিরও আলাদা ইতিহাস ছিল। পিয়াজা দি পোর্তা কাপেনার কাছে তখন দাঁড়িয়ে ছিল ইথিওপিয়ার প্রাচীন আকসুম নগরী থেকে নিয়ে আসা একটি ওবেলিস্ক। এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ইথিওপিয়ার বেদনাদায়ক ইতিহাস।

বেনিতো মুসোলিনির ফ্যাসিস্ট ইতালি ১৯৩৫ সালে ইথিওপিয়া আক্রমণ করে। পরের বছর ইতালীয় বাহিনী আদ্দিস আবাবা দখল করে। ইতালির দখলদারত্বের সময় আকসুমের প্রাচীন একটি ওবেলিস্ক খুলে রোমে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেটি পোর্তা কাপেনার কাছে স্থাপন করা হয়েছিল।

দুই দশকের কিছু বেশি সময় পর সেই ওবেলিস্কের পাশ দিয়েই ছুটে গেলেন একজন ইথিওপীয়। আর ঠিক সেই এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে অলিম্পিক সোনার দিকে এগিয়ে গেলেন বিকিলা।

এই ঘটনাকে তাই পরে শুধু ক্রীড়ার দৃষ্টিতে দেখা হয়নি। এর সঙ্গে ইথিওপিয়ার ইতিহাসও যুক্ত হয়ে যায়। যে দেশের সেনাবাহিনী ইথিওপিয়া দখল করেছিল, সেই দেশের রাজধানীতে দাঁড়িয়ে একজন ইথিওপীয় অলিম্পিকের সবচেয়ে কঠিন ইভেন্টগুলোর একটি জিতলেন। যে ওবেলিস্ক বিজয়ের স্মারক হিসেবে ইথিওপিয়া থেকে রোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার পাশ দিয়েই তিনি সোনার পথে শেষ আক্রমণটি করলেন।

আফ্রিকার বছর, আফ্রিকার জয়

সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬০ সাল বিশ্ব ইতিহাসে ‘আফ্রিকার বছর’ হিসেবে পরিচিত। ওই বছর ১৭টি আফ্রিকান দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ঔপনিবেশিক শাসন ভেঙে আফ্রিকার রাজনৈতিক মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিশ্ব ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চে আবির্ভূত হলেন আবেবে বিকিলা।

তাঁর আগে আফ্রিকার অ্যাথলেটরা অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন, পদকও জিতেছেন। কিন্তু বিকিলাই ছিলেন আফ্রিকার কোনো দেশের হয়ে অলিম্পিক সোনা জেতা প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অ্যাথলেট। ফলে তাঁর সাফল্যের তাৎপর্য ইথিওপিয়ার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসে তখনো পূর্ব আফ্রিকার বর্তমান আধিপত্য শুরু হয়নি। এখন ইথিওপিয়া বা কেনিয়ার দৌড়বিদদের ম্যারাথন কিংবা পাঁচ ও দশ হাজার মিটারে ফেবারিট হিসেবে দেখা স্বাভাবিক। ১৯৬০ সালে পরিস্থিতি এমন ছিল না। বিকিলা সেই ধারণা বদলে দেওয়ার প্রথম বড় নাম।

১৯৬৪ সালের টোকিও অলিম্পিকে ম্যারাথনে দৌড়াচ্ছেন আবেবে বিকিলা

চার বছর পর আরও বড় বিস্ময়

চার বছর পর তিনি দেখিয়ে দেন, রোমের সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। ১৯৬৪ সালের অলিম্পিক হয়েছিল টোকিওতে। সেখানে বিকিলা গেলেন বর্তমান অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কিন্তু প্রতিযোগিতার মাত্র ৪০ দিন আগে তাঁর অ্যাপেন্ডিক্সে অস্ত্রোপচার হয়। ফলে তিনি ম্যারাথনে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল।

শেষ পর্যন্ত তিনি নামলেন। এবার অবশ্য খালি পায়ে নয়। জুতা পরে দৌড়ালেন।

১৫ কিলোমিটারের পর গতি বাড়াতে শুরু করেন বিকিলা। এরপর একসময় অন্য সবাইকে পেছনে ফেলে একাই সামনে চলে যান। রোমের মতো শেষ ৫০০ মিটার পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়নি।

টোকিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যখন তিনি ঢুকলেন, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তখন অনেক পেছনে। বিকিলা ম্যারাথন শেষ করেন ২ ঘণ্টা ১২ মিনিট ১১ দশমিক ২ সেকেন্ডে। আবারও বিশ্বসেরা সময়। দ্বিতীয় হওয়া ব্রিটেনের ব্যাসিল হিটলির সময় ছিল ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ১৯ দশমিক ২ সেকেন্ড। অর্থাৎ চার মিনিটের বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন বিকিলা।

টোকিওর জয় তাঁকে আরও একটি ইতিহাসের মালিক করে। তিনিই প্রথম পুরুষ দৌড়বিদ, যিনি অলিম্পিক ম্যারাথনে পরপর দুই আসরে সোনা জেতেন।

১৩ ম্যারাথনের ১২টিতেই জয়

১৯৬০ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে বিকিলা যে ১৩টি ম্যারাথন শেষ করেছিলেন, তার ১২টিতেই জিতেছিলেন। একমাত্র হার ১৯৬৩ সালের বোস্টন ম্যারাথনে। সেখানে তিনি পঞ্চম হয়েছিলেন।

১৯৬৮ সালে মেক্সিকো সিটি অলিম্পিকে আবার নামেন বিকিলা। লক্ষ্য ছিল টানা তৃতীয় সোনা। কিন্তু এবার শরীর সঙ্গ দেয়নি। পায়ের সমস্যা নিয়ে দৌড় শুরু করেছিলেন। প্রায় ১৭ কিলোমিটার যাওয়ার পর প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়।

তবে ম্যারাথনের সোনা ইথিওপিয়ার হাতছাড়া হয়নি। বিকিলার স্বদেশি মামো ওলদে সেবার চ্যাম্পিয়ন হন।

এরপর পূর্ব আফ্রিকার উত্থান

এরপর বিশ্ব দূরপাল্লার দৌড়ে পূর্ব আফ্রিকার উত্থান আর থামেনি। ইথিওপিয়া ও কেনিয়া হয়ে ওঠে এই খেলার দুই বড় শক্তি। পরের কয়েক দশকে এই অঞ্চল থেকে এসেছেন কিপ কেইনো, মিরুটস ইফটার, হাইলে গেব্রেসেলাসি, পল টারগাট, কেনেনিসা বেকেলে, তিরুনেশ দিবাবা ও এলিউড কিপচোগের মতো দৌড়বিদেরা।

বিশ্ব অ্যাথলেটিকসও বিকিলার রোমের জয়কে পরবর্তী পূর্ব আফ্রিকান দূরপাল্লার দৌড়ের উত্থানের পথ দেখানো ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে।

১৯৬৮ সালে আবেবে বিকিলা

জীবনের শেষ লড়াই

তবে বিকিলার নিজের জীবনের শেষ অংশ ছিল কঠিন। ১৯৬৯ সালে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁর ঘাড় ও মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তিনি আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারেননি।

তারপরও খেলাধুলা ছাড়েননি। হুইলচেয়ারে বসে তিরন্দাজিসহ বিভিন্ন খেলায় অংশ নেন। ১৯৬৯ সালের স্টোক ম্যান্ডেভিল গেমসেও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা পরবর্তী সময়ে প্যারালিম্পিক আন্দোলনের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

১৯৭৩ সালের ২৫ অক্টোবর মারা যান আবেবে বিকিলা। বয়স হয়েছিল মাত্র ৪১ বছর। গাড়ি দুর্ঘটনার আঘাতের পরবর্তী জটিলতার সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সম্পর্ক ছিল। ইথিওপিয়ায় জাতীয় বীরের মর্যাদা পাওয়া বিকিলার শেষকৃত্যে হাজারো মানুষ অংশ নেন।

যে দৌড় শেষ হয়নি

১৯৬০ সালের রোম অলিম্পিক এমনিতেই ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। সেই আসরে যুক্তরাষ্ট্রের উইলমা রুডলফ তিনটি সোনা জিতেছিলেন। বক্সিংয়ে সোনা জিতেছিলেন ১৮ বছরের ক্যাসিয়াস ক্লে। কয়েক বছর পর যাঁকে বিশ্ব চিনেছে মোহাম্মদ আলী নামে।

তারপরও রোম অলিম্পিকের সবচেয়ে স্মরণীয় ছবিগুলোর একটি হয়ে আছে অন্য একজনের। রাতের রোম। রাস্তার দুই পাশে জ্বলছে মশাল। প্রাচীন শহরের পথ ধরে ছুটছেন রোগা-পাতলা এক ইথিওপীয়। তাঁর পায়ে জুতা নেই। তাঁর সেই দৌড়ের প্রভাব সেখানেই শেষ হয়নি।

