জাতীয়

সম্ভাবনা সত্ত্বেও কমছে কৃষিপণ্য রপ্তানি, নীতি সহায়তার তাগিদ

News সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ 0
সম্ভাবনা সত্ত্বেও কমছে কৃষিপণ্য রপ্তানি, নীতি সহায়তার তাগিদ
সম্ভাবনা সত্ত্বেও কমছে কৃষিপণ্য রপ্তানি, নীতি সহায়তার তাগিদ

বিশ্বজুড়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত (অ্যাগ্রো-প্রসেসিং) পণ্যের বাজার দ্রুত বড় হলেও সেই অনুপাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারছে না বাংলাদেশ। উল্টো গত কয়েক বছর ধরে দেশের এ খাতের রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে। পণ্য ও বাজারের বৈচিত্র্যহীনতা, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবের অভাব, বাণিজ্য চুক্তির ঘাটতি এবং চড়া উৎপাদন খরচের কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর ১১তম আসরে আয়োজিত ‘এক্সপোর্ট অব অ্যাগ্রো-প্রসেসিং: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক টেকনিক্যাল সেশনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

আইসিসিবিতে বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর আয়োজিত ‘এক্সপোর্ট অব অ্যাগ্রো-প্রসেসিং: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক টেকনিক্যাল সেশন

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো আবু সালেহ মো. শামীম আলম শিবলী। সেশনে উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম ও বাপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি উজমা চৌধুরী।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছানের সঞ্চালনায় সেশনের প্যানেল আলোচক ছিলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এক্সপোর্ট) মিজানুর রহমান ও স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পারভেজ সাইফুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৮ সালে ২৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার প্রক্রিয়াজাত কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৭০০টির মতো প্রতিষ্ঠান রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। তবে বিশাল এই বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বাজারের শেয়ার একেবারেই নগণ্য। বিশ্ব বাণিজ্য ১০০ টাকা ধরা হলে এতে ভিয়েতনামের শেয়ার যেখানে ৩ টাকা ৮৯ পয়সা, সেখানে বাংলাদেশের মাত্র ৫ পয়সা।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের এ খাতের রপ্তানি আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাত থেকে ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার আয় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও বাজারে সীমাবদ্ধ। মোট রপ্তানির প্রায় ৪৫ শতাংশই আসছে বিস্কুট ও স্ন্যাকসজাতীয় পণ্য থেকে। একসময় চিংড়ি রপ্তানি অন্যতম শক্তি হলেও তা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো বৈচিত্র্যময় পণ্য নিয়ে বিশ্ববাজার দখল করছে। বাংলাদেশের রপ্তানি মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও গালফ অঞ্চলের দেশগুলোতে থমকে আছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো বড় বাজারগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করছে প্রতিযোগী দেশগুলো।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ২২ ধরনের ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে। তবে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং কার্যকর সংরক্ষণের অভাবে উচ্চ অপচয়ের কারণে কোনো নির্দিষ্ট কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলতে পারছে না। পাশাপাশি উৎপাদন পর্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জমি, বন্দরকেন্দ্রিক জটিলতা, অতিরিক্ত সেচ খরচ এবং ঋণের উচ্চ সুদের হার উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অর্থায়ন সংকটে ভুগছেন।

এ খাতকে পুনরুদ্ধার করতে একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরা হয় সেশনে। এর মধ্যে রয়েছে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস (জিএপি) নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনে পণ্য উৎপাদন করা। এ ছাড়া বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি, সেচ খরচ হ্রাস এবং মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ সময় প্যানেল আলোচক স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পারভেজ সাইফুল ইসলাম বলেন, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে আমরা ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছুঁয়েও আবার পিছিয়ে পড়েছি। এর মূল কারণ নীতিমালার বারবার পরিবর্তন। সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে আমরা বেশ ভালো করছিলাম, কিন্তু হঠাৎ করেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিষ্ঠিত ক্রেতাদের আমরা হারিয়ে ফেলি।

