জাতীয়

শেষ পোস্টার

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
শেষ পোস্টার
শেষ পোস্টার

শহরের দেয়ালে পোস্টার লাগানোর কাজটা আমার বাবা করতেন।
কোন দলের পোস্টার, সেটা নিয়ে তাঁর খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না। যিনি টাকা দিতেন, তাঁর পোস্টারই লাগাতেন। কখনো লাল, কখনো সবুজ আবার কখনো নীল। কোনো পোস্টারে মুষ্টিবদ্ধ হাত, কোনো পোস্টারে ধানের শীষ, কোনো পোস্টারে দাঁড়িপাল্লা আর কোনো কোনো পোস্টারে শুধু একটা বড় মুখ।
বাবা বলতেন, ‘দেয়াল কারও না। যে আগে লাগায়, দেয়াল তার।’

আমি তখন কথাটার রাজনৈতিক মানে বুঝতাম না।
শুধু বুঝতাম, রাত হলে বাবার সাইকেলের পেছনে আঠার বালতি ঝুলত, হাতে থাকত পুরোনো ব্রাশ। আমি মাঝেমধ্যে সঙ্গে যেতাম।
শহরের অলিগলিতে রাতের একটা আলাদা গন্ধ আছে। স্যাঁতসেঁতে দেয়াল, ড্রেনের পানি, চায়ের দোকানের শেষ ধোঁয়া আর পোস্টারের আঠা—সব মিলে অদ্ভুত একটা গন্ধ।
বাবা দেয়ালে পোস্টার লাগাতেন।
আমি নিচে দাঁড়িয়ে থাকতাম।
কখনো বলতাম, ‘বাবা, এই লোকটা কে?’
তিনি পোস্টারের দিকে তাকিয়ে বলতেন, ‘নেতা।’
‘কী করেন?’
‘রাজনীতি করেন।’
‘রাজনীতি কী?’
বাবা একটু হেসে বলতেন, ‘বড় হইলে বুঝবি।’

বড় হয়ে আমি সত্যিই বুঝেছিলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর রাজনীতি আমার কাছে আর বাবার আঠার বালতির মতো নিরীহ ছিল না। রাজনীতি তখন মিছিল, স্লোগান, কমিটি, পদ, বিরোধ, রাতের ফোন, ফেসবুক পোস্ট, প্রেস রিলিজ আর ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানের টেবিল হয়ে গেছে।
আমি একটা ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লাম। প্রথম দিকে খুব ভালো লাগত। মনে হতো, আমরা ইতিহাসের অংশ হয়ে যাচ্ছি।
দেশ বদলাব। অন্যায় ঠেকাব। মানুষের কথা বলব।
প্রথম মিছিলে হাঁটার সময় আমার বুক কাঁপছিল। সামনে বড় ভাইয়েরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, আমরা পেছন থেকে গলা মেলাচ্ছিলাম।
সেদিন বাসায় ফিরে বাবা শুধু জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘খাইছিস?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
তিনি আর কিছু বলেননি।

কয়েক দিন পর এক রাতে পোস্টার লাগাতে গিয়ে দেখি, একটা দেয়ালে আমাদের সংগঠনের পোস্টার লাগানো। তার ওপর আরেকটা সংগঠনের পোস্টার। তার ওপর আবার কারও হাতে লেখা, ‘এই দেয়ালটা কি মানুষের নয়?’
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে লেখাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। বাবা পেছন থেকে বললেন, ‘লাগা।’
আমি বললাম, ‘কী?’
‘তোদের পোস্টার।’
‘ওপরেই তো লেখা আছে।’
‘লেখা থাকলে কী হইছে?’
আমি ব্রাশে আঠা লাগালাম। কিন্তু পোস্টারটা লাগাতে পারলাম না। বাবা আমার হাত থেকে ব্রাশটা নিয়ে নিজেই লাগিয়ে দিলেন।
কয়েক মাস পর আমাদের সংগঠনের বড় একটা সমাবেশ হলো। আমি দায়িত্ব পেলাম ব্যানার আর পোস্টারের। সারা দিন দৌড়াদৌড়ি করে রাতের দিকে যখন বাসায় ফিরছি, ফোন এল। আমার এক বন্ধু বলল, ‘শুনছিস? তোর বাবার দোকানের সামনে ঝামেলা হইছে।’
বাবার নিজের কোনো দোকান ছিল না। তিনি একটা ছোট্ট স্টেশনারি দোকানের সামনে বসে মাঝেমধ্যে পোস্টার, ব্যানার আর সাইনবোর্ডের কাজ করতেন।
আমি দৌড়ে গেলাম। দেখলাম, দোকানের শাটার নামানো। সামনে বাবা বসে আছেন। মুখে রক্ত। আমি কিছু না বলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
পরে জানতে পারলাম, স্থানীয় দুই পক্ষের পোস্টার নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। বাবা মাঝখানে পড়ে গিয়েছিলেন।
ডাক্তার সেলাই দিতে দিতে বলেছিলেন, ‘বয়স হয়েছে। এসব ঝামেলায় থাকেন কেন?’ বাবা হেসেছিলেন।
‘স্যার, আমি ঝামেলায় থাকি না। ঝামেলা আমার কাছে আসে।’
সেদিন প্রথমবার বাবার ওপর রাগ করেছিলাম। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বলেছিলাম, ‘আর পোস্টারের কাজ করবেন না।’
তিনি চুপ করে ছিলেন।
আমি আবার বললাম, ‘শুনছেন?’
বাবা বললেন, ‘তুই রাজনীতি ছাড়বি?’
আমি বললাম, ‘না।’
‘তাহলে আমি কেন ছাড়ব?’
কোনো উত্তর দিতে পারিনি।

