আদালতের কাঠগড়ায় ডাক্তার প্যাটেল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি। উৎকণ্ঠিত চেহারা নিয়ে প্যাটেলের কয়েকজন রোগীও উপস্থিত আছে আদালতে। এই মামলায় উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে ডা. বিবেক প্যাটেলের বড় বোন ভিদিয়া প্যাটেল আইনজীবী হিসেবে ওর পক্ষে লড়বে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভাই, তার পক্ষে আইনের সাফাই গাইতে এসেছে আইনজীবী বোন। আদালতও একটা যুদ্ধক্ষেত্র। থাকে পরস্পরবিরোধী দুই পক্ষ। রণাঙ্গনে কামান–গোলার শঙ্খনিনাদে শক্তির প্রদর্শন হয়।। আদালতে আইনের শঙ্খ বাজিয়ে হয় যুক্তিতর্কের উৎসারণ। আদালতে জুরিরাও গভীর আগ্রহ নিয়ে মামলার বয়ান শুনতে প্রস্তুত।
ডা. প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ অদ্ভুত। সে যে দুই সার্জারিতে কাজ করে তার দুজন প্র্যাকটিস ম্যানেজার অভিযোগ এনেছে। সময়ে–সময়ে রোগীদের উল্টাপাল্টা ওষুধ লিখে দিয়েছে সে। লিখে দিত বেশি বেশি ওষুধ। যার অ্যাজমা বা হাঁপানি নেই, তাকে দিয়েছে অ্যাজমার ওষুধ, যাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দিয়েছে অথচ তার ওই অসুখ ছিলই না কোনোদিন।
আদালতকক্ষ ঝকমক পরিষ্কার, ভাবগম্ভীর নৈঃশব্দ্য এখানে বিরাজমান। বিচারকের এজলাস মেঝে থেকে ফুট দেড়েক উঁচু মঞ্চে। লাল ভেলভেটে পায়া পর্যন্ত আচ্ছাদিত লম্বা টেবিল। মাঝামাঝি সিংহাসন আকৃতির চেয়ার। টেবিলের দুই মাথায় দুটি চেয়ার, আদালতের কর্মীদের জন্য। একপাশে কাঠের রেলিং দিয়ে আরামদায়ক গদিআঁটা কিছু চেয়ার জুরিদের জন্য। মঞ্চের পেছনটা পাতলা প্লাইউডের পর্দার আড়ালে। পর্দার আড়াল থেকে বিচারক যখন আসন গ্রহণের জন্য বেরিয়ে আসেন তখন কক্ষে উপস্থিত সবাইকে উঠে দাঁড়াতে হয়। বিচারকের বাঁ দিকে কাঠগড়া ও সামনের মেঝেতে এক পাশে আইনজীবীদের জন্য ডেস্কসহ চেয়ার ও যাতায়াতের পথ রেখে অন্য পাশে দর্শকদের জন্য চেয়ার পাতা। একদম পেছনে বিবদমান দুই পক্ষের বসার ব্যবস্থা।
দূর পরবাসে জীবনের গল্প, নানা আয়োজনের খবর, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারবেন পাঠকেরা। ই-মেইল: dp@prothomalo.com
আদালত বসল অর্থাৎ বিচারক আসন নিয়ে কাজ শুরু করলেন। প্রথমেই জুরি নির্বাচন। বিচারকের সহকারীরা নাম বলার পর সেই নামের ব্যক্তি বিবদমান দুই পক্ষের সামনে দিয়ে হেঁটে ঘোরাপথে দর্শকসারিতে নিজের আসনে এসে বসে। হাঁটার সময়ে দুই পক্ষই তীক্ষ্ণভাবে লোকটিকে দেখে। তারপর আচমকা খরখরে গলায় কোনো একপক্ষ হেঁকে ওঠে ‘চ্যালেঞ্জ’। আদালতের গুরুগম্ভীর পরিবেশে ‘চ্যালেঞ্জ’ ধ্বনি শুনেই চলন্ত ব্যক্তি থমকে দাঁড়িয়ে যায়। ভয়ও পায়। নিজ আসনে ফিরে হাঁপ ছেড়ে যেন বাঁচে। ‘চ্যালেঞ্জ’–এর মানে হচ্ছে জুরি হিসেবে তাকে কোনো এক পক্ষ চাইছে না। যাই হোক ভিদিয়া দেখল কুর্তা পায়জামা পরা ওড়নায় মাথা ঢাকা মাঝারি গড়ন উজ্জ্বল ত্বকের পরিণত বয়সের এক মহিলা ‘চ্যালেঞ্জ’–এর মুখে পড়ে বাদ পড়ল। বাদামি চামড়া, খয়েরি চোখ ও কালো গোফওয়ালা একজনও বাদ। শেষে বারোজন জুরি নির্বাচিত হলো। বিচারকের বাঁ দিকে রেলিংঘেরা জায়গায় জুরিরা বসার পরই আসল কাজ শুরু হলো।
প্রথমেই বাদীপক্ষের উকিল অভিযোগ পেশ করল। ভিদিয়া অভিযোগ শুনতে শুনতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়ানো তার ভাইয়ের দিকে তাকাল, চোখে তার অশেষ স্নেহ ঝরে পড়ল। ভাসা–ভাসা চোখে ভীতবিহ্বল বিষণ্নতা নিয়ে মাঝারি উচ্চতার নম্রভদ্র, দেখতে ভালো ডা. প্যাটেল দাঁড়িয়ে। বোনের মনে সূক্ষ্ম এক অপরাধবোধ জাগল। ভাবল ডা. প্যাটেল আজকে যে আদালতের কাঠগড়ায় দাড়ানো তার পেছনে বোন হিসেবে তারও কি কোনো ভূমিকা ছিল না? ছিল, অবশ্যই ছিল। সে নিজে ডাক্তারি পড়তে চায়নি। মা-বাবার ইচ্ছার কাছে সে হার মানেনি। সমাজে সবার ওপরে থাকার জন্য মা-বাবা দুই সন্তানকেই ডাক্তার বানানোর নানা চেষ্টা করেছে। মেধাবী দুজনই। সুতরাং ডাক্তারি পড়তে অসুবিধা কোথায়? ভিদিয়ার মতে মেধাবী হলেই যে ডাক্তার হওয়া চাই বা হওয়া যাবে, তা কেন? একজনকে ডাক্তার হতে হলে তার মেধাবী মাথাই যথেষ্ট নয়। সেবা করার জন্য দয়ালু অন্তর ও পুঁজ-রক্ত-বমি দেখেও সহ্য করার মানসিক শক্তি থাকা চাই। রোগী আসবে গায়ে ঘাম জ্বর ও অসুখের গন্ধ নিয়ে। ডাক্তারকে সব মেনে নিয়েই প্রেসার ও জ্বর মাপার জন্য রোগীকে স্পর্শ করতে হবে। সে স্পর্শ শুধু কর্তব্যই নয়, তাতে থাকা চাই ডাক্তারের আন্তরিক সেবার আশ্বাস। ভিদিয়া পরিষ্কার বলেছিল ‘আমি জর, বমি, ঘা, পাতলা পায়খানা কোনোকিছু দেখতে বা ঘাঁটাঘাঁটি করতে চাই না, তাই ডাক্তার হওয়ার শখ আমার নাই, ইচ্ছাও নাই’
মা–বাবা বলল ‘পরে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ হবে, তাহলে তো ওইসব ঘাঁটতে হবে না।
ভিদিয়া দৃঢ়ভাবে মাথা নেড়ে বলেছিল ‘আমি পাগলের ডাক্তার প্যাটেল হতে চাই না’। তারপর হেসে দিয়ে ভিদিয়া বলেছিল ‘বাংলাদেশি বন্ধুরা আমাকে বলবে পাগলের ডাক্তার পটল।’
সেই ভিদিয়া তার ছোট ভাইকে মা–বাবার শখ পূরণের জন্য নাকি তাদের ইচ্ছার কাছে বলি হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত ও প্ররোচিত করেনি? করেছিল। ভাই তার নরম মনের হৃদয়বান মানুষ। ভাই ডাক্তার হতে চায়নি। ভিদিয়া বুঝিয়েছিল অনেক করে—
‘দেখ ভাইয়া তুমিও যদি মা–বাবার শখ পূরণ না কর তারা মারাই যাবে!’
