বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। কেন এ সংকট তৈরি হলো? নীতি গ্রহণে কোথায় ভুল ও ব্যর্থতা ছিল? এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ কী? সংকটের সমাধানের প্রস্তাবসহকারে বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করেছেন জ্বালানিবিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলম
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের প্রয়োজন আছে। একজন বিনিয়োগকারী মূলধন বিনিয়োগ করবেন, প্রযুক্তিগত ও বাজারঝুঁকি নেবেন এবং দক্ষতার সঙ্গে সেবা দেবেন—এর বিনিময়ে তিনি ন্যায্য ও যৌক্তিক মুনাফা পাবেন। এতে আপত্তির কারণ নেই। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন বিনিয়োগকারীর মুনাফা নিশ্চিত করা হয়, কিন্তু বিনিয়োগের ঝুঁকি বহন করে রাষ্ট্র বা ভোক্তা। অর্থাৎ মুনাফা ব্যক্তির, ঝুঁকি জনগণের—এমন ব্যবস্থা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।
একটি সুস্থ বিনিয়োগব্যবস্থায় ঝুঁকি, সেবার মান, দক্ষতা ও মুনাফার মধ্যে যৌক্তিক সম্পর্ক থাকতে হয়। প্রয়োজনীয় ও দক্ষ ব্যয়ের তুলনায় প্রকৃত ব্যয় এবং মুনাফা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হলে সেই ব্যবস্থাকে লুণ্ঠনমূলক বলতেই হয়।
প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যয় অনেকটাই কমানো সম্ভব। কিন্তু জ্বালানিসেবার মূল্য যদি কেবল ‘ব্যয়+মুনাফা’ ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তাহলে ব্যয় কমানোর জন্য বিনিয়োগকারীর ওপর কোনো কার্যকর চাপ থাকে না; বরং ব্যয় যত বাড়ে, মুনাফার সুযোগও তত বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের বোঝা গিয়ে পড়ে জনগণের ওপর।
গত দেড় দশকে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় অন্যায় ও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। অস্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতাহীন চুক্তি, অসম শর্ত ও দায়মুক্তির আইনি ব্যবস্থার কারণে এ খাতে জবাবদিহি এবং দক্ষতার সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে উচ্চ ব্যয়, অদক্ষতা, অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনও (বিইআরসি) কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার, ভর্তুকি এবং সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়। বকেয়া বাড়ছে, ঋণের কিস্তি পরিশোধে রাষ্ট্রের সক্ষমতা চাপে পড়ছে। একই সময়ে প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তেমনি ভোক্তার ওপর ব্যয়ের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে।
জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তাই আমাদের চিন্তার ধরন বদলাতে হবে। শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কিংবা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখলে চলবে না। দেখতে হবে—কত ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কে সেই ব্যয় বহন করছে, বিনিয়োগের ঝুঁকি কে নিচ্ছে এবং ভোক্তা কী দামে সেবা পাচ্ছে।
ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও তা যেন জনস্বার্থ, প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। আরও জরুরি হলো, অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা। অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সুবিধা ও সুরক্ষা অব্যাহত রেখে কোনো খাতের সংস্কার সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যর্থতার দায় বহন করতে হয় সরকার ও জনগণকে।
বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিসংকটকে শুধু বিদ্যুৎ বা জ্বালানির ঘাটতি হিসেবে দেখলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। এটি একই সঙ্গে একটি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট। প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনব্যবস্থা যখন অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হয়, অদক্ষতা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সেই ব্যয়ের বোঝা ভর্তুকি কিংবা মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন জ্বালানিসংকট শেষ পর্যন্ত ‘সামর্থ্য-সংকটে’ পরিণত হয়।
ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগে মুনাফা প্রায় নিশ্চিত থাকলে ঝুঁকির ভারসাম্যও নষ্ট হয়। জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বহন করে রাষ্ট্র ও জনগণ, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি যায় ভোক্তার ওপর, আর বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা অব্যবহৃত থাকার ঝুঁকি বহন করে ইউটিলিটি। ফলে বিনিয়োগকারী অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবসায়িক ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকেন। বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি ও জ্বালানিচুক্তিতে ঝুঁকির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত না হলে এই ব্যয় সংকট মোকাবিলা করা সরকারের জন্য কঠিন হবে। আর তাতে সরকার ও জনগণের সামর্থ্যসংকট আরও গভীর হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অর্থনীতির মৌলিক অবকাঠামো। খাদ্য, পানি, পরিবহন ও যোগাযোগের মতোই মানুষের জীবন ও উৎপাদনের জন্য এটি অপরিহার্য। তাই এই খাতের প্রধান লক্ষ্য বাণিজ্যিক মুনাফা হওয়া উচিত নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হওয়া উচিত মুনাফামুক্ত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের জন্য নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা নিশ্চিত করা। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকেও এই জনস্বার্থের লক্ষ্যেই পরিচালিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন অবকাঠামো নির্মাণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এসব উদ্যোগ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় কমাবে, নাকি নতুন করে ব্যয়ের বোঝা বাড়াবে?
