একদিকে সম্পর্ক, আকাঙ্ক্ষা ও যৌনতার গল্প; অন্যদিকে ক্যামেরার সামনে তারকাদের ব্যক্তিজীবন, ঝগড়া, প্রেম, বিচ্ছেদ, কান্না কিংবা বিতর্কিত মন্তব্য। বিনোদনের পর্দায় এসব নতুন নয়। নতুন হলো এগুলো ব্যবহারের ধরন। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, রিয়েলিটি শো, ডেটিং শো কিংবা কমেডি অনুষ্ঠান–ঘরানা আলাদা হলেও লক্ষ্য যেন একটাই, দর্শকের চোখ যতক্ষণ সম্ভব পর্দায় আটকে রাখা।
সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম উদাহরণ ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যান্থলজি সিরিজটির তৃতীয় কিস্তির ট্রেলার প্রকাশের পর আবারও আলোচনায় এসেছে যৌনতা, নারীর আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্কের জটিলতা। বিক্রমাদিত্য মোতওয়ানে, কিরণ রাও, শকুন বাত্রা ও বিশাল ভরদ্বাজ—চার নির্মাতার চার গল্পে ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা, সম্পর্ক ও দমিত ইচ্ছাকে দেখা হবে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। সিরিজটি নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার কথা ১৮ সেপ্টেম্বর।
ট্রেলারে অদিতি রাও হায়দারির একটি সংলাপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নারীর আকাঙ্ক্ষাকে তিনি বাতির সুইচের মতো সরল কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে তুলে ধরেছেন জটিল ও আবেগনির্ভর অভিজ্ঞতা হিসেবে। ফলে ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’ শুধু যৌনতার গল্প নয়; নারীর ইচ্ছা, সম্পর্ক ও ক্ষমতার সমীকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।
যৌনতা এখন গল্পের পাশাপাশি বিপণনের অস্ত্র
সিনেমায় যৌনতা নতুন কোনো বিষয় নয়। হলিউড, ইউরোপীয় সিনেমা কিংবা ভারতীয় সমান্তরাল চলচ্চিত্র—বহু বছর ধরেই যৌনতা গল্প বলার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পরিবর্তন এসেছে মূলত ডিজিটাল যুগে।
আগে একটি সিনেমা নিয়ে আলোচনা তৈরি করতে পোস্টার, গান, ট্রেলার কিংবা সংবাদ সম্মেলন ছিল প্রচারের প্রধান হাতিয়ার। এখন একটি সংলাপ, কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য কিংবা বিতর্কিত কোনো মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেই মুহূর্তে তৈরি হয় আলোচনা।
‘লাস্ট স্টোরিজ’ ফ্র্যাঞ্চাইজি এর ভালো উদাহরণ। ২০১৮ সালে প্রথম কিস্তি মুক্তির পর ভারতীয় মূলধারার বিনোদনে যৌনতা, সম্পর্ক ও নারীর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ২০২৩ সালে আসে দ্বিতীয় কিস্তি। তৃতীয় কিস্তিতেও সেই ধারাই বজায় রয়েছে। ফলে যৌনতা এখানে শুধু গল্পের বিষয় নয়, দর্শকের আগ্রহ তৈরিরও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
তবে যৌনতা ব্যবহারের অর্থ সব সময় সস্তা চমক নয়। ভালোভাবে ব্যবহার করা হলে এটি সম্পর্ক, বিবাহ, ক্ষমতা, আকাঙ্ক্ষা কিংবা ব্যক্তিস্বাধীনতার মতো জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনার দরজা খুলতে পারে। সমস্যা হয় তখন, যখন গল্পের চেয়ে যৌনতার উপস্থিতিই বড় হয়ে ওঠে।
বিতর্ক যখন নিজেই বিনোদন
রিয়েলিটি শোয়ে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট। এখানে চরিত্রগুলো কাল্পনিক নয়। বাস্তব মানুষই হয়ে ওঠেন অনুষ্ঠানের কনটেন্ট। তাঁদের পছন্দ–অপছন্দ, প্রেম, রাগ, কান্না, ঝগড়া, ভুল মন্তব্য—সবকিছুই দর্শকের বিনোদনের উপাদান।
‘বিগ বস’–এর সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণগুলোর একটি। ২০তম মৌসুমেও ছবিটি খুব একটা বদলায়নি। প্রতিযোগীদের ঝগড়া, ব্যক্তিগত মন্তব্য, শরীর নিয়ে কটাক্ষ কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়মিতই আলোচনায় আসছে। এক পর্বে আসিফ খান ও কাজি তৌকিরের হাতাহাতিও আলোচনার বিষয় হয়। নারী প্রতিযোগীদের শরীর ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে মন্তব্য ঘিরেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তবে রিয়েলিটি শোয়ের বিতর্ক সব সময় নেতিবাচক নয়। কখনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই অনুষ্ঠানের আলোচনাকে বড় সামাজিক প্রশ্নে নিয়ে যায়। ‘বিগ বস ২০’–এর প্রতিযোগী আম্রপালি দুবে যেমন বলেছেন, সমাজে নারীর প্রায় সব কাজই কোনো না কোনোভাবে বিচার করা হয়। তাঁর বক্তব্য ব্যক্তিগত জীবন থেকে আলোচনাকে সরিয়ে নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নে নিয়ে গেছে।
অর্থাৎ বিতর্ক নিজেই সমস্যা নয়। প্রশ্ন হলো, বিতর্কটি কি কোনো অর্থপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, নাকি কেবল কয়েক ঘণ্টার ভাইরাল কনটেন্ট তৈরি করছে?
কতটা বাস্তব এই ‘রিয়েলিটি’?
নাম রিয়েলিটি শো হলেও এসব অনুষ্ঠান কখনোই পুরোপুরি বাস্তব নয়। ক্যামেরা কোথায় থাকবে, কোন ঘটনা দেখানো হবে, কোন অংশ বাদ যাবে, কোন মুহূর্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে—সবকিছুর পেছনেই থাকে নির্মাতাদের সিদ্ধান্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রিয়েলিটি টেলিভিশনে এই নির্মাণপ্রক্রিয়াকে আরও প্রকাশ্য করে তোলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দর্শক যে ‘বাস্তবতা’ দেখছেন, সেটিও আসলে সম্পাদিত ও নির্মিত একটি বাস্তবতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে এই সীমারেখা আরও ঝাপসা হয়েছে।
একজন তারকা প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পোস্ট করলেন, কেউ বিচ্ছেদের খবর জানালেন, কেউ বিতর্কিত মন্তব্য করলেন—কয়েক মিনিটের মধ্যে সেটি হয়ে গেল সংবাদ। এরপর সেই সংবাদ থেকে তৈরি হলো ভিডিও, রিল, মিম ও পোস্ট। আবার সেই আলোচনাই কাজে লাগল সিনেমা বা অনুষ্ঠানের প্রচারণায়।
ফলে তারকার ব্যক্তিজীবনও এখন কনটেন্ট।
প্রেমও যখন প্রতিযোগিতা
এই প্রবণতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র ডেটিং রিয়েলিটি শো। ‘লাভ ইজ ব্লাইন্ড’, ‘দ্য আলটিমেটাম’, ‘পারফেক্ট ম্যাচ’ কিংবা বিভিন্ন দেশের ডেটিং শোতে প্রেমকে শুধু গল্প হিসেবে দেখানো হয় না; সেটিকে বানানো হয় প্রতিযোগিতা।
কার সঙ্গে কার সম্পর্ক হবে? কে কাকে বেছে নেবে? কে কাকে ছেড়ে যাবে? কে বিয়ে করবে? কে প্রতারণা করবে? শেষ পর্যন্ত কে একা থাকবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে দর্শক পরের পর্বে যান।

ডেটিং শোগুলোর জনপ্রিয়তা দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কও এখন বিনোদনের কাঠামোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পণ্যে পরিণত হতে পারে। এমনকি প্রেমের মতো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তেও দর্শককে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
নতুন ব্রিটিশ ডেটিং রিয়েলিটি শো ‘উইল ইউ ম্যারি মি?’–তে দর্শক ভোটের মাধ্যমে সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারবেন। শেষ পর্যন্ত কার কাছে বিয়ের প্রস্তাব যাবে, সেটিও দর্শকের অংশগ্রহণে নির্ধারিত হওয়ার কথা।
অর্থাৎ দর্শক আর শুধু দর্শক থাকছেন না। তিনি হয়ে উঠছেন সম্পর্কের বিচারক।
কমেডিতেও বিতর্কের টান
রিয়েলিটি শো কিংবা যৌনতার গল্পের বাইরে কমেডি অনুষ্ঠানও এই নতুন বিনোদন অর্থনীতির অংশ হয়ে উঠেছে।
‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’–এর মতো অনুষ্ঠানে তারকাদের নিয়ে ঠাট্টা, ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ, অস্বস্তিকর প্রশ্ন কিংবা সীমা ছুঁয়ে যাওয়া রসিকতা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি দ্বিতীয় মৌসুমের একটি পর্বে বরুণ ধাওয়ানকে নিয়ে সময় রায়নার রসিকতাও আলোচনার বিষয় হয়েছে।
এখানেও সূত্রটি একই—যে মুহূর্ত নিয়ে দর্শক কথা বলবেন, সেটিই সফল মুহূর্ত।
এই জায়গায় ‘বিতর্ক’ আর নেতিবাচক শব্দ হিসেবে থাকছে না। এটি হয়ে উঠছে এনগেজমেন্টের মুদ্রা। কেউ প্রশংসা করলে আলোচনা বাড়ে, কেউ সমালোচনা করলেও বাড়ে। কেউ প্রতিবাদ করলেও ভিডিওর ভিউ বাড়ে।
অ্যালগরিদমও কি দায়ী
কিছুটা অবশ্যই। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাফল্যের বড় মাপকাঠি—দর্শক কতক্ষণ দেখছেন, কোথায় থামছেন, কী শেয়ার করছেন ও কী নিয়ে কথা বলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও এমন কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে দেয়, যা মানুষের আবেগকে তীব্রভাবে নাড়া দেয়, সেটি আনন্দ হোক, রাগ, কৌতূহল কিংবা বিতর্ক।
ভাইরাল হওয়াই কি সাফল্য
