জাতীয়

সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
সুনামগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে শহরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম বাজার, সুরমা নদীর চাঁদনী ঘাট ও কামারখাল এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়। এসময় ফগার মেশিন নিয়ে মশক নিধনও করা হয়।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। এসময় পৌর প্রশাসক অসিম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান, পি.পি অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কাউট দলের নেতৃবৃন্দ এবং পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অভিযানে অংশ নেন।

অভিযানকালে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, নদীর পাড়ে জমে থাকা ময়লা আবর্জনার স্তূপ অপসারণ এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সুরমা নদীর পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ময়লার স্তূপ দেখে জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি না। সুতরাং যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না। থুথু ফেলা যাবে না, পানের পিক ফেলা যাবে না। আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রাখতে চাই। পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে নির্দিষ্ট জায়গায় ময়লা ফেলতে হবে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে নানা রোগ ছড়াচ্ছে।

লিপসন আহমেদ/কেজে/এএসএম

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
‘ভারত অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানো জ্যোতির নিজের সিদ্ধান্ত’
‘ভারত অধিনায়কের সঙ্গে হাত না মেলানো জ্যোতির নিজের সিদ্ধান্ত’

ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো ম্যাচেই তাদের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। সম্প্রতি এশিয়া কাপের সেমিফাইনালের পর এটা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন হাত না মেলানো পুরো জ্যোতির নিজের সিদ্ধান্ত।   শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকের এক প্রশ্নে বাবু বলেন, ‘অবশ্যই এটা তার নিজের সিদ্ধান্ত। আর আমরা একটা জিনিস মনে করি, খেলাধুলার মাধ্যমে সারা বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হয়। যদি খেলাধুলার মাধ্যমে বিভেদের সৃষ্টি হতো, তাহলে ইরান কোনোদিনও আমেরিকায় খেলতে যেতো না। সুতরাং আমরা চাই, এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কটা সব দেশের সঙ্গেই থাকুক। এটা ভারত বলে নয়, সবার সাথেই থাকুক। আর যে যেটা করেছে, সেটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এটা আমরা কিছুই জানি না।’  সাম্প্রতিক সময়ে নারী দলের অধিনায়ক ও কোচিং প্যানেল নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। তবে আসন্ন এশিয়ান গেমসের পরেই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে বাবু বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা দেখি। যেহেতু ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করা হয়েছে, তারা এশিয়ান গেমসে কেমন খেলে, সেটা দেখি। আমরা আশা করছি তারা ভালো খেলবে। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব, আসলে কী করা যায়। এরপর আমাদের অস্ট্রেলিয়া ট্যুর আছে, নিউজিল্যান্ড ট্যুর আছে, আরও অনেক কিছু করার আছে আমাদের, ইনশাআল্লাহ।’  বিশেষ করে নারী দলের অধিনায়কের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ অনেক দিন ধরে আসছে এবং তার পারফরম্যান্সও দীর্ঘদিন ধরে খুব খারাপ যাচ্ছে। জাতীয় দলের পুরুষ ক্রিকেটে আমরা খুব দ্রুতই কয়েকজন অধিনায়ক পরিবর্তন হতে দেখেছি। খুব নামকরা অধিনায়ক, তারকারাও সরে গেছেন। নারী দলের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছেন? প্রশ্নে এই বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি আমাদের বোর্ড প্রেসিডেন্টসহ সবাই আলোচনা করেছি। ইনশাআল্লাহ দেখবেন, যেহেতু এশিয়ান গেমসে নাম অনেক আগে দিতে হয়, আপনারা এটা জানেন। সুতরাং এখানে সবকিছুই ঠিকঠাকমতো করা হয়েছে। আর যে অভিযোগগুলো আছে, সেগুলো ইনশাআল্লাহ আমরা খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’  এশিয়ান গেমসে ভালো করলে কি অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতি থেকে যাবেন? বাবুর উত্তর, ‘না। তারপরে আমাদের দলে অনেক ঘাটতি আছে। আমরা বড় বড় দেশগুলোকে তো পরাজিত করতে পারিনি। বিশ্বকাপেও কিন্তু আমরা অনেক ভালো খেলেছি, তারপরও সামান্য ভুলের জন্য পরাজিত হয়েছি। সেই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা কাজ করছি-কীভাবে এই দলটাকে আরও সুন্দর করা যায় এবং শক্তিশালী করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।’  এসকেডি/এমএমআর  

