জাতীয়

গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে
গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞের গোপন পদ্ধতি ফাঁস নতুন প্রামাণ্যচিত্রে

গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে হত্যায় কোন ধরনের গোপন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা বেরিয়ে এসেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর অন্দরের ২৪ জন সদস্যের জবানবন্দিতে। নতুন একটি প্রামাণ্যচিত্রে তাঁদের এসব চাঞ্চল্যকর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল জোরের নতুন ছবি ‘নাজা’ (এনএজেডএ) গতকাল বৃহস্পতিবার ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। উৎসবটির মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন লায়ন’ পুরস্কারের লড়াইয়ে থাকা একমাত্র প্রামাণ্যচিত্র এটি।

ছবিটির নামকরণ করা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একটি সংক্ষেপিত শব্দ থেকে। কোনো সামরিক হামলায় সম্ভাব্য নিহত সাধারণ নাগরিকদের বোঝাতে কৌশলে এ পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান প্রযোজিত এ প্রামাণ্যচিত্রে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাদের বিস্তারিত জবানবন্দি তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালানো ও দূরনিয়ন্ত্রিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।

প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে সাংবাদিকদের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শিল্পনির্দেশক আলবার্তো বারবেরা বলেন, ‘নাজা’ হবে ‘সত্যিই যুগান্তকারী’। তিনি একে রাজনৈতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও সিনেমার দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার একটি কাজ বলে আখ্যায়িত করেন।

ইসরায়েলের যুদ্ধসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার ঝুঁকি এড়াতে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সাক্ষাৎকারগুলো নেওয়া হয়েছিল। রাজধানী তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে রাতে এসব সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পরিচয় লুকিয়ে রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রামাণ্যচিত্রে অংশগ্রহণকারীদের চেহারা ও কণ্ঠ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন গোপন কৌশলের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন সাক্ষাৎকারদাতারা। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক বিশেষ প্রযুক্তিও, যার মাধ্যমে হামাসের তুলনামূলক নিচু স্তরের বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য সদস্যকে চিহ্নিত করা হতো। এরপর পরিবারের সদস্যরাও নিহত হবেন জেনেও রাতের বেলা তাঁদের বাড়িতে বোমা হামলা চালানো হতো।

গাজা সিটির পূর্ব শুজাইয়া এলাকায় হলুদ সীমারেখার (ইয়েলো লাইন) মধ্যে ইসরায়েলি সামরিক ফাঁড়ি থেকে ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকিয়ে আছেন এক সেনাসদস্য। ৫ নভেম্বর, ২০২৫

নিশানা করা সম্ভাব্য হামাস যোদ্ধাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের ফোন হ্যাক করত। এরপর সপরিবার হত্যা করার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন গোপনে শুনত তারা।

প্রামাণ্যচিত্রটিতে কিছু প্রত্যক্ষ বিবরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হিসাবেই প্রায় ২৫ শতাংশ বাসিন্দা নিজেদের ঘরে আছেন জেনেও পুরো এলাকা ধ্বংস করা, সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া এবং একটি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনা।

সাক্ষাৎকারদাতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমন এক গোপন গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন, যা সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরে বার্তা পাঠাত। এ ইউনিটের একজন বলেন, তাঁদের মূল মিশনই ছিল ‘শান্তি বিনষ্ট করা’।

পরিচালকদের এক যৌথ বিবৃতিতে আব্রাহাম ও জোর বলেন, ‘আমাদের দেশ যে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের নির্বিচার হত্যার জন্য দায়ী, তার নেপথ্যের কলকাঠি ও ব্যবস্থাগুলো খতিয়ে দেখার একটি দায়বদ্ধতা থেকে আমরা ছবিটি তৈরি করেছি। ইসরায়েলি চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিক হিসেবে আমাদের অবস্থানের জায়গা থেকে আমরা এ দায়িত্ব পালন করেছি।’

ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রযোজক ও কলাকুশলীদের সঙ্গে ছবির দুই পরিচালক র‍্যাচেল জোর ও ইউভাল আব্রাহাম (মাঝে)। ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পরিচালকেরা জোর দিয়ে বলেন, প্রামাণ্যচিত্রটির মূল লক্ষ্য ‘বিপথগামী সেনাদের দিয়ে সংঘটিত বিচ্ছিন্ন যুদ্ধাপরাধের’ ওপর ছিল না; লক্ষ্য ছিল সামরিক নির্দেশ, গৃহীত নীতি, এসব কার্যকর করার পেছনের যুক্তি এবং এ কাঠামোর ভেতরে থাকা মানুষগুলো উন্মোচন করা। অন্য কথায়, পুরো অবিচারমূলক ব্যবস্থা এবং সে ব্যবস্থার চালিকা শক্তি বা যন্ত্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলো তুলে ধরা, কোনো একক ব্যক্তিকে দায়ী করা নয়।

প্রামাণ্যচিত্রটির সহপ্রযোজক ছিলেন জেমস উইলসন ও নির্বাহী প্রযোজক জোনাথন গ্লেজার। অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’–এর নেপথ্যেও ছিলেন তাঁরা।

সাক্ষাৎকারদাতাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমন এক গোপন গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন, যা সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরে বার্তা পাঠাত। এ ইউনিটের একজন বলেন, তাঁদের মূল মিশনই ছিল ‘শান্তি বিনষ্ট করা’।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি প্রকাশনা ‘+৯৭২ ম্যাগাজিন’, হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম লোকাল কল এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রথম প্রকাশিত তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘নাজা’। সাংবাদিকদের গোপন সূত্রের ঝুঁকির কারণে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এটির চিত্রগ্রহণ ও প্রযোজনার কাজ করা হয়েছে। আর বৃহস্পতিবারের উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগপর্যন্ত এটির বিষয়বস্তু রাখা হয়েছিল কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে।

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি ভবন থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠছে

দ্য গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানী বিভাগের প্রধান ও ছবিটির নির্বাহী প্রযোজক পল লুইস ‘নাজা’কে বর্ণনা করেছেন গাজায় ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দাদের ব্যবহৃত ব্যবস্থাগুলোর উন্মোচন ও যাচাইয়ে বছরের পর বছর ধরে করা শ্রমসাধ্য এক কাজের চূড়ান্ত রূপ’ হিসেবে।

প্রামাণ্যচিত্রটির উদ্বোধনী প্রদর্শনীর আগে সাংবাদিকদের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের শিল্পনির্দেশক আলবার্তো বারবেরা বলেন, ‘নাজা’ হবে ‘সত্যিই যুগান্তকারী’। তিনি একে ‘রাজনৈতিকভাবে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ও সিনেমার দিক থেকে অত্যন্ত চমৎকার একটি কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বারবেরার বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে ইতালির চিনেচিত্তা নিউজ লিখেছে, ‘এটি শুধু সাক্ষাৎকারের কোনো সাধারণ সংগ্রহ নয়; গাজায় অভিযান শুরুর সময় তাঁরা কী কাজ করেছিলেন, তা প্রকাশ করতে এ ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের রাজি করাতে তিন বছর লেগেছে। আর আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, তাঁদের জবানবন্দি রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো।’

উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির সময় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে কাজ করছেন ফিলিস্তিনিরা

২০২৩ সাল থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। আর আহত হয়েছেন আরও ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ। এ দুই মিলিয়ে হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের গাজার মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশের বেশি।

খাদ্যের চালানে ইসরায়েলি বিধিনিষেধ গত গ্রীষ্মে গাজায় এক মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছিল। পাশাপাশি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তিন-চতুর্থাংশের বেশি বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ায় বা ক্ষতিগ্রস্ত করায় বেঁচে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখন তাঁবুর শিবিরে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন; যেখানে বিশুদ্ধ পানি কিংবা স্যানিটেশনের সুবিধা নেই বললেই চলে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতৃত্বে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর গাজায় বর্বরতা শুরু করেছে দেশটি।

উত্তর গাজার জাবালিয়ায় ইসরায়েলি হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ফিলিস্তিনি শিশুরা

