জাতীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন প্রশাসনের

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন প্রশাসনের
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন শুরু করল ডাকসু, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন প্রশাসনের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব এবার শিক্ষার্থীদের দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এ জন্য ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকদের রেটিং দেওয়া হচ্ছে।

তবে শিক্ষক মূল্যায়নের এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের ভাষ্য, শিক্ষক মূল্যায়ন ডাকসুর কাজ নয়; এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় ডাকসু ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে ওয়েবসাইটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ডাকসুর নেতারা জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের বিভিন্ন মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে পারবেন।

ওয়েবসাইটে এরই মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষকের রেটিং দেখা যাচ্ছে। কেউ পেয়েছেন ৫-এর মধ্যে ৫। আবার কারও রেটিং নেমে এসেছে ১ কিংবা ২-এ।

যে মানদণ্ডে শিক্ষকদের মূল্যায়ন

‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারত্ব এবং সার্বিক সন্তুষ্টি।

এসব বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষকদের রেটিং পয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে।

ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দিন আগে ওয়েবসাইটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়। এরই মধ্যে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন। আগামী সাত দিন ওয়েবসাইটটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। এ সময়ে পাওয়া সমালোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।

এরপর তিন মাসের মূল্যায়ন ও মতামতের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। সেই প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ডাকসু।

শিক্ষার্থীরা কীভাবে রেটিং দেবেন

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার তত্ত্বাবধানে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ডাকসুর নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেও বিষয়টির প্রশাসনিক সমাধান না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়েছে।

রাফিয়া বলেন, কোনো শিক্ষার্থী তাঁর একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে প্রবেশের চেষ্টা করলে ওই ই-মেইলে একটি কোড পাঠানো হবে। কোড ব্যবহার করে প্রবেশের পর ওই শিক্ষার্থী শুধু নিজের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। অন্য বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ডাকসুর যুক্তি

শিক্ষক মূল্যায়নের বিষয়ে ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, এই ব্যবস্থা চালুর উদ্দেশ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি করা নয়; বরং পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং একটি কার্যকর ফিডব্যাক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

ডাকসুর ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট, মিডটার্ম ও সেমিস্টার ফাইনালের মাধ্যমে নিয়মিত মূল্যায়ন করা হয়। কিন্তু শিক্ষকদের পাঠদান কীভাবে হচ্ছে, কোথায় উন্নতির প্রয়োজন—এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মতামত নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা এত দিন ছিল না।

সাদিক কায়েমের দাবি, ডাকসু দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু এক বছরেও প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ডাকসুর উদ্যোগে ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যর্থ হওয়ায় আমরা ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি শুরু করেছি।’

এটা ডাকসুর কাজ নয়

ডাকসুর উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট চালুর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ ডাকসুর কাজের মধ্যে পড়ে না। তবে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষকের বিষয়ে নিজেদের মতামত জানাতে পারেন, এ ধরনের রেটিংয়ের ব্যবস্থা আন্তর্জাতিকভাবেও রয়েছে বলে উল্লেখ করে তাঁর মত, এটি কোনো অফিশিয়াল মূল্যায়ন নয়; এ ধরনের উদ্যোগ থাকতেই পারে।

তবে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন অধ্যাপক আবদুস সালাম। এর মাধ্যমে শিক্ষকেরা বুঝতে পারবেন, তাঁদের অবস্থান কোথায় এবং কোথায় উন্নতির প্রয়োজন। একই সঙ্গে কারা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন, সেটিও নির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে ঠিক করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই সহ–উপাচার্য।

অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মূল্যায়নের অফিশিয়াল ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং ইভাল্যুয়েশনের জন্য নিজস্ব একটি নীতিমালা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে। এখন শুধু এর বাস্তবায়ন বাকি।

‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটের হোমপেজ

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রশাসনের মূল্যায়ন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও ডাকসুর এই কার্যক্রমকে সঠিক মনে করেন না। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন প্রশাসনের কাজ। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ ইতিমধ্যে শেষের দিকে। নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনেই তা করা হচ্ছে।

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী বলেন, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন।

