মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি কাভার্ড ভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক। এতে ট্রাকটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে চালক গুরুতর আহত হয়ে গাড়ির ভেতরে আটকে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাঁকে জীবিত উদ্ধার করেন।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার কামারখোলা এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত ট্রাকচালকের নাম আজগর খন্দকার (৫৫)। তিনি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বাসিন্দা। উদ্ধারের পর তাঁকে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি মোংলা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। কাভার্ড ভ্যানটিও মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। কামারখোলা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ড ভ্যানটিকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে চালক ভেতরে আটকে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মী জানান, চালকের বুক স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে আটকে ছিল। সাধারণভাবে তাঁকে বের করার উপায় ছিল না। উদ্ধারকারীরা বিশেষ উদ্ধারযন্ত্র আনেন। সেটা দিয়ে প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি উল্টে গেলে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার কারণে আহত চালককে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়েছে।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
প্রতিটি বাবা-মা তার শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক বিকাশ নিয়ে চিন্তা করেন। পুষ্টিকর খাবার, ভালো পড়াশোনা আর খেলাধুলার পাশাপাশি শিশুর মেধা বিকাশে আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো—রাতে ঘুমের আগের সময়টুকু। সারাদিন শিশু যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করে, রাতের ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে স্মৃতি হিসেবে জমা রাখে। বিজ্ঞান ও শিশু মনোবিজ্ঞান বলছে, ঘুমানোর আগের ১৫-৩০ মিনিট শিশুর মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে কার্যকর। তাই ঘুমানোর আগের বিশেষ সময়টিকে সঠিক নিয়মে কাজে লাগাতে পারলে শিশুর বুদ্ধি, মনোযোগ ও মানসিক দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই সন্তানের মেধা বিকাশে ঘুমাতে যাওয়ার আগে অভিভাবকরা যেসব অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন— সারাদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। তাকে প্রশ্ন করুন, আজ সারাদিনে সে নতুন কী করেছে বা শিখেছে। তার সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত কোনটি ছিল। শিশুর ছোট ছোট অনুভূতির কথা মন দিয়ে শুনুন। এই অভ্যাসের ফলে শিশুর কথাবলার দক্ষতা ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি মা-বাবার সাথে তার একটি শক্ত মানসিক বন্ধনও গড়ে ওঠে। আরও পড়ুন শিশুর লেখাপড়ার হাতেখড়িতে মায়ের করণীয় গল্প শোনানো বা বইপড়ার অভ্যাস ঘুমানোর আগে সন্তানকে বই থেকে গল্প পড়ে শোনালে অথবা নিজের মুখে কোনো শিক্ষণীয় গল্প বললে মস্তিষ্কের কল্পনাশক্তি অনেকগুণ বেড়ে যায়। যখন শিশু কোনো গল্প শোনে; তখন তার অবচেতন মন সেই দৃশ্যগুলো কল্পনা করতে শুরু করে। যা তার সৃজনশীলতা ও ভাষার দক্ষতা বাড়ায়। নিয়মিত পড়ার অভ্যাস শিশুর শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করে। পড়ার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করতে সাহায্য করে। স্ক্রিন টাইম সম্পূর্ণ বন্ধ করা ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি বা ট্যাবের মতো ডিজিটাল পর্দার আলো থেকে শিশুকে দূরে রাখুন। ইলেকট্রনিক ডিভাইসের নীল আলো মস্তিষ্কে ঘুমানোর হরমোন ‘মেলাটোনিন’ উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং মস্তিষ্কের বিশ্রাম বাধাগ্রস্ত হয়, যা মেধা বিকাশের বড় ক্ষতি করে। স্ক্রিন বন্ধ করে ঘরের আলো হালকা করে দিলে শিশুর মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ইতিবাচক প্রশংসা ও শুভ কামনা ঘুমানোর ঠিক আগের চিন্তা-ভাবনা শিশুর অবচেতন মনে গভীর প্রভাব ফেলে। সারাদিনে সন্তান কোনো ভুল করে থাকলেও ঘুমের আগে তাকে বকাঝকা করবেন না। বরং সারাদিনের যে কোনো ছোট ভালো কাজের জন্য তার প্রশংসা করুন। ‘তুমি আজকের কাজটি খুব সুন্দরভাবে করেছ’ বা ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত’—এমন ইতিবাচক বাক্য শিশুর আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ভালোবাসা ও নিরাপত্তার অনুভূতি নিয়ে ঘুমাতে পারলে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে এবং ঘুমের গুণমান বাড়ে। আরও পড়ুন সন্তানের সঙ্গে দূরত্ব নয়, গড়ে তুলুন বন্ধুত্বের সম্পর্ক শিশুর মেধার বিকাশ কিন্তু একদিনের কোনো বিষয় নয়; এটি একটি ধারাবাহিক চর্চার ফসল। প্রতিদিনের এই ছোট্ট ৪টি চর্চা কেবল আপনার সন্তানের বুদ্ধিমত্তাই বাড়াবে না বরং তাকে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক মানসিকতার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তার সাথে আপনার একটি মজবুত বন্ধন তৈরি হবে। এসইউ
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনায় ভবনটির ফায়ার সেফটির অনুমোদন ছিল না বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট কাজ করে। দুপুর ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পাঁচতলা ভবনটির চতুর্থ তলায় থাকা এপেক্সের গোডাউনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। তিনি বলেন, গোডাউনের ভেতরে বর্তমানে আগুনের কোনো শিখা নেই, তবে ধোঁয়া রয়েছে। ধোঁয়া সম্পূর্ণ বের করে দেওয়ার পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হবে। আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না। তবে গোডাউনের লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক ডিস্ট্রিবিউশন প্যানেলে প্রথমে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। পরে নিজেদের কাছে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তদন্তে এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে। গোডাউনের ফায়ার লাইসেন্স ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কয়েক মাস আগে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। তবে ফায়ার সেফটির অনুমোদন না থাকায় তাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং চতুর্থ তলার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল। সেখানে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তা খুব বেশি নয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের একটি শোরুমে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। টিটি/এমএএইচ/
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথের যাতায়াত ব্যবস্থা পুরোনো জরাজীর্ণ ফেরির ওপর ভরসা করে চলছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের। পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে নিয়মিত যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ছে জরাজীর্ণ এসব রো-রো ও কে-টাইপ ফেরি। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় লাগার পাশাপাশি মাঝনদীতে বিকল হয়ে ভেসে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক ঘটনাও ঘটছে। এতে দুই রুটেই দেখা দিয়েছে চরম দুর্যোগ ও আতঙ্ক। এদিকে স্রোতের তীব্রতায় গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া থেকে পাবনার নাজিরগঞ্জ রুটের ফেরি চলাচল। যানবাহন বিকল্প রুট ব্যবহার করলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা স্পিডবোট ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন। এছাড়া এই রুটে দুইটি ফেরি থাকলেও প্রায় একমাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে একটি। আর অন্যটি স্রোতের বিপরীতে চলতে পারছে না। অথচ দেশের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার যোগাযোগের সহজ পথ এটি। আরও পড়ুন পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ অন্যদিকে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই নৌপথ। প্রতিদিন এই নৌপথের ফেরি দিয়ে হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার হয় খরোস্রোতা পদ্মা নদী। কিন্তু কালের বিবর্তনে সব কিছুতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এই নৌপথে চলাচলকারী পুরাতন ফেরিই যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের মূল ভরসা। প্রায়ই যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে পারাপার করতে গিয়ে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে ফেরিগুলোতে। পরবর্তীতে উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় টেনে পাড়ে আনা হচ্ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর ৮ টি যাত্রীবাহী বাসসহ ১৫ টি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা রো রো ফেরি হামিদুর রহমান দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটে ফেরার সময় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। স্রোতে ফেরিটি ভাটিতে ভেসে যায় কয়েক কিলোমিটার। পরে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রো রো ফেরি এনায়েত পুরী, শাহ পরান এবং নতুন যুক্ত হওয়া ইমপ্রুভ ফেরি ধলেশ্বরী নদীতে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়ে। ফলে একদিকে যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা, তেমনি অন্যদিকে দীর্ঘ সময় নদীতে আটকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)র অধীনে বহরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৫ থেকে ১৮টি ছোট-বড় ফেরি রয়েছে। যানবাহনের চাহিদা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ এগুলো পরিচালনা করে থাকেন। বর্তমানে এখানে রো-রো (বড়) ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, খানজাহান আলী, কেরামত আলী, ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা, ভাষা শহীদ বরকত, শাহ পরাণ, এনায়েতপুরী, শাহ মখদুম, মতিউর রহমান এবং ইউটিলিটি ও কে-টাইপ (মাঝারি ও ছোট) ফেরি হাসনাহেনা, বনলতা, কবরী, ফরিদপুর, কুমিল্লা, ঢাকা ফেরি চলাচল করছে। সার্ভে সনদ থাকা এসব নৌযান দক্ষ নাবিকরা পরিচালনা করলেও স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে বেগ পেতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ গতি দিয়েও অনেক সময় ঘাটে ভিড়তে পারছেন না। ফলে দেখা দিচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি ও দুর্ঘটনার শঙ্কা। এরমধ্যে সম্প্রতি বহরে যুক্ত হয়েছে ইমপ্রুভ ফেরি পায়রা ও ধলেশ্বরী। আর কিছু ইউটিলিটি ফেরি ৮ থেকে ১২ বছর আগে থেকে বহরে যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় সফিকুল ইসলাম শামীম বলেন, ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলাচলকারী বেশিরভাগ ফেরি ৩০ থেকে ৩৫ বছরের বেশি পুরোনো। এরচেয়ে আগেরও কিছু আছে। বর্তমানে এই ফেরিগুলোর কতটুকু সক্ষমতা রয়েছে সেটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ফেরিগুলো যদি দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে বিষয়টি সরকারের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। আরও পড়ুন তীব্র স্রোতে ঘাটে ভিড়তে না পেরে ভেসে গেল ফেরি বর্তমানে তীব্র স্রোতের কারণে স্বাভাবিক সময়ের থেকে পারাপারে বেশি সময় লাগছে। স্রোতে অনেক সময় ঘাটে ভিড়তে না পেরে ফেরি ভেসে যাচ্ছে বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। যার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই নৌরুটে চলাচলরত যাত্রী ও চালকরা। ফেরির সক্ষমতা বিবেচনায় এই রুটে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে নতুন ফেরি দেওয়া প্রয়োজন। বাস চালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বর্তমানে স্রোতের কারণে নদী পারাপারে সময় বেশি লাগছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে ফেরির ইঞ্জিনের অনেক শক্তি লাগে। সেদিন ঘাটে ভিড়তে না পেরে একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে অনেক দূরে ভেসে গেছে। পরে সেটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এতে যাত্রীরা ভয়ে থাকে। তাই আমরা এখানে একটি সেতু চাই। সেতু হলে সবারই দুর্ভোগ কমবে।’ রো রো ফেরি খানজাহান আলীর দ্বিতীয় মাস্টার ফজলুল হোসেন বলেন, ‘নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে আমাদের অতিরিক্ত গতিতে ফেরি চালাতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় ঘাটে ফিরতে সমস্যা হচ্ছে। আগে পারাপারে ৩৫ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগলেও এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে। স্রোতের বিপরীতে অতিরিক্ত গতিতে ফেরি চালাতে গিয়ে মাঝে মাঝে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পরবর্তীতে মেরামত করে আবার আসছি।’ রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ঘাটের সহব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র স্রোতের কারণে ৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে নতুন ফেরির চাহিদা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাই নাই। এই রুটে দিনে প্রায় শতাধিক যানবাহন পারাপার হতো। এখানে দুইটি কে-টাইপ ফেরি থাকলেও প্রায় একমাস আগে বিকল হয়ে মেরামতে আছে ফেরি কপোতী।’ বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপ মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মূলত নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্রোত বৃদ্ধি পায়, যার কারণে ফেরিগুলো পারাপারে একটু সময় বেশি লাগে এবং ঘাটে ভিড়তে একটু সমস্যা হয়। তবে আমাদের নাবিকরা দক্ষতার সঙ্গে ফেরি পরিচালনা করছেন। সমস্যা শুধু রো রো ফেরিতে না। এই সময়ে প্রত্যেকটা ফেরিতেই স্রোতের বিপরীতে চলতে একটু সমস্যা হয়। তবে আমাদের এই রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ফেরি সার্ভে সনদ নিয়ে চলাচল করছে।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল হুদা বলেন, একই ঘটনা কেনো বার বার ঘটছে, এ বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। তবে দায়িত্বরতরা বলছেন, স্রোতের কারণে ঘটনাগুলো ঘটছে। তাছাড়া এই রুটে বেশ কিছু পুরাতন ফেরির বিষয়েও অবগত আছি। এই সমস্যো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। রুবেলুর রহমান/কেজে/জেআইএম