একসময় ইউটিউবে কোনো নাটকের ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ভিউ পাওয়া ছিল প্রায় অকল্পনীয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। পাকিস্তানি নাটকের জনপ্রিয়তা এখন সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এবার সেই সাফল্যের তালিকায় যুক্ত হলো পাকিস্তানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জানজিরিন’।
হাম টিভিতে প্রচারিত নাটকটি গত আগস্টে ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করে। এরপরও থামেনি দর্শকদের আগ্রহ। বরং দিন যত গড়িয়েছে, নাটকটির ভিউ তত বেড়েছে। বর্তমানে ‘জানজিরিন’-এর মোট ভিউ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল প্রথম পর্ব প্রচারের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘জানজিরিন’। উপমহাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার ফারহাত ইশতিয়াকের লেখা নাটকটি পরিচালনা করেছেন শাহজাদ কাশমিরি। উপজাতীয় পটভূমিতে নির্মিত এই নাটকের গল্পে রয়েছে টানটান উত্তেজনা, মানবিক সম্পর্ক ও নানা নাটকীয়তা। প্রচারের শুরু থেকেই দর্শকদের নজর কাড়ে ধারাবাহিকটির প্রতিটি পর্ব।
‘জানজিরিন’-এর সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এর শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রগুলো। নাটকে ‘রাবিয়া’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাজাল আলী। অন্যদিকে ‘সার বুলন্দ খান’ চরিত্রে দানিয়াল জাফরের সঙ্গে তার পর্দার রসায়নও দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
এছাড়া ‘শেরদিল’ চরিত্রে আহসান খানের অভিনয়ও নজর কেড়েছে। নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন আমির গিলানি, সাহার হাশমি, আদনান সিদ্দিকী, সামিয়া মমতাজ, উসমান জাভেদ ও মোমাল শেখ।
পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতেও ‘জানজিরিন’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইউটিউবে ১ বিলিয়নের বেশি ভিউয়ের পাশাপাশি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাওয়া ভিউই প্রমাণ করছে, অনলাইন দর্শকদের মধ্যে নাটকটির জনপ্রিয়তা কতটা তুঙ্গে।
এলআইএ
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফিতে শিরোপা জেতার পর এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ওমান সফর দিয়ে শুরু হবে তাদের প্রথম দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক অ্যাসাইনমেন্ট। এরপর আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি সিরিজ রয়েছে সূচিতে। যুব দলের হেড কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, সামনে থাকা সিরিজগুলোকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখছেন তারা। শিরোপা জয়ের পরও তাই থেমে থাকার সুযোগ নেই, বরং ধারাবাহিকভাবে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিতে চান তিনি। বুধবার জিডি ট্রফি জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে হান্নান বলেন, ‘আমাদের সামনে আরও বেশ কিছু সময় আছে। আফগানিস্তান অ্যাওয়ে সিরিজ রয়েছে, এশিয়া কাপ রয়েছে। আগামী বছর আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও অনেকগুলো সিরিজ শিডিউলে আছে।’ গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফিতে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলেও বিভিন্ন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে দল অপরাজিত থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে-এটিকেই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন হান্নান। তিনি বলেন, ‘দিনশেষে আমাদের লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপ। আপনি যদি দেখেন, আমরা খুব বেশি ম্যাচ খেলিনি। এরপরও ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি সামলাতে হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বড় কথা নয়, এই টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি সেটাই বড় কথা।’ ওমান সফরের আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে নিয়ে ১০ দিনের একটি স্কিল ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে বিসিবি। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরই আন্তর্জাতিক সফরে যাবে দল। এসকেডি/এমএমআর
মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তিন ট্রাক ইউরিয়া সারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। তিন ট্রাকে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার ছিল। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত ১টার দিকে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ঘাট সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সার ও ট্রাক জব্দ করা হয়। আরও পড়ুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী / ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী, প্রতিনিধিও যাবেন না কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাটিয়ারী কোস্ট গার্ড স্টেশনের একটি দল বাঁশবাড়িয়া ঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক থেকে কার্গো বোটে সার স্থানান্তরের সময় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তায় মোট ৩৫ হাজার কেজি সার ছিল। জব্দ করা সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাক ও দুইজনকে আটক করা হয়। আরও পড়ুন শুরু হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দ করা সার, পাচারের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। এমআরএএইচ/কেএসআর
দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত বর্তমান নেতৃত্ব দ্রুত নির্বাচন চান শিক্ষার্থীরা ৩৬ দফার বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ এক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন নিজেদের প্রতিনিধি। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত সেই ডাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কমতি ছিল না। নির্বাচনের আগে ৩৬ দফার ইশতেহার সামনে রেখে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজয়ী প্যানেল। নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকটের সমাধান, মানসম্মত খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত পরিবহন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার ও একাডেমিক পরিবেশ—প্রতিশ্রুতির তালিকা ছিল দীর্ঘ। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে তারা প্রস্তুত। এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—এখন সামনে উঠছে সেই প্রশ্নই। আরও পড়ুন ডাকসু / শিবির সমর্থিত প্যানেলের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হলো? ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব বলছে, নানা বাধা, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, গত এক বছরে পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং হলের পড়াশোনার পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী ছাত্রসংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ—৩৬ দফার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং খাদ্য, আবাসন, নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। কারো কারো অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ক্ষমতার চর্চাই ডাকসুর কার্যক্রমে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আরও পড়ুন ছাত্রসংসদ মানে ক্ষমতা নয়, সেবা; আধিপত্য নয়, প্রতিনিধিত্ব: ডাকসু ভিপি ফলে এক বছর পূর্তিতে ডাকসুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সাফল্যের দাবি ও ব্যর্থতার অভিযোগ—দুই বিপরীত বয়ান। ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফিরে আসার পথও বন্ধ হয়েছে। ক্ষমতা চর্চার উৎস নয়, পবিত্র দায়িত্ব এক বছর পূর্তিতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একদিনও পদ আঁকড়ে থাকার ইচ্ছা তাদের নেই। ডাকসুকে তারা ক্ষমতা চর্চার উৎস হিসেবে নয়, পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। তার ভাষায়, পরবর্তী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে তারা প্রস্তুত। নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা কোনো ঘাটতি না রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসুর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিলেন ঢাবির ৬৫০০ শিক্ষার্থী এবি জুবায়েরের দাবি, বিভিন্ন পর্যায়ে অসহযোগিতা ও বিরোধিতা থাকলেও আল্লাহর রহমতে তারা একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন এবং দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়মিত নির্বাচিত ছাত্র সংসদ চান বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নানা দিক থেকে বাধা ও প্রতিকূলতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। ভিপির চোখে ‘ইতিবাচক রূপান্তরের সূচনা’ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক বছর পূর্তিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, নানা অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তার দাবি, ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফিরে আসার পথও বন্ধ হয়েছে। পরিবহন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং হলের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বৈঠক, চূড়ান্ত হয়নি তফসিল সাদিক কায়েমের ভাষায়, ছাত্র সংসদ মানে ক্ষমতা নয়—সেবা; আধিপত্য নয়—প্রতিনিধিত্ব; ভয় নয়—স্বাধীনতা। নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সংকট দূর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। নতুন অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হলে থাকার সমস্যাও পুরোপুরি দূর হবে না। তিনি নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে তারা প্রস্তুত। জিএসের বক্তব্যে ‘লড়াইয়ের এক বছর’ ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বছরকে দেখছেন দীর্ঘ লড়াইয়ের সময় হিসেবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নানা দিক থেকে বাধা ও প্রতিকূলতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। তার দাবি, গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য সহস্রাধিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা কাজ করেছেন। হল দখল ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পুরোনো সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ফরহাদ বলেন, এবার হলগুলোকে কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হয়নি। হল শিক্ষার্থীদেরই থাকবে—এমন অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে ডাকসু সভায় ২৯ সিদ্ধান্ত একই সঙ্গে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন জিএস। ৩৬ দফার পর অপ্রকাশিত ‘৩৭ নম্বর ইশতেহার’ যেন ছিল—‘প্রশাসনিক অসহযোগিতায় বাকি ৩৬টিও বাস্তবায়ন করতে পারবো না।’ আত্মমূল্যায়নে ডাকসুকে ১০-এ ৬.৫ তবে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নে ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রমকে ১০-এর মধ্যে ৬.