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্ট লোকদের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

দেশে সারের সংকট নেই, দুষ্ট লোকদের কারণে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

হাইটেক পার্কে অবকাঠামো নয়, 
এখন দরকার দক্ষ জনবল

হাইটেক পার্কে অবকাঠামো নয়, এখন দরকার দক্ষ জনবল

থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র মিললো মসজিদে

থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র মিললো মসজিদে

জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা
জার্মান চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে মামলা

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের একটি মন্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। দেশটির কট্টর ডানপন্থি দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) তাদের ‘রিমিগ্রেশন’ নীতিকে ‘জাতিগত নিধন’-এর সঙ্গে তুলনা করায় মের্জের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ করেছে। গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জার্মান সংবাদপত্র বিল্ড এ তথ্য জানিয়েছে। গত বুধবার জার্মান পার্লামেন্ট বুন্ডেসটাগে অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের সময় এএফডির সমালোচনা করেন মের্জ। তিনি বলেন, এএফডির ‘রিমিগ্রেশন’ নীতির মাধ্যমে বংশপরিচয় বা গায়ের রঙের ভিত্তিতে মানুষকে জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তার মতে, এ ধরনের নীতি ‘জাতিগত নিধনের’ সমান। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান, অভিবাসন নিয়ে বড় বার্তা মের্জ আরও বলেন, এএফডি বড় পরিসরে অভিবাসীদের জার্মানি থেকে বের করে দেওয়ার প্রচার চালাচ্ছে। জার্মানিতে কাজ করা লাখ লাখ অভিবাসী দেশটির অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব মানুষ জার্মানি ছেড়ে গেলে দক্ষ কর্মীর সংকট তৈরি হতে পারে। এতে হাসপাতাল, পরিচর্যাকেন্দ্র ও রেস্তোরাঁর মতো অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলেও দাবি করেন তিনি। মের্জের এ বক্তব্যের পর এএফডির পার্লামেন্টারি গ্রুপের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি স্টেফান ব্রান্ডনার তার বক্তব্যের সমালোচনা করেন। এএফডির হয়ে জার্মান পার্লামেন্টে দলের কাজকর্ম দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্রান্ডনার বলেন, এভাবে এএফডির নীতিকে ‘জাতিগত নিধন’-এর সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এএফডি জার্মানির সংবিধান মেনে রাজনীতি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন জার্মানিতে কট্টরপন্থিদের উত্থানে ‘হৃদয় রক্তাক্ত’ মেরকেলের এর আগে, গত ৬ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে বড় জয় পায় এএফডি। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার তাদের ভোট বেড়ে হয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে, মের্জের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) ভোট কমেছে। ২০২১ সালে দলটি ৩৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার তা কমে ১৭ দশমিক ২ শতাংশে নেমেছে। এএফডির এ ফলকে জার্মানির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো রাজ্যে কট্টর ডানপন্থি একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এএফডির নেতারা এই ফলকে ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে দেখছেন। এএফডি এখন শুধু রাজ্য পর্যায়ে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করতে চায় দলটি। স্যাক্সনি-আনহাল্টের জয়কে সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে তারা। অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য এএফডি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। দলটি ‘রিমিগ্রেশন’ নীতির মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের দ্রুত বহিষ্কারের পক্ষে। স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনি ইশতেহারেও এএফডি এ নীতির কথা বলেছে। দলটি প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থী ও বিদেশি অপরাধীদের বহিষ্কারের গতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সিএমআরএইচ/কেএএ/

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
যশোর হাসপাতালের ‘বিষফোঁড়া’ দালালচক্র

যশোর হাসপাতালের ‘বিষফোঁড়া’ দালালচক্র

রাজা–আব্বাসদের ধাক্কা সামলে জিতল শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডই

রাজা–আব্বাসদের ধাক্কা সামলে জিতল শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডই

বাসে উঠে সন্দেহ হয় এরা যাত্রী নয়, কিছু দূর যেতেই বুকে ছুরি ধরে চায় ৫ লাখ টাকা

বাসে উঠে সন্দেহ হয় এরা যাত্রী নয়, কিছু দূর যেতেই বুকে ছুরি ধরে চায় ৫ লাখ টাকা

0 Comments