জাতীয়

উষ্ণতম মাস ছিল আগস্ট, চরম বিপদের মুখে পৃথিবী

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
উষ্ণতম মাস ছিল আগস্ট, চরম বিপদের মুখে পৃথিবী
উষ্ণতম মাস ছিল আগস্ট, চরম বিপদের মুখে পৃথিবী

জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর রূপ দেখছে বিশ্ববাসী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের (সিথ্রিএস) তথ্যমতে, গত আগস্ট মাস এযাবৎকালে বিজ্ঞানীদের রেকর্ড করা মাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণতম ছিল। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে বিশ্বজুড়ে গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৬২.৫২ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর আগে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ১৬.৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে আগস্ট মাস নতুন ইতিহাস গড়েছে। এ ছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইউরোপীয় কেন্দ্র ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সামান্থা বার্গেস জানান, আগস্ট মাস বৈশ্বিক জলবায়ু রেকর্ডে একটি উল্লেখযোগ্য মাস ছিল। প্রাক্‌-শিল্পযুগের তুলনায় এ সময় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ওপরে পৌঁছে যায়। পশ্চিম ইউরোপে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের পাশাপাশি সমুদ্রের পানিও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর ফলে পরিবেশের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
গত আগস্টে বৈশ্বিক গড় ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। প্রাক্‌-শিল্পযুগের ১৮৫০ থেকে ১৯০০ সালের অনুমানের তুলনায় এটি ১.৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের পর এই প্রথম তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করল। ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, হাঙ্গেরি, রোমানিয়া ও সার্বিয়ায় ভয়াবহ খরা দেখা দেয়।

সমুদ্রের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২১ দশমিক শূন্য ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে যা ছিল ২০.৯৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি থাকায় এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা ডব্লিউএমও সতর্ক করে জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি দ্রুত শক্তিশালী রূপ নিচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এ কারণে বন্যা, খরা এবং চরম তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বাড়বে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাব অব্যাহত থাকার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের তথ্যমতে, আমাদের গ্রহটি এখন এমন এক অজানা বিপদের মুখে রয়েছে যা উষ্ণ হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। মানুষ ও প্রকৃতিকে রক্ষা করার লড়াইয়ে আমাদের অবশ্যই জয়ী হতে হবে।

সূত্র: ডেইলি মেইল

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
বসতঘরে মজুত ২৮৮ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড
বসতঘরে মজুত ২৮৮ বস্তা সার জব্দ, ব্যবসায়ীর কারাদণ্ড

মাগুরার শ্রীপুরে অভিযান চালিয়ে ২৮৮ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সরকারি অনুমোদন ছাড়া সার মজুত রাখার দায়ে জামিরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার টিকারবিলা বাজারে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অসাধু উদ্দেশ্যে বসতঘরে সার মজুত করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিকারবিলা বাজারের ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৮৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকি ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকি বলেন, কৃষি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা কোনো ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বনকারীদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় অবৈধ সার মজুতের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় বড় অভিযান। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেএইচকে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ফের খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ফের খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

এমিরেটসে বিশ্বের প্রথম পূর্ণ উচ্চতার প্রাইভেসি স্ক্রিনসহ ইলেকট্রিক প্রিমিয়াম ইকোনমি আসন

এমিরেটসে বিশ্বের প্রথম পূর্ণ উচ্চতার প্রাইভেসি স্ক্রিনসহ ইলেকট্রিক প্রিমিয়াম ইকোনমি আসন

আইফোন ১৭ সিরিজে কমলা, ১৮-তে কোন রং জনপ্রিয়?

আইফোন ১৭ সিরিজে কমলা, ১৮-তে কোন রং জনপ্রিয়?

সময়মতো দোকান না খোলায় সারের ডিলারকে জরিমানা
সময়মতো দোকান না খোলায় সারের ডিলারকে জরিমানা

সময়মতো দোকান না খোলা এবং সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিসিআইসির এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনতলা বাজার এলাকার মেসার্স লেক্সাস ইন্টারন্যাশনাল ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালায় প্রশাসন। জরিমানা গুনা ডিলারের নাম খন্দকার মহব্বত হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাজানা আখতার। এসময় সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও থানা পুলিশ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার বলেন, সময় মতো দোকান না খোলা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপরাধে এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। তার ভাষ্য, সারের কোনো সংকট নেই। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। আল-মামুন সাগর/এসজেডএইচ/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সাবেক মন্ত্রীর দখল করা জায়গায় হবে মাদরাসা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সাবেক মন্ত্রীর দখল করা জায়গায় হবে মাদরাসা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ

২৬ বছরের শিক্ষকতায় ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায়

২৬ বছরের শিক্ষকতায় ইতি, ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে বিদায়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের অভিযান শুরু কাল, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
‘দম’ কি বাংলা সিনেমায় দম আনতে পেরেছে

‘দম’ কি বাংলা সিনেমায় দম আনতে পেরেছে

নিখোঁজের তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার, পাওনা টাকা চাওয়ায় ‘বন্ধুর হাতে খুন’, বলছে পুলিশ

নিখোঁজের তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার, পাওনা টাকা চাওয়ায় ‘বন্ধুর হাতে খুন’, বলছে পুলিশ

২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম

২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন কার্যক্রম

0 Comments