জাতীয়

যে কারণে শয়তান বসে থাকে দ্বীনের পথে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
যে কারণে শয়তান বসে থাকে দ্বীনের পথে
যে কারণে শয়তান বসে থাকে দ্বীনের পথে

যারা অলরেডি ভুল বা খারাপ কাজ করছে, শয়তান তাদের পেছনে লেগে থাকে না। সে ওত পেতে বসে থাকে সীরাতে মুস্তাকিম তথা সঠিক বা সিধা রাস্তায়। কোনো মানুষ যখন সঠিক রাস্তায় পা বাড়ায়, তখন শয়তান তাকে ওই পথ থেকে সরাতে তৎপর হয়ে ওঠে। সে আক্রমণ চালায় চারদিক থেকে; সামনে থেকে, পেছন থেকে, ডান দিক থেকে এবং বাম দিক থেকে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, সে (শয়তান) বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব। তারপর তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে। আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’। (সুরা আ’রাফ: ১৬, ১৭)

সামনে থেকে আক্রমণ করার অর্থ নানা রকম হতে পারে। একটি অর্থ হলো, মানুষ যখনই কোনো ভালো কাজ করতে যাবে, অমনি তার সামনে তাৎক্ষণিক নানা সংকট ও বাধা উপস্থিত হবে। তখন মনের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্বে তৈরি হবে, কাজটি কি আমি করব, নাকি করব না? যেমন কেউ যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে, সে আর ঘুষ খাবে না, সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো তার চাকরি যাওয়ার উপক্রম হবে, বা তাকে মিটিংয়ে তলব করা হবে, অথবা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে দেওয়া হবে। শয়তান অন্যান্য সৃষ্টি ও মানুষকে ব্যবহার করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যেন ওই ব্যক্তি মনে করে, এই ভালো পদক্ষেপটি নেওয়ার কারণেই হয়তো তার জীবনে এত সমস্যা আসছে। ফলে ভয়ে সে আবার পিছিয়ে যায়।

যেমন একজন খ্রিস্টান নারী যখন ইসলামের প্রতি অনুরাগী হতে শুরু করলেন, তখন তিনি ভীতিকর সব স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। কিন্তু যখন তিনি ইসলাম আঁকড়ে ধরলেন, তখনই তার সব ভয় কেটে গিয়ে মনে প্রশান্তি নেমে এলো। অর্থাৎ ভালো বা সঠিক রাস্তায় আসতে গেলে শয়তান উত্ত্যক্ত করবেই। শুরুতেই সহজে স্বস্তি মেলে না, কঠিন পরীক্ষা ও কষ্ট পার করার পরেই কেবল আসানি বা স্বস্তি আসে। সহজ পথের জন্য মূল্য দিতে হয়।

আরও পড়ুন

ডা. জাকির নায়েক / সব কিছু আল্লাহর নির্ধারিত হলে পাপের শাস্তি হবে কেন?

পেছন থেকে আক্রমণ করার মানে হলো, শয়তান অতীতের পাপ ও আনন্দময় মুহূর্তগুলোর কথা মনে করিয়ে দেবে। সে বলবে, ‘আগে তোমার জীবন কত উপভোগ্য ছিল, কেন নিজেকে এমন কষ্টের মধ্যে ফেলছ? পুরোনো বন্ধুদের কাছে ফিরে যাও, তাদের সঙ্গে সময় কাটাও।’ মানুষ খুব ভালো করেই জানে যে ওই আড্ডায় গেলে আবারও সেই পরচর্চা, গিবত বা অপকর্মই হবে। অথচ সে তো এগুলো ছেড়ে এসেছিল। শয়তান কেবল ভালোবাসার টানে বন্ধুদের কাছে ফেরায় না, তার মূল উদ্দেশ্য থাকে মানুষকে আবারও সেই পুরোনো পাপে ডুবিয়ে দেওয়া।

