পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারাজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের ২৬ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটাবে। এটা খুব আধুনিক প্রযুক্তি। এর বাস্তবায়ন হলে কৃষি বিপ্লব হবে এবং এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। আর এর মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে মাছের উৎপাদন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলার পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময় এই প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা করা হয়েছে। আজকে ২০২৬ সালে এসে তা বাস্তবায়ন করার জন্য একনেকে পাস করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে আপনাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, আজকে তার নেতৃত্বেই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারাজ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের যে কোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন করবেন।

পদ্মা ব্যারাজের প্রকল্প ম্যাপ/ ছবি: জাগো নিউজ
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছি। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়ন হবে। সেই জন্য মাঠের কারিগরি সমীক্ষা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিশেষ টিম আমাদের সঙ্গে এসেছে। এটি আমাদের দেশীয় অর্থে সাত বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প।
এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি আসলাম মিয়াসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ মে একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যারাজটি দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ব্যারাজটি বাস্তবায়ন হলে এর সুবিধা পাবে রাজবাড়ীসহ দেশের ২৬ জেলার মানুষ।
রুবেলুর রহমান/এসজেডএইচ/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ওটিটির গণ্ডি পেরিয়ে এবার বড়পর্দায় এসেছে ভারতের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’। গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই কালীন ভাইয়া, মুন্না ত্রিপাঠী, গুড্ডু ও বাবলু পণ্ডিতদের দ্বন্দ্ব দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বক্স অফিসেও ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। তবে সাফল্যের মাঝেই এবার বিতর্কে জড়িয়েছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটির ‘শূরবীর’ গান নিয়ে আপত্তি তুলেছেন রাজস্থানের বিজেপি নেতা ও সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা রাজেন্দ্র রাঠোর। তার অভিযোগ, মহারানা প্রতাপকে উৎসর্গ করা এই গানটি অপরাধ ও সহিংসতার দৃশ্যে ব্যবহারের মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই বীরের অবমাননা করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের (সিবিএফসি) কাছে চিঠিও দিয়েছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’তে মহারানা প্রতাপকে উৎসর্গ করে ‘শূরবীর’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে। আর এই গানটির ব্যবহার নিয়েই আপত্তি জানিয়েছেন রাজেন্দ্র রাঠোর। তার দাবি, মহারানা প্রতাপকে শুধু মেওয়ার কিংবা রাজস্থানের একজন ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে দেখলে হবে না। ভারতীয় ইতিহাসে সাহস, আত্মত্যাগ ও আত্মসম্মানের প্রতীক হিসেবে তার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তাই তাকে উৎসর্গ করা গান কোনোভাবেই অপরাধ, সহিংসতা কিংবা গ্যাং-সংস্কৃতির দৃশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। আরও পড়ুন সুনেরাহকে চেনার পর নেওয়া হয়নি বিল, ইতালিতে অভিনেত্রীর সঙ্গে আরও যা ঘটল রাঠোরের অভিযোগ, ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’তে ‘শূরবীর’ গানটি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মহারানা প্রতাপের গৌরব ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে গানটির এমন ব্যবহারে রাজপুত সম্প্রদায়ের একাংশের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সিবিএফসিকে পাঠানো চিঠিতে ‘শূরবীর’ গানের গায়ক রেপিয়া বালামের বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেছেন বিজেপির এই নেতা। তার দাবি, গানটি মহারানা প্রতাপকে উৎসর্গ করা হলেও সিনেমায় ব্যবহারের আগে গায়কের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়নি। রাজেন্দ্র রাঠোরের বক্তব্য, মহারানা প্রতাপের সাহস, আত্মত্যাগ ও আত্মসম্মানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তৈরি হয়েছিল ‘শূরবীর’। ফলে গানটি অপরাধ কিংবা সহিংসতার দৃশ্যে ব্যবহার করা হলে এর মূল উদ্দেশ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। আরও পড়ুন ডনের রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সালমান শাহর মা এ কারণে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’ থেকে ‘শূরবীর’ গানটি বাদ দেওয়ার জন্য নির্মাতাদের নির্দেশ দিতে সিবিএফসির কাছে আবেদন জানিয়েছেন রাজেন্দ্র রাঠোর। এখন এ বিষয়ে সেন্সর বোর্ড কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই দেখার বিষয়। এমএমএফ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ছনটেক এলাকায় মোবাইল ফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে বিরোধের জেরে মো. রাব্বী (২৫) নামে এক যুবক ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ছনটেক প্রধান সড়কের স্বপ্ন সুপারশপের সামনের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অতনু দে প্রেম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্ন সুপারশপের সামনের রাস্তা থেকে রাব্বীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। অতনু দে প্রেম জানান, ভোরে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে রাব্বীর সঙ্গে তার দুই বন্ধুর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন রাব্বীকে ছুরিকাঘাত করে। আহত অবস্থায় রাব্বী দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে রাস্তায় পড়ে মারা যান। তিনি জানান, নিহতের বুকের বাম পাশে ছুরিকাঘাতের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। নিহতের দুলাভাই শফিকুর জানান, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে রাব্বীর সঙ্গে তার ফোনে কথা হয়। এর কিছুক্ষণ পর আবার ফোন দিলে রাব্বীকে পাওয়া যায়নি। পরে এক দূরসম্পর্কের শ্যালিকার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার স্বপ্ন সুপারশপের সামনে কে বা কারা রাব্বীকে মেরে ফেলে গেছে। এরপর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় রাব্বীর পকেটে সামান্য কিছু টাকা পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায়নি। নিহত রাব্বী কুমিল্লার মুরাদনগর থানার নেওয়াগাঁও গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে। তিনি বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর গোবিন্দপুর আল-মদিনা গলিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। রাব্বী পেশায় স্থানীয় একটি মাছের আড়তে কাজ করতেন। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেন। তার আড়াই মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কেএজেডআইএ/এমএএইচ/
মধ্যযুগের কিংবদন্তি পুঁথিসাহিত্যিক, সতেরো শতকের রোমান্টিক কবি দোনাগাজীর নামে ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত সাহিত্য পদক দিয়ে আসছে চাঁদপুরের চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি। এবার দুই বছরের পদক একসঙ্গে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭ গুণীজনের নাম ঘোষণা করে চর্যাপদ একাডেমি। এর আগে একাডেমির সভাপতি আয়শা আক্তার রুপার সভাপতিত্বে জুড়ি বোর্ডের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন লাভ করে। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই বছরের পদকপ্রাপ্তদের নাম প্রকাশ করা হয়। পদকপ্রাপ্তরা হলেন: ২০২৫ সালে কবিতায় সোহরাব পাশা, কথাসাহিত্যে ইশরাত তানিয়া, শিশুসাহিত্যে স. ম. শামসুল আলম, সংগীতে রনক রায়হান। ২০২৬ সালে কবিতায় শিবলী মোকতাদির, চারুকলায় অমল সেনগুপ্ত এবং লোক-গবেষণায় সৈয়দা আঁখি হক। আরও পড়ুন শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন জুড়ি বোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদার, প্যাপিরাস পাঠাগারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান কবির, একাডেমির নিয়ন্ত্রণ পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুল্লা কাহাফ, পরিচালক ফেরারী প্রিন্স, সহযোগী পরিচালক জয়ন্তী ভৌমিক, নির্বাহী পরিচালক আইরিন সুলতানা লিমা, নির্বাহী সদস্য কামরুন্নাহার বিউটি, বিজ্ঞান ও আইসিটি পরিচালক রাসেল ইব্রাহীম, উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান স্বপন, সমন্বয়কারী সাইফুল খান রাজীব, প্রাবন্ধিক লিটন শীল। একাডেমির সভাপতি আয়শা আক্তার রুপা বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পদক সাত গুণীজনের তুলে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে উদযাপন পরিষদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ মহাপরিচালক অ্যাডভোকেট রফিকুজ্জামান রণি বলেন, ‘দোনাগাজী ছিলেন মধ্যযুগের কবি। সতেরো শতকের পুঁথিশিল্পী দোনাগাজী প্রধানত রোমান্টিক ঘরানার কবি ছিলেন। বিখ্যাত প্রেমকাব্য ‘সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল’ তাকে অমর করে রেখেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তার নামে চর্যাপদ একাডেমি এ পদক দিয়ে আসছে।’ এসইউ