টরন্টো এখন বিশ্ব চলচ্চিত্রের মিলনমেলা। প্রেক্ষাগৃহের সামনে দীর্ঘ সারি, রেড কার্পেটে ক্যামেরার ঝলকানি, প্রিয় তারকাকে একঝলক দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড়। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নির্মাতা, অভিনয়শিল্পী, প্রযোজক, চলচ্চিত্রকর্মী ও সিনেমাপ্রেমীরা জড়ো হয়েছেন কানাডার এই শহরে। একদিকে নতুন ছবির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার, অন্যদিকে তারকাদের পদচারণ আর সিনেমা নিয়ে জমজমাট আলোচনা, কয়েক দিনের জন্য টরন্টোর প্রাণকেন্দ্র যেন শুধুই চলচ্চিত্র।
এই উৎসবমুখর আবহে স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার পর্দা উঠেছে ৫১তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (টিআইএফএফ)। অস্কারজয়ী নির্মাতা শান হেডারের ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের আয়োজন। উৎসব চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অফিশিয়াল সিলেকশনে রয়েছে ২৯৩টি চলচ্চিত্র।
উদ্বোধনের কেন্দ্রে ‘বিয়িং হিউম্যান’
প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের অগ্রণী মার্কিন কর্মী জুডি হিউম্যানের জীবন ও আন্দোলন নিয়ে নির্মিত ‘বিয়িং হিউম্যান’। জুডির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী রুথ মেডলি। ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কল্যাণমন্ত্রী জোসেফ ক্যালিফানো জুনিয়রের চরিত্রে আছেন মার্ক রাফালো। অস্কারজয়ী ‘কোডা’র পর এটি শান হেডারের নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি।
উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে শান হেডারের সঙ্গে ছিলেন রুথ মেডলি, ডিলান ও’ব্রায়েন, ড্যানিয়েল ডুরান্ট, রে ফিশার, ম্যাডেলিন ডেলপ, রাসেল হার্ভার্ড, রবের্তা কোলিন্দ্রেজ, জন বিভার্স, উইল ব্রিলসহ ছবির বড় একটি দল।
রেড কার্পেটে রয়টার্সকে শান হেডার বলেন, জুডি হিউম্যানের কাজ ছিল ‘অদৃশ্য মানুষদের দৃশ্যমান করে তোলা’। তাঁর মতে, জুডির কাজ শুধু মানুষের দিকে আলো ফেরানো নয়, অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন আনারও ছিল।
জুডি হিউম্যান ১৯৭৭ সালে সান ফ্রান্সিসকোর একটি ফেডারেল ভবনে শতাধিক প্রতিবন্ধী মানুষকে নিয়ে ২৬ দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো ফেডারেল ভবনে সেটিই ছিল দীর্ঘতম অবস্থান কর্মসূচি। আন্দোলনের চাপে ১৯৭৩ সালের রিহ্যাবিলিটেশন অ্যাক্টের সেকশন ৫০৪ কার্যকর করার বিধিমালায় স্বাক্ষর করে তৎকালীন প্রশাসন। প্রতিবন্ধী মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঘটনাটি পরে মাইলফলক হয়ে ওঠে।
জুডির চরিত্রে অভিনয় করা রুথ মেডলি রয়টার্সকে বলেন, মানুষ সাধারণত জুডিকে দৃঢ়চেতা আন্দোলনকর্মী হিসেবেই চেনে। কিন্তু তাঁর মজার দিক, প্রাণচাঞ্চল্য, হাস্যরস ও আনন্দও পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে বিশেষ অর্থবহ।
প্রথম দিনেই একের পর এক প্রিমিয়ার
আয়োজকদের তথ্য, উৎসবে উপস্থিত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে টরন্টো উৎসব। একের পর এক প্রিমিয়ার, রেড কার্পেটে তারকাদের উপস্থিতি আর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ভিড়ে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবমুখর ছিল বিভিন্ন ভেন্যু। কোথাও নতুন ছবি দেখতে দর্শকের অপেক্ষা, কোথাও নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের ঘিরে উৎসাহ।
ডিসকভারি বিভাগের উদ্বোধন হয়েছে ব্রিটিশ নির্মাতা থিও রিসের ‘স্টাফড’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার দিয়ে। রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ছিল প্রদর্শনী। এটি থিও রিসের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। নিজের একই নামের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্যে নিয়ে এসেছেন তিনি। ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোডি কোমার ও হ্যারি মেলিং।