তারপর শহরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করল। একটা আন্দোলন হলো। তারপর আরেকটা। ফেসবুকে সবাই বিপ্লবী। চায়ের দোকানে সবাই বিশ্লেষক। রাস্তায় সবাই নেতা। কেউ বলল, ‘এইবার সব বদলে যাবে।’ কেউ বলল, ‘কিছুই বদলাবে না।’
আমি মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আমাদের সংগঠনের কিছু ছেলে আন্দোলনে গেল। কিছু ছেলে আবার দূরে থাকল। কেউ বলল, সময় বুঝে চলতে হয়।
এক রাতে আমাদের গ্রুপে মেসেজ এল—
‘সকাল থেকে সবাই সাবধানে থাকবেন। পরিস্থিতি খারাপ।’
আরেকটা মেসেজ এল—
‘যাঁরা মাঠে থাকবেন, তাঁদের নাম লিখে পাঠান।’
আমি নিজের নাম লিখলাম।
বাবা তখন ঘুমাচ্ছিলেন।
ভোরে বের হওয়ার সময় দেখলাম তিনি জেগে আছেন। বললেন,
‘কোথায়?’
‘ক্যাম্পাসে।’
‘আজ যাস না।’
আমি হেসে বললাম, ‘কেন?’
‘ভালো লাগতেছে না।’
‘রাজনীতি করতে গেলে ভয় পেলে হয়?’
বাবা কিছু বললেন না। আমি বের হয়ে গেলাম।
সেদিন দুপুরে শহরের রাস্তায় অনেক মানুষ ছিল। স্লোগান ছিল। পুলিশ ছিল। দৌড়াদৌড়ি ছিল। কেউ পাথর ছুড়ছিল, কেউ পালাচ্ছিল, কেউ ভিডিও করছিল। আমি একটা গলিতে ঢুকে পড়েছিলাম। পেছনে কয়েকজন দৌড়ে আসছিল। আমি একটা বন্ধ দোকানের শাটারের পাশে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছিলাম। ঠিক তখন ফোন বেজে উঠল। বাবা।
আমি ধরিনি।
আবার ফোন।
তারপর আবার।
তৃতীয়বার ফোন ধরলাম।
ওপাশ থেকে বাবা শুধু বললেন, ‘তুই ঠিক আছিস?’
আমি বললাম, ‘হ্যাঁ।’
‘মিথ্যা কইস না।’
আমি চুপ করে রইলাম।
তিনি বললেন, ‘বাসায় আয়।’
আমি বললাম, ‘পারব না।’
‘কেন?’
‘রাস্তা বন্ধ।’
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বাবা বললেন, ‘তুই যে রাজনীতি করস, তাতে আমি কিছু বুঝি না। কিন্তু একটা কথা বুঝি—জীবিত মানুষ ছাড়া কোনো রাজনীতি হয় না।’
ফোন কেটে গেল।

সেদিন বিকেলে আমি আর মিছিলে ফিরিনি। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি শান্ত হলো। আমাদের সংগঠনের কয়েকজন নতুন করে দায়িত্ব পেল। কেউ পদ পেল। কেউ পেল না। যারা আগে সামনে ছিল, তাদের কেউ কেউ হঠাৎ খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল। আমার নামও একটা তালিকায় ছিল।
ভেবেছিলাম, এবার হয়তো সত্যিই কিছু করার সুযোগ পাব। সন্ধ্যায় বাবা তালিকাটা দেখে বললেন,
‘তুই নেতা হইছিস?’
আমি বললাম, ‘এখনো না।’
‘তাহলে?’
‘দায়িত্ব পাইছি।’
বাবা মাথা নেড়ে বললেন, ‘দায়িত্ব আর নেতা—দুইটা আলাদা জিনিস।’
আমি হাসলাম।
‘আপনি এসব বোঝেন?’
বাবা বললেন, ‘দেয়ালে অনেক নেতার মুখ লাগাইছি।’
তারপর একটু থেমে যোগ করলেন, ‘কয়জন মানুষ ছিল, আর কয়জন শুধু পোস্টারে ছিল—এইটা বুঝতে আমার বেশি পড়াশোনা লাগে নাই।’

