এখন চলছে ২০২৬ সাল। যেসময় হাতে স্মার্টফোন, ডিজিটাল টাকা, এক ক্লিকেই পৃথিবীর খবর সামনে চলে আসে, এআইয়ের বিশ্বজয়। হঠাৎ একদিন চোখ খুলে দেখলেন-আপনি ফিরে গেছেন ১৯৮০-এর দশকে। যেসময় ইন্টারনেট নেই, স্মার্টফোন নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নেই। আপনার জন্মই হয়তো তখনো হয়নি। অথচ আপনার কাছে জানা আছে আগামী চার দশকে পৃথিবী কীভাবে বদলাবে। তাহলে প্রথম কাজটা কী করবেন?
সম্ভবত প্রথমেই একটু হতবাক হয়ে চারপাশ দেখবেন। তারপর শুরু হবে হিসাব-নিকাশ। কোরিয়ান ও চাইনিজে এমন ফ্যান্টাসি ড্রামা আছে যেখানে ছেলেমেয়েরা টাইম ট্রাভেল করে গিয়ে নিজেদের বাবা-মার ভুল শুধরে দেন, বিশেষ করে জীবন সঙ্গী, এতে তাদের আর বর্তমানে অস্তিত্ব থাকে না। এগুলো যদিও শুধুই কল্পনা, বাস্তবে যা সম্ভব না।
আচ্ছা আপনি টাইম ট্রাভেল করে ৮০-র দশকে গেলে কী করবেন, এখনকার দুনিয়া সম্পর্কে তো জানা আছে। তাহলে আসুন কয়েকটি বিষয়ে ভাবা যাক-
যদি অতীতের তথ্য আপনার মনে থাকে, তাহলে বিনিয়োগের চিন্তা আসবেই। আজকের দিনে সোনার মূল্য কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, জমির দাম কীভাবে বেড়েছে এসব জানেন আপনি। তাই ৮০-র দশকে ফিরে গেলে হয়তো সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা কিনে রেখে দেওয়ার কথা ভাববেন। একইভাবে শহর বা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে এমন এলাকায় জমি কেনার সুযোগও হাতছাড়া করতে চাইবেন না।
তবে এখানেও একটা বড় সমস্যা আপনি ২০২৬ সালের মানুষ হলেও ১৯৮০-র দশকে আপনার কাছে সেই সময়ের অর্থ, পরিচয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রমাণ থাকবে না। তাই বাস্তবে কাজটি সিনেমার মতো এত সহজ হতো না। তবু নিজের পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরি করাই হতে পারত অন্যতম লক্ষ্য।
আরেকটি সিদ্ধান্ত হতে পারে শিক্ষা। যদি জানেন আগামী কয়েক দশকে কোন কোন দেশ প্রযুক্তি, ব্যবসা বা গবেষণায় এগিয়ে যাবে, তাহলে হয়তো বাবা-মাকে বলতেন সুযোগ পেলে আমাকে বিদেশে পড়তে পাঠাও। কিংবা তাদের বিদেশ যেতে বলতে পারতেন। তবে এখানেও সময়ের বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৮০-র দশকের শিক্ষা, ভিসা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আজকের মতো ছিল না। তাই শুধু ‘ভবিষ্যৎ জানি’ বললেই সব দরজা খুলে যেত না। বরং ভালো শিক্ষা, ভাষা শেখা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং নিজের সক্ষমতা তৈরি করাকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা যেত।
এটাই সম্ভবত সবচেয়ে আবেগের জায়গা। কারণ আপনি যদি ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া মানুষ হন কিংবা ৮০-র দশকের পরে তাহলে ১৯৮০-র দশকে ফিরে গিয়ে দেখবেন আপনার বাবা-মা তখন তরুণ। হয়তো তাদের সংসার হয়নি, আপনিও পৃথিবীতে আসেননি। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে কী বলবেন?
হয়তো বলবেন ‘জীবনে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে ভেবো। শুধু সমাজ কী বলছে, সেটা দেখে বিয়ে কোরো না। নিজের পছন্দ, মানসিকতা আর মূল্যবোধকে গুরুত্ব দাও।’ কিন্তু এখানেই তৈরি হবে ভয়ংকর এক প্রশ্ন। আপনি যদি বাবা-মায়ের জীবনসঙ্গী বদলে দেন, তাহলে আপনার নিজের অস্তিত্বই হয়তো আর থাকবে না।
সময়ভ্রমণ নিয়ে তৈরি গল্পগুলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এখানেই। দক্ষিণ কোরিয়ার মাই পার্ফেক্ট স্ট্রেঞ্জার-এ অতীতে গিয়ে মায়ের জীবন ও বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার ইচ্ছা এমন এক প্রশ্ন তোলে মায়ের জীবন ভালো করতে গিয়ে যদি সন্তানটিই পৃথিবীতে না আসে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ভালো?