প্রেম, মৃত্যু আর ট্যাক্সিডার্মিকে এক গল্পে মিলিয়েছেন নির্মাতা। কেন্দ্রে আরামিন্টা নামের এক ট্যাক্সিডার্মিস্ট। তাঁর ইচ্ছা, একদিন মানুষের শরীর সংরক্ষণ করবেন। অন্যদিকে বয়স বেড়ে যাওয়ার ভয় তাড়া করা নিঃসঙ্গ বার্নি নিজেই তাঁর ‘নমুনা’ হতে রাজি হন। কিন্তু পরিকল্পনা এগোতে থাকলে দুজনের মধ্যে তৈরি হয় অন্য রকম সম্পর্ক। হরর, ডার্ক কমেডি, প্রেম আর মিউজিক্যাল; বিভিন্ন ঘরানার মিশেলে তৈরি ছবিটি প্রদর্শনীর আগেই দর্শকের কৌতূহল তৈরি করেছিল। প্রিমিয়ার ঘিরে জোডি কোমার ও হ্যারি মেলিংকে নিয়েও ছিল আগ্রহ।
একই সন্ধ্যায় টিআইএফএফ লাইটবক্সে ছিল প্রামাণ্যচিত্র ‘রাপিনো’র ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল তারকা মেগান রাপিনোকে নিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন রেবেকা হান্ট। তাঁর আগের ছবি ‘বেবা’ ২০২১ সালে টরন্টো উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এবার প্রচলিত ক্রীড়া-জীবনীর বাইরে গিয়ে রাপিনোর ব্যক্তিজীবন, মূল্যবোধ ও মাঠের বাইরের অবস্থান ধরেছেন নির্মাতা। ‘রাপিনো’ এবারের টিআইএফএফ ডকস বিভাগের উদ্বোধনী ছবি।
প্রিমিয়ারে উপস্থিত ছিলেন মেগান রাপিনো। যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দুটি নারী বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার মাঠের বাইরেও সমান মজুরি, এলজিবিটিকিউ অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সরব অবস্থানের জন্য পরিচিত।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়ারের তালিকাও দীর্ঘ হয়েছে। রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে রাত পৌনে নয়টায় ছিল বেন শিরিনিয়ানের ‘দ্য হাউসওয়াইফ’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। নাওমি ওয়াটস, টাই শেরিডান, লুক এভানস ও মাইকেল ইমপেরিওলি অভিনীত ছবিটি ১৯৬৪ সালের নিউইয়র্কের পটভূমিতে নির্মিত।
প্রথম দিনের আরেকটি আলোচিত ছবি ক্রিস্তিয়ান মুঞ্জিউর ‘ফিয়র্ড’। এ বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে স্বর্ণপাম জিতেছে ছবিটি। টরন্টোয় রাত সাড়ে নয়টায় ছিল এর প্রদর্শনী। সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে অভিনীত ছবির কেন্দ্রে নরওয়েতে বসবাসরত একটি রোমানীয়-নরওয়েজীয় পরিবার। রক্ষণশীল ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে উদার সমাজের মূল্যবোধের সংঘাত, সন্তান লালন–পালন এবং রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের মতো বিষয় সামনে এনেছেন মুঞ্জিউ।
এর বাইরে প্রথম দিনের সূচিতে ছিল নাইলা ইনুকসুকের ‘ইন দ্য হার্ট অব দ্য সাউথ’, ‘বিলো’সহ আরও কয়েকটি ছবি।

দিনের একেবারে শেষ আয়োজন ছিল হররপ্রেমীদের জন্য। রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে রয়্যাল আলেকজান্দ্রা থিয়েটারে জশুয়া জুলিয়ানোর ‘রিভার’-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে টিআইএফএফের জনপ্রিয় মিডনাইট ম্যাডনেস বিভাগ। জেন লেভি, জেসিকা রোথ, ম্যাক্স ম্যাটার্ন ও ডেন ডিলিয়েগ্রো অভিনীত ছবিটি স্ল্যাশার ঘরানার।
উদ্বোধনী দিনেই তাই টরন্টো দেখিয়েছে উৎসবটির বৈচিত্র্য; একদিকে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের গল্প ‘বিয়িং হিউম্যান’, অন্যদিকে হরর-মিউজিক্যাল ‘স্টাফড’; মেগান রাপিনোর জীবন নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র থেকে স্বর্ণপামজয়ী ‘ফিয়র্ড’, আর মধ্যরাতে স্ল্যাশার ‘রিভার’। ভিন্ন ঘরানার সিনেমা, তারকা, নির্মাতা ও দর্শকের মেলবন্ধনেই জমে উঠেছে এবারের উৎসব।
স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক ছবিতে জোর
এবারের উৎসবের লক্ষ্য শুধু তারকাবহুল সিনেমা নয়। টিআইএফএফের চিফ প্রোগ্রামিং অফিসার অনিতা লি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তরুণ দর্শকদের মধ্যে মূলধারার হলিউডের বাইরের আন্তর্জাতিক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহ বাড়ছে। সেই পরিবর্তন মাথায় রেখেই এবারের আয়োজন সাজানো হয়েছে।