কয়েক মাস পর বাবার শরীর খারাপ হলো। ডাক্তার বললেন, বেশি কাজ করা যাবে না।
আমি তখন ব্যস্ত। সভা আছে। মিটিং আছে। একটা নতুন কমিটি হবে। একজন বড় ভাইকে নিয়ে পোস্ট লিখতে হবে। একটা প্রেস রিলিজ দিতে হবে। ফেসবুকে একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে। বাবা একদিন বললেন, ‘কাল আমারে হাসপাতালে নিয়ে যাবি?’
আমি বললাম, ‘কাল পারব না। পরশু যাই?’
তিনি বললেন, ‘আচ্ছা।’
পরশুদিনও আমি পারিনি। তার পরের দিনও না। চতুর্থ দিন সকালে মা ফোন করে বললেন, ‘তোর বাবা হাসপাতালে ভর্তি।’
আমি ছুটে গেলাম।
বাবা তখন খুব দুর্বল। আমাকে দেখে বললেন, ‘এত দেরি করলি কেন?’
আমি বললাম, ‘কাজ ছিল।’
তিনি মৃদু হেসে বললেন, ‘রাজনীতি?’
আমি মাথা নিচু করলাম। তিনি আর কিছু বললেন না।
বাবা মারা গেলেন তিন দিন পর।
কোনো নেতা এলেন না। কোনো সংগঠন বড় ব্যানার লাগল না। কোনো প্রেস রিলিজ হলো না। শুধু পাশের দোকানের রহিম চাচা এলেন। যে রিকশাওয়ালা বাবার কাছ থেকে মাঝেমধ্যে বাকিতে চা খেতেন, তিনি এলেন। আর এলেন কয়েকজন মানুষ, যাঁদের নাম আমি কোনো দিন জানতাম না।
একজন বৃদ্ধ এসে আমাকে বললেন, ‘তোর বাবা আমার মেয়ের বিয়ের ব্যানার বানাইছিল। টাকা কম ছিল। পরে দিতে কইছিল। উনি আর টাকা নেন নাই।’
আমি কিছু বলতে পারিনি।

বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর তাঁর পুরোনো ঘর পরিষ্কার করছিলাম। এক কোণে একটা কাঠের বাক্স। ভেতরে পুরোনো ব্রাশ, আঠার শুকনা পাত্র, কিছু ছেঁড়া পোস্টার। সবচেয়ে নিচে একটা পোস্টার পেলাম। পোস্টারটা বহু পুরোনো। কাগজ হলুদ হয়ে গেছে। মাঝখানে একজন নেতার ছবি। নিচে বড় অক্ষরে লেখা—‘মানুষের জন্য রাজনীতি।’
আমি পোস্টারটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ বসে থাকলাম। তারপর উল্টে দেখি, পেছনে বাবার হাতের লেখা। মাত্র একটা লাইন।
‘মানুষটা কোথায়?’
আমি জানি না, বাবা কখন লিখেছিলেন। কোন নেতার পোস্টারের পেছনে লিখেছিলেন। কেন লিখেছিলেন। হয়তো কোনো এক গভীর রাতে, আঠা শুকানোর অপেক্ষায় বসে। হয়তো তখন আমি ছোট। হয়তো তখনো আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতাম—
‘বাবা, রাজনীতি কী?’

পরদিন বিকেলে শহরের একটা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। দেয়ালটা নতুন করে রং করা হয়েছে। কেউ এখনো কোনো পোস্টার লাগায়নি। আমার ব্যাগে কয়েকটা পোস্টার ছিল। আমাদের সংগঠনের। নতুন কর্মসূচির। নতুন স্লোগানের। আমি একটা পোস্টার বের করলাম। দেয়ালের দিকে তাকালাম। তারপর ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেললাম।
পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছেলে বলল,
‘ভাই, লাগাবেন না?’
আমি বললাম, ‘আজ না।’
‘কেন?’
আমি দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বললাম, ‘দেয়ালটা একটু খালি থাক।’
ছেলেটা কিছু বুঝল না।
আমি হাঁটতে শুরু করলাম। পেছনে তাকিয়ে দেখি, দেয়ালের একেবারে নিচে পুরোনো আঠার দাগ। তার ওপর বহু বছরের পোস্টারের ছেঁড়া কাগজ। কোনো এক সময় সেখানে অনেক বড় একজন নেতার মুখ ছিল। এখন মুখটা নেই। শুধু চোখের একটা অংশ দেখা যায়। আমার মনে হলো—
রাজনীতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর জিনিস হয়তো নেতার পতন নয়। নেতার পোস্টার ছিঁড়ে যাওয়ার পরও দেয়ালে থেকে যাওয়া সেই চোখ। কারণ, দেয়াল ভুলে যায় না। মানুষও না। শুধু আমরা নতুন পোস্টার লাগিয়ে ভাবি, পুরোনো গল্পটা শেষ হয়ে গেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
আদালত ভবনের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, অজিত ২ দিনের রিমান্ডে
আদালত ভবনের সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, অজিত ২ দিনের রিমান্ডে