পরিকল্পনায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সক্ষমতা উন্নয়নে ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে। বছরে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ শতাংশ বাড়বে ধরে নেওয়া হয়েছে। খুলনা ও বরিশালে আরও দুটি এলএনজি টার্মিনাল, ভোলায় ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মাতারবাড়ী ও পায়রায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে ২০ শতাংশ স্টোরেজ সক্ষমতাসহ ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বেঞ্চমার্ক মূল্যহার ধরা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা। পাশাপাশি চার হাজার মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ, আরও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রিড বিদ্যুৎ দিয়ে ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্রতিস্থাপনের উদ্যোগও রয়েছে।
কিন্তু শুধু উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো আর নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানিসেবা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়; বরং উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেই ক্ষমতার ব্যয়, ব্যবহার, জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থায়নের কাঠামো বিবেচনা না করলে নতুন বিনিয়োগই ভবিষ্যতের আর্থিক বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
প্রকৃত জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ শুধু পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়; রাষ্ট্র ও ভোক্তা—উভয়কে সামর্থ্যসংকট থেকে মুক্ত রাখা। তাই প্রথম কাজ হওয়া উচিত অন্যায়, অযৌক্তিক ও লুণ্ঠনমূলক ব্যয় কমানো। একই সঙ্গে আমদানি-নির্ভরতা কমানো, আর্থিক ও জ্বালানিদক্ষতা বাড়ানো, সাশ্রয়ী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং ভোক্তার অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিচ্ছিন্ন কিছু নীতিগত উদ্যোগ দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ের ব্যয় কমাতে হবে। এ জন্য প্রতিটি সমস্যার কাঠামোগত কারণ চিহ্নিত করে তার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট সংস্কার যুক্ত করতে হবে।

এই সামর্থ্যসংকট মোকাবিলায় কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) পক্ষ থেকে পাঁচ বছরের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রথমত, সরকারকে মুনাফা গ্রহণ থেকে বিরত রেখে সরকারি বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসেবা মুনাফা ও লুণ্ঠনমুক্ত করা। এতে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতকে ভর্তুকিমুক্ত করা, মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে ভোক্তাকে রক্ষা করা এবং বকেয়া ও ঋণের কিস্তি পরিশোধে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান সক্ষমতা অনুযায়ী ১ হাজার ১০০ এমএমসিএফডির বেশি এলএনজি আমদানি না করা; গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থে বাপেক্সের মাধ্যমে ছাতক (পূর্ব) গ্যাসক্ষেত্রের সম্ভাব্য এক টিসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা এবং পুরোনো কূপ সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো।
তৃতীয়ত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয় টাকা মূল্যহারের বিদ্যুৎ জরুরি ভিত্তিতে গ্রিডে যুক্ত করা।
চতুর্থত, তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে বছরে অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা।
পঞ্চমত, কয়লা আমদানি বাড়িয়ে ৯০ শতাংশের বেশি প্ল্যান্ট ফ্যাক্টরে প্রায় ৭ টাকা ৫০ পয়সা মূল্যহারে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে তরল জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রতিস্থাপন করা।
ষষ্ঠত, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়ে গ্রিডের বিদ্যুতের চাহিদা ২০ শতাংশ কমানো। এতে আনুপাতিক হারে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বছরে গড়ে ৫ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির চাপও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।
সপ্তমত, অনধিক ৬ টাকা বেঞ্চমার্ক মূল্যহারে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।
