ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণের অনুষ্ঠান ঘিরে আপত্তি তুলে তা স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। তাদের দাবি, নবীনবরণে কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে গানবাজনা ও নাচানাচি থাকলে তাদের আপত্তি আছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেও কোনো কনসার্টের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ওবায়দুর রহমানের কাছে দেওয়া হয়। একই দাবিতে গতকাল শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা জরুরি।
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বলতে কী বোঝায়, সেটা বুঝতে হবে। গানবাজনা ও নাচানাচি থাকলে আমাদের আপত্তি আছে। আমরা চাই না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে কলেজে গানবাজনা ও নাচানাচি হোক। এর আগেও কলেজে কনসার্ট হয়েছিল। তখন এক তরুণী ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এরপর কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে।’ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করলে তিনি (অধ্যক্ষ) স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে কিছু করবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় চার বছর ধরে কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয় না। জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুবকে জানিয়ে তাঁরা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামের প্রতি আমাদেরও শ্রদ্ধা ও সম্মান আছে। আমরা সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করব। আমরা চাই না, জেলায় কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের প্রতিও আমাদের একই আহ্বান থাকবে। তবে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
সার্বিক বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ–অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৪ সেপ্টেম্বর আমরা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠান করব। প্রথম ধাপে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান, দ্বিতীয় ধাপে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তৃতীয় ধাপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। এখানে কোনো কনসার্ট হবে, এমন ঘোষণা আমরা দিইনি। আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব।’
তবে পুলিশ কোনো স্মারকলিপি পায়নি বলে জানান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম। স্মারকলিপি পেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেভাবেই পুলিশ কাজ করবে।
গত ১৮ আগস্ট রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। এর আগে ৩০ মে জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যায়।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
দেশের উচ্চশিক্ষার মান বাড়াতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল-মামুন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি কর্মসূচি মেধাপাচার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে বিদেশে থাকা মেধাবীদের দেশে ফেরার সুযোগও তৈরি হবে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ আয়োজিত ‘অক্সফোর্ড একিউএ লিডারশিপ কনফারেন্সে’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আরও পড়ুন গবেষণায় চুরি ঠেকাতে অভিন্ন নীতিমালা করছে ইউজিসি ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ ও দ্বৈত ডিগ্রি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে জানিয়ে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষার্থীদেরও উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ব্রিটিশ কাউন্সিল, মার্কিন দূতাবাসসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চলছে। উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শুরু করা প্রয়োজন উল্লেখ করে ড. মামুন বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, স্বাধীনভাবে শেখা, গবেষণা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। আরও পড়ুন ইউজিসি চেয়ারম্যান / আইন না মানলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে স্কুল, শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের পরামর্শ দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তুলতে ইংলিশ মিডিয়ামসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন ড. মামুন। সরকারের উদ্ভাবন ও স্টার্ট-আপ কর্মসূচিতে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। মূল বক্তা ছিলেন অক্সফোর্ড একিউএর সাবেক প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও মেরিডিয়ান ট্রাস্টের ট্রাস্টি মার্ক বেডলো। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রিটিশ কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ এবং অক্সফোর্ড একিউএর হেড অব কোয়ালিফিকেশনস জেনিফার ডাগান। এএএইচ/ইএ
‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় আলোচকেরাদেশজুড়ে একের পর এক হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে উঠলেও প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যায়নি। বিপুল অর্থ ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনে কাঙ্ক্ষিত গতি আসেনি। তাই এখন অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি, মানসম্মত প্রশিক্ষণ, শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ এবং উদ্যোক্তাদের কার্যকর সহায়তার দিকে নজর দিতে হবে।আজ শনিবার সকালে ‘হাইটেক পার্কস: মিশন কী? বাস্তবতা কী?’ শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় আলোচকেরা এ কথা বলেন। সভার আয়োজক পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)।সভায় হাইটেক পার্কগুলো সফল না হওয়ার পেছনে বিদ্যমান ইপিজেড বা বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সঙ্গে সেগুলোকে যুক্ত না করে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এলাকায় স্থাপন করাকে দায়ী করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোর মূল ব্যর্থতা হলো এমন অঞ্চলে ভারী ভৌত অবকাঠামো স্থাপন করা, যেখানে কার্যকর স্থানীয় অর্থনীতি নেই। এই সমস্যা শুধু ইট-কাঠের অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রশিক্ষণব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা পর্যন্ত বিস্তৃত।নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম রকনুজ্জামান বলেন, শুধু অবকাঠামোই একটি হাইটেক বিপ্লব ও বিনিয়োগ টেনে আনবে, এমন ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেশে ৩৯টি হাইটেক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। একটি সহায়ক ইকোসিস্টেম, দক্ষ জনবলের প্রাপ্যতা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সংযোগ নিশ্চিত না করেই এসব করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে এই ধারণা সঠিক ছিল না।ডিএনএস সফটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফেল কবির বলেন, হাইটেক পার্কগুলোর উচিত ছিল মাদারবোর্ড ও চিপ ফ্যাব্রিকেশনের মতো মৌলিক প্রযুক্তি উৎপাদনে জোর দেওয়া, পাশাপাশি সম্পূর্ণ ইপিজেড-মানের অবকাঠামো সরবরাহ করা।যশোর হাইটেক পার্ক সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান অংশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম বলেন, পার্কটিতে বর্তমানে অবস্থানরত ৪০টি কোম্পানি কার্যকর সহায়তা ছাড়াই স্বাধীনভাবে টিকে থাকার সংগ্রাম করছে। কর্তৃপক্ষ তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে না দেখে শুধু ভাড়াটে হিসেবে দেখে। প্রশিক্ষিত জনবল দ্রুত চলে যায়। স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত দুর্বল এবং ইউটিলিটির খরচ অনেক বেশি।সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য শুধু ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সফট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, দক্ষ মানবসম্পদ এবং শিল্পচালিত প্রশিক্ষণ গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।এতে আরও বক্তব্য দেন ইউওয়াই সিস্টেমস লিমিটেডের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা এ রহমান, নেট্রো সিস্টেমস লিমিটেড ও টেলজেনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. আশাফুদ্দোজা শিশির প্রমুখ।
পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৪৪৯। ইংল্যান্ড: ৪৫৩ ও ১৩০/২। ফল: ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।সকালে প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস।১২৯ রান তাড়া করতে নামা ইংল্যান্ড আব্বাসের প্রথম ওভারেই হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট। তৃতীয় দিন পাকিস্তান যেভাবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, বোলিংয়েও তেমনই কিছু ঘটতে চলেছে কি না—এমন শঙ্কা স্বাগতিকদের মাথায় ঘুরপাক খাওয়া তখন অস্বাভাবিক নয়।তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটতে দেননি জো রুট ও জর্ডান কক্স। তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১২৮ রানের জুটি গড়ে ইংল্যান্ডকে পৌঁছে দিয়েছেন লক্ষ্যে। তাতে এজবাস্টনে ইংল্যান্ড জিতল ৮ উইকেটে, সেই সঙ্গে ৩–০ ব্যবধানে সিরিজও।বিস্তারিত আসছে ...।