একটি প্যাকেটজাত খাবার ভোক্তার হাতে পৌঁছানোর পেছনে থাকে দীর্ঘ এক সরবরাহশৃঙ্খল। বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, মোড়কজাত ও বাজারজাত-প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন হয় বিশেষায়িত যন্ত্র, প্রযুক্তি ও নানা ধরনের উপকরণের।
কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের সেই পুরো আয়োজনকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরেছে ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো।
দেশি-বিদেশি প্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, উপকরণ ও সেবার পাশাপাশি প্রদর্শনীতে দেশীয় ও রপ্তানিমুখী নানা কৃষি ও খাদ্যপণ্যের পসড়া বসেছে। পাশাপাশি এ প্রদর্শনীতে রয়েছে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণখাতে বিনিয়োগের আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্টলও। এবারের ফুডপ্রোর প্রদর্শনীতে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড-কোম্পানি অংশ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিন দিনব্যাপী এ ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে। খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী চলবে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত।
এবার এ প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো ছাড়াও আলজেরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, হংকং, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইতালি, জাপান, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, পোল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, স্পেন, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এর বিভিন্ন কোম্পানি অংশ নিয়েছেন।

এবারে প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছে জার্মানভিত্তিক বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ডোহলার। ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজার শান্তনু সরকার বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ২০ বছর ধরে ডোহলার পণ্য দিচ্ছে। এ দেশের প্রাণ-আকিজের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা আছে।
ওই প্রতিনিধি বলেন, ডোহলার প্রায় সব ধরনের ফুড-ইনগ্রেডিয়েন্টভিত্তিক সমাধান সরবরাহ করে। সে ক্ষেত্রে এ দেশে ব্যবসার প্রচুর সম্ভবনা আছে। কারণ দিন দিন এ দেশের প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও ভালো করছে।
প্রদর্শনীতে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান আইএফএফ’র ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল হক বলেন, শেষ কয়েক বছর টানা এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করছি। যার মাধ্যমে আমাদের পুরোনো ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন নতুন ক্রেতা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে মেলায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান এক্সপার্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশন অ্যান্ড টেকনোলজি লিমিটেডও একজন উদ্যোক্তার জন্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান শুরু করতে সব ধরনের সহায়তা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার আব্দুস সামাদ বলেন, খাদ্য স্থাপনা করতে আমরা সব সহায়তা দিয়ে থাকি। কারখানা স্থাপন থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত সব ধরনের সার্ভিস নিয়ে আমরা এ প্রদর্শনীতে এসেছি।
তিনি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। এরপর বাংলাদেশের অনেক বড় বড় কোম্পানির আমাদের হাতে গড়া।
এদিকে ফুডপ্রোতে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের সমাহার নিয়ে এসেছে দেশের বড় বড় সব প্রতিষ্ঠান। তারা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের কাছে তাদের পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
মেলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ তাদের নানা খাদ্যপণ্যের ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তির উপস্থাপণা করেছে। প্রাণের স্টলে প্রায় সব ধরনের খাদ্য ও পানীয়, টেস্টি ট্রিটের নানা বেকারি ও ফাস্টফুড এবং মিঠাই-মিষ্টি পণ্য প্রদর্শন করছে। মেলায় গ্রুপের ইভেন্ট হেড জামিরুল হক সাজ্জাদ বলেন, মেলা উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য ১৫% ছাড় দিয়েছে প্রাণ। এছাড়া ডোনাট কেক, সাবিহা গুঁড়া মসলা, মিল্কিস ফ্লেবার ডিংকের মতো নতুন নতুন পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং ও মার্কিং, লেবেলিং, মান পরিদর্শন, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন এবং লজিস্টিকসের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অটোমেশন, মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিং উপকরণ ও নকশা এবারের প্রদর্শনীতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

