বলিউডের নাচের গানে ক্যাটরিনা কাইফের উপস্থিতি এখন আলাদা এক আকর্ষণ। ‘শিলা কি জওয়ানি’, ‘চিকনি চামেলি’, ‘কমলি’, ‘কালা চশমা’, ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’—একটির পর একটি গানে তাঁর নাচ দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। পর্দায় তাঁর শরীরী ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস আর ছন্দের সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষমতা দেখে আজ অনেকেরই মনে হতে পারে, ক্যাটরিনা বুঝি শুরু থেকেই দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পী ছিলেন।
কিন্তু বাস্তব গল্পটা একেবারেই আলাদা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নাচ নিয়ে কম অপমান সহ্য করতে হয়নি ক্যাটরিনাকে। এমনকি এক কোরিওগ্রাফার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাচে শূন্য। তোমার ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ সে কথাই একসময় ক্যাটরিনাকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিল, হয়তো তিনি সত্যিই নাচতে পারেন না। অথচ কয়েক বছর পর সেই ক্যাটরিনাই এমন সব গানে নাচলেন, যেগুলো বলিউডের জনপ্রিয় নাচের গানের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার বসকো মার্টিস ও সিজার গোমেজের পডকাস্টে ক্যাটরিনার নাচ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই পুরোনো দিনের গল্প। সেখানে ছিলেন কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারাহ খান। তাঁরাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘শিলা কি জওয়ানি’ কীভাবে ক্যাটরিনার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনেছিল।
‘শিলা কি জওয়ানি’ বদলে দিয়েছিল সব
‘তিস মার খান’ সিনেমার ‘শিলা কি জওয়ানি’ শুধু একটি জনপ্রিয় আইটেম গান ছিল না, ক্যাটরিনার জন্য এটি ছিল ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। গানটি মুক্তির পর দর্শকের চোখে ক্যাটরিনার পরিচয়ই যেন বদলে যায়।
পডকাস্টে বসকো বলেন, ‘শিলা কি জওয়ানি’ ক্যাটরিনার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ ছিল। ফারাহও তাঁর সঙ্গে একমত হন।
তবে ফারাহর মনে পড়ে, সেই সময় ক্যাটরিনাকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কেউ খুব একটা চিনতেন না। ক্যাটরিনা এর আগে ‘টাচ মি’সহ বেশ কিছু গানে নেচেছেন। কিন্তু সেগুলো তাঁকে নাচের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেনি।
ফারাহ বলেন, ‘তখন আমরা জানতামই না যে ক্যাটরিনা নাচতে পারে। সে “টাচ মি” করেছিল, কিন্তু নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিল না। ক্যাটরিনার সঙ্গে আমার প্রথম কোরিওগ্রাফ করা গান ছিল “জাস্ট চিল”—“ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া” সিনেমার।’
এরপর আসে ‘শিলা কি জওয়ানি’। ফারাহ জানান, গানটির শুটিংয়েও ছিল না বিশাল আয়োজন। মাত্র ১০ জন ছেলে ও ক্যাটরিনাকে নিয়ে গানটির শুটিং করেছিলেন তিনি। কিন্তু পর্দায় সেই গান যে এত বড় আলোড়ন তুলবে, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেননি।
গানটি মুক্তির পর ক্যাটরিনার নাচ নিয়ে দর্শকের ধারণা বদলে যায়। তাঁর নাচের সঙ্গে যুক্ত হয় একধরনের আত্মবিশ্বাস, সাবলীলতা ও তারকাসুলভ উপস্থিতি।

‘তুমি নাচে শূন্য’
ক্যাটরিনার এই পরিবর্তনের পেছনে অবশ্য শুধু একটি গান নয়, ছিল দীর্ঘ পরিশ্রম। পডকাস্টে বসকো জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ক্যাটরিনাকে নাচের জন্য অপমান করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ক্যাটরিনা অনেক পরিশ্রম করতেন, কিন্তু এক কোরিওগ্রাফার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাচে শূন্য। তোমার ছেড়ে দেওয়া উচিত।’
কথাটি শুনে ফারাহ খান বিস্মিত হন। তিনি মজা করে বলেন, ‘আহা, বেচারি! শূন্য তো ছিল না। হয়তো চার–পাঁচ ছিল। কিন্তু “শিলা কি জওয়ানি”র পর সে ৯ বা ১০ হয়ে গেল।’
এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ক্যাটরিনার পরিবর্তনের গল্প। একজন মানুষকে তাঁর দুর্বলতার কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু সেই দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করা কঠিন। ক্যাটরিনা সেটিই করেছিলেন।
