শুরু হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল আশির দশকের লুকের ট্রেন্ড। কিন্তু ফ্যাশনের সেই স্বর্ণযুগ মানেই কি শুধু ঝাঁকড়া চুল, ঢিলেঢালা সোয়েটার আর ব্যাগি জিনস? আমাদের দেশি ডিভাদের এইটিজ লুক বলছে অন্য কথা। তাঁরা নিজেদের মতো করে গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব স্টাইল স্টেটমেন্ট। শাড়ি হোক আর পশ্চিমা পোশাক, তাঁদের লুক ছিল নজর কাড়ার মতো। তাঁদের অনেকেই পরে হারিয়ে গিয়েছেন। যেমন অভিনেত্রী অলিভিয়া বা নাসরিন। আবার অনেকে এখনও সমান জনপ্রিয়। শাবানা আর ববিতার চার্ম এখনও সবাইকে মুগ্ধ করে। এদিকে দিতি আর দোয়েল পাড়ি জমিয়েছেন পরলোকে। কিন্তু তাঁদের 'ওজি' এইটিজ স্টাইল এখনও রয়ে গিয়েছে সকলের স্মৃতিতে, সিনেমার সেলুলয়েডে আর ছবির গল্পে।

















ছবি: ফেসবুক
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০২৪–২০২৬ মেয়াদের ত্রিবার্ষিক বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো ‘Changing the Narrative on Suicide’—অর্থাৎ আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত বয়ান বদলানো। এই প্রতিপাদ্য নীরবতা ও কলঙ্কের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আত্মহত্যা নিয়ে খোলামেলা, সহমর্মী ও দায়িত্বশীল কথোপকথনের আহ্বান জানায়। আত্মহত্যা সম্পর্কে প্রচলিত নীরবতা, ভুল ধারণা ও কুসংস্কারের বয়ান বদলানোর ডাক এসেছে বিশ্বদরবার থেকে। মূল বার্তা হলো—আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলা, বিপন্ন ব্যক্তির কথা মন দিয়ে শোনা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে তাকে যুক্ত করা। এই বয়ান বদলানো আত্মহত্যা প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আসুন, আত্মহত্যা নিয়ে নীরবতা নয়, সহমর্মিতার সঙ্গে কথা বলি। আত্মহত্যা শুধু একজন মানুষের ব্যক্তিগত সংকট নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭ লাখ ২৭ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার মানুষ। ২০২১ সালে আত্মহত্যা ছিল বিশ্বে ১৫–২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। একই বছরে বৈশ্বিক আত্মহত্যার প্রায় ৭৩ শতাংশ ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। ফলে আত্মহত্যাকে শুধু ধনী দেশের সমস্যা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের চিত্র বাংলাদেশে আত্মহত্যার প্রকৃত সংখ্যা নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা কঠিন। সামাজিক কলঙ্ক, পারিবারিক গোপনীয়তা, মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে নথিবদ্ধ না হওয়া এবং তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধনের সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারি পরিসংখ্যানে সব ঘটনা পুরোপুরি উঠে আসে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যার তথ্যের প্রাপ্যতা ও মান এখনও দুর্বল এবং অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঘটনা কম রিপোর্ট বা অন্যভাবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের তথ্যে দেশে বছরে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন বলে একটি আনুমানিক হিসাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংখ্যাকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর নির্ভুল জাতীয় পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ-কিশোরদের আত্মহত্যার ঝুঁকি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৩–১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৪ শতাংশ ছেলে ও ৬ শতাংশ মেয়ে আত্মহত্যার কথা বিবেচনা করেছে। এই তথ্যটি ২০১৪ সালের Global School-Based Student Health Survey-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি; একই জরিপে দেখা যায়, ওই বয়সী শিক্ষার্থীদের ৮ শতাংশ আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং ৭ শতাংশ গত ১২ মাসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের সবচেয়ে বড় বার্তা হতে পারে—চুপ করে থাকবেন না। শুনুন, পাশে থাকুন, প্রয়োজন হলে পেশাদার সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত করুন। জীবন বাঁচানোর জন্য কথোপকথনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যার