জাতীয়

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে বৈঠক আজ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। আজ শুক্রবার তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

দুই নেতার বৈঠকে দুদেশের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়গুলোর মধ্যে ভারতের সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন প্রকল্পও রয়েছে।

আজ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদি।

গত সপ্তাহে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ তুলে রুশ নেতার প্রতি এ সংঘাত অবসানের আহ্বান জানান মোদি। চার বছরের বেশি আগে ইউক্রেনে রাশিয়ার সর্বাত্মক হামলার মধ্য দিয়ে এ সংঘাত শুরু হয়।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন, ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করছে। রাশিয়া ভারতের জন্য এস-৪০০ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি সু-৫৭ যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা চলছে।

বর্তমান চেয়ার হিসেবে ভারত এবারের ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন করছে। আগামীকাল শনিবার দুপুরের পর সম্মেলন শুরু হবে।

এ ছাড়া ভারতের নতুন বেসামরিক পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলে জানান পেসকভ।

নয়াদিল্লির আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেবেন পুতিন। তিনি বার্ষিক ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন।

সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

তবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে পুতিনের আলাদা কোনো পূর্ণাঙ্গ বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন সি চিন পিং।

সি ও মোদি আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করবেন। সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি বরাবর সামগ্রিক পরিস্থিতিও তাঁরা পর্যালোচনা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমান চেয়ার হিসেবে ভারত এবারের ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করছে। আগামীকাল বেলা ২টা ৩৫ মিনিটে সম্মেলন শুরু হবে।

সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট সিসি, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো (ইন্দোনেশিয়া), প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলী অংশ নেবেন।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রধান ঝাও জিয়াই সম্মেলনে যোগ দেবেন।

ব্রিকসের মূল সদস্য ছিল ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৪ সালে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব এ জোটে যুক্ত হয়। গত বছর ইন্দোনেশিয়াও ব্রিকসের সদস্য হয়েছে।

সম্মেলনে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগব্যবস্থা ও উচ্চ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, খাদ্য, জ্বালানি, দুর্যোগের ঝুঁকি কমানো ও সরবরাহব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে।

Popular post
কাজীরহাটে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের অভিযোগ

শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে শান্তি আলোচনা জোরালো করতে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠক

ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলছে পরীক্ষার চাপ ও সামাজিক প্রত্যাশা

দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা।   ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে।   সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।”   জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর।   সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের উৎপাদন হুমকিতে, কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।   চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।   জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে।   দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

ব্যাটিং বিপর্যয়ে দিন শুরু, লড়াইয়ে ফিরতে মরিয়া টাইগাররা

কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন

জাতীয়

View more
ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ
ভারত-আ’লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশ অশান্ত করতেই জামায়াতের লংমার্চ

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও ভারতের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। জামায়াতের একের পর এক লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারতের একের পর এক অনুরোধ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাননি। পলাতক শেখ হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন না। রাশেদ খাঁন বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেশের জাতীয় সমস্যা। এই সংকট উচ্চারণে সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলের গঠনমূলক ভূমিকা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা দেখছি, বিরোধীদল গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে লংমার্চ করছে। লং মার্চ করে কি ধরনের সমস্যার সমাধান হবে? জামায়াতের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, এই জামায়াত স্বার্থের জন্য তার শত্রুদের সঙ্গে আঁতাত করতে পারে। ভারতের সঙ্গে আঁতাত করে ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগকে ফেরানোর জন্য জামায়াত অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আওয়ামী লীগের ভাষা ও জামায়াতের আমিরের ভাষা একই সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দিল্লি সরকার বারবার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘পলাতক শেখ হাসিনা ও শহিদ ওসমান হাদীর খুনিদের ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারত সফর করবেন না।’ কিন্তু এই একই অনুরোধ যদি ভারত জামায়াতের আমিরকে করতো, তাহলে এতদিনে জামায়াত আমির থাকতেন দিল্লিতে। এ সময় তিনি ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন ও স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। পরে তিনি স্থানীয় শিশু-কিশোরদের সঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেন। এসময় জেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এম শাহাজান/কেএইচকে/জেআইএম

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

সৌদি আরবকে ঘিরে ফেলছে ইরান, নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

হজ কার্যক্রমে অংশ নিতে অনুমতি পেল ৭০২ এজেন্সি

খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই

খাগড়াছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে চার দোকান পুড়ে ছাই

হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান
হুতিদের অগ্রযাত্রা: বাব–আল মানদেব নিয়ন্ত্রণে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় সুবিধা পাবে ইরান

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির বন্দরনগরী আল–মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে। সামরিক সূত্রগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই হুতিদের এ অগ্রযাত্রার খবর এল।ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্রগুলো বলেছে, হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণে অবস্থিত এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রণালিটির কাছে হানিস দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে হুতিরা।হুতিরা বাব–আল মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে। তেহরান ইতিমধ্যে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে যুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে চলেছে।হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাব–আল মানদেব প্রণালি একই পরিস্থিতির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রসহ এ বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার বড় সংকটে পড়বে।হুতিদের অগ্রসর হওয়ার এ ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য খারাপ খবর। ইরান যুদ্ধের কারণে নিজ দেশে ইতিমধ্যেই চাপের মুখে আছেন তিনি। এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনে।হুতিরা বাব–আল মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে তাদের পৃষ্ঠপোষক ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা পাবে। ইরান ইতিমধ্যেই হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে যুদ্ধে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।নির্বাচনে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান ধরে রাখতে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় খুঁজছেন ট্রাম্প। এমন সময় বাব–আল মানদেবে হুতিদের প্রভাব পাকাপোক্ত হলে তাঁকে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে।হুতি–নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র এক বিবৃতিতে বলেছে, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া সব নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠানের জন্য লোহিত সাগরে চলাচল নিরাপদ রয়েছে।বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব জ্বালানি তেল রপ্তানিতে লোহিত সাগরের জলপথগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্ররা (সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট) লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দক্ষিণে বাব আল-মানদেব প্রণালির কাছে ধুবাব দ্বীপের দিকে সরে যাচ্ছে। ধুবাবের অপর পাশে রয়েছে পেরিম দ্বীপ। সামরিক সূত্রগুলো বলেছে, এ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে ধুবাব ও পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী মোখায় হুতিদের হামলার পর ক্ষয়ক্ষতির চিত্রগতকাল ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে ইয়েমেন–বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন, ইয়েমেনের যুদ্ধে ‘নতুন এবং আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নিতে হবে।গ্রুন্ডবার্গ বলেন, হুতিরা ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অর্থ হলো, তারা বাব–আল মানদেব প্রণালির প্রবেশপথে পৌঁছে গেছে। এতে সেখানে অবাধে নৌ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ‘ইরানের এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘এ উত্তেজনা অগ্রহণযোগ্য। যাদের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে, তাদের এর পরিণতির দায় নিতে হবে।’ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইয়েমেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। তারা সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বিবৃতিতে ইয়েমেনে ইরানের ভূমিকার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।ইয়েমেন সরকার, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশনায় চলতি সপ্তাহে হুতিরা উপকূল ধরে অগ্রসর হয়েছে।বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। জলপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরব জ্বালানি তেল রপ্তানিতে লোহিত সাগরের জলপথগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।হুতিদের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুস সালাম বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে বলেছেন, তাঁদের অভিযান আত্মরক্ষামূলক। ইয়েমেনে (সৌদি আরবের) হামলা বন্ধ হলে এসব অভিযানও বন্ধ হবে।ইয়েমেনের আল–মোখা শহর হুতিদের দখলে, চাপে সরকারি বাহিনীতেলের দাম বেড়েছেবাব–আল মানদেব প্রণালি দিয়ে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গতকাল অশোধিত জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠেছে।জ্বালানির মূল্য পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।চলতি বছরের মার্চে ইসরায়েলে হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়ায় হুতিরা। এরপর জুলাইয়ে তারা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। চলতি মাসে গোষ্ঠীটি সৌদির বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়িয়েছে।হুতিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে।হুতিদের নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে ইরানের প্রতি সৌদি আরবের সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়া নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই, সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

জাদুঘরে প্রবেশ শিক্ষার্থীদের জন্য যেদিন ফ্রি, চকলেট ও পানি দিয়ে বরণ

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

নিউইয়র্কের রানওয়েতে ফ্যাশনের নানা রং

হঠাৎ করেই কি ত্বকের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে

হঠাৎ করেই কি ত্বকের রং কালচে হয়ে যাচ্ছে

‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার
‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’ নাচে বাজিমাত ক্যাটরিনার

বলিউডের নাচের গানে ক্যাটরিনা কাইফের উপস্থিতি এখন আলাদা এক আকর্ষণ। ‘শিলা কি জওয়ানি’, ‘চিকনি চামেলি’, ‘কমলি’, ‘কালা চশমা’, ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’—একটির পর একটি গানে তাঁর নাচ দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। পর্দায় তাঁর শরীরী ভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস আর ছন্দের সঙ্গে তাল মেলানোর ক্ষমতা দেখে আজ অনেকেরই মনে হতে পারে, ক্যাটরিনা বুঝি শুরু থেকেই দুর্দান্ত নৃত্যশিল্পী ছিলেন। কিন্তু বাস্তব গল্পটা একেবারেই আলাদা। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে নাচ নিয়ে কম অপমান সহ্য করতে হয়নি ক্যাটরিনাকে। এমনকি এক কোরিওগ্রাফার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাচে শূন্য। তোমার ছেড়ে দেওয়া উচিত।’ সে কথাই একসময় ক্যাটরিনাকে বিশ্বাস করিয়ে দিয়েছিল, হয়তো তিনি সত্যিই নাচতে পারেন না। অথচ কয়েক বছর পর সেই ক্যাটরিনাই এমন সব গানে নাচলেন, যেগুলো বলিউডের জনপ্রিয় নাচের গানের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। সম্প্রতি কোরিওগ্রাফার বসকো মার্টিস ও সিজার গোমেজের পডকাস্টে ক্যাটরিনার নাচ নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে সেই পুরোনো দিনের গল্প। সেখানে ছিলেন কোরিওগ্রাফার ও পরিচালক ফারাহ খান। তাঁরাই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘শিলা কি জওয়ানি’ কীভাবে ক্যাটরিনার ক্যারিয়ারে বড় পরিবর্তন এনেছিল।‘শিলা কি জওয়ানি’ বদলে দিয়েছিল সব‘তিস মার খান’ সিনেমার ‘শিলা কি জওয়ানি’ শুধু একটি জনপ্রিয় আইটেম গান ছিল না, ক্যাটরিনার জন্য এটি ছিল ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। গানটি মুক্তির পর দর্শকের চোখে ক্যাটরিনার পরিচয়ই যেন বদলে যায়।পডকাস্টে বসকো বলেন, ‘শিলা কি জওয়ানি’ ক্যাটরিনার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ ছিল। ফারাহও তাঁর সঙ্গে একমত হন।তবে ফারাহর মনে পড়ে, সেই সময় ক্যাটরিনাকে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কেউ খুব একটা চিনতেন না। ক্যাটরিনা এর আগে ‘টাচ মি’সহ বেশ কিছু গানে নেচেছেন। কিন্তু সেগুলো তাঁকে নাচের তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেনি।ফারাহ বলেন, ‘তখন আমরা জানতামই না যে ক্যাটরিনা নাচতে পারে। সে “টাচ মি” করেছিল, কিন্তু নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিল না। ক্যাটরিনার সঙ্গে আমার প্রথম কোরিওগ্রাফ করা গান ছিল “জাস্ট চিল”—“ম্যায়নে পেয়ার কিউঁ কিয়া” সিনেমার।’এরপর আসে ‘শিলা কি জওয়ানি’। ফারাহ জানান, গানটির শুটিংয়েও ছিল না বিশাল আয়োজন। মাত্র ১০ জন ছেলে ও ক্যাটরিনাকে নিয়ে গানটির শুটিং করেছিলেন তিনি। কিন্তু পর্দায় সেই গান যে এত বড় আলোড়ন তুলবে, তা হয়তো তখন কেউ ভাবেননি।গানটি মুক্তির পর ক্যাটরিনার নাচ নিয়ে দর্শকের ধারণা বদলে যায়। তাঁর নাচের সঙ্গে যুক্ত হয় একধরনের আত্মবিশ্বাস, সাবলীলতা ও তারকাসুলভ উপস্থিতি।ক্যাটরিনা কাইফ। আইএমডিবি ‘তুমি নাচে শূন্য’ক্যাটরিনার এই পরিবর্তনের পেছনে অবশ্য শুধু একটি গান নয়, ছিল দীর্ঘ পরিশ্রম। পডকাস্টে বসকো জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ক্যাটরিনাকে নাচের জন্য অপমান করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ক্যাটরিনা অনেক পরিশ্রম করতেন, কিন্তু এক কোরিওগ্রাফার তাঁকে বলেছিলেন, ‘তুমি নাচে শূন্য। তোমার ছেড়ে দেওয়া উচিত।’কথাটি শুনে ফারাহ খান বিস্মিত হন। তিনি মজা করে বলেন, ‘আহা, বেচারি! শূন্য তো ছিল না। হয়তো চার–পাঁচ ছিল। কিন্তু “শিলা কি জওয়ানি”র পর সে ৯ বা ১০ হয়ে গেল।’এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ক্যাটরিনার পরিবর্তনের গল্প। একজন মানুষকে তাঁর দুর্বলতার কথা বলা খুব সহজ। কিন্তু সেই দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করা কঠিন। ক্যাটরিনা সেটিই করেছিলেন।অপমানের পর ক্যাটরিনা নাচ ছেড়ে দেননি; বরং আরও বেশি অনুশীলন করেছেন। নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছেন। একসময় যে জায়গায় তাঁকে ‘শূন্য’ বলা হয়েছিল, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর নাচই হয়ে ওঠে জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।ক্যাটরিনা কাইফ। আইএমডিবি বসকোর কথায় বদলে যায় আত্মবিশ্বাসক্যাটরিনা নিজেও এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নাচ নিয়ে তাঁর শুরুর দিকের অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, একজন কোরিওগ্রাফারের মন্তব্য তাঁকে এতটাই প্রভাবিত করেছিল যে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, তিনি কখনোই ভালো নৃত্যশিল্পী হতে পারবেন না।ক্যাটরিনার মনে হয়েছিল, তিনি নাচতেই পারেন না।  এই জায়গায় বসকোর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাটরিনার ভাষ্য অনুযায়ী, বসকো তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে তিনি আসলে ভালো নাচেন। শুধু নিজের ওপর আরেকটু কাজ করতে হবে। এই ছোট্ট উৎসাহই হয়তো তাঁর আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন আনে।পরে বসকো–সিজার জুটির কোরিওগ্রাফিতেই ‘রেস’ সিনেমার ‘টাচ মি’ গানে নাচেন ক্যাটরিনা। সেই সময়ও তাঁর নাচ নিয়ে কাজ করার সুযোগ ছিল। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে শুরু করেন, নাচ তাঁর নাগালের বাইরে নয়।‘চিকনি চামেলি’ থেকে ‘কালা চশমা’‘শিলা কি জওয়ানি’র পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ক্যাটরিনাকে। ‘অগ্নিপথ’–এর ‘চিকনি চামেলি’ তাঁর নাচের জনপ্রিয়তাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে দেয়। এই গানে ক্যাটরিনার নাচ ছিল আরও আক্রমণাত্মক, শক্তিশালী ও ছন্দময়। গানটি মুক্তির পর তাঁর নাচ আবারও আলোচনার কেন্দ্রে আসে।এরপর ‘ধুম ৩’–এর ‘কামলি’। এখানে আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের নাচের চ্যালেঞ্জ ছিল। গানের কোরিওগ্রাফি, শরীরের নমনীয়তা ও দ্রুতগতির মুভমেন্ট—সব মিলিয়ে গানটি ক্যাটরিনার নাচের আরেকটি দিক দেখায়।সবাই আমাকে ক্যাটরিনা কাইফ বলে ডাকত‘কালা চশমা’তে এসে ক্যাটরিনার নাচ আবার বদলে যায়। এবার ছিল পার্টি ধাঁচের নাচ, সহজ ভঙ্গি ও তারুণ্যের ছন্দ। গানটি শুধু সিনেমার দর্শক নয়, সামাজিক অনুষ্ঠান ও পার্টিরও অন্যতম জনপ্রিয় গান হয়ে ওঠে।এর সঙ্গে যোগ হয় ‘স্ব্যাগ সে স্বাগত’, ‘আফগান জালেবি’, ‘নাচদে নে সারে’র মতো গান। একসময় যাঁকে নাচের জন্য শুনতে হয়েছিল ‘তুমি শূন্য’, তিনিই তখন বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী।দুই বছর বড় পর্দার বাইরেএই মুহূর্তে অবশ্য ক্যাটরিনা তাঁর নাচের ক্যারিয়ারের সেই ব্যস্ত সময় থেকে কিছুটা দূরে। গত দুই বছর তাঁকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি প্রথম সন্তানের মা হন। বর্তমানে মাতৃত্বের সময় উপভোগ করছেন অভিনেত্রী।ক্যাটরিনার সর্বশেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এ সিনেমায় বিজয় সেতুপতির সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও পরে ওটিটিতে দর্শকের আগ্রহ তৈরি করে।হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

News সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ 0
ইতিহাসে বিরল, ভারতীয় স্পিনারের হাত ধরে ১২৯ বছর পর ঘটলো এমন ঘটনা

ইতিহাসে বিরল, ভারতীয় স্পিনারের হাত ধরে ১২৯ বছর পর ঘটলো এমন ঘটনা

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিবির নেতার মৃত্যু

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিবির নেতার মৃত্যু

বগুড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘মেধা অন্বেষণ পরীক্ষা’

বগুড়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ‘মেধা অন্বেষণ পরীক্ষা’

0 Comments