২০২৫ সালে সেরা প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে অস্কারজয়ী ‘নো আদার ল্যান্ড’ ছবির চার সহপরিচালকের দুজন ছিলেন আব্রাহাম ও জোর।

দুই ছবির মধ্যে যোগসূত্র টেনে পরিচালকেরা বলেন, ‘নো আদার ল্যান্ড’ প্রামাণ্যচিত্রে তাঁরা (ফিলিস্তিনি সহপরিচালক) বাসেল আদরা ও হামদান বালালকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচ বছর কাটিয়েছেন। মূলত পশ্চিম তীর থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা দখলদারত্ব ও জাতিগত আধিপত্যের একটি বৃহত্তর চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এ জন্য ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাগুলো তাঁরা বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত (ক্যামেরাবন্দী) করেছেন।

একইভাবে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রে তাঁরা একটি ব্যবস্থার নানা সূত্র মিলিয়ে দেখেছেন। এতে দুই ডজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনার সাক্ষ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক ব্যবস্থার চিত্র, যা এমন এক অপরাধ ঘটাতে ব্যবহার করা হয়েছে, যাকে জাতিসংঘের একটি কমিশন ও বিশ্বের শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থাগুলো জাতিহত্যা বলে আখ্যায়িত করেছে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
রাজধানীর দক্ষিণখানে মিললো পরিত্যক্ত শটগান ও হাতকড়া
রাজধানীর দক্ষিণখানে মিললো পরিত্যক্ত শটগান ও হাতকড়া

রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি শটগান ও এক জোড়া হাতকড়া জব্দ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। আরও পড়ুন দক্ষিণখানে চাঁদা না দেওয়ায় গুলির ঘটনায় গ্রেফতার ৪, বিদেশি পিস্তল জব্দ দক্ষিণখান থানার বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে মুন্সি মার্কেট ঝিলপাড় এলাকায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে শটগান ও পুলিশের লোগোযুক্ত চাবিসহ এক জোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কেআর/একিউএফ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহারে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাড়িতে গৃহবধূ, তালা দিয়ে পালাল পরিবার

চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাড়িতে গৃহবধূ, তালা দিয়ে পালাল পরিবার