‘তারা হয়তো আমাকেই মেরে ফেলতে পারে তাই না?’
‘ছি, এ রকম কেন ভাবছ?’
‘খবরে পড়োনি আমাদের দেশে কলকাতা শহরে এক ছেলে টেনিস প্র্যাকটিস ভালো করে করছিল না বলে বাবা এমন মার দিয়েছে যে ছেলেটি মারাই গেছে; ছেলে টেনিস তারকা না হওয়ার শাস্তি হলো মৃত্যু!’
‘স্যাড স্টোরি কেন বলছ।’ শেষে সে ডাক্তার হয়েছিল ঠিকই, তার পেছনে কারণ ছিল একটি। মায়ের কাছে শুনেছিল কোনো কোনো ডাক্তার নাকি রোগী বুঝে স্টেথিস্কোপ দিয়ে তাদের পরীক্ষা করার সময় নাকমুখ কুঁচকে রাখে অবজ্ঞায়। মা বলেছিল শুধু পয়সার জন্য যারা ডাক্তার হয় তারা পিশাচ। তবে তার শখ হয়েছিল পৃথিবীর যে জায়গায় ডাক্তার নেই এমন জায়গায় চিকিৎসার হাত বাড়িয়ে দিতে। মা-বাবা তাতেও বাধা দিলেন। গরিবদের চিকিৎসা করলে পয়সা বেশি পাওয়া যায় না। তার চেয়ে এ দেশে দশ মিনিটে যেনতেনভাবে রোগী দেখে সামান্য কফসিরাপ বা প্যানাডল খাও বলেই চল্লিশ ডলার বা পঁয়তাল্লিশ ডলার রুজি করা যায়। গরিবের সেবা বোকারাই করে, এই বাবার অভিমত।
ভিদিয়া নিজের মাঝে ফিরল সাক্ষীদের নাম ডাকাতে। অভিযোগ করলেই হয় না, সাক্ষ্যসাবুদ দিয়ে তা প্রমাণ করতে হয়।
ডাক্তার, উকিলের কাছে কোনো কিছু লুকাতে নেই। ভাই ভিদিয়াকে বলেছে সে ভুল চিকিৎসা করেনি, তবে এই রেজিমেন্টেড সমাজের কিছু রুলস সে মানেনি। নিয়ম হলো গিয়ে যে এ দেশে বেড়াতে এসেছে, যার হেলথ ইনস্যুরেন্স নেই, হাতেও যার নগদ পয়সা নেই, তো সে চিকিৎসাও পাবে না। পাকিস্তানি ফয়েজ আলীর ভাই বেড়াতে এসে সামান্য অসুস্থ হয়েছিল। ডাক্তার দেখানোর পয়সা নেই। ফয়েজ আলী ভাইকে নিজ নামে চালিয়ে দিয়ে ওষুধ লিখিয়ে নিয়ে গেছে। পাঞ্জাবের হরবিন্দ সিংও এমনি ফাঁকিবাজি করে আত্মীয়ের জন্য ওষুধ নিয়েছে। বাংলাদেশের হেলালুজ্জামানও তাই করেছে। পরে অবশ্য এই খেটে খাওয়া মানুষগুলো ডা. প্যাটেলের কাছে গোপনে মাপ চেয়ে গেছে। নিজের জানা তিনটা ঘটনাই ডা. প্যাটেল তার আইনজীবী বোন ভিদিয়াকে বলেছে।
‘যারা এ দেশে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার যোগ্য নয়, তাদের অসুখ কী, তা দেখা ও ওষুধ দেওয়া অবশ্যই অন্যায়, এটা কেন করতে গেছ?’
সরল অথচ কৌতুকের হাসি হেসে ডা. প্যাটেল বলেছিল—
‘আরে টাকা নাই বলে তুমি কাউকে আইনের সেবা না দিতে পার, চিকিৎসাও দিবে না এটা তো হতে পারে না, ক্যানসার, তা হলে তো শুধুই ধনীদের হওয়া উচিত, তাই না?’