অপমানের পর ক্যাটরিনা নাচ ছেড়ে দেননি; বরং আরও বেশি অনুশীলন করেছেন। নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। একসময় যে জায়গায় তাঁকে ‘শূন্য’ বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর নাচই হয়ে ওঠে জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।

বসকোর কথায় বদলে যায় আত্মবিশ্বাস
ক্যাটরিনা নিজেও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নাচ নিয়ে তাঁর শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একজন কোরিওগ্রাফারের মন্তব্য তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, তিনি কখনোই ভালো নৃত্যশিল্পী হতে পারবেন না।
ক্যাটরিনার মনে হয়েছিল, তিনি নাচতেই পারেন না। এই জায়গায় বসকোর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাটরিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বসকো তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে তিনি আসলে ভালো নাচেন। শুধু নিজের ওপর আরেকটু কাজ করতে হবে। এই ছোট্ট উৎসাহই হয়তো তাঁর আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন আনে।
পরে বসকো–সিজার জুটির কোরিওগ্রাফিতেই ‘রেস’ সিনেমার ‘টাচ মি’ গানে নাচেন ক্যাটরিনা। সেই সময়ও তাঁর নাচ নিয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে শুরু করেন, নাচ তাঁর নাগালের বাইরে নয়।
‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’
‘শিলা কি জওয়ানি’র পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ক্যাটরিনাকে। ‘অগ্নিপথ’–এর ‘চিকনি চামেলি’ তাঁর নাচের জনপ্রিয়তাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়। এই গানে ক্যাটরিনার নাচ ছিল আরও আক্রমণাত্মক, শক্তিশালী ও ছন্দময়। গানটি মুক্তির পর তাঁর নাচ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
এরপর ‘ধুম ৩’–এর ‘কামলি’। এখানে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নাচের চ্যালেঞ্জ ছিল। গানের কোরিওগ্রাফি, শরীরের নমনীয়তা ও দ্রুতগতির মুভমেন্ট—সব মিলিয়ে গানটি ক্যাটরিনার নাচের আরেকটি দিক দেখায়।
‘কালা চশমা’তে এসে ক্যাটরিনার নাচ আবার বদলে যায়। এবার ছিল পার্টি ধাঁচের নাচ, সহজ ভঙ্গি ও তারুণ্যের ছন্দ। গানটি শুধু সিনেমার দর্শক নয়, সামাজিক অনুষ্ঠান ও পার্টিরও অন্যতম জনপ্রিয় গান হয়ে ওঠে।
এর সঙ্গে যোগ হয় ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’, ‘আফগান জালেবি’, ‘নাচদে নে সারে’র মতো গান। একসময় যাঁকে নাচের জন্য শুনতে হয়েছিল ‘তুমি শূন্য’, তিনিই তখন বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী।
দুই বছর বড় পর্দার বাইরে
এই মুহূর্তে অবশ্য ক্যাটরিনা তাঁর নাচের ক্যারিয়ারের সেই ব্যস্ত সময় থেকে কিছুটা দূরে। গত দুই বছর তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। বর্তমানে মাতৃত্বের সময় উপভোগ করছেন অভিনেত্রী।
ক্যাটরিনার সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এ সিনেমায় বিজয় সেতুপতির সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও পরে ওটিটিতে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
যারা অলরেডি ভুল বা খারাপ কাজ করছে, শয়তান তাদের পেছনে লেগে থাকে না। সে ওত পেতে বসে থাকে সীরাতে মুস্তাকিম তথা সঠিক বা সিধা রাস্তায়। কোনো মানুষ যখন সঠিক রাস্তায় পা বাড়ায়, তখন শয়তান তাকে ওই পথ থেকে সরাতে তৎপর হয়ে ওঠে। সে আক্রমণ চালায় চারদিক থেকে; সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেন, সে (শয়তান) বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব। তারপর তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’। (সুরা আ’রাফ: ১৬, ১৭) সামনে থেকে আক্রমণ করার অর্থ নানা রকম হতে পারে। একটি অর্থ হলো, মানুষ যখনই কোনো ভালো কাজ করতে যাবে, অমনি তার সামনে তাৎক্ষণিক নানা সংকট ও বাধা উপস্থিত হবে। তখন মনের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে তৈরি হবে, কাজটি কি আমি করব, নাকি করব না? যেমন কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর ঘুষ খাবে না, সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো তার চাকরি যাওয়ার উপক্রম হবে, বা তাকে মিটিংয়ে তলব করা হবে, অথবা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দেওয়া হবে। শয়তান অন্যান্য সৃষ্টি ও মানুষকে ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেন ওই ব্যক্তি মনে করে, এই ভালো পদক্ষেপটি নেওয়ার কারণেই হয়তো তার জীবনে এত সমস্যা আসছে। ফলে ভয়ে সে আবার পিছিয়ে যায়। যেমন একজন খ্রিস্টান নারী যখন ইসলামের প্রতি অনুরাগী হতে শুরু করলেন, তখন তিনি ভীতিকর সব স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম আঁকড়ে ধরলেন, তখনই তার সব ভয় কেটে গিয়ে মনে প্রশান্তি নেমে এলো। অর্থাৎ ভালো বা সঠিক রাস্তায় আসতে গেলে শয়তান উত্ত্যক্ত করবেই। শুরুতেই সহজে স্বস্তি মেলে না, কঠিন পরীক্ষা ও কষ্ট পার করার পরেই কেবল আসানি বা স্বস্তি আসে। সহজ পথের জন্য মূল্য দিতে হয়। আরও পড়ুন ডা. জাকির নায়েক / সব কিছু আল্লাহর নির্ধারিত হলে পাপের শাস্তি হবে কেন? পেছন থেকে আক্রমণ করার মানে হলো, শয়তান অতীতের পাপ ও আনন্দময় মুহূর্তগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে। সে বলবে, ‘আগে তোমার জীবন কত উপভোগ্য ছিল, কেন নিজেকে এমন কষ্টের মধ্যে ফেলছ? পুরোনো বন্ধুদের কাছে ফিরে যাও, তাদের সঙ্গে সময় কাটাও।’ মানুষ খুব ভালো করেই জানে যে ওই আড্ডায় গেলে আবারও সেই পরচর্চা, গিবত বা অপকর্মই হবে। অথচ সে তো এগুলো ছেড়ে এসেছিল। শয়তান কেবল ভালোবাসার টানে বন্ধুদের কাছে ফেরায় না, তার মূল উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে আবারও সেই পুরোনো পাপে ডুবিয়ে দেওয়া। পেছন থেকে আক্রমণের আরেকটি রূপ হলো, শয়তান মানুষের অতীত ভুলের কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়ে তাকে গভীর হতাশায় ফেলে দেয় যে, ‘তুমি এত বড় ভুল করেছ, তোমার দ্বারা আর কিচ্ছু হবে না, তোমার ভালো হওয়ার কোনো আশা নেই।’ অতীত পাপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শয়তান মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে তোলে। মানুষ তখন ভাবতে শুরু করে, ‘আমার আর নামাজ পড়ে, দোয়া করে বা রোজা রেখে কী লাভ? আমি তো বহু গুনাহ করেছি, আমার আর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই।’ আমাদের সমাজে অনেকেই এই ধোঁকার মধ্যে পড়ে আছেন। বহু মানুষকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা তো পাপী মানুষ, আমাদের আর কী আশা আছে! আল্লাহ আপনাদের মতো ভালো মানুষের দোয়া শুনবেন, আমাদের কথা শুনবেন না।’ এটি পুরোপুরি শয়তানের ফাঁদ। সে নিজে ক্ষমা চায়নি এবং নিরাশ হয়ে পড়েছে, এখন সে চায় মানুষও যেন একইভাবে নিরাশ হয়ে পড়ে। ডান দিক থেকে আক্রমণের বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম। সাধারণ ব্যবহারে ডান হাত ভালো কাজের প্রতীক। শয়তান মানুষের ভালো কাজ ও দ্বীনি দায়িত্বগুলোকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। কোনো মানুষ ভালো কাজ শুরু করলে তার মনে অহংকার ও আত্মতুষ্টি এনে দেয়। যেমন, কোনো নারী যদি আগে পর্দা না করতেন কিন্তু এখন পর্দা করা শুরু করেছেন, শয়তান তখন তার মনে এই কুচিন্তা ঢুকিয়ে দেয় যে, যারা পর্দা করে না তারা কত নিকৃষ্ট ও দায়িত্বহীন! এভাবে তার মনে শ্রেষ্ঠত্বের ভাব তৈরি হয়। অথচ আল্লাহর দাসত্বের মূল কথাই ছিল বিনয় ও অহংকার ত্যাগ করা। অথচ মানুষ কেবল নিজের নামাজ, দাড়ি, পর্দা কিংবা দ্বীনি ইলমের অহংকারে নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম ভাবতে শুরু করে। এমন কি যদি কেউ মুখে বলে যে, সে নিজেকে বড় মনে করে না, তাহলেও দেখা যায় সে অপরাধীকে ঘৃণা করার পাশাপাশি অপরাধী মানুষটিকেই মনে-প্রাণে খাটো করে দেখছে। মানুষের পাপকে ঘৃণা করা উচিত, কিন্তু মানুষ হিসেবে তাকে একেবারে মূল্যহীন মনে করা উচিত নয়; কারণ ভুল তো যেকোনো মানুষের দ্বারাই হতে পারে। আরও পড়ুন নোমান আলী খান / বাবা-মা ভুল পথে চললে করণীয় কী? ডান দিকের আক্রমণের আরেকটি দিক হলো, ভালো কাজ করার পর মানুষের মনে এই ভুল ধারণা তৈরি হয় যে, সে তো সঠিক পথে চলে এসেছে এবং সে এখন পুরোপুরি নিরাপদ। সে মনে করে, ‘আমি তো হেদায়েত পেয়ে গেছি, বাকি সবাই তো পিছিয়ে আছে।’ মানুষ ভুলে যায় যে কেবল বাহ্যিক ভালো আমলের কারণে কেউ চিরতরে নিখুঁত বা ভালো হয়ে যায় না। ভালো ও মন্দের মিশ্রণেই মানুষ। আল্লাহর দরবারে কার কতটা মূল্য, তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং হজরত ইসমাইল (আ.) যখন কাবাঘর নির্মাণ করছিলেন, যে কাবাঘরে আজ পর্যন্ত এবং কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ নামাজ পড়বে, হজ ও ওমরাহ করবে, তার অশেষ সওয়াব তারা পাবেন, তখনও তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন যে, ‘হে রব, আমাদের এই কাজটুকু কবুল করো।’ তারা কখনো ভাবেননি যে তারা নিশ্চিতভাবে সফল হয়ে গেছেন। কিন্তু ডান দিক থেকে আক্রমণ হলে মানুষ মনে করে, সে নিজে সব ঠিকঠাক বুঝে গেছে, এখন কেবল অন্যদের বোঝার বাকি। যারা নিজেদের দ্বীনদার ও সচেতন মনে করেন, তাদের ওপরেই এই আক্রমণটি সবচেয়ে বেশি হয়। আর বাম দিক থেকে আক্রমণ করার অর্থ হলো, মন্দ ও ভুল কাজগুলোকে চমৎকার ও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা। শয়তান খারাপ জিনিস বা আল্লাহর নাফরমানিকে রূপক শব্দ ও বাহারি অজুহাতে সুন্দর বানিয়ে উপস্থাপন করে। তখন মানুষ পাপ কাজকে নিজের ‘স্বাধীনতা’, ‘মনের আনন্দ’ কিংবা ‘খুশি উদযাপন’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, ‘আমি কি একটু আনন্দও করতে পারি না?’ শয়তান মানুষের চিন্তা ও মনস্তত্ত্বের ওপর এমনভাবে প্রভাব ফেলে যে, মন্দ জিনিসগুলোই মানুষের কাছে ভালো ও আকর্ষণীয় মনে হতে থাকে। অথচ খারাপ কাজকে যে সুন্দর নামই দেওয়া হোক না কেন, তা খারাপই থেকে যায়। শয়তানের এই চতুর্মুখী আক্রমণের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ করে তোলা। আল্লাহ মানুষকে যে পরিস্থিতি ও সুযোগ দিয়েছেন, মানুষ যেন তা ব্যবহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারে, সেটাই তার প্রধান লক্ষ্য। মানুষের নজর যেন কেবল তার যা নেই বা যে ঘাটতি আছে সেদিকেই পড়ে থাকে, আর যা সে পেয়েছে তার প্রতি যেন কখনোই কৃতজ্ঞ হতে না পারে। সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল: রেডিও আজাদ ওএফএফ
সিলেটের একটি মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (মুহতামিম) ফয়জুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর সিলেটের একটি আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পুলিশ এ কথা জানিয়েছে।ফয়জুল হকের বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। এদিকে গতকাল থেকে সিলেট সদর উপজেলার ওই মাদ্রাসা তালাবদ্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে নেই বলেও তাঁরা জানান।তবে শুধু ওই দুই শিশু নয়, মাদ্রাসাটির আরও অনেক শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে এমন অভিযোগের কথা জানা গেছে। তাঁদের দাবি, কয়েকজন শিশুর শরীরেও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে মাদ্রাসার আট বছর বয়সী এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির অভিভাবককে ডেকে এনে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলে। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়গুলো সামনে আসে।ওই শিশুর বাবা বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ হওয়ার পর তাঁর ছেলে আর সেখানে যেতে চাইছিল না। অনেক জিজ্ঞাসা করেও সে প্রথমে কিছু বলেনি। পরে এক পর্যায়ে মাদ্রাসায় তার সঙ্গে কী হয়েছে, তা জানায়।ওই অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, এরপর কয়েকজন অভিভাবক মিলে মাদ্রাসায় গিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন আরও কয়েকজন শিশু একই ধরনের নির্যাতনের কথা জানায়। শিশুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতি রাতে এক থেকে দুজন শিক্ষার্থীকে হুজুরের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য শিশুদের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও তিনি দাবি করেন।