উড়োহুমকি
উড়োহুমকি

‘ধরে নাও, তোমার ছেলের সামনে বড্ড বিপদ! পারলে তাকে রক্ষা করো।’—বুকটা ধক করে ওঠে মেয়র সাদ কায়েসের। এটা উড়োচিঠি ধাঁচের একটা খুদে বার্তা। ‘উড়োহুমকিও’ বলা যায়।শব্দগুলো যেন বিষকাঁটার মতো ঢুকে গেল মেয়রের নরম হৃদয়ে। তিনি মানবদরদি। মেয়র নির্বাচিত হয়ে ভেবেছিলেন, নগরের জ্যান্ত–জড় সব জঞ্জাল সাফ করে বাসিন্দাদের একটু স্বস্তির ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু পদে পদে বাধা সাপের ছোবলের মতো ওত পেতে আছে। এরপরও তিনি বেদখল হয়ে যাওয়া কয়েকটি বড় খাল উদ্ধার করেছেন, চোরাই বৃক্ষনিধন বন্ধ করে ১০ লাখ নতুন চারা লাগিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করে আরও কিছু উন্নয়ন করেছেন। এসব কাজের জন্য এরই মধ্যে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলও ভারী হয়েছে। মেয়র টের পান, তাঁর অদেখা শত্রুর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক মশকনিধন অভিযানে অভাবনীয় সাফল্যের পর অদৃশ্য শত্রুরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। মশকনিধনে তিনি দেশের একদল তরুণ বিজ্ঞানীর সাহায্য নিয়েছেন। তাঁরা বিশেষ ধরনের মাইক্রোড্রোন উদ্ভাবন করে ছেড়ে দিয়েছেন। খালি চোখে এগুলো দেখা যায় না। ড্রোনগুলো খুঁজে খুঁজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মশা ধ্বংস করে। মশা ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় ইনসেক্টিসাইড কেমিক্যালসের ব্যবসা লাটে উঠেছে। তারা এখন মহাখাপ্পা মেয়রের ওপর।সময়শব্দগুলো যেন বিষকাঁটার মতো ঢুকে গেল মেয়রের নরম হৃদয়ে। তিনি মানবদরদি। মেয়র নির্বাচিত হয়ে ভেবেছিলেন, নগরের জ্যান্ত–জড় সব জঞ্জাল সাফ করে বাসিন্দাদের একটু স্বস্তির ব্যবস্থা করবেন।এই এত শত্রুর মধ্যে কে যে এমন হুমকি দিয়ে মেসেজ পাঠিয়েছে, তা বোঝা মুশকিল। মেসেজের মুঠোফোন নম্বর ধরে প্রেরককে শনাক্ত করার চেষ্টা করলেন মেয়র। কিন্তু ওই নম্বর ধরে কাউকে শনাক্ত করা গেল না। মেসেজটা এমন কৌশলে পাঠানো হয়েছে, যা ধরার মতো প্রযুক্তি আপাতত কারও নেই। এরপরও গোয়েন্দা বিভাগ কাজ শুরু করেছে। হুমকির বিষয়টা গোপন রাখা হবে। জানাজানি হলে বিপদের ডালপালা ছড়াবে।এর আগেও এমন উড়োহুমকি পেয়েছেন মেয়র। কখনো পাত্তা দেননি। আর হুমকি অনুযায়ী তেমন কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবারের এই উড়োহুমকির ধরনটা যেন কেমন। মনে হচ্ছে, সত্যিই কোনো ভয়ংকর বিপদ আসছে!নগরের গোয়েন্দাপ্রধান সোবহান শিকদার বলেছেন, অন্তত একটা সপ্তাহ ছেলেকে যেন বাসা থেকে বের করা না হয়। এর মধ্যে তাঁরা অনুসন্ধান করে দেখবেন, কোত্থেকে কে বা কারা এই ঘোঁট পাকাচ্ছে।মেয়র তাঁর স্ত্রী তাসফিয়াকে বলে দিয়েছেন, এক মাস ছেলেকে বাসা থেকে বের করা যাবে না। এটা বাড়তি সতর্কতা। তাসফিয়া অবশ্য আপত্তি তুললেন, ‘সামনে ছেলের পরীক্ষা?’পাত্তা দিলেন না মেয়র। বললেন, ‘আগে ছেলের প্রাণ বাঁচাও, তারপর পরীক্ষা!’রাদ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। ভারি চঞ্চল। ঘরবন্দী থেকে কয়েক দিনেই সে হাঁপিয়ে গেল। বাসার অদূরে গুগলির মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলে ও। ওরা ইচ্ছেমতো খেলে বেড়াবে, আর সে খোঁয়াড়ের মোরগের মতো আটকা থেকে ছটফট করবে, সেটি হবে না। সপ্তাহখানেক পর সে জেদের সুরে বলল, ‘আজ আমি খেলতে যাবই যাব!’