আয়োজকরা বলছে, চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এদিকে এবার ফুডপ্রোতে প্রথবারের মতো আটটি ব্যাংক অংশ নিয়েছে। ইউসিবি ব্যাংকের এফএভিপি (এসএমই ও এগ্রি ব্যাংকিং) জাফরিন সিদ্দিকী বলেন, এখানে দেশের বড় বড় উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে, আমরা তাদের সঙ্গে ফাইনান্সার হিসেবে থাকতে চাই। ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ, সে ক্ষেত্রে অর্থায়নের বিষয়গুলো নিয়ে নানা সমাধান দিচ্ছি আমরা।
এছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সূচনা নামের একটি প্যাকেজ প্রমোশন করছি, যার মাধ্যমে একজন নতুন উদ্যোক্তা একদিনের মধ্যে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পায়।
প্রদর্শনীটি ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
এনএইচ/এমআইএইচএস/
শরীয়তপুরের কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা মাস্টার মোস্তফা কাজীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, প্রভাব খাটানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত হন মোস্তফা কাজী। এরপর থেকে এলাকায় বিভিন্ন জমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৬ সালের রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে কাজীরহাট বাজারের দোকানপ্রতি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন মোস্তফা কাজী। এছাড়া কয়েক মাস আগে কাজীরহাটে একটি দোকান ক্রয়ের সময় ব্যবসায়ী সুমন তপাদারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী আরও জানান, বি. কে. নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন মানুষকে জমি সংক্রান্ত জটিলতায় ফেলে হয়রানি করার অভিযোগও স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন মোস্তফা কাজী। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির ব্যানারে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ করেন অনেকে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নিজ ভগ্নিপতি সিদ্দিক দেওয়ানের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে বলে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা কাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়গুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ইউরোপের রাজধানী ব্রাসেলসে আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন, যার মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের জটিল পরিস্থিতিতে শান্তি আলোচনা জোরালো করা। এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত আছেন। গত বছরের শুরু থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারা ইউরোপ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সংকট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই ইউরোপীয় নেতারা এখন যুদ্ধবিরতি এবং স্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরিতে কাজ করছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন বলেন, “আমরা যুদ্ধের মানবিক সংকট বুঝতে পারি এবং এখন আমাদের দায়িত্ব এটি দ্রুত শেষ করার পথ খোঁজা। আমাদের প্রত্যেকের জন্যই শান্তি এবং স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।” এই বৈঠকে অস্ত্রবিরতি চুক্তি, যুদ্ধাপরাধ তদন্ত, পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং পূর্ব ইউরোপে নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের কথাও বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আন্তর্জাতিক বৈঠকগুলো যুদ্ধ সমাপ্তির নিশ্চয়তা দেয় না, তবে এগুলো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দেশের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ক্রমবর্ধমান পরীক্ষার চাপ এবং পরিবারের পাশাপাশি সমাজের অযৌক্তিক প্রত্যাশা। এ দুটি কারণ মিলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট বেড়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীরা। ফলাফলকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বাড়াচ্ছে উদ্বেগ বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফলাফল করা যেন শিক্ষার্থীর একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার, স্কুল এবং সমাজ—সব জায়গা থেকেই উচ্চ ফলাফলের প্রত্যাশা তৈরি করছে মানসিক চাপের একটি অব্যক্ত বলয়। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইহান কবির বলেন, “পরীক্ষায় নম্বর কম পেলে মনে হয়, শুধু আমি না, আমার পুরো পরিবার ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এটা সহ্য করা খুব কঠিন।” শুধু রাইহান নয়, দেশের নানা প্রান্তের শিক্ষার্থীরা একই অভিজ্ঞতার কথা বলছে। সামাজিক চাপ ও তুলনার সংস্কৃতি পরিস্থিতি করছে আরও জটিল পরীক্ষার নম্বর নিয়ে প্রতিযোগিতা শুধু শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়—এখন তা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া গর্ব বা অপমানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কে কোন কলেজে ভর্তি হলো, কে কতো পেল—এসব তুলনার চাপে পড়াশোনার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা তাবাসসুম বলেন, “প্রত্যাশা থাকা ভালো, কিন্তু তা যদি অতিরিক্ত হয়ে যায় এবং একজন শিক্ষার্থীর নিজস্ব সক্ষমতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা আত্মসম্মানবোধ নষ্ট করে দেয়। এ থেকেই জন্ম নেয় আত্মগ্লানি, হতাশা এবং মাঝে মাঝে আত্মহননের চিন্তা।” জরিপে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩৫ শতাংশ নিয়মিত মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে ১২ শতাংশ বিষণ্নতায় ভোগে এবং বড় একটি অংশ কোনো রকম চিকিৎসা ছাড়াই দিন পার করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে একটি বড় অংশ কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে, যা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় পর্যায়ে ক্ষতিকর। সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কাউন্সেলিং, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, এবং পরিবারের ইতিবাচক ও সহানুভূতিশীল আচরণ এই সমস্যার নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যেসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নিয়মিত কার্যক্রম হয়, সেখানে তাদের একাডেমিক পারফরম্যান্স ও আত্মবিশ্বাস তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষাকে কেবল ফলাফলের সীমায় না এনে একটি মানবিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার্থীরা চাপ নয়, ভালোবাসা থেকে শিখবে, এবং গড়ে উঠবে একটি সুস্থ প্রজন্ম।
বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কৃষিখাতকে চরমভাবে আঘাত করছে। অপ্রত্যাশিত আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি, দীর্ঘদিন খরা এবং হঠাৎ ঘূর্ণিঝড় বা বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন কৃষকের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফসল উৎপাদনে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে। চলতি মৌসুমেই অনেক জেলায় ধান, গম, ভুট্টা এবং অন্যান্য মৌসুমি ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে যেমন আবহাওয়ার আচরণ বুঝে ওঠা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সারের দাম, কীটনাশক ও বীজের উচ্চমূল্যের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আবার জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পোকার আক্রমণ ও রোগবালাইয়ের হারও বেড়ে গেছে। এই চাপে পড়ে অনেক কৃষকই ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট ও প্রান্তিক কৃষকরা। তাদের পক্ষে বারবার ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে আবার নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে দেখা গেছে, কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী ফসল বাদ দিয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ও লাভজনক অন্য চাষাবাদের দিকে ঝুঁকছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য বৈচিত্র্য ও পুষ্টিমানেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে রক্ষা করতে হলে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে এমন জাত ও পদ্ধতি উদ্ভাবনে গুরুত্ব দিতে হবে যা কঠিন জলবায়ু পরিস্থিতিতেও টিকে থাকতে পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য কৃষি খাতকে সচল রাখা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এখনই পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব ময়দানে চলমান দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থতার চিত্র ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগাররা সংগ্রহ করে মাত্র ২২০ রান, যেখানে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল শোয়াড ইসলাম (৪৬), মুশফিকুর রহিম (৩৫) ও লিটন দাস (৩৪)। শ্রীলঙ্কার বোলাররা শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করে রাখে। ডেবিউ করা স্পিনার সোনাল দিনুষা ৩ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান, আর আসিথা ফার্নান্দো ও বিষ্ণু ফার্নান্দো নেন ২টি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসের জবাবে দ্বিতীয় দিন সকালে শ্রীলঙ্কা উদ্বোধনী জুটি থেকে ভালো সূচনা পায়। ১৩.১ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৬২ রান। ওপেনার পাথুম নিসান্কা ৩৩ এবং লাহিরু উদারা ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিং শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত সাফল্যের দেখা মেলেনি। শ্রীলঙ্কা এখনো বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে ১৫৮ রানে পিছিয়ে আছে, হাতে রয়েছে সকল উইকেট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রভাব এই টেস্টটি ২০২৩-২৫ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই দলের জন্যই পয়েন্টের লড়াই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের প্রথম টেস্টে পরাজিত হওয়ায় বাংলাদেশ সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে। পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্লো পিচে বাংলাদেশ বোলারদের আরও পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। দ্রুত উইকেট তুলে না নিতে পারলে শ্রীলঙ্কা বড় লিড নিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেবে টাইগারদের। ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ এবং টাইট বোলিংয়ের মাধ্যমেই দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের ফিরে পাওয়ার আশায় বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড (দিন ২, প্রথম সেশন পর্যন্ত): বাংলাদেশ (১ম ইনিংস): ২২০/১০ শ্রীলঙ্কা (১ম ইনিংস): ৬২/০ (১৩.১ ওভার) নিসান্কা: ৩৩*, উদারা: ২৮* বাংলাদেশ বোলার: তাইজুল, মিরাজ – উইকেটহীন
মুঠোফোনের তথ্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপ হ্যাক, ভয়েস ক্লোন এবং স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে জানিয়ে জাতীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা এর শিকার হচ্ছেন।আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেন।চিফ হুইপ বলেন, ‘পত্রিকায় এসেছে মোবাইল ফোনে...আমি কালকে এখানে পেয়েছি, আমাকে তিনজন সংসদ সদস্য বলেছেন জরুরি ভিত্তিতে ৫০ হাজার টাকা পাঠান, ৩০ হাজার টাকা পাঠান, আবার ২৫ হাজার টাকা পাঠান। তিনটা নম্বর থেকে এসেছে। যাঁদের নম্বর থেকে এসেছে, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কল করেছিলাম কিন্তু ধরেননি। মানে মোবাইল (নম্বর) হ্যাক হয়েছে।’সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের যথেষ্ট সচেতন হওয়া জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টি আপনারা জানলে সারা বাংলা জানবে বলে মনে করি। টেলিভিশনের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ জানুক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভয়েস ক্লোন করে এবং কাগজপত্র নিয়ে কাজটা করছে, কিছু কিছু মানুষ স্বাক্ষর জাল করে একটি কাগজ হাজির করছে, সেটাও সমস্যা হয়েছে। বিরোধী দলের অনেক সদস্যদের হয়েছে, সরকার দলের সদস্যদেরও হয়েছে।’বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্যদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান চিফ হুইপ।এ সময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিষয়টি যখন উঠালেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব কার? রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে কিছু বলবেন না? ক্লোন হয় না হয়, সেটা তো ব্যক্তিগত পর্যায়ে যাদের হচ্ছে, তারা তো সেটার জন্য দায়ী নয়। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের, নির্বাহী বিভাগ বা রাষ্ট্রের। সে বিষয়ে বলার থাকলে বলেন।’জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে গতকালই (বুধবার) কথা হয়েছে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা বিটিআরসি শুরু করেছে। যাতে এ সমস্যার সমাধান করতে পারি।’ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে প্রবেশের আহ্বান এর আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘সব লবিতে ফেস রিডিং ডিভাইস রয়েছে। সেখানে ফেস রিডিং করা হয় না, ১২০ থেকে ১২২ জনের মতো হয়। আমাকে সংসদ থেকে অবহিত করা হয়েছে, যাতে সব সংসদ সদস্য ফেস রিডিং করে সংসদ কক্ষে ঢোকেন। আজ যেন যাওয়ার সময় সব সদস্য ফেস রিডিং করে যান।’