‘কথাটা বুঝতে চেষ্টা কর, যারা এ দেশের নাগরিক নয়, ট্যাক্স দেয় না, তারা কেন বিনা পয়সায় চিকিৎসা পাবে?’
‘দেখ অসুস্থকে এত রুলস মেনে দেখতে গেলে ডাক্তারকে সেবার ব্রত ও মানবিকতা বিসর্জন দিতে হবে, এটা কি উচিত?’
ভাইয়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপরও ভিদিয়া বলেছিল—
‘এভাবে বাছবিচার না করে অসুস্থ দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়লে বিপদে পড়বে।’
গভীরভাবে কিছুক্ষণ কী যেন ভাবল ডা. প্যাটেল, তারপর বিষণ্ন স্বরে বলল—
‘শুন, কোনো এক ফটোসাংবাদিক আগুনে এক লোক পুড়ছে দেখে ক্যামেরা ছুড়ে ফেলে তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিলেন, ওইখানে পৌঁছে আরেক সাংবাদিক ছবিটা তুলে খুব মূল্যবান খবর প্রকাশ করলেন, ওই ছবির জন্য পুরস্কারও পেলেন, জ্বলন্ত লোকটিকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন যে সাংবাদিক তাকে সাসপেন্ড করা হয় কর্তব্যে অবহেলার জন্য, তুমি বল মনুষ্য আগে না কর্তব্য আগে?’
ভিদিয়া লা-জওয়াব রইল। তখন ডা. বিবেক প্যাটেল দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বলল—
‘শুন, অসুখ শুনলেই রোগীর দরদে আমি সীমা ছাড়াই না; মনে আছে মায়ের বান্ধবী মিসেস নন্দী তার বেড়াতে আসা বোনকে হাসপাতালে তাঁর পরিচয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন।’
‘তুমি তো করনি, খুব সুন্দর একটা যুক্তিও দেখিয়েছিলে।’
‘যুক্তি তো একটা দেখিয়েছিলাম, তবে ওই মহিলার ব্যাপারে আমার কোনো অপরাধবোধ ছিল না, কারণ তারা যথেষ্ট ধনী, চিকিৎসা করানোর মতো টাকাও আছে, তারা কেন অন্যায়ভাবে বিনা পয়সায় চিকিৎসা নেবে।’
‘কে জানে মিসেস নন্দী অন্য কোনো ডাক্তারকে পটিয়ে এই সুযোগটা আদায় করেছিলেন কি না!’
বিবেক বিস্ময় নিয়ে বোনের দিকে তাকিয়ে রইল। ভিদিয়া জানে এরপর নামীদামি প্রাইভেট স্কুলের শিক্ষিকা মিসেস নন্দী আর কোনোদিন তাদের বাড়ি আর আসেননি।
আদালতকক্ষে সাক্ষীদের ডাক পড়তেই ভিদিয়ার চেতন ফিরল। সাক্ষীদের এমনভাবে ‘ক্রস এগজামিনেশন’ করবে বলে ভিদিয়া যে জটিল প্রশ্ন তৈরি করেছিল তার কোনো কিছুই কাজে লাগল না। তার আগেই সহজ–সরল খেটে খাওয়া মানুষগুলো বাদীর মামলাই ভন্ডুল করে দিল। হেলালুজ্জামানকে হাজিরই করতে পারেনি ওরা। বাকি দুজন এমন এলোমেলোভাবে কথা বলল যে মনেই হলো ডাক্তার প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ভুয়া। শেষ পর্যন্ত আদালত মামলাই ডিসমিস করে দিলেন।
ডা. বিবেক ও তার বোন আইনজীবী ভিদিয়া আদালত থেকে বেরিয়ে যখন হাসতে হাসতে রাস্তা পার হচ্ছে তখন দেখে হরবিন্দ সিংহ আর ফয়েজ আলীকে। ভিদিয়া বিবেককে দেখে তারা সম্ভ্রমের সঙ্গে পথ ছেড়ে সরে দাঁড়াল। দুই ভাই–বোনই সরাসরি ওদের চোখে চোখ রাখল। ডাক্তারের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে আসা লোক দুজনের চোখে তখন শ্রদ্ধামেশানো লাজুক হাসি।
*এটি একটি গল্প। চরিত্র সব কাল্পনিক।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর নটর ডেম কলেজে দ্বিতীয়দিনের মতো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চলছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এদিন শুধুমাত্র বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। কয়েক শিফটে এতে অংশ নিচ্ছে সারা দেশের লাখো শিক্ষার্থী। এদিকে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকরাও। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে কলেজে প্রবেশ করলেও বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এদিন সকাল থেকেই আরামবাগ থেকে মতিঝিল ও কাকরাইল অভিমুখী সড়কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। এতে সড়কে যান চলাচলও কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। গাজীপুর থেকে ছেলেকে পরীক্ষা দিতে নিয়ে এসেছেন আসলাম হোসাইন। তিনি বলেন, ছেলের আগে থেকে ইচ্ছে ছিল ও নটর ডেমে পড়বে। আমরাও উৎসাহ জুগিয়েছি। এসএসসি পরীক্ষার আগে থেকেই ও নটর ডেমের ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ করতো। পরীক্ষার পর ওর অন্য বন্ধুরা যখন ট্যুরে গেছে, ঘুরে বেড়িয়েছে; ও তখনো পড়ার টেবিলে ছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছেলেটা চান্স পাবে। কারণ ও কষ্ট করেছে। আরও পড়ুন এসএসসিতে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের নটর ডেমে ভর্তির বিশেষ সুযোগ এদিকে, কলেজ সূত্র জানায়, প্রতিবছরের মতো এবারও দুদিনব্যাপী