পেছন থেকে আক্রমণের আরেকটি রূপ হলো, শয়তান মানুষের অতীত ভুলের কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়ে তাকে গভীর হতাশায় ফেলে দেয় যে, ‘তুমি এত বড় ভুল করেছ, তোমার দ্বারা আর কিচ্ছু হবে না, তোমার ভালো হওয়ার কোনো আশা নেই।’ অতীত পাপের কথা মনে করিয়ে দিয়ে শয়তান মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে তোলে। মানুষ তখন ভাবতে শুরু করে, ‘আমার আর নামাজ পড়ে, দোয়া করে বা রোজা রেখে কী লাভ? আমি তো বহু গুনাহ করেছি, আমার আর ক্ষমা পাওয়ার সুযোগ নেই।’

আমাদের সমাজে অনেকেই এই ধোঁকার মধ্যে পড়ে আছেন। বহু মানুষকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা তো পাপী মানুষ, আমাদের আর কী আশা আছে! আল্লাহ আপনাদের মতো ভালো মানুষের দোয়া শুনবেন, আমাদের কথা শুনবেন না।’ এটি পুরোপুরি শয়তানের ফাঁদ। সে নিজে ক্ষমা চায়নি এবং নিরাশ হয়ে পড়েছে, এখন সে চায় মানুষও যেন একইভাবে নিরাশ হয়ে পড়ে।

ডান দিক থেকে আক্রমণের বিষয়টি আরও সূক্ষ্ম। সাধারণ ব্যবহারে ডান হাত ভালো কাজের প্রতীক। শয়তান মানুষের ভালো কাজ ও দ্বীনি দায়িত্বগুলোকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। কোনো মানুষ ভালো কাজ শুরু করলে তার মনে অহংকার ও আত্মতুষ্টি এনে দেয়। যেমন, কোনো নারী যদি আগে পর্দা না করতেন কিন্তু এখন পর্দা করা শুরু করেছেন, শয়তান তখন তার মনে এই কুচিন্তা ঢুকিয়ে দেয় যে, যারা পর্দা করে না তারা কত নিকৃষ্ট ও দায়িত্বহীন! এভাবে তার মনে শ্রেষ্ঠত্বের ভাব তৈরি হয়।

অথচ আল্লাহর দাসত্বের মূল কথাই ছিল বিনয় ও অহংকার ত্যাগ করা। অথচ মানুষ কেবল নিজের নামাজ, দাড়ি, পর্দা কিংবা দ্বীনি ইলমের অহংকারে নিজেকে অন্যের চেয়ে উত্তম ভাবতে শুরু করে। এমন কি যদি কেউ মুখে বলে যে, সে নিজেকে বড় মনে করে না, তাহলেও দেখা যায় সে অপরাধীকে ঘৃণা করার পাশাপাশি অপরাধী মানুষটিকেই মনে-প্রাণে খাটো করে দেখছে। মানুষের পাপকে ঘৃণা করা উচিত, কিন্তু মানুষ হিসেবে তাকে একেবারে মূল্যহীন মনে করা উচিত নয়; কারণ ভুল তো যেকোনো মানুষের দ্বারাই হতে পারে।

আরও পড়ুন

নোমান আলী খান / বাবা-মা ভুল পথে চললে করণীয় কী?

ডান দিকের আক্রমণের আরেকটি দিক হলো, ভালো কাজ করার পর মানুষের মনে এই ভুল ধারণা তৈরি হয় যে, সে তো সঠিক পথে চলে এসেছে এবং সে এখন পুরোপুরি নিরাপদ। সে মনে করে, ‘আমি তো হেদায়েত পেয়ে গেছি, বাকি সবাই তো পিছিয়ে আছে।’ মানুষ ভুলে যায় যে কেবল বাহ্যিক ভালো আমলের কারণে কেউ চিরতরে নিখুঁত বা ভালো হয়ে যায় না। ভালো ও মন্দের মিশ্রণেই মানুষ। আল্লাহর দরবারে কার কতটা মূল্য, তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব।

হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং হজরত ইসমাইল (আ.) যখন কাবাঘর নির্মাণ করছিলেন, যে কাবাঘরে আজ পর্যন্ত এবং কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ নামাজ পড়বে, হজ ও ওমরাহ করবে, তার অশেষ সওয়াব তারা পাবেন, তখনও তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন যে, ‘হে রব, আমাদের এই কাজটুকু কবুল করো।’ তারা কখনো ভাবেননি যে তারা নিশ্চিতভাবে সফল হয়ে গেছেন। কিন্তু ডান দিক থেকে আক্রমণ হলে মানুষ মনে করে, সে নিজে সব ঠিকঠাক বুঝে গেছে, এখন কেবল অন্যদের বোঝার বাকি। যারা নিজেদের দ্বীনদার ও সচেতন মনে করেন, তাদের ওপরেই এই আক্রমণটি সবচেয়ে বেশি হয়।