তিনি বলেন, একইভাবে আমাদের প্রচুর মসলা রপ্তানির সুযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় ‘রেডিয়েশন সুবিধা’ (পণ্য জীবাণুমুক্তকরণ ব্যবস্থা) নেই। যে সামান্য সুবিধা রয়েছে, তাও প্রায়ই বন্ধ থাকে। ফলে ঠিকমতো রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল হালাল পণ্যের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য হালাল পণ্য আর কেউ তৈরি করতে পারে না, অথচ নীতিগত দুর্বলতায় আমরা এই বিপুল সম্ভাবনার সুবিধা নিতে পারছি না। খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো দূর করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা দরকার। সমস্যাগুলোর সমাধান খুব সহজ হলেও বছরের পর বছর শুধু আলোচনাই হচ্ছে, বাস্তবে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের করপোরেট ফাইন্যান্স পরিচালক ও বাপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি উজমা চৌধুরী বলেন, আমরা অ্যাগ্রো-প্রসেসিং খাতকে এগিয়ে নিতে অনেক উদ্যোগ নিতে চাই, কিন্তু বাস্তবায়নের সময় নীতিগত বা সমন্বিত কোনো সহায়তা পাই না। অন্যদিকে, কৃষকদের নতুন উদ্যোগে উৎসাহিত করার পরিবর্তে তারা উল্টো আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। একসময় আমরা পান বা মাছ প্রচুর রপ্তানি করতাম, অথচ এখন কেন পারছি না-তা নিয়ে গভীর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্যে আমরা বাজার ধরে রাখতে পারছি না। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার সময়ে চাল রপ্তানির অনুমতির জন্য অনুনয়-বিনয় করেও আমরা রপ্তানি করতে পারিনি, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ উর্বরতায় সমৃদ্ধ, এক ইঞ্চি জমিও যেখানে অনাবাদি থাকে না, সেখানে পরিকল্পনার অভাবে আমরা পিছিয়ে পড়ছি। সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের নীতিবাচক মনোভাব থেকে দ্রুত বের হয়ে আসতে হবে এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ডেপুটি এডিটর সাজ্জাদুর রহমান বলেন, বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। বৈশ্বিক এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। দেশে অনেক সম্ভাবনা থাকলেও ছোট ছোট কোম্পানিগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে টিকে থাকতে পারছে না। একটি অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ব্যবসা শুরু করতেই দুই থেকে তিন ডজন লাইসেন্স নিতে হয়, যা মূলত হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করে।

তিনি বলেন, একটি অনুমোদন পেতেই উদ্যোক্তাদের এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়, যা এ খাতের জন্য মারাত্মক বড় প্রতিবন্ধকতা।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (এক্সপোর্ট) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বের ১৩৮টি দেশে পণ্য রপ্তানি করলেও আমাদের আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে প্রবাসী বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় (এথনিক) বাজার থেকে। মূলধারার বিশাল বৈশ্বিক বাজারের সুযোগ আমরা নিতে পারছি না। এ ছাড়া আমাদের রপ্তানির ৯০ শতাংশই যায় সাধারণ ভ্যারাইটি বা গ্রোসারি দোকানে, কারণ আন্তর্জাতিক ‘মডার্ন ট্রেড’ বা সুপারশপগুলোতে প্রবেশ করার মতো কমপ্লায়েন্স ও পণ্যের মানদণ্ড আমরা পূরণ করতে পারছি না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষার (টেস্টিং ফ্যাসিলিটি) সুযোগ নেই। বিদেশ থেকে ল্যাব টেস্ট করিয়ে আনতে আনতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দেওয়া সময়সীমা পার হয়ে যায়। ফলে উন্নত স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে টিকে থাকা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও শুল্কমুক্ত সুবিধার অভাব স্পষ্ট।

এনএইচ/এমএএইচ/

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
সাভারে পুলিশ হত্যায় আরও এক আসামি রিমান্ডে
সাভারে পুলিশ হত্যায় আরও এক আসামি রিমান্ডে

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় লালন নামে আরও এক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহম্মেদ এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা জেলা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আরিফ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে বলেন, মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে লালনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আরও পড়ুন অটোরিকশা রাখা নিয়ে মারধরের প্রতিবাদ করায় এসবি সদস্যকে হত্যা এর আগে একই মামলায় গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামি জহুরুলকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকা ওই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় আবুল কালাম আজাদের অটো গ্যারেজের সামনে একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে চালকের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই বিরোধ থামাতে এগিয়ে যান ছুটিতে থাকা এসবি কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হলে নিজের নিরাপত্তার জন্য আলতাফ হোসেন সেখান থেকে সরে গিয়ে তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। এজাহারে বলা হয়, রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই দোকানে হামলা চালায়। তারা রড, লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশ বাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আরও পড়ুন সাভারে পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামি জহুরুল ৫ দিনের রিমান্ডে পরে স্থানীয়রা আহত আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে এরই মধ্যে প্রধান আসামি জহুরুলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। এবার লালনকেও এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিলেন আদালত। এমডিএএ/বিএ