একাদশ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রথম দিনে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের আবেদনকারীদের পরীক্ষা হয়েছে। শুক্রবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই আরামবাগ থেকে মতিঝিল ও কাকরাইল অভিমুখী সড়কে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে/ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া নটর ডেম কলেজের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে কলেজের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ভর্তি আবেদন নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হওয়া আবেদন ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে। তবে নির্ধারিত সময়ে কতসংখ্যক শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। জানা যায়, মিশনারি পরিচালিত কলেজ নটর ডেম ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করে না। ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কত শিক্ষার্থী আবেদন করেছে, তাও জানায় না কর্তৃপক্ষ। শুধুমাত্র সফলভাবে আবেদন করা শিক্ষার্থীরা অনলাইনে প্রবেশপত্র পেয়েছে। তাদের প্রবেশপত্রে পরীক্ষার সময়সহ বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। সে তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়াদের বিশেষ সুযোগ এদিকে, বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে ফলাফল বা গ্রেড পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে বিশেষ সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে নটর ডেম কলেজ। আরও পড়ুন ‘নটর ডেম আমার স্বপ্ন, চান্স পেলে জীবনটাই বদলে যেতো’ কলেজের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে ফল পরিবর্তন হয়ে ভর্তির আবেদনের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ফলাফল পরিবর্তনের সব প্রকার প্রমাণপত্রসহ সরাসরি কলেজ অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। আসনসংখ্যা কত বিজ্ঞান বিভাগে বাংলা মাধ্যমে ১ হাজার ৮১০টি এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৩২০টি আসন রয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৭৫০টি এবং মানবিক বিভাগে ৪১০টি আসন রয়েছে। সব মিলিয়ে নটর ডেম কলেজে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন ৩ হাজার ২৯০টি। এএএইচ/এমএমকে
ভোলা পৌরসভার চারটি ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পে বরাদ্দ ১২ লাখ ৫৯২ টাকা। কাগজে-কলমে এসব প্রকল্পের জন্য বাস্তবায়ন কমিটিও আছে, বরাদ্দের টাকাও উত্তোলন হয়েছে। কিন্তু মাঠে গিয়ে মিলছে না প্রকল্পের কাজের কোনো চিহ্ন। উল্টো বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকা পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী বলছেন, এসব প্রকল্পের কাজ সম্পর্কেই তারা জানেন না। ফলে কাজ ছাড়াই সরকারি বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে। ভোলা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে টিআর প্রকল্পের আওতায় পৌর এলাকার ড্রেন নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য চারটি প্রকল্পে মোট ১২ লাখ ৫৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সদর রোডের বরিশাল দালানসংলগ্ন সংযোগ ড্রেন নির্মাণে ৩ লাখ টাকা, সদর রোডের ঘোষপট্টি সংলগ্ন সংযোগ ড্রেন নির্মাণ এবং ১ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরুল ইসলামের বাসার সীমানা ড্রেন থেকে আবহাওয়া অফিসের বাউন্ডারি সংলগ্ন ড্রেন মেরামত ও নির্মাণে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। আরও পড়ুন মেঘনার ভাঙনে হুমকির মুখে ভোলা শহর এ ছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপট্টি সড়কের ড্রেন সংস্কার ও মেরামতে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৫৯২ টাকা এবং কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেন সংস্কার ও মেরামতে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা জানতে সরেজমিনে গিয়ে কোনো ড্রেন নির্মাণ, সংস্কার বা মেরামতের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ‘পৌরসভায় চাকরি করা ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখে ‘সমাজসেবক’ দেখানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন’ বরিশাল দালান এলাকার ব্যবসায়ী কিরণ ও