সকালে ঘুম থেকে উঠেই জয়েস থমাসের মনে হয়, আজ কী হবে? রাতে ঘুম আসে না, খাবারেও আর আগের মতো রুচি নেই। ৭৮ বছর বয়সে এসে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন তিনি।
যে সুইডেনে স্বামীর সঙ্গে ২২ বছর আগে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন, এখন সেই দেশই জয়েসকে চলে যেতে বলছে।
অবসরপ্রাপ্ত নার্স জয়েস থমাস একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তিন বছর আগে ক্যানসারে স্বামী মারা গেছেন। এরপরও সুইডেনেই থেকে গেছেন জয়েস। এখানে তাঁর ছেলে, নাতি-নাতনি, বন্ধু—সবকিছু। এমনকি স্বামীর কবরটিও।
কিন্তু ব্রেক্সিট-পরবর্তী একটি আবেদনের জটিলতায় এখন বৃদ্ধ জয়েসকে সুইডেন ছাড়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বামীর কবরটিও ছেড়ে যেতে হতে পারে তাঁকে।
সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) পর দেশটিতে (সুইডেনে) বসবাসের জন্য জয়েস ও তাঁর স্বামীর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা উচিত ছিল। সেই আবেদন তাঁরা করেননি।
সুইডেনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ার পর দেশটিতে (সুইডেনে) বসবাসের জন্য জয়েস ও তাঁর স্বামীর আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা উচিত ছিল। সেই আবেদন তাঁরা করেননি।
সুইডেনে নিজের বাড়ি থেকে বিবিসিকে জয়েস বলেছেন, তাঁরা জানতেনই না যে এমন কোনো আবেদন করতে হবে।
জয়েসের ভাষ্য, ‘এটা একেবারে নরকের মতো। আমি ঘুমাতে পারছি না, খেতে পারছি না। সকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারি না, কী হতে যাচ্ছে।’
স্বেচ্ছায় সুইডেন ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ৮ সেপ্টেম্বর ছিল জয়েসের শেষ সময়।
২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা আর ইইউর নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হননি। তাই আগের মতো বসবাসের অধিকার নিয়ে সুইডেনে থাকা তাঁদের জন্য আর সম্ভব ছিল না।
তবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে করা চুক্তির আওতায় একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সেই সময় ব্রিটিশ নাগরিকেরা সুইডেনে থাকার জন্য বসবাসের মর্যাদার আবেদন করতে পারতেন। এ আবেদনের সময় শেষ হয় ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর। জয়েস ও তাঁর স্বামী সেই আবেদন করেননি।
জয়েস বলেন, তাঁরা জানতেনই না যে আবেদন করা প্রয়োজন। ২০২৩ সালে সুইডেনে ফিরে আসার চেষ্টা করার সময় প্রথমবার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। এরপর শুরু হয় আবেদন আর আপিলের দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
সুইডেনে বসবাসের অধিকার ধরে রাখতে জয়েস একাধিকবার আবেদন করেছেন। সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও করেছেন। কিন্তু একের পর এক তাঁর আবেদন ও আপিল প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
গত মাসে সুইডেনের অভিবাসনসংক্রান্ত সরকারি সংস্থা মাইগ্রেশনসভেরকেট জয়েসকে জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় তাঁর দেশ ছাড়ার সময়সীমা এ বছরের ৮ সেপ্টেম্বর।
অবসরপ্রাপ্ত নার্স জয়েস থমাস একজন ব্রিটিশ নাগরিক। তিন বছর আগে ক্যানসারে স্বামী মারা গেছেন। এরপরও সুইডেনেই থেকে গেছেন। এখানে তাঁর ছেলে, নাতি-নাতনি, বন্ধু—সবকিছু। এমনকি স্বামীর কবরটিও। কিন্তু ব্রেক্সিট-পরবর্তী একটি আবেদনের জটিলতায় এখন তাঁকে সুইডেন ছাড়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অর্থাৎ জয়েস ২২ বছর ধরে যে দেশে বসবাস করছেন, সেখান থেকে তাঁকে এখন চলে যেতে হবে। তাঁর আইনজীবীরা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন জয়েস।
দেশ ছাড়তে হলে শুধু একটি দেশই ছাড়তে হবে না জয়েসকে; ছেড়ে যেতে হবে তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং স্বামীর কবর। এ ভাবনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দিচ্ছে।
জয়েস বলেন, ‘আমি ক্লান্ত, সত্যিই আমি ক্লান্ত। আর আমি তো এখন তরুণ নই। সহানুভূতি কোথায়? আমি এখানে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছি। এখানে আমার বন্ধু আছে, পরিবার আছে।’
জয়েসের বিষয়টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। ব্রেক্সিটের পর সুইডেনে বসবাসকারী আরও কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিক একই ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছেন।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বলছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সুইডেন থেকে যুক্তরাজ্যের ২ হাজার ৪৯০ জন নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্যদেশে ওই সময়ে দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া ৭ হাজার ৫০০-এর বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই সুইডেনপ্রবাসী।
