মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এখন নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ একটি ভাল্বে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, পিওআরবি (প্রেসারাইজড অপারেটিভ রেগুলেটরি ভাল্ব) নিয়ে প্রায় দেড় মাস ধরে কাজ চলছে। তিনটি ভাল্বের মধ্যে একটি কাজ করছে, দুটি কাজ করছে না। ভাল্ব দুটি কয়েকবার খুলে পরীক্ষা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপ প্রয়োগের পরও সেগুলো খুলছিল না। পরে তাপমাত্রা কমিয়ে আবার ঠান্ডা করে ভাল্ব খুলতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এ সমস্যা সমাধানে রোসাটম কোম্পানি রাশিয়া থেকে পাঁচজন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। তারা এই মুহূর্তে রূপপুর প্ল্যান্টে আছেন এবং এই ভাল্বে কাজ করছেন। রাশিয়া থেকে লোক নিয়ে এসেছি এই ভাল্বগুলো ঠিক করার জন্য। কয়দিন লাগবে বলতে পারছি না। আমরা ওয়েট অ্যান্ড সি।’ মন্ত্রী জানান, ফুয়েল লোডিংয়ের আগে কেন্দ্রটিতে প্রায় দুই হাজারের বেশি পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেগুলো ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। ওই সময়কার পরীক্ষাগুলো একইভাবে নির্বিঘ্নে চললে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হতো। তবে ভাল্বের সমস্যার কারণে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় বলা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা টাইমটা দিতে পারছি না। ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করছেন। আমরা খোঁজ রাখছি, তারাও খোঁজ রাখছেন। আপনারা একটু ওয়েট করেন।’ আরও পড়ুন রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পিছিয়ে যাচ্ছে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুতের যে চাহিদা, এটা আমাদের হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি। কিন্তু সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি ইজ দ্য হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি। দেশের মাঝখানে এ ধরনের একটি প্রকল্প, সেটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত কি না নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা প্রকল্পটি চালু করতে পারি।’ তিনি বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন পরীক্ষার ধাপ রয়েছে। বি-টু, বি-ওয়ানসহ নির্দিষ্ট ধাপগুলো শেষ করে ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রিডে সরবরাহের সময় সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো সম্ভব হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে একটি খবর দেওয়া যেতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। রূপপুর কেন্দ্রের বাইরে আগুনের ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি যে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, সেটি পারমাণবিক কেন্দ্রের কোর বা সীমিত প্রবেশাধিকার এলাকার ভেতরে হয়নি। গেট নম্বর একের কাছে সিভিল বিভাগের একটি অফিস ও পাশের সার্ভার রুমে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তিনি বলেন, ওই ঘটনায় কিছু চেয়ার ও আসবাবপত্র পুড়েছে। কিছু নথি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেগুলোর ব্যাকআপ রয়েছে। ‘ডকুমেন্টগুলোর আমাদের ব্যাকআপ রয়েছে। সুতরাং বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। এটা একটা ছোট্ট ঘটনা, সিরিয়াস কিছু নয়। এটা এরই মধ্যে টেকেন কেয়ার অফ।’ আগুনের ঘটনায় সতর্কতার ঘাটতি ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনা বাড়িতেও হতে পারে। তবে রূপপুরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এমন ঘটনা হওয়ায় বিষয়টি তদন্তে কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘থ্যাংকস গড, এটা আমাদের কোর নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের বাইরে হয়েছে। এটা এক নম্বর গেটের কাছাকাছি হয়েছে।’ আরও পড়ুন রূপপুর প্রকল্পের বায়েক অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি জানিয়ে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দাম খুব দ্রুত নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া কিছুটা এগোনোর পর দাম ঠিক করা হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, রূপপুর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প এবং এটি রোসাটমের জন্যও একটি মর্যাদার বিষয়। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘এটা তাদের (রাশিয়া) প্রেস্টিজ কনসার্ন। ঠিকমতো না চললে তারাও ব্যবসা করতে পারবে না। সুতরাং আপনারা একটু অপেক্ষা করেন।’ আরএমএম/এমআইএইচএস/
সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ে শুধু পানি আর পানি। যত দূর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেই পানির বুক চিরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি নৌকা। নৌকায় কেউ বাজারে যাচ্ছেন, কেউ স্কুলে, কেউ আবার মাছ ধরতে। চারপাশের গ্রামের বাড়িগুলোকে দূর থেকে ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। এটাই বর্ষার হাওর। কিন্তু কয়েক মাস পর একই জায়গায় দাঁড়ালে দৃশ্যটা একেবারেই বদলে যায়। যে জায়গায় একসময় নৌকা চলত, সেখানে তখন সবুজ কিংবা সোনালি ধানের খেত। পানির বিশাল পৃথিবী যেন পরিণত হয় মাটির পৃথিবীতে। নৌকার জায়গায় দেখা যায় মানুষের চলাচল, কৃষকের ব্যস্ততা আর মাঠজুড়ে ফসলের গল্প।একই হাওর, একই মানুষ, তবু দুই ঋতুতে যেন দুই রকম জীবন। বর্ষায় জলের সঙ্গে তাদের বসবাস, আর শুষ্ক মৌসুমে মাটির সঙ্গে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই যুগের পর যুগ জীবন কাটিয়ে আসছেন বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের মানুষ।বর্ষার হাওরবর্ষা এলেই হাওরের চেহারা বদলে যেতে শুরু করে। ধীরে নিচু জমি পানিতে ভরে যায়। একসময় চারপাশের মাঠ, রাস্তা ও বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। তখন হাওরকে মনে হয় এক বিশাল সমুদ্র। এই সময় নৌকাই হয়ে ওঠে হাওরবাসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। বাজারে যাওয়া, স্কুলে যাওয়া, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া—সবকিছুর জন্যই অনেক মানুষকে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। কোথাও বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া চলাচল কল্পনাই করা যায় না।বর্ষার হাওর যেমন সুন্দর, তেমনি এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে অনেক বাস্তবতা ও সংগ্রাম। শহরের মানুষ বর্ষার হাওর দেখতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। কিন্তু যাঁরা সেখানে বসবাস করেন, তাঁদের কাছে এই পানি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; পানি তাঁদের জীবনের অংশ। বর্ষাকালে অনেক মানুষের জীবিকার সঙ্গে মাছ ধরা জড়িয়ে থাকে। জেলে ও সাধারণ মানুষ নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বের হন। মাছ বিক্রি করে অনেক পরিবার সংসার চালায়। হাওরের মানুষের জীবনে কৃষি ও মাছ ধরা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ জীবিকার অংশ। গবেষণায়ও দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।তবে বর্ষার জীবন সব সময় সহজ নয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ অনেক সময় মানুষের জন্য বিপদ নিয়ে আসে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকায় করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়াও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে অনেক এলাকায়। বর্ষার সময় হাওরের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই জীবন কাটান। কখন পানি বাড়বে, কখন ঝড় আসবে—এসব অনিশ্চয়তা তখন তাঁদের জীবনেরই একটি অংশ হয়ে যায়।শুষ্ক মৌসুমবর্ষা চলে যাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় আরেক পরিবর্তন। ধীরে পানি কমতে থাকে। কয়েক মাস আগেও যেখানে নৌকা চলত, সেখানে দেখা দিতে শুরু করে বিস্তীর্ণ জমি। হাওরের মানুষের জীবনে শুষ্ক মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময় কৃষিকাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বোরো ধান হাওরাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।শীতের সকাল থেকে শুরু হয় কৃষকের ব্যস্ততা। কেউ জমিতে কাজ করছেন, কেউ ধানের পরিচর্যা করছেন, কেউ ফসল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারদিকে তখন আর পানির ঢেউ নেই; রয়েছে সবুজের সমারোহ। হাওরের অনেক পরিবারের বছরের বড় আশা থাকে এই ফসল ঘিরে। ভালো ফসল হলে সংসারে স্বস্তি আসে। ধান বিক্রি করে পরিবারের বিভিন্ন খরচ মেটানো হয়। তাই শুষ্ক মৌসুম শুধু একটি ঋতু নয়, হাওরবাসীর কাছে এটি ভবিষ্যতের আশা। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান প্রধান ফসলগুলোর একটি এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ মানুষের জীবিকার বড় উৎস। তবে এই কৃষিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অনেক সময় ফসল ঘরে তোলার আগেই আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের পানি এসে কৃষকের বছরের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। তাই হাওরের কৃষকের জীবনে আনন্দের সঙ্গে, ফসল ঠিক সময় ঘরে তুলতে না পারার একটা ভয়ও থাকে।বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের হাওরের মধ্যে পার্থক্য সত্যিই অবিশ্বাস্য। বর্ষায় যেখানে নৌকা চলে, শুষ্ক মৌসুমে সেখানে মানুষ হেঁটে যায়। বর্ষায় যেখানে চারপাশে পানি দেখা যায়, শীত ও শুষ্ক সময়ে সেখানে দেখা যায় ফসলের মাঠ। বর্ষায় মাছ ধরা ও নৌকাকেন্দ্রিক জীবন বেশি চোখে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ হয়ে ওঠে প্রধান ব্যস্ততা। একই মানুষও অনেক সময় দুই মৌসুমে দুই ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্ষায় তিনি হয়তো নৌকা নিয়ে মাছ ধরছেন, আর শুষ্ক মৌসুমে সেই মানুষটিকেই দেখা যায় ধানের জমিতে কাজ করতে। প্রকৃতি বদলায়, আর এর সঙ্গে বদলে যায় মানুষের কাজ ও জীবনযাত্রা।হাওরের জীবনকে শুধু বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুম দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না। এখানে ঋতু পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়গুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফসল কাটার সময় হাওরাঞ্চলে একধরনের উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করেন। কারণ, হাওরের মানুষ জানেন, প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না। আগাম বন্যা বা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল হাওরবাসীর জন্য বড় আতঙ্ক। অনেক সময় ফসল পাকতে না পাকতেই পানি এসে জমি ডুবিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের বছরের পরিশ্রম এক মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়। হাওরাঞ্চলে আগাম আকস্মিক বন্যা কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ।আবার শীতকালে হাওরের প্রকৃতি ভিন্ন রূপ ধারণ করে। অনেক এলাকায় অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তখন হাওর হয়ে ওঠে অন্য এক সৌন্দর্যের জায়গা। একই সঙ্গে মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের জন্যও হাওর গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরাঞ্চলের পর্যটনও বেড়েছে। বর্ষার সময় অনেক মানুষ নৌকায় করে হাওরের সৌন্দর্য দেখতে যান। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করাও জরুরি।কোন ধরনের মানুষকে মশা বেশি কামড়ায়হাওরের মানুষ প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা করেন না। বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই বেঁচে থাকেন। তাঁরা জানেন, বর্ষা আসবে এবং চারপাশ পানিতে ভরে যাবে। আবার একসময় সেই পানি সরে যাবে এবং মাঠে ফসল ফলবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের জীবনকে মানিয়ে নেওয়াই হাওরবাসীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়া জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক ঢল কৃষকের ফসল ও জীবিকার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাওরাঞ্চলে বারবার হওয়া আকস্মিক বন্যা মানুষের কৃষিনির্ভর জীবনকে কঠিন করে তুলছে এবং অনেক পরিবারকে বিকল্প জীবিকার কথা ভাবতে বাধ্য করছে।তবু জীবন থেমে থাকে না। বন্যার পানি নেমে গেলে মানুষ আবার নতুন করে শুরু করেন। ফসল নষ্ট হলে আবার পরের বছরের আশায় জমিতে নামেন। ঝড়ের পর আবার নৌকা নিয়ে পানিতে নামেন জেলেরা।হয়তো এটাই হাওরবাসীর সবচেয়ে বড় শক্তি, হার না–মানার ক্ষমতা। পানি আসে, পানি চলে যায়, ঋতু বদলায়, বদলে যায় চারপাশের পৃথিবী। কিন্তু সব পরিবর্তনের মধ্যেও হাওরের মানুষ তাঁদের জীবনকে আবার নতুন করে সাজিয়ে নেন। আর প্রকৃতির সঙ্গে এমন করেই চলতে চলতে হাওরের বুকজুড়ে লেখা হয় মানুষের বেঁচে থাকার এক অনন্য গল্প।বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্ত্রী মারুফা আক্তারকে হত্যার ঘটনায় স্বামী আব্দুর রহিম খাঁনকে (৩৩) যাবজ্জীবন দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। আরও পড়ুন সিলেট / খাতা চ্যালেঞ্জ করে জিপিএ-৫ পেলো ১২১ জন, নতুন করে পাস ১৮৬ দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম খাঁন বরিশালের মুলাদী থানার বাহাদুপুর এলাকার মৃত ধলু খানের ছেলে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী মারুফা আক্তার বরিশালের কোতয়ালী থানাধীন রাজারচর এলাকার মো. ইব্রাহীম মুন্সীর মেয়ে। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নজরুল ইসলাম (মাসুম) বলেন, ২০২২ সালের ১৩ জুন পারিবারিক কলজের জের ধরে রপগঞ্জের রসুলপুর এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় আব্দুর রহিম খাঁন তার স্ত্রী মারুফা আক্তার মারধর এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে নিহত মারুফা আক্তারের বাবা ইব্রাহীম মুন্সী রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর