একটা সিনেমা কখনো কখনো একজন অভিনেতার জীবনটাই বদলে দেয়। রাতারাতি তাঁকে বানিয়ে দেয় তারকা। কিন্তু সেই খ্যাতি ধরে রাখা যায় না সব সময়। ১৯৯০ সালে ‘আশিকি’ মুক্তির পর রাহুল রায়ের জীবনেও ঘটেছিল এমনই এক বিস্ময়কর পরিবর্তন। ছবিটি তাঁকে রাতারাতি ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলে। তাঁর লম্বা চুল, শান্ত চেহারা, প্রেমিকসুলভ অভিব্যক্তি—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ‘চকলেট বয়’।
কিন্তু এর পরের গল্পটা এতটা মসৃণ ছিল না। একের পর এক সিনেমা ব্যর্থ হয়েছে, অনেক প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে, অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে জীবিকার জন্য রান্নাঘরে বাসনও মেজেছেন। পরে রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’-এর প্রথম মৌসুম জিতে আবার আলোচনায় আসেন। কিন্তু সেই জনপ্রিয়তাও স্থায়ী ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারেনি।
এরপর ২০২০ সালে শুটিং করতে গিয়ে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়া তাঁর জীবনের আরেক বড় ধাক্কা। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর এখনো তিনি নতুন করে কাজের সন্ধান করছেন। সম্প্রতি জানিয়েছেন, কখনো কখনো বিয়ের অনুষ্ঠানে নেচে একেকবার দুই থেকে চার লাখ ভারতীয় রুপি আয় করেন। এই স্বীকারোক্তিই আবার তাঁকে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
‘আশিকি’ আর রাতারাতি তারকা হয়ে যাওয়া
১৯৯০ সালে মহেশ ভাটের ‘আশিকি’ ছিল মূলত প্রেম ও সংগীতনির্ভর একটি সিনেমা। রাহুল রায়ের বিপরীতে ছিলেন আনু আগরওয়াল। ছবিটি শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য পায়নি, এর গানও তৈরি করেছিল আলাদা উন্মাদনা। নাদিম-শ্রাবণের সুর, কুমার শানু ও অনুরাধা পাড়ওয়ালের কণ্ঠ—‘ধীরে ধীরে সে’, ‘তু মেরি জিন্দেগি হ্যায়’, ‘নজর কে সামনে’সহ একের পর এক গান মানুষের মুখে মুখে ফিরেছে।
‘আশিকি’র সাউন্ডট্র্যাকের প্রায় দুই কোটি কপি বিক্রি হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। এত বড় সাফল্য শুধু ছবির অভিনেতাদের নয়, নাদিম-শ্রাবণ ও কুমার শানুকেও প্রতিষ্ঠিত করে। নব্বইয়ের দশকের হিন্দি সিনেমায় রোমান্টিক গানের যে নতুন ঢেউ এসেছিল, ‘আশিকি’ তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।
আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন রাহুল। ২৪ বছর বয়সে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেই তিনি হয়ে গেলেন তারকা। পরে এক সাক্ষাৎকারে নিজেই স্বীকার করেছিলেন, ‘আশিকি’র পর তাঁর জীবন এত দ্রুত বদলে গিয়েছিল যে বিষয়টি সামলানোও সহজ ছিল না।
তাঁর জনপ্রিয়তা শুধু সিনেমার পর্দায় আটকে থাকেনি। রাহুলের চেহারা ও চুলের স্টাইলও হয়ে উঠেছিল তরুণদের অনুসরণ করার বিষয়।
‘রাহুল রায় কাট’—চুলের স্টাইলেও প্রভাব
নব্বইয়ের দশকে বলিউডের নায়ক মানেই শুধু সিনেমার চরিত্র নয়, তাঁর পোশাক, চুল, হাঁটার ধরন—সবই হয়ে উঠত জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ। রাহুল রায়ের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল।
‘আশিকি’তে তাঁর লম্বা, পরিপাটি চুলের স্টাইল এতটাই জনপ্রিয় হয় যে সেটি পরিচিতি পায় ‘রাহুল রায় কাট’ নামে। সে সময় তরুণদের অনেকে সেলুনে গিয়ে তাঁর মতো চুল কাটার আবদার করতেন। বিভিন্ন ফ্যাশন-আর্কাইভেও তাঁকে নব্বইয়ের দশকের উল্লেখযোগ্য স্টাইল আইকন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের বিভিন্ন শহরেও এর প্রভাব দেখা গিয়েছিল। এমনকি দার্জিলিং অঞ্চলের স্মৃতিচারণামূলক লেখায় বলা হয়েছে, নব্বইয়ের দশকে স্কুলপড়ুয়া ছেলেদের মধ্যেও ‘আশিকি স্টাইল’ জনপ্রিয় ছিল।

এক ছবির পর অনেক ছবি, কিন্তু সাফল্য আর ফিরল না
‘আশিকি’র পর স্বাভাবিকভাবেই রাহুলের হাতে আসতে থাকে একের পর এক সিনেমার প্রস্তাব। ১৯৯২ সালে ‘সপ্নে সাজন কে’, ‘গজব তামাশা’, ‘জুনুন’সহ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। বিশেষ করে ‘জুনুন’-এ তাঁকে ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যায়। এরপর ‘ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে’, ‘গুমরাহ’, ‘জানম’সহ বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেন।
‘ফির তেরি কাহানি ইয়াদ আয়ে’ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর একটি। মহেশ ভাট পরিচালিত এই ছবিতে তাঁর চরিত্র ছিল একজন অ্যালকোহল আসক্ত চলচ্চিত্র পরিচালকের, যে পুনর্বাসনকেন্দ্রে যায়। ছবিটির আবেগঘন গল্প ও সংগীতের জন্যও এটি মনে রাখা হয়।
কিন্তু সমস্যা হলো, ‘আশিকি’র বিশাল সাফল্যের পর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, রাহুল তা আর পূরণ করতে পারেননি। তাঁর অনেক ছবি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়। বেশ কিছু সিনেমা আবার নির্মাণই শেষ করতে পারেনি। ‘দিল দিয়া চোরি চোরি’, ‘ক্যালযুগ’, ‘ভাজরা’, ‘জব জব দিল মিলে’র মতো একাধিক প্রকল্প আটকে যায়। ফলে একটা সময় নিয়মিত কাজও কমতে থাকে।
এভাবেই যে অভিনেতা ১৯৯০ সালে বলিউডের নতুন প্রজন্মের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি ইন্ডাস্ট্রির মূল স্রোত থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করেন।
বিয়ে, অস্ট্রেলিয়া, তারপর আরও একবার হারিয়ে যাওয়া
ব্যক্তিজীবনেও রাহুলের জীবন ছিল আলোচিত। ২০০০ সালে তিনি মডেল রাজলক্ষ্মী খানভিলকরকে বিয়ে করেন। প্রায় ১৪ বছর সংসার করার পর ২০১৪ সালে দুজনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বিচ্ছেদটি ছিল পারস্পরিক সিদ্ধান্তে।
এর আগে ও পরে রাহুল দীর্ঘ সময় অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে অনুসরণ করে অস্ট্রেলিয়াতেও গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে যে সময়টা কেটেছে, সেটি তাঁর নিজের ভাষায় ছিল বেশ কঠিন।
এক সাক্ষাৎকারে রাহুল জানিয়েছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর নিয়মিত কোনো কাজ ছিল না। এমনকি রান্নাঘরে বাসন মাজার কাজও করেছেন। বলেছিলেন, ভারতে তিনি যে জগতের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন, অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে সেটি একেবারেই বদলে যায়।
একসময় যাঁর ছবি সিনেমার পোস্টারে, গান টেলিভিশনে, চেহারা তরুণদের সেলুনে—তাঁর এমন জীবনযাপন ছিল বলিউডের ঝলমলে দুনিয়ার বিপরীত ছবি।
‘বিগ বস’ দিয়ে আবার আলোচনায়
২০০৬ সালে রাহুল রায়ের জীবনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি ‘বিগ বস’-এর প্রথম মৌসুমে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন। সেই সময় এটি ছিল ভারতের নতুন ধরনের রিয়েলিটি টেলিভিশনের শুরু। ৮৬ দিনের প্রতিযোগিতা শেষে রাহুল জয়ী হন।
‘বিগ বস’ তাঁকে আবার সাধারণ দর্শকের সামনে নিয়ে আসে। অনেক তরুণ দর্শক তাঁকে নতুন করে চিনেছিল, আবার নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে ফিরে এসেছিল পুরোনো নস্টালজিয়া।
কিন্তু রিয়েলিটি শোর এই জনপ্রিয়তা তাঁর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে পারেনি। তিনি অভিনয় ও প্রযোজনায় ফিরলেও নিয়মিত বড় কাজের সুযোগ পাননি।
২০২০ সালের ব্রেন স্ট্রোক
রাহুলের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি আসে ২০২০ সালে। ‘এলএসি—লাইভ দ্য ব্যাটল’ ছবির শুটিং করতে গিয়ে লাদাখের কার্গিল এলাকায় থাকাকালে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তখন তাঁর কথা বলতেও সমস্যা হচ্ছিল। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন।
স্ট্রোকের পর তাঁকে নতুন করে হাঁটা, কথা বলা—স্বাভাবিক জীবনের অনেক কিছুই শিখতে হয়েছে। চিকিৎসা ছিল ব্যয়বহুল। এই সময়ে বলিউডের কয়েকজন সহকর্মী তাঁর পাশে দাঁড়ান। সালমান খান তাঁর চিকিৎসার বকেয়া খরচ মেটাতে সাহায্য করেছিলেন বলে রাহুলের ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন।
অসুস্থতার কারণে কাজ থেকে আরও দূরে সরে যেতে হয় তাঁকে। আর দীর্ঘ সময় কাজ না থাকায় তৈরি হয় আর্থিক সংকটও।

এখন বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচেন
সম্প্রতি রাহুল রায় নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, স্ট্রোকের পর নিয়মিত কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। গত কয়েক বছর তিনি নিজের জীবন নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই সময় আয় করার জন্য নানা ধরনের কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। এর মধ্যে রয়েছে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কখনো কখনো একটি অনুষ্ঠানে নেচে দুই থেকে চার লাখ ভারতীয় রুপি পর্যন্ত আয় করেন তিনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো।
এই তথ্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করেছেন। কিন্তু রাহুলের বক্তব্য, তিনি কারও কাছে হাত পাতছেন না—পরিশ্রম করে আয় করছেন। তাঁর নিজের ভাষায়, এই অর্থ তাঁর প্রয়োজন এবং এটিও তাঁর পরিশ্রমের ফল।