আজ বিশ্ব ম্যারাথন বা দূরপাল্লার দৌড়ের ইতিহাস লিখতে গেলে ইথিওপিয়া ও কেনিয়াকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। রোমের মশালের আলোয় খালি পায়ে ছুটে যিনি শুধু একটি অলিম্পিক সোনা জেতেননি, বিশ্বকে প্রথম বড় করে দেখিয়েছিলেন আফ্রিকার দূরপাল্লার দৌড়ের শক্তি।

তথ্যসূত্র:

১. ‘রিমেম্বারিং বিকিলাস ১৯৬০ অলিম্পিক ম্যারাথন ভিক্টরি অন ইটস ৬০থ অ্যানিভার্সারি’ স্টিভ ল্যান্ডেলস, ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২০।

২. ‘হল অব ফেম প্রোফাইল—আবেবে বিকিলা (ইথিওপিয়া)’ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস, ৮ মার্চ ২০১২।

৩. ‘অ্যান অলমোস্ট মিস্টিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স—৬০ ইয়ার্স সিন্স বিকিলা কমপ্লিটেড ব্যাক-টু-ব্যাক অলিম্পিক ভিক্টরিজ’ ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস হেরিটেজ, ২১ অক্টোবর ২০২৪।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
নাইন/ইলেভেন: মাত্র ১০২ মিনিটে বদলে যায় পৃথিবীর ইতিহাস
নাইন/ইলেভেন: মাত্র ১০২ মিনিটে বদলে যায় পৃথিবীর ইতিহাস