স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, কয়েক বছর ধরে বরিশাল দালানসংলগ্ন সংযোগ ড্রেনের কোনো কাজ হয়নি। কয়েক মাস আগে বরিশাল দালানের সামনে মাটি খোঁড়া হয়েছিল। দুই দিন পর আবার বালু দিয়ে সেটি ভরাট করা হয়। তারা বলেন, ওই সময় জানতে চাইলে তাদের বলা হয়েছিল সেখানে ড্রেনের কাজ হবে। কিন্তু এরপর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও ড্রেনের কোনো কাজ হয়নি। ‘সাত-আট বছর আগে কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেনের কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সংস্কার বা মেরামতের কাজও হয়নি’ অন্যদিকে খাদ্য গুদামসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. ইবাদুর রহমান ও মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, সাত-আট বছর আগে কাশিশ্বর ব্রিজ থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ড্রেনের কাজ হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। এমনকি সংস্কার বা মেরামতের কাজও হয়নি। আরও পড়ুন নাক চেপে পথ চলার দুই দশক, তবুও হয়নি সমাধান তাদের ভাষ্য, এ বছর ওই ড্রেন সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের কথা তারা শুনেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার বা মেরামতের কাজ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাহিম ইসলাম বলেন, চারটি প্রকল্পে মোট ১২ লাখ ৫৯২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি বলে তারা দেখেছেন। তার অভিযোগ, কাজ না করেই অর্থ উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। ‘প্রকল্পের টাকা ফেরত যাতে না যায়, সে জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বর্ষা ও তার বদলির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ হবে’- ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান তিনি বলেন, পৌরসভায় চাকরি করা ব্যক্তিদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে রেখে ‘সমাজসেবক’ দেখানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করছেন। রাহিম ইসলাম আরও বলেন, সরকারি অর্থের অনিয়মের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। একই সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি জানান তিনি। চার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পৌরসভার পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে একটি বাস্তবায়ন কমিটি করা হয়। এতে মো. আনোয়ার হোসেনকে সভাপতি, মো. ফারুককে সম্পাদক এবং জাকীর হোসেন, মো. হাসান ও ইয়াকুবকে সদস্য করা হয়। কমিটির নথিতে তাদের সবাইকে সমাজসেবক হিসেবে দেখানো হয়েছে। টিআর যাচাই-বাছাই উপকমিটির সভাপতি ছিলেন ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান। আরও পড়ুন ৪০ বছরেও পাকা হলো না ভোলার এক কাঁচা সড়ক বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. জাকীর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে আমি বা কমিটির অন্য সদস্যরা কিছুই জানেন না। সাবেক প্রশাসক মিজানুর রহমানের কথায় তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় স্বাক্ষর করেছেন। জাকীর হোসেন জানান, তাকে কাগজপত্র জমা দিতে বলায় তিনি ভেবেছিলেন পৌরসভা থেকে কোনো অনুদান বা বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ কারণে কোনো প্রশ্ন না করেই কাগজপত্র জমা ও স্বাক্ষর করেছেন। প্রকল্পের কাজ না করে অর্থ উত্তোলন এবং বাস্তবায়ন কমিটিতে পৌরসভার কর্মচারীদের ‘সমাজসেবক’ হিসেবে দেখানোর বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পৌরসভার সাবেক প্রশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহীর পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, পৌরসভার পাঁচ কর্মচারী পৌরসভার নাগরিক হওয়ায় তাদের বাস্তবায়ন কমিটি বা সিপিপি সদস্য করা হয়েছে। এতে কোনো অপরাধ নেই। বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য হলেই কাজ কোথায় হবে, তা তাদের জানা থাকবে—এমন নয়। আরও পড়ুন এ যেন বাতির নিচে অন্ধকার! প্রকল্পের কাজ না করেই টাকা উত্তোলনের বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, প্রকল্পের টাকা ফেরত যাতে না যায়, সে জন্য টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে বর্ষা ও তার বদলির কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যে কাজ হবে। অভিযোগের বিষয়ে ভোলা পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘নথিপত্র ও সরেজমিনে গিয়ে আমরা বিষয়টি দেখছি। বৃষ্টির কারণে হয়তো কাজটি হয়নি। তবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার কোনো সুযোগ নেই।’ নথিপত্র যাচাই ও সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা এবং বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় বা উত্তোলন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। কেএইচকে/জেআইএম
