মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পাড় এলাকায় সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরে খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছ পর্যবেক্ষণ এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসজেডএইচ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পারভেজ হোসেন নিয়ামতের (৩০) নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও একাধিক বিয়ের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী রেক্সানা পারভীন (৩০)। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। অভিযুক্ত পারভেজ বর্তমানে উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। রেক্সানা জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একই ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের হামিদ মোল্লার ছেলে পারভেজ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে লাবিব হোসেন রাজ নামে আড়াই বছরের একটি ছেলে সন্তান ও মাত্র ৯ মাস বয়সি অনয়া পারভেজ সারা নামে এক কন্যা সন্তান নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে সন্তানদের তিনি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। রেক্সানার অভিযোগ, ওই বিএনপি নেতার অভিনব প্রতারণার শিকার হয়ে তার নামে অর্থঋণের মামলা করেছে একটি সমিতি। স্বামীর এমন প্রতারণায় অর্থঋণের মামলা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে রেক্সানা পারভীন জানান, তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে ছাত্রদল নেতা (তৎকালীন) পারভেজ হোসেন নিয়ামতের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পরেই তার স্বামী একটি মাইক্রোবাস কিনে ভাড়ায় চালানোর জন্য এনজিও থেকে একলাখ টাকা তুলে দেওয়ার কথা জানান। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে তার এক আত্মীয়ের নিকট থেকে এক লাখ টাকা এনে দেন। পরবর্তীতে ওই বছরের ১৮ মে তাকে দিয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতি থেকে এক লাখ টাকা তুলে নেন স্বামী পারভেজ হোসেন নিয়ামত এবং সে নিজেই জামিনদার হোন। এছাড়া কিস্তির সকল টাকা তার স্বামী দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। পারভীন বলেন, টাকা উঠিয়ে দেওয়ার পর থেকে আচরণ বদলে যায়, মাত্র ২৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করার পর কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তার স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে রয়েছে কিন্তু আমাকে মিথ্যা কথা বলে বিয়ে করেছিল। একপর্যায়ে আমাদের ছেলে সন্তানের জন্ম হলেও খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এতে আমি আরও মানসিক চাপে পড়ে যাই। তিনি আরও বলেন, কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য তাকে আটকে রাখা হলে শালিসে বসে টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এবং ৮০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। পরে ওই চেক নিয়ে টাকা তুলতে গিয়ে দেখি তার অ্যাকাউন্টেও টাকা নাই। এরপর আদালতে যৌতুক মামলা করলে আমার সঙ্গে আপোশ মীমাংসা করার কথা জানায় এবং সন্তানের দিকে তাকিয়ে সব মেনে নিই। এরপর আবারও আমাদের একটি কন্যা সন্তান গর্ভে আসে। কিন্তু বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসায় এবং দলীয় পদ পেয়ে আবারও তার আচরণ পাল্টে যেতে শুরু করে। তখন কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে বললে নানাভাবে আমাকে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে ওই সমিতির কর্তৃপক্ষ আমার নামে অর্থঋণের মামলা করে। মামলার বিষয়ে জানালে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে আমার সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পারভীনের ভাষ্যমতে, এই বিএনপি নেতা তিনটি বিয়ে করেছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করেছেন। এছাড়া এই বিএনপি নেতার বাবা ভ্যানচালক হলেও বর্তমানে বাড়িতে দ্বিতল বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন। অর্থঋণের মামলা ও স্বামীর প্রতারণা থেকে মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, স্বামী সমিতির টাকা পরিশোধ করে দিলে মামলা থেকে মুক্তি পাব। তা-না হলে ছোট ছোট দুই সন্তান নিয়ে বিপদে পড়ে যাব। আমি এই মামলা থেকে বাঁচতে চাই। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা পারভেজ হোসেন নিয়ামত বলেন, সন্তান দুইটি আমার না। তার সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন আমার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় এবং বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু তার সঙ্গে থাকিনি। তিনি আরও বলেন, কিস্তির টাকা তুলেও আমাকে দেয়নি। ওই টাকা তোলার সময় কৌশলে আমাকে জামিনদার করা হয়েছিল। নতুন করে টাকা আদায়ের জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান আব্বাস বলেন, এ বিষয়ে ছয় মাস আগে আদালতের রায়ে দেনমোহর ও সন্তানদের ভরণপোষণ বাবদ প্রতিমাসে ২৫ হাজার টাকা করে চার লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হয়ত এই টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। দ্বিতীয় স্ত্রীই তাকে কাছে নেওয়ার জন্য এই ঝামেলা করছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা ব্যুরো বাংলাদেশ সমিতির ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার তুহিন হাবিব বলেন, আমরা মূলত নারীদের ঋণ দিয়ে থাকি, সেক্ষেত্রে স্বামী প্রথম জামিনদার থাকেন। এছাড়া ঋণখেলাপি হলে মামলা ঋণগ্রহীতার নামেই হবে। এক্ষেত্রে স্ত্রীর নামেই হয়েছে। এখন স্বামী-স্ত্রী সমঝোতা করে মামলা মিটাবে। এন কে বি নয়ন/এসজেডএইচ/এএসএম