সুইডেনের মাইগ্রেশনসভেরকেট জয়েসের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর সম্মতি ছাড়া মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ব্রিটিশ নাগরিকদের কতজন বর্তমানে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে রয়েছেন, সে প্রশ্নেরও উত্তর দেয়নি সংস্থাটি।
তবে গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ানকে সংস্থাটি জানিয়েছে, ব্রেক্সিটের পর থেকে ৪৫৮ জন ব্রিটিশ নাগরিককে সুইডেন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে অথবা জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত মাসে একটি পরিবার বিবিসিকে জানিয়েছিল, তাদের বাবাকেও সুইডেন থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তি ডিমেনশিয়া ও ভাসকুলার পারকিনসনিজমে আক্রান্ত। সুইডেনে একটি পরিচর্যাকেন্দ্রে পূর্ণকালীন চিকিৎসা ও সেবা নিচ্ছেন তিনি। দেশটিতে বসবাস করছেন দুই দশকের বেশি সময় ধরে।
সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফোরসেল অবশ্য বলেছেন, বর্তমান নিয়মের কাঠামোটি আগের সরকার চালু করেছিল। বর্তমান সরকার পরিস্থিতিটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।
অভিবাসনমন্ত্রী বিবিসিকে বলেন, ‘যাঁরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ করতে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।’
জয়েস থমাসের ঘটনা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি মন্ত্রী। তবে তিনি বলেছেন, ‘সরকার মনে করে, নিয়মগুলো উদারভাবে প্রয়োগ করা উচিত।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সুইডেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার। আমরা চাই, সুইডেনে বসবাস ও কর্মরত ব্রিটিশ নাগরিকেরা যেন এখানে থাকতে পারেন।’ এ ক্ষেত্রে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তা বুঝতে সংশ্লিষ্ট সুইডিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকার আলোচনা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জয়েস থমাসের নির্বাচনী এলাকার বিরোধী দল ভ্যানস্টেরপারিয়েটের (দ্য লেফট পার্টি) আইনপ্রণেতা (এমপি) হোকান সভেনেলিং সরকারের অভিবাসননীতির সমালোচনা করেছেন। তিনি এটিকে সরকারের ‘অমানবিক অভিবাসননীতি’ বলে আখ্যা দেন।
হোকান সভেনেলিং বিবিসিকে বলেন, ‘এ কারণেই আমি আশা করি, রোববারের সুইডিশ নির্বাচন একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হবে। বিরোধীরা সরকার গঠন করতে পারবে এবং অভিবাসননীতি পরিবর্তন করবে, যেন জয়েস এবং সুইডেনের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক থাকা অন্য ব্রিটিশ নাগরিকেরা এখানে থাকতে পারেন।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়নবিষয়ক দপ্তরও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘সুইডিশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করবে, তাদের এমন বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। এ বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত।’
কিন্তু জয়েসের জন্য আর সময় নেই। যে দেশে ২২ বছর আগে স্বামীর হাত ধরে এসেছিলেন, সেই সুইডেনে তাঁর জীবনের কত গল্প জমে আছে। এখানেই গড়ে উঠেছে তাঁর সংসার। হারিয়েছেন জীবনসঙ্গীও। এখানেই ছেলে, নাতি-নাতনিদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। এখানেই মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছেন তাঁর স্বামী। তাই সুইডেন ছেড়ে যাওয়া জয়েসের কাছে শুধু একটি দেশ ছেড়ে যাওয়া নয়; যেন নিজের জীবনেরই এক বড় অংশ পেছনে ফেলে যাওয়া।
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবার সিনেমা বা সিরিজে নয়, আলোচনায় এসেছেন একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে। নতুন স্পোর্টস ট্রেডিং ও প্রেডিকশন অ্যাপ নোভিগের বিজ্ঞাপনে প্রায় পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে দেখা যায় বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জামের সঙ্গে। কোথাও বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকেছেন, কোথাও আবার হকি গোলপোস্ট, ফুটবল প্যাড, বেসবল ক্যাচারের হেলমেট কিংবা হকি গোলকিপারের মাস্ক ব্যবহার করেছেন। সুইনি শুধু এই বিজ্ঞাপনের মুখ নন, নোভিগের কৌশলগত অংশীদার ও শেয়ারহোল্ডারও হয়েছেন। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে এক বিবৃতিতে সুইনি বলেন, ‘মজার একটি ধারণাকে সামনে আনাই ছিল এই প্রচারের উদ্দেশ্য। ভাবনাটি খুব সহজ—সব ধরনের বাড়তি শব্দ সরিয়ে মনোযোগটা পুরোপুরি খেলাধুলার দিকে নেওয়া।’বিজ্ঞাপনের শুরুতেই সুইনিকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাবছেন খেলাধুলা সম্পর্কে আপনি সব জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন।’ এরপর ক্যামেরার সামনে নগ্ন অবস্থায় একটি বাস্কেটবল হুপের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। শরীর ঢেকে রেখেছেন কয়েকটি বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে।এরপর বিজ্ঞাপনটি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। কখনো হকি গোলকিপারের পোশাকের অংশ, কখনো ফুটবল প্যাড, আবার কখনো বেসবল ক্যাচারের হেলমেট পরে দেখা যায় সুইনিকে। একপর্যায়ে তিনি নোভিগের জার্সিও পরেন।সিডনি সুইনি। রয়টার্সনোভিগ গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য বয়স হতে হবে অন্তত ২১ বছর। আধুনিক আর্থিক বাজারের ট্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে খেলাধুলাকেন্দ্রিক প্রেডিকশন মার্কেটের ধারণা মিলিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।তবে খোলামেলা বিজ্ঞাপনে সুইনির উপস্থিতি এবারই প্রথম নয়। চলতি বছর নিজের অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড সির্ন চালু করার পর সেখানকার প্রচারণাতেও একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। গত বছর আমেরিকান ইগলের একটি জিনসের বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেছিলেন সুইনি। বিজ্ঞাপনে ‘গুড জিনস’ শব্দ নিয়ে করা শব্দখেলা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করে বারবার বিতর্কে, কে এই সিডনিঅভিনয়ের দিক থেকেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সুইনি। ‘দ্য হাউসমেইড’-এর সাফল্যের পর এর সিকুয়েল ‘দ্য হাউসমেইডস সিক্রেট’-এ দেখা যাবে তাঁকে। ‘এনিবডি বাট ইউ’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। তুলনামূলক ছোট বাজেটের সেই রোমান্টিক কমেডি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ডলার আয় করে বড় বক্স অফিস সাফল্য পায়।সুইনির সামনে আরও আছে নেটফ্লিক্সের ‘গান্ডাম’ সিনেমা এবং স্টুডিওক্যানালের ‘দ্য কাস্টম অব দ্য কান্ট্রি’।ভ্যারাইটি অবলম্বনে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ‘কেয়ার ইকোনমি অ্যান্ড দ্য লেবার মার্কেট: রিথিংকিং উইমেনস ইকোনমিক এজেন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাবির সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে এ সভার আয়োজন করা হয়। সেন্টার ফর জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. সানজীদা আখতারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহীন আনাম এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক। আরও পড়ুন রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতার অভিযোগ: ঢাবির ৯২ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গৃহস্থালি ও পরিবারের সদস্যদের যত্ন নেওয়ার মতো অবৈতনিক কাজ এখনো নারীদের ওপর নির্ভরশীল। এসব কাজ নারীর শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে যত্নমূলক কাজের গুরুত্ব স্বীকার করতে হবে এবং এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তারা বলেন, নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আরটি/এমএমকে
হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন বাতিলের দাবিতে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দেশের সব বিভাগীয় শহরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের আইজিবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এসময় তিনি গত ৬ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইনকে শরিয়তবিরোধী আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই পবিত্র কোরআনের অবিসংবাদিত বিধানের পরিপন্থি আইন পাস করা হয়েছে, যা জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর স্পষ্ট আঘাত। হেবার অপব্যবহার রোধ বা বাবা-মা’কে উচ্ছেদ ঠেকাতে আইন করার প্রয়োজন হলেও শরিয়ত লঙ্ঘন করে তা করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়। দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের মতো বাস্তব সমস্যা সমাধান বাদ দিয়ে শরিয়তবিরোধী এ ধরনের উদ্যোগে হতাশা প্রকাশ করে দলটি। অবিলম্বে উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনটিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার জোর দাবি জানানো হয়। এমইউ/এমআইএইচএস/