অষ্টমত, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টসহ ইউটিলিটি স্কেলে আরও ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, যার বেঞ্চমার্ক মূল্যহার হবে অনধিক ৬ টাকা ৪৮ পয়সা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ শুধু কত মেগাওয়াট উৎপাদন করা হবে, তার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করবে কত কম ব্যয়ে, কতটা দক্ষতার সঙ্গে এবং কার স্বার্থে সেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে তার ওপর। তাই সংকট মোকাবিলার মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—নতুন ব্যয় নয়, প্রথমে বিদ্যমান ব্যয়ের অপচয় ও লুণ্ঠন বন্ধ করা।
নবমত, ভোক্তার অর্থে গঠিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ব্যবহার করে ভোলায় পিডিবির মালিকানায় স্বল্প ব্যয়ে ৪০০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো।
দশমত, জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ বাড়িয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ শতাংশ কমানো। এতে বছরে গড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
একাদশত, রাজস্ব ছাড় সমন্বয় করে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের মূল্যহার ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। বর্তমানে দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের লেভেলাইজড উৎপাদন ব্যয়হার ৩ টাকা ৮৯ পয়সা। এক মার্কিন ডলারের মূল্য ১২৩ টাকা ধরে ভারতে তা ৩ টাকা ৮৮ পয়সা এবং পাকিস্তানে ৩ টাকা ৯২ পয়সা। এ ক্ষেত্রে বিইআরসির আওতায় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।
দ্বাদশত, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশের আলোকে আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্যহার কমিয়ে ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য করা। তা সম্ভব না হলে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা।
ক্যাবের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বিদ্যুতের গড় উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৭ টাকা ৫০ পয়সায় নামিয়ে আনা। এতে বছরে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভর্তুকি, মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি-নির্ভরতা ও সরকারের আর্থিক চাপ কমিয়ে জনগণের সামর্থ্যসংকট মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।
জ্বালানি-বিদ্যুৎ খাতের সংকট থেকে উত্তরণের জন্য তাই আমাদের চিন্তার ধরন বদলাতে হবে। শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কিংবা উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোকে সাফল্যের মাপকাঠি হিসেবে দেখলে চলবে না। দেখতে হবে—কত ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, কে সেই ব্যয় বহন করছে, বিনিয়োগের ঝুঁকি কে নিচ্ছে এবং ভোক্তা কী দামে সেবা পাচ্ছে।
এই খাতের সংস্কারের প্রধান ভিত্তি হওয়া উচিত জ্বালানি অপরাধ নির্মূল, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, জাতীয় সক্ষমতা তৈরি, অপ্রয়োজনীয় আমদানি-নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় হ্রাস। একই সঙ্গে খাতটিকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত করে জনস্বার্থ, জবাবদিহি ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় রাজনীতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের ইস্যু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জ্বালানি খাতে অনিয়ম ও অপরাধের বিচার, সরকারি ব্যয় ও চুক্তির জবাবদিহি এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতি ও আইন সংস্কারে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ শুধু কত মেগাওয়াট উৎপাদন করা হবে, তার ওপর নির্ভর করে না। নির্ভর করবে কত কম ব্যয়ে, কতটা দক্ষতার সঙ্গে এবং কার স্বার্থে সেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে তার ওপর। তাই সংকট মোকাবিলার মূলমন্ত্র হওয়া উচিত—নতুন ব্যয় নয়, প্রথমে বিদ্যমান ব্যয়ের অপচয় ও লুণ্ঠন বন্ধ করা। সরবরাহের প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় কমানোই হতে পারে জনগণের সামর্থ্যসংকট মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর পথ।