আলোচিত ছবির মধ্যে রয়েছে পিটার ফ্যারেলির ‘আই প্লে রকি’। তরুণ সিলভেস্টার স্ট্যালোনের ‘রকি’ তৈরির লড়াইকে কেন্দ্র করে ছবিটির গল্প। আলোচনায় আছে ক্রিস রক পরিচালিত ‘মিস্টি গ্রিন’ও। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ছবিটির অভিনেত্রী রোজালিন্ড এলিয়াজারকে এবারের পুরস্কার মৌসুমে নজর রাখার মতো অভিনয়শিল্পীদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আরও রয়েছে সিনথিয়া এরিভো অভিনীত ‘প্রাইমা ফেসি’, হুর জিন-হোর ‘দ্য অ্যাসাসিন(স)’সহ নানা দেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র। ফলে তারকাবহুল ছবির পাশাপাশি নতুন নির্মাতা ও ভিন্ন ধরনের গল্পও বড় জায়গা পেয়েছে এবারের আয়োজনে।

নতুন অধ্যায় ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’
এবার টরন্টো উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন অধ্যায়, ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’। এত দিন উৎসবকে ঘিরে চলচ্চিত্র কেনাবেচা ও নতুন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলেও এবার প্রথমবারের মতো সেটিকে আলাদা ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মের রূপ দিয়েছে টিআইএফএফ। ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সাত দিনের এই আয়োজন চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এর মূল কেন্দ্র মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টার।
শুধু চলচ্চিত্র নয়, সিরিজ ও নতুন ধরনের পর্দার কনটেন্টও জায়গা পেয়েছে এই বাজারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযোজক, পরিবেশক, বিক্রয় প্রতিনিধি, ক্রেতা, অর্থলগ্নিকারী, নির্মাতা ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। নতুন ছবির স্বত্ব কেনাবেচা, নির্মাণাধীন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন ও সহপ্রযোজক খোঁজা এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশনার সুযোগ তৈরি, এসবই এই আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রয়েছে মার্কেট স্ক্রিনিং, বৈঠক, নেটওয়ার্কিং এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগের ব্যবস্থা।
আয়োজনের পরিসরও বড়। মেট্রো টরন্টো কনভেনশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ১২০টি প্রদর্শনী স্টলের পাশাপাশি রয়েছে একাধিক আলোচনা মঞ্চ, ব্যবসায়িক বৈঠকের লাউঞ্জ, ইনোভেশন জোন ও মার্কেট স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা। মার্কেটের জন্য রাখা হয়েছে ৬৫০টি স্ক্রিনিং স্লট। জুনের মধ্যেই ৪৯টি দেশের ১৩০টির বেশি ক্রেতা অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সিরিজ ও অন্যান্য কনটেন্টের ক্রেতারাও আছেন।
উৎসবের জনসংযোগ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ছয় হাজারের বেশি চলচ্চিত্রশিল্প-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। ফলে সিনেমা দেখা আর তারকাদের রেড কার্পেটের পাশাপাশি পর্দার আড়ালে চলছে নতুন ছবির স্বত্ব কেনাবেচা, অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা। নতুন ‘টিআইএফএফ: দ্য মার্কেট’ সেই ব্যবসায়িক দিকটিকেই এবার আরও সংগঠিতভাবে সামনে এনেছে।

অপেক্ষায় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’
এবারের টরন্টো উৎসবে বাংলাদেশেরও গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। সেন্টারপিস বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। টরন্টোয় হবে ছবিটির নর্থ আমেরিকান প্রিমিয়ার।
ফ্রান্স, বাংলাদেশ, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিটি এর আগে ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ওরিজোন্তি বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। ভেনিসের এই বিভাগে নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’।
