মাত্র ৩৬০ টাকা পুঁজি নিয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু করেছিলেন সিল তৈরির কাজ। সেই ছোট উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে সফল ব্যবসায়। ‘বেঙ্গলস সিগনেচার’ নামে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানে সিল তৈরি ও বিক্রি করে বর্তমানে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দম্পতি এস এম রিজন ও রিসা আফরিন। নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি তাদের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ১৫ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ।
এস এম রিজন ও রিসা আফরিনের যাত্রার শুরু ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। ঢাকা থেকে কিছুসংখ্যক সিল তৈরি করে এনে অর্ডার নিতে শুরু করেন তারা। বিভিন্ন ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপ এবং অফলাইনে পরিচিতজনদের কাছ থেকে অর্ডার সংগ্রহ করতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পান কাঙ্ক্ষিত সাড়া। কিন্তু তখন তারা ছিলেন অনেকটাই এলোমেলো অবস্থায়। একদিকে বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না, অন্যদিকে জানতেন না কীভাবে সিল তৈরি করতে হয় কিংবা কোথা থেকে এর কাঁচামাল সংগ্রহ করতে হয়।
এস এম রিজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং রিসা আফরিন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত। সবার থেকে আলাদা ও ভিন্ন কিছু করার তীব্র বাসনা, মনের মধ্যে বুনতে থাকা স্বপ্ন এবং আত্মবিশ্বাস থেকেই ছোট পরিসরে কাজ শুরু করেন তারা। ক্রেতাদের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শুরুতে অল্প টাকা আয় হলেও ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে সিল তৈরি ও বিক্রি করে প্রতিমাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করছেন এই দম্পতি।
‘প্রথমদিকে পড়াশোনার কথা চিন্তা করে আমি ওর এই উদ্যোগকে সেভাবে সমর্থন করিনি। আমার কাছে লেখাপড়াটাই আগে ছিল। তবে এখন ও পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোগটিও চালিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। ছেলের সাফল্যে আমিও খুব আনন্দিত। লেখাপড়ার ক্ষতি না করে যদি নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই ভালো লাগে। ভবিষ্যতে ও কী করবে, সেটা ওর নিজের পছন্দ। ও যে কাজ করে খুশি থাকবে এবং ভালো থাকবে, সেটাই আমি চাই।’
রিজন ও রিসা বুকভরা স্বপ্ন ও দৃঢ় সাহস নিয়ে শুরু করেন সিল-অর্থাৎ দাফতরিক কাজে ব্যবহৃত মোহর-তৈরির কাজ। ব্যর্থতার বেড়াজাল ও নানা সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আজ তারা ‘বেঙ্গলস সিগনেচার’ নামে গড়ে তুলেছেন সিল তৈরি ও প্রদর্শনীর শোরুম। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দেশব্যাপী সাড়া ফেলেছে। মানসম্মত পণ্য ও চমৎকার ডিজাইনের কারণে অনলাইন ও অফলাইনে ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী সিল পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

তবে এই যাত্রায় অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বড় বাধা ছিল পরিবার। রিজনের বাবা ছিলেন এমন ব্যবসার ঘোর বিরোধী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছেলে সিল তৈরি করবেন-বিষয়টি তার কাছে ছিল চরম দৃষ্টিকটু। তবে মায়ের মানসিক সমর্থন এবং বড় ভাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া কিছু অর্থ তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। পরে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে চীন থেকে সিল তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করেন তারা। একই সঙ্গে মনোযোগ দেন কাজ শেখার দিকে। প্রথম দিকে কিছুটা লোকসানও হয়। অনেক সামগ্রী নষ্ট হলেও ধীরে ধীরে কাজ শিখে একটি আধাপাকা টিনের দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তারা। সেই ছোট পরিসরের উদ্যোগই এখন বড় হয়েছে। বর্তমানে পদ্মা আবাসিক এলাকায় অফিস নিয়ে পুরোদমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা।
নিজেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে ১৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন এই দম্পতি। রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম হওয়ায় বেঙ্গলস সিগনেচারে কাজের সুযোগ পেয়ে খুশি কর্মরত শিক্ষার্থীরাও। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। সব খরচ বাদ দেওয়ার পরও রিজনের মাসিক আয় হচ্ছে প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ টাকা।
‘রাজশাহীতে আসার পর প্রায় এক বছর চাকরি খুঁজেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে পার্টটাইম কাজের সুযোগ কম হওয়ায় বেঙ্গলস সিগনেচারে কাজের সুযোগটি আমার জন্য ভালো একটি অপরচুনিটি। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি। ভবিষ্যতে করপোরেট সেক্টরে যেতে চাই, তাই এই অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় রিজন-রিসা দম্পতির সঙ্গে। তারা জানান, গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে ভিন্ন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তাদের ব্যবসার চিন্তা আসে। এমন কিছু নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন, যা একদিকে মানুষের প্রয়োজন মেটাবে, অন্যদিকে শৌখিন ও ব্যতিক্রমী হবে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে তারা লক্ষ্য করেন, অনলাইনে ভালো মানের কাস্টম সিল সরবরাহ করে-এমন নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা খুবই কম। সেখান থেকেই আমরা ফ্ল্যাশ সিল নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিই এবং লক্ষ্য ঠিক করে ধীরে ধীরে কাজ শুরু করি।
তারা আরও বলেন, শুরুতে আমাদের এ ধরনের ব্যবসা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণাই ছিল না। কীভাবে কাজ করতে হবে, কীভাবে পণ্য তৈরি করতে হবে কিংবা কাস্টমারের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হবে-এসব কিছুই ধীরে ধীরে শিখেছি। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি এবং সময়ের সঙ্গে নিজেদের কাজকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে আমরা একটি অবস্থানে আসতে পেরেছি।

এ দম্পতি বলেন, বর্তমানে বেঙ্গলস সিগনেচারের মাধ্যমে আমরা সারাদেশে ফ্ল্যাশ সিল পৌঁছে দিচ্ছি। সিল আমাদের কাছে শুধু একটি প্রয়োজনীয় পণ্য নয়, এটি অনেকটা শৌখিন প্রোডাক্টও। তাই প্রতিটি কাস্টমারের চাহিদা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে সিল তৈরির চেষ্টা করি। আমরা চাই, একটি সিল দেখলেই যেন বোঝা যায়-এটি একজন শৌখিন মানুষের চিন্তা, রুচি ও মনন থেকে তৈরি।
‘আমি এখানে প্রায় আট মাস ধরে কাজ করছি। এটি আমার প্রথম চাকরি। এখানে আসার আগে আমার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথমবার ইন্টারভিউ দিতে এসে ফ্রেশার হিসেবে কাজের সুযোগ পাই। শুরু থেকেই এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম, তাই বেঙ্গলস সিগনেচারে কাজের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য খুবই ভালো একটি অভিজ্ঞতা ও সুযোগ।’
কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে তারা বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বর্তমানে ১৫ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একটি ছোট উদ্যোগ থেকে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারাটাই আমাদের কাছে অনেক বড় অর্জন ও আনন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে বেঙ্গলস সিগনেচারকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য আরও মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় পণ্য দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

বেঙ্গলস সিগনেচারের জুনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ দিশামনি বলেন, আমি এখানে প্রায় আট মাস ধরে কাজ করছি। এটি আমার প্রথম চাকরি। এখানে আসার আগে আমার কোনো কাজের অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথমবার ইন্টারভিউ দিতে এসে ফ্রেশার হিসেবে কাজের সুযোগ পাই। শুরু থেকেই এখানে কাজ করতে গিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য পার্টটাইম কাজের সুযোগ তুলনামূলক কম, তাই বেঙ্গলস সিগনেচারে কাজের সুযোগ পাওয়া আমার জন্য খুবই ভালো একটি অভিজ্ঞতা ও সুযোগ।