মিরানগরের গোয়েন্দাপ্রধান সোবহান শিকদার বলেছেন, অন্তত একটা সপ্তাহ ছেলেকে যেন বাসা থেকে বের করা না হয়। এর মধ্যে তাঁরা অনুসন্ধান করে দেখবেন, কোত্থেকে কে বা কারা এই ঘোঁট পাকাচ্ছে।ছেলের ঘ্যানঘ্যানে বেকায়দায় পড়ে গেলেন তাসফিয়া। রাদের বাবাকে কল দিলেন তিনি। মেয়র ফোন ধরলেন না। মেসেজ এল, ‘আই অ্যাম বিজি, কল ইউ লেটার’।শেষমেশ ধৈর্য হারালেন তাসফিয়া। ছেলেকে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। বাসার চারপাশে কড়া পাহারা। এর বাইরে রাদের দেহরক্ষী হিসেবে আছে একটি রোবোকপ। বিপজ্জনক কেউ এলে সঙ্গে সঙ্গে তার সেন্সরে ধরা পড়ে যাবে সে। অমনি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাবে শত্রু।বাড়ির বাইরে এসে মনটা আনন্দে নেচে ওঠে রাদের। নীল আকাশ আর মৃদু বাতাসে মুক্তির ঘ্রাণ। আহ্, কী শান্তি!নাচতে নাচতে গুগলির মাঠে গেল রাদ। সঙ্গে ছায়ার মতো আছে এআই রোবোকপ। কোনো চিন্তা নেই।রাদকে পেয়ে খুব খুশি ওর বন্ধুরা। শিগগিরই খেলায় মেতে উঠল ওরা। মাঠের এক কোণে সতর্ক পাহারায় রোবোকপ। বেলা ডোবার আগপর্যন্ত ইচ্ছেমতো ছোটাছুটি করে খেলল ওরা। এবার ফেরার পালা।ক্লান্ত শরীরে পা টেনে টেনে যেতে লাগল রাদ। মনটা খারাপ। কাল কি আবার খেলতে পারবে? বাইরে আসার কথা শুনে বাবা না জানি কী কঠোর ব্যবস্থা নেন!আচমকা রোবোকপের সেন্সর গড়বড় হয়ে গেল। হারিয়ে গেল নজরদারির ক্ষমতা। ঠিক এ সময় বিশাল এক কালো মাইক্রোবাস এসে দাঁড়াল রাদের পাশে। গাড়ির কাচও কালো। ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নিঃশব্দে খুলে গেল গাড়ির স্লাইডিং ডোর। একটা হাত এসে মুখ চেপে ধরল রাদের। অন্য দুটি শক্ত হাত ওকে শূন্যে তুলে নিয়ে গেল ভেতরে। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ঘটল ঘটনা। তারপর দ্রুতবেগে রওনা হলো মাইক্রোবাস।বাগানবিলাসআচমকা রোবোকপের সেন্সর গড়বড় হয়ে গেল। হারিয়ে গেল নজরদারির ক্ষমতা। ঠিক এ সময় বিশাল এক কালো মাইক্রোবাস এসে দাঁড়াল রাদের পাশে। গাড়ির কাচও কালো। ভেতরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না।একটা ঝাঁকুনি দিয়ে সচল হলো রোবোকপের সেন্সর। সে প্রচণ্ড বেগে দৌড়াতে লাগল কালো গাড়িটার পেছনে। কিন্তু গাড়ির গতি অনেক বেশি। ক্রমে পিছিয়ে পড়ছে রোবোকপ। গুলি করতে গিয়েও করল না সে। মেয়রের ছেলের ক্ষতি হতে পারে।এর মধ্যে তার মেমোরি থেকে রাদ অপহৃত হওয়ার তথ্য চলে গেছে জায়গামতো। তোলপাড় শুরু হয়েছে মেয়রের পরিবার ও গোয়েন্দা বিভাগে।তাসফিয়া ছেলের জন্য রীতিমতো মাতম শুরু করলেন। বিমর্ষ মেয়র বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘ছেলেকে বাইরে যেতে দেওয়ার মজাটা বোঝো এবার!’তাসফিয়া অবুঝের মতো বললেন, ‘আমি কিছু বুঝতে চাই না। যেভাবেই হোক, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে নিয়ে এসো!’মেয়র চোখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘কথা শুনবে না, আবার বলছে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে! যেন মামার বাড়ির আবদার!’কিন্তু খুব দ্রুত একটা কিছু করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ দল ঝটিতি নগরজুড়ে অভিযান চালাল। শ তিনেক ছিনতাইকারী ও চোর–ডাকাত গ্রেপ্তার হলো। এ ছাড়া লাভের লাভ কিছুই হলো না।