আবার কোরিয়ার ফ্যামিলিয়ার ওয়াইফ সিরিজের গল্পে অতীতে ফিরে গিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়া হলে পুরো বর্তমান জীবনই পাল্টে যায়। অর্থাৎ অতীতের একটি ছোট পরিবর্তনও ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।
এছাড়া চাইনিজ ড্রামা ক্লোজার টু ইউ, আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু বি ফ্রেন্ডস উইথ ইউ, বিলংড টু ইওর ওয়ার্ল্ড, লাভ আন্ডার দ্য ফুল মুন। এছাড়া কোরিয়ান সবচেয়ে জনপ্রিয় টাইম ট্রাভেল ড্রামা টুইংকিলিং ওয়াটারমেলন, যেখানে বর্তমান থেকে ছেলেতী অতীতে যায় সেখানে তার বাবা তার বর্তমান বয়সের চেয়েও ছোট। বেশ মজার একটি সিরিজ। চাইলে দেখে নিতে পারেন।
ধরুন, আপনি জানেন আপনার বাবা-মায়ের সম্পর্কের কোনো সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হবে। আপনি অতীতে গিয়ে সেটি বদলে দিলেন। কিন্তু নতুন বাস্তবতায় হয়তো তারা অন্য কাউকে বিয়ে করলেন। সেই সংসারে আপনি জন্মালেনই না।
এটিই সময়ভ্রমণের সবচেয়ে মজার ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’। আপনি যে ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে গেছেন, সেটিই আপনার পরিবর্তনের কারণে আর থাকবে না। চীনা ও কোরিয়ান ফ্যান্টাসি নাটকে এই ধরনের ‘দ্বিতীয় সুযোগ’, অতীত বদলে দেওয়া এবং সম্পর্কের সিদ্ধান্ত নতুন করে নেওয়ার গল্প বারবার ফিরে আসে। দর্শককে ভাবানো হয় অতীতের ভুল ঠিক করার সুযোগ পেলেও তার মূল্য কতটা দিতে হবে?
তাই ৮০-র দশকে সত্যিই ফিরে যেতে পারলে হয়তো সোনা, জমি কিংবা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হতে পারে বাবা-মাকে একটু বেশি সময় দেওয়া। তাদের তরুণ বয়সের গল্প শুনতেন। হয়তো তাদের যে স্বপ্নগুলো সংসার ও দায়িত্বের চাপে হারিয়ে গিয়েছিল, সেগুলো জানার চেষ্টা করতেন। তাদের বলতেন, নিজের জন্যও কিছু করতে।
আর নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে যতটা সম্ভব কম হস্তক্ষেপ করতেন। কারণ আপনি জানেন একটি সিদ্ধান্ত বদলালেই হয়তো আপনার আজকের জীবনটাই আর থাকবে না। বাস্তবে অবশ্য ২০২৬ থেকে ১৯৮০-র দশকে ফিরে যাওয়ার কোনো প্রমাণিত উপায় নেই। সময়ভ্রমণ এখানে পুরোপুরিই কল্পনা। কিন্তু এআই যখন কয়েক সেকেন্ডে আমাদের এমন একটি ছবি বানিয়ে দিতে পারে, যেখানে মনে হয় আমরা সত্যিই চার দশক আগের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে আছি, তখন সেই কল্পনাটা আরও জীবন্ত হয়ে উঠছে।
তাই এআইয়ের বানানো ছবিতে ৮০-র দশকে ফিরে গিয়ে যতই মজা করি না কেন, আসল সময়ভ্রমণ সম্ভব না হওয়াটাই হয়তো ভালো। কারণ অতীত বদলানোর চেয়ে বর্তমানটাকে একটু ভালো করে বাঁচার সুযোগ আমাদের হাতে এখনো আছে।
কেএসকে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বর্তমানে লোডশেডিং এর সমস্যা বেড়েই যাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ ফেরার অপেক্ষায় না থেকে অনেকেই জেনারেটর চালিয়ে ঘর, দোকান বা অফিসের প্রয়োজনীয় যন্ত্র সচল রাখছেন। কিন্তু সঠিক নিয়ম না মেনে জেনারেটর ব্যবহার করলে আগুন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এমনকি বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইডে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানোর পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। চলুন লোডশেডিংয়ে জেনারেটরের ব্যবহারে বিপদ এড়াতে যেসব সতর্কতা মানবেন জেনে নিন- জেনারেটর ঘরের ভেতর নয়, বাইরে রাখুন জেনারেটর ব্যবহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো এটি কখনোই ঘরের ভেতর, গ্যারেজ, বেসমেন্ট, সিঁড়িঘর বা অন্য কোনো আবদ্ধ জায়গায় চালানো যাবে না। দরজা-জানালা খোলা রাখলেও ঝুঁকি দূর হয় না। জেনারেটরের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস বর্ণহীন ও গন্ধহীন; ফলে বিপদ বুঝে ওঠার আগেই শরীরে বিষক্রিয়া হতে পারে। জেনারেটর খোলা জায়গায় ভবন থেকে অন্তত ২০ ফুট বা প্রায় ৬ মিটার দূরে রাখার পরামর্শ দেয় মার্কিন