বেঙ্গলস সিগনেচারের ক্রিয়েটিভ হেড লক কাউসার বলেন, বর্তমানে আমি বেঙ্গলস সিগনেচারে কনটেন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছি এবং পাশাপাশি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা বিষয়ে ফাইনাল ইয়ারে পড়ছি। বেঙ্গলস সিগনেচারের সঙ্গে আমার প্রায় দেড় বছরের পথচলা। রাজশাহীতে টিউশন পাওয়া কঠিন, পেলেও আয় তুলনামূলক কম। তাই প্রায় দেড় বছর আগে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে এখানে কাজ শুরু করি। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে আজকের অবস্থানে এসেছি। নিঃসন্দেহে বেঙ্গলস সিগনেচার আমার জন্য একটি লাইফ চেঞ্জিং অভিজ্ঞতা।
তিনি আরও বলেন, এখানে ডিজাইন, কনটেন্ট, সেলস, ম্যানেজমেন্ট ও প্রোডাকশনসহ বিভিন্ন টিম সমন্বয় করে কাজ করে। কোনো একটি টিমে ঘাটতি থাকলে অন্য টিমগুলো সহযোগিতার মাধ্যমে তা পূরণ করার চেষ্টা করে। এই টিমওয়ার্কের পরিবেশই আমাদের কাজকে আরও সহজ ও গতিশীল করেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি বেঙ্গলস সিগনেচারে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করছেন রায়হান আহমেদ।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে আসার পর প্রায় এক বছর চাকরি খুঁজেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে পার্টটাইম কাজের সুযোগ কম হওয়ায় বেঙ্গলস সিগনেচারে কাজের সুযোগটি আমার জন্য ভালো একটি অপরচুনিটি। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করার পাশাপাশি এখানে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছি। ভবিষ্যতে করপোরেট সেক্টরে যেতে চাই, তাই এই অভিজ্ঞতা আমার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পড়াশোনার ক্ষতি হবে ভেবে প্রথমে সমর্থন না করলেও এখন ছেলের সাফল্যে খুশি রিজনের বাবা ড. মো নিজাম উদ্দিন।
তিনি বলেন, প্রথমদিকে পড়াশোনার কথা চিন্তা করে আমি ওর এই উদ্যোগকে সেভাবে সমর্থন করিনি। আমার কাছে লেখাপড়াটাই আগে ছিল। তবে এখন ও পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোগটিও চালিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি। ছেলের সাফল্যে আমিও খুব আনন্দিত। লেখাপড়ার ক্ষতি না করে যদি নিজের উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই ভালো লাগে। ভবিষ্যতে ও কী করবে, সেটা ওর নিজের পছন্দ। ও যে কাজ করে খুশি থাকবে এবং ভালো থাকবে, সেটাই আমি চাই।
এনএইচআর/জেআইএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানী ঢাকায় অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৬ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এদের মধ্যে ১২২ জনই মিরপুরের। অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। অভিযানে রমনা বিভাগ ২৭ জনকে, লালবাগ বিভাগ ২৯ জন, ওয়ারী বিভাগ ৬২ জন, মতিঝিল বিভাগ ৬৯ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৭০ জন, মিরপুর বিভাগ ১২২ জন, গুলশান বিভাগ ৪৮ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৮ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ একজনকে গ্রেফতার করে। অভিযানে ৩৬ কেজি ২৯০ গ্রাম গাঁজা, ৯২ বোতল ফেনসিডিল, ১৪৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ গ্রাম হেরোইন, একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, সাতটি মোবাইলফোন, একটি ইয়াবা সেবনের পাইপ, দুটি ফয়েল পেপার, তিনটি গ্যাস লাইট, ২০০টি ইলাস্টিক বেল্ট ও নগদ ৮ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। কেআর/বিএ