৫ দিয়েছেন। তার মতে, একজন শিক্ষার্থী নিজের খাতা নিজে মূল্যায়ন করলে যেমন নিজের ভুল-ত্রুটিও সামনে আসে, ডাকসুর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ডাকসু ও হল সংসদ কার্যকর থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির মধ্যে আসতে হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য, আবাসন ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়ে এখনো প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আবাসন সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সংকট দূর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। নতুন অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হলে থাকার সমস্যাও পুরোপুরি দূর হবে না। খাবারের মান ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হলেও খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে ইকো-ফ্রেন্ডলি বাস শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়াকে তিনি ডাকসুর অন্যতম অর্জন হিসেবে দেখছেন। হাসপাতালে শয্যার ব্যবস্থা, আইসোলেশনে সহযোগিতা, মোবাইল বা ব্যাগ চুরির মতো সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৩৬ দফা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ডাকসুর এক বছরের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নির্বাচনের আগে দেওয়া ৩৬ দফা ইশতেহার। বিরোধীদের অভিযোগ, যে ছয়টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল—নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে তথ্য ও সেবা—সেগুলোর কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। ছাত্রদলের ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মায়েদ কটাক্ষ করে বলেন, ৩৬ দফার পর অপ্রকাশিত ‘৩৭ নম্বর ইশতেহার’ যেন ছিল—‘প্রশাসনিক অসহযোগিতায় বাকি ৩৬টিও বাস্তবায়ন করতে পারবো না।’ তার দাবি, বর্তমান ডাকসু তাদের মেয়াদের প্রথম ছয় মাস এক প্রশাসন এবং পরের ছয় মাস আরেক প্রশাসনের অধীনে কাজ করেছে। তবে প্রথম ছয় মাস তারা ডাকসুর কার্যক্রমের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি ব্যস্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনকে দায় দিয়ে দায় এড়ানো যাবে না শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। ঢাবির শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসাইন মনে করেন, প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য দেওয়া ভোটের মূল্যকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। যে ছয়টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল—নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে তথ্য ও সেবা—সেগুলোর কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। তার অভিযোগ, ৩৬ দফা ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিতভাবে পূরণ হয়নি। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশনুন স্নিগ্ধও ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। তার প্রশ্ন—ইশতেহার দেওয়ার সময় এসব বাস্তবায়নের কথা মাথায় ছিল না কি? তার অভিযোগ, মেয়াদ শেষের দিকে কিছু কাজ তড়িঘড়ি করে করে সেগুলোর প্রচারণা চালানোই হয়তো বর্তমান নেতৃত্বের লক্ষ্য। ডাকসু প্রশাসনের জন্য জবাবদিহির জায়গা তৈরি করেছে তবে সব শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন নেতিবাচক নয়। ঢাবির শিক্ষার্থী হোছাইন আহমেদ জুবায়েরের মতে, ডাকসু ও হল সংসদ কার্যকর থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির মধ্যে আসতে হয়েছে। তার ভাষায়, প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আরেক শিক্ষার্থী সুহাইল মাহদীন মনে করেন, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। তার মতে, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকও বর্তমান ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি ডাকসু। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ডাকসু যথাযথ অবস্থান নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ছাত্রদলের সমালোচনা, শিবিরের পাল্টা বক্তব্য ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের অন্যতম সমালোচক ছাত্রদল নেতা হামিমের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ৩৬ দফার প্রসঙ্গ। তার দাবি, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। খাবার, পানি, শিক্ষক মূল্যায়ন, হলের মৌলিক সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডাকসু নির্বাচন মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে হল, বিভাগ, অনুষদ ও বিভিন্ন কমিটি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও জরুরি সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে ডাকসু কার্যালয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অনিক খন্দকার বর্তমান ডাকসুর নেতৃত্বকে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ৩৬ দফার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে নানা অজুহাত দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য—‘নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এগোচ্ছে’ পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, ডাকসু নির্বাচন মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তার ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে হল, বিভাগ, অনুষদ ও বিভিন্ন কমিটি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—পরবর্তী ডাকসু কবে? এক বছর আগে যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন হয়েছিল, এক বছর পর সেই ডাকসুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এরপর কী? বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত। কেউ বলছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কেউ নিজের কার্যক্রমকে ১০-এর মধ্যে ৬.৫ নম্বর দিয়ে স্বীকার করছেন প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান। আবার বিরোধীরা বলছেন, ৩৬ দফার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী মূল্যায়নের মধ্যেই শেষ হচ্ছে বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ ছাত্র সংসদ শুধু একটি নির্বাচিত কমিটির নাম নয়; এটি শিক্ষার্থীদের কথা বলার, দাবি জানানোর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার অন্যতম সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। তাই এখন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা—পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে? এক বছর আগে যে ভোটে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এবার সেই ভোটই ঠিক করবে—আগামী এক বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব কার হাতে যাবে। আরটি/এসএইচএস