২০২৫ সালে মহাকাশে প্রাণের সন্ধান নিয়ে দুটি খবর সারা বিশ্বে বেশ আলোড়ন তুলেছিল। একটি ছিল পৃথিবী থেকে প্রায় ১২৪ আলোকবর্ষ দূরের গ্রহ কে২–১৮বি নিয়ে। অন্যটি ছিল মঙ্গল গ্রহের একটি পাথর, যার নাম ‘শিয়াভা ফলস’। দুটি ঘটনাতেই এমন কিছু বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল, যা দেখে মনে হতে পারে, হয়তো সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণের সন্ধান মিলতে যাচ্ছে!
কিন্তু বিজ্ঞানীরা কি আসলেই তা মনে করেন? বিশ্বের কয়েক শ অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট বা মহাকাশে প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীর মতামত জানতে একটি জরিপ করা হয়েছিল। ফলাফল বেশ চমকপ্রদ। বেশির ভাগ বিজ্ঞানী এখনো মনে করেন না যে এলিয়েনের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে মঙ্গলের পাথরটির ক্ষেত্রে তাঁরা কে২–১৮বি–এর তুলনায় কিছুটা বেশি আশাবাদী।

কে২–১৮বি–তে কী পাওয়া গিয়েছিল
২০২৫ সালের এপ্রিলে বিজ্ঞানীরা কে২–১৮বি–এর বায়ুমণ্ডলে দুটি রাসায়নিক অণুর সম্ভাব্য উপস্থিতির কথা জানান। এগুলো হলো ডাইমিথাইল সালফাইড ও ডাইমিথাইল ডাইসালফাইড। পৃথিবীতে এই দুটি অণু সাধারণত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে সমুদ্রের ক্ষুদ্র জীব ও কিছু অণুজীব এসব অণু তৈরি করতে পারে। তাই দূরের কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে এ ধরনের অণুর সম্ভাব্য উপস্থিতি বিজ্ঞানীদের কৌতূহলী করে তুলেছিল।
খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সংবাদে বলা হয়, এটি হয়তো পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতগুলোর একটি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের মধ্যে সবাই এতটা নিশ্চিত ছিলেন না। জরিপে অংশ নেওয়া অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্টদের মাত্র ৬ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেছেন, কে২–১৮বি–তে সম্ভবত সত্যিই ভিনগ্রহের প্রাণ পাওয়া গেছে। প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ বিজ্ঞানী এই ধারণার সঙ্গে একমত হননি। আর ২৮ শতাংশ বিজ্ঞানী কোনো পক্ষেই স্পষ্ট মত দেননি।
এর একটা বড় কারণ হলো, কে২–১৮বি অনেক দূরে। গ্রহটির বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে আমরা সরাসরি গিয়ে পরীক্ষা করতে পারছি না। পৃথিবী থেকে পাওয়া আলো বিশ্লেষণ করেই বিজ্ঞানীদের ধারণা করতে হচ্ছে, সেখানে কী ধরনের গ্যাস বা অণু রয়েছে। তাই কোনো রাসায়নিক অণু দেখা গেলেই সেটিকে জীবনের প্রমাণ বলা যায় না।

মঙ্গলের পাথর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মঙ্গলের ক্ষেত্রে আরেকটি চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। নাসার পার্সিভারেন্স রোভার মঙ্গলের পৃষ্ঠে ‘শিয়াভা ফলস’ নামের একটি পাথর খুঁজে পায়। পাথরটির মধ্যে ছোট ছোট দাগ ও খনিজের তৈরি বলয়ের মতো কিছু গঠন দেখা যায়। এগুলোকে বলা হচ্ছে ‘লেপার্ড স্পট’ বা চিতাবাঘের দাগ।
পৃথিবীতে এ ধরনের কিছু খনিজ গঠন অণুজীবের কার্যকলাপের ফলে তৈরি হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠল, মঙ্গলের এই পাথরেও কি একসময় অণুজীবের উপস্থিতি ছিল?
নাসার কর্মকর্তারাও ঘটনাটিকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। এমনকি এটিকে মঙ্গলে প্রাণ খোঁজার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
তবে এখানেও বিজ্ঞানীরা বেশ সতর্ক। জরিপে অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীদের ১৫ দশমিক ১ শতাংশ মনে করেছেন, মঙ্গলের পাথরটিতে সম্ভবত প্রাণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ এতে একমত হননি। আর ৪০ দশমিক ৩ শতাংশ কোনো পক্ষ নেননি।
অর্থাৎ মঙ্গলের ঘটনাটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা কে২–১৮বি–এর চেয়ে কিছুটা বেশি আশাবাদী হলেও অধিকাংশ বিজ্ঞানী এখনো নিশ্চিত নন।
নিশ্চিত নয় মানেই প্রাণ নেই, এমন নয়
এই জরিপের আরেকটি বিষয় বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীদের মতামত শুধু ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ এভাবে ভাগ করলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না।
কে২–১৮বি নিয়ে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশ বিজ্ঞানী দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন। মঙ্গলের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা কমে হয়েছে মাত্র ১১ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ মঙ্গলের পাথর নিয়ে অনেক বিজ্ঞানী সরাসরি ‘না’ বলার বদলে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
এর মানে এই নয় যে বিজ্ঞানীরা হঠাৎ মঙ্গল গ্রহে প্রাণ থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেছেন; বরং তাঁরা বলছেন, বিষয়টি আরও ভালোভাবে পরীক্ষা করা দরকার। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন অবস্থান খুবই স্বাভাবিক। কোনো প্রমাণকে একেবারে বাতিল না করেও তার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়।
মঙ্গলের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের একটু বেশি আগ্রহী হওয়ার একটি কারণ হতে পারে, এ প্রমাণটি একটি পাথরের সঙ্গে সম্পর্কিত। রোভারটি পাথরটি সরাসরি দেখতে ও বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করতে পারে। অন্যদিকে কে২–১৮বি–এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের বহুদূর থেকে গ্রহটির বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে।
তবে এখানেও একটি সমস্যা আছে। পৃথিবীতে কোনো গঠন বা রাসায়নিক পদার্থ জীবনের কারণে তৈরি হতে পারে বলেই যে মঙ্গলেও সেটি জীবনের কারণে তৈরি হয়েছে, এমন নয়। জীবনের অনুপস্থিতিতেও প্রকৃতির নানা প্রক্রিয়ায় একই রকম গঠন বা রাসায়নিক সংকেত তৈরি হতে পারে।
তাহলে কি মঙ্গলে প্রাণ আছে? এখনই এমন কথা বলার সুযোগ নেই।