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের অন্যান্য দিনের মতো তখনো স্বাভাবিক কর্মব্যস্ত সকাল। কেউ অফিসে ঢুকছেন, কেউ বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কেউ পর্যটক হিসেবে তাকিয়ে আছেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের সুউচ্চ ভবন দুটির দিকে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই পরিচিত দৃশ্য বদলে যায় ভয়াবহ এক ঘটনায়। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই, নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে আঘাত, পেন্টাগামে হামলা এবং পেনসিলভানিয়ার আকাশে চতুর্থ বিমানের পতন ১১ সেপ্টেম্বরের সেই সকাল শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বদলে দিয়েছিল গোটা বিশ্বের রাজনীতি ও নিরাপত্তার চিত্র। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ১৯ জন আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ ও সাউথ টাওয়ারে আঘাত করে, তৃতীয়টি আঘাত করে ওয়াশিংটন ডিসির কাছে পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি যাত্রী ও ক্রুদের প্রতিরোধের পর পেনসিলভানিয়ার একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। ওই হামলায় মোট ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। শুরুটা হয়েছিল আকাশে সেদিন সকালে চারটি বিমান যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে যাচ্ছিল। ছিনতাইকারীরা বিমানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সেগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে হামলা চালায়। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নর্থ টাওয়ারে আঘাত করে। মুহূর্তের মধ্যে ভবনের ওপরের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অনেকেই এটিকে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ১৭ মিনিট পর ঘটে দ্বিতীয় আঘাত। সকাল ৯টা ৩ মিনিটে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫ সাউথ টাওয়ারে আঘাত করে। তখন আর সন্দেহের অবকাশ ছিল না এটি একটি সমন্বিত হামলা। দুটি ভবনেই তখন হাজার হাজার মানুষ ছিলেন। হামলার পর অনেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করেন। একই সময়ে দমকলকর্মী, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা উল্টো ভবনের ভেতরে ঢুকছিলেন আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনতে। ৯/১১ মেমোরিয়ালের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্সে আনুমানিক ১৬ হাজার ৪০০ থেকে ১৮ হাজার মানুষ ছিলেন। তাদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তারপর আঘাত পেন্টাগনে নিউইয়র্কে যখন উদ্ধারকাজ চলছে, তখন হামলার আরেকটি অংশ বাস্তবায়িত হয়। সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৭৭ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে আঘাত করে। একই সময়ে দেশজুড়ে বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর আসে ৯/১১-এর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়গুলোর একটিউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ৯৩। ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীরা অন্য তিনটি হামলার খবর জানতে পেরেছিলেন। তারা বুঝতে পারেন, বিমানটি যে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে সেটিও সম্ভবত হামলার লক্ষ্য। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। আরও পড়ুন সত্যিই ৮০-র দশকে ফিরতে পারলে সোনা নাকি জমি কিনতেন? তাদের প্রতিরোধের পর বিমানটি সকাল ১০টা ৩ মিনিটে পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে একটি খোলা মাঠে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি ওয়াশিংটন ডিসির দিকে যাচ্ছিল বলে ধারণা করা হয়। যাত্রীদের এই প্রতিরোধের ফলে সেটি নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি। ওদিকে ধসে পড়লো টুইন টাওয়ার এর মধ্যেই নিউইয়র্কে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সকাল ৯টা ৫৯ মিনিটে সাউথ টাওয়ার ধসে পড়ে। এর মাত্র ২৯ মিনিট পর, সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে, নর্থ টাওয়ারও ভেঙে পড়ে। বিমানের আঘাতের ফলে ভবনের কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাশাপাশি জ্বলন্ত বিমানের জ্বালানি থেকে তৈরি তীব্র আগুন ভবনের কাঠামোকে আরও দুর্বল করে। শেষ পর্যন্ত দুই টাওয়ারই ধসে পড়ে। একসময়ের ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। ধসে পড়ার সময় আশপাশের আরও কয়েকটি ভবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। উদ্ধার ও অনুসন্ধানের বিশাল অভিযান শুরু হয় সঙ্গে সঙ্গেই। ৯/১১-তে কত মানুষ প্রাণ হারান? হামলায় ২ হাজার ৯৭৭ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩ জন নিউইয়র্কে, ১৮৪ জন পেন্টাগনে এবং ৪০ জন ফ্লাইট ৯৩-এ ছিলেন। নিহতরা এসেছিলেন ৯০টি দেশ থেকে। তবে ৯/১১-এর ক্ষয়ক্ষতি শুধু সেদিনের প্রাণহানিতেই থেমে থাকেনি। উদ্ধার ও ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কারের কাজে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরবর্তী বছরগুলোতে হামলার স্থানে কাজ করা উদ্ধারকর্মী ও অন্যদের স্বাস্থ্যগত সমস্যাও সামনে আসে। শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়, ইতিহাসের মোড় ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি, বিমানবন্দর নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানসহ পরবর্তী বহু আন্তর্জাতিক ঘটনার সঙ্গে ৯/১১-এর সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হয়। তবে সময় যতই পেরিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বরের স্মৃতি শুধু ধ্বংসের গল্প হয়ে থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে স্বজন হারানো পরিবার, শেষ মুহূর্তে মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা করা দমকলকর্মী-পুলিশ, স্বেচ্ছাসেবক এবং ফ্লাইট ৯৩-এর যাত্রীদের সাহসেরও গল্প। আরও পড়ুন ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে আজ নিউইয়র্কের সেই জায়গায় দাঁড়ালে টুইন টাওয়ার নেই। রয়েছে দুটি বিশাল স্মৃতিফলক, যেখানে নিহতদের নাম খোদাই করা। ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়ামের ভাষায়, সেই দিনের ইতিহাস শুধু কীভাবে হামলা হয়েছিল তা নয় তার আগে কী ঘটেছিল, সেদিন মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল এবং পরবর্তী পৃথিবী কীভাবে বদলে গেল, সেই পুরো গল্পও। ১১ সেপ্টেম্বর তাই কেবল একটি তারিখ নয়। এটি এমন এক সকাল, যার কয়েক ঘণ্টা বদলে দিয়েছিল নিরাপত্তা, রাজনীতি এবং মানুষের পৃথিবীকে আর যার ক্ষত আজও ইতিহাসের পাতায় স্পষ্ট। সূত্র: হিস্টোরি ডটকম, অল দ্য ইন্টেরেস্টিং কেএসকে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, যুবদল নেতাকে অব্যাহতি

শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড, যুবদল নেতাকে অব্যাহতি

নাটোর ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

নাটোর ডায়রিয়ার প্রকোপ, ঠাঁই নেই হাসপাতালে

ফ্যাশন শুট নয়, লোকাল ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় সুন্দর মেহজাবীন

ফ্যাশন শুট নয়, লোকাল ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় সুন্দর মেহজাবীন