এরই মধ্যে মুক্তিপণ চেয়ে মেয়রের কাছে মেসেজ এল, ২০ কোটি টাকা দিলে রক্ষা পাবে রাদ। সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টা। টাকাটা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কীভাবে পাঠাতে হবে, তা লিখে দিয়েছে তারা।নিরুপায় মেয়রের সাহায্যের আবেদনে আবার এগিয়ে এলেন তরুণ বিজ্ঞানীরা। তাঁরা সদ্য একটা হিউম্যানয়েড এআই রোবট তৈরি করেছেন। এটি মাল্টিফাংশনাল, নাম ‘মাস্টার’। সফল পরীক্ষা হলেও এখনো কাজে নামানো হয়নি। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে দেখা যাক কী হয়।ফেরাএরই মধ্যে মুক্তিপণ চেয়ে মেয়রের কাছে মেসেজ এল, ২০ কোটি টাকা দিলে রক্ষা পাবে রাদ। সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টা। টাকাটা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে কীভাবে পাঠাতে হবে, তা লিখে দিয়েছে তারা।মাঠে নেমে গেল মাস্টার। মাত্র কয়েক সেকেন্ডে নিজের কোয়ান্টাম স্ক্যানারে নগরের সব সিসিটিভি ক্যামেরা ঘেঁটে ফেলল সে। নগরের এক প্রান্তে একটি পরিত্যক্ত গবেষণাগারের নিচে ভূগর্ভস্থ আস্তানার সন্ধান পেল মাস্টার। এটি ‘ব্ল্যাক ম্যালিস’ নামের একটি দুর্বৃত্ত দলের ঘাঁটি। সেখানে রাখা হয়েছে রাদকে।শিগগির ওই আস্তানায় পৌঁছে গেল মাস্টার। তার দিকে শাঁ শাঁ করে ছুটে এল কয়েকটা ড্রোন। সেগুলোর ক্ষতিকর লেজার সে ঠেকাল বাহুর ন্যানো–শিল্ড দিয়ে। তারপর মাইক্রো-ইএমটি পালস ছুড়ে একে একে অচল করে দিল ড্রোনগুলোকে। ভেতরে গিয়ে রাদকে খুঁজে পেতে সময় লাগল না। কিন্তু ওকে নিয়ে ফেরার সময় পথ আগলে দাঁড়াল একজন। মাস্টার টের পেল এই বেটা মানুষ নয়, তার মতোই হিউম্যানয়েড এআই রোবট। তাকে যেমন একদল মানুষ মিশনে পাঠিয়েছে, একইভাবে দুর্বৃত্তরাও একই কৌশল নিয়েছে।প্রতিপক্ষের রোবট বলল, ‘ভালো চাস তো কেটে পড়, নইলে তোর একদিন কি আমার একদিন!’কিন্তু মাস্টার তো পিছু হটার জন্য আসেনি। সে–ও পাল্টা জেদ দেখাল। শুরু হলো দুই হিউম্যানয়েড এআই রোবটের যুদ্ধ। ইস্পাতের ঘুষি, প্লাজমা ব্লেড আর বিদ্যুতের ঝলকে যেন মূর্তিমান বিভীষিকা নেমে এল আস্তানায়। রাদ বেচারা ভয়ে জড়সড়। যেন ভয়ংকর কোনো কল্পবিজ্ঞান কার্টুনছবি জ্যান্ত হয়ে উঠেছে চোখের সামনে।শ্রোডিঙ্গারের বিড়ালভেতরে গিয়ে রাদকে খুঁজে পেতে সময় লাগল না। কিন্তু ওকে নিয়ে ফেরার সময় পথ আগলে দাঁড়াল একজন। মাস্টার টের পেল এই বেটা মানুষ নয়, তার মতোই হিউম্যানয়েড এআই রোবট।মাস্টার বুঝতে পারল শক্তিতে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে পেরে ওঠা বেশ কঠিন। তাই বুদ্ধি খাটাল সে। নিজের অ্যালগরিদমের একটি অংশ প্রতিদ্বন্দ্বীর সিস্টেমে পাঠিয়ে তাকে একটি প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল, ‘তোমাকে যে মানব তৈরি করেছে, সেই মানবশিশুর ক্ষতি করা কি তোমার সাজে? মানুষ না থাকলে এআই রোবট তৈরি হবে কী করে?’এই প্রশ্নে হকচকিয়ে গেল সে। উত্তর খুঁজতে সময় লাগল। এই সুযোগে তাকে আঘাত করে অকেজো করে দিল মাস্টার।তারপর দ্রুত ঘটে গেল ঘটনা। ব্ল্যাক ম্যালিস দলের সব দুর্বৃত্ত পাকড়াও হলো। রাদ ভালোয় ভালোয় ফিরে গেল মা–বাবার কাছে। প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে সফল হলো মাস্টার।*লেখাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞানচিন্তায় আগস্ট সংখ্যায় প্রকাশিতহে-ই, কাম অন আ-উট!