কোন শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মূল্যায়ন করবেন, সে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করেছে জানিয়ে এই সহ–উপাচার্য বলেন, এমন কোনো শিক্ষার্থী যদি শিক্ষককে মূল্যায়ন করেন, যিনি নিজেই ক্লাসে উপস্থিত থাকেন না, তাহলে সেই মূল্যায়ন কোনোভাবেই যৌক্তিক হবে না।

অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী বলেন, ‘ডাকসুর পাবলিকলি এই ওয়েবসাইট তৈরি করাটা কোনোভাবেই সঠিক নয়।’

‘অনধিকার চর্চা’ বলছেন শিক্ষক

ডাকসুর শিক্ষক মূল্যায়নের ওয়েবসাইট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই শিক্ষক লিখেছেন, শিক্ষক মূল্যায়নের উদ্যোগ কে নেবে—এটি ডাকসুর কাজ কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষক মূল্যায়নের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এ ক্ষেত্রে ডাকসু কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করতে বা চাপ তৈরি করতে পারে।

খোরশেদ আলম আরও লিখেছেন, ‘শিক্ষক মূল্যায়নের নামে ডাকসু যেটা করছে, এটা অনধিকার চর্চা।’

এর ফলে অনানুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকদের রেটিং হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এমন পরিস্থিতি পরবর্তী সময়ে ‘মব’-এ রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই শিক্ষক। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক মূল্যায়নের ইতিবাচক ফলাফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে মত দিয়েছেন খোরশেদ আলম।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর কারিগরি প্রশিক্ষণ

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় তিন সপ্তাহব্যাপী মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে ৩৬ জন পাহাড়ি-বাঙালি শিক্ষার্থীর মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-আমিন এর নির্দেশনায় এ কারিগরি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী ৩৬ শিক্ষার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন। এ সময় দীঘিনালা সরকারি পলিটেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কারিগরি শিক্ষক মো. রুবেল আহমেদ, দীঘিনালা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র হাতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তাদের আত্মকর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতায় অবদান রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের মতো ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে কাজে লাগবে। এ ধরনের ব্যতিক্রমধর্মী ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তারা দীঘিনালা জোন কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট ক্যাপ্টেন মো. জাহিদ হাসান জয় বলেন, ‘কারিগরি ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।’ প্রবীর সুমন/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর হাত-পা বিচ্ছিন্ন, বাঁচাতে গিয়ে পথচারী নিহত

ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুর হাত-পা বিচ্ছিন্ন, বাঁচাতে গিয়ে পথচারী নিহত

আইপিডিসি ফাইন্যান্সে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

আইপিডিসি ফাইন্যান্সে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ

৭ লেখক-শিল্পী পাচ্ছেন দোনাগাজী পদক

৭ লেখক-শিল্পী পাচ্ছেন দোনাগাজী পদক

ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

ময়মনসিংহ নগরীর ঢাকা বাইপাস এলাকায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাত বছরের এক শিশু ও অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোনিয়া ও একই উপজেলার সাদেক। আহত শিশুর নাম সাজিদ। সে নিহত সোনিয়ার ছেলে। অটোরিকশাচালকের নাম হারুন। আরও পড়ুন চটপটি খেতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে হাত-পা হারালেন রাহাত ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, সকালে ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে সোনিয়া, তার সাত বছরের ছেলে সাজিদ ও সাদেককে নিয়ে ঢাকামুখী বাইপাস এলাকায় আসেন অটোরিকশাটি। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাদেক ও সোনিয়া মারা যান। গুরুতর আহত সাজিদ ও অটোরিকশাচালক হারুনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসআই রাকিবুল আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা করছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ

ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই
খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি ফার্মেসি ও তিনটি চা দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে ওই চার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গিরিমৈত্রী সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ধর্মঘর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পাশের লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই একটি ফার্মেসি ও তিনটি চা দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- পল্লি চিকিৎসক আথুইশে মারমা এবং চা বিক্রেতা সাথং মারমা, রিম্রাচাই মারমা ও অংগ্য মারমা। আথুইশে মারমা জানান, তার ফার্মেসিতে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকার ওষুধ ছিল। সব হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি ধারণা করছেন, পাশের একটি চা দোকানের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে মানিকছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লেগেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ বলেন, প্রাথমিকভাবে চা দোকানের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে। প্রবীর সুমন/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান

হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান

জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

0 Comments