পেটে ব্যথা নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন সদর উপজেলার মাহিদিয়া গ্রামের হাফিজুর রহমান। বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে বের হতেই তাকে ঘিরে ধরেন এক দালাল। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা কম খরচে করিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের সামনের একটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে তার কাছ থেকে নেওয়া হয় অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা।
একইভাবে সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকার নাসিমা বেগম এসেছিলেন বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখাতে। টিকিট কাউন্টারের সামনে আসতেই একজন তাকে দ্রুত চিকিৎসক দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চিকিৎসক দেখানোর জন্য দাবি করেন ২০০ টাকা। বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখান থেকে চলে আসেন নাসিমা।
হাফিজুর ও নাসিমার মতো প্রতিদিনই যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে দালালের খপ্পরে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। কখনো কম খরচে পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে, কখনো দ্রুত চিকিৎসক দেখানোর প্রলোভনে, আবার কখনো সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা হবে না—এমন ভয় দেখিয়ে তাদের নেওয়া হচ্ছে আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে একদিকে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে রোগীদের, অন্যদিকে ভুল বা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি এই হাসপাতালে অর্ধশতাধিক দালাল সক্রিয়। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের ফার্মেসির হয়ে কাজ করা এসব দালাল রোগী ভাগিয়ে নিয়ে কমিশন আদায় করেন। তাদের সঙ্গে হাসপাতালের কতিপয় কর্মচারী ও কিছু চিকিৎসকেরও যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ তৎপরতা এখন হাসপাতালের ‘বিষফোঁড়া’য় পরিণত হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করতে খরচ হয় ২০০ টাকা, ইসিজি ৮০ টাকা এবং আলট্রাসনোগ্রাম ১১০ টাকা। কিন্তু একই ধরনের পরীক্ষা বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করতে গেলে এর প্রায় তিনগুণ পর্যন্ত খরচ হয়। এর বাইরে রক্ত, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন পরীক্ষার খরচও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের এসব সেবার কথা বলে বিভিন্নভাবে বাইরে নিয়ে যান দালালরা। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন পান তারা। কেউ কেউ রোগীপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন সকাল ৭টার পর থেকেই হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন দালালরা। পরে তারা হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে ছড়িয়ে পড়েন। সহজ-সরল রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রথমে হাসপাতালের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়। এরপর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব দালালের বড় একটি অংশ হাসপাতালের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা। ফলে তারা নানা ধরনের প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।
কয়েক বছর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। রোগী ও স্বজনদের সচেতন করতে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ১০টি প্রচার মাইক বসানো হয়েছিল। টিকিট কাউন্টারের সামনে স্থাপন করা হয়েছিল তথ্যকেন্দ্র। সেখানে একজন কর্মচারী রোগীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য দিয়ে সহায়তা করতেন।
তবে বর্তমানে প্রচার মাইকগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তথ্যকেন্দ্রেও কোনো কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন না বলে সূত্র জানিয়েছে। ফলে দালালদের তৎপরতার সুযোগ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের সঙ্গে কয়েকজন কর্মচারীর সখ্য রয়েছে। তাদের কেউ কেউ সরাসরি দালালির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। আবার কয়েকজন চিকিৎসকের ‘নিজস্ব লোক’ হিসেবেও দালাল রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যবস্থাপত্রে নির্দিষ্ট কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নামও উল্লেখ করে দেওয়া হয়। কখনো চিকিৎসকের কক্ষের সামনে অপেক্ষায় থাকা দালাল রোগীকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সহকারী রোগীকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্ড দিয়ে সেখানে যেতে বলেন।
সূত্রের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা চিকিৎসক ও দালালের কমিশন আলাদাভাবে পরিশোধ করেন। আর নিজের চেষ্টায় রোগী ভাগিয়ে আনতে পারলে দালালরা সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পান।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল নামের সঙ্গে ২৫০ শয্যার হলেও এখানে প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি থাকেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রতিদিন বহির্বিভাগেও দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন।
বিপুলসংখ্যক রোগীর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা হাসপাতালের বর্তমান সক্ষমতার মধ্যে করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগীকেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে আসতে হয়। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছে দালালচক্র।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি অর্থ খরচের পাশাপাশি এখানে আরও বড় ঝুঁকি রয়েছে। কোনো রোগীকে পরীক্ষা না করেই বানানো রিপোর্ট ধরিয়ে দেওয়া হলে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীর গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নওদাগ্রামের আব্দুল খালেকের অভিজ্ঞতাও এমনই। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে এসে টিকিট কাটার পর এক দালালের খপ্পরে পড়েন তিনি।