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছালো

নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

নারী অধিকার রাজনৈতিক হাতিয়ার হলেও প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি

রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল

রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমল

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল এনসিপি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশেন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির দলীয় কার্যালয়ে দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়। সভা শেষে দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এ ঘোষণা দেন। দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীএর আগে দলীয় কার্যালয়ে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক প্রস্তুতি, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন এবং মহানগরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। নাহিদ ইসলাম এ বিষয়ে দলীয় নেতাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে তা নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা, জুলাই শহীদ ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং তাঁদের পাশে থাকার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পতিত ও পলাতক আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নাশকতামূলক তৎপরতার ওপর ওয়ার্ডভিত্তিক নজরদারি ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে উত্তরে আসিফ মাহমুদ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এসসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকারসহ উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানালো দুদক

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আরও দুর্নীতির অভিযোগের কথা জানালো দুদক

বাড্ডায় বাসায় ঢুকে এক ব্যক্তিকে গুলি

বাড্ডায় বাসায় ঢুকে এক ব্যক্তিকে গুলি

গুলশানে মিছিল করা আওয়ামী লীগের ৯ জনকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

গুলশানে মিছিল করা আওয়ামী লীগের ৯ জনকে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ব্রিজের নিচে পড়ে ছিলেন যুবক, প্রাণ গেল হাসপাতালে
ব্রিজের নিচে পড়ে ছিলেন যুবক, প্রাণ গেল হাসপাতালে

রংপুরের কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে মতিউর রহমান (২৬) নামের এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়। মতিউর রহমান পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থানার ছোট ধাপ এলাকার মোখলেছুর রহমানের ছেলে। নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষজাতীয় ওষুধ খাওয়ার কারণে মতিউর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কাউনিয়া থানার এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় লোকজন উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু এলাকায় বেইলি ব্রিজের নিচে ওই যুবককে অচেতন অবস্থায় পানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তারা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওই যুবক কিছু বলতে পারছিলেন না। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরের দিকে তিনি মারা যান। তবে ঘটনাস্থলে উদ্ধারের সময় ওই যুবকের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আরও পড়ুন ডেঙ্গুতে প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বার, বাঁচেনি গর্ভের সন্তানও নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে এসআই ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, শনিবার সকাল ৭টার দিকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে বের হন মতিউর রহমান। এরপর তার সন্ধান পাননি স্বজনরা। পরে বিকেলে তারা জানতে পারেন, স্থানীয় লোকজন কাউনিয়ায় বেইলি ব্রিজের নিচ থেকে অচেতন অবস্থায় মতিউরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এরপর স্বজনরা রাতে হাসপাতালে যান। ব্রজ গোপাল কর্মকর্তা আরও বলেন, কী কারণে ওই যুবক পঞ্চগড় থেকে কাউনিয়া উপজেলা এলাকায় এসে বিষ খেয়েছেন বা কেউ তাকে বিষজাতীয় কিছু খাইয়ে হত্যা করেছেন কি-না, তার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। কাউনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মেহেদি হাসান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ওই যুবক বিষজাতীয় ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। অনেক আগে বিষ খাওয়ার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জিতু কবীর/এসআর/এএসএম

News সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ 0
এসিল্যান্ডের সই জাল করে নামজারি, দলিল লেখকের সহকারী আটক

এসিল্যান্ডের সই জাল করে নামজারি, দলিল লেখকের সহকারী আটক

ঋতুপর্ণাদের সামনে সেই উত্তর কোরিয়া, ৬ মাস আগে হয়েছিল বিধ্বস্ত

ঋতুপর্ণাদের সামনে সেই উত্তর কোরিয়া, ৬ মাস আগে হয়েছিল বিধ্বস্ত

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে মুখোমুখি সিটি-ইউনাইটেড, ম্যাচ কখন-কোথায়?

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে মুখোমুখি সিটি-ইউনাইটেড, ম্যাচ কখন-কোথায়?

0 Comments