ডিজনির জনপ্রিয় রাজকন্যা চরিত্রগুলোকে নিয়ে নতুন কমিকস সিরিজ আনছে ডিজনি পাবলিশিং। ডিজনি কার্সড লাভ নামের এই সিরিজে রোমান্স, ফ্যান্টাসি ও জাদুর মিশেলে তৈরি হবে চারটি মৌলিক গল্প। সিরিজটির প্রথম কিস্তি আগামী বছর প্রথমে প্রকাশিত হবে জনপ্রিয় ওয়েবকমিক প্ল্যাটফর্ম ওয়েবটুনে। পরে এর মুদ্রিত সংস্করণও প্রকাশ করা হবে। সম্প্রতি ডিজনির ডি২৩ সম্মেলনে সিরিজটির ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির নাম ‘দ্য কার্স অব আ ফরসাকেন হার্ট’। গল্পটি লিখেছেন নেভার আফটার সিরিজের লেখক এমিলি ম্যাকইনটায়ার এবং চিত্রাঙ্কন করেছেন শিল্পী সামাইরু।প্রকাশনা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম গল্পে বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট–এর পরিচিত দুই চরিত্র একটি জাদুকরি রঙিন কাচের জানালার মধ্য দিয়ে হঠাৎ একটি রহস্যময় জগতে প্রবেশ করবে। সেখানে তারা জানতে পারবে, একটি রাজ্য ভয়ংকর অভিশাপে আক্রান্ত। সেই অভিশাপ থেকে রাজ্যকে মুক্ত করতে তাদের এক রাজকন্যাকে সাহায্য করতে হবে।ডিজনি পাবলিশিংয়ের নির্বাহী সম্পাদক কার্লোটা কোয়াত্রোকোলো জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ওয়েবকমিক, গ্রাফিক নভেল, তরুণ পাঠকদের উপযোগী উপন্যাসসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এই সিরিজের আরও গল্প প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের লক্ষ্য এটিকে একটি বহু মাধ্যমভিত্তিক গল্প বলার উদ্যোগে পরিণত করা।এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ডিজনি ও ওয়েবটুনের মধ্যে করা একটি বহু বছরের চুক্তি। গত বছর স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির আওতায় ডিজনি, মার্ভেল, টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি স্টুডিওস ও স্টার ওয়ার্সের প্রায় ১০০টি কমিকস ওয়েবটুনের মোবাইল-উপযোগী ভার্টিক্যাল-স্ক্রল ফরম্যাটে প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।ইতিমধ্যে ডিজনির ২০টির বেশি কমিকস ওয়েবটুনে প্রকাশিত হয়েছে। এগুলো ওয়েবটুন অ্যাপের জন্য তৈরি বিশেষ বিভাগে পাওয়া যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মধ্যে ডিজনি ভিলেনস সিরিজ এবং মার্ভেলের সাম্প্রতিক দ্য আল্টিমেটস কমিকসও রয়েছে।ডিজনি ও ওয়েবটুনের এই অংশীদারত্বের আওতায় একটি নতুন ডিজিটাল কমিকস প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি ওয়েবটুনে ডিজনির ২ শতাংশ ইকুইটি বিনিয়োগের বিষয়টিও চুক্তির অংশ।দ্য কার্স অব আ ফরসাকেন হার্ট–এর পর সিরিজের বাকি তিনটি গল্পে কোন কোন জনপ্রিয় ডিজনি চরিত্রকে নতুন রূপে দেখা যাবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।সূত্র: পাবলিশার্স উইকলি
চট্টগ্রাম নগরের দেওয়ানহাট মোড় সংলগ্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার সংরক্ষণ, বাসি খাবার বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা ও খাদ্যে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি হোটেল-রেস্তোরাঁকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের চেরাগি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। তদারকি কার্যক্রমে গ্রান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৮০ হাজার টাকা, আলিফ রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা এবং ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তদারকি সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রান্ড তাজমহল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অননুমোদিত ক্ষতিকর রং মিশ্রিত কাশ্মীরি মরিচ ব্যবহার, পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ও পানীয় সংরক্ষণ এবং রান্না করা বাসি মুরগির চাপ, মুরগির মাংস, খিচুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা হচ্ছিল। একই সঙ্গে ফ্রিজে কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে রান্না করা খাবার অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। অন্যদিকে আলিফ রেস্টুরেন্টে রান্না করা বাসি খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে ফ্রিজে অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে তেলাপোকার বিচরণের কারণে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ক্যাফে আরমান হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে রান্না করা বাসি খাবার কাঁচা মাছ-মাংসের সঙ্গে ফ্রিজে অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষণের প্রমাণ পাওয়ায় ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া দেওয়ানহাট মোড় এলাকায় বিভিন্ন ফলের দোকানেও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এমআরএএইচ/এমআইএইচএস