আবার ক্যামেরার সামনে ফিরতে চান
রাহুল জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর অসুস্থতা ও কাজের অভাবে কঠিন সময় গেছে। কিন্তু তিনি এখনো অভিনয় ছাড়তে চান না। বরং নতুন করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর আনন্দই তাঁকে আবার আশাবাদী করছে।
তাঁর অভিনয়জীবনের সাম্প্রতিক কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সায়োনি’, ‘লক্ষ্ণৌ জংশন’, ‘অনোখি’ এবং ‘আগ্রা’র মতো ছবি। বিশেষ করে ‘আগ্রা’র মতো ভিন্নধর্মী সিনেমায় কাজ করা দেখিয়েছে, রাহুল এখনো শুধু ‘আশিকি’র রোমান্টিক নায়ক হয়ে থাকতে চান না।
ইন্ডিয়া টুডে, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১২ শিক্ষার্থী। এছাড়াও ফেল থেকে পাস করেছে ৭৯ জন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৭ হাজার ২৮৩ এসএসসি পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৫০ হাজার ২৯৩টি আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। তিনি জানান, পুনঃনিরীক্ষণে ৭৯ পরীক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১১২ জন, গ্রেড পয়েন্টের পরিবর্তন হয়েছে ১ হাজার ৫ জনের এবং নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৩ হাজার ১১৮ জনের। তথ্যানুযায়ী, গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বরিশাল বোর্ডে এবার ১ হাজার ৫১৫টি বিদ্যালয় থেকে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৮২ হাজার ৯০১ জন। যার মধ্যে ২১৬টি কেন্দ্রে অংশ নেয় ৮০ হাজার ৪৫৮ শিক্ষার্থী। পাস করেছে ৪৮ হাজার ৫৫৫ জন পরীক্ষার্থী। বহিষ্কার হয়েছে ২৪ জন। শাওন খান/কেজে/জেআইএম
চীনের মোকি শহরে চলমান জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির কোয়ার্টার ফাইনালে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী হকি দল। বৃহস্পতিবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে শক্তিশালী জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হলো লাল-সবুজ জার্সিধারী মেয়েদের। গ্রুপ পর্বে (চ্যালেঞ্জার পুল) অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নকআউট পর্বে উঠেছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের বিপক্ষে চমৎকার লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত গোল করতে ব্যর্থ হয় লাল-সবুজের দল। তবে টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মিশন এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ১২ সেপ্টেম্বর নিজেদের শেষ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশের মেয়েরা। এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে মালয়েশিয়া অথবা দক্ষিণ কোরিয়া। ওই ম্যাচে জয় পেলে জুনিয়র এশিয়া কাপে পঞ্চম স্থান অর্জন করবে বাংলাদেশ। আর যদি দল হেরে যায়, তবে ষষ্ঠ স্থান নিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের। তবে এখনো বিশ্বকাপের স্বপ্ন দেখছেন দলের হেড কোচ আরিফ আলী। শেষ ম্যাচে জয় পাওয়াই লক্ষ্য। আরআই/এমএমআর
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ধার্য দিনে কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আগামী ১১ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম। মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির আদালতে সাক্ষ্য দেন। দুদকের করা মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেন। তবে, তদন্তে তার নামে যথাক্রমে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকা ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়ার কথা জানায় দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীরের বৈধ আয়ের পরিমাণ ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। বিভিন্ন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর তার নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এই হিসাবের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের তদন্তে আরও দাবি করা হয়, এসব সম্পদের অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা আড়াল করতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর হাফিজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর, চলতি বছরের ৮ মার্চ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম। এমডিএএ/এএমএ