কাস্টমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (সিপিএসসি)। এর ধোঁয়ার মুখও জানালা, দরজা ও বাতাস চলাচলের পথ থেকে বিপরীত দিকে রাখতে হবে। আরও পড়ুন বারবার লোডশেডিং, তবু বিদ্যুৎ বিল বেশি? যেভাবে খরচ কমাবেন আগুন এড়াতে জ্বালানিতে সতর্কতা জেনারেটরের আশপাশে পেট্রল, ডিজেল, কাগজ, কাপড়, প্লাস্টিক বা অন্য দাহ্য জিনিস রাখা ঠিক নয়। জ্বালানি ভরার সময় জেনারেটর অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। চালু থাকা বা গরম ইঞ্জিনে কখনোই তেল বা জ্বালানি ঢালা উচিত নয়। এনএফপিএ-ও জ্বালানি দেওয়ার আগে জেনারেটর বন্ধ করে ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে। জ্বালানি সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ও উপযুক্ত কনটেইনার ব্যবহার করা জরুরি। বসতঘরের ভেতর বা আগুনের উৎসের কাছাকাছি জ্বালানি রাখা বিপজ্জনক। ভেজা জায়গায় জেনারেটর চালাবেন না বৃষ্টি বা ভেজা জায়গায় জেনারেটর চালালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই শুকনো ও সমতল জায়গায় জেনারেটর রাখতে হবে। বৃষ্টির মধ্যে চালানোর প্রয়োজন হলে প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিরিক্ত লোড দেবেন না একসঙ্গে অনেক বেশি বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর চেষ্টা করলে জেনারেটরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। ফলে তার, প্লাগ বা যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। জেনারেটরের নির্ধারিত ক্ষমতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানো উচিত। বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে সরাসরি জেনারেটর সংযোগ দেওয়াও বিপজ্জনক। এ ধরনের সংযোগের প্রয়োজন হলে যোগ্য ইলেকট্রিশিয়ানের মাধ্যমে উপযুক্ত ট্রান্সফার সুইচ বসাতে হবে। আরও পড়ুন এসির চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ বিল বাড়ায় ঘরের যেসব গ্যাজেট নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি সময়ে চালু করতে গিয়ে সমস্যা এড়াতে জেনারেটর নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা দরকার। তেল, তার, প্লাগ, সংযোগ এবং অন্যান্য অংশে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে দক্ষ মেকানিকের সাহায্য নেওয়া ভালো। বাড়িতে স্মোক অ্যালার্ম ও কার্বন মনোক্সাইড অ্যালার্ম থাকলে ঝুঁকি সম্পর্কে দ্রুত সতর্ক হওয়া যায়। অ্যালার্ম বাজলে বা জেনারেটরের কারণে মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব বা বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত খোলা বাতাসে যেতে হবে। লোডশেডিং যত দীর্ঘই হোক, কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য জীবন ও সম্পত্তিকে ঝুঁকিতে ফেলা উচিত নয়। জেনারেটর ব্যবহারের আগে নিরাপদ জায়গা, সঠিক সংযোগ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করলেই দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। কেএসকে
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে চালক গুরুতর আহত হয়ে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেন।গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার কামারখোলা এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।আহত ট্রাকচালকের নাম আজগর খন্দকার (৫৫)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা। উদ্ধারের পর তাঁকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি মোংলা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। কাভার্ড ভ্যানটিও মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। কামারখোলা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক ভেতরে আটকে পড়েন।মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম, মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি উল্টে গেলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে আহত চালককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মী জানান, চালকের বুক স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে আটকে ছিল। সাধারণভাবে তাঁকে বের করার উপায় ছিল না। উদ্ধারকারীরা বিশেষ উদ্ধারযন্ত্র আনেন। সেটা দিয়ে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি উল্টে গেলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে আহত চালককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