আব্দুল খালেক জানান, ওই দালাল তার রোগের কথা শুনে বলেন, হাসপাতালে ভালোভাবে চিকিৎসক দেখবেন না। সামান্য টাকার জন্য সরকারি হাসপাতালে রোগী দেখানোর দরকার নেই। ৩০০ টাকা ফি দিয়ে ভালো চিকিৎসক দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে হাসপাতালসংলগ্ন একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসক দেখানোর পর বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়। চিকিৎসকের ফি ও পরীক্ষা বাবদ তার কাছ থেকে নেওয়া হয় ২ হাজার ২৫০ টাকা। পরে তিনি বুঝতে পারেন, দালাল ও কথিত চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

দালালদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযান হলেও তাদের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গত ৮ জুলাই হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দুই নারী রোগীকে ভুল বুঝিয়ে বাইরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে মেহেদী হাসান নামে এক দালালকে আটক করা হয়।
এর আগে, গত ১৪ জুন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগে সুমন দেবনাথ (২৫) নামে আরেক দালালকে আটক করে কর্তৃপক্ষ। এরও আগে গত ১২ মে দালালবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতে একাধিক দালাল আটক হলেও পরে তারা ছাড়া পেয়ে আবারও একই কাজে যুক্ত হয়েছেন। ফলে শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, দালালচক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক রোগীর একটি অংশ বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দালালচক্র তাদের প্রতারণার শিকার করে।
তিনি বলেন, দালাল ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময়ই সোচ্চার। মাঝে মধ্যে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও পরিচালনা করা হয়। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এইচআরএম/কেএইচকে/এএসএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব থাকবে না। কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দ থাকবে না।মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, শুধু পুলিশের পক্ষে এসব সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনতার প্রতিরোধ কিন্তু সবচেয়ে বড় শক্তি। এটা শুধু বাংলাদেশেই নয়, সারা পৃথিবীতে উদাহরণ রয়েছে।আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।সভায় র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ওসমান গনি, র্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান, তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাসিন্দাসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা মোহাম্মদপুরের নাগরিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অপরাধের কথা শোনেন। অপরাধ নির্মূলে আশ্বাস দেন।ডিএমপি কমিশনার বলেন, মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই—এই তিন বিষয় নিয়ে নাগরিকেরা তাঁদের বক্তব্যে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। গত তিন মাসের সঙ্গে আগের তিন মাসের অপরাধের পরিসংখ্যান তুলনা করলে কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাইয়ের ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। তবে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিচার করা ঠিক নয়। নাগরিকেরা চান মোহাম্মদপুরে কোনো ছিনতাই, কিশোর গ্যাং বা মাদক থাকবে না। পুলিশও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।এ জন্য পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোহাম্মদপুরের জনগণকে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান ডিএমপি কমিশনার। তাহলে এই এলাকায় কোনো মাদক, কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।মোহাম্মদপুর থানায় আটটি বিট রয়েছে জানিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানার তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এসব তালিকা ধরে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অটো রিকশার গ্যারেজের ভেতরে রাতে যাকেই পাওয়া যাবে, তাকেই অ্যারেস্ট করতে হবে।’কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও ডিএমপি একসঙ্গে কাজ করবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতায় প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে এবং অতি সত্বর মোহাম্মদপুরকে কিশোর গ্যাংমুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।প্রয়োজনে ছিনতাকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র প্রয়োগ হবে ছিনতাইয়ের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ছিনতাইকারীর হাতে ছুরি, আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি বা অন্য কোনো দেশীয় অস্ত্র থাকলে এবং তা দিয়ে কারও ওপর হামলা বা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করলে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনগতভাবে অস্ত্র প্রয়োগের কথাও বলেন তিনি।মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সেখানে প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গা রয়েছে। জায়গাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার রায় পুলিশের পক্ষে এলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের কমিউনিটি পুলিশিং, ওয়ার্ডভিত্তিক মাদকবিরোধী ও কিশোর গ্যাংবিরোধী কমিটির মাধ্যমে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ২টি পদে ৫৩৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায়। আগামী ৬ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। অনলাইন ব্যতিত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। পরীক্ষার ফি টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এক নজরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৬পদের বিবরণ আবেদন করার নিয়ম ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদন শুরু: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টা আবেদনের শেষ তারিখ: ৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত আবেদন পদ্ধতি: অনলাইনে চাকরির ধরন: স্থায়ী প্রার্থীর ধরন: নারী - পুরুষ কর্মস্থল: যে কোনো স্থান বয়স: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ ১৮ - ৩২ বছর। বয়স প্রমাণের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। অনলাইনে আবেদনের নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। আবেদনের সঙ্গে ৩০০-৩০০ সাইজের ছবি ও ৩০০-৮০ সাইজের স্বাক্ষর স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পরে এবং অসম্পূর্ণ আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদন ফি: টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার ফি বাবদ প্রতিটি পদের জন্য ৫৬ টাকা অফেরতযোগ্য হিসেবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাঠাতে হবে। আরও পড়ুনসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, ৪০ বছর বয়সেও আবেদনের সুযোগনার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবেনৌবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই অফিসার ক্যাডেট হওয়ার সুযোগসেনাবাহিনীর চাকরি পেতে যেসব যোগ্যতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে১১২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেবে বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসেনাবাহিনী নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন১৪২ জনকে নিয়োগ দেবে সমরাস্ত্র কারখানা, এসএসসি পাসেও আবেদন৮৫ জনকে নিয়োগ দেবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, আবেদন ফি ১০০ টাকাসেনাবাহিনীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এইচএসসি পাসেই আবেদনের সুযোগ এমআইএইচ
পুরস্কার হিসেবে একটি বই পেয়ে জেসমিন খাতুন আনন্দের ঝিলিক লুকাতেই পারছিল না। তার কাছে আগে থেকে ছিল ৫২টি বই, নতুন যোগ হলো আরেকটি। বইটি শুধু তার ভান্ডারই সমৃদ্ধ করেনি; বরং এনে দিয়েছে স্বীকৃতি। রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণী ঘিরে এমন আনন্দে মেতে ওঠে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্কুল পর্যায়ের বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত রাজশাহী আলোর পাঠশালার শিক্ষার্থী জেসমিনের মতো আরও অনেককে দেওয়া হয় বই পুরস্কার।বিকাশ চক্রবর্তী, ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রমেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আজ শনিবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী উৎসব। মিলনায়তনের ভেতরে জায়গা না হওয়ায় বাইরে প্যান্ডেল করে পর্দায় দেখানো হয় অনুষ্ঠানের দৃশ্য। একাডেমির মাঠেও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের একই রকম ভিড় দেখা যায়। পুরস্কার নিয়ে বাইরে বের হয়েই কে কী বই পেয়েছে, তা দেখতে মেতে উঠতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ছবি তোলার সুযোগও মিস করেনি তারা।দিনব্যাপী এই উৎসবে ৪৯টি স্কুলের মোট ২ হাজার ১২০ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৯টি স্কুলের ১ হাজার ৭৬৬ শিক্ষার্থীকে সরাসরি মঞ্চ থেকে পুরস্কার দেওয়া হয় এবং ১০টি স্কুলের ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীর পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকের হাত থেকে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ১ হাজার ৩৮১ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৬৫৪ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৮৫ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করে। পুরস্কারপ্রাপ্তদের ৪১৩ জন ছেলে ও ১ হাজার ৭০৭ জন মেয়ে। হিসাব করে দেখা গেল পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের চেয়ে চার গুণের বেশি পুরস্কার পেয়েছে মেয়েরা।বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ডেপুটি কো–অর্ডিনেটর বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, মেয়েদের বই পড়ার আগ্রহ বেশি। আর নিয়মিত বই পড়ার সঙ্গে তাদের ভালো একাডেমিক ফলাফলের একটি সম্পর্ক দেখা যায়।সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিরা জানান, বছরব্যাপী ২০টি বইয়ের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী ১০টি বই পড়েছে, তাদের শুভেচ্ছা পুরস্কার, যারা ১৬টি বই পড়েছে, তাদের অভিনন্দন পুরস্কার এবং যারা ২০টি বই পড়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে, তাদের সেরা পাঠক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। বইগুলো পড়া শেষে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্কুলের সংগঠক পরীক্ষাটি নিয়ে মূল্যায়ন খাতাগুলো ঢাকা কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেন। সেখানে খাতাগুলো মূল্যায়ন শেষে যোগ্য শিক্ষার্থীদের পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।বইপড়া কর্মসূচির পুরস্কার নিতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি। শনিবার বিকেলে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনেউৎসবে বিভিন্ন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) চিত্রলেখা নাজনীন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, পাখিবিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান, রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগারের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, বিশেষ সাহিত্য কেন্দ্রের সাবেক সংগঠক আহামেদ শফি উদ্দিন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), মোহা. আবদুর রশিদ, রাজশাহী গ্রামীণফোন লিমিটেডের সার্কেল টেকনোলজি প্রধান নন্দন কুমার সাহা, সাবেক সচিব ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান।জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর সম্মানিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন।এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ শীর্ষক সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়। এর মাধ্যমে অভিভাবক ও শিশু-কিশোরেরা নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও সচেতন ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক জ্ঞান লাভ করবে। অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এ অভিভাবক ও শিক্ষকদের জন্য শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে সচেতনতামূলক তথ্য প্রদান করা হয়।