সার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে চলমান সংকট সমাধান করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাজনৈতিক সংগঠন ‘মঞ্চ ২৪’। সেই সঙ্গে তারা সরকারি চাকরির মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাতিল এবং আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন ঠেকানোসহ বিভিন্ন দাবি তুলেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী এসব দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও দেশে তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট ছিল। তবে বর্তমান সরকারের আমলে জনগণের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। দেশের জনগণ বর্তমান সরকারকে দায়িত্ব দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসসহ জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়নি।
‘এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আমাদের, কিন্তু আজ সেই সরকারের বিরুদ্ধে বলতে হচ্ছে শুধু জনগণের কষ্ট দেখে। প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, দয়া করে রাসায়নিক সার, তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাস—জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধান করেন। না হলে এটা নিয়েই গণবিস্ফোরণ ঘটবে,’ যোগ করেন তিনি।
সরকারি চাকরির নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করেন ফাহিম ফারুকী।
তিনি বলেন, এটি অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সরকারকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
মঞ্চ ২৪-এর আহ্বায়ক জানান, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে দল-মত নির্বিশেষে শিক্ষার্থীরা মাঠে নামবেন।
‘এমন কিছু করবেন না, যেটাকে ক্যাশ করে আওয়ামী লীগ সুযোগ নেবে। বিএনপি ১০ বছর ক্ষমতায় থাকলেও সেটা আমিও চাই, কিন্তু জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে পাঁচ মিনিট ক্ষমতায় থাকতে দেবো না,’ বলেন তিনি।
সরকার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতার বিচার কতদূর এগিয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফাহিম ফারুকী।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে একটি জাতীয় দৈনিকের সাবেক সাংবাদিকের উদাহরণ টেনে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ওই সাংবাদিক আগে আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কোনো কর্মীকে নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আরও সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি প্রশিক্ষণের সময় সেনাবাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নেওয়ার আহ্বান জানান ফাহিম ফারুকী।
তিনি বলেন, ‘কেন ৮০-এর দশকের ফিটনেস ছাড়া পুরোনো অস্ত্র, কামান, ট্যাংক দিয়ে এই যুগে এসে প্রশিক্ষণ করা লাগবে? আমাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি কেন করছি না?’
দেশের তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাহস রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবি জানান। পাশাপাশি আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম সংগ্রহের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিহত ও আহত সেনাসদস্যদের পরিবারের দায়িত্বও সরকারকে নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়।
আরটি/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। শুধু একটি কমিটির সভাপতি পদ পেয়েছে বিরোধী দল। বিস্তারিত বিশ্লেষণে...
অপরাজিতা ফুল শুধু সৌন্দর্যের জন্যই পরিচিত নয়, আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও দীর্ঘদিন ধরে এই ফুলের ব্যবহার রয়েছে। নীল রঙের অপরাজিতা ফুল দিয়ে তৈরি চা যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনি এই ফুলের ব্যবহার রান্নাতেও এনে দিতে পারে দারুণ চমক। বিশেষ করে অপরাজিতা ফুলের নীল রঙে তৈরি ভাত বা পোলাও হয়ে উঠতে পারে আপনার খাবারের টেবিলের সবচেয়ে নজরকাড়া পদ। অল্প কয়েকটি ফুল আর সহজ কিছু উপকরণেই তৈরি করা যায় এই রঙিন ভাত, যা স্বাদে যেমন পরিচিত, দেখলে তেমনি মনে হবে একেবারেই অন্যরকম। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা বিশেষ দিনে চমক দিতে চাইলে ঘরেই সহজে বানিয়ে নিতে পারেন এই নীল ভাত। আসুন জেনে নেওয়া যাক বাড়িতে কীভাবে অপরাজিতা ফুলে নীল ভাত রান্না করবেন- উপকরণ পোলাও বা বাসমতি চাল ১ কাপ তাজা অপরাজিতা ফুল ১০-১৫টি লবণ স্বাদমতো ঘি বা তেল ১ চা চামচ পানি পরিমাণমতো প্রস্তুত প্রণালি প্রথমে অপরাজিতা ফুলগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর ফুলের ভেতরের সবুজ অংশটি আলাদা করে ফেলুন। এবার ফুলগুলো সামান্য গরম পানিতে ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ফুলের রং পানিতে মিশে পানি গাঢ় নীল হয়ে এলে ফুলগুলো ছেঁকে তুলে নিন। এতে পাওয়া যাবে পরিষ্কার নীল রঙের নির্যাস। অন্যদিকে, চাল ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার পাত্র বা রাইস কুকারে চাল দিয়ে তাতে তৈরি করা নীল পানি, পরিমাণমতো লবণ ও সামান্য ঘি মিশিয়ে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ঠিক করে নিয়ে ভাত রান্না করুন। চাল পুরোপুরি সেদ্ধ হয়ে পানি শুকিয়ে গেলে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখুন, যাতে ভাত ঝরঝরে হয়। আরও পড়ুন অল্প সময়েই বানিয়ে ফেলুন মজাদার চিকেন কাবাব তৈরি হয়ে গেল নান্দনিক নীল রঙের অপরাজিতা ফুলের ভাত। সাধারণ ভাতের বদলে এই রঙিন পদটি যেকোনো মাংস, মাছ কিংবা সবজির কারির সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। আরও পড়ুন ইলিশের জালি কাবাব খেয়েছেন কখনো, রইল রেসিপি টিপস নীল রং সুন্দর পেতে তাজা ও ভালো মানের নীল অপরাজিতা ফুল ব্যবহার করুন। ফুল ভিজিয়ে রাখার জন্য খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার না করে সামান্য গরম পানি নিন। এতে ফুলের রং সহজে পানিতে বের হয়ে আসবে। নীল রঙের ঘনত্ব অনুযায়ী ফুলের পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি করতে পারেন। বেশি গাঢ় নীল চাইলে ফুলের নির্যাস একটু ঘন করে নিন। এসএকেওয়াই
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের সাধু হেডম্যান পাড়ার অভাবের সংসার থেকে উঠে এসে আলো ছড়াচ্ছে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সন্ধিতা ত্রিপুরা। চার ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয় এই কিশোরীর জীবন সংগ্রামের গল্প হার মানায় প্রতিকূলতাকে। জুমচাষী বাবা ও গৃহিণী মায়ের সীমিত আয়ের সংসারে অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও তার চোখে রয়েছে এক স্বপ্ন—বড় হয়ে সে আদর্শ শিক্ষক হতে চায়।বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি ও মেধার স্বাক্ষর রাখা সন্ধিতা বিশ্বাস করে, শিক্ষা কেবল ব্যক্তিগত জীবনই বদলায় না, বরং বদলে দিতে পারে একটি সমাজ ও গ্রামের ভবিষ্যৎ। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তার এই পথচলা সহজ ছিল না। তার জীবনে আশার আলো হয়ে এসেছে প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত ‘কচ্ছপতলী আলোর পাঠশালা’। এখানে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই মূলত তার পরিবারের দুশ্চিন্তা কেটেছে এবং শিক্ষার পথ আরও সুগম হয়েছে।নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সন্ধিতা জানায়, সে বড় হয়ে নিজের গ্রামের গরিব ও অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে চায়, যেন অর্থের অভাবে আর কোনো শিশুর পড়াশোনা থমকে না যায়।সন্ধিতার এই অদম্য পথচলা প্রমাণ করে—দারিদ্র্য মানুষের পথকে কঠিন করতে পারে, কিন্তু স্বপ্নকে আটকাতে পারে না। সুযোগ, পরিশ্রম এবং সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি সাধারণ শিশুও হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের আলোকবর্তিকা।