মহাকাশে প্রাণের সন্ধানে বিজ্ঞানীরা একটি একটি করে সূত্র খুঁজে বের করেন। কোনো সূত্র খুব আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু শুধু একটি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আরও পরীক্ষা, আরও তথ্য ও স্বাধীনভাবে ফল যাচাই করা প্রয়োজন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্ত্রী মারুফা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় স্বামী আব্দুর রহিম খাঁনকে (৩৩) যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন সিলেট / খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেলো ১২১ জন, নতুন করে পাস ১৮৬ দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম খাঁন বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুপুর এলাকার মৃত ধলু খানের ছেলে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী মারুফা আক্তার বরিশালের কোতয়ালী থানাধীন রাজারচর এলাকার মো. ইব্রাহীম মুন্সীর মেয়ে। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম (মাসুম) বলেন, ২০২২ সালের ১৩ জুন পারিবারিক কলজের জের ধরে রপগঞ্জের রসুলপুর এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় আব্দুর রহিম খাঁন তার স্ত্রী মারুফা আক্তার মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে নিহত মারুফা আক্তারের বাবা ইব্রাহীম মুন্সী রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর
মন্ত্রী থেকে সাধারণ জনগণ, যে কারও মুঠোফোনের কল, এসএমএস, লোকশনসহ নানা তথ্য টাকা দিলেই নিতে পারছেন যে কেউ। অথচ যে তথ্য অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া কারও কাছেই যাওয়া সম্ভব নয়। প্রথম আলোর অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমনই ভয়ানক তথ্য। বিস্তারিত বিশ্লেষণে...
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য এখন সুনামের সঙ্গে বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। আগামী দিনে কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। এজন্য আমরা কাজ করছি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খাদ্যমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত। বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) এবং রিমস যৌথভাবে প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এগিয়ে নিতে বাপার বড় ভূমিকা আছে। আজকের এ মেলা শুধু বাংলাদেশের পণ্য প্রদর্শন নয়, আমাদের এ খাতের সক্ষমতা ও নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতুবন্ধন করতে সহায়তা করবে এবং দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এখন দেশের খাদ্যশিল্পের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের কৃষকরা প্রচুর খাদ্য উৎপাদন করছেন। যেটা আরও ভালোভাবে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে শুধু দেশের চাহিদা পূরণ নয় পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। আবার শুধু বেশি বেশি উৎপাদন নয়, ভালো ও নিরাপদ পণ্য উৎপাদন করতে হবে যেন বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের পণ্য আরও সমাদৃত হয়। এবারের প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে। তিন দিনে ২৪ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। আরও পড়ুন শুরু হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম, এক্সপো আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বাপার সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ মুহাম্মদ শোয়াইব হাছান, কোষাধ্যক্ষ মিনহাজ আহমেদ এবং বাপা, এক্সপো আয়োজক কমিটি ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের (রিমস) প্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যার আহসান খান চৌধুরী, ছবি: জাগো নিউজ আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট, সরবরাহব্যবস্থার জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা মোকাবিলায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, মেশিন ভিশন ও স্মার্ট ফ্যাক্টরি প্রযুক্তির ব্যবহার উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যের মান নিশ্চিত এবং অপচয় কমাতে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপোর মাধ্যমে উদ্যোক্তারা একই ছাদের নিচে আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং শিল্পবিষয়ক নতুন ধারণার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকস পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কার্যক্রম গড়ে তুলতে এ প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’ আরও পড়ুন খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রযুক্তি-যন্ত্রের পসরা এক আঙিনায় বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, ‘কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রদর্শনী দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সংযুক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। বাংলাদেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে বাপা কাজ করে যাচ্ছে।’ অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। পাশাপাশি চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিন দিনের আয়োজনে আঞ্চলিক সম্মেলন, সেমিনার ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে শতাধিক বিশেষজ্ঞ বক্তা ও শিল্পনেতা অংশ নেবেন। একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ফুড ইনগ্রেডিয়েন্টস বাংলাদেশ এক্সপো ২০২৬’। এতে ফাংশনাল ফুড ও বেভারেজ, নিউট্রাসিউটিক্যালস, বিকল্প প্রোটিন, উদ্ভিদভিত্তিক ফর্মুলেশন এবং টেকসই খাদ্য উপকরণ তুলে ধরা হচ্ছে। প্রদর্শনীর অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে সেশন স্টেজ, এফপি গুরমে, ড্রিংকস্ফিয়ার, গ্লোবাল ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড টেকনোলজি ফোরাম এবং ক্রিয়েটিভ ডিজাইন ভিলেজ। প্রদর্শনীটি ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, দর্শনার্থী নিবন্ধন এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে (http://www.foodpro.com.bd) ওয়েবসাইটে। এনএইচ/এমএমএআর