চলতি মৌসুমের ভরা বাজারে পাটের ভালো দামে গাইবান্ধার কৃষকের মুখে ফিরেছে হাসি। চাষিদের দাবি, অন্তত গত এক দশকে ভরা মৌসুমে পাটের এমন দাম পাননি তারা। উৎপাদন খরচ মিটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখায় দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখছেন পাটচাষিরা। তবে ভালো দাম পাওয়ার এই স্বস্তির মধ্যেও তাদের শঙ্কা কাটেনি বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে। জেলার উল্লেখযোগ্য গাইবান্ধার সদর উপজেলার কামারজানি ও ফুলছড়ি উপজেলার ‘ফুলছড়ি’ হাটে গিয়ে দেখা যায়, উৎসব মুখর পরিবেশে চলছে পাটের বেচা-কেনা। ভোর-সকাল থেকেই নৌকায় করে পাট বিক্রি করতে আসছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। হাটের মাঠের পাশাপাশি নৌকাতেও চলছে ক্রয়-বিক্রয়। এসময় হাসি-খুশি মুখ দেখা যায় কৃষকদের। কৃষকরা প্রশ্নের জবাবও দেন প্রাণোচ্ছল ভাবেই। হাটে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে নিম্নে তিন হাজার ৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ চার হাজার ১০০ টাকায়। যা গেল অন্তত ১০ বছরের মধ্যে পাটের ভরা মৌসুমের সর্বোচ্চ মূল্য বলে জানান কৃষকরা। ‘গাইবান্ধায় বর্তমানে পাটের বাজার ভালো। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’ অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি, উড়িয়া, ফজলুপুর ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাট শুকানো ও পরিষ্কারের কাজ করছেন চাষিরা। কেউ কেউ প্রস্তুত করছেন বিক্রির জন্যও। অনেক কৃষক পাট ও পাটকাঠি শুকাচ্ছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে। এসময় পাট নিয়ে স্বপ্নবোনা কৃষকদের চোখে-মুখে ছিল হাসির ঝিলিক। এবার লাভের ভাগে। আরও পড়ুন পড়াশোনার ফাঁকে ৩৬০ টাকায় শুরু, এখন মাসে আয় ৩ লাখ পাটচাষিরা জানান, গত কয়েক বছর থেকেই পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার হতাশা থাকলেও এবছর লাভের মুখ দেখছেন। তিন হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকা পাটের দাম তারা অন্তত ১০ বছরের মধ্যে পাননি। আর এ বছর পাল্টে গেছে সেই চিত্র। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি এলাকার পাট চাষি হুমায়ন মিয়া বলেন, এ বছর পাটের বাজার ভালো। চাষের খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হবে। অন্যান্য বছর দাম না পাওয়া অনেক কৃষক পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে ছিল। আরেক চাষি ঈসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অন্যান্য বছরেও পাটের এমন দাম গেলেও তা কৃষকের ভাগ্যে জোটেনি। কৃষকের হারভাঙা খাটুনিতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য কেড়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট। কেননা, ভরা মৌসুমের যে সময়ে কৃষকরা পাট বিক্রি করেন ঠিক সেই সময়ে মিল মালিকরা কম দাম ছাড়া পাট ক্রয় করেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অর্ধেক দামে পাট বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। ‘দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষকরা। কৃষিনির্ভর এ জেলায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে কৃষককে আগে বাঁচাতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করলো, তারা চাষাবাদে আগ্রাহ বাড়াবে।’ ফুলছড়ির হাটে পাট বিক্রি করতে আসা ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকার পাটচাষি আব্দুস সালাম বলেন, এবার পাটের দামে আমরা খুশি। এমন বাজার থাকলে আমরা পাটের আবাদ করবো। আরেক কৃষক আবেদ আলী ব্যাপারি বলেন, সব খরচ বাদে এবার লাভ হচ্ছে কৃষকদের। ভরা বাজারে গত ১০ বছর পর এমন দাম পাচ্ছি আমরা। তবে এই দাম কতদিন থাকবে সেটি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। জামালপুরের ঘুটাইল বাজার থেকে আসা পাইকারি পাট ক্রেতা খোরশেদ আলম বলেন, সবচেয়ে ভালো মানের পাট ক্রয় করা হচ্ছে ৪ হাজার ৫০ থেকে ১০০ টাকায়, মাঝারি মানের পাট ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার আর তুলনামূলক নিম্নমানের পাট ক্রয় করছি ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। এবছর পাটের দাম অনেক ভালো। ফুলছড়ি হাটে পাট বিক্রি করতে আসা পাটচাষি আলফাজ আলী বলেন, এবছর এখন বাজারে দাম ভালো, কিন্তু এমন ভরা মৌসুমে পাটের এই দাম ছিল না দীর্ঘদিন। বাধ্য হয়ে মাত্র ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাট বিক্রি করতে হয়েছে আমাদের। আর বিক্রির কয়েক সপ্তাহ পরেই দেখা যায় সেই পাটই