রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি শটগান ও এক জোড়া হাতকড়া জব্দ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
দক্ষিণখান থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মুন্সি মার্কেট ঝিলপাড় এলাকায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শটগান ও পুলিশের লোগোযুক্ত চাবিসহ এক জোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
কেআর/একিউএফ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন ভারতের বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার। দুই ইনিংসে অন্তত একটি করে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি কোনো রান না দেওয়ার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন রাজস্থানের এই ২৬ বছর বয়সী স্পিনার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২৯ বছর আগে একবারই এক কীর্তি দেখা গিয়েছিল। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন ওয়ানে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনে গ্ল্যামারগানের বিপক্ষে ম্যাচে সুতারের দল ওয়ারউইকশায়ার ইনিংস ও ২৫৭ রানের বিশাল জয় পেয়েছে। ম্যাচে গ্ল্যামারগান দুই ইনিংসে মাত্র ৬৯ ও ৬৫ রানে অলআউট হয়। ওয়ারউইকশায়ার প্রথম ইনিংসে তোলে ৩৯১ রান। এই ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে কোনো রান খরচ না করে ৩ উইকেট শিকার করেছেন সুতার। গ্ল্যামারগানের প্রথম ইনিংসে পেসারদের দাপটে মাত্র তিন বল করার সুযোগ পান সুতার। সেই তিন বলের মধ্যেই তিনি বোল্ড করেন ১১ নম্বর ব্যাটার মির হামজাকে। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য কিছুটা বেশি সময় বল করার সুযোগ পান বাঁহাতি এই স্পিনার। ইনিংসের ২৪তম ওভারে আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই মেডেন নেন। পরের ওভারে মাত্র চার বলের মধ্যে উইকেটকিপার ক্রিস কুক এবং ১০ নম্বর ব্যাটার জেমি ম্যাকইলরয়কে বোল্ড করে সাজঘরে ফেরান তিনি। ফলে ম্যাচে তার বোলিংয়ের পরিসংখ্যান দাঁড়ায়-দুই ইনিংসে তিন উইকেট, শূন্য রান। সুতারের এই কীর্তি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে সর্বশেষ এমন নজির দেখা গিয়েছিল ১৮৯৫ সালে। ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি টম হেওয়ার্ড লেস্টারশায়ারের হয়ে সারির বিপক্ষে দ্য ওভালে একই ধরনের কীর্তি গড়েছিলেন। দুই ইনিংসে মাত্র ছয় বল করে তিনটি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, অথচ কোনো রান দেননি। চলতি মৌসুমটা সুতারের জন্য স্বপ্নের মতো কাটছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই তিনি নেন ৭ উইকেট, যার মধ্যে এক ইনিংসে ছিল ৬ উইকেট। এরপর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টেস্টে ১৬ উইকেট নিয়ে ভারতের সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জেতার মাত্র তিন দিন পরই ইংল্যান্ডে উড়ে যান সুতার, ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে। কাউন্টিতেও তার দাপট অব্যাহত। ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে আট ইনিংসে ইতোমধ্যে ২১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে সামারসেটের বিপক্ষে রয়েছে ৫ উইকেটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এমএমআর
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের আলি আল-তাহের পাহাড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক বিস্ফোরণের পর সেখানে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ওই বিস্ফোরণের পর আলি আল-তাহের ও আশপাশের এলাকায় তীব্র শব্দের পাশাপাশি মাটিতে কম্পন অনুভূত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় ওই এলাকায় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানোর পর মাটি কেঁপে ওঠে ও বিস্ফোরণের শব্দ আশপাশের এলাকায় প্রতিধ্বনিত হয়। এতে ১ হাজার ১০০ টনেরও বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক যৌথ বিবৃতিতে আলি আল-তাহেরের অবকাঠামোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় গত দুই দশকে এসব অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তাদের ভাষ্য, ওই অবকাঠামো ও কমান্ড সেন্টার হিজবুল্লাহর হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ইসরায়েলের মেতুলা ও কিরিয়াত শমোনা এলাকায় নজরদারি ও হামলা চালানোর সুবিধা ছিল বলেও দাবি করেন তারা। এদিকে, শুধু অবকাঠামো ধ্বংস করেই অভিযান শেষ করছে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহ যাতে ওই এলাকায় আবার অবস্থান তৈরি করতে বা সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে জন্য ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে অবস্থান করবে বলেও জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা রয়েছে। হিজবুল্লাহকে ঠেকানোর কথা বলে সেখানে অভিযান ও অবস্থান জোরদার করে আসছে ইসরায়েল। এবার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহারের পর ভূমিকম্প রেকর্ড হওয়ার ঘটনায় সেই সামরিক তৎপরতার ব্যাপকতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: আল-অ্যারাবিয়া এসআরএইচ/এসএএইচ
