বরগুনার পাথরঘাটায় অভিযান চালিয়ে ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, তিনটি চামড়া ও একটি মাথাসহ মো. ইব্রাহিম (৪৫) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাথরঘাটা বনবিভাগের রেঞ্জ অফিসার মো. সোহাগ খান বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইব্রাহিম পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণ চরদোয়ানী এলাকার মো. মুনসুর আলীর ছেলে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা এলাকায় একটি চক্র হরিণ শিকার করে মাংস পাচার করছে এমন তথ্য পায় কোস্টগার্ড। পরে রাত দেড়টার দিকে বিষয়টি বনবিভাগকে জানানো হয়। এরপর বনবিভাগের সদস্যদের উপস্থিতিতে দক্ষিণ চরদোয়ানী কালিয়ার খাল নামক এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ডের একটি দল। এ সময় রাত দুইটার দিকে একটি নৌকা আটক করে তল্লাশি ৩৫০ কেজি হরিণের মাংস, তিনটি চামড়া, একটি মাথা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পরে চোরাচালান কাজে ব্যবহৃত ওই কাঠের নৌকাটিসহ এ ঘটনায় জড়িত মো. ইব্রাহিমকে আটক করে কোস্টগার্ড।
পরে আটক যুবককে এক বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত মাংস মাটিচাপা দিয়ে চামড়াগুলো বনবিভাগকে সংরক্ষণ করার আদেশ দেওয়া হয়। আদালত পরিচালনা করেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পনির শেখ।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোহাগ খান জাগো নিউজকে বলেন, কোস্টগার্ডের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ হরিণের মাংস, চামড়া ও মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা মাংস মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
নুরুল আহাদ অনিক/কেএইচকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো—শাহপরীর দ্বীপের মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)। শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, শুক্রবার সকালে নিশান, আরজিনসহ কয়েকজন বন্ধু জেটিঘাটসংলগ্ন নাফ নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নিশান ও আরজিন পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে জেলেরা নৌকা নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন। নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ বিজিবি বিওপি এলাকার নাফ নদী থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর স্থানীয়দের সহায়তায় নাফ নদী থেকে দুই কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। আরজিন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর নিশানকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান বলেন, মোহাম্মদ নিশানকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। অতিরিক্ত পানি ফুসফুস ও পেটে প্রবেশের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম/কেএইচকে
আলোচিত মডেল, অভিনেত্রী ও রাজনীতিক মেঘনা আলমের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে এবার নতুন করে মুখ খুলেছেন তিনি। আজ (১১ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম দাবি করেন, তিনি সৌদি রাষ্ট্রদূতের বাগদত্তা ছিলেন। একই সঙ্গে একজন মন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রশ্ন তুলেছেন, তার দিকে কুনজর দেওয়ার সাহস কার আছে। মেঘনা আলম লিখেছেন, ‘কোন মন্ত্রীর সাহস আছে, একজন সৌদি রাষ্ট্রদূতের গার্লফ্রেন্ডের দিকে কুনজর দিবে? তার উপর আমি তার বাগদত্তা। আমি চাইলেও, না চাইলেও, আমার লাইফে ওনলি ঈসা আলদুহাইলানই ছিল।’ তার এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কোন মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন মন্তব্য করেছেন, কিংবা ঠিক কী ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মেঘনা। এর আগে গত ২৩ আগস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসের কারণেও আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সেখানে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও অভ্যাস নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন মেঘনা। তিনি লিখেছিলেন, ‘ভাই আমি সারাজীবন ছিলাম ভার্জিন, মদ সিগারেট কিছুর অভ্যাস নেই, টাকা পয়সার বিষয়েও ভয়ঙ্কর দানশীল, যতটুকু পৈতৃক সম্পদ আছে তাই ব্যবহার করিনা। হুমকি দিয়ে লাভ নেই কোনো, আমি একটু খারাপ খারাপের সাথে!’ আরও পড়ুন সুনেরাহকে চেনার পর নেওয়া হয়নি বিল, ইতালিতে অভিনেত্রীর সঙ্গে আরও যা ঘটল স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার এমন বক্তব্যের কারণ জানতে চাইলেও, পোস্টে কাকে উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেছেন তা স্পষ্ট করেননি মেঘনা। তবে ধারণা করা হয়, প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসনের কোনো একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় ওই স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি। পরে মেঘনা আলমের বক্তব্যের স্ক্রিনশটও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তার অনুসারীদের মধ্যে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যায়। এবারের স্ট্যাটাসে ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলানের নাম সরাসরি উল্লেখ করায় তার সঙ্গে মেঘনার সম্পর্কের পুরোনো বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। সৌদি আরবের সাবেক রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তার সম্পর্কের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। মেঘনা আলম ২০২০ সালে ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। পাশাপাশি ‘মিস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আরও পড়ুন ডনের রিমান্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সালমান শাহর মা ব্যক্তিগত জীবন, বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে এর আগেও একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন মেঘনা। এবার সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং একজন মন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে দেওয়া তার নতুন স্ট্যাটাস ঘিরে ফের শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। এমএমএফ
পাবনার সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতে নেমে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো- দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফের) ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। এ সময় প্রথমে একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে পরপর আরও দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, একইসঙ্গে তিন শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আলমগীর হোসাইন নাবিল/কেএইচকে