চিন্তায় আক্রান্ত মানুষের মনে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাও থাকতে পারে। সংকটের মুহূর্তে সহযোগিতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং যথাযথ চিকিৎসা সেই আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করতে পারে। অর্থাৎ কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে এখন আর পারিবারিক বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গৌণ বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কেন মানুষ আত্মহত্যার কথা ভাবতে পারে? আত্মহত্যার পেছনে সাধারণত একক কোনো কারণ থাকে না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক নানা কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিষণ্নতা ও অন্যান্য মানসিক সমস্যা, পূর্ববর্তী আত্মহত্যার চেষ্টা, আর্থিক সংকট, সম্পর্কের বিরোধ, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অসুস্থতা, সহিংসতা, নির্যাতন, ক্ষতি ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আত্মহত্যার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই তীব্র সংকটের মুহূর্তে মানুষ আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্তও নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— বিষণ্নতা, উদ্বেগসহ বিভিন্ন মানসিক সমস্যা; দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ও অসহায়ত্বের অনুভূতি; প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কের সংকট; পারিবারিক বিরোধ বা বিচ্ছিন্নতা; পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও শিক্ষাজীবনের চাপ; চাকরি বা আর্থিক সংকট; সামাজিক অপমান; বুলিং ও সাইবার বুলিং; শারীরিক অসুস্থতা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা; মাদকাসক্তি; আকস্মিক কোনো তীব্র মানসিক আঘাত। তবে মনে রাখা জরুরি—কোনো একটি ঘটনা একাই আত্মহত্যার কারণ নয়। একই সংকটে পড়ে একজন মানুষ ভেঙে পড়তে পারেন, আবার অন্যজন সহায়তা নিয়ে তা মোকাবিলা করতে পারেন। তাই আত্মহত্যাকে কোনো একক কারণ বা ব্যক্তির চরিত্রগত দুর্বলতার ফল হিসেবে দেখলে সমস্যাটিকে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। আত্মহত্যার ঝুঁকির সংকেত কী? কেউ যদি বারবার বলেন, ‘আমি আর বাঁচতে চাই না’, ‘আমাকে ছাড়া সবাই ভালো থাকবে’, ‘সবকিছু শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে’—তাহলে বিষয়টাকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত পেশাদার সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া হঠাৎ সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, গভীর হতাশা, বিদায় জানানোর মতো আচরণ, নিজের মূল্যহীনতার কথা বলা বা আচরণে আকস্মিক বড় পরিবর্তনও সতর্ক হওয়ার সংকেত হতে পারে। তবে শুধু কোনো একটি লক্ষণ দেখে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে যাওয়া যাবে না। সন্দেহ হলে সরাসরি, শান্তভাবে এবং বিচারহীনভাবে কথা বলা দরকার। কীভাবে কথা বলব? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিপন্ন ব্যক্তির কথা শুনতে হবে। তার কোনো কথা নিয়ে বিচার করা যাবে না, তাকে দোষারোপ করা যাবে না এবং ‘বিচারকের’ মতো আচরণ করা যাবে না। ‘এসব ভাবছ কেন?’ ‘তোমার তো সবই আছে।’ ‘এটা করলে পরিবার কী করবে?’ এ ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য এড়িয়ে চলতে হবে। বরং বলা যেতে পারে, ‘তুমি খুব কষ্টের মধ্যে আছ বলে মনে হচ্ছে। আমি তোমার কথা শুনতে চাই। তুমি একা নও। আমরা একসঙ্গে সাহায্য খুঁজে নেব। তোমার মনের অবস্থাটা তোমার মতো করে বুঝতে চাই।’ এভাবে সহমর্মিতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে হবে। আত্মহত্যার চিন্তার কথা সরাসরি জিজ্ঞেস করলে সাধারণত সেই চিন্তা তৈরি হয় না; বরং বিপন্ন মানুষ নিজের কষ্ট প্রকাশ করার সুযোগ পান। তাই প্রয়োজন হলে সরাসরি জানতে হবে, ‘আপনার কি নিজেকে আঘাত করার বা জীবন শেষ করার চিন্তা হচ্ছে?’ যদি কেউ এমন চিন্তার কথা জানান, তাকে একা না রেখে দ্রুত বিশ্বস্ত ব্যক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। প্রতিরোধ সম্ভব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সময়মতো সহায়তা, প্রমাণভিত্তিক হস্তক্ষেপ এবং সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো যায়। বিশেষ করে প্রয়োজন— . মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা; . স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং এবং মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা বাড়ানো; . বুলিং ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধ করা; . ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিকে একা না রাখা এবং দ্রুত পেশাদার সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করা; . আত্মহত্যার উপায়গুলোর সহজলভ্যতা কমানো; . গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশন করা; . পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে মানুষ নিজের কষ্টের কথা বলতে ভয় না পায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আত্মহত্যা প্রতিরোধে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণভিত্তিক পদক্ষেপের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়—আত্মহত্যার উপায়গুলোর নাগাল সীমিত করা, আত্মহত্যার সংবাদ দায়িত্বশীলভাবে প্রচার করা, কিশোরদের সামাজিক ও আবেগীয় জীবনদক্ষতা বাড়ানো এবং আত্মহত্যার ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত, মূল্যায়ন, চিকিৎসা ও পরবর্তী সহায়তার আওতায় আনা। এবারের থিমের মূল শিক্ষা ‘Changing the Narrative on Suicide’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আত্মহত্যাকে লজ্জা, অপরাধ বা চরিত্রের দুর্বলতা হিসেবে দেখলে বিপন্ন মানুষ আরও একা হয়ে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক কলঙ্ক ও নিষেধাজ্ঞা অনেক মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে রাখে। আমাদের বয়ান বদলাতে হবে। আত্মহত্যার কথা বলা মানুষকে ‘দুর্বল’ না বলে বলতে হবে—সে হয়তো অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং তার সাহায্য প্রয়োজন। সহানুভূতিশীল কথোপকথন হয়তো সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান করবে না, কিন্তু একজন মানুষকে সাহায্য গ্রহণের পথে প্রথম পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুতরাং বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের সবচেয়ে বড় বার্তা হতে পারে—চুপ করে থাকবেন না। শুনুন, পাশে থাকুন, প্রয়োজন হলে পেশাদার সাহায্যের সঙ্গে যুক্ত করুন। জীবন বাঁচানোর জন্য কথোপকথনও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যার চিন্তায় আক্রান্ত মানুষের মনে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষাও থাকতে পারে। সংকটের মুহূর্তে সহযোগিতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং যথাযথ চিকিৎসা সেই আকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করতে পারে। সময়মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাই শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; আত্মহত্যা প্রতিরোধেরও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রথম কাজ আত্মহত্যা প্রতিরোধের প্রথম কাজ হলো মানুষকে তার কষ্টের কথা প্রকাশের জন্য নিরাপদ জায়গা তৈরি করে দেওয়া। বিচার নয়, সহমর্মিতা; নীরবতা নয়, কথোপকথন—এটাই এবারের থিমের মূল শিক্ষা। লেখক: মনোচিকিৎসা বিদ্যার অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক। সাবেক একাডেমি কোর্স ডিরেক্টর এবং পরিচালক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। সম্পাদক, সাহিত্য-সংস্কৃতির মাসিক পত্রিকা ‘শব্দঘর’। এইচআর/জেআইএম
মায়ের মৃত্যুতে কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেওয়া হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এই আদেশ দেন। এর আগে প্যারোলে মুক্তির জন্য চিন্ময়ের পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।আজ সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) মারা যান।চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তাঁর প্যারোল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোল দেওয়া হয়েছে।’চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক ইকবাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। আদেশটি হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হবে।দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন, অন্য মামলা থাকায় আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ওই মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি
সিম্ফনি মোবাইলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেছেন, ‘সিম্ফনি মোবাইলই আমাকে স্মার্ট করেছে।’ আমার কাছে সিম্ফনি শুধু একটি মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড নয়, বরং জীবনের একটি বিশেষ সময়ের স্মৃতি ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। সিম্ফনি মোবাইলের ১৪ কোটি গ্রাহক পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে এ কথা বলেন তৌসিফ মাহবুব। তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘এখানে বসে এক-দুই মিনিট আগে যখন ১৪ কোটি জার্নির একটি ভিজ্যুয়াল দেখছিলাম, সঙ্গে সঙ্গে আমার একটি স্মৃতি মনে পড়ে যায়। সালটা ২০০৯, জুন-জুলাই মাস হবে। তখন আমি সিম্ফনি মোবাইল কিনবো বলে টিউশনি করে টাকা জমিয়েছিলাম। ৭ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে সিম্ফনি এক্সপ্লোরার ডব্লিউ১০ ফোনটি কিনি। ফোনটি কেনার জন্য বন্ধুদের সঙ্গে গিয়েছিলাম। তারা নতুন ও দামি ফোন কেনার জন্য আমার কাছ থেকে ট্রিট নিয়েছিল। সেই ট্রিটের পেছনে আরও ৫০০ টাকা খরচ হয়।’ তিনি বলেন, ‘এই অনুভূতিটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল ছিল। তখন আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি এবং একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে কাজ করি। সে সময় বেশির ভাগ মানুষের কাছে বাটন ফোন ছিল। স্মার্টফোন খুব কম মানুষ দেখেছে। এমনকি স্মার্টফোন শব্দটিও তখন আমি জানতাম না।’ ‘আমি যখন নতুন ফোনটি ক্লাসরুমে সবার সামনে ধরলাম, তখন একজন আমাকে বললো, স্যার, আপনি তো স্মার্ট হয়ে গেছেন। আমি বললাম, কেন? সে বলল, আপনি তো স্মার্টফোন ইউজ করেন। এই স্মার্ট হওয়া আমাকে আসলে শিখিয়েছে সিম্ফনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সিম্ফনি মোবাইলটি ব্যবহার করে বুঝেছিলাম, শুধু ফোন দেওয়া নয়, একটি ফোন দিয়ে অনেক কিছু করা যায়, অনেক কিছু এক্সপ্লোর করা যায়। তখন মোবাইলে ডব্লিউএপি দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হতো। ডব্লিউএপিতে ঢুকে ফেসবুক চালানো-আমার ওই সময় থেকেই ফেসবুক ছিল। আর আজ সেখানে আমারও প্রায় ৫০ লাখ ফলোয়ার।’ তৌসিফ মাহবুব বলেন, ‘এই জার্নিটা আমারও সিম্ফনির সঙ্গে একসঙ্গে, আলাদাভাবে করেছি। আজ একসঙ্গে করতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত। ১৪ কোটি-শব্দটা শুনতে খুব বড় মনে হয়। কিন্তু এটি একদিনে অর্জন হয়নি। একদিনে কোনো কিছুই হয় না।’ এদিকে, দেশে যাত্রা শুরুর পর ১৬ বছরে এই সিম্ফনি মোবাইল এখন ১৪ কোটি মানুষের পরিবার। এই বিশেষ মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলতে তিনজনকে পুরস্কার দেয় প্রতিষ্ঠানটি। ফরিদপুরের রুবেল হোসেন হয়েছেন সিম্ফনির ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৮তম গ্রাহক। তাঁর ঠিক পরেই, ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৯তম গ্রাহক হিসেবে হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার। আর তারপরই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত, ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন গর্বের সঙ্গে হয়ে ওঠেন সিম্ফনির ১৪ কোটিতম গ্রাহক। অনুষ্ঠানে এডিসন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিম্ফনি মোবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শাহিদ বলেন, এই অর্জনের পেছনের আসল শক্তি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা। ভবিষ্যতেও গ্রাহকের প্রয়োজন আর নতুন প্রযুক্তিকে কেন্দ্রে রেখেই সিম্ফনি ও এডিসন গ্রুপ একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চায় বলে জানান তিনি। ১৪ কোটি গ্রাহকের এই মাইলফলকই শেষ নয়, বরং আরেকটি বড় যাত্রার শুরু। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে দ্রুতগতির সংযোগ- প্রযুক্তির জগৎ পাল্টাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও আধুনিক, প্রয়োজনভিত্তিক ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে আসাই এডিসন গ্রুপ ও সিম্ফনি মোবাইলের আগামী দিনের লক্ষ্য। ইএইচটি/এমএএইচ/