পাগলের ডাক্তার পটল
পাগলের ডাক্তার পটল

আদালতের কাঠগড়ায় ডাক্তার প্যাটেল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি। উৎকণ্ঠিত চেহারা নিয়ে প্যাটেলের কয়েকজন রোগীও উপস্থিত আছে আদালতে। এই মামলায় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ডা. বিবেক প্যাটেলের বড় বোন ভিদিয়া প্যাটেল আইনজীবী হিসেবে ওর পক্ষে লড়বে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভাই, তার পক্ষে আইনের সাফাই গাইতে এসেছে আইনজীবী বোন। আদালতও একটা যুদ্ধক্ষেত্র। থাকে পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষ। রণাঙ্গনে কামান–গোলার শঙ্খনিনাদে শক্তির প্রদর্শন হয়।। আদালতে আইনের শঙ্খ বাজিয়ে হয় যুক্তিতর্কের উৎসারণ। আদালতে জুরিরাও গভীর আগ্রহ নিয়ে মামলার বয়ান শুনতে প্রস্তুত।ডা. প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ অদ্ভুত। সে যে দুই সার্জারিতে কাজ করে তার দুজন প্র্যাকটিস ম্যানেজার অভিযোগ এনেছে। সময়ে–সময়ে রোগীদের উল্টাপাল্টা ওষুধ লিখে দিয়েছে সে। লিখে দিত বেশি বেশি ওষুধ। যার অ্যাজমা বা হাঁপানি নেই, তাকে দিয়েছে অ্যাজমার ওষুধ, যাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিয়েছে অথচ তার ওই অসুখ ছিলই না কোনোদিন।আদালতকক্ষ ঝকমক পরিষ্কার, ভাবগম্ভীর নৈঃশব্দ্য এখানে বিরাজমান। বিচারকের এজলাস মেঝে থেকে ফুট দেড়েক উঁচু মঞ্চে। লাল ভেলভেটে পায়া পর্যন্ত আচ্ছাদিত লম্বা টেবিল। মাঝামাঝি সিংহাসন আকৃতির চেয়ার। টেবিলের দুই মাথায় দুটি চেয়ার, আদালতের কর্মীদের জন্য। একপাশে কাঠের রেলিং দিয়ে আরামদায়ক গদিআঁটা কিছু চেয়ার জুরিদের জন্য। মঞ্চের পেছনটা পাতলা প্লাইউডের পর্দার আড়ালে। পর্দার আড়াল থেকে বিচারক যখন আসন গ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসেন তখন কক্ষে উপস্থিত সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হয়। বিচারকের বাঁ দিকে কাঠগড়া ও সামনের মেঝেতে এক পাশে আইনজীবীদের জন্য ডেস্কসহ চেয়ার ও যাতায়াতের পথ রেখে অন্য পাশে দর্শকদের জন্য চেয়ার পাতা। একদম পেছনে বিবদমান দুই পক্ষের বসার ব্যবস্থা।দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.comআদালত বসল অর্থাৎ বিচারক আসন নিয়ে কাজ শুরু করলেন। প্রথমেই জুরি নির্বাচন। বিচারকের সহকারীরা নাম বলার পর সেই নামের ব্যক্তি বিবদমান দুই পক্ষের সামনে দিয়ে হেঁটে ঘোরাপথে দর্শকসারিতে নিজের আসনে এসে বসে। হাঁটার সময়ে দুই পক্ষই তীক্ষ্ণভাবে লোকটিকে দেখে। তারপর আচমকা খরখরে গলায় কোনো একপক্ষ হেঁকে ওঠে ‘চ্যালেঞ্জ’। আদালতের গুরুগম্ভীর পরিবেশে ‘চ্যালেঞ্জ’ ধ্বনি শুনেই চলন্ত ব্যক্তি থমকে দাঁড়িয়ে যায়। ভয়ও পায়। নিজ আসনে ফিরে হাঁপ ছেড়ে যেন বাঁচে। ‘চ্যালেঞ্জ’–এর মানে হচ্ছে জুরি হিসেবে তাকে কোনো এক পক্ষ চাইছে না। যাই হোক ভিদিয়া দেখল কুর্তা পায়জামা পরা ওড়নায় মাথা ঢাকা মাঝারি গড়ন উজ্জ্বল ত্বকের পরিণত বয়সের এক মহিলা ‘চ্যালেঞ্জ’–এর মুখে পড়ে বাদ পড়ল। বাদামি চামড়া, খয়েরি চোখ ও কালো গোফওয়ালা একজনও বাদ। শেষে বারোজন জুরি নির্বাচিত হলো। বিচারকের বাঁ দিকে রেলিংঘেরা জায়গায় জুরিরা বসার পরই আসল কাজ শুরু হলো।