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে কিছু জ্বালানি স্টেশনের পাম্পে সঠিক মূল্য প্রদর্শন করাও সম্ভব হচ্ছে না।গ্যাসবাডি নামের জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্মের পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে উঠেছে। এসব স্টেশনের ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন বোর্ডে সর্বোচ্চ চারটি সংখ্যা দেখানোর সুযোগ থাকায় তার বেশি দাম সেখানে প্রদর্শন করা সম্ভব নয়।প্রতিবেদনটি গ্যাসবাডির সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ডি হানের প্রকাশিত তথ্যে কোন শহরের কোন নির্দিষ্ট জ্বালানি স্টেশনে এই দাম নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে তিনি সেখানে প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল্যের একটি স্ক্রিনশট দেখিয়েছেন।যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৭ দশমিক ৭৬ ডলার। এই দাম এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫৫ সেন্ট এবং এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৮১ ডলার বেশি।পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ৮৭ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের জুনে গড়া আগের সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮১ ডলারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।ইআইএর তথ্যানুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটির ডিজেলের দাম ৩ দশমিক ৭ সেন্ট বেড়েছে। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৯৭ ডলার।ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্টেশনে অস্বাভাবিক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেনারে একটি জ্বালানি স্টেশনে সাধারণ পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ৯ দশমিক ৬৯ ডলার ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। সিবিএস ১২ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।গত মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় এলাকার একটি শেভরন স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৮ দশমিক ৮৯ ডলার এবং সাধারণ পেট্রলের দাম ৮ দশমিক ২৯ ডলার নেওয়া হচ্ছিল বলে খবর পাওয়া যায়।ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সান বার্নার্ডিনো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার কয়েকটি জ্বালানি স্টেশনে অস্বাভাবিক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত অভিযোগে উল্লেখ করা কোনো অস্বাভাবিক দামের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি।ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে জ্বালানির দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, অন্তত মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।গত বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে থাকবে। দাম কমতেই থাকবে এবং আমরা তা আরও কমিয়ে আনব। আমার মনে হয়, পেট্রলের দাম আমরা প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে পারব।’ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম কমে আসবে—বসন্তের শুরু থেকেই ট্রাম্প এ কথা বলে আসছেন। ওই সময়ই তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালান।মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম কমিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প মরিয়া হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার অনুমোদনও দিয়েছেন।চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন।দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই মজুত থেকে আরও প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল কমে যায়। ফলে মজুতে থাকা তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল।