অনেক দিনের পুরোনো একটি বই হাতে নিলে শুধু তার পাতায় জমে থাকা ইতিহাসই চোখে পড়ে না, নাকে পৌঁছায় এক অদ্ভুত পরিচিত সুবাসও। কারো কাছে তা শৈশবের স্কুল লাইব্রেরির স্মৃতি, কারো কাছে পুরোনো বইয়ের দোকানে কাটানো সময়। আবার কারো মনে এই গন্ধ ফিরিয়ে আনে বহু বছর আগের কোনো প্রিয় বই পড়ার মুহূর্ত। বইপ্রেমীদের কাছে এই গন্ধের আলাদা আকর্ষণ আছে। অনেকেই হয়তো ভাবেন, পুরোনো বইয়ের নিজস্ব কোনো বিশেষ সুগন্ধ রয়েছে। আসলে বিষয়টি একটু অন্যরকম।
কাগজ তৈরির প্রধান উপাদানগুলোর একটি হলো কাঠ থেকে পাওয়া আঁশ। এতে সেলুলোজের পাশাপাশি লিগনিনসহ আরও কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে। বছরের পর বছর ধরে আলো, বাতাস, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার প্রভাবে এসব উপাদানের মধ্যে ধীরে ধীরে পরিবর্তন ঘটতে থাকে।
বিশেষ করে পুরোনো কাগজে অ্যাসিড-নির্ভর রাসায়নিক বিক্রিয়া চলতে থাকলে কাগজের কিছু উপাদান ভেঙে যেতে শুরু করে। তখন একাধিক উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ার পরই আমাদের নাকে পৌঁছায় সেই বিশেষ পুরোনো বইয়ের গন্ধ।
এই গন্ধের পেছনে একক কোনো রাসায়নিক পদার্থ দায়ী নয়। বরং বিভিন্ন যৌগের সম্মিলিত প্রভাবেই তৈরি হয় বইটির স্বতন্ত্র সুবাস।
পুরোনো বইয়ের গন্ধকে অনেকে ভ্যানিলার সঙ্গে তুলনা করেন। এর একটি কারণ হলো ভ্যানিলিন নামের একটি যৌগ। পুরোনো কাগজে লিগনিনের অবক্ষয়ের ফলে ভ্যানিলিন তৈরি হতে পারে এবং এই যৌগের সুবাস ভ্যানিলার পরিচিত গন্ধের সঙ্গে মেলে।
তবে বইয়ের গন্ধ শুধু ভ্যানিলিনের কারণে হয়-এমনটা ভাবা ঠিক নয়। কাগজের বিভিন্ন উপাদান থেকে তৈরি আরও অনেক উদ্বায়ী যৌগ একসঙ্গে মিশে সেই গন্ধ তৈরি করে। কোনো কোনো যৌগ বাদাম বা কাঠের মতো অনুভূতি দিতে পারে, আবার কোনোটি মিষ্টি কিংবা ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিল তৈরি করতে পারে। এই কারণেই একেকটি পুরোনো বইয়ের গন্ধ একেক রকম মনে হয়।
এখানেই রয়েছে আরও মজার বিষয়। সব পুরোনো বই খুললে কিন্তু একই গন্ধ পাওয়া যায় না। কারণ প্রতিটি বইয়ের কাগজ, কালি, আঠা এবং সংরক্ষণের পরিবেশ এক নয়।
কোন ধরনের কাগজ ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি তৈরির সময় কী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, বইয়ের মুদ্রণে কোন কালি বা আঠা ব্যবহার হয়েছে-এসবই বইয়ের গন্ধে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বইটি বছরের পর বছর কোথায় রাখা হয়েছে,
সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শুষ্ক ও পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখা বইয়ের গন্ধ একরকম হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে থাকা বইয়ে ভ্যাপসা গন্ধ তৈরি হতে পারে।
ধুলা, ধোঁয়া, রান্নাঘরের গন্ধ, পারফিউম কিংবা আশপাশের অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থও বছরের পর বছর ধরে কাগজে প্রভাব গন্ধকে বদলে দিতে পারে।
বইয়ের গন্ধ নিয়ে গবেষণা শুধু কৌতূহলের বিষয় নয়। সংরক্ষণবিদদের কাছেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। বই বা ঐতিহাসিক নথি থেকে বের হওয়া উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগ বিশ্লেষণ করে কাগজের অবক্ষয়ের ধরন সম্পর্কে ধারণা নেওয়া সম্ভব।
এ ধরনের গবেষণায় ম্যাটেরিয়াল ডিগ্রাডোমিক্স পদ্ধতির ব্যবহারও দেখা গেছে। এর বিশেষত্ব হলো, পুরোনো নথি বা বইয়ের পাতা কেটে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না। গন্ধের সঙ্গে যুক্ত রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেই কাগজের অবস্থার কিছু ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
পুরোনো কাগজের সুবাসকে মানুষের পরিচিত বিভিন্ন গন্ধের সঙ্গে তুলনা করার জন্য গবেষণায় 'হিস্টোরিক পেপার ওডর হুইল' -এর মতো নির্দেশিকাও তৈরি হয়েছে। সেখানে চকলেট, কফি, ভ্যানিলাসহ নানা ধরনের গন্ধের সঙ্গে পুরোনো কাগজের সুবাসের তুলনা করা হয়।
নতুন বইয়ের কাগজে সাধারণত পুরোনো কাগজের মতো দীর্ঘ সময়ের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেনি। তার ওপর আধুনিক বইয়ের কাগজ তৈরির পদ্ধতিও অনেক বদলে গেছে। উন্নতমানের কাগজে লিগনিনের পরিমাণ কম রাখা হয়, যাতে কাগজ দ্রুত হলুদ হয়ে না যায় এবং দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
ফলে কয়েক দশক ধরে পুরোনো হওয়া কাগজে যে ধরনের যৌগ তৈরি হতে পারে, নতুন বইয়ে শুরুতেই সেগুলোর একই মাত্রা থাকে না।
তাই পুরোনো বইয়ের সেই মিষ্টি গন্ধ আসলে এক ধরনের রাসায়নিক স্মৃতি। একটি বই যত পুরোনো হয়, তার পাতায় তত জমতে থাকে সময়ের ছাপ। আর সেই ছাপেরই একটি অংশ আমরা অনুভব করি নাকে-কখনো ভ্যানিলা, কখনো কফি, কখনো কাঠের মতো পরিচিত কোনো সুবাস হিসেবে।

বইয়ের পাতার সেই গন্ধ তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, এটি কাগজের বয়স, পরিবেশ এবং ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার এক অদৃশ্য গল্প।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা ও সার্কেল ভূমি অফিসে খুঁজে না পাওয়া নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন করে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে এন্ট্রির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এজন্য পাঁচ ধরনের পরিস্থিতিতে কীভাবে খতিয়ান আবার তৈরি (পুনঃসৃজন) করতে হবে, তা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরমেন্স অনুবিভাগ থেকে গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে ডেটা এন্ট্রির সময় অনেক নামজারি খতিয়ান অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নামজারি খতিয়ান না থাকায় সংশ্লিষ্ট ভূমির মালিকানা ও নামজারি সংক্রান্ত তথ্য অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে যথাযথভাবে এন্ট্রি ও সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এতে ভূমিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। পরিপত্রে বলা হয়েছে, যেসব ভূমি অফিসে নির্দিষ্ট নামজারি খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু সংশ্লিষ্ট নামজারি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণ হিসেবে রেজিস্টার ২ ও ৯, নামজারির প্রস্তাবপত্র এবং নামজারি মামলার সংশ্লিষ্ট নথি রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন করতে হবে। পাঁচ পরিস্থিতিতে করণীয় ক. নামজারি নথি ও স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র, রেজিস্টার ৯ ও ২ আছে, কিন্তু খতিয়ানের কপি নেই ১. এক্ষেত্রে উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিসে কোনো নামজারি খতিয়ান পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি চিহ্নিত করে প্রস্তাবপত্র শনাক্ত করতে হবে। ২. এরপর সংশ্লিষ্ট নামজারি প্রস্তাবপত্রের তথ্য নামজারি মামলার নথির আদেশপত্র ও রেজিস্টার ৯ এ সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. কোনো সন্দেহ দেখা দিলে ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেজিস্টার ২ থেকে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। ৪. সব তথ্য যাচাই করে খতিয়ানের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে। ৫. রেজিস্টার ২ ও ৯ এর সংশ্লিষ্ট অংশ এবং নামজারির প্রস্তাবপত্র স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। ৬. এন্ট্রিকৃত খতিয়ান প্রিন্ট করে পুনরায় যাচাই করতে হবে। এরপর বর্তমানে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয়ন দিয়ে সই করবেন। প্রত্যয়নে বলা হবে, খতিয়ানটি পাওয়া না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও রেজিস্টারের ভিত্তিতে দাপ্তরিক প্রয়োজন, ভূমিসেবা সিস্টেমে ডেটা এন্ট্রি ও নাগরিকদের ভূমিসেবা দেওয়ার স্বার্থে পুনঃসৃজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে মূল খতিয়ান পাওয়া গেলে সেটিই প্রতিস্থাপিত হবে। ৭. প্রিন্ট করা খতিয়ানের এক কপি সংশ্লিষ্ট নামজারি নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। ৮. এভাবে পুনঃসৃজিত ১০০ বা ২০০টি খতিয়ানের কপি একসঙ্গে বাঁধাই করে রাখতে হবে। খ. নামজারি নথি, স্বাক্ষরিত প্রস্তাবপত্র ও রেজিস্টার ৯ আছে, কিন্তু খতিয়ানের কপি ও রেজিস্টার ২ নেই ১. এক্ষেত্রে প্রথম পরিস্থিতির ৩ নম্বর ছাড়া অন্যান্য নির্দেশনা অনুসরণ করে সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ২. সব কার্যক্রম শেষে রেজিস্টার ২ হালনাগাদ করতে হবে। গ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু রেজিস্টার ২ ও ৯ রয়েছে ১. প্রথমে রেজিস্টার ৯ এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ২. এরপর ভূমি অফিসে সংরক্ষিত রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রেজিস্টার ২ থেকে খতিয়ান নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। ৩. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৪, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ঘ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, রেজিস্টার ২-এ কোনো তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার ৯-এ রয়েছে ১. প্রথমে রেজিস্টার ৯ এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে আর অগ্রসর না হয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তথ্য সঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। ২. ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যেতে পারে। ৩. ভূমি মালিকের কাছ থেকে খতিয়ানের কপি পাওয়া গেলে এবং তা সঠিক থাকলে সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে। ৪. খতিয়ানের কপি পাওয়া না গেলে রেজিস্টার ৯-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে ওই তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছকে খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে। ৫. রেজিস্টার ৯ এর সংশ্লিষ্ট অংশ স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। ৬. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। ৭. সব কার্যক্রম শেষে রেজিস্টার ২ হালনাগাদ করতে হবে। ঙ. নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, রেজিস্টার ৯-এ তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার ২-এ রয়েছে ১. প্রথমে রেজিস্টার ২-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সন্দেহ দেখা দিলে আর অগ্রসর না হয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তথ্য সঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যেতে হবে। আরও পড়ুন যৌথ খতিয়ানে ভূমি উন্নয়ন কর নিয়ে হয়রানি নিরসনে ৬ নির্দেশনা ২. ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না তা জানতে হবে। ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ এবং খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যেতে পারে। ৩. খতিয়ানের কপি পাওয়া গেলে যাচাই করে সঠিক থাকলে সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে। ৪. খতিয়ানের কপি পাওয়া না গেলে রেজিস্টার ২-এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে ওই তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছকে খতিয়ানটি সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভেলিডেট করতে হবে। ৫. রেজিস্টার ২ এর সংশ্লিষ্ট অংশ স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করতে হবে। ৬. এরপর প্রথম পরিস্থিতির ৬ ও ৮ নম্বর নির্দেশনা অনুসরণ করে বাকি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। সন্দেহ থাকলে অনুমান করে তথ্য যোগ নয় পরিপত্রে বলা হয়েছে, কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে সন্দেহ, অসামঞ্জস্যতা বা ঘাটতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নথি ও রেজিস্টার পুনরায় যাচাই করতে হবে। যেসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য বা সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে অনুমান করে কোনো তথ্য সংযোজন করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান পুনঃসৃজনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। খতিয়ান পুনঃসৃজনের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন করে নামজারি অনুমোদন বা নতুন স্বত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না। এটি আগে অনুমোদিত নামজারির খতিয়ান পুনঃসৃজন হিসেবে বিবেচিত হবে। যেসব ক্ষেত্রে খতিয়ান নম্বর পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখা ৩ এর ১৪ মে ২০২৬ তারিখের ১২৮ নম্বর পরিপত্র অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর দিতে হবে। কোনো নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজনের আগে নিশ্চিত হতে হবে, ওই খতিয়ানটি আগে অন্য কোনো নম্বরযুক্ত খতিয়ান হিসেবে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে সন্নিবেশিত হয়নি। দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিজ নিজ উপজেলা বা সার্কেল ভূমি অফিস এবং আওতাধীন ইউনিয়ন বা পৌর ভূমি অফিসে এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পরিপত্র জারির দুই মাসের মধ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হিসেবে খতিয়ান পুনঃসৃজনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে পরিচালিত এ কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন। উল্লিখিত ক্র্যাশ প্রোগ্রাম যথাযথভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক আওতাধীন দপ্তরের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ও কম ব্যস্ত কর্মচারীদের মধ্য থেকে অস্থায়ী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা, সার্কেল, ইউনিয়ন ও পৌর ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত জনবল পদায়ন করবেন। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প এবং যুগ্মসচিব, ডিকেএমপি, ভূমি মন্ত্রণালয় এ কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয় করবেন। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প খতিয়ান পুনঃসৃজনের জন্য সিস্টেমে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা বা ফিচার সংযোজনের ব্যবস্থা করবেন। পরিপত্রে বলা হয়েছে, এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো আগে নামজারি সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু বর্তমানে খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না বা সংরক্ষিত নেই, এমন নামজারি খতিয়ান বিদ্যমান তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুনঃসৃজন করে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে এন্ট্রি করা। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ভূমি মালিক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে ভূমিসেবা দেওয়া সম্ভব হবে। আরএমএম/এএমএ
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্প। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশের ২৬ জেলার অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটাবে। এটা খুব আধুনিক প্রযুক্তি। এর বাস্তবায়ন হলে কৃষি বিপ্লব হবে এবং এখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। আর এর মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে মাছের উৎপাদন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলার পাংশার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার সময় এই প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা করা হয়েছে। আজকে ২০২৬ সালে এসে তা বাস্তবায়ন করার জন্য একনেকে পাস করানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে আপনাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন, আজকে তার নেতৃত্বেই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসের যে কোনো সময়ে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজের উদ্বোধন করবেন। পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প ম্যাপ/ ছবি: জাগো নিউজ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছি। আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা বাস্তবায়ন হবে। সেই জন্য মাঠের কারিগরি সমীক্ষা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বিশেষ টিম আমাদের সঙ্গে এসেছে। এটি আমাদের দেশীয় অর্থে সাত বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের এমপি হারুন অর রশিদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি আসলাম মিয়াসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৩ মে একনেক সভায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে স্বাদু পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যারাজটি দুই দশমিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারাজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ব্যারাজটি বাস্তবায়ন হলে এর সুবিধা পাবে রাজবাড়ীসহ দেশের ২৬ জেলার মানুষ। রুবেলুর রহমান/এসজেডএইচ/জেআইএম
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, চার্জার কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস হাতে নিয়ে দেখেছেন কি, কোথাও একটি ছোট ডাস্টবিনের ছবি রয়েছে এবং তার ওপর মোটা করে ক্রস চিহ্ন দেওয়া? অনেকেই এটিকে সাধারণ কোনো সতর্কতামূলক প্রতীক মনে করেন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত বার্তা। ডিভাইসের গায়ে থাকা এই চিহ্নটি মূলত জানিয়ে দেয়, পণ্যটির ব্যবহার শেষ হয়ে গেলে সেটিকে সাধারণ গৃহস্থালির আবর্জনার সঙ্গে ফেলে দেওয়া উচিত নয়। কারণ ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি সাধারণ বর্জ্যের মতো নয়। এগুলোর ভেতরে থাকা বিভিন্ন উপাদান পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং একই সঙ্গে অনেক মূল্যবান উপাদান পুনর্ব্যবহারযোগ্য। ডাস্টবিনের ওপর ক্রসের অর্থ কী? ডাস্টবিনের ওপর ক্রস দেওয়া প্রতীকটি সাধারণভাবে ডব্লিউইইই (ওয়েস্ট ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট) চিহ্ন হিসেবে পরিচিত। সহজ করে বললে, এটি একটি নির্দেশনা এই ইলেকট্রনিক পণ্যটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেলে সাধারণ ময়লার ঝুড়িতে ফেলা যাবে না। অর্থাৎ, আপনার পুরোনো মোবাইল, ল্যাপটপ, চার্জার বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক-ইলেকট্রনিক যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেলে সেটিকে নির্দিষ্ট ই-ওয়েস্ট সংগ্রহ বা পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার আওতায় দেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে পণ্যটি নিরাপদভাবে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব হয়। আরও পড়ুন ল্যাপটপের ক্ষতি না করে কিবোর্ডের ফাঁকের ধুলা পরিষ্কার করুন সহজে কেন সাধারণ ডাস্টবিনে ফেলা যাবে না? ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ভেতরে বিভিন্ন ধরনের ধাতু, প্লাস্টিক, ব্যাটারি ও অন্যান্য উপাদান থাকে। কিছু পুরোনো বা নির্দিষ্ট ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যে সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়ামের মতো ক্ষতিকর পদার্থও থাকতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ফেলে রাখা হয় বা ভুল পদ্ধতিতে ভাঙা হয়, তাহলে ক্ষতিকর উপাদান পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। মাটি ও পানিদূষণের পাশাপাশি ই-ওয়েস্টের অনুপযুক্ত ব্যবস্থাপনা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুইয়ের জন্যই সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই ডব্লিউইইই প্রতীক মূলত ব্যবহারকারীকে আগে থেকেই সতর্ক করে দেয় এই পণ্যটির জীবনচক্র শেষ হলেও এর দায়িত্ব শেষ হয়নি। ই-ওয়েস্ট আসলে কী? সহজ ভাষায়, যে বৈদ্যুতিক বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র আর ব্যবহার করা হচ্ছে না কিংবা ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে, সেটিই ই-ওয়েস্টের অংশ হতে পারে। পুরোনো স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মনিটর, প্রিন্টার, চার্জার, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, কন্ট্রোলার, ডিসপ্লে এসবই ব্যবহারের শেষে ই-বর্জ্যে পরিণত হতে পারে। শুধু বড় যন্ত্র নয়, ছোট ইলেকট্রনিক অ্যাকসেসরিজও ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় আসতে পারে। শুধু ফেলে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয় একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস নষ্ট হওয়ার পর সেটিকে সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে দিলে সমস্যাটি চোখের আড়ালে চলে যায়, কিন্তু শেষ হয় না। বরং বর্জ্যটি কোথায় যাচ্ছে এবং কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে সংগ্রহ করা হলে ই-ওয়েস্ট থেকে বিভিন্ন উপাদান আলাদা করে পুনর্ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে একদিকে পরিবেশের ওপর চাপ কমে, অন্যদিকে কিছু মূল্যবান কাঁচামালও পুনরুদ্ধার করা যায়। এই কারণেই অনেক দেশে পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, কোথাও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আবার কোথাও অনুমোদিত রিসাইক্লিং সংস্থা এই কাজ করে থাকে। সব দেশে কি একই নিয়ম? না। ডব্লিউইইই প্রতীক আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হলেও ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার আইন ও বাস্তবায়ন দেশভেদে আলাদা। ইউরোপে এই প্রতীক বিশেষভাবে পরিচিত এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় পর্যায়ে একই ধরনের একক বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নেই। তবে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, শহর ও স্থানীয় প্রশাসনের নিজস্ব ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং কর্মসূচি ও আইন রয়েছে। ফলে সেখানে পুরোনো ইলেকট্রনিক পণ্য পুনর্ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও নিয়ম স্থানভেদে আলাদা হতে পারে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ পুরোনো গ্যাজেট কী করবেন? আপনার ফোন, ল্যাপটপ বা চার্জার নষ্ট হয়ে গেলে সরাসরি বাড়ির ময়লার ঝুড়িতে না ফেলে আগে স্থানীয়ভাবে ই-ওয়েস্ট সংগ্রহের ব্যবস্থা আছে কি না খোঁজ নেওয়া ভালো। অনেক ক্ষেত্রে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা অনুমোদিত রিসাইক্লিং কেন্দ্র পুরোনো ডিভাইস সংগ্রহ করে। বিশেষ করে পুরোনো ফোন বা কম্পিউটার দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা, প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ নেওয়া এবং ডিভাইসে থাকা অ্যাকাউন্ট থেকে সাইন-আউট করাও জরুরি। তাই পরেরবার স্মার্টফোনের পেছনে, চার্জারের গায়ে কিংবা ল্যাপটপের নিচে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্নটি দেখলে সেটিকে নিছক একটি লোগো ভাববেন না। ছোট্ট এই প্রতীক আসলে মনে করিয়ে দেয় ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার শেষ হলেও তার সঠিক নিষ্পত্তির দায়িত্ব শেষ হয় না। কেএসকে