সকালে ঘুম থেকে উঠে জানালার বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ে শুধু পানি আর পানি। যত দূর চোখ যায়, বিস্তীর্ণ জলরাশি। সেই পানির বুক চিরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে একটি নৌকা। নৌকায় কেউ বাজারে যাচ্ছেন, কেউ স্কুলে, কেউ আবার মাছ ধরতে। চারপাশের গ্রামের বাড়িগুলোকে দূর থেকে ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। এটাই বর্ষার হাওর। কিন্তু কয়েক মাস পর একই জায়গায় দাঁড়ালে দৃশ্যটা একেবারেই বদলে যায়। যে জায়গায় একসময় নৌকা চলত, সেখানে তখন সবুজ কিংবা সোনালি ধানের খেত। পানির বিশাল পৃথিবী যেন পরিণত হয় মাটির পৃথিবীতে। নৌকার জায়গায় দেখা যায় মানুষের চলাচল, কৃষকের ব্যস্ততা আর মাঠজুড়ে ফসলের গল্প।
একই হাওর, একই মানুষ, তবু দুই ঋতুতে যেন দুই রকম জীবন। বর্ষায় জলের সঙ্গে তাদের বসবাস, আর শুষ্ক মৌসুমে মাটির সঙ্গে। প্রকৃতির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই যুগের পর যুগ জীবন কাটিয়ে আসছেন বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের মানুষ।
বর্ষার হাওর
বর্ষা এলেই হাওরের চেহারা বদলে যেতে শুরু করে। ধীরে নিচু জমি পানিতে ভরে যায়। একসময় চারপাশের মাঠ, রাস্তা ও বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। তখন হাওরকে মনে হয় এক বিশাল সমুদ্র। এই সময় নৌকাই হয়ে ওঠে হাওরবাসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। বাজারে যাওয়া, স্কুলে যাওয়া, আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়া—সবকিছুর জন্যই অনেক মানুষকে নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। কোথাও বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া চলাচল কল্পনাই করা যায় না।
বর্ষার হাওর যেমন সুন্দর, তেমনি এই সৌন্দর্যের পেছনে রয়েছে অনেক বাস্তবতা ও সংগ্রাম। শহরের মানুষ বর্ষার হাওর দেখতে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। কিন্তু যাঁরা সেখানে বসবাস করেন, তাঁদের কাছে এই পানি শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়; পানি তাঁদের জীবনের অংশ। বর্ষাকালে অনেক মানুষের জীবিকার সঙ্গে মাছ ধরা জড়িয়ে থাকে। জেলে ও সাধারণ মানুষ নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বের হন। মাছ বিক্রি করে অনেক পরিবার সংসার চালায়। হাওরের মানুষের জীবনে কৃষি ও মাছ ধরা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ জীবিকার অংশ। গবেষণায়ও দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদনির্ভর জীবিকার সঙ্গে যুক্ত।
তবে বর্ষার জীবন সব সময় সহজ নয়। প্রচণ্ড বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও বড় ঢেউ অনেক সময় মানুষের জন্য বিপদ নিয়ে আসে। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিতে হলে নৌকায় করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। শিশুদের স্কুলে যাওয়াও অনেক কঠিন হয়ে পড়ে অনেক এলাকায়। বর্ষার সময় হাওরের মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই জীবন কাটান। কখন পানি বাড়বে, কখন ঝড় আসবে—এসব অনিশ্চয়তা তখন তাঁদের জীবনেরই একটি অংশ হয়ে যায়।
শুষ্ক মৌসুম
বর্ষা চলে যাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় আরেক পরিবর্তন। ধীরে পানি কমতে থাকে। কয়েক মাস আগেও যেখানে নৌকা চলত, সেখানে দেখা দিতে শুরু করে বিস্তীর্ণ জমি। হাওরের মানুষের জীবনে শুষ্ক মৌসুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই সময় কৃষিকাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বিশেষ করে বোরো ধান হাওরাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি ও জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
শীতের সকাল থেকে শুরু হয় কৃষকের ব্যস্ততা। কেউ জমিতে কাজ করছেন, কেউ ধানের পরিচর্যা করছেন, কেউ ফসল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চারদিকে তখন আর পানির ঢেউ নেই; রয়েছে সবুজের সমারোহ। হাওরের অনেক পরিবারের বছরের বড় আশা থাকে এই ফসল ঘিরে। ভালো ফসল হলে সংসারে স্বস্তি আসে। ধান বিক্রি করে পরিবারের বিভিন্ন খরচ মেটানো হয়। তাই শুষ্ক মৌসুম শুধু একটি ঋতু নয়, হাওরবাসীর কাছে এটি ভবিষ্যতের আশা। হাওরাঞ্চলে বোরো ধান প্রধান ফসলগুলোর একটি এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ মানুষের জীবিকার বড় উৎস। তবে এই কৃষিও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। অনেক সময় ফসল ঘরে তোলার আগেই আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের পানি এসে কৃষকের বছরের পরিশ্রম নষ্ট করে দিতে পারে। তাই হাওরের কৃষকের জীবনে আনন্দের সঙ্গে, ফসল ঠিক সময় ঘরে তুলতে না পারার একটা ভয়ও থাকে।
বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের হাওরের মধ্যে পার্থক্য সত্যিই অবিশ্বাস্য। বর্ষায় যেখানে নৌকা চলে, শুষ্ক মৌসুমে সেখানে মানুষ হেঁটে যায়। বর্ষায় যেখানে চারপাশে পানি দেখা যায়, শীত ও শুষ্ক সময়ে সেখানে দেখা যায় ফসলের মাঠ। বর্ষায় মাছ ধরা ও নৌকাকেন্দ্রিক জীবন বেশি চোখে পড়ে, আর শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজ হয়ে ওঠে প্রধান ব্যস্ততা। একই মানুষও অনেক সময় দুই মৌসুমে দুই ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। বর্ষায় তিনি হয়তো নৌকা নিয়ে মাছ ধরছেন, আর শুষ্ক মৌসুমে সেই মানুষটিকেই দেখা যায় ধানের জমিতে কাজ করতে। প্রকৃতি বদলায়, আর এর সঙ্গে বদলে যায় মানুষের কাজ ও জীবনযাত্রা।
হাওরের জীবনকে শুধু বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুম দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যায় না। এখানে ঋতু পরিবর্তনের মধ্যবর্তী সময়গুলোও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফসল কাটার সময় হাওরাঞ্চলে একধরনের উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। কৃষকেরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করেন। কারণ, হাওরের মানুষ জানেন, প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না। আগাম বন্যা বা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল হাওরবাসীর জন্য বড় আতঙ্ক। অনেক সময় ফসল পাকতে না পাকতেই পানি এসে জমি ডুবিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকের বছরের পরিশ্রম এক মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যায়। হাওরাঞ্চলে আগাম আকস্মিক বন্যা কৃষি ও মানুষের জীবিকার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ।
আবার শীতকালে হাওরের প্রকৃতি ভিন্ন রূপ ধারণ করে। অনেক এলাকায় অতিথি পাখির আগমন ঘটে। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তখন হাওর হয়ে ওঠে অন্য এক সৌন্দর্যের জায়গা। একই সঙ্গে মাছ, জলজ প্রাণী ও বিভিন্ন জীববৈচিত্র্যের জন্যও হাওর গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরাঞ্চলের পর্যটনও বেড়েছে। বর্ষার সময় অনেক মানুষ নৌকায় করে হাওরের সৌন্দর্য দেখতে যান। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করাও জরুরি।
হাওরের মানুষ প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা করেন না। বরং প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই বেঁচে থাকেন। তাঁরা জানেন, বর্ষা আসবে এবং চারপাশ পানিতে ভরে যাবে। আবার একসময় সেই পানি সরে যাবে এবং মাঠে ফসল ফলবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের জীবনকে মানিয়ে নেওয়াই হাওরবাসীর সবচেয়ে বড় শক্তি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও অনিয়মিত আবহাওয়া জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। আগাম বন্যা, অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক ঢল কৃষকের ফসল ও জীবিকার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাওরাঞ্চলে বারবার হওয়া আকস্মিক বন্যা মানুষের কৃষিনির্ভর জীবনকে কঠিন করে তুলছে এবং অনেক পরিবারকে বিকল্প জীবিকার কথা ভাবতে বাধ্য করছে।
তবু জীবন থেমে থাকে না। বন্যার পানি নেমে গেলে মানুষ আবার নতুন করে শুরু করেন। ফসল নষ্ট হলে আবার পরের বছরের আশায় জমিতে নামেন। ঝড়ের পর আবার নৌকা নিয়ে পানিতে নামেন জেলেরা।
হয়তো এটাই হাওরবাসীর সবচেয়ে বড় শক্তি, হার না–মানার ক্ষমতা। পানি আসে, পানি চলে যায়, ঋতু বদলায়, বদলে যায় চারপাশের পৃথিবী। কিন্তু সব পরিবর্তনের মধ্যেও হাওরের মানুষ তাঁদের জীবনকে আবার নতুন করে সাজিয়ে নেন। আর প্রকৃতির সঙ্গে এমন করেই চলতে চলতে হাওরের বুকজুড়ে লেখা হয় মানুষের বেঁচে থাকার এক অনন্য গল্প।
বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি আবারও নতুন লুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সুইমিংপুলে তোলা দুটি নতুন ছবি শেয়ার করেন তিনি। প্রকাশের পরপরই ছবিগুলো ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে সাড়া ফেলেছে। শেয়ার করা ছবিতে কালো রঙের সুইমস্যুটে নীল পানির মাঝে রিফ্রেশিং মুডে ধরা দিয়েছেন পরীমনি। একটি ছবিতে তাকে সুইমিংপুলের পানিতে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করতে দেখা যায়, অন্যটিতে পানির ওপর ভেসে নিশ্চিন্ত মুহূর্ত উপভোগ করছেন এই অভিনেত্রী। ছবি প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই পোস্টটিতে জমে হাজার হাজার রিয়্যাকশন, মন্তব্য ও শেয়ার। মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তার স্টাইলিশ ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন। কেউ লিখেছেন, ‘অসাধারণ সুন্দর’, আবার কেউ ভালোবাসার ইমোজিতে ভরিয়ে দিয়েছেন পোস্টটি। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে বরাবরই আলোচনায় থাকা পরীমনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এবার সুইমিংপুলের এই গ্ল্যামারাস লুকও নেটিজেনদের মাঝে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এলআইএ
রংপুরের কাউনিয়ায় দুই ছেলের মারামারি দেখে মহির উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়নের বল্লভবিষু গুলশান মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহির উদ্দিন ওই এলাকার বাসিন্দা। বিকেল সাড়ে চারটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের মরদেহ হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, মহির উদ্দিন তার ছোট স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে গুলশান মোড় এলাকায় বসবাস করতেন। বড় ছেলের নাম মাইদুল ইসলাম ও ছোট ছেলে রশিদুল ইসলাম। বাড়ি সংলগ্ন মুদি দোকান করে জীবিকা নির্বাহ করতেন মহির। পাশেই বড় স্ত্রীর বাড়ি। ছোট ছেলে নেশাগ্রস্ত হওয়ায় তাকে কয়েকদিন ধরে দোকানে বসতে দেন না বাবা মহির ও বড়ভাই মাইদুল। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রশিদুল দোকানে উঠে টাকা নিতে ধরেন। এসময় ছোট ভাইকে টাকা নিতে বাধা দেন বড় ভাই। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দোকানের সামনে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুইভাই মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় উপজেলা সদর বাজার থেকে মালামাল নিয়ে দোকানের সামনে হাজির হন মহির উদ্দিন। চোখের সামনে দুই ভাইয়ের মারামারি দেখে সহ্য করতে না পেরে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যান মহির উদ্দিন। পরে বড় ছেলে ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। কাউনিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, চোখের সামনে দুই ছেলের মধ্যে মারামারির ঘটনা দেখে সহ্য করতে না পেরে হার্ট অ্যাটাকে মহির উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে নিহতের স্বজনরা। এর আগেও মহির উদ্দিন দুইবার হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন। চিকিৎসক মহির উদ্দিনকে হার্টে রিং পরানোর জন্যে পরামর্শ দিলেও আর্থিকভাবে সচ্ছলতা না থাকায় হার্টে রিং পরাতে পারেননি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, ছেলেদের মারামারি দেখে মহির উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন গেছেন। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ এখনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বারান্দায় রয়েছে। নিহত ব্যক্তির দুই স্ত্রী। বড় স্ত্রীর ছেলে জেলার বাইরে থেকে আসার পর তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। স্বজনদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিতু কবীর/কেএইচকে
মুঠোফোনের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ হ্যাক, ভয়েস ক্লোন এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে জানিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা এর শিকার হচ্ছেন।আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেন।চিফ হুইপ বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে মোবাইল ফোনে...আমি কালকে এখানে পেয়েছি, আমাকে তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনটা নম্বর থেকে এসেছে। যাঁদের নম্বর থেকে এসেছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কল করেছিলাম কিন্তু ধরেননি। মানে মোবাইল (নম্বর) হ্যাক হয়েছে।’সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আপনারা জানলে সারা বাংলা জানবে বলে মনে করি। টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ জানুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে কাজটা করছে, কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটি কাগজ হাজির করছে, সেটাও সমস্যা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যদের হয়েছে, সরকার দলের সদস্যদেরও হয়েছে।’বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান চিফ হুইপ।এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিষয়টি যখন উঠালেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে কিছু বলবেন না? ক্লোন হয় না হয়, সেটা তো ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাদের হচ্ছে, তারা তো সেটার জন্য দায়ী নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে বলার থাকলে বলেন।’জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গতকালই (বুধবার) কথা হয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা বিটিআরসি শুরু করেছে। যাতে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি।’ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে প্রবেশের আহ্বান এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস রয়েছে। সেখানে ফেস রিডিং করা হয় না, ১২০ থেকে ১২২ জনের মতো হয়। আমাকে সংসদ থেকে অবহিত করা হয়েছে, যাতে সব সংসদ সদস্য ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে ঢোকেন। আজ যেন যাওয়ার সময় সব সদস্য ফেস রিডিং করে যান।’