প্রথমেই বাদীপক্ষের উকিল অভিযোগ পেশ করল। ভিদিয়া অভিযোগ শুনতে শুনতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো তার ভাইয়ের দিকে তাকাল, চোখে তার অশেষ স্নেহ ঝরে পড়ল। ভাসা–ভাসা চোখে ভীতবিহ্বল বিষণ্নতা নিয়ে মাঝারি উচ্চতার নম্রভদ্র, দেখতে ভালো ডা. প্যাটেল দাঁড়িয়ে। বোনের মনে সূক্ষ্ম এক অপরাধবোধ জাগল। ভাবল ডা. প্যাটেল আজকে যে আদালতের কাঠগড়ায় দাড়ানো তার পেছনে বোন হিসেবে তারও কি কোনো ভূমিকা ছিল না? ছিল, অবশ্যই ছিল। সে নিজে ডাক্তারি পড়তে চায়নি। মা-বাবার ইচ্ছার কাছে সে হার মানেনি। সমাজে সবার ওপরে থাকার জন্য মা-বাবা দুই সন্তানকেই ডাক্তার বানানোর নানা চেষ্টা করেছে। মেধাবী দুজনই। সুতরাং ডাক্তারি পড়তে অসুবিধা কোথায়? ভিদিয়ার মতে মেধাবী হলেই যে ডাক্তার হওয়া চাই বা হওয়া যাবে, তা কেন? একজনকে ডাক্তার হতে হলে তার মেধাবী মাথাই যথেষ্ট নয়। সেবা করার জন্য দয়ালু অন্তর ও পুঁজ-রক্ত-বমি দেখেও সহ্য করার মানসিক শক্তি থাকা চাই। রোগী আসবে গায়ে ঘাম জ্বর ও অসুখের গন্ধ নিয়ে। ডাক্তারকে সব মেনে নিয়েই প্রেসার ও জ্বর মাপার জন্য রোগীকে স্পর্শ করতে হবে। সে স্পর্শ শুধু কর্তব্যই নয়, তাতে থাকা চাই ডাক্তারের আন্তরিক সেবার আশ্বাস। ভিদিয়া পরিষ্কার বলেছিল ‘আমি জর, বমি, ঘা, পাতলা পায়খানা কোনোকিছু দেখতে বা ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, তাই ডাক্তার হওয়ার শখ আমার নাই, ইচ্ছাও নাই’মা–বাবা বলল ‘পরে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হবে, তাহলে তো ওইসব ঘাঁটতে হবে না।ভিদিয়া দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বলেছিল ‘আমি পাগলের ডাক্তার প্যাটেল হতে চাই না’। তারপর হেসে দিয়ে ভিদিয়া বলেছিল ‘বাংলাদেশি বন্ধুরা আমাকে বলবে পাগলের ডাক্তার পটল।’সেই ভিদিয়া তার ছোট ভাইকে মা–বাবার শখ পূরণের জন্য নাকি তাদের ইচ্ছার কাছে বলি হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও প্ররোচিত করেনি? করেছিল। ভাই তার নরম মনের হৃদয়বান মানুষ। ভাই ডাক্তার হতে চায়নি। ভিদিয়া বুঝিয়েছিল অনেক করে—‘দেখ ভাইয়া তুমিও যদি মা–বাবার শখ পূরণ না কর তারা মারাই যাবে!’‘তারা হয়তো আমাকেই মেরে ফেলতে পারে তাই না?’‘ছি, এ রকম কেন ভাবছ?’‘খবরে পড়োনি আমাদের দেশে কলকাতা শহরে এক ছেলে টেনিস প্র্যাকটিস ভালো করে করছিল না বলে বাবা এমন মার দিয়েছে যে ছেলেটি মারাই গেছে; ছেলে টেনিস তারকা না হওয়ার শাস্তি হলো মৃত্যু!’‘স্যাড স্টোরি কেন বলছ।’ শেষে সে ডাক্তার হয়েছিল ঠিকই, তার পেছনে কারণ ছিল একটি। মায়ের কাছে শুনেছিল কোনো কোনো ডাক্তার নাকি রোগী বুঝে স্টেথিস্কোপ দিয়ে তাদের পরীক্ষা করার সময় নাকমুখ কুঁচকে রাখে অবজ্ঞায়। মা বলেছিল শুধু পয়সার জন্য যারা ডাক্তার হয় তারা পিশাচ। তবে তার শখ হয়েছিল পৃথিবীর যে জায়গায় ডাক্তার নেই এমন জায়গায় চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দিতে। মা-বাবা তাতেও বাধা দিলেন। গরিবদের চিকিৎসা করলে পয়সা বেশি পাওয়া যায় না। তার চেয়ে এ দেশে দশ মিনিটে যেনতেনভাবে রোগী দেখে সামান্য কফসিরাপ বা প্যানাডল খাও বলেই চল্লিশ ডলার বা পঁয়তাল্লিশ ডলার রুজি করা যায়। গরিবের সেবা বোকারাই করে, এই বাবার অভিমত।ভিদিয়া নিজের মাঝে ফিরল সাক্ষীদের নাম ডাকাতে। অভিযোগ করলেই হয় না, সাক্ষ্যসাবুদ দিয়ে তা প্রমাণ করতে হয়।ডাক্তার, উকিলের কাছে কোনো কিছু লুকাতে নেই। ভাই ভিদিয়াকে বলেছে সে ভুল চিকিৎসা করেনি, তবে এই রেজিমেন্টেড সমাজের কিছু রুলস সে মানেনি। নিয়ম হলো গিয়ে যে এ দেশে বেড়াতে এসেছে, যার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, হাতেও যার নগদ পয়সা নেই, তো সে চিকিৎসাও পাবে না। পাকিস্তানি ফয়েজ আলীর ভাই বেড়াতে এসে সামান্য অসুস্থ হয়েছিল। ডাক্তার দেখানোর পয়সা নেই। ফয়েজ আলী ভাইকে নিজ নামে চালিয়ে দিয়ে ওষুধ লিখিয়ে নিয়ে গেছে। পাঞ্জাবের হরবিন্দ সিংও এমনি ফাঁকিবাজি করে আত্মীয়ের জন্য ওষুধ নিয়েছে। বাংলাদেশের হেলালুজ্জামানও তাই করেছে। পরে অবশ্য এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো ডা. প্যাটেলের কাছে গোপনে মাপ চেয়ে গেছে। নিজের জানা তিনটা ঘটনাই ডা. প্যাটেল তার আইনজীবী বোন ভিদিয়াকে বলেছে।