● এম শামসুল আলম কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা
*মতামত লেখকের নিজস্ব
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনায় ভবনটির ফায়ার সেফটির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করে। দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পাঁচতলা ভবনটির চতুর্থ তলায় থাকা এপেক্সের গোডাউনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, গোডাউনের ভেতরে বর্তমানে আগুনের কোনো শিখা নেই, তবে ধোঁয়া রয়েছে। ধোঁয়া সম্পূর্ণ বের করে দেওয়ার পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হবে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে গোডাউনের লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেলে প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। পরে নিজেদের কাছে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। গোডাউনের ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মাস আগে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। তবে ফায়ার সেফটির অনুমোদন না থাকায় তাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং চতুর্থ তলার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তা খুব বেশি নয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের একটি শোরুমে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। টিটি/এমএএইচ/
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোনো জরাজীর্ণ ফেরির ওপর ভরসা করে চলছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে নিয়মিত যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ছে জরাজীর্ণ এসব রো-রো ও কে-টাইপ ফেরি। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগার পাশাপাশি মাঝনদীতে বিকল হয়ে ভেসে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক ঘটনাও ঘটছে। এতে দুই রুটেই দেখা দিয়েছে চরম দুর্যোগ ও আতঙ্ক। এদিকে স্রোতের তীব্রতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া থেকে পাবনার নাজিরগঞ্জ রুটের ফেরি চলাচল। যানবাহন বিকল্প রুট ব্যবহার করলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা স্পিডবোট ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন। এছাড়া এই রুটে দুইটি ফেরি থাকলেও প্রায় একমাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে একটি। আর অন্যটি স্রোতের বিপরীতে চলতে পারছে না। অথচ দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার যোগাযোগের সহজ পথ এটি। আরও পড়ুন পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই নৌপথ। প্রতিদিন এই নৌপথের ফেরি দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয় খরোস্রোতা পদ্মা নদী। কিন্তু কালের বিবর্তনে সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এই নৌপথে চলাচলকারী পুরাতন ফেরিই যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের মূল ভরসা। প্রায়ই যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে ফেরিগুলোতে। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় টেনে পাড়ে আনা হচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ৮ টি যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫ টি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি হামিদুর রহমান দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে ফেরার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। স্রোতে ফেরিটি ভাটিতে ভেসে যায় কয়েক কিলোমিটার। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রো রো ফেরি এনায়েত পুরী, শাহ পরান এবং নতুন যুক্ত হওয়া ইমপ্রুভ ফেরি ধলেশ্বরী নদীতে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা, তেমনি অন্যদিকে দীর্ঘ সময় নদীতে আটকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)র অধীনে বহরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮টি ছোট-বড় ফেরি রয়েছে। যানবাহনের চাহিদা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ এগুলো পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে এখানে রো-রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, খানজাহান আলী, কেরামত আলী, ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা, ভাষা শহীদ বরকত, শাহ পরাণ, এনায়েতপুরী, শাহ মখদুম, মতিউর রহমান এবং ইউটিলিটি ও কে-টাইপ (মাঝারি ও ছোট) ফেরি হাসনাহেনা, বনলতা, কবরী, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা ফেরি চলাচল করছে। সার্ভে সনদ থাকা এসব নৌযান দক্ষ নাবিকরা পরিচালনা করলেও স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ গতি দিয়েও অনেক সময় ঘাটে ভিড়তে পারছেন না। ফলে দেখা দিচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার শঙ্কা। এরমধ্যে সম্প্রতি বহরে যুক্ত হয়েছে ইমপ্রুভ ফেরি পায়রা ও ধলেশ্বরী। আর কিছু ইউটিলিটি ফেরি ৮ থেকে ১২ বছর আগে থেকে বহরে যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় সফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ ফেরি ৩০ থেকে ৩৫ বছরের বেশি পুরোনো। এরচেয়ে আগেরও কিছু আছে। বর্তমানে এই ফেরিগুলোর কতটুকু সক্ষমতা রয়েছে সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ফেরিগুলো যদি দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আরও পড়ুন তীব্র স্রোতে ঘাটে ভিড়তে না পেরে ভেসে গেল ফেরি বর্তমানে তীব্র স্রোতের কারণে স্বাভাবিক সময়ের থেকে পারাপারে বেশি সময় লাগছে। স্রোতে অনেক সময় ঘাটে ভিড়তে না পেরে ফেরি ভেসে যাচ্ছে বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। যার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই নৌরুটে চলাচলরত যাত্রী ও চালকরা। ফেরির সক্ষমতা বিবেচনায় এই রুটে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নতুন ফেরি দেওয়া প্রয়োজন। বাস চালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বর্তমানে স্রোতের কারণে নদী পারাপারে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে ফেরির ইঞ্জিনের অনেক শক্তি লাগে। সেদিন ঘাটে ভিড়তে না পেরে একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে অনেক দূরে ভেসে গেছে। পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা ভয়ে থাকে। তাই আমরা এখানে একটি সেতু চাই। সেতু হলে সবারই দুর্ভোগ কমবে।’ রো রো ফেরি খানজাহান আলীর দ্বিতীয় মাস্টার ফজলুল হোসেন বলেন, ‘নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে আমাদের অতিরিক্ত গতিতে ফেরি চালাতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় ঘাটে ফিরতে সমস্যা হচ্ছে। আগে পারাপারে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগলেও এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। স্রোতের বিপরীতে অতিরিক্ত গতিতে ফেরি চালাতে গিয়ে মাঝে মাঝে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরবর্তীতে মেরামত করে আবার আসছি।’ রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে ৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নতুন ফেরির চাহিদা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাই নাই। এই রুটে দিনে প্রায় শতাধিক যানবাহন পারাপার হতো। এখানে দুইটি কে-টাইপ ফেরি থাকলেও প্রায় একমাস আগে বিকল হয়ে মেরামতে আছে ফেরি কপোতী।’ বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মূলত নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্রোত বৃদ্ধি পায়, যার কারণে ফেরিগুলো পারাপারে একটু সময় বেশি লাগে এবং ঘাটে ভিড়তে একটু সমস্যা হয়। তবে আমাদের নাবিকরা দক্ষতার সঙ্গে ফেরি পরিচালনা করছেন। সমস্যা শুধু রো রো ফেরিতে না। এই সময়ে প্রত্যেকটা ফেরিতেই স্রোতের বিপরীতে চলতে একটু সমস্যা হয়। তবে আমাদের এই রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ফেরি সার্ভে সনদ নিয়ে চলাচল করছে।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা বলেন, একই ঘটনা কেনো বার বার ঘটছে, এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে দায়িত্বরতরা বলছেন, স্রোতের কারণে ঘটনাগুলো ঘটছে। তাছাড়া এই রুটে বেশ কিছু পুরাতন ফেরির বিষয়েও অবগত আছি। এই সমস্যো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। রুবেলুর রহমান/কেজে/জেআইএম