একসময় সিনেমার সাফল্য বোঝা হতো বক্স অফিস দিয়ে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সাফল্য বোঝা হতো টিআরপি দিয়ে। এখন সেই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ট্রেন্ড, ভিডিওর ভিউ, মিম, হ্যাশট্যাগ, সার্চ, কমেন্ট ও অনলাইন বিতর্ক।
‘বিগ বস ২০’–এর সাম্প্রতিক দর্শক পরিসংখ্যানেও বদলে যাওয়া চিত্রটি দেখা যায়। অরম্যাক্স মিডিয়ার হিসাবে প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠানটি ৬৪ লাখ দর্শক পেয়েছে। একই সময়ে ‘ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট’–এর দ্বিতীয় মৌসুম ৭৮ লাখ দর্শক নিয়ে এগিয়ে ছিল। অর্থাৎ বড় তারকা ও বড় টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ইউটিউবকেন্দ্রিক কনটেন্টও এখন একই দর্শকের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

আজকের দর্শক একসঙ্গে অনেক ধরনের গল্প দেখতে চান। একদিকে বড় বাজেটের সিনেমা, অন্যদিকে বাস্তব মানুষের জীবন নিয়ে রিয়েলিটি শো। কখনো সম্পর্কের গল্প, কখনো যৌনতা, কখনো সত্য ঘটনা, আবার কখনো তারকার ব্যক্তিজীবনের একঝলক।
ফলে সিনেমা, সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদনের সীমানা আগের মতো স্পষ্ট নেই।
সিনেমার অভিনেতা রিয়েলিটি শোতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলছেন। রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার হয়ে উঠছেন। ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে রিয়েলিটি সিরিজ। আবার সেই সিরিজের ঘটনাই পরিণত হচ্ছে সংবাদে।
বাস্তব জীবন, সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিনোদন—সবকিছু মিশে যাচ্ছে একই স্রোতে।
এ কারণেই ‘লাস্ট স্টোরিজ ৩’–এর মতো সিরিজে যৌনতা নিয়ে আলোচনা হোক, ‘বিগ বস’–এ তারকার ঝগড়া ভাইরাল হোক কিংবা কোনো কমেডি অনুষ্ঠানের বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরগরম হয়ে উঠুক—পেছনে কাজ করছে একই অর্থনীতি: মনোযোগের অর্থনীতি।
হিন্দুস্তান টাইমস, আইএমডিবি, ইন্ডিয়া টুডে ও পিংকভিলা অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব খবর নিয়ে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন ‘বার্তাসংক্ষেপ’। অল্প সময়ে দিনের বড় ঘটনা ও খবরের ভেতরের খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের এ বিশেষ আয়োজনে। সঠিক তথ্য আর দ্রুততম আপডেট নিয়ে প্রথম আলো আছে সব সময় আপনার সঙ্গে। থাকুন ভালোর সঙ্গে, আলোর পথে।
মুরগি কাটার সময় কখনো কখনো সেটির পেটে এক বা একাধিক ডিম পাওয়া যায়। কেউ কেউ এই ডিম রান্না করে খান। কেউ আবার বলেন, এই ডিম খাওয়া উচিত নয়, তাদের বাড়িতে এই ডিমের জায়গা হয় আবর্জনার পাত্রে।মুরগির পেট থেকে পাওয়া ডিম খাওয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বিষয়টা সহজভাবে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলেন তিনি।ডিমটা ঠিকঠাক আছে তোমুরগি কাটার সময় পেটের ডিম যদি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে সুন্দরভাবে থাকে, তাহলে খাওয়া যাবে। তবে ডিমটা মুরগির পেট থেকে বের করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, যাতে ভেঙে না যায় বা মুরগির পেটের ময়লা লেগে না যায়। বের করার সময় ডিমটির যে স্বাভাবিক আকৃতি ছিল, তা যদি নষ্ট হয়ে যায় অর্থাৎ ডিম ভেঙে যায়, তাহলে খাওয়া উচিত হবে না।মুরগি কাটার সময় যদি পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে বর্জ্য বেরিয়ে ডিমের গায়ে লেগে যায়, তবে তা থেকে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য দিয়ে ডিম যদি অনেক বেশি দূষিত হয়ে যায়, তবে স্বাভাবিক আকৃতি অক্ষুণ্ন থাকলেও না খাওয়াই নিরাপদ। ডিম থেকে দুর্গন্ধ এলেও সেটি খাওয়া যাবে না।ডিম সেদ্ধ করে যে সময়ের মধ্যে না খেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারেরান্নার সময়ধোয়ার প্রয়োজন নেই। খোলস বা পাতলা আবরণ যেটিই থাকুক না কেন, তাতে যদি দৃশ্যমান ময়লা থাকে, টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে মুছে ফেলুন। ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে তখনই রান্না করে ফেলুন।যে পদই করুন না কেন, ডিম খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প রান্না করলে ভেতরটা কাঁচা রয়ে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করুন, যাতে ভেতরটা পুরোপুরি জমাট বাঁধে। সেদ্ধ হয়ে গেছে মনে হলেও একটি ডিম তুলে নিয়ে আলাদা প্লেট কিংবা বাটিতে রাখুন। একটা চামচ বা ছুরি দিয়ে ডিমের মাঝখানের অংশ কেটে দেখুন, নরম হয়ে আছে কি না। নরম থাকলে বুঝতে হবে, ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়নি। তখন আরও সেদ্ধ করুন। পরে আবার একইভাবে পরীক্ষা করে দেখুন, সেদ্ধ হয়েছে কি না। সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্নার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে পানি বা তেল যোগ করতে পারেন, যাতে পাত্রের তলার দিকে পুড়ে বা লেগে না যায়।খেয়াল রাখুনমুরগির পেট থেকে নিরাপদভাবে বের করে নেওয়া ডিম ওপরের এসব নিয়ম মেনে রান্না করা হলে মানবস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। যেকোনো বয়সী মানুষেরই তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ওপরের কোনো শর্তের ব্যত্যয় হলে ডিমের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে (বিশেষত সালমোনেলা নামের জীবাণু, যা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ)।পুষ্টিগুণেও দারুণমুরগির পেটে থাকা এসব ডিম সঠিক নিয়মে খাওয়া হলে আপনি ডিমের নানা পুষ্টিও পাবেন। এই ডিমে আমিষ, অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন, ভিটামিন বি১২সহ নানান পুষ্টি উপাদান থাকে।যদি থাকে নিষেধাজ্ঞাকোনো রোগের কারণে যাঁদের আমিষ বা আয়রন গ্রহণে বিধিনিষেধ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি কোনো ডিমই খাওয়া উচিত নয়। এই ডিমে বেশ উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে। তাই যাঁদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। যাঁদের এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, এই বাড়তি ডিম তাঁদের দিয়ে দিতে পারেন।মুরগির হাড় চিবানো আসলেই কি ভালো
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আদর করার ছলে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, এর আগেও আশপাশের একাধিক শিশুকে আদরের ছলে যৌন নিপীড়ন করেছেন ওই বৃদ্ধ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবু বক্কর (৬৫)। তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। ধর্ষণের অভিযোগ এনে আজ শুক্রবার আবু বক্করকে একমাত্র আসামি করে কুলিয়ারচর থানায় মামলা করেন এক শিশুর মা। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।কাজী আরিফ উদ্দিন, ওসি, কুলিয়ারচর থানাপ্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আবু বক্কর কিছুদিন পরপর শিশুদের ডেকে নিয়ে আদরের ছলে যৌন নির্যাতন করেন। আদর করাই তাঁর কৌশল। শিশুদের বিষয়ে তাঁর স্বভাব খারাপ হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিশুটির পরিবারের ও আবু বক্করের ঘর পাশাপাশি। শিশুটি তাঁকে নানা বলে ডাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাড়িতে খেলার সময় আবু বক্কর শিশুটিকে নিজের ঘরে নেন। এ সময় ঘরে কেউ ছিল না। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে আসে। কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে মাকে আবু বক্করের নাম বলে।শিশুটির মা পরে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন দেখতে পান। এরপর তার মা কয়েকজন প্রতিবেশীকে নিয়ে আবু বক্করের কাছে যান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো কথা বলেননি। পরে আবু বক্কর বাড়ি থেকে চলে যান।পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, আবু বক্কর শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।শিশুটির মামাকিছুদিন পরপর প্রতিবেশী শিশুরা আবু বক্করের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, অথচ বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করেছি, এবার আর ছাড় দেওয়া যাবে না। ছাড় পেলে হয়তো পরদিন অন্য কোনো শিশুর গায়ে হাত দেবে। এ কারণে মামলা করা হয়েছে।শিশুটির মা বলেন, ‘আমরা আবু বক্করের চরিত্র সম্পর্কে আগে থেকেই জানতাম। কিন্তু আমার ঘরের এক ঘর পরই তাঁর ঘর। সব সময় তো চোখে চোখে রাখা সম্ভব হয় না। আমার মেয়ে আমার কাছে এসে কান্না করছিল। পরে নিজেই আবু বক্করের নাম বলে। শরীরে ব্যথার কথাও বলে। সারা শরীরের অনেক স্থানে দাগ হয়ে গিয়েছিল।’গতকাল থেকেই আবু বক্করকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অবশেষে আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রতিবেশী ও পুলিশ বলছে, এর আগেও আশপাশের কয়েকটি শিশুকে আদর করার ছলে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে আবু বক্করের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের কাছে টেনে নিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করতেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত এক বছরে অন্তত দুটি শিশুকে ঘরে নিয়ে নানাভাবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছিল আবু বক্করের বিরুদ্ধে। একটি শিশুর বয়স সাড়ে চার বছর। অন্য শিশুর বয়স সাত বছর। সামাজিক সমস্যার কথা বিবেচনায় এনে আগের কোনো ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ করা হয়নি। একজন অভিভাবক মৌখিকভাবে সতর্ক করেছেন। আরেকজন অভিভাবক ঘরে গিয়ে আবু বক্করকে মারধর করে আসেন।শিশুটির মামা বলেন, ‘কিছুদিন পরপর প্রতিবেশী শিশুরা আবু বক্করের হাতে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, অথচ বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করেছি, এবার আর ছাড় দেওয়া যাবে না। ছাড় পেলে হয়তো পরদিন অন্য কোনো শিশুর গায়ে হাত দেবে। এ কারণে মামলা করা হয়েছে।’কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, আবু বক্কর কিছুদিন পরপর শিশুদের ডেকে নিয়ে আদরের ছলে যৌন নির্যাতন করেন। আদর করাই তাঁর কৌশল। শিশুদের বিষয়ে তাঁর স্বভাব খারাপ হয়ে গেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।আগের ঘটনাগুলো জানতেন কি না, এমন প্রশ্নে ওসি বলেন, না, পুলিশকে জানানো হয়নি। শিশুটির মায়ের করা ধর্ষণ মামলায় আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে।পুলিশ হেফাজতে আবু বক্কর সাংবাদিকদের বলেন, শিশুদের কাছে নিয়ে আদর করতে তাঁর ভালো লাগে। এ কারণে তিনি তাদের কাছে টেনে নেন। আদরকে যৌন হয়রানি বলা যায় না বলে দাবি তাঁর।আবু বক্করের স্ত্রী সন্তানেরা বাড়িতে নেই। তবে পরিবারের সদস্যরাও বলেন, শিশুদের নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মন্দ কথা শোনার পর তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। প্রতিবারই আবু বক্কর দাবি করতেন, তিনি শুধু শিশুদের আদর করার জন্য কাছে টেনে নেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অন্য কোনো শিশুকে এভাবে আদর না করার জন্য সতর্কও করেছিলেন।