মডেল ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর পিয়া বিপাশা বরাবরই তার স্টাইলিশ উপস্থিতি দিয়ে নজর কাড়েন। ব্যক্তিগত মুহূর্ত হোক কিংবা ফ্যাশনেবল কোনো আয়োজন, পোশাক নির্বাচনে তার থাকে নিজস্বতার ছাপ। কখনো ওয়েস্টার্ন স্টাইলের সাহসী উপস্থাপনা, আবার কখনো গ্ল্যামারাস ইভনিং লুক-দুই ধরনের সাজেই নিজেকে ভিন্নভাবে তুলে ধরতে দেখা যায় তাকে। এবারও তেমনই দুটি আলাদা স্টাইলিংয়ে নজর কেড়েছেন পিয়া। এক লুকে ফুটে উঠেছে ‘ওয়েস্টার্ন কাউগার্ল চিক’ ভাব, অন্যটিতে ছিল রঙিন ফ্লোরাল গাউনের আভিজাত্য। কাউগার্ল লুকটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক তার পোশাক। লাল ও সাদা রঙের প্যাচওয়ার্ক প্রিন্টের মিনি ফ্রকটিতে রয়েছে বোহেমিয়ান ও ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনের দারুণ মিশেল। চোখে পড়ার মতো প্রিন্টের পাশাপাশি পোশাকের কাটিংয়েও রাখা হয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিশেষ করে লম্বা ফ্লেয়ার্ড বা বেল-স্লিভস পোশাকটিতে এনেছে বাড়তি নাটকীয়তা। হাতের নড়াচড়ার সঙ্গে ফ্লেয়ার্ড হাতা পুরো লুকটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। মিনি ফ্রকটির ভি-নেকলাইনও নজরকাড়া। কোমরের কাছে থাকা ম্যাচিং বেল্ট বা টাই-নট পোশাকটির ফিটিংকে আরও গুছিয়ে দিয়েছে। ফলে পুরো সাজে এসেছে সুন্দর একটি সিলুয়েট। লাল ও সাদার কনট্রাস্টের সঙ্গে কালো অ্যাকসেসরিজের সমন্বয়ও পিয়ার লুককে করেছে আরও আকর্ষণীয়। কাউগার্ল আবহকে আরও স্পষ্ট করতে মাথায় ছিল ক্লাসিক কালো কাউবয় হ্যাট। সামনের দিকে থাকা ছোট্ট ধাতব বা রুপালি ডিটেইলিং হ্যাটটিতে যোগ করেছে আলাদা মাত্রা। কালো টুপির সঙ্গে লাল-সাদা পোশাকের বৈপরীত্য পুরো সাজে তৈরি করেছে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট। এই লুকের আরেকটি বড় আকর্ষণ হাঁটু পর্যন্ত লম্বা কালো লেদার ওয়েস্টার্ন বুট। বুটের ওপরের অংশ ও বর্ডারে থাকা সাদা কিংবা রুপালি সুতার এমব্রয়ডারি ও স্টিচিংয়ের কাজ নজর কেড়েছে। মিনি ফ্রকের সঙ্গে নি-হাই বুটের এই সমন্বয়েই পিয়ার সাজ পেয়েছে পরিপূর্ণ ওয়েস্টার্ন আবহ। গয়নার ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়তি কিছু যোগ করেননি পিয়া। গলায় ছিল সরু সোনালি চেইন ও ছোট্ট লকেট। ভারী গয়না এড়িয়ে যাওয়ায় পোশাক, হ্যাট ও বুটই থেকেছে লুকের মূল আকর্ষণ। মেকআপেও ছিল গ্ল্যামার ও স্বাভাবিকতার ভারসাম্য। হালকা আইলাইনারের সঙ্গে ডিপ রোজি-পিংক বা বেরি টোনের লিপস্টিক তার চেহারায় এনেছে উজ্জ্বলতা। লম্বা কালো চুল সফট ওয়েভে খোলা রাখায় কাউগার্ল লুকেও এসেছে নরম একটি ছোঁয়া। অন্যদিকে, পিয়ার আরেকটি লুকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ফ্যাশন স্টেটমেন্ট দেখা যায়। সেখানে ওয়েস্টার্ন আবহের পরিবর্তে প্রাধান্য পেয়েছে রঙিন ফ্লোরাল ম্যাক্সি গাউন। গোলাপি ও কমলার মিশেলে তৈরি উজ্জ্বল ফ্লোরাল প্রিন্টের গাউনটি প্রথম দেখাতেই নজর কাড়ে। পোশাকের হাল্টার নেক ডিজাইন লুকটিতে যোগ করেছে আধুনিকতা, আর একপাশের হাই-সাইড স্লিট এনেছে বোল্ড ও গ্ল্যামারাস আবহ।এই গাউন লুকের সঙ্গে মেকআপও ছিল বেশ পরিপাটি। চোখে নিখুঁত আইলাইনার, ঠোঁটে ডিপ রোজি-পিংক লিপস্টিক এবং গালে হালকা ব্লাশে তৈরি হয়েছে গ্ল্যামারাস ইভনিং লুক। চুল বাঁধা হয়েছে স্টাইলিশ মেসি আপডো বা খোপায়। মুখের দুই পাশে কয়েক গোছা আলগা চুল রেখে দেওয়ায় সাজে এসেছে কোমল ও এলিগ্যান্ট ভাব। গাউনের সঙ্গে পিয়ার পায়ে ছিল পয়েন্টেড-টো হাই হিল। স্বচ্ছ বা ক্লিয়ার স্ট্র্যাপের এই হিল পোশাকের রঙিন প্রিন্টকে আড়াল না করে বরং পুরো লুকটিকে আরও পরিশীলিত করেছে। একদিকে কাউগার্ল হ্যাট ও ওয়েস্টার্ন বুটে পিয়ার সাহসী স্টাইল, অন্যদিকে ফ্লোরাল গাউনে তার গ্ল্যামারাস উপস্থিতি-দুটি লুকেই স্পষ্ট, ফ্যাশনে নিজেকে একই ছকে আটকে রাখতে পছন্দ করেন না পিয়া বিপাশা। কখনো বোল্ড ওয়েস্টার্ন, কখনো এলিগ্যান্ট গ্ল্যামারে স্টাইল বদলালেও নজর কাড়ার বিষয়টি যেন একই থাকে। এসএকেওয়াই