নতুন আইফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু ক্যামেরা, প্রসেসর বা ব্যাটারি নয়, রংও এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে প্রিমিয়াম আইফোন প্রো মডেলের ক্ষেত্রে অ্যাপল প্রতি বছরই নতুন কোনো রং নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের আইফোন ১৮ প্রো সিরিজেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এবার একেবারে নতুন বার্গেন্ডি রঙের পাশাপাশি থাকছে বেশ কিছু পরিচিত ও পরিমিত শেড। অ্যাপলের ঘোষণা অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মোট চারটি রঙে পাওয়া যাবে-ব্ল্যাক, সিলভার, গ্লেসিয়ার এবং বার্গেন্ডি। অর্থাৎ গত প্রজন্মের উজ্জ্বল কসমিক অরেঞ্জের বদলে এবার অ্যাপল তুলনামূলকভাবে পরিণত ও ক্লাসিক রঙের দিকে ঝুঁকেছে। ব্ল্যাক: চিরকালীন পছন্দ কালো রঙের আইফোন আবার প্রো সিরিজে ফিরেছে। যারা খুব বেশি নজরকাড়া রং পছন্দ করেন না, তাদের জন্য ব্ল্যাক হতে পারে সবচেয়ে নিরাপদ পছন্দ। অফিস, ব্যবসায়িক পরিবেশ কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহার সব ক্ষেত্রেই এই রং সহজে মানিয়ে যায়। গত বছরের আইফোন ১৭ প্রো-তে কালো রং না থাকায় অনেক ব্যবহারকারী হতাশ হয়েছিলেন। এবার অ্যাপল সেই জনপ্রিয় রং ফিরিয়ে এনেছে। আরও পড়ুন আইফোন ১৮ প্রো-তে ক্যামেরায় বড় চমক, ফটোগ্রাফারদের জন্য আশীর্বাদ সিলভার অ্যাপলের পরিচিত ক্লাসিক সিলভার রংও থাকছে নতুন প্রো মডেলে। অ্যাপলের প্রো সিরিজে এই ধরনের ধাতব ও পরিষ্কার লুক দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। যারা ফোনে একটু প্রিমিয়াম কিন্তু অতিরিক্ত উজ্জ্বল নয় এমন চেহারা চান, তাদের কাছে সিলভার আকর্ষণীয় হতে পারে। গ্লেসিয়ার নতুন প্রজন্মের হালকা নীল এবারের আরেকটি নজরকাড়া রং গ্লেসিয়ার। এটি মূলত হালকা নীল ধরনের একটি শেড, যা আইফোন ১৮ প্রো-এর ডিজাইনকে তুলনামূলকভাবে আধুনিক ও সতেজ চেহারা দিয়েছে। অ্যাপলের অফিসিয়াল ছবিতেও এই রংটি বেশ আলাদা করে নজরে পড়ছে। বার্গেন্ডি এবারের নতুন চমক সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে বার্গেন্ডি। এটি আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের একেবারে নতুন রং। গাঢ় লালচে-বেগুনি ধরনের এই শেডটি আগের প্রজন্মের কসমিক অরেঞ্জের তুলনায় অনেক বেশি সংযত, কিন্তু একই সঙ্গে আলাদা করে নজর কাড়ে। বাজারে আসার আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই রংকে ডার্ক চেরি বা গভীর লাল শেড হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অ্যাপলের অফিসিয়াল নাম হয়েছে বার্গেন্ডি। আরও পড়ুন অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ফোনে কী থাকছে, দাম কত? তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি সাধারণ আইফোন ১৮ প্রো-এর রং এখনো অ্যাপল ঘোষণা করেনি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাপল মূলত আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করেছে; বেস মডেল আইফোন ১৮ পরে, সম্ভাব্যভাবে ২০২৭ সালের প্রথম দিকে আসতে পারে। ফলে সাধারণ মডেলের রং নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা ঠিক হবে না। অর্থাৎ আপাতত প্রো সিরিজে চারটি অপশন ব্ল্যাক, সিলভার, গ্লেসিয়ার ও বার্গেন্ডি। এর মধ্যে নতুন বার্গেন্ডি এবং গ্লেসিয়ার-ই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়তে পারে, আর ব্ল্যাক ও সিলভার থাকছে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও চিরাচরিত পছন্দ হিসেবে। কেএসকে