টেকসই জীবনযাপন করতে হলে জীবনধারায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। ‘মাইক্রো-সাসটেইনেবিলিটি’র মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই সম্মিলিতভাবে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করে, বর্জ্য কমায় এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে। চলুন এমন ৯টি ছোট ছোট অভ্যাসের কথা জেনে নেওয়া যাকব্যাকপ্যাক বা হ্যান্ডব্যাগে একটি কাপড়ের ব্যাগ রাখুন১. সব সময় সঙ্গে রাখুন পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ ব্যাকপ্যাক বা হ্যান্ডব্যাগে একটি কাপড়ের ব্যাগ রাখুন। হঠাৎ কোনো কেনাকাটার সময় এটি ব্যবহার করলে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগের প্রয়োজন হবে না।২. ঠান্ডা পানিতে কাপড় ধুয়ে নিন ওয়াশিং মেশিনে ব্যবহৃত মোট শক্তির প্রায় ৯০ শতাংশই পানি গরম করতে ব্যয় হয়। অথচ দৈনন্দিন ব্যবহারের বেশির ভাগ কাপড় ঠান্ডা পানিতেই সমান কার্যকরভাবে পরিষ্কার করা যায়। এতে কাপড়ের ক্ষয়ও কম হয়। রং আর কাপড়ের টেক্সচারও দীর্ঘদিন ভালো থাকে।৩. ডিজিটাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল সংরক্ষণ করতেও শক্তি ব্যয় হয়। প্রতিদিন অন্তত একটি বিপণনমূলক (প্রমোশনাল) ই-মেইল আনসাবস্ক্রাইব করুন। পুরোনো, অপ্রয়োজনীয় ই-মেইল, ছবি, ভিডিও, ডকুমেন্ট মুছে ফেলুন। এতে আপনার ডিজিটাল কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমবে।ডিজিটাল প্যারেন্টিং না জানলে যে ক্ষতির সম্মুখীন হবেন৪. অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমান কফি মেকার, মোবাইল চার্জার বা মাইক্রোওয়েভের মতো অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও প্লাগে সংযুক্ত থাকলে বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে থাকে। ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখুন অথবা সুইচযুক্ত পাওয়ার স্ট্রিপ ব্যবহার করুন। আপনি যদি এখনো প্রচলিত ইনক্যান্ডেসেন্ট বা সিএফএল বাল্ব ব্যবহার করেন, তাহলে এর বদলে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন। এসব প্রায় ৮০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। আর অনেক বেশি দিন স্থায়ী হয়। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও চার্জার বন্ধ করুন। দিনের বেলায় যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করুন। এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখুন। ল্যাপটপ বা ফোন পর্যাপ্ত চার্জ হয়ে গেলে চার্জার খুলে ফেলুন।৫. পেপার টাওয়েলের বিকল্প ব্যবহার করুন রান্নাঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাপড় বা মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করুন। এতে কাগজের অপচয় কমবে। অর্থও সাশ্রয় হবে।অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমান৬. পুরোনো জিনিস কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন নতুন পোশাক, বই বা ইলেকট্রনিক পণ্য কেনার আগে সেকেন্ড-হ্যান্ড দোকান বা অনলাইনে পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোয় নিয়মিত চোখ রাখতে পারেন। এতে পণ্যের ব্যবহারকাল বাড়ে এবং নতুন উৎপাদনের চাপ কমে।৭. যাতায়াত কাছাকাছি দূরত্বে হাঁটুন বা সাইকেল ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করুন। একসঙ্গে একাধিক কাজের জন্য বের হলে আরও ভালো।৮. পোশাক ও কেনাকাটা নতুন কিছু কেনার আগে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ‘এটা কি সত্যিই প্রয়োজন?’ কম কিনুন, কিন্তু টেকসই ও ভালো মানের জিনিস কিনুন। ছিঁড়ে গেলে পোশাক মেরামত করে ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় কাপড়, বই বা আসবাব দান করুন। উপহার দেওয়ার সময় পুনর্ব্যবহারযোগ্য মোড়ক ব্যবহার করুন।কম কেনার নতুন চ্যালেঞ্জ ‘নো-বাই’ কী, টাকা সঞ্চয়ে উপকারী?৯. পানির অপচয় রোধ ও সংরক্ষণপানির অপচয় রোধে গোসলের সময় কয়েক মিনিট কমাতে পারেনগোসলের সময় কয়েক মিনিট কমাতে পারেন। বৃষ্টির পানি ধরে গাছে ব্যবহার করতে পারেন। ওয়াশিং মেশিন পূর্ণ না হলে চালাবেন না। পানির লিকেজ দ্রুত মেরামত করুন। দাঁত ব্রাশ করা বা থালাবাসন ধোয়ার সময় যখন পানি ব্যবহার করছেন না, তখন কল বন্ধ রাখুন। এতে প্রতি মিনিটে প্রায় ১২ লিটার পর্যন্ত পানি সাশ্রয় করা সম্ভব।আরও যা বাড়ির বারান্দা বা ছাদে গাছ লাগান। পাখিদের জন্য পানির পাত্র রাখতে পারেন। স্থানীয় পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিন। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের স্ট্র, চামচ বা কাপ এড়িয়ে চলুন। যেকোনো ব্যবহারযোগ্য জিনিসের আয়ু বাড়ান।সূত্র: হারকোন বয়সে কীভাবে সঞ্চয় করবেন