ঢাকার পটভূমিতে নির্মিত ছবির কেন্দ্রে জাইনিন নামের এক তরুণী। বিয়ের প্রস্তুতি, সৌন্দর্যচর্চা এবং পারিবারিক ও সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে তাঁর শরীর অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঘরোয়া চিকিৎসা, সামাজিক চাপ ও ভৌতিক অভিজ্ঞতা। নির্মাতা নারীর শরীর, স্বাধীনতা ও সমাজের চাপের দ্বন্দ্বকে শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনিন চৌধুরী করিম। আরও আছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, আজমেরী হক বাঁধন, দামীর খান, সাবেরী আলম, শতাব্দী ওয়াদুদ ও মোহাম্মদ বারী।
টরন্টোয় ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’-এর তিনটি প্রদর্শনী রয়েছে। প্রথম প্রদর্শনী ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটায় টিআইএফএফ লাইটবক্সের সিনেমা ৪-এ। একই প্রেক্ষাগৃহে ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় হবে দ্বিতীয় প্রদর্শনী। তৃতীয় প্রদর্শনী ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে স্কশিয়াব্যাংক থিয়েটারের সিনেমা ৭-এ।
২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। সামনের দিনগুলোয় আরও অনেক আলোচিত ছবির প্রিমিয়ার হবে, রেড কার্পেটে দেখা যাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তারকাদের। শেষ দিকে শুরু হবে পুরস্কারের হিসাব-নিকাশ। তবে বরাবরের মতো সবচেয়ে বেশি আগ্রহ থাকবে দর্শকের ভোটে দেওয়া পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড নিয়ে। কারণ, অতীতে দেখা গেছে টরন্টোয় এই পুরস্কার জেতা অনেক ছবিই পরে অস্কারের দৌড়ে জায়গা করে নিয়েছে। তাই শেষ পর্যন্ত নজর থাকবে, এবার টরন্টোর দর্শকের মন জেতে কোন ছবি।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মাগুরার শ্রীপুরে অভিযান চালিয়ে ২৮৮ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় সরকারি অনুমোদন ছাড়া সার মজুত রাখার দায়ে জামিরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার টিকারবিলা বাজারে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অসাধু উদ্দেশ্যে বসতঘরে সার মজুত করে রাখার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টিকারবিলা বাজারের ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২৮৮ বস্তা সার জব্দ করা হয়। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব সার মজুত করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকি ব্যবসায়ী জামিরুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা পিংকি বলেন, কৃষি খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা কোনো ধরনের অসাধু পন্থা অবলম্বনকারীদের কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করার খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা, শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, পাঁচ দিনের ব্যবধানে একই এলাকায় অবৈধ সার মজুতের বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় বড় অভিযান। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/কেএইচকে/জেআইএম
সময়মতো দোকান না খোলা এবং সারের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বিসিআইসির এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনতলা বাজার এলাকার মেসার্স লেক্সাস ইন্টারন্যাশনাল ডিলার পয়েন্টে অভিযান চালায় প্রশাসন। জরিমানা গুনা ডিলারের নাম খন্দকার মহব্বত হোসেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাজানা আখতার। এসময় সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন ও থানা পুলিশ। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আখতার বলেন, সময় মতো দোকান না খোলা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অপরাধে এক ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। তার ভাষ্য, সারের কোনো সংকট নেই। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। আল-মামুন সাগর/এসজেডএইচ/জেআইএম
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারা দেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।