মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ আবেদন করেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সহোদর ভাই রঞ্জন কুমার ধর।
আবেদনে বলা হয়, রঞ্জন কুমার ধর ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান। মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও শেষকৃত্যে কারাগারে আটক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের উপস্থিতি একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনকারী বলেন, মায়ের জীবনের শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি তার ভাই। অন্তত মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির মানবিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তি অথবা নিরাপত্তাসহ প্যারোলে উপস্থিতির অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে মৃত শ্রীমতী সন্ধ্যা রাণী ধরের মৃত্যু সনদের ফটোকপি এবং আবেদনকারীর পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে হাটহাজারীর মেখল পুণ্ডরিক ধামে সন্ধ্যা রাণী ধর মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুসে সংক্রমণ ও নিম্ন রক্তচাপসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় এক মাস চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে তাকে পুণ্ডরিক ধামে নেওয়া হয়েছিল।
এমআরএএইচ/এমআরএম
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পারস্য কবি ও মনীষীদের সৃজনশীল কর্ম ও সাহিত্য এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। তিনি এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথা উল্লেখ করেন। আরও পড়ুন মক্কা চুক্তি কী? বাংলাদেশ কেন এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে? মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তিনি সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেন। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন করে সে দেশের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আরও পড়ুন মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে ইরান: রিপোর্ট সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ ও ইরান একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা প্রকাশ করেন, তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবরাসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানিয়ান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কেএইচ/ইএ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার সাক্ষী আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ কাউসার আহমেদ জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে কাউসার বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অন্যরা। শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি তাঁর পায়ে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শামীম ওসমানের নির্দেশ ছিল চিকিৎসা না দেওয়ার জন্য। সে কারণে তিনি সেদিন খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা পাননি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার এই জবানবন্দি দেন কাউসার। তিনি গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি।জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। সেদিন বেলা পৌনে দুইটার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাঁদের ওপর আক্রমণ চালান। আক্রমণকারীদের মধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদ ছিলেন। তাঁদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল। তাঁদের ছোড়া গুলি তাঁর বাঁ পায়ে লাগে।পায়ে গুলি লাগার পর রাস্তায় পড়ে যান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এরপর কে বা কারা তাঁকে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। শামীম ওসমান চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, চিকিৎসা না করার জন্য। সেখানে চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়।সেদিন নারায়ণগঞ্জে অনেকে এই মামলার আসামিদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। তিনি বলেন, সেদিন সুজন নামের একজন নিহত হন। তাঁর বাড়ি বন্দর এলাকায়।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কাউসার। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে হতাহত করেন। তাঁকে গুলি করে আহত করাসহ অন্যান্য আন্দোলনকারীদের হতাহত করার জন্য এই মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান কাউসার।এই মামলার ১২ আসামির সবাই পলাতক।
গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজে ৬ ক্যাটাগরির পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।চাকরির বিবরণ ১. পদের নাম: অধ্যাপকবিভাগ: নবজাতক ও শিশু, প্যাথলজি, মেডিসিন২. পদের নাম: সহযোগী অধ্যাপকবিভাগ: নবজাতক ও শিশু, প্যাথলজি, এনাটমি৩. পদের নাম: সহকারী অধ্যাপকবিভাগ: নবজাতক ও শিশু, ফার্মাকোলজি, এনাটমি, ট্রান্সফিউশন মেডিসিনবাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় চাকরি, পদ ১৪২ ৪. পদের নাম: কিউরেটরবিভাগ: এনাটমি৫. পদের নাম: রেজিস্ট্রারবিভাগ: মেডিসিন, সার্জারি, চক্ষু, ইএনটি৬. পদের নাম: লেকচারারবিভাগ: ফার্মাকোলজি, ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি, প্যাথলজি।শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাবিএমডিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।আকিজ সিমেন্টে ম্যানেজার পদে চাকরি, আবেদন ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যেবেতন-ভাতাআলোচনা সাপেক্ষে।আবেদনের নিয়মআগ্রহী প্রার্থীগণকে তাদের সব শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেটের ফটোকপি, ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ন্যাশনাল আইডি ও পূর্ণ জীবনবৃত্তান্তসহ লিখিত আবেদনপত্র ডাকযোগে অথবা সরাসরি জমা দিতে হবে।আবেদনের ঠিকানা: অধ্যক্ষ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ, মির্জানগর, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৪।আবেদনের শেষ তারিখবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ১৫ কর্ম দিবসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে।ফেল থেকে পাস ৪০৮৫, নতুন করে জিপিএ–৫ পেল ৩০৭৯ শিক্ষার্থীশর্তাবলি১. আবেদনপত্রের খামের ওপর পদের নাম অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে। যেকোনো ধরনের সুপারিশ প্রার্থীর অযোগ্যতা বলে বিবেচিত হবে।২. সরকারি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকেরাও আবেদন করতে পারবেন।৩. চাকরিরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।