    রাজধানীর মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেটের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলের অভিযোগে গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা অজিত ঘোষ কানাইয়ের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অজিত ঘোষ কানাই (৬২) আওয়ামী লীগের কোতোয়ালি থানা কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। এর আগে শুক্রবার কোতোয়ালি থানার গোয়ালনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুলাই মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের ক্যানটিন গেটের সামনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য ও সমর্থকসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন জড়ো হন। ওইদিন আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্যদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের শুনানি ছিল। আদালতের ওই কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা নিয়ে তারা সেখানে সমবেত হন। পরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ঝটিকা মিছিল করেন তারা। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।   এমডিএএ/জেএইচ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ডিউকস বাদ, পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফিরছে কোকাবুরা বল

ডিউকস বাদ, পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফিরছে কোকাবুরা বল

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ জন ভারতে উদ্ধার, নিখোঁজ ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ ১০ জন ভারতে উদ্ধার, নিখোঁজ ১

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস মনিটরিং হবে সরাসরি, চালু হচ্ছে অ্যাপ

ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের গাড়ি হংছি এন৭০১
ব্রিকস সম্মেলনে নজর কাড়ছে চীনা প্রেসিডেন্টের গাড়ি হংছি এন৭০১

দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলনে শীর্ষ দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংও যোগ দিচ্ছেন। এ সফর ঘিরে ভূরাজনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি নজর কাড়ছে তাঁর সরকারি গাড়িটিও। বিস্তারিত ভিডিওতে...

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
জাতির প্রয়োজনে সরকারকে যেকোনো সময় সহযোগিতা করবে বিরোধী দল

জাতির প্রয়োজনে সরকারকে যেকোনো সময় সহযোগিতা করবে বিরোধী দল

মনপুরার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ এমপি নয়নের

মনপুরার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ এমপি নয়নের

কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক

কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের হিড়িক

প্রবাসে যুবকের মৃত্যু, ৯ মাস পর নিজ বাড়িতে ফিরলো তরিকুলের মরদেহ
প্রবাসে যুবকের মৃত্যু, ৯ মাস পর নিজ বাড়িতে ফিরলো তরিকুলের মরদেহ

লিবিয়ায় প্রবাসী যুবকের মৃত্যুর দীর্ঘ ৯ মাস পর আইনি জটিলতা সম্পন্ন শেষ করে অবশেষে দেশে ফিরেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তরিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক লিবিয়া প্রবাসী যুবকের মরদেহ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মরদেহ এসে পৌঁছায়। ​নিহত তরিকুল ইসলাম উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামানিকের ছেলে। ​নিহতের স্বজনরা জানান, অভাবে পরিবারের হাল ধরতে ও জীবিকার তাগিদে প্রায় ৭ বছর আগে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম। প্রবাসে অবস্থানকালে ৩ জানুয়ারি হঠাৎ তার মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে নানা প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় পার হয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি মাস। আরও পড়ুন বাসে যাত্রী জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, আটক ‘মূলহোতা’ ​শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিমানযোগে কফিনবন্দি হয়ে মরদেহটি বাংলাদেশ বিমান বন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে বিকেল ৪টার দিকে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় নিহত প্রবাসী তরিকুলের কফিন জড়িয়ে ধরে স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। ​পরে বিকাল ৫টায় স্থানীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তরিকুলের মরদেহ দাফন করা হয়। মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এনএইচআর

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
ডাকসুর সেমিনারে ৫০০ শিক্ষার্থীকে আত্মরক্ষা, ফিটনেস ও ডায়েট প্রশিক্ষণ

ডাকসুর সেমিনারে ৫০০ শিক্ষার্থীকে আত্মরক্ষা, ফিটনেস ও ডায়েট প্রশিক্ষণ

ব্যাগ পেয়ে টানাটানি করছিল শিশুটি, হঠাৎ দেখলো ৪ টুকরো মরদেহ

ব্যাগ পেয়ে টানাটানি করছিল শিশুটি, হঠাৎ দেখলো ৪ টুকরো মরদেহ

নবী-সাহাবিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সুন্নতের ব্যাপারে আমরা উদাসীন

নবী-সাহাবিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সুন্নতের ব্যাপারে আমরা উদাসীন

0 Comments