আর বাম দিক থেকে আক্রমণ করার অর্থ হলো, মন্দ ও ভুল কাজগুলোকে চমৎকার ও আকর্ষণীয়ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা। শয়তান খারাপ জিনিস বা আল্লাহর নাফরমানিকে রূপক শব্দ ও বাহারি অজুহাতে সুন্দর বানিয়ে উপস্থাপন করে।

তখন মানুষ পাপ কাজকে নিজের ‘স্বাধীনতা’, ‘মনের আনন্দ’ কিংবা ‘খুশি উদযাপন’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। মানুষ প্রশ্ন তুলতে শুরু করে, ‘আমি কি একটু আনন্দও করতে পারি না?’ শয়তান মানুষের চিন্তা ও মনস্তত্ত্বের ওপর এমনভাবে প্রভাব ফেলে যে, মন্দ জিনিসগুলোই মানুষের কাছে ভালো ও আকর্ষণীয় মনে হতে থাকে। অথচ খারাপ কাজকে যে সুন্দর নামই দেওয়া হোক না কেন, তা খারাপই থেকে যায়।

শয়তানের এই চতুর্মুখী আক্রমণের একমাত্র মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ করে তোলা। আল্লাহ মানুষকে যে পরিস্থিতি ও সুযোগ দিয়েছেন, মানুষ যেন তা ব্যবহার করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে না পারে, সেটাই তার প্রধান লক্ষ্য। মানুষের নজর যেন কেবল তার যা নেই বা যে ঘাটতি আছে সেদিকেই পড়ে থাকে, আর যা সে পেয়েছে তার প্রতি যেন কখনোই কৃতজ্ঞ হতে না পারে।

সূত্র: ইউটিউব চ্যানেল: রেডিও আজাদ

ওএফএফ

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে পুরোনো পথে বিএনপি, ক্ষোভ বিরোধী দলের
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে পুরোনো পথে বিএনপি, ক্ষোভ বিরোধী দলের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। শুধু একটি কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছে বিরোধী দল। বিস্তারিত বিশ্লেষণে...

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
পাবনায় জমিতে জমে থাকা পানিতে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

পাবনায় জমিতে জমে থাকা পানিতে নেমে ভাইবোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু

আদরের ছলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

আদরের ছলে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

বেতন-ভিসা-নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের ৪৫০ অভিযোগ, সমাধান ৩৩০টির

বেতন-ভিসা-নিয়োগ নিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের ৪৫০ অভিযোগ, সমাধান ৩৩০টির

সাদা ভাত ভুলে যান, অপরাজিতা ফুলে বানান নীল ভাত
সাদা ভাত ভুলে যান, অপরাজিতা ফুলে বানান নীল ভাত

অপরাজিতা ফুল শুধু সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়, আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে। নীল রঙের অপরাজিতা ফুল দিয়ে তৈরি চা যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনি এই ফুলের ব্যবহার রান্নাতেও এনে দিতে পারে দারুণ চমক। বিশেষ করে অপরাজিতা ফুলের নীল রঙে তৈরি ভাত বা পোলাও হয়ে উঠতে পারে আপনার খাবারের টেবিলের সবচেয়ে নজরকাড়া পদ। অল্প কয়েকটি ফুল আর সহজ কিছু উপকরণেই তৈরি করা যায় এই রঙিন ভাত, যা স্বাদে যেমন পরিচিত, দেখলে তেমনি মনে হবে একেবারেই অন্যরকম। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিশেষ দিনে চমক দিতে চাইলে ঘরেই সহজে বানিয়ে নিতে পারেন এই নীল ভাত। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাড়িতে কীভাবে অপরাজিতা ফুলে নীল ভাত রান্না করবেন- উপকরণ পোলাও বা বাসমতি চাল ১ কাপ তাজা অপরাজিতা ফুল ১০-১৫টি লবণ স্বাদমতো ঘি বা তেল ১ চা চামচ পানি পরিমাণমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে অপরাজিতা ফুলগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর ফুলের ভেতরের সবুজ অংশটি আলাদা করে ফেলুন। এবার ফুলগুলো সামান্য গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ফুলের রং পানিতে মিশে পানি গাঢ় নীল হয়ে এলে ফুলগুলো ছেঁকে তুলে নিন। এতে পাওয়া যাবে পরিষ্কার নীল রঙের নির্যাস। অন্যদিকে, চাল ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার পাত্র বা রাইস কুকারে চাল দিয়ে তাতে তৈরি করা নীল পানি, পরিমাণমতো লবণ ও সামান্য ঘি মিশিয়ে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ঠিক করে নিয়ে ভাত রান্না করুন। চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন, যাতে ভাত ঝরঝরে হয়।   আরও পড়ুন অল্প সময়েই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিকেন কাবাব তৈরি হয়ে গেল নান্দনিক নীল রঙের অপরাজিতা ফুলের ভাত। সাধারণ ভাতের বদলে এই রঙিন পদটি যেকোনো মাংস, মাছ কিংবা সবজির কারির সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। আরও পড়ুন ইলিশের জালি কাবাব খেয়েছেন কখনো, রইল রেসিপি টিপস নীল রং সুন্দর পেতে তাজা ও ভালো মানের নীল অপরাজিতা ফুল ব্যবহার করুন। ফুল ভিজিয়ে রাখার জন্য খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার না করে সামান্য গরম পানি নিন। এতে ফুলের রং সহজে পানিতে বের হয়ে আসবে। নীল রঙের ঘনত্ব অনুযায়ী ফুলের পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি করতে পারেন। বেশি গাঢ় নীল চাইলে ফুলের নির্যাস একটু ঘন করে নিন। এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
নতুন ইউটিউব চ্যানেল খোলার আগে মাথায় রাখুন ৭ বিষয়

নতুন ইউটিউব চ্যানেল খোলার আগে মাথায় রাখুন ৭ বিষয়

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২

গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, গ্রেপ্তার ২

পাহাড়ের দুর্গম পথ পেরিয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে সন্ধিতা
পাহাড়ের দুর্গম পথ পেরিয়ে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বুনছে সন্ধিতা

বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের সাধু হেডম্যান পাড়ার অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে আলো ছড়াচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সন্ধিতা ত্রিপুরা। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় এই কিশোরীর জীবন সংগ্রামের গল্প হার মানায় প্রতিকূলতাকে। জুমচাষী বাবা ও গৃহিণী মায়ের সীমিত আয়ের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও তার চোখে রয়েছে এক স্বপ্ন—বড় হয়ে সে আদর্শ শিক্ষক হতে চায়।বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও মেধার স্বাক্ষর রাখা সন্ধিতা বিশ্বাস করে, শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত জীবনই বদলায় না, বরং বদলে দিতে পারে একটি সমাজ ও গ্রামের ভবিষ্যৎ। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার এই পথচলা সহজ ছিল না। তার জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত ‘কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা’। এখানে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই মূলত তার পরিবারের দুশ্চিন্তা কেটেছে এবং শিক্ষার পথ আরও সুগম হয়েছে।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সন্ধিতা জানায়, সে বড় হয়ে নিজের গ্রামের গরিব ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চায়, যেন অর্থের অভাবে আর কোনো শিশুর পড়াশোনা থমকে না যায়।সন্ধিতার এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে—দারিদ্র্য মানুষের পথকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে আটকাতে পারে না। সুযোগ, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি সাধারণ শিশুও হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের আলোকবর্তিকা।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
যৌনতা, ব্যক্তিজীবন ও বিতর্ক—ওটিটিতে দর্শকের মনোযোগের নতুন অস্ত্র

যৌনতা, ব্যক্তিজীবন ও বিতর্ক—ওটিটিতে দর্শকের মনোযোগের নতুন অস্ত্র

বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

বাব আল-মান্দেব প্রণালি এখন হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

0 Comments