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে পাওয়া গেল কুমিরের মাথা

বিমানবন্দরে যাত্রীর ব্যাগে পাওয়া গেল কুমিরের মাথা

জুমার নামাজের পর কী করতেন নবীজি (সা.)?

জুমার নামাজের পর কী করতেন নবীজি (সা.)?

মরুর রূপান্তর: সৌদি আরবের নবজাগরণের কাব্য

মরুর রূপান্তর: সৌদি আরবের নবজাগরণের কাব্য

পুরোনো বইয়ের গন্ধ কেন এত ভালো লাগে?
পুরোনো বইয়ের গন্ধ কেন এত ভালো লাগে?

অনেক দিনের পুরোনো একটি বই হাতে নিলে শুধু তার পাতায় জমে থাকা ইতিহাসই চোখে পড়ে না, নাকে পৌঁছায় এক অদ্ভুত পরিচিত সুবাসও। কারো কাছে তা শৈশবের স্কুল লাইব্রেরির স্মৃতি, কারো কাছে পুরোনো বইয়ের দোকানে কাটানো সময়। আবার কারো মনে এই গন্ধ ফিরিয়ে আনে বহু বছর আগের কোনো প্রিয় বই পড়ার মুহূর্ত। বইপ্রেমীদের কাছে এই গন্ধের আলাদা আকর্ষণ আছে। অনেকেই হয়তো ভাবেন, পুরোনো বইয়ের নিজস্ব কোনো বিশেষ সুগন্ধ রয়েছে। আসলে বিষয়টি একটু অন্যরকম। কাগজের বয়স বাড়লে যা ঘটে কাগজ তৈরির প্রধান উপাদানগুলোর একটি হলো কাঠ থেকে পাওয়া আঁশ। এতে সেলুলোজের পাশাপাশি লিগনিনসহ আরও কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে। বছরের পর বছর ধরে আলো, বাতাস, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার প্রভাবে এসব উপাদানের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটতে থাকে। বিশেষ করে পুরোনো কাগজে অ্যাসিড-নির্ভর রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকলে কাগজের কিছু উপাদান ভেঙে যেতে শুরু করে। তখন একাধিক উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পরই আমাদের নাকে পৌঁছায় সেই বিশেষ পুরোনো বইয়ের গন্ধ। এই গন্ধের পেছনে একক কোনো রাসায়নিক পদার্থ দায়ী নয়। বরং বিভিন্ন যৌগের সম্মিলিত প্রভাবেই তৈরি হয় বইটির স্বতন্ত্র সুবাস। ভ্যানিলার সঙ্গে মিল যেখানে পুরোনো বইয়ের গন্ধকে অনেকে ভ্যানিলার সঙ্গে তুলনা করেন। এর একটি কারণ হলো ভ্যানিলিন নামের একটি যৌগ। পুরোনো কাগজে লিগনিনের অবক্ষয়ের ফলে ভ্যানিলিন তৈরি হতে পারে এবং এই যৌগের সুবাস ভ্যানিলার পরিচিত গন্ধের সঙ্গে মেলে। তবে বইয়ের গন্ধ শুধু ভ্যানিলিনের কারণে হয়-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কাগজের বিভিন্ন উপাদান থেকে তৈরি আরও অনেক উদ্বায়ী যৌগ একসঙ্গে মিশে সেই গন্ধ তৈরি করে। কোনো কোনো যৌগ বাদাম বা কাঠের মতো অনুভূতি দিতে পারে, আবার কোনোটি মিষ্টি কিংবা ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিল তৈরি করতে পারে। এই কারণেই একেকটি পুরোনো বইয়ের গন্ধ একেক রকম মনে হয়। সব পুরোনো বইয়ের গন্ধ এক নয় এখানেই রয়েছে আরও মজার বিষয়। সব পুরোনো বই খুললে কিন্তু একই গন্ধ পাওয়া যায় না। কারণ প্রতিটি বইয়ের কাগজ, কালি, আঠা এবং সংরক্ষণের পরিবেশ এক নয়। কোন ধরনের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি তৈরির সময় কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, বইয়ের মুদ্রণে কোন কালি বা আঠা ব্যবহার হয়েছে-এসবই বইয়ের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বইটি বছরের পর বছর কোথায় রাখা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। শুষ্ক ও পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখা বইয়ের গন্ধ একরকম হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকা বইয়ে ভ্যাপসা গন্ধ তৈরি হতে পারে। ধুলা, ধোঁয়া, রান্নাঘরের গন্ধ, পারফিউম কিংবা আশপাশের অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থও বছরের পর বছর ধরে কাগজে প্রভাব গন্ধকে বদলে দিতে পারে। গন্ধ বিশ্লেষণ করেও বই পরীক্ষা করা যায় বইয়ের গন্ধ নিয়ে গবেষণা শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়। সংরক্ষণবিদদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। বই বা ঐতিহাসিক নথি থেকে বের হওয়া উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগ বিশ্লেষণ করে কাগজের অবক্ষয়ের ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব। এ ধরনের গবেষণায় ম্যাটেরিয়াল ডিগ্রাডোমিক্স পদ্ধতির ব্যবহারও দেখা গেছে। এর বিশেষত্ব হলো, পুরোনো নথি বা বইয়ের পাতা কেটে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। গন্ধের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেই কাগজের অবস্থার কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পুরোনো কাগজের সুবাসকে মানুষের পরিচিত বিভিন্ন গন্ধের সঙ্গে তুলনা করার জন্য গবেষণায় 'হিস্টোরিক পেপার ওডর হুইল' -এর মতো নির্দেশিকাও তৈরি হয়েছে। সেখানে চকলেট, কফি, ভ্যানিলাসহ নানা ধরনের গন্ধের সঙ্গে পুরোনো কাগজের সুবাসের তুলনা করা হয়। নতুন বইয়ে কেন সেই মায়াবী গন্ধ নেই? নতুন বইয়ের কাগজে সাধারণত পুরোনো কাগজের মতো দীর্ঘ সময়ের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেনি। তার ওপর আধুনিক বইয়ের কাগজ তৈরির পদ্ধতিও অনেক বদলে গেছে। উন্নতমানের কাগজে লিগনিনের পরিমাণ কম রাখা হয়, যাতে কাগজ দ্রুত হলুদ হয়ে না যায় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে। ফলে কয়েক দশক ধরে পুরোনো হওয়া কাগজে যে ধরনের যৌগ তৈরি হতে পারে, নতুন বইয়ে শুরুতেই সেগুলোর একই মাত্রা থাকে না। আরও পড়ুন মানুষ প্যারার মধ্যেই হাসির কারণ খুঁজে নেয় তাই পুরোনো বইয়ের সেই মিষ্টি গন্ধ আসলে এক ধরনের রাসায়নিক স্মৃতি। একটি বই যত পুরোনো হয়, তার পাতায় তত জমতে থাকে সময়ের ছাপ। আর সেই ছাপেরই একটি অংশ আমরা অনুভব করি নাকে-কখনো ভ্যানিলা, কখনো কফি, কখনো কাঠের মতো পরিচিত কোনো সুবাস হিসেবে। আরও পড়ুন ‘নৌকাডুবি’ আজও কেন জনপ্রিয় মানুষের কাছে বইয়ের পাতার সেই গন্ধ তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, এটি কাগজের বয়স, পরিবেশ এবং ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার এক অদৃশ্য গল্প। সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া এসএকেওয়াই

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই

রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুস জয় করতে যাচ্ছেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী শাকিল

রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুস জয় করতে যাচ্ছেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী শাকিল

যৌথ খতিয়ানে ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে হয়রানি নিরসনে ৬ নির্দেশনা

যৌথ খতিয়ানে ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে হয়রানি নিরসনে ৬ নির্দেশনা

0 Comments