স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসাটি আর চালাতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।এর আগে দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ফয়জুল হককে গত বুধবার আটক করে শাহপরান থানা-পুলিশ। পরে নির্যাতনের শিকার এক শিশুর বাবা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়।শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী দুই শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক ফয়জুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। শিশু দুটি সম্প্রতি মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে চলে আসে। তারা আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। অভিভাবকেরা কারণ জানতে চাইলে তারা প্রতি রাতে হুজুরের কক্ষে যেতে হতো বলে জানায়। না গেলে মারধর করা হতো এবং কক্ষে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ কাজ করা হতো বলেও জানায়।পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফয়জুল হক শিশুদের ধর্ষণের কথা আদালতে স্বীকার করেছেন। অন্য আরও কোনো শিক্ষার্থী নির্যাতনের শিকার হয়েছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আমাদের পায়ের নিচে পৃথিবীর ধীরগতির বলয় সব সময় ঘুরেই চলেছে। বিভিন্ন মহাদেশ একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। বিভিন্ন টেকটনিক প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তবে ইতালির অ্যাপেনাইন পর্বতমালায় গভীরে এক অদ্ভুত ভূগর্ভস্থ ঘটনা ঘটছে। ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেফানো তাভানির নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের ভূত্বক জ্যাকেটের খোলা জিপের মতো উন্মুক্ত হয়ে দুই পাশে সরে যাচ্ছে। পাহাড়ের বাইরের দিকটা সংকুচিত হলেও ভেতরের ভূত্বক পরস্পরের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এ কারণে কোনো অংশ ওপরের দিকে উঠছে আবার কোনো অংশ নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে।বিজ্ঞানীদের মতে, ইতালির নিচে থাকা পৃথিবীর ভূত্বক জিপের মতো উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে ভূতত্ত্বের ভাষায় বলা হয় ডিলামিনেশন। এর ফলে নিচের ঘন ভূত্বক এবং লিথোস্ফিয়ার ওপরের অংশ থেকে আলাদা হয়ে ম্যান্টলে তলিয়ে যায়। চেইন জিপের মতো এই খোলা অংশ ধীরে ধীরে ইতালির নিচ থেকে অ্যাড্রিয়াটিক অববাহিকার দিকে এগিয়ে চলেছে।অ্যাপেনাইন পর্বতমালা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। লাখ লাখ বছর ধরে টেকটনিক প্লেটের ধাক্কায় এই পাহাড় তৈরি হয়েছে। প্লেটগুলো যখন ম্যান্টলে তলিয়ে যাচ্ছিল, তখন পেছনের ভূত্বক প্রসারিত হয়ে টাইরেনিয়ান সাগর তৈরি করে। এর ফলে একদিকে যেমন সংকোচন ঘটে, অন্যদিকে ভূত্বক প্রসারিত হতে থাকে। প্রায় ২০ লাখ বছর আগে এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। টাইরেনিয়ান সাগর সৃষ্টিকারী প্রসারণ প্রক্রিয়া শেষ হলেও পর্বতমালা সংকুচিত হওয়ার অদ্ভুত প্রবণতা চলতে থাকে। বিজ্ঞানীরা দশক ধরে চলা ভূমিকম্পের তথ্য, জিপিএস পরিমাপ এবং উপগ্রহের রাডার পর্যবেক্ষণ করে এই রহস্যের সমাধান করেছেন।বিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন, গভীর ভূত্বকের একটি অংশ অন্য অংশের ওপর ওভারল্যাপ করে আছে। টেপ লাগানো টেনিস বলের টেপ খোলার সময় যেভাবে পৃষ্ঠ থেকে আলাদা হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে নিচের ভূত্বক আলাদা হচ্ছে। জিপিএস পরিমাপে দেখা গেছে, পাহাড়ের বেল্টটি প্রতিবছর প্রায় চার মিলিমিটার করে প্রসারিত হচ্ছে। এই আবিষ্কার ভূতত্ত্ববিদদের জন্য বড় একটি সাফল্য। বাস্তব সময়ে ম্যান্টল-লিথোস্ফিয়ারের এই পিল-ব্যাক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। গবেষকদের এই গবেষণাপত্রটি ‘কমিউনিকেশনস আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামের জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট