জাতীয়

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড, পাম্পের ডিসপ্লেতে দাম দেখানোর জায়গা নেই

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড, পাম্পের ডিসপ্লেতে দাম দেখানোর জায়গা নেই
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড, পাম্পের ডিসপ্লেতে দাম দেখানোর জায়গা নেই

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারে উঠেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে কিছু জ্বালানি স্টেশনের পাম্পে সঠিক মূল্য প্রদর্শন করাও সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাসবাডি নামের জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্মের পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান জানান, ক্যালিফোর্নিয়ার পাঁচটি জ্বালানি স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৯৯৯ ডলারে উঠেছে। এসব স্টেশনের ডিজিটাল মূল্য প্রদর্শন বোর্ডে সর্বোচ্চ চারটি সংখ্যা দেখানোর সুযোগ থাকায় তার বেশি দাম সেখানে প্রদর্শন করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদনটি গ্যাসবাডির সংগ্রহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ডি হানের প্রকাশিত তথ্যে কোন শহরের কোন নির্দিষ্ট জ্বালানি স্টেশনে এই দাম নেওয়া হচ্ছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তবে তিনি সেখানে প্রতিবেদনে উল্লেখিত মূল্যের একটি স্ক্রিনশট দেখিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় ডিজেলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৭ দশমিক ৭৬ ডলার। এই দাম এক সপ্তাহ আগের তুলনায় ৫৫ সেন্ট এবং এক বছর আগের তুলনায় ২ দশমিক ৮১ ডলার বেশি।

পুরো যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের দাম নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৫ দশমিক ৮৭ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের জুনে গড়া আগের সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৮১ ডলারের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
ইআইএর তথ্যানুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটির ডিজেলের দাম ৩ দশমিক ৭ সেন্ট বেড়েছে। আর গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৯৭ ডলার।

ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্টেশনে অস্বাভাবিক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ফেনারে একটি জ্বালানি স্টেশনে সাধারণ পেট্রলের দাম প্রতি গ্যালন ৯ দশমিক ৬৯ ডলার ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। সিবিএস ১২ নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় এলাকার একটি শেভরন স্টেশনে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ৮ দশমিক ৮৯ ডলার এবং সাধারণ পেট্রলের দাম ৮ দশমিক ২৯ ডলার নেওয়া হচ্ছিল বলে খবর পাওয়া যায়।

ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সান বার্নার্ডিনো ও লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার কয়েকটি জ্বালানি স্টেশনে অস্বাভাবিক বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। যদিও এখন পর্যন্ত অভিযোগে উল্লেখ করা কোনো অস্বাভাবিক দামের ঘটনা প্রমাণিত হয়নি।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে জ্বালানির দাম বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, অন্তত মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে তেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

গত বুধবার ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই তেলের দাম দ্রুত কমতে থাকবে। দাম কমতেই থাকবে এবং আমরা তা আরও কমিয়ে আনব। আমার মনে হয়, পেট্রলের দাম আমরা প্রতি গ্যালন ২ ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে পারব।’

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম কমে আসবে—বসন্তের শুরু থেকেই ট্রাম্প এ কথা বলে আসছেন। ওই সময়ই তিনি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালান।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম কমিয়ে আনার জন্য ট্রাম্প মরিয়া হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার অনুমোদনও দিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন।

দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই মজুত থেকে আরও প্রায় ১২ লাখ ব্যারেল তেল কমে যায়। ফলে মজুতে থাকা তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২

ময়মনসিংহ নগরীর ঢাকা বাইপাস এলাকায় ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সাত বছরের এক শিশু ও অটোরিকশাচালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ফুলবাড়িয়া উপজেলার সোনিয়া ও একই উপজেলার সাদেক। আহত শিশুর নাম সাজিদ। সে নিহত সোনিয়ার ছেলে। অটোরিকশাচালকের নাম হারুন। আরও পড়ুন চটপটি খেতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে হাত-পা হারালেন রাহাত ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। পুলিশ জানায়, সকালে ফুলবাড়িয়া উপজেলা থেকে সোনিয়া, তার সাত বছরের ছেলে সাজিদ ও সাদেককে নিয়ে ঢাকামুখী বাইপাস এলাকায় আসেন অটোরিকশাটি। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাদেক ও সোনিয়া মারা যান। গুরুতর আহত সাজিদ ও অটোরিকশাচালক হারুনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসআই রাকিবুল আলম বলেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে গেছেন। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে আটকের চেষ্টা করছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ

ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই
খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি ফার্মেসি ও তিনটি চা দোকান পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে ওই চার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর প্রায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গিরিমৈত্রী সরকারি ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন ধর্মঘর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পাশের লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এর আগেই একটি ফার্মেসি ও তিনটি চা দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- পল্লি চিকিৎসক আথুইশে মারমা এবং চা বিক্রেতা সাথং মারমা, রিম্রাচাই মারমা ও অংগ্য মারমা। আথুইশে মারমা জানান, তার ফার্মেসিতে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকার ওষুধ ছিল। সব হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তিনি ধারণা করছেন, পাশের একটি চা দোকানের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে মানিকছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি লেগেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ পারভেজ বলেন, প্রাথমিকভাবে চা দোকানের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিস্তারিত জানা যাবে। প্রবীর সুমন/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান

হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান

জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

হঠাৎ করেই কি ত্বকের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে
হঠাৎ করেই কি ত্বকের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে

ত্বকের রং কালচে বা গাঢ় হয়ে যাওয়াকে অনেকেই অতিরিক্ত রোদে পোড়া, প্রসাধনীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বয়সজনিত পরিবর্তন বলে মনে করেন। কিন্তু সব সময় তা না–ও হতে পারে। বিভিন্ন হরমোনজনিত রোগে ত্বকের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে কালচে বা গাঢ় হতে পারে।শরীরে অ্যাডিসন রোগের লক্ষণ দেখা দিলে ত্বকের রং ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যেতে পারেকোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্বকের রংয়ের পরিবর্তন জটিল রোগের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে। বিশেষ করে পরিবর্তিত ত্বকের সঙ্গে দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, মাসিকের সমস্যা বা রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।অ্যাডিসন রোগত্বক অস্বাভাবিকভাবে কালো হওয়ার অন্যতম কারণ হলো অ্যাডিসন রোগ বা অ্যাড্রেনাল ইনসাফিসিয়েন্সি। আমাদের শরীরের কিডনির ওপর অবস্থিত অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে কর্টিসলসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি হয়। এ গ্রন্থি পর্যাপ্ত কর্টিসল উৎপাদন করতে না পারলে শরীরে অ্যাডিসন রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এতে ত্বকের রং ধীরে ধীরে কালচে হয়ে যেতে পারে। বিশেষত হাতের তালুর ভাঁজে, আঙুলের গাঁটে, কনুই ও হাঁটুতে, পুরোনো ক্ষত বা দাগের স্থানে, ঠোঁট ও মুখের ভেতরের অংশে, মাড়িতে এ প্রবণতা বেশি থাকে।এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, বমি বা পেটের সমস্যা, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা ও রক্তচাপ কম থাকার মতো উপসর্গ থাকতে পারে। ত্বক কালো হওয়ার পেছনে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত এসিটিএইচ হরমোনের বৃদ্ধি মূল ভূমিকা রাখে। কর্টিসল কমে গেলে শরীর বেশি করে এসিটিএইচ উৎপাদনের চেষ্টা করে এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত মেলানিনের উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে ত্বকের রং গাঢ় হতে থাকে।মানুষ কেন আত্মহত্যার চিন্তা করে, কাদের ঝুঁকি বেশি অনেকেই মনে করেন, ভুল প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ত্বকের রং কালচে হয়ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানসঘাড়, বগল, কুঁচকি বা শরীরের ভাঁজের জায়গায় ত্বক কালচে, মোটা ও মখমলের মতো হয়ে গেলে তাকে বলা হয় অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস। এতে গোটা শরীরের রং কালো হয় না, বরং নির্দিষ্ট স্থানে বিশেষ ধরনের কালচে পরিবর্তন দেখা যায়।এর অন্যতম প্রধান কারণ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। অর্থাৎ শরীরে ইনসুলিন থাকা সত্ত্বেও সেটি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফলে শরীর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি করে এবং এর প্রভাবে ত্বকের কোষের বৃদ্ধি ও রঞ্জক পরিবর্তন হতে পারে।এটি বিশেষভাবে দেখা যায়—অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা থাকলেপ্রি-ডায়াবেটিস ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসেপলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম রোগেকিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যায়বিশেষ করে অল্প বয়সে ঘাড় হঠাৎ কালো হতে শুরু করলে শুধু প্রসাধনী ব্যবহার না করে রক্তে শর্করা ও বিপাকীয় ঝুঁকি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।গোটা শরীরের রং কালো হবে না, বরং নির্দিষ্ট স্থানে বিশেষ ধরনের কালচে পরিবর্তন দেখা যাবে।পিএমওএসে কি ঘাড়ের রং কালো হয়?প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে পিএমওএস একটি পরিচিত হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যা। এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকে। ফলে ঘাড়, বগল ও শরীরের ভাঁজে অ্যাকানথোসিস নাইগ্রিকানস দেখা দিতে পারে। তবে ঘাড় কালো হলেই পিএমওএস, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। অনিয়মিত মাসিক, অতিরিক্ত লোম, ব্রণ, ওজন বৃদ্ধি ও অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে হয়।কুশিং সিনড্রোমশরীরে দীর্ঘদিন অতিরিক্ত কর্টিসল থাকলে কুশিং সিনড্রোম হতে পারে। এতে মুখ গোল হয়ে যাওয়া, পেটে চর্বি বৃদ্ধি, হাত-পা তুলনামূলক সরু হয়ে যাওয়া, উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস, পেশির দুর্বলতা এবং ত্বকে বেগুনি বা লালচে দাগের মতো বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত অতিরিক্ত এসিটিএইচের সঙ্গে সম্পর্কিত কুশিং সিনড্রোমে ত্বকের রংও গাঢ় হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড–জাতীয় ওষুধ সেবন করলেও শরীরে গুরুত্বপূর্ণ হরমোনগত পরিবর্তন ঘটতে পারে।থাইরয়েড ও অন্যান্য হরমোনজনিত রোগকিছু থাইরয়েড রোগসহ বিভিন্ন হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যায় ত্বকের রং, আর্দ্রতা ও গঠনে পরিবর্তন আসতে পারে। আবার ভিটামিনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী লিভার বা কিডনি রোগ, কিছু ওষুধ এবং অন্যান্য অসুখেও ত্বক গাঢ় হতে পারে।ব্রণের সমস্যা দূর করতে পিম্পল প্যাচ যেভাবে কাজ করেত্বক কালো হওয়ার সঙ্গে অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবেকখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?ত্বক কালো হওয়ার সঙ্গে নিচের যেকোনো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত–অস্বাভাবিক দুর্বলতাদ্রুত ওজন কমে যাওয়াক্ষুধামান্দ্য বা বারবার বমিরক্তচাপ কম থাকা বা দাঁড়ালে মাথা ঘোরাঘাড় বা বগল হঠাৎ বেশি কালো ও মোটা হয়ে যাওয়াঅতিরিক্ত তৃষ্ণা বা প্রস্রাবমাসিক অনিয়মিত হওয়াঅতিরিক্ত লোম গজানো বা ব্রণদীর্ঘদিন স্টেরয়েড ওষুধ ব্যবহারমুখের ভেতর বা পুরোনো ক্ষতের স্থানে অস্বাভাবিক কালচে রংচিকিৎসা কী?সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কারণ নির্ণয়। শুধু ফরসা করার ক্রিম ব্যবহার করে মূল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অ্যাডিসন রোগ হলে প্রয়োজনীয় হরমোন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন, ডায়াবেটিস থাকলে যথাযথ চিকিৎসা এবং পিএমওএস বা অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ থাকলে কারণভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োজন।ত্বকের রঙের পরিবর্তন অনেক সময় শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়; এটি শরীরের ভেতরে চলতে থাকা কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সংকেতও হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।ওষুধ নয়, প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, সোশ্যাল প্রেসক্রাইবিং কী বলছে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার

‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার

ইতিহাসে বিরল, ভারতীয় স্পিনারের হাত ধরে ১২৯ বছর পর ঘটলো এমন ঘটনা

ইতিহাসে বিরল, ভারতীয় স্পিনারের হাত ধরে ১২৯ বছর পর ঘটলো এমন ঘটনা

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিবির নেতার মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিবির নেতার মৃত্যু

0 Comments