‘যারা এ দেশে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদের অসুখ কী, তা দেখা ও ওষুধ দেওয়া অবশ্যই অন্যায়, এটা কেন করতে গেছ?’সরল অথচ কৌতুকের হাসি হেসে ডা. প্যাটেল বলেছিল—‘আরে টাকা নাই বলে তুমি কাউকে আইনের সেবা না দিতে পার, চিকিৎসাও দিবে না এটা তো হতে পারে না, ক্যানসার, তা হলে তো শুধুই ধনীদের হওয়া উচিত, তাই না?’‘কথাটা বুঝতে চেষ্টা কর, যারা এ দেশের নাগরিক নয়, ট্যাক্স দেয় না, তারা কেন বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে?’‘দেখ অসুস্থকে এত রুলস মেনে দেখতে গেলে ডাক্তারকে সেবার ব্রত ও মানবিকতা বিসর্জন দিতে হবে, এটা কি উচিত?’ভাইয়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপরও ভিদিয়া বলেছিল—‘এভাবে বাছবিচার না করে অসুস্থ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়লে বিপদে পড়বে।’গভীরভাবে কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল ডা. প্যাটেল, তারপর বিষণ্ন স্বরে বলল—‘শুন, কোনো এক ফটোসাংবাদিক আগুনে এক লোক পুড়ছে দেখে ক্যামেরা ছুড়ে ফেলে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিলেন, ওইখানে পৌঁছে আরেক সাংবাদিক ছবিটা তুলে খুব মূল্যবান খবর প্রকাশ করলেন, ওই ছবির জন্য পুরস্কারও পেলেন, জ্বলন্ত লোকটিকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন যে সাংবাদিক তাকে সাসপেন্ড করা হয় কর্তব্যে অবহেলার জন্য, তুমি বল মনুষ্য আগে না কর্তব্য আগে?’ভিদিয়া লা-জওয়াব রইল। তখন ডা. বিবেক প্যাটেল দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলল—‘শুন, অসুখ শুনলেই রোগীর দরদে আমি সীমা ছাড়াই না; মনে আছে মায়ের বান্ধবী মিসেস নন্দী তার বেড়াতে আসা বোনকে হাসপাতালে তাঁর পরিচয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন।’‘তুমি তো করনি, খুব সুন্দর একটা যুক্তিও দেখিয়েছিলে।’‘যুক্তি তো একটা দেখিয়েছিলাম, তবে ওই মহিলার ব্যাপারে আমার কোনো অপরাধবোধ ছিল না, কারণ তারা যথেষ্ট ধনী, চিকিৎসা করানোর মতো টাকাও আছে, তারা কেন অন্যায়ভাবে বিনা পয়সায় চিকিৎসা নেবে।’‘কে জানে মিসেস নন্দী অন্য কোনো ডাক্তারকে পটিয়ে এই সুযোগটা আদায় করেছিলেন কি না!’বিবেক বিস্ময় নিয়ে বোনের দিকে তাকিয়ে রইল। ভিদিয়া জানে এরপর নামীদামি প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষিকা মিসেস নন্দী আর কোনোদিন তাদের বাড়ি আর আসেননি।আদালতকক্ষে সাক্ষীদের ডাক পড়তেই ভিদিয়ার চেতন ফিরল। সাক্ষীদের এমনভাবে ‘ক্রস এগজামিনেশন’ করবে বলে ভিদিয়া যে জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছিল তার কোনো কিছুই কাজে লাগল না। তার আগেই সহজ–সরল খেটে খাওয়া মানুষগুলো বাদীর মামলাই ভন্ডুল করে দিল। হেলালুজ্জামানকে হাজিরই করতে পারেনি ওরা। বাকি দুজন এমন এলোমেলোভাবে কথা বলল যে মনেই হলো ডাক্তার প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুয়া। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাই ডিসমিস করে দিলেন।ডা. বিবেক ও তার বোন আইনজীবী ভিদিয়া আদালত থেকে বেরিয়ে যখন হাসতে হাসতে রাস্তা পার হচ্ছে তখন দেখে হরবিন্দ সিংহ আর ফয়েজ আলীকে। ভিদিয়া বিবেককে দেখে তারা সম্ভ্রমের সঙ্গে পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল। দুই ভাই–বোনই সরাসরি ওদের চোখে চোখ রাখল। ডাক্তারের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আসা লোক দুজনের চোখে তখন শ্রদ্ধামেশানো লাজুক হাসি।*এটি একটি গল্প। চরিত্র সব কাল্পনিক।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, চায়ের দোকানিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

ধর্ষণের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, চায়ের দোকানিকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ

শ্রমিক কল্যাণের নামে গাড়িপ্রতি ৬০ টাকা আদায়, না দিলে চলে নির্যাতন

শ্রমিক কল্যাণের নামে গাড়িপ্রতি ৬০ টাকা আদায়, না দিলে চলে নির্যাতন

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

নতুন নির্মাতা ও গল্প নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘বকুলপুর সিজন ৩’

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে কর্মকৌশল নির্ধারণে ৩ কমিটি
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমস্যা নিরসনে কর্মকৌশল নির্ধারণে ৩ কমিটি

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন করে সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কমিটি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি, স্বরাষ্ট্র সচিবকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটি গঠন করে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। এই সুপারিশ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটিকে দেবে। এরপর জাতীয় কমিটি সেই কর্মকৌশল চূড়ান্ত করবে। জাতীয় কমিটিতে মন্ত্রীদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, ভূমি, আইন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীকে সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন পার্বত্য জেলা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালককে কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ কমিটিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং আন্তসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাগুলোর কার্যপরিধি ও ক্ষেত্র নির্ধারণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল চূড়ান্তকরণ ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এ কমিটিকে। নির্বাহী কমিটিতে ভূমি, আইন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, এনএসআই মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং এনএসআই'র পরিচালককে (সীমান্ত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম) সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটিতে ডিজিএফআই মহাপরিচালককে প্রধান সমন্বয়ক এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থার সুনির্দিষ্ট করণীয় নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বৃদ্ধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন; পার্বত্য চট্টগ্রামের টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন, চুক্তির শর্ত ও বিধি-বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কার এবং নতুন আইন ও বিধি-বিধান প্রণয়নে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। এ কবে থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশলের খসড়া প্রণয়ন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে। পরামর্শক কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স কমিটির চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যাচিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাকে সদস্য করা হয়েছে। কমিটিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নিরাপত্তা বিধান, সন্ত্রাস দমন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটিকে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি এবং চট্টগ্রাম বিষয়ক নির্বাহী কমিটি কমিটি কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এই দুই কমিটির সচিবালয় সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরবর্তী সময়ে অন্য যে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা বা নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থা নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে। অন্যদিকে, পরামর্শক কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী ও ক্ষেত্র বিবেচনায় সশস্ত্র বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার প্রধান বা অন্য কোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যে কোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে। আরএমএম/এমকেআর

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

কোনো মুসলমানকে কি জাহান্নামি বলা যাবে

কোনো মুসলমানকে কি জাহান্নামি বলা যাবে

গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

0 Comments