মিয়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা ঢোকে বাংলাদেশে। এরপর পাহাড়ি পথ, পুরোনো সড়ক কিংবা বিকল্প পথে চলে যায় কক্সবাজার শহরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে পাচারকারীরা পথ বদলায়, ব্যবহার করে নতুন নতুন কৌশল। ফলে সীমান্তে ইয়াবার চালান আটকালেও বন্ধ হচ্ছে না এর বিস্তার। এ জন্য সীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত ইয়াবা পাচারের এই লম্বা রাস্তায় নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। এ জন্য কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব চৌকিতে থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা, মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড, গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার।তল্লাশিচৌকি পরিচালনার জন্য পুলিশের ৩২১ জন সদস্য চাওয়া হয়েছে। আর যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। গত ২৭ জুলাই পুলিশের সদর দপ্তরে এই প্রস্তাব পাঠায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ।২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি ইয়াবা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। এরপরও ইয়াবা পাচার বন্ধ হয়নি।কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা ঘুরে প্রস্তাবটি তৈরি করেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কোনোভাবেই ইয়াবা ঢুকতে দেওয়া হবে না—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই প্রস্তাবটি করা হয়েছে।মো. নাজিমুল হক বলেন, সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারিদের তল্লাশিচৌকিতে আটকানো হবে। সেখানে শনাক্ত না হলে এআই ক্যামেরায় তাদের শনাক্ত করার ব্যবস্থা থাকবে। কারবারি ও তাদের সহযোগীদের ছবি সংরক্ষিত থাকবে। তারা এলাকায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ক্যামেরায় শনাক্ত হয়ে যাবে। গাড়ি ও লাগেজে লুকানো মাদক স্ক্যানারে ধরা পড়বে। এরপরও কারও মাদক শনাক্ত করা না গেলে ডগ স্কোয়াড কাজে লাগানো হবে।এআই ক্যামেরাসীমান্ত থেকে শহর পর্যন্ত নজরদারি মাদক পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান কম হয়নি। এরপরও ইয়াবার প্রবেশ বন্ধ করা যাচ্ছে না। ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি ইয়াবা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে।চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী, সমুদ্রপথ ও সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে ঢোকে। কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তকে ইয়াবা প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।তবে শুধু সীমান্তে নজরদারি করে এই মাদক ঠেকানো যাবে না বলে মনে করছে পুলিশ। কারণ, সীমান্ত পার হওয়ার পর ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহার করা হয় বিকল্প সড়ক ও পাহাড়ি পথ দিয়ে। এসব পথ মূল সড়কের সঙ্গে যেখানে যুক্ত হয়েছে, সেখানেই স্থায়ী চেকপোস্ট বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ জন্য কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার ও পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু ও রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার সড়ক এবং চকরিয়ার হারবাং সড়ক। নাইক্ষ্যংছড়িতে রয়েছে বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড়, বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড় এবং রামুর গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়।সবচেয়ে বড় চেকপোস্ট হবে ভাঙ্গার মোড় প্রস্তাবিত ১১টি তল্লাশিচৌকির মধ্যে ভাঙ্গার মোড়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তে এই স্থান। কক্সবাজার শহর ও পর্যটন এলাকায় ইয়াবা ঢোকা ঠেকাতে এখানে বড় ধরনের নজরদারিবলয় তৈরির পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। এখানে পুলিশের ৪২ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন পালায় দায়িত্ব পালনের জন্য থাকবেন ৩ জন এসআই, ৩ জন এএসআই, ২৯ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী কনস্টেবল। এই তল্লাশিচৌকিতে একটি ডগ স্কোয়াড, একটি লাগেজ স্ক্যানার, একটি ভেহিক্যাল স্ক্যানার, তিনটি এআই-নির্ভর মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ বর্গফুটের সেমি পাকা ভবন ও আরসিসি পার্কিং পেভমেন্ট নির্মাণে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে।পুরোনো সড়কও নজরদারিতে শুধু প্রধান সড়ক নয়, ইয়াবা পাচারের পুরোনো পথগুলোও নজরদারির আওতায় আনতে চাইছে পুলিশ। উখিয়ার পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস-কাটিয়ার মাথা এলাকাকে গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, টেকনাফ ও উখিয়া থেকে পুরোনো সড়ক ব্যবহার করে কক্সবাজারে মাদক আনার প্রবণতা রয়েছে। এ কারণে সেখানে ৩৩ সদস্যের একটি চেকপোস্ট স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার এলাকাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়েছে। মরিচ্যা চেকপোস্ট থেকে বিভক্ত সড়ক এবং পার্বত্য এলাকা থেকে আসা মাদক ঠেকাতে এই পয়েন্ট কাজে আসবে বলে মনে করছে পুলিশ। আর গর্জনিয়ার ডাকবাংলো মোড়কে গুরুত্বপূর্ণ করা হয়েছে বনাঞ্চলঘেরা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার চার রাস্তার সংযোগস্থল হিসেবে; অর্থাৎ পুলিশের পরিকল্পনার মূল কৌশল হলো, সীমান্তে মাদক ঢোকার পর সেটি যেন শহর কিংবা দেশের অন্য এলাকায় পৌঁছাতে না পারে। সে জন্য সীমান্ত থেকে মূল সড়কে ওঠার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে তৈরি করা হবে নজরদারির বলয়।নাইক্ষ্যংছড়িতে তিন চেকপোস্ট বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবে। সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি ছোট ছোট রাস্তা দিয়ে মাদক আসার আশঙ্কায় সেখানে তিনটি স্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হলো বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের চৌরাস্তার মোড় এবং বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়। প্রতিটি তল্লাশিচৌকিতে পুলিশের ৩৩ জন সদস্য রাখার প্রস্তাব রয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়। পাহাড়ি এই সংযোগস্থল মাদক পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে সোনাইছড়ির চৌরাস্তা চারটি সড়কের সংযোগস্থল। ফলে সেখানে যানবাহন থামিয়ে পরীক্ষা করা তুলনামূলক সহজ হবে বলে মনে করছে পুলিশ।ক্যামেরার চোখে ধরা পড়বে কারবারি ১১টি তল্লাশিচৌকিকে শুধু পুলিশ দিয়ে পাহারা দেওয়ার পরিকল্পনা নয়, প্রযুক্তির আওতায় আনতে চাইছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব চেকপোস্টে মোট ৩১টি এআই-ভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারি ও তাদের সহযোগীদের ছবি এআই–ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা থাকবে। তারা চেকপোস্টের আওতায় এলেই ক্যামেরার মাধ্যমে শনাক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে থাকবে ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার। ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিনের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এতে মোট ব্যয় হবে ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আটটি লাগেজ স্ক্যানারের প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। এতে ব্যয় হবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এআই-ভিত্তিক ফেস ডিটেকশন সফটওয়্যারের জন্য ৫ লাখ টাকা এবং ৬৫ ইঞ্চির ২৩টি টেলিভিশনের জন্য ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে; অর্থাৎ প্রস্তাবটির বড় অংশজুড়েই রয়েছে প্রযুক্তি। পুলিশের ধারণা, চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ি বা লাগেজে মাদক লুকিয়ে নেওয়ার সুযোগ কমাতে এসব প্রযুক্তি কার্যকর হবে।এক পথ বন্ধ হলে আরেক পথ মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান নয়, পাচারের রুট বন্ধ করাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি মাদক পরিবহনের রুট বন্ধ করাও জরুরি। এ জন্য প্রযুক্তিগত এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার।আখতার কবির চৌধুরী বলেন, একটি পথ বন্ধ হলে কারবারিরা অন্য পথ খোঁজে। সীমান্ত, পাহাড়ি পথ, বিকল্প সড়ক, রেলপথ এবং শহরে প্রবেশের পয়েন্ট—সব জায়গায় সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন। সমন্বিত নজরদারির ঘাটতি থাকলে পাচারকারীদের পথ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না।পুলিশের সদর দপ্তরে পাঠানো প্রস্তাবটির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুল করিমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সীমান্তের পর ইয়াবা পাচারের পথগুলোতে তৈরি হবে একাধিক নজরদারিবলয়। সীমান্তে ঢোকার পর শহরে পৌঁছানোর আগেই চালান আটকে দেওয়াই হবে এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সুলতান জুয়েলের দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে সংগঠন থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আরও পড়ুন মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে গাজী সুলতান জুয়েলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে। কেএইচ/একিউএফ