হাটে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে। মৃদু বাড়ছে পাটচাষ, আগের পরিসংখ্যান বহুদূর গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী জেলায় পাট চাষাবাদের ৫ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছর ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটচাষ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর এবং গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে ২৭ হেক্টর বৃদ্ধি পেয়ে পাটচাষ হয়েছিলো ১৩ হাজার ৮১৭ হেক্টর জমিতে। কিন্তু তার আগের বছরগুলোতে ভয়াবহভাবে কমেছে পাটের আবাদ। আরও পড়ুন রেমা-কালেঙ্গা গহিন অরণ্যে গাছের মগডালে বিরল প্রাণী, মুগ্ধ পর্যটকরা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সালে জেলার সাত উপজেলায় ১৬ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে বিস্ময়করভাবে ১ হাজার ৪০০ হেক্টর কমে গিয়ে তা ১০ হাজার ৫০০ হেক্টরে নামে এবং ২০২৪ সালে আরও ১ হাজার ২১০ হেক্টর কমে জেলায় ১৩ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়। ‘আমরা চরের মানুষ এই মৌসুমে চরাঞ্চলে পাট ছাড়া কোনো আবাদ হয় না। বাধ্য হয়ে পাটই করতে হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটে না ভাঙলে কৃষকদের বাঁচানো সম্ভব নয়। পাটচাষে একদিকে আবার বন্যাসহ নানা ঝুঁকি, অন্যদিকে বাজারে সিন্ডিকেট। সরকারের উচিৎ কৃষকদের পক্ষে থেকে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।’ এছাড়া অন্যদিকে, চলতি বছরসহ কোনো বছরই চাষাবাদে এবং পাট উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। যদিও সার-বীজের সরকারি প্রণোদনা কার্যক্রম সচল রেখেছে সরকার। চলতি বছর ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে পাট। এর বিপরীতে উৎপাদন ধরা হচ্ছে ৩৪ হাজার ৯৮৭ টন। এছাড়া এবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৮ হেক্টর জমির ফসল। স্থানীয় কৃষকরা জানান, বন্যা-খরাসহ নানা দুর্যোগের ঝুঁকি, হারভাঙ্গা খাটুনি আর ধার-দেনা করে পাট চাষ করেন কৃষকেরা। আর তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম নির্ধারণ করেন পাটকল মালিক, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটরা। যার কারণে প্রায় বছরই পাট চাষে পুঁজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। ফলে চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়েছেন অনেক স্থানীয় কৃষক। যদিও গেল দুবছর থেকে আবার ধীর গতিতে বাড়ছে পাটের আবাদ। ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর রসূলপুরের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, যখন এই অঞ্চলের শতকরা ৯০ ভাগ কৃষকের ঘরে পাট থাকে না তখন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পাট ক্রয় করেন। ফলে লাভবান হয় মিল মালিক ও মধ্যসত্বভোগীরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা কৃষকরা। তবে এবছর পাল্টেছে সেই চিত্র। এসময় তিনি বর্তমান বাজার ধরে রাখতে সরকারের প্রতি আবেদন জানান। খোলাবাড়ির কৃষক জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, পাটচাষিদের পাটকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে সব হিসাব। তারা ভরা মৌসুমেপাট বিক্রি করে সংসারের ব্যয়, ধার-দেনা পরিশোধসহ সাংসারিক যাবতীয় কাজ করেন। কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পেতে এবছরের মতো সব সময়ই শুরু থেকেই পাট ক্রয়-বিক্রয়ে সরকারের নজরদারি করতে হবে। ঝিগাবাড়ী চরের পাটচাষি জিয়ারত উদ্দিন বলেন, আমরা চরের মানুষ এই মৌসুমে চরাঞ্চলে পাট ছাড়া কোনো আবাদ হয় না। বাধ্য হয়ে পাটই করতে হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটে না ভাঙলে কৃষকদের বাঁচানো সম্ভব নয়। পাটচাষে একদিকে আবার বন্যাসহ নানা ঝুঁকি, অন্যদিকে বাজারে সিন্ডিকেট। সরকারের উচিৎ কৃষকদের পক্ষে থেকে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। ফুলছড়ি হাটের পাট ব্যবসায়ী কাজল বলেন, স্টোকাররা ভালো মানের পাট মণপ্রতি ৪ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত কিনছেন। ফলে কৃষক এবছর লাভবান হচ্ছেন। আরও পড়ুন শেরপুরে সবজিতে নীরব বিপ্লব, ২৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা তিনি আরও বলেন, মিলাররা এই দামে পাট কিনছে না, ফলে আমরাও কিনতে পারছি না। এসময় সিন্ডিকেট প্রশ্নে পাট ব্যবসায়ী কাজল বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে পাট ক্রয় করি ঠিকই। আমরা নিজেরা দাম নির্ধারণ করি না। আমাদেরকে পাটকল মিল মালিকরা যে দামে কিনতে বলেন, সেই দামেই পাট কিনতে হয়। এখানে আমাদের কিছু নেই। গাইবান্ধা নাগরিক মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি কৃষকরা। কৃষিনির্ভর এ জেলায় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে কৃষককে আগে বাঁচাতে হবে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করলো, তারা চাষাবাদে আগ্রাহ বাড়াবে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পাট কেনা হচ্ছে না। ফলে লাভবান হচ্ছেন ফড়িয়া-পাইকারেরা। হাটে-হাটে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র খুলে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনা হলে কৃষকরা অবশ্যই লাভবান হবেন। এছাড়া সরকারি পাটকলগুলো চালু এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়াসহ পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারে প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় এই সোনালী আঁশে (পাট চাষে) আগ্রহ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, গাইবান্ধায় বর্তমানে পাটের বাজার ভালো। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এনএইচআর
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিশালী হয়ে উঠলে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতির পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এমনকি মানবজাতির বিলুপ্তিও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এআই প্রযুক্তির অন্যতম পথিকৃৎ জিওফ্রি হিন্টন। এআইয়ের গডফাদার হিসেবে পরিচিত জিওফ্রি হিন্টনের মতে, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য এআই প্রযুক্তি তৈরির বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি। তাই এখনই অতিবুদ্ধিমান এআই বা অতিমানবীয় বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এআই তৈরির পথে এগোনো উচিত নয়।জিওফ্রি হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এআই প্রযুক্তির বর্তমান বিকাশে তাঁর গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে তাঁকে এআইয়ের গডফাদার বলা হয়। তবে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রযুক্তির ঝুঁকি নিয়েও বারবার সতর্ক করেছেন তিনি।অতিবুদ্ধিমান এআই বলতে এমন একধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে বোঝানো হয়, যা বুদ্ধিমত্তা ও সক্ষমতার দিক থেকে যেকোনো মানুষ, প্রতিষ্ঠান; এমনকি একটি দেশের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। হিন্টনের আশঙ্কা, মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান এআইয়ের ওপর একবার নিয়ন্ত্রণ হারালে সেটিকে আবার নিয়ন্ত্রণে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়তে পারে। হিন্টনের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাজ্যে অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন কন্ট্রোলএআইয়ের সহায়তায় তৈরি ‘ইউকে আর্টিফিশিয়াল সুপারইন্টেলিজেন্স সিকিউরিটি’ নামের বিলটি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবেন লেবার পার্টির সংসদ সদস্য অ্যালেক্স সোবার। কন্ট্রোলএআইয়ের তথ্যমতে, এআইয়ের সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে হলে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাগুলোর ওপর বাধ্যতামূলক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন।অবশ্য এআই খাতের সবাই এমন কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে নন। ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন। যদিও এআই প্রযুক্তির বিকাশের শুরুর দিকে